ইমাম হাসান রা: এর দৃষ্টিতে
লাইফ স্টাইল
আবদুল্লাহ
যাহরা একাডেমী , কোম , ইরান
ইমাম হাসান রা: এর দৃষ্টিতে লাইফ স্টাইল
লেখক : আবদুল্লাহ
সম্পাদক : শারীফা খাতুন
প্রকাশক : যাহরা একাডেমী , কোম , ইরান।
প্রকাশকাল : জানুয়ারী- 2016
সম্পাদকীয়
মহানবী স. তাঁর পবিত্র বিদায় হজ্বের ভাষণে বলেন: হে লোকসকল! আমি তোমাদের মাঝে দুটি মূল্যবান বস্তু রেখে যাচ্ছি , এর একটি হলো আল্লাহর কিতাব , আর অপরটি হলো আমার আহলে বাইত। এরা হাওজে কাওসারে আমার সাথে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।1
অতএব আমাদেরকে ইহকালে শান্তি এবং পরকালে মুক্তি পেতে হলে কুরআন শরীফ এবং আহলে বাইতের অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। মহানবী স. এর পবিত্র আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য হলেন ইমাম হাসান রা: যিনি 7 বছর মহানবীর সাহচর্যে থেকে ইল্ম ও আমলের দিক থেকে সবার মডেলে রুপান্তরিত হন।
লাইফ স্টাইল বা জীবনযাপন পদ্ধতি সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: অনেক হাদীস বলে গেছেন যা অধ্যায়ন করে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করলে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে আমরা সুখ শান্তি ফিরে পাব। আর প্রতিষ্ঠিত হবে দূর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত ইসলামী সমাজ।
আজকে সকল অশান্তির মূল কারণ হলো আমরা আহলে বাইতের আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছি। যে আহলে বাইতকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পাক পবিত্র বলে ঘোষণা দিয়েছেন তাদেরকে বাদ দিয়ে এমন ব্যক্তিদের অনুসরণ করছি যাদের নিষ্পাপতার কোন দলীল নেই।
অতএব আমাদের উচিত তাদেরকে অনুসরণ করা যাদেরকে আল্লাহ তাআলা মাসুম বা নিষ্পাপ বলে ঘোষণা দিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে তাদেরকে অনুসরণ করারও নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের অনুসরণ করতে হলে প্রথমে তাদের বক্তব্য ও আদর্শ সম্পর্কে জানতে হবে। আর এ উদ্দেশ্য নিয়েই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। আল্লাহ আমাদের সকলের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন।
ইমাম হাসান রা: এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
নবী বংশের দ্বিতীয় ইমামের নাম ইমাম হাসান রা:।
ইমাম হাসান রা: এর জন্ম হয়েছিল 3 হিজরীর 15 রমজান মঙ্গলবার মদীনার কুরাইশ বংশে। ইমামতি ধারার দ্বিতীয় ইমাম হযরত হাসান রা: ছিলেন প্রথম ইমাম হযরত আলী রা: ও খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা রা: এর বড় ছেলে এবং হযরত মুহাম্মাদ স. এর প্রিয় নাতি ও হযরত আবু তালিবের প্রিয় পোত্র। ইমাম হাসান রা: এর মূল নাম আল হাসান। আল মুজতাবা ছিল তাঁর উপাধি। আর আবু মুহাম্মাদ ছিল তাঁর ডাক নাম।
নাতির জন্মের সুসংবাদ শুনেই নবীজী স. প্রিয় কন্যার ঘরে যান এবং নবজাতক শিশুকে কোলে তুলে নেন। তিনি শিশুর ডান কানে আজান ও বাম কানে একামত দেন এবং আল্লাহর আদেশে তাঁর নাম রাখেন আল হাসান।
ইমাম হাসান রা: এর বাল্য জীবনের প্রথম পর্যায়ের 7 বছর অতিবাহিত হয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ স. এর কাছে। তাঁর স্নেহভরা ও মহানুভব পৃষ্ঠপোষকতায় ইমাম হাসান রা: এর মধ্যে তাঁর সকল সৎগুণের বিকাশ ঘটে। মহানবী স. এর উপর যখনই কোন ওহী অবতীর্ণ হতো এবং তা তিনি তাঁর সাহাবীদের কাছে প্রকাশ করতেন তখনই ইমাম হাসান রা: তা অবহিত হতেন।
মহানবী স. নতুন নাজিল হওয়া কোন ওহী হযরত ফাতেমা রা: এর কাছে ব্যক্তিগতভাবে জানানোর আগেই তিনি তা হুবহু তেলাওয়াত করে শুনিয়ে তাঁকে হতবাক করে দিতেন। এ ব্যাপারে হযরত ফাতেমা রা: কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান , ইমাম হাসান রা: এর মাধ্যমে ঐ ওহী সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ইমাম হাসান রা: শান্তিপূর্ণ পথে ইসলামের প্রচার ও শিক্ষা বিস্তারের পবিত্র মিশনে নিজেকে নিষ্ঠার সাথে নিয়োজিত রাখেন।
ইমাম হাসান রা: তাঁর পিতা আমিরুল মোমেনীন ইমাম আলী রা: এর শাহাদাতের পর ইমামতের দায়িত্ব লাভ করেন। ঐ সময় তাঁর বয়স হয়েছিল 37 বছর। একই সাথে তিনি 6 মাসব্যাপী খেলাফতের দায়িত্বও পালন করেন। কিন্তু ইমাম হাসান রা: তাঁর পরিবারের শত্রু মুয়াবিয়ার চক্রান্তের ফলে খেলাফতের দায়িত্ব তার কাছে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তবে শর্ত ছিল যে , মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর খেলাফত পুনরায় ইমাম হাসান রা: এর কাছে ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর মুয়াবিয়া প্রকাশ্য ভাষণে শান্তি-সমঝোতা বাতিল বলে ঘোষণা করে এবং মৃত্যুর আগে নিজ পুত্র পাপাচারী ইয়াজিদকে ক্ষমতায় বসিয়ে যায়।
তাকওয়া-পরহেজগারীর দিক দিয়ে ইমাম হাসান ছিলেন তাঁর পিতা ইমাম আলী রা: এর মতই এবং নানা মহানবী স. এর এক খাঁটি অনুসারী। ইমাম হাসান রা: এর বিলাসী জীবন যাপনের পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল , কিন্তু তিনি তাঁর সব সম্পদ দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করেছেন।
ইমাম হাসান রা: ছিলেন অত্যন্ত সৌজন্যবোধসম্পন্ন ও নিরহংকারী মানুষ। রাস্তায় ভিক্ষুকদের পাশে গিয়ে বসতে তাঁর কোন দ্বিধা ছিল না। ধর্মীয় বিষয়াদিতে জিজ্ঞাসার জবাব দিতে তিনি মদীনার পথেও বসে যেতেন। তিনি অত্যন্ত সম্প্রীতিবোধসম্পন্ন ও অতিথিপরায়ণ ছিলেন এবং কোন দরিদ্র ও নিঃস্ব লোক তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি তাদেরকে কখনই খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। ইমাম হাসান রা: 50 হিজরীর 28 সফর মাত্র 46 বছর বয়সে মদীনায় শাহাদাত বরণ করেন। মদীনার জান্নাতুল বাকীতে তাঁর মাজার রয়েছে।2
মহানবী স. ইমাম হাসান রা: সম্পর্কে বলেন:
হাসান ও হোসাইন বেহেশতের যুবকদের সর্দার।3
ইমাম হাসান রা: এর দৃষ্টিতে লাইফ স্টাইল
ভূমিকা
ভালোভাবে জীবনযাপন করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই লাইফ স্টাইল বা জীবনযাপন পদ্ধতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত হতে হবে। আর যে লাইফ স্টাইল আমরা গ্রহণ করব তা যদি ইসলামী শরীয়তের বিরোধী হয় তাহলে তা দিয়ে আমরা আমাদের জীবনের আসল লক্ষ্যে কখনো পৌঁছতে পারব না।
আর তাই সঠিক লাইফ স্টাইল সম্পর্কে জানার জন্য আমরা এ বইয়ে মহানবীর পবিত্র আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য ইমাম হাসানের 50 টি হাদীসের মাধ্যমে একটি সঠিক ধারণা পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে চাই।
1) সর্বোত্তম ব্যক্তির পরিচয়
ইমাম হাসান রা: সর্বোত্তম ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে বলেন
النَّاسُ أَرْبَعَةٌ فَمِنْهُمْ مَنْ لَهُ خُلُقٌ وَ لَا خَلَاقَ لَهُ وَ مِنْهُمْ مَنْ لَهُ خَلَاقٌ وَ لَا خُلُقَ لَهُ قَدْ ذَهَبَ الرَّابِعُ وَ هُوَ الَّذِي لَا خَلَاقَ وَ لَا خُلُقَ لَهُ وَ ذَلِكَ شَرُّ النَّاسِ وَ مِنْهُمْ مَنْ لَهُ خُلُقٌ وَ خَلَاقٌ فَذَلِكَ خَيْرُ النَّاسِ
অর্থ
মানুষ 4 ধরণের:
1। কিছু লোকের ভালো চরিত্র আছে কিন্তু সম্পদ নাই।
2। কিছু লোকের সম্পদ আছে কিন্তু ভালো চরিত্র নাই।
3। কিছু লোকের না ভালো চরিত্র আছে আর না কোন সম্পদ আছে। এরা হলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি।
4। আর কিছু লোকের ভালো চরিত্রও আছে আবার সম্পদও আছে। এরা হলো সর্বোত্তম ব্যক্তি।4
2) উন্নতির মাধ্যম
প্রতিটি ব্যক্তিই চাই তার জীবনে যেন উন্নতি হয় , তবে সঠিক রাস্তা জানা না থাকার কারণে অনেকেই উন্নতি করতে পারে না। ইমাম হাসান রা: পরামর্শকে উন্নতির সোপান হিসেবে তুলে ধরে বলেন
ما تشاور قوم إلا هدوا إلى رشدهم
অর্থ
"পরামর্শের মাধ্যমে একটি জাতি উন্নতির পথে এগিয়ে যায়।"5
পরামর্শের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন মাজিদে বলেন
وَ أَمْرُهُمْ شُورى بَيْنَهُمْ
অর্থাৎ ঈমানদার ব্যক্তিদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ঠ হলো তারা তাদের কাজসমূহ পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালনা করে।6
তবে পরামর্শের সময় অবশ্যই জ্ঞানী , সাহসী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করতে হবে যাতে তার কাছ থেকে সঠিক রাস্তা পাওয়া যায়। তাই মহানবী স. হযরত আলী রা: কে বলেন
হে আলী! ভীতু ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করবে না , কারণ সে মুক্তির পথকে তোমার সামনে বন্ধ করে দিবে , কৃপণ ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করবে না , কারণ সে তোমাকে তোমার উদ্দেশ্য থেকে দূরে ঠেলে দিবে , আর লোভী ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করবে না , কারণ সে লোভ লালসাকে তোমার সামনে সঠিক রাস্তা হিসেবে তুলে ধরবে।
3) চালচলন পদ্ধতি
মানুষ চাই সবাই যেন তাকে সম্মান করে , তার সাথে ভাল ব্যবহার করে , এমনকি যাদের ব্যবহার খারাপ তারাও চায় অন্যরা যেন তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে। তবে অন্যদের থেকে ভালো আচরণ পেতে হলে কি করতে হবে এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
صَاحِبِ النَّاسَ مِثْلَ مَا تُحِبُّ أَنْ يُصَاحِبُوكَ بِهِ
অর্থ
"মানুষের সাথে সেরূপ ব্যবহার কর যেরূপ ব্যবহার তাদের থেকে পছন্দ কর।"7
অতএব প্রথমে আমাদের নিজেদের থেকে শুরু করতে হবে। আমরা যদি আমাদের চালচলনকে সংশোধন করতে পারি তাহলে একসময় দেখব যারা আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করত তারাও তাদের ব্যবহারকে সংশোধন করেছে।
আমরা স্বয়ং ইমাম হাসানের জীবনীতে দেখতে পাই যে , এক ব্যক্তি তাকে অনেক গালিগালাজ করা সত্বেও তিনি তার সাথে মিষ্টি ব্যবহার করেন। এতে ঐ ব্যক্তি মুগ্ধ হয়ে সাথে সাথে নিজের ভুল স্বীকার করে ইমামের ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হয়।
4) উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব
নবী রাসুল প্রেরণের একটি বিরাট উদ্দেশ্য ছিল মানুষের চরিত্র সংশোধন। কারণ চরিত্র ভালো না হলে একটি মানুষ পরিপূর্ণতায় পৌঁছতে পারে না। ইনসানে কামেল বা পরিপূর্ণ মানব হতে হলে অবশ্যই উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
إِنَّ أَحْسَنَ الْحَسَنِ الْخُلُقُ الْحَسَنُ
অর্থ
"উত্তম কাজসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো উত্তম চরিত্র।"8
আমরা ইসলামের ইতিহাসের প্রতি নজর দিলে দেখতে পাই যে , আল্লাহর রাসুলের উত্তম চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে অনেক কাফের ইসলাম গ্রহণ করেছেন। অল্প সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ার একটি কারণ ছিল মহানবীর উত্তম চরিত্র। অতএব আমরা যদি উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে পারি তাহলে আজকেও স্বল্প সময়ের মধ্যে গোটা বিশ্বে ইসলামের পতাকা উত্তোলিত হবে।
5) উপহাসের পরিনাম
আমরা অনেক সময় একজনকে হাসানোর জন্য অন্যজনকে নিয়ে উপহাস ও ঠাট্টা বিদ্রুপ করি। আর এর মাধ্যমে শুধু অন্যের মনে কষ্টই দিই না বরং নিজেদেরও অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করি। উপহাসের সেই ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মহানবী স. এর প্রিয় নাতি ইমাম হাসান রা: বলেন
المزاح يأكل الهيبة
অর্থ
"উপহাস ব্যক্তিত্বকে ধ্বংস করে দেয়।"9
আসলে যারা অপরকে নিয়ে উপহাস করে তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদেরকে নিয়েই উপহাস করে , কারণ এর মাধ্যমে তারা মনের অজান্তে নিজেদের অবস্থানকে অপরের সামনে ছোট করে দেয়।
পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন
হে ঈমানদারগণ! (পুরুষদের) একটি দল যেন অন্য দলকে উপহাস না করে , হতে পারে যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারাই উপহাসকারীদের থেকে উত্তম। আর মহিলাদেরও একটি দল যেন অন্য দলকে উপহাস না করে , হতে পারে যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারাই উপহাসকারীদের থেকে উত্তম।10
6) কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করার ফল
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে যেসব নিয়ামত দান করেছেন সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করা আমাদের কর্তব্য। আমরা যদি শুকরিয়া আদায় করি তাহলে মহান আল্লাহ তার নিয়ামতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিবেন , আর যদি হীনমন্যতার স্বীকার হয়ে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা থেকে বিরত থাকি তবে আমরা কঠিন শাস্তিতে আক্রান্ত হব। ইমাম হাসান রা: এ সম্পর্কে বলেন
اللُّؤْمُ أَنْ لَا تَشْكُرَ النِّعْمَةَ
অর্থ
"নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করা হলো নিচুতা ও হীনমন্যতা"11
নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের পদ্ধতি:
হাদীস শরীফে এসেছে ইমাম জাফর সাদেক আ: এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের এলাকায় কেমন আছ ?
উত্তরে সে বলল: হে রাসুলের সন্তান! ভাল আছি। আল্লাহ আমাদের উপর অনুগ্রহ করলে শুকরিয়া আদায় করি , আর অনুগ্রহ না করলে ধৈর্য্য ধরে থাকি।
তখন ইমাম বললেন: আরবের কুকুরও এরকম।
তখন সে বলল: তাহলে কী বলব ?
ইমাম বললেন: বল যে , আল্লাহ নিয়ামত দান করলে তার রাস্তায় খরচ করি , আর নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করলে শুকরিয়া আদায় করি।12 (কারণ আল্লাহ যা করেন তা বান্দাদের মঙ্গলের জন্যই করেন)
7) প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার
বাড়ির চারদিকে চল্লিশ ঘর পর্যন্ত যারা বসবাস করে তাদেরকে বলা হয় প্রতিবেশী।13 প্রতিবেশীর হক আদায় করা সকলের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। যে তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দিবে সে বেহেশতের ঘ্রাণ থেকেও বঞ্চিত হবে। আর তার স্থান হবে জাহান্নাম। ফেরেশতা জিবরাঈল আল্লাহর রাসুলকে প্রতিবেশীর হক আদায়ের ব্যপারে এত নসীহত করতেন যে , তিনি মনে করেছিলেন প্রতিবেশীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেয়া হবে।14 প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহারের ব্যপারে ইমাম হাসান রা: বলেন
أَحْسِنْ جِوَارَ مَنْ جَاوَرَكَ تَكُنْ مُسْلِما
অর্থ
"প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার কর , যাতে করে প্রকৃত মুসলিম হতে পার।"15
এক ব্যক্তি ইমাম হাসানকে বলল: আমার প্রতিবেশী আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। ইমাম তাকে বললেন: তুমি মাগরিব নামাজের পর 2 রাকাত নামাজ পড়ে এ দুয়াটি পাঠ করবে:
يَا شَدِيدَ المِحَالِ، يَا عَزِيزُ اَذلَلتَ بِعِزَّتِكَ جَمِيعَ مَا خَلَقتَ، اِكفِنِى شَرَّ فُلَانٍ بِمَا شِئتَ
লোকটি যে রাতে এ আমল করল সে রাতেই ঐ প্রতিবেশী মারা যায়।16
8) বুদ্ধিমান ব্যক্তির কর্তব্য
আক্ল বা বুদ্ধি এক অমুল্য সম্পদ যা আল্লাহ তার বান্দাদেরকে দান করেন। বুদ্ধিমান ব্যক্তির বৈশিষ্ঠ্য হলো 10 টি: যার থেকে অন্যরা কল্যাণ আশা করে , যার অনিষ্ঠতা থেকে মানুষ নিরাপদ , যে নিজের ভালো কাজকে ছোট এবং অন্যের ভালো কাজকে বড় মনে করে , জ্ঞান অন্বেষণ করা থেকে নিরাশ হয় না , স্বীয় প্রয়োজন পূরণার্থে আল্লাহর কাছে দোয়া করে , প্রসিদ্ধ হওয়ার চেয়ে নামবিহীন হিসেবে থাকাকে বেশী পছন্দ করে , ধন সম্পদের চেয়ে দারিদ্রকে বেশী পছন্দ করে , দুনিয়ায় যা নিজের ভাগ্যে জুটে তাতেই খুশি থাকে , অন্যদেরকে নিজের চেয়ে বেশী ভালো ও ঈমানদার মনে করে।17
যে ব্যক্তির এ বৈশিষ্ঠ্যগুলো থাকবে তার কাছে কেউ নসীহত চাইলে প্রতারিত হবে না। আর এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
لَا يَغُشُّ الْعَاقِلُ مَنِ اسْتَنْصَحَهُ
অর্থ
"বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে উপদেশ চাওয়া হলে সে ধোঁকা দেয় না।"18
অতএব কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে উপদেশ বা কোন বিষয়ে পরামর্শ চাইলে সে যদি ধোঁকা দেয় তাহলে মনে করতে হবে , সে আসলে বুদ্ধিমান নয় বরং একটি প্রতারক।
9) আল্লাহর ইবাদতের ফল
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানব জাতিকে একমাত্র তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর সবকিছু মানুষের জন্য , কিন্তু মানুষকে আল্লাহর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কারো ইবাদতের প্রতি আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই , বরং মানুষ যেন সম্মান ও মর্যাদার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারে এজন্য ইবাদতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইবাদত মানুষকে কলুষতা থেকে মুক্ত করে আলোর পথ দেখায়। আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ পারে সবাইকে নিজের অনুগত করতে। ইমাম হাসান রা: এ সম্পর্কে বলেন
مَنْ عَبَدَ اللَّهَ عَبَّدَ اللَّهُ لَهُ كُلَّ شَيْءٍ
অর্থ
"যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করবে আল্লাহ সব কিছুকে তার অনুগত করে দিবেন।"19
সর্বোত্তম ইবাদত কোনটি ?
মানুষ 3 রকম ভাবে আল্লাহর ইবাদত করে
1। একদল মানুষ বেহেশতের লোভে আল্লাহর ইবাদত করে। এটি হলো ব্যবসায়ীদের ইবাদত।
2। আরেকদল জাহান্নামের ভয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। এটি হলো পরাধীন ব্যক্তিদের ইবাদত।
3। আরেক দল মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য ইবাদত করে। এটি হলো স্বাধীন ব্যক্তিদের ইবাদত এবং এটিই সর্বোত্তম ইবাদত।20
10) প্রকৃত আপনজন
যতক্ষন পর্যন্ত বন্ধুত্বের দিক থেকে কেউ নিকটে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত শুধুমাত্র বংশ পরিচয় মানুষকে নিকটে নিয়ে আসতে পারে না। আবু লাহাব নবীর চাচা হওয়া সত্বেও যেহেতু নবীকে বন্ধু হিসেবে মেনে নিতে পারেনি সেহেতু সে নবীর থেকে অনেক দূরে চলে গেছে , অপরদিকে হযরত সালমান ফারসি ইরানের অধিবাসী হওয়া সত্বেও মহানবীকে জান প্রাণ দিয়ে ভালবাসার কারণে নবীর আহলে বাইতের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।21
অতএব কে আমাদের আপনজন তা জানতে হলে দেখতে হবে বন্ধুত্বের দিক থেকে কে কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ সম্পর্কে বেহেশতের যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হাসান রা: বলেন
الْقَرِيبُ مَنْ قَرَّبَتْهُ الْمَوَدَّةُ وَ إِنْ بَعُدَ نَسَبُهُ وَ الْبَعِيدُ مَنْ بَعَّدَتْهُ الْمَوَدَّةُ وَ إِنْ قَرُبَ نَسَبُهُ
অর্থ
"আপনজন হলো সে ব্যক্তি যে বন্ধুত্বের কারণে নিকটে থাকে , যদিও সে বংশের দিক থেকে দূরে। আর দূরতম ব্যক্তি হলো যাকে বন্ধুত্ব দূরে ঠেলে দেয় (অর্থাৎ বন্ধুত্ব না করে দূরে দূরে থাকে) যদিও সে বংশের দিক থেকে নিকটে।"22
11) অপরাধীর মাফ চাওয়ার সুযোগ
অপরাধ দুধরনের। কিছু অপরাধ আল্লাহর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট , সেগুলোর ক্ষেত্রে মাফ করার কোন সুযোগ নেই। বরং ঐসব অপরাধের জন্য যে শাস্তি ইসলামে নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যেমন: ব্যভিচারের শাস্তি , মিথ্যা অপবাদের শাস্তি , মদপানের শাস্তি , চোরের শাস্তি ইত্যাদি।
আর যেসব অপরাধ মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট সেগুলোর ক্ষেত্রে অপরাধী মাফ চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেয়ার সুযোগ রয়েছে। আর তাই ইমাম হাসান রা: বলেন
لَا تُعَاجِلِ الذَّنْبَ بِالْعُقُوبَةِ وَ اجْعَلْ بَيْنَهُمَا لِلِاعْتِذَارِ طَرِيقاً
অর্থ
"অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করো না। বরং তাকে মাফ চাওয়ার সুযোগ দাও।"23
12) খোদাভীরূর সাথে মেয়ের বিয়ে
আজকে আমাদের সমাজে অহরহ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় যৌতুক বা নেশার কারণে স্ত্রীর উপর স্বামীর নির্যাতনের খবর। এর মূল কারণ হলো উপযুক্ত পাত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে না দেয়া। বিয়ের সময় পাত্রের ধন সম্পদের দিকে যেভাবে নজর দেয়া হয় সেভাবে যদি তার ধর্মীয় অবস্থার দিকেও নজর দেয়া হয় তাহলে আস্তে আস্তে পত্রিকার পাতা থেকে এ খবরসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠিত হবে নারী নির্যাতন মুক্ত ইসলামী সমাজ। পারিবারিক কলহ দূরীভূত হয়ে ফিরে আসবে সুখ শান্তির আমেজ।
এক ব্যক্তি ইমাম হাসানের নিকট ভালো পাত্রের বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে ইমাম তাকে বলেন
زوجها من رجل تقي فإنه إن أحبها أكرمها و إن أبغضها لم يظلمها
অর্থ
"পরহেজগার লোকদের সাথে তোমাদের মেয়ের বিবাহ দাও। কারণ তারা তোমাদের মেয়েকে পছন্দ করলে তাকে সম্মান করবে , আর তাকে পছন্দ না করলেও তার উপর জুলুম করা থেকে বিরত থাকবে।"24
13) আল্লাহর আনুগত্যের ফল
আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারনে আজকে মুসলিম জাতি বিভিন্ন দলে বিভক্ত। বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা 150 কোটির বেশী হওয়া সত্বেও তারা একদিকে কাফেরদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছে , অপরদিকে ইরাক , সিরিয়া ও ইয়েমেনে মুসলমান নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুসলমানদের মুক্তির একটি উপায় হলো আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা। যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য সমাজে প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন অনৈক্য দূরীভূত হবে না। এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
لَوْ أَنَّ النَّاسَ سَمِعُوا قَوْلَ اللَّهِ وَ رَسُولِهِ لَأَعْطَتْهُمُ السَّمَاءُ قَطْرَهَا وَ الْأَرْضُ بَرَكَتَهَا وَ لَمَا اخْتَلَفَ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ سَيْفَانِ وَ لَأَكَلُوهَا خَضْرَاءَ خَضِرَةً
অর্থ
মানুষ যদি আল্লাহ ও তার রাসুলের কথা শুনত তাহলে আসমান রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করত এবং জমিন তার বরকতসমূহ দান করত। আর এ উম্মতের মধ্যে কোন ধরণের অনৈক্য সৃষ্টি হত না। আর তারা কিয়ামত পর্যন্ত সবুজ শ্যামল দুনিয়ার নেয়ামত থেকে উপকৃত হত।25
14) প্রকৃত কল্যাণ
মানুষ অনেক সময় কোন একটি জিনিসকে কল্যাণকর মনে করে তা কামনা করে , কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঐ জিনিস তার জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেক সময় কোন একটি জিনিসকে ক্ষতিকর মনে করে তা অপছন্দ করে , কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঐ জিনিস তার জন্য কল্যাণকর। এজন্য আমাদের সকলের উচিত প্রকৃত কল্যাণ সম্পর্কে অবগত থাকা। ইমাম হাসান রা: এ সম্পর্কে বলেন
الْخَيْرُ الَّذِي لَا شَرَّ فِيهِ الشُّكْرُ مَعَ النِّعْمَةِ وَ الصَّبْرُ عَلَى النَّازِلَةِ
অর্থ
যে কল্যাণের মধ্যে কোন ধরণের ক্ষতি নাই তা হলো নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং বিপদে ধৈর্যধারণ করা।26
নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার অর্থ হলো যখনই কোন নেয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসবে তখন সেটাকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহার করা। কারণ প্রতিটি নেয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আমানত স্বরূপ। অতএব সে আমানতকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
আর বিপদে ধৈর্যধারণ করার অর্থ হলো বালা মুসিবত দেখে ভয় না পাওয়া , বরং বালা মুসিবতকে এক ধরনের নেয়ামত মনে করা।27 কারণ বালা মুসিবতের মধ্য দিয়েই মানুষ উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করে।
15) সত্যকে আঁকড়ে ধরা
মহানবী স. এর পবিত্র আহলে বাইত সবসময় সত্যের উপর ছিলেন। তারা কখনো অসত্যের ধারে কাছে যেতেন না। ইমাম হাসান রা: এ সম্পর্কে বলেন
إِنَّا أَهْلُ بَيْتٍ إِذَا عَلِمْنَا الْحَقَّ تَمَسَّكْنَا بِهِ
অর্থ
আমরা নবীর আহলে বাইত যখনই সত্যকে চিনতে পেরেছি সেটাকে আঁকড়ে ধরেছি।28
অতএব প্রতিটি মুসলমানের উচিত সত্যকে জানার সাথে সাথে তা কবুল করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা।
যারা সত্যকে জানার পরও তার বিরোধীতা করেছে তাদের সংখ্যা ইসলামের ইতিহাসে কম নয়। আমরা দেখতে পাই , কারবালার ময়দানে যারা ইমাম হুসাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল তারা সবাই জানত যে , ইমাম হুসাইন রা: সত্যপথে আছেন। কিন্তু এটা জানার পরও শুধুমাত্র দুনিয়ার লোভ লালসায় পড়ে তারা মহানবীর প্রিয় নাতিকে 72 জন সঙ্গী সহ নৃশংসভাবে শহীদ করে নিজেদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতকে ধ্বংস করে।
16) আল্লাহর প্রেমিক
যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে , সে তার প্রতিপালককে চিনেছে।29 আর যে তার প্রতিপালককে চিনেছে সে তাকে ভালবাসে। অতএব আল্লাহকে ভালবাসার পূর্বশর্ত হলো তাকে ভালোভাবে চিনতে হবে। তাই ইমাম হাসান রা: বলেন
من عرف الله أحبه
অর্থ
যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনতে পেরেছে সে তাকে ভালবাসে।30
যারা আল্লাহকে ভালবাসে তারা কখনো তার নির্দেশের বিরোধীতা করে না। এ ভালবাসার পরিমাণ যার যত বেশী হবে সে তত বেশী আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখবে।
মহানবী স. বলেন: যেহেতু আল্লাহ তোমাদেরকে নেয়ামত দান করেন সেহেতু তাকে ভালবাস , আর আল্লাহর কারণে আমাকে ভালবাস , আর আমার কারণে আমার আহলে বাইতকে ভালবাস।31
আল্লাহ তাআলা মূসা আ: কে বলেন , হে মূসা! যে দাবী করে যে , আমাকে ভালবাসে অথচ রাত্রিবেলায় আমাকে স্মরণ না করে শুধু ঘুম পাড়ে , ঐ ব্যক্তি মিথ্যা বলে।32
17) পবিত্র মন
কিয়ামতের দিন ধন সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি মানুষের কোন উপকারে আসবে না। সেদিন যারা পাক পবিত্র মন নিয়ে আল্লাহর সাথে মোলাকত করবে তারাই রক্ষা পাবে।33 আর মনকে পাক পবিত্র রাখতে হলে সর্বপ্রথম যা করা দরকার সে সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
أَسْلَمُ الْقُلُوبِ مَا طَهُرَ مِنَ الشُّبُهَاتِ
অর্থ
সন্দেহ সংশয় থেকে যে অন্তর পবিত্র থাকে তা হলো সবচেয়ে বেশী পবিত্র অন্তর।34
পবিত্র অন্তর নিয়ে আল্লাহর সাথে মোলাকাত করতে হলে সে অন্তরকে জীবিত রাখতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে , 4 টি কাজ মানুষের অন্তরকে মেরে ফেলে:
1. একের পর এক গুনাহ করা ,
2. মহিলাদের সাথে বেশী কথা বলা ,
3. নির্বোধ ব্যক্তির সাথে কথা কাটাকাটি করা ,
4. মৃত ব্যক্তিদের সাথে উঠাবসা করা। এখানে মৃত ব্যক্তি বলতে ঐসব ধনী ব্যক্তিদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা ভোগ বিলাসিতায় মগ্ন এবং স্বীয় কামনা পূরণে ব্যস্ত।35
18) অসচেতনতা
অসচেতনতা ও অসাবধানতা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। অসচেতন মানুষ সবসময় ক্ষতির সম্মুখিন হয়। অসচেতন ও গাফেল মানুষের চেতনা অনেক দেরীতে ফিরে , কারণ সে জাগ্রত থাকা সত্বেও ঘুমন্ত ব্যক্তির ন্যায়। সে এ লম্বা ঘুম থেকে যখন জাগ্রত হয় তখন দেখে যে অনেক দেরী হয়ে গেছে। এজন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গাফলতির ঘুম থেকে জাগ্রত হতে হবে। মানুষের প্রকাশ্য দুশমন শয়তান যখন 24 ঘন্টা সবাইকে পথভ্রষ্ট করার জন্য জাগ্রত তখন এক মূহুর্তের ঘুমই ধ্বংসের দারপ্রান্তে উপনীত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। গাফলতি ও অসচেতনতা সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
الْغَفْلَةُ تَرْكُكَ الْمَسْجِدَ وَ طَاعَتُكَ الْمُفْسِدَ
অর্থ
অসচেতনতা হলো মসজিদ যাওয়া পরিত্যাগ করা এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের আনুগত্য করা।36
অতএব গাফলতির ঘুম জাগ্রত হতে হলে আমাদেরকে নিয়মিত মসজিদ যেতে হবে এবং যারা ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফেতনা ফাসাদ সৃষ্টির কাজে ব্যস্ত তাদের আনুগত্য পরিহার করে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসতে হবে।
19) বিবেকবুদ্ধির গুরুত্ব
বিবেকবুদ্ধি হলো আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি যা দ্বারা মানুষ মহান আল্লাহর ইবাদত করে। বিবেকবুদ্ধি হলো মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত আভ্যন্তরিণ দলীল যা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের পথ দেখায়। তাই ইমাম হাসান রা: বলেন
بِالْعَقْلِ تُدْرَكُ الدَّارَانِ جَمِيعاً وَ مَنْ حَرُمَ مِنَ الْعَقْلِ حَرُمَهُمَا جَمِيعاً
অর্থ
বিবেকবুদ্ধির দ্বারা দুনিয়া ও আখেরাত অর্জন করা যায়। অতএব যে ব্যক্তি বিবেকবুদ্ধি থেকে বঞ্চিত সে উভয় জগতকে হাতছাড়া করে।37
বিবেকবুদ্ধি দুধরনের:
1. এক ধরনের বিবেকবুদ্ধি মানুষের স্বভাবের সাথে সংশ্লিষ্ট।
2. আরেক ধরনের বিবেকবুদ্ধি হলো যা মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানের মাধ্যমে অর্জন করে।
যে ব্যক্তির স্বাভাবিক বিবেকবুদ্ধি নাই সে জ্ঞান বিজ্ঞানের মাধ্যমে কোন বিবেকবুদ্ধি অর্জন করতে পারে না।
বিবেকবুদ্ধির গুরুত্ব সম্পর্কে আরেকটি হাদীসে ইমাম হাসান রা: বলেন
لَا أَدَبَ لِمَنْ لَا عَقْلَ لَهُ
অর্থ
যে ব্যক্তির কোন বিবেকবুদ্ধি নাই তার কোন আদব নাই।38
20) মুসিবতের গুরুত্ব
বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের নেয়ামত। যখন আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে ভালবাসেন তখন তাকে বিভিন্ন মুসিবতে আক্রান্ত করেন। ঐ সময় যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করবে এবং মুসিবতকে নেয়ামত মনে করবে তার স্থান হবে বেহেশত। আল্লাহর নিকট যার মর্যাদা যত বেশী হবে এ দুনিয়ায় তার বিপদ-আপদও বেশী হবে।
আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ স. যেহেতু আল্লাহর খুব প্রিয় বান্দা ছিলেন সেহেতু তাকে পূর্বের নবীদের থেকে বেশী কষ্ট স্বীকার করতে হয়। মহানবীর পবিত্র আহলে বাইতও অনেক দূ:খ-কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন।
অতএব বালা-মুসিবতকে শাস্তি মনে না করে আল্লাহ প্রদত্ত একটি বড় নেয়ামত এবং অনুগ্রহের সূচনা মনে করতে হবে। আর এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
المصائب مفاتيح الأجر
অর্থ
বালা-মুসিবত প্রতিদানের চাবি স্বরূপ।39
অতএব মুসিবতে আক্রান্ত হলে ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং আনন্দ ও কষ্ট উভয় অবস্থায় আল্লাহর প্রতি রাজি থাকা।
21) চুপ থাকার গুরুত্ব
যে ব্যক্তি বেশী অপ্রয়োজনীয় কথা বলে , তার বেশী ভুল হয়। আর যে ব্যক্তির বেশী ভুল হয় তার লজ্জা কমে যায়। যার লজ্জা কমে যায় তার পরহেযগারীতাও কমে যায়। আর যার পরহেযগারীতা কমে যায় তার অন্তর মরে যায়। যার অন্তর মরে যায় সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।40 এজন্য প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা উচিত নয়। চুপ থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
نِعْمَ الْعَوْنُ الصَّمْتُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ وَ إِنْ كُنْتَ فَصِيحا
অর্থ
যতই বাকপটু হও না কেন , অনেক ক্ষেত্রে চুপ থাকাটাই বেশী ভাল।41
স্বীয় জিহবাকে নিয়ন্ত্রণ না করার কারণে অনেক সময় মানুষ বিপদে আক্রান্ত হয় , আবার কখনো আল্লাহর গজবে নিপতিত হয়। অতএব আমাদেরকে অনর্থক কথা বলা পরিহার করতে হবে।
22) কোন জিনিস কার অর্ধেক
ইমাম হাসান রা: বলেন
حسن السؤال نصف العلم و مداراة الناس نصف العقل و القصد في المعيشة نصف المئونة
অর্থ
1. ভালো প্রশ্ন করা জ্ঞানের অর্ধেক।
2. মানুষের সাথে সমঝোতা করা বিবেকবুদ্ধির অর্ধেক।
3. আর জীবনযাপনের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা জীবিকা নির্বাহের খরচকে অর্ধেকে নিয়ে আসে।42
23) খাওয়ার সময় হাত ধুয়ার গুরুত্ব
আজকাল অধিকাংশ মানুষের দুটি বড় সমস্যা হলো দারিদ্র্য ও দুশ্চিন্তা। সম্ভবতঃ এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যার কোন দুশ্চিন্তা নাই। দুশ্চিন্তার কারণে অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। এ দুটি সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে ইমাম হাসান রা: বলেন
غسل اليدين قبل الطّعام ينفي الفقر، و بعده ينفي الهمّ
অর্থ
খাওয়ার আগে দুহাত ধৌত করলে দারিদ্র্য দূর হয়ে যায়। আর খাওয়ার পর দুহাত ধৌত করলে দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়।43
24) ভীতু ব্যক্তির পরিচয়
যে আল্লাহকে ভয় করবে , দুনিয়ার সবাই তাকে দেখে ভয় পাবে। আর যে আল্লাহকে ভয় করবে না সে দুনিয়ার সবাইকে দেখে ভয় পাবে। এরকম ভীতু ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
قِيلَ فَمَا الْجُبْنُ قَالَ الْجُرْأَةُ عَلَى الصَّدِيقِ وَ النُّكُولُ عَنِ الْعَدُوِّ
অর্থ
ভীতু হলো ঐ ব্যক্তি যে বন্ধুর নিকট খুব সাহসিকতার ভান করে , কিন্তু দুশমন দেখলে পালিয়ে যায়।44
25) যাকাতের ফল
ইসলামের 5টি ভিত্তির মধ্যে একটি হলো যাকাত। যাকাত ইসলামের সেতু। ধনী ও গরীবের ব্যবধান কমাতে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে যাকাতের ভূমিকা অপরিসীম। ইসলামী অর্থনীতির প্রধান উৎস হলো যাকাত।
যে ব্যক্তি যাকাত দেয়া থেকে বিরত থাকবে কিয়ামতের দিন তার ঐ সম্পদকে বিরাট অজগর সাপের আকৃতিতে তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে। আর ঐ অজগর তার গোশত ছিড়ে ছিড়ে খাবে , যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির হিসাব নিকাশ শেষ না হবে।45
যাকাত দিলে সম্পদ কমে না , বরং তার বৃদ্ধি ঘটে। এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
مَا نَقَصَتْ زَكَاةٌ مِنْ مَالٍ قَطُّ
অর্থ
যাকাত কখনো সম্পদকে কম করে না।46
26) কুরআন শরীফ পাঠের ফজিলত
কুরআন শরীফ এমন এক গ্রন্থ যা মানুষকে সৎপথ দেখায় এবং অসৎ পথ থেকে বিরত রাখে। এ কুরআন শরীফ পাঠের অনেক ফজীলত রয়েছে , তার মধ্যে একটি ফজীলত সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ كَانَتْ لَهُ دَعْوَةٌ مُجَابَةٌ إِمَّا مُعَجَّلَةٌ وَ إِمَّا مُؤَجَّلَةٌ
অর্থ
যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ পাঠ করে তার দোয়া তাড়াতাড়ি হোক আর দেরী করে হোক কবুল হবেই।47
অন্য একটি হাদীসে এসেছে , ইমাম জাফর সাদেক রা: বলেন
আমাদের অনুসারীদের মধ্যে যে ব্যক্তি নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় কুরআন শরীফ পাঠ করবে সে প্রতিটি শব্দের বিনিময়ে 100 টি সওয়াব লাভ করবে। আর যে নামাজে বসা অবস্থায় কুরআন শরীফ পাঠ করবে সে প্রতিটি শব্দের বিনিময়ে 50 টি সওয়াব লাভ করবে। আর যে নামাজের বাইরে কুরআন শরীফ পাঠ করবে সে প্রতিটি শব্দের বিনিময়ে 10 টি সওয়াব লাভ করবে।48
27) জ্ঞান বিজ্ঞানের রাস্তা
ইসলামে চিন্তা-ভাবনার উপর খুব গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যাদের বিবেকবুদ্ধি , চোখ ও কান থাকা সত্বেও চিন্তা-ভাবনা করে না তাদের নিন্দা করা হয়েছে। কারণ চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে মানুষ সত্যকে অসত্য থেকে আলাদা করতে পারে।
ইবাদত মানে শুধু নামাজ ও রোজা নয় , বরং আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করাও একটি বড় ইবাদত। কারণ চিন্তা-ভাবনা মানুষকে সৎকাজের দিকে আহবান করে এবং চিন্তাশীল ব্যক্তিকে সৎকাজে বাধ্য করে , আর তার জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়। এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
عَلَيْكُمْ بِالْفِكْرِ فَإِنَّهُ حَيَاةُ قَلْبِ الْبَصِيرِ وَ مَفَاتِيحُ أَبْوَابِ الحِكْمَةِ
অর্থ
তোমাদের উচিত চিন্তা-ভাবনা করা। কেননা চিন্তা-ভাবনা দূরদর্শী ব্যক্তিদের বিবেককে জীবিত রাখে এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের দরজা খুলে দেয়।49
অন্য একটি হাদীসে ইমাম হাসান রা: চিন্তা-ভাবনার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন
“ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ভীতি এবং সবসময় চিন্তা ভাবনা করার ব্যপারে ওসিয়ত করছি। কেননা চিন্তা ভাবনা হলো প্রতিটি কল্যাণের পিতা মাতা।” 50
28) রমজান মাসে করণীয়
পবিত্র রমজান মাস কুরআন নাজিলের মাস। প্রতিটি জিনিসের বসন্তকাল রয়েছে , কুরআন শরীফের বসন্তকাল হলো মাহে রমজান। কারণ এ মাসে যতবার কুরআন শরীফ খতম দেয়া হয় অন্য মাসে ততবার খতম দেয়া হয় না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ মাসে তার বান্দাদের উপর রোজাকে ফরজ করেছেন। রমজান মাস আগমন করলেই জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় , আর বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। এ মাসে এক রাতের মুস্তাহাব নামাজের সওয়াব অন্য মাসের 70 রাতের মুস্তাহাব নামাজের সওয়াবের সমান। এ মাসে রোজাদার ব্যক্তিদের ঘুম ইবাদতের সমতুল্য , আর তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস তসবীহ সমতুল্য।
রমজান মাস ইবাদত-বন্দেগীর মাস। এ মাসে ঈমানদার ব্যক্তিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগীতা সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
إِنَّ اللَّهَ جَعَلَ شَهْرَ رَمَضَانَ مِضْمَاراً لِخَلْقِهِ فَيَسْتَبِقُونَ فِيهِ بِطَاعَتِهِ إِلَى مَرْضَاتِهِ
অর্থ
মহান আল্লাহ রমজান মাসকে তার বান্দাদের জন্য প্রতিযোগীতার ময়দান বানিয়েছেন যাতে তারা এ মাসে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য পরস্পর প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়।51
29) কৃপণতার সংজ্ঞা
সকল দোষ-ত্রুটির মূল হলো কৃপণতা। কৃপণতা মানুষকে অন্যায় কাজের দিকে আহ্বান করে। কৃপণতার কারণে অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।
কৃপণতা কারণে মানুষ মিথ্যা কথা বলে , অন্যের উপর জুলুম করে এবং এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে।52
আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা থেকে কৃপণতার সূত্রপাত ঘটে।
সবচেয়ে বেশী কৃপণ হলো ঐ ব্যক্তি যে ফরজ এবং ওয়াজিব কাজ আদায় করতে কৃপণতা করে। কৃপণ ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে।
ইমাম হাসানকে কৃপণতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন ,
قَالَ لَهُ مَا الشُّحُّ قَالَ أَنْ تَرَى مَا فِي يَدَيْكَ شَرَفاً وَ مَا أَنْفَقْتَ تَلَفاً
অর্থ
কৃপণতা হলো তোমার কাছে যে সম্পদ আছে সেটাকে সম্মানের কারণ আর আল্লাহর রাস্তায় যা খরচ কর সেটাকে ক্ষতির কারণ মনে করা।53
30) মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার কারণ
প্রত্যেকটা নফস্কে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এজন্য মৃত্যু আসার আগেই সবার উচিত মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং প্রস্তুত থাকা।
এক ব্যক্তি ইমাম হাসানকে জিজ্ঞাসা করল যে , কেন আমরা মৃত্যুকে পছন্দ করি না। উত্তরে তিনি বলেন
قام إليه رجل فقال يا ابن رسول الله ما بالنا نكره الموت و لا نحبه قال فقال الحسن ع لأنكم أخربتم آخرتكم و عمرتم دنياكم و أنتم تكرهون النقلة من العمران إلى الخراب
অর্থ
মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার কারণ হলো তোমরা তোমাদের আখেরাতকে ধ্বংস করে দিয়েছ আর তোমাদের দুনিয়াকে আবাদ করেছ। তাই তোমরা আবাদ করা জায়গা থেকে ধ্বংসের জায়গায় যেতে অপছন্দ করছ।54
31) মহানুভবতা
ইসলামে মহানুভবতা ও দয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে , অর্ধেক খেজুর হলেও তা দান করে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।55
সমাজে কিছু লোক আছে যাদের চেহারা দেখে বুঝা যায় যে তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ , কিন্তু লজ্জার কারণে কারো কাছে হাত পাতে না , সেক্ষেত্রে ধনী ব্যক্তিদের উচিত তাদেরকে গোপনে সাহায্য সহযোগীতা করা।
ইমাম হাসান রা: মহানুভবতা সম্পর্কে বলেন
أَمَّا الْكَرَمُ فَالتَّبَرُّعُ بِالْمَعْرُوفِ وَ الْإِعْطَاءُ قَبْلَ السُّؤَالِ
অর্থ
মহানুভবতা হলো স্বেচ্ছায় সৎকাজ করা এবং চাওয়ার আগে দান করা।56
32) রূহের খাবারের প্রতি নজর দেয়া
মানুষ যেহেতু দেহ ও রূহের সমন্বয়ে গঠিত সেহেতু দেহের যেমন খাবারের প্রয়োজন রূহেরও তেমন খাবারের প্রয়োজন। দেহের জন্য যেসব খাবার দরকার তা সবারই জানা আছে , কিন্তু রূহের খাবার সম্পর্কে অনেকেই জানে না বা জানলেও গুরুত্ব দেয় না। অথচ রূহের খাবারের প্রতি নজর দেয়া সকলের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। রূহের প্রধান খাবার হলো ঈমান বা বিশ্বাস। ঈমানের মাধ্যমে রূহ পরিপূর্ণতা লাভ করে। রূহের আরেকটি খাবার হলো দেহকে রোজার মাধ্যমে ক্ষুধার্ত রাখা। এ ক্ষুধার্ত অবস্থা রূহকে শক্তিশালী করে।
রূহের খাবারের গুরুত্ব সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
قال الحسن بن علىّ (ع) عجبت لمن يتفكّر في مأكوله كيف لا يتفكّر في معقوله فيجنّب بطنه ما يؤذيه و يودع صدره ما يرديه
অর্থ
আমি ঐ ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হই , যে তার দেহের খাবারের জন্য চিন্তা-ভাবনা করে কিন্তু তার রূহের খাবারের জন্য কোন চিন্তা করে দেখে না। এর ফলে সে কষ্টদায়ক খাবার থেকে নিজের পেটকে হেফাজত করে কিন্তু আজেবাজে জিনিস দিয়ে তার রূহ ও আত্মাকে পরিপূর্ণ করে ফেলে।57
33) কারা আহলে বাইতের অনুসারী ?
قَالَ رَجُلٌ لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ ع إِنِّي مِنْ شِيعَتِكُمْ فَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ ع يَا عَبْدَ اللَّهِ إِنْ كُنْتَ لَنَا فِي أَوَامِرِنَا وَ زَوَاجِرِنَا مُطِيعاً فَقَدْ صَدَقْتَ وَ إِنْ كُنْتَ بِخِلَافِ ذَلِكَ فَلَا تَزِدْ فِي ذُنُوبِكَ بِدَعْوَاكَ مَرْتَبَةً شَرِيفَةً لَسْتَ مِنْ أَهْلِهَا لَا تَقُلْ لَنَا أَنَا مِنْ شِيعَتِكُمْ وَ لَكِنْ قُلْ أَنَا مِنْ مُوَالِيكُمْ وَ مُحِبِّيكُمْ وَ مُعَادِي أَعْدَائِكُمْ وَ أَنْتَ فِي خَيْرٍ وَ إِلَى خَيْرٍ
অর্থ
এক ব্যক্তি ইমাম হাসানকে বলল , হে ইমাম আমি আপনাদের অনুসারী। ইমাম তখন বললেন , তুমি যদি আমাদের আদেশ ও নিষেধসমূহের ব্যপারে আমাদের অনুগত হও তাহলে তুমি সত্য বলছ , আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী নও তার দাবী করে তোমার গুনাহের বোঝাকে বৃদ্ধি করছ।
তুমি একথা বল না যে , আমি আপনাদের অনুসারী। বরং একথা বল যে , আমি আপনাদের বন্ধু এবং আপনাদেরকে ভালবাসি , আর আপনাদের দুশমনকে আমার দ্শুমন মনে করি। এভাবে তুমি কল্যাণের উপর থাকবে এবং ভালো কাজের প্রতি তোমার আগ্রহ থাকবে।58
34) খাওয়ার আদব
খাওয়ার আদব সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
و قال الحسن بن علي ع في المائدة اثنتي عشرة خصلة يجب على كل مسلم أن يعرفها أربع منها فرض و أربع منها سنة و أربع منها تأديب فأما الفرض فالمعرفة و الرضا فالتسمية و الشكر و أما السنة فالوضوء قبل الطعام و الجلوس على الجانب الأيسر و الأكل بثلاثة أصابع و لعق الأصابع فأما التأديب فالأكل مما يليك و تصغير اللقمة و المضغ الشديد و قلة النظر في وجوه الناس
প্রতিটি মুসলমানের উচিত খাদ্য খাওয়ার সময় 12 টি সুন্নাত পালন করা। এর মধ্যে 4 টি পালন করা ফরজ , 4টি পালন করা মুস্তাহাব , আর 4টি পালন করা আদবের অন্তর্ভুক্ত।
ফরজ 4টি হলো
1। খাদ্য পরিচিতি ,
2। আল্লাহর দেয়া রিজকের প্রতি রাজি থাকা ,
3। খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা ,
4। শুকরিয়া আদায় করা।
মুস্তাহাব 4টি হলো
1। খাওয়ার আগে ওজু করা ,
2। বাম পায়ের ভরে বসা ,
3। তিন আঙ্গুলে খাওয়া ,
4। আঙ্গুল চেঁটে খাওয়া।
যে 4টি আদবের অন্তর্ভুক্ত সেগুলো হলো
1। যে খাবার নিকটে আছে সেখান থেকে খাওয়া ,
2। ছোট ছোট লকমা করা ,
3। ভালো করে চাবানো ,
4। খাওয়ার সময় অন্যদের দিকে কম তাকানো।59
35) পৌরুষত্বের পরিচয়
পৌরুষত্ব সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
قِيلَ فَمَا الْمُرُوَّةُ قَالَ حِفْظُ الدِّينِ وَ إِعْزَازُ النَّفْسِ وَ لِينُ الْكَنَفِ وَ تَعَهُّدُ الصَّنِيعَةِ وَ أَدَاءُ الْحُقُوقِ وَ التَّحَبُّبُ إِلَى النَّاسِ
অর্থ
পৌরুষত্ব হলো
1। দ্বীন ইসলামকে রক্ষা করা ,
2। আত্মসম্মানবোধ ,
3। সৎকাজের ব্যপারে ন ¤্রতা ,
4। অনুগ্রহ প্রদর্শন ,
5। অন্যদের হক আদায় করা ,
6। মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করা।60
36) দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত
আমরা অনেক সময় দুয়া করি কিন্তু আমাদের দুয়া কবুল হয় না। এর মূল কারণ হলো দুয়ার শর্তগুলো আমরা পালন করি না। এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
أَنَا الضَّامِنُ لِمَنْ لَمْ يَهْجُسْ فِي قَلْبِهِ إِلَّا الرِّضَا أَنْ يَدْعُوَ اللَّهَ فَيُسْتَجَابَ لَهُ
অর্থ
যে ব্যক্তির মনে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করা ছাড়া অন্য কিছু নাই সে যদি দোয়া করে তাহলে তার দোয়া অবশ্যই কবুল হবে। আর এ ব্যপারে আমি হলাম তার জামিন।61
দোয়া কবুলের অন্যান্য শর্তসমূহ
1. আল্লাহর আনুগত্য করা ,
2. আল্লাহর দেয়া নেয়ামতকে স্মরণ করে তার প্রশংসা করা ,
3. দুরুদ শরীফ পাঠ করা ,
4. গুনাহের কথা স্মরণ করে আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া ,
5. খাদ্য ও পোশাক হালাল পথে অর্জন করা ,
6. মানুষের হক আদায় করা ,
7. নিয়্যাত ভালো থাকা।
37) সহনশীলতার পরিচয়
পারিবারিক , সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে ধৈর্য ও সহনশীলতার গুরুত্ব অপরিসীম। সহনশীলতার অভাবে আজকে অনেক পরিবার অশান্তির আগুনে জলছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই সহনশীল হতে হবে।
ক্রোধের শিকার হয়ে আজকে অনেকে আইন কানুন লঙ্ঘন করে প্রতিপক্ষের উপর হামলা করছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে দেশ ও সমাজের শান্তি-শৃংখলা বিনষ্ট করছে। অতএব দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে হবে।
এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
قِيلَ فَمَا الْحِلْمُ قَالَ كَظْمُ الْغَيْظِ وَ مِلْكُ النَّفْس
অর্থ
সহনশীলতা হলো ক্রোধ সংবরণ করা এবং স্বীয় নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা।62
38) কুরআনকে পথ প্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ
ইমাম হাসান রা: বলেন
ما بقي في الدنيا بقية غير هذا القرآن فاتخذوه إماما يدلكم على هداكم و إن أحق الناس بالقرآن من عمل به و إن لم يحفظه و أبعدهم منه من لم يعمل به و إن كان يقرؤه
অর্থ
এ দুনিয়ায় কুরআন ছাড়া অন্য কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। অতএব তোমরা কুরআনকে পথ প্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করলে সে তোমাদেরকে সত্যপথ দেখাবে। যে কুরআন শরীফের বিধান অনুযায়ী আমল করবে সে কুরআনের বেশী নিকটে থাকবে যদিও সে কুরআনের হাফেজ নাও হতে পারে , পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল না করবে সে কুরআন থেকে অনেক দূরে থাকবে যদিও সে কুরআন তেলাওয়াত করে।63
39) বেহেশতী ব্যক্তিদের পরিচয়
যারা দুনিয়ায় কুরআন শরীফের বিধি-বিধান অনুযায়ী স্বীয় জীবনকে পরিচালিত করবে তারাই কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাবে। এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
إن هذا القرآن يجيء يوم القيامة قائدا و سائقا يقود قوما إلى الجنة أحلوا حلاله و حرموا حرامه و آمنوا بمتشابهه و يسوق قوما إلى النار ضيعوا حدوده و أحكامه و استحلوا محارمه
অর্থ
কুরআন মজিদ কিয়ামতের দিন নেতা ও পথ প্রদর্শক হিসেবে আগমন করবে। অতঃপর ঐ জাতিকে বেহেশতের দিকে নিয়ে যাবে যারা কুরআন শরীফে বর্ণিত হালালকে হালাল ও হারামকে হারাম হিসেবে মেনে চলেছে এবং মুতাশাবেহ্ আয়াতসমূহের উপর ঈমান এনেছে। পক্ষান্তরে ঐ জাতিকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে যারা কুরআন শরীফের বিধি-বিধানকে ধ্বংস করেছে এবং কুরআনে বর্ণিত হারামসমূহকে হালাল মনে করেছে।64
40) উন্নত নৈতিক চরিত্র
নৈতিক চরিত্র ভালো না হলে কোন জ্ঞানই মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। জ্ঞান-বিজ্ঞান তখনই মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে যখন তার পাশাপাশি উন্নত নৈতিক চরিত্রের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হবে।
ইমাম হাসান রা: এ সম্পর্কে বলেন
مكارم الأخلاق عشر: صدق اللسان، و صدق البأس، و إعطاء السائل، و حسن الخلق، و المكافاة بالصنائع، و صلة الرحم، و التذمم على الجار، و معرفة الحق للصاحب، و قرى الضيف، و رأسهن الحياء
অর্থ
উন্নত নৈতিক চরিত্র 10 টি
সত্য কথা বলা , সত্যিকার অর্থে সাহসিকতা , আবেদনকারীকে দান করা , উত্তম চরিত্র , ভালো কাজের পুরষ্কার দান করা , আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা , প্রতিবেশীর পৃষ্ঠপোষকতা করা , অন্যের অধিকারের প্রতি খেয়াল রাখা , মেহমানদারী করা , আর এসব কিছুর মূল হলো লজ্জাশীলতা।65
41) রাজনীতির ব্যাখ্যা
রাজনীতি সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
سأله رجل عن السّياسة فقال: السّياسة أن ترعى حقوق اللَّه، و حقوق الأحياء، و حقوق الأموات. فأمّا حقوق اللَّه فأداء ما طلب و الاجتناب عمّا نهى. و أمّا حقوق الأحياء فهي أن تقوم بواجبك نحو إخوانك و لا تتأخّر عن خدمة امّتك، و أن تخلص لوليّ الأمر ما أخلص لأمّته، و ترفع عقيرتك في وجهه إذا حاد عن الطّريق السّوي. و أمّا حقوق الأموات فهي أن تذكر خيراتهم و تتغاضى عن مساوئهم، فإنّ لهم ربّا يحاسبهم
অর্থ
রাজনীতি হলো আল্লাহর হক আদায় করা , জীবিত ব্যক্তিদের হক আদায় করা এবং মৃত ব্যক্তিদের হক আদায় করা।
আল্লাহর হক হলো যা তিনি আমাদেরকে করতে বলেছেন তা আঞ্জাম দেয়া এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকা।
জীবিত ব্যক্তিদের হক হলো স্বীয় ভাইদের ব্যপারে নিজ দায়িত্ব পালন করা , স্বজাতির খেদমত করতে বিলম্ব না করা এবং ইসলামী শাসনকর্তা যতদিন নিষ্ঠার সাথে জাতির খেদমত করবে ততদিন তার প্রতি একনিষ্ঠ থাকা , আর তিনি সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হলে তার প্রতিবাদ করা।
মৃত ব্যক্তিদের হক হলো তাদের ভালো কাজসমূহকে স্মরণ করা এবং তাদের মন্দ কাজসমূহকে ভুলে যাওয়া , কারণ ঐসব ব্যপারে তাদের প্রতিপালক তাদের সাথে হিসাব নিকাশ করবেন।66
42) বন্ধুত্ব করার পূর্বশর্ত
কারো দ্বীন ধর্ম সম্পর্কে জানতে হলে তার বন্ধুদের দিকে লক্ষ্য করতে হয়। কারণ মানুষ সাধারণতঃ বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তার আদর্শকে গ্রহণ করে। এজন্য কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে অবশ্যই তাকে যাচাই করা উচিত। সে যদি ভালো গুণের অধিকারী হয় তাহলেই তার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা যাবে। আর এ সম্পর্কে ইমাম হাসান রা: বলেন
قَالَ ع لِبَعْضِ وُلْدِهِ يَا بُنَيَّ لَا تُوَاخِ أَحَداً حَتَّى تَعْرِفَ مَوَارِدَهُ وَ مَصَادِرَهُ فَإِذَا اسْتَنْبَطْتَ الْخِبْرَةَ وَ رَضِيتَ الْعِشْرَةَ فَآخِهِ عَلَى إِقَالَةِ الْعَثْرَةِ وَ الْمُوَاسَاةِ فِي الْعُسْرَةِ
অর্থ
হে আমার সন্তান কারো সাথে বন্ধুত্ব করবে না যতক্ষণ না জানতে পারবে যে , সে কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যেতে চায় অর্থাৎ তার নৈতিক চরিত্র এবং পারিবারিক বৈশিষ্ঠ্য কি রকম। অতএব তাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর যদি তার চালচলনে রাজি হও তাহলে তার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন কর এ শর্তে যে , একে অপরের ভুল ত্রুটি যেন উপেক্ষা করা হয় এবং বিপদ আপদে যেন একজন আরেকজনকে সহযোগীতা করে।67
43) উচ্চ মর্যাদার অধিকারী
অন্যের হক আদায় করা সকলের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। যেখানেই কোন জুলুম-অত্যাচার সংঘটিত হয় সেখানেই একদল লোকের হক বিনষ্ট হয়। অতএব সবাই যদি একে অপরের হক আদায়ের ব্যাপারে সচেতন হয় তাহলেই সমাজ থেকে জুলুম-অত্যাচার দূরীভত হবে।
অপরের হক আদায়ের ব্যাপারে ইমাম হাসান রা: বলেন
أعرف الناس بحقوق إخوانه ، و أشدهم قضاء لها، أعظمهم عند الله شأنا، و من تواضع في الدنيا لإخوانه فهو عند الله من الصديقين، و من شيعة علي بن أبي طالب ع حقا
অর্থ
আল্লাহর নিকট সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ঐ ব্যক্তি যে তার ভাইদের হকসমূহের ব্যপারে অধিক অবগত এবং সেগুলো আদায়ের জন্য খুব চেষ্টা প্রচেষ্টা করে।
আর যে ব্যক্তি এ দুনিয়ায় দ্বীনি ভাইদের সাথে বিনয় ও নম্রতার সাথে চালচলন করবে আল্লাহ তাকে সত্যবাদী এবং হযরত আলী রা: এর অনুসারী হিসেবে গণ্য করবেন।68
44) দুনিয়ার পরিচয়
দুনিয়ার পরিচয় দিতে গিয়ে ইমাম হাসান রা: বলেন
وَ قَالَ ع اتَّقُوا اللَّهَ عِبَادَ اللَّهِ وَ جِدُّوا فِي الطَّلَبِ وَ تُجَاهَ الْهَرَبِ وَ بَادِرُوا الْعَمَلَ قَبْلَ مُقَطَّعَاتِ النَّقِمَاتِ وَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ فَإِنَّ الدُّنْيَا لَا يَدُومُ نَعِيمُهَا وَ لَا تُؤْمَنُ فَجِيعُهَا وَ لَا تُتَوَقَّى مَسَاوِئُهَا غُرُورٌ حَائِلٌ وَ سِنَادٌ مَائِلٌ
অর্থ
হে আল্লাহর বান্দারা আল্লাহকে ভয় কর এবং বার্ধক্য আসার আগে সৌভাগ্যের অন্বেষণে চেষ্টা কর। আর আজাব নাজিল হওয়ার আগে এবং আনন্দ ধ্বংসকারী মৃত্যু আসার আগে নেক কাজ করার ক্ষেেত্র তাড়াহুড়া কর। কেননা দুনিয়ার নেয়ামতসমূহ চিরস্থায়ী নয় এবং এখানকার বিপদ থেকে কেউ নিরাপদ নয় , আর এ দুনিয়ার দুর্দশা থেকেও কেউ রক্ষা পাবে না। এ দুনিয়া প্রতারক এবং সৌভাগ্যের পথে বাধা স্বরূপ , আর এমন এক অবলম্বন যার কোন ভিত্তি নাই।69
45) সৌন্দর্য আল্লাহর পছন্দ
روي عن الحسن بن علي ع أنه كان إذا قام إلى الصلاة لبس أجود ثيابه فقيل له في ذلك فقال إن الله جميل يحب الجمال فأتجمل لربي و تلا قوله تعالى يا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ
অর্থ
ইমাম হাসান রা: যখনই নামাজ পড়তেন সবচেয়ে সুন্দর পোশাকটা পরে নামাজ পড়তেন। তাঁর সাথীরা তাকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:
আল্লাহ তাআলা সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। তাই আমি নামাজের সময় আমার প্রতিপালকের জন্য সুন্দর পোশাক পরিধান করি।
অতঃপর তিনি এ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন:
يا بَني آدَمَ خُذُوا زينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ
"হে আদম সন্তান! মসজিদ যাওয়ার সময় তোমাদের সৌন্দর্যকে গ্রহণ কর।" (সুরা আরাফ/31)70
46) মসজিদ যাওয়ার উপকারীতা
ইমাম হাসান রা: বলেন
وَ قَالَ ع مَنْ أَدَامَ الِاخْتِلَافَ إِلَى الْمَسْجِدِ أَصَابَ إِحْدَى ثَمَانٍ آيَةً مُحْكَمَةً وَ أَخاً مُسْتَفَاداً وَ عِلْماً مُسْتَطْرَفاً وَ رَحْمَةً مُنْتَظَرَةً وَ كَلِمَةً تَدُلُّهُ عَلَى الْهُدَى أَوْ تَرُدُّهُ عَنْ رَدًى وَ تَرْكَ الذُّنُوبِ حَيَاءً أَوْ خَشْيَةً
অর্থ
যে ব্যক্তি সবসময় মসজিদে যাওয়া আসা করে সে 8টি উপকারীতার মধ্যে কমপক্ষে 1টি উপকারীতা লাভ করবে। সেগুলো হলো
1। ধর্মীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীল পাবে ,
2। এমন বন্ধুর খোঁজ পাবে যার থেকে সে উপকৃত হবে ,
3। নিত্য নতুন ও বিস্ময়কর জ্ঞান লাভ করবে ,
4। এমন রহমত লাভ করবে যা তার জন্য অপেক্ষমাণ ,
5। এমন বক্তব্য শুনতে পাবে যা তাকে সত্যপথ দেখাবে ,
6। এবং অন্যায় পথ থেকে দূরে রাখবে ,
7। লজ্জার কারণে গুনাহ পরিত্যাগ করবে ,
8। অথবা আল্লাহর শাস্তির ভয়ে গুনাহ করা থেকে বিরত থাকবে।71
47) গুনাহ থেকে বিরত থাকার উপায়
যারা গুনাহ থেকে বিরত থাকতে পারে না তাদের জন্য নিস্নোক্ত হাদীসটি পড়া খুবই জরুরী
عن الحسن بن علي عليهما السّلام: أنّه جاءه رجل و قال أنا رجل عاص و لا صبر لي عن المعصية فعظني بموعظة فقال عليه السّلام: افعل خمسة أشياء و أذنب ما شئت، لا تأكل رزق اللَّه و أذنب ما شئت و اطلب موضعا لا يراك اللَّه و أذنب ما شئت و اخرج من ولاية اللَّه و أذنب ما شئت و إذا جاءك ملك الموت ليقبض روحك فادفعه عن نفسك و أذنب ما شئت و إذا أدخلك مالك النّار فلا تدخل في النّار و أذنب ما شئت
এক ব্যক্তি ইমাম হাসানের নিকট এসে বলল , হে রাসুলের সন্তান! আমি একজন গুনাহগার ব্যক্তি , গুনাহ করা আমার অভ্যাস , গুনাহ না করে আমি থাকতে পারি না। হে রাসুলের সন্তান! আমাকে নসীহত করুন ও উপদেশ দিন।
ইমাম হাসান তাকে বললেন , তুমি 5টি কাজ কর , তারপর যত পার গুনাহ কর।
1। আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে ভক্ষণ করো না ,
2। গুনাহ করার জন্য এমন জায়গা খুজে বের কর যেখানে আল্লাহ তোমাকে দেখবে না ,
3। আল্লার জমিন থেকে বের হয়ে এমন জায়গায় চলে যাও যেখানে আল্লাহর কোন কতৃত্ব চলে না ,
4। যখন ফেরেশতা আজরাঈল তোমার জান কবজ করতে আসবে তখন তাকে তোমার থেকে দূরে ঠেলে দিও ,
5। যখন জাহান্নামের ফেরেশতা তোমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে তখন তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করো না।
তুমি এ 5টি কাজ আঞ্জাম দাও তারপর যত পার গুনাহ কর।72
48) ধ্বংসের কারণসমূহ
মানুষ বিভিন্ন কারণে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। ইমাম হাসান রা: ধ্বংস হওয়ার 3টি প্রধান কারণ সম্পর্কে বলেন
هَلَاكُ النَّاسِ فِي ثَلَاثٍ الْكِبْرِ وَ الْحِرْصِ وَ الْحَسَدِ
অর্থ
তিনটি জিনিস মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়:
1। অহংকার ,
2। লোভ লালসা ,
3। হিংসা।73
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুক আমরা যেন সকল অন্যায় অপকর্ম থেকে নিজেদের পাক পবিত্র করে মহানবী স. এবং তার পবিত্র আহ্লে বাইতের আদর্শ মোতাবেক আমাদের জীবন গড়তে পারি।
49) ইমাম হাসান রা: এর জিয়ারত
প্রতি সোমবার ইমাম হাসান রা: এর নি ¤স্নোক্ত জিয়ারতটি পড়া মুস্তাহাব।
السَّلامُ عَلَيْكَ يَا ابْنَ رَسُولِ رَبِّ الْعَالَمِينَ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا ابْنَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا ابْنَ فَاطِمَةَ الزَّهْرَاءِ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا حَبِيبَ اللَّهِ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا صِفْوَةَ اللَّهِ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا أَمِينَ اللَّهِ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا حُجَّةَ اللَّهِ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا نُورَ اللَّهِ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا صِرَاطَ اللَّهِ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا بَيَانَ حُكْمِ اللَّهِ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا نَاصِرَ دِينِ اللَّهِ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا السَّيِّدُ الزَّكِيُّ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْبَرُّ الْوَفِيُّ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْقَائِمُ الْأَمِينُ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْعَالِمُ بِالتَّأْوِيلِ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْهَادِي الْمَهْدِيُّ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الطَّاهِرُ الزَّكِيُّ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا التَّقِيُّ النَّقِيُّ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْحَقُّ الْحَقِيقُ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الشَّهِيدُ الصِّدِّيقُ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ وَ رَحْمَةُ اللَّهِ وَ بَرَكَاتُهُ
50) ইমাম হাসান রা: এর দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَتَقَرَّبُ إِلَيْكَ بِجُودِكَ وَ كَرَمِكَ وَ أَتَقَرَّبُ إِلَيْكَ بِمُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَ رَسُولِكَ وَ أَتَقَرَّبُ إِلَيْكَ بِمَلائِكَتِكَ الْمُقَرَّبِينَ وَ أَنْبِيَائِكَ وَ رُسُلِكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَ رَسُولِكَ وَ عَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَ أَنْ تُقِيلَنِي عَثْرَتِي وَ تَسْتُرَ عَلَيَّ ذُنُوبِي وَ تَغْفِرَهَا لِي وَ تَقْضِيَ لِي حَوَائِجِي وَ لا تُعَذِّبَنِي بِقَبِيحٍ كَانَ مِنِّي فَإِنَّ عَفْوَكَ وَ جُودَكَ يَسَعُنِي إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
1 ওসায়েলুস শিয়া , হুররে আমেলী , 27/188
2 সূত্র: নিউজ লেটার।
3 আল ইহতেজাজ , খ: 1 , পৃ: 66
4 বিহারুল আনওয়ার , খ: 67 , পৃ: 10 ; আল খেসাল , খ: 1 , পৃ: 236
5 তুহাফুল উকুল , পৃ: 233 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 105
6 সুরা শুরা/38
7 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 116
8 ওয়াসায়েলুস শীয়া , খ: 12 , পৃ: 153 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 68 , পৃ: 386 ; আল খেসাল , খ: 1 , পৃ: 29
9 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 113 ; আল আদাদুল কাভিয়া , পৃ: 37
10 সুরা হুজুরাত/11
11 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 105 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 233
12 এরশাদুল কুলুব , খ: 1 , পৃ: 123
13 মাআনিল আখবার , খ: 1 , পৃ: 370
14 আদাবে মুআশেরাত , খ: 1 , পৃ: 97
15 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 112 ; কাশফুল গুম্মাহ , খ: 1 , পৃ: 556 ; মাজমুয়ে ওয়ারাম , খ: 2 , পৃ: 216
16 অঈনে বান্দেগী ওয়া নিয়ায়েশ , পৃ: 96
17 এরশাদুল কুলুব , খ: 1 , পৃ: 506
18 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 109 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 236
19 বিহারুল আনওয়ার , খ: 68 , পৃ: 184 ; তাফসীরুল ইমাম , পৃ: 327 ; মাজমুয়ে ওয়ারাম , খ: 2 , পৃ: 108
20 আল হাদীস , খ: 2 , পৃ: 252
21 বিহারুল আনওয়ার , খ: 70 , পৃ: 287
22 আল কাফী , খ: 2 , পৃ: 143 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 106 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 234
23 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 113 , 115 ; আল আদাদুল কাভিয়া , পৃ: 37
24 মাকারেমুল আখলাক , পৃ: 204
25 বিহারুল আনওয়ার , খ: 10 , পৃ: 142 ; আমালিয়ে শায়খ তুসী , পৃ: 566
26 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 106 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 234
27 এরশাদুল কুলুব , খ: 1 , পৃ: 335
28 বিহারুল আনওয়ার , খ: 44 , পৃ: 59 ; শারহে নাহজুল বালাগা , খ: 16 , পৃ: 44
29 মিসবাহূশ শারিয়া , পৃ: 385
30 মাজমুয়ে ওয়ারাম , খ: 1 , পৃ: 52
31 ঈমান ও কুফর , খ ; 1 , পৃ: 556
32 ঈমান ও কুফর , খ ; 1 , পৃ: 556
33 সুরা শুআরা/ 88-89
34 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 109 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 235
35 আল খেসাল , খ: 1 , পৃ: 332
36 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 114 ; আল আদাদুল কাভিয়া , পৃ: 52 ; কাশফুল গুম্মাহ্্ , খ: 1 , পৃ: 568
37 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 111 ; কাশফুল গুম্মাহ , খ: 1 , পৃ: 571
38 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 111 ; কাশফুল গুম্মাহ , খ: 1 , পৃ: 571
39 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 115 ; আ’ লামুদ্দীন , পৃ: 297 ; মাসকানুল ফুয়াদ , পৃ: 43 ; আল আদাদুল কাভিয়া , পৃ: 37
40 বিহারুল আনওয়ার , খ: 68 , পৃ: 286
41 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 101 ; আল আদাদুল কাভিয়া , পৃ: 32 ; মা’ আনিল আখবার , পৃ: 401
42 শারহে নাহজুল বালাগা , খ: 18 , পৃ: 108
43 তাহরিরুল মাওয়ায়েজ আল আদাদিয়াহ , পৃ: 216
44 বিহারুল আনওয়ার , খ ; 75 , পৃ: 102 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 225 ; আল আদাদুল কাভিয়া , পৃ: 52
45 সাওয়াবুল আ’ মাল , পৃ: 460
46 দাআ’ য়েমুল ইসলাম , খ: 1 , পৃ: 240 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 93 , পৃ: 28 ; মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল , খ: 7 , পৃ: 23
47 মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল , খ: 4 , পৃ: 260 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 90 , পৃ: 313 ; আদ দাআ’ ওয়াত , পৃ: 24
48 আল কাফী , খ: 8 , পৃ: 214
49 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 115 ; আ’ লামুদদ্বীন , পৃ: 297
50 মাজমুয়ে ওয়ারাম , খ: 1 , পৃ: 52
51 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 110 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 236
52 আল খেসাল , খ: 1 , পৃ: 194
53 ওয়াসায়েলুশ শিয়া , খ: 9 , পৃ: 38 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 70 , পৃ: 305 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 225
54 মাআনিল আখবার , পৃ: 389
55 পায়ামে পয়গাম্বার , পৃ: 634
56 মুসতাদরাকুল ওয়সায়েল , খ: 12 , পৃ: 342 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 44 , পৃ: 88 ; আল খারায়েজ , খ: 1 , পৃ: 236
57 আল হাদীস , খ: 2 , পৃ: 17
58 বিহারুল আনওয়ার , খ: 65 , পৃ: 156 ; মাজমুয়ে ওয়ারাম , খ: 2 , পৃ: 106
59 রওজাতুল ওয়ায়েজীন , খ: 2 , পৃ: 311
60 তুহাফুল উকুল , পৃ: 225 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 102
61 আল কাফী , খ: 2 , পৃ: 62 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 43 , পৃ: 351 ; ওসায়েলুশ শিয়া , খ: 3 , পৃ: 251
62 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 102 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 225 ; কাশফুল গুম্মাহ , খ: 1 , পৃ: 568
63 ইরশাদুল কুলুব , খ: 1 , পৃ: 79
64 ইরশাদুল কুলুব , খ: 1 , পৃ: 79
65 তারিখে ইয়াকুবী , খ: 2 , পৃ: 226
66 আল হায়াত , খ: 6 , পৃ: 620 (ফার্সি অনুবাদ)
67 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 105 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 233
68 তাফসিরুল ইমাম , পৃ: 325
69 তুহাফুল উকুল , পৃ: 236 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 109
70 আওয়ালিউল লাআলী , খ: 1 , পৃ: 321 ; বিহারুল আনওয়ার , খ: 80 , পৃ: 168 ; ওয়াসায়েলুশ শিয়া , খ: 4 , পৃ: 455
71 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 108 ; তুহাফুল উকুল , পৃ: 235
72 আল হুকমুজ জাহেরা , পৃ: 550 ; তাহরীরুল মাওয়ায়েজ আল আদাদিয়া , পৃ: 407
73 বিহারুল আনওয়ার , খ: 75 , পৃ: 111 ; কাশফুল গুম্মাহ , খ: 1 , পৃ: 571
ইমাম হাসান রা: এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 4
ইমাম হাসান রা: এর দৃষ্টিতে লাইফ স্টাইল 6
1) সর্বোত্তম ব্যক্তির পরিচয় 7
2) উন্নতির মাধ্যম 8
3) চালচলন পদ্ধতি 9
4) উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব 10
5) উপহাসের পরিনাম 11
6) কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করার ফল 12
7) প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার 13
8) বুদ্ধিমান ব্যক্তির কর্তব্য 14
9) আল্লাহর ইবাদতের ফল 15
10) প্রকৃত আপনজন 16
11) অপরাধীর মাফ চাওয়ার সুযোগ 17
12) খোদাভীরূর সাথে মেয়ের বিয়ে 18
13) আল্লাহর আনুগত্যের ফল 19
14) প্রকৃত কল্যাণ 20
15) সত্যকে আঁকড়ে ধরা 21
16) আল্লাহর প্রেমিক 22
17) পবিত্র মন 23
18) অসচেতনতা 24
19) বিবেকবুদ্ধির গুরুত্ব 25
20) মুসিবতের গুরুত্ব 26
21) চুপ থাকার গুরুত্ব 27
22) কোন জিনিস কার অর্ধেক 28
23) খাওয়ার সময় হাত ধুয়ার গুরুত্ব 29
24) ভীতু ব্যক্তির পরিচয় 30
25) যাকাতের ফল 31
26) কুরআন শরীফ পাঠের ফজিলত 32
27) জ্ঞান বিজ্ঞানের রাস্তা 33
28) রমজান মাসে করণীয় 34
29) কৃপণতার সংজ্ঞা 35
30) মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার কারণ 36
31) মহানুভবতা 37
32) রূহের খাবারের প্রতি নজর দেয়া 38
33) কারা আহলে বাইতের অনুসারী ?39
34) খাওয়ার আদব 40
35) পৌরুষত্বের পরিচয় 42
36) দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত 43
37) সহনশীলতার পরিচয় 44
38) কুরআনকে পথ প্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ 45
39) বেহেশতী ব্যক্তিদের পরিচয় 46
40) উন্নত নৈতিক চরিত্র 47
41) রাজনীতির ব্যাখ্যা 48
42) বন্ধুত্ব করার পূর্বশর্ত 49
43) উচ্চ মর্যাদার অধিকারী 50
44) দুনিয়ার পরিচয় 51
45) সৌন্দর্য আল্লাহর পছন্দ 52
46) মসজিদ যাওয়ার উপকারীতা 53
47) গুনাহ থেকে বিরত থাকার উপায় 54
48) ধ্বংসের কারণসমূহ 55
49) ইমাম হাসান রা: এর জিয়ারত 56
50) ইমাম হাসান রা: এর দোয়া 57
তথ্যসূত্র :58
সূচীপত্র : 62