কোরআন ও হাদীসের আলোকে
আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা
লেখক , সংকলন ও গবেষণায়
মোহাম্মাদ নাজির হোসাইন
সম্পাদনায়
এস. এম. মান্নান আলী
নিবেদন
উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনা , নির্মোহ মন-মানসিকতা , জ্ঞানগর্ভ যুক্তি , মাযহাবগত আকীদার অন্ধবিশ্বাস ও পক্ষপাতহীন দৃষ্টিভঙ্গি মুক্ত মানসিকতা নিয়ে , বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রন্থটি অধ্যয়নের অনুরোধ করা গেল। আশা রাখছি যা“ সিরাতে মুস্তাকিমের ” পথ অনুসন্ধানে সহায়তা করবে । আমার এ গ্রন্থ সত্যাকাঙ্ক্ষী ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির হাতে সমর্পিত হোক আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট এ প্রার্থনাই করছি।
শিরোনাম
কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা
লেখক , সংকলন ও গবেষণায়
মোহাম্মাদ নাজির হোসাইন
সম্পাদনায়
এস. এম. মান্নান আলী
প্রকাশনায়
আহলে-বাইত-বেলায়াত এণ্ড আউলিয়া-লিংক
প্রকাশকাল
প্রথম প্রকাশ-২০০৪ ইং
সংশোধিত সংস্করণ-সেপ্টেম্বর , ২০১৩ ইং
সংশোধিত সংস্করণ-জানুয়ারি , ২০১৫ ইং
بسم الله الرحمن الرحیم
(সংশোধিত কিছু নতুন তথ্য সংযোজিত সংস্করণে)
“ লেখকের কথা”
মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করছি এবং দরূদ ও সালাম তাঁর প্রিয় হাবিব রাহমাতুল্লিল আলামিন , হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর পবিত্র ইতরাত ,আহলে বাইত (আঃ)-এর উপর।“ কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা ” গ্রন্থখানার‘ সংশোধিত কিছু নতুন তথ্য সংযোজিত সংস্করণ ’ প্রকাশ করতে পেরে । কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সহৃদয় পাঠক ও পাঠিকাদের যারা আমার লেখা ও গবেষণাধর্মী প্রথম গ্রন্থ“ কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা ” যা প্রথম ২০০৪ ইং সালে প্রকাশ হবার সাথে সাথে পাঠক মহলে বেশ আলোচিত হয়েছে এবং এই গ্রন্থখানা আগ্রহের সাথে সংগ্রহ করেছেন এবং হৃদয় দিয়ে পাঠ করে সত্যকে অনুধাবন করার চেষ্টা করেছেন। এ গ্রন্থ লেখার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে“ আশিকানে আহলে বাইত ও বিজ্ঞ পাঠক বৃন্দ ” আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানিয়ে আসছেন এবং গ্রন্থটির‘ সংশোধিত কিছু নতুন তথ্য সংযোজিত সংস্করণ ’ প্রকাশ করার বার বার অনুরোধ করছিলেন , তাদের সেই অনুরোধকে সম্মান দেখিয়ে বিজ্ঞ পাঠক মহলের হাতে সংশোধিত কিছু নতুন তথ্য সংযোজিত সংস্করণ উপস্থাপন করলাম। এবং যারা ২০০৪ ইং সালে প্রথম প্রকাশ থেকে এই নতুন তথ্য সংযোজিত সংস্করনে আন্তরিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন ও করছেন , তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছ একান্তভাবে আবেদন করছি , এর প্রচার-প্রসারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে পরকালীন পুরস্কার প্রদান করেন।
বিজ্ঞ পাঠক মহলের নিকট সনির্বন্ধ অনুরোধ রইল যে , অত্র পুস্তক খানিতে কোথাও কোন ভূলত্রুটি দেখা গেলে , সেজন্য সকলের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি কাম্য। ভূল সংশোধনে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি। তাহলে পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধন করার প্রয়াস পাব-ইনশাআল্লাহ্।
ওয়াসসালাম
মোহাম্মাদ নাজির হোসাইন
আহলে বাইত-এর নামের পাশে“ আলাইহিস সালাম” (আঃ) কেন ?
আহলে বাইত-এর অনুসারিগণ ছাড়াও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের লেখকগণও শুধু নবী রাসূলগণের নামের পাশেই (আঃ)“ আলাইহিস সালাম ” ব্যবহার করেননি , বরং মহানবী (সাঃ)-এর আহলে বাইতের সদস্যগণের নামের পাশেও (আঃ)“ আলাইহিস সালাম ” ব্যবহার করেছেন: ডাঃ তাহেরুল কাদ্বরী , তার মানাকেবে ফাতেমা যাহরায় , ১৫ ও ১১১ পৃষ্ঠা ; মারাজাল বাহরাইন ফি মানাকেবে আল হাসনাইন , ১৩ ও ১১৭ ; পৃষ্ঠায় , মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান খান আহলে হাদীস , তার আনওয়ারুল লুঘাতে , ১০ , ৩৬ ও ৭৬ , পৃষ্ঠায় ; এবং শায়খ আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী তার রাহাতুল কুলুবের ২৮ , ১০৭ , ১৬১ ও ১৮৪ , পৃষ্ঠায় ; সহীহ্ আল বুখারী (ডাঃ মুহাম্মদ মুহসিন খান সালাফী) খঃ-৫ , হাঃ-৫৫ ও ৯১ ইসলামিক ইউনিভারসিটি আল মাদীনা আল মুনাওয়ারা (আরবী , ইংরেজী অনুবাদ) ; তাফসীরে নুরুল কোরআন , (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) ,খঃ-৩ , ২৩৪ ও ২৭০ পৃষ্ঠায় (১৯৮৭ ,ইং) ; এরা সকলেই , তাদের নিজ নিজ গ্রন্থে আহলে বাইত-এর নামের পাশে“ আলাইহিস সালাম ” ব্যবহার করেছেন , তাই এখানে এই রীতিকে অনুসরণ করা হলো ।
بسم الله الرحمن الرحیم
লেখকের নিবেদন
“ আর তোমাদের মধ্যে এমন এক দল থাকা আবশ্যক যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ করবে আর অসৎ কাজের নিষেধ করবে , এরাই হল সফলকাম ।” (সূরা-আলে-ইমরান , আয়াত-১০৪)
“ আর তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়িয়ে ধর পরস্পর বিচ্ছিন্ন (ফেরকাবন্দী) হইও না। ” (সূরা-আলে ইমরান , আয়াত-১০৩)
ইসলাম ; অর্থ শান্তি ও আত্মসমর্পণ। ইসলাম গ্রহণ করার পর ধর্মের ব্যাপারে নিজের ইচ্ছা-চিন্তা-চেতনার কোন প্রকার প্রবেশ ঘটানোর কোন অবকাশ নাই। প্রতিটি কর্ম হতে হবে আল্লাহর নির্দেশিত ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। সেটা নামাজ , রোজা , হজ্ব , যাকাত , খুমস্ , কোরবানী কিংবা অন্য যে কোন আমল হোক না কেন , নিজের ইচ্ছা প্রকাশের কোন অবকাশ নেই। মানুষ মানেই আল্লাহর দাস , (বান্দা) দাস কখনো আল্লাহর উপর হুকুম চালাতে পারে না। দাস আবার দু‘ প্রকারের-এক বাধ্যগত , দুই অবাধ্য। যারা বাধ্যগত দাস , তারা আল্লাহ্ ও রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশ মাথানত করে পালন করে থাক। আর যারা অবাধ্য দাস , তারা আল্লাহ্ ও রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশ অমান্য করে নিজের মনমত ইজমা -কিয়াস করে আল্লাহর নির্দেশের সীমালঙ্ঘন করে জাহান্নামের চির বাসিন্দা হয়।
কিন্তু অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে ! আজকে আমরা পবিত্র ইসলামে , মুসলিম উম্মাহর মাঝে , যে ফেরকাবন্দী বা দল বিভক্তি দেখছি , তা আল্লাহ , রাসূল (সাঃ) কিংবা পবিত্র কোরআনকে কেন্দ্র করে হয়নি , হয়েছে খিলাফত বা ইমামতকে হস্তক্ষেপ করার কারনে। মহানবী (সাঃ)-এর পর উম্মতে মুহাম্মদীকে“ সিরাতে মুস্তাকিমের ” পথে পরিচালিত বা দিকনির্দেশনা দিবে তা নিয়ে , রাসূল (সাঃ) আজকের দিনের অবস্থা সম্পর্কে ভালো ভাবে অবগত ছিলেন। কেননা একটি প্রসিদ্ধ হাদীসে মহানবী (সাঃ) বলেছেন ,“ আমার উম্মতেরা আমার পর ৭৩ দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে , এদের মধ্যে ১টি দল পরকালে মুক্তি পাবে , আর বাকি দলগুলো পথভ্রষ্ট বা তারা জাহান্নামী হবে ।” সূত্রঃ-মুসতাদরাকে হাকেম , খঃ-৩ , পৃঃ-১০৯ ; মুসনাদে হাম্বাল , খঃ-৩ , পৃঃ-১৪ ; তিরমীজি , খঃ-৫ , হাঃ-২৬৪২ , ( ই , ফাঃ) ; “ মহানবী (সাঃ) এটাও বলেগেছেন-আমার উম্মতের একটি দল (মাযহাব) সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।সূত্রঃ- সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৫ , হাঃ-৪৭৯৭ , ( ই , ফাঃ) ; সহীহ তিরমীজি-(সকল খণ্ড একত্রে) পৃঃ-৬৯৩ , হাঃ-২১৯০ , ( তাজ কোং) ; সহীহ্ বুখারী (সকল খণ্ড একত্রে) পৃঃ-১১১৩ , হাঃ-৬৮০৪ , ( তাজ কোং)।
মহানবী (সাঃ)-এর উম্মত হওয়ার পরও আমরা কেন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবো ? কারণ শুধু এটাই যে , মহানবী (সাঃ)-কে মুখে মানবো , ধর্ম পালন করবো নিজের মনমতো , আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) যাদেরকে অনুসরণ করতে বলেছেন , আমরা তাদেরকে আমলেই নিচ্ছি না। এবং রাসূল (সাঃ) অন্যত্র বলেছেন ,“ আমার পরে এমন সব ইমাম হবে ( নেতা হবে) যে আমার হেদায়েত অনুসারে আমল করবে না এবং আমার সুন্নাতকে আমলের উপযুক্ত মনে করবে না এবং শীঘ্রই তাদের মধ্যে হতে এমন লোকরা উঠে দাড়াবে , যাদের দেহ হবে মানুষের মত কিন্তু অন্তর হবে শয়তানের ” ।সূত্রঃ- সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৬ , পৃঃ-২০ , ( আরবি) ; সহীহ্ মুসলিম-(সকল খণ্ড একত্রে) , পৃঃ-৭৫১ , হাঃ-৪৬৩৩ ; ( তাজ কোং)।
কিন্তু প্রশ্ন হল ? এই অবস্থা থেকে মুক্তি বা“ সিরাতে মুস্তাকিমের ” সত্যপথ পাওয়ার কোন দিকনির্দেশনা কি তিনি দিয়ে যাননি ? যদি তিনি পথনির্দেশনা দিয়ে থাকেন , তাহলে তা আমাদের অবশ্যই অনুসন্ধান করা উচিত। আর যদি কোন পথনির্দেশনা না দিয়ে থাকেন , তবে বেশ কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাড়াবে। যথাক্রমে তিনি তাহলে কিভাবে রাহমাতাল্লিল্ আলামিন হলেন ? যিনি উম্মতের সমস্যাকে শনাক্ত করতে সক্ষম , কিন্তু সমাধান দিতে পারেন না! কিয়ামতের দিন আমরা মহান আল্লাহর দরবারে অজুহাতের স্বরে বলতে পারবো যে ,“ ইয়া রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে আমরা বিভিন্ন দলের বা মাযেহাবের দেখানো পথের অনুসরণ করেছি। কোন পথে চলতে হবে সেক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ)-এর কোন দিকনির্দেশনা পাইনি। তাই আমরা জন্ম সূত্র বাপ-দাদাদের কাছে যে মাযহাব পেয়েছি , তারই অনুসরণ করেছি ” । কিন্তু এরকম সকল প্রকারের বাহানার ভিত্তিকেই মহান আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে বাতিল করে দিয়েছেন-“ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলদের আমি এজন্য প্রেরণ করেছি , যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর সামনে , মানুষের কোন ওজর আপত্তি না থাকে ” (সূরা-নিসা , আয়াত-১৬৫) ;“ আমিই আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। আর এমন কোন উম্মত ছিল না , যাদের মধ্যে কোন সতর্ককারি আসেনি ” (সূরা-ফাতির , আয়াত-২৪) ;“ আপনি তা কেবল সতর্ককারী মাত্র। আর প্রত্যেক কওমের জন্য আছে পথ প্রদর্শক ” (সূরা-রাদ , আয়াত-৭) ;“ আমি এ কিতাবের (কোরআনের) অধিকারী (ওয়ারিশ) করেছি তাদেরকে যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে পছন্দ করেছি ” (সূরা-ফাতির , আয়াত-৩২) ।
আল্লাহ্ সব সময় তার বান্দার মঙ্গল কামনা করে থাকেন। আল্লাহর ইচ্ছা তার বান্দারা যাতে পথভ্রষ্ট না হয় , সেই দিকে দৃষ্টি রেখে তাঁর রাসূল (সাঃ)-এর মারফত , বিদায় হজ্বে একলক্ষ বিশ হাজার সাহাবীদের মাঝে এরশাদ করেছিলেন।
হযরত যাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে , হযরত রাসূল (সাঃ) বলেছেন ,“ হে মানব সম্প্রদায়! আমি তোমাদের মধ্যে দু‘ টি ভারি বস্তু রেখে যাচ্ছি , যদি এ দু‘ টিকে আঁকড়ে ধরে থাক (অনুসরণ কর) তাহলে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। ” আর যদি একটিকে ছাড় তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে । তার প্রথমটি হচ্ছে“ আল্লাহর কিতাব (কোরআন) দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমার ইতরাত , আহলে বাইত ” [(আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)] এ দু‘ টি কখনই পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হবে না , যতক্ষণ না হাউজে কাউসারে আমার সাথে মিলিত হবে। তাদের সাথে তোমরা কিরূপ আচরণ কর , এটা আমি দেখবো ।সূত্রঃ- সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৫ , হাঃ-৬০০৭ , ৬০১০ , ( ই , ফাঃ) ; সহীহ মুসলিম , খঃ-৫ , পৃঃ- ৩৭৪-৩৭৫ , হাঃ-৬১১৯-৬১২২ , ( আহলে হাদীস লাইব্রেরী) ; সহীহ্ তিরমীজি , খঃ-৬ , হাঃ-৩৭৮৬- ৩৭৮৮ , ( ই , ফাঃ) ; মেশকাত , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৯২-৫৮৯৩ , ( এমদাদীয়া) ; তাফসীরে মাজহারী , খঃ-২ , পৃঃ-১৮১ , ৩৯৩ , আল্লামা সানাউল্লাহ পানিপথি (ইফাঃ) ; তাফসীরে হাক্কানী (মাওলানা শামসুল হক ফরীদপূরি) পৃঃ-১২-১৩ (হামিদীয়া) ; তাফসীরে নূরুল কোরআন , খঃ-৪ , পৃঃ-৩৩ , খঃ-২২ , পৃঃ-১৭ (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-৩ , পৃঃ-১১৫ , ( শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী) ; ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ) , খঃ-১ , পৃঃ-৫৬৬ ; সিলসিলাত আল আহাদিস আস সাহীহাহ্ , নাসিরউদ্দিন আলবানী , কুয়েত আদদ্বার আস সালাফীয়া , খঃ- ৪ , পৃঃ-৩৫৫-৩৫৮ , হাঃ-১৭৬১ , ( আরবী) ; ( নাসিরউদ্দিন আলবানীর মত এই হাদীসটি সহীহ্)।
বিদায় হজ্ব মহানবী (সাঃ) তার উম্মতকে“ কোরআন ও ইতরাত , আহলে বাইত ” (আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-কেই অনুসরণ করতে হুকুম করে গিয়েছেন। এত কোন সন্দেহের অবকাশ নাই। কিন্তু পরবর্তীতে আরো একটি হাদীসের কথা শোনা যাচ্ছে।“ কোরআন ও হাদীস বা সুন্নাহ্ ” । মহানবী (সাঃ) নাকি এটাও বলে গিয়েছেন , কিন্তু কোরআন ও হাদীস দুইটিই বধির , কথা বলতে পারে না।
কোরআনে আবার দু‘ ধরণের আয়াত আছে। স্পষ্ট ও অস্পষ্ট। যাদের মনে বক্রতা আছে তারা এর মনগড়া ব্যাখ্যা করে ফেতনা সৃষ্টি করবে । আর হাদীস ? যে কত রকম কোরআন ও পরস্পর বিরোধী ব্যাখ্যা আছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। কাজেই এমন দু‘ টি জিনিস নবী করিম (সাঃ) দিয়ে যেতে পারেন না। তাই কোরআনের সঙ্গে এমন একজনকে থাকতে হবে , যাকে কোরআন পবিত্র ও জ্ঞানী বলে ঘোষণা দেয় এবং তাকে সব সময় উপস্থীত থাকতে হবে।
এই দ্বিতীয় হাদীসটি“ কোরআন ও হাদীস বা সুন্নাহ্ ” উম্মতকে কিন্তু বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়েছে। এই বিভ্রান্তি মুসলমানদের ফেরকাবন্দী বা দল বিভক্তির কারণ হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত লেখনীতে আমি মহানবী (সাঃ) তার উম্মতকে“ কোরআন ও ইতরাত , আহলে বাইত ” (আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-কেই অনুসরণ করতে হুকুম করে গিয়েছেন। তা কোরআন-হাদীস ও আহলে সুন্নাতের প্রসিদ্ধ আলেমগণের উক্তিও প্রমাণ স্বরূপ সুন্দরভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
যারা আহলে বাইতকে বাদ দিয়ে অত্র‘ হাদীস ’ খানা (কোরআন ও হাদীস বা সুন্নাহ্) উপস্থাপন করে থাকেন , তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ রইল।“ যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে প্রমাণ নিয়ে এসো ” (সূরা-বাকারা , আয়াত-১১১) ; আমরা তা সানন্দে গ্রহণ করব। আর যদি প্রমাণ পেশ করতে অক্ষম হন , তাহলে মেনে নিন যে , নবীজি তার উম্মতকে“ কোরআন ও ইতরাত , আহলে বাইতকে-ই অনুসরণ করতে হুকুম করে গিয়েছেন ” । ইসলামে ঈমান বা বিশ্বাসের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। যেমন এরশাদ হয়েছে ,“ দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে সৎপথ ভ্রান্ত পথ থেকে ” (সূরা-বাকারা , আয়াত-২৫৬) ।“ তাদের অধিকাংশই অনুমানের অনুসরণ করে চলে । সত্যর ব্যাপারে অনুমান কোন কাজেই আসে না...” (সূরা-ইউনুস , আয়াত-৩৬) । ঈমান হচ্ছে , বিশ্বাস , আগ্রহ এবং আমলের একত্রিত নাম সুতরাং শক্তি প্রয়োগের দ্বারা তা অর্জন করা যায় না। এর সঠিক পন্থা হচ্ছে , মানুষের বিজ্ঞতা ও জ্ঞানের নিকট. শান্তি ও আত্মসমর্পণের সুন্দর পরামর্শ ও সদুপদেশের আবেদন জানানো। যুক্তির মাধ্যম আল্লাহ্ ও রাসূল (সাঃ)-এর জ্ঞান ও হুকুমকে বাস্তবায়িত ও প্রচারের চাবিকাঠি হচ্ছে , ভদ্রতা প্রদর্শন এবং মানুষের হৃদয় , আত্মা ও চিন্তা শক্তির নিকট হেকমত-এর সাথে‘ দাওয়াহ্ ’ ও‘ নসিহত ’ পেশ করতে হবে।‘ দাওয়াহ্ ’ ও‘ নসিহত ’ পেশ করার , এটাই সঠিক পন্থা। আল্লাহর কাছ প্রার্থনা , আল্লাহ্ যেন সকলকে“ সিরাতে মুস্তাকিমের ” সত্য পথ বুঝার ও“ সিরাতে মুস্তাকিমের ” সত্য পথে চলবার তৌফিক দেন-আমিন।
“ আরজ গুজার”
মোহাম্মাদ নাজির হোসাইন
আল্লাহ রাসূলে এবং উলিল আমরে র আনুগত্য
“ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর আনুগত্য কর , রাসূলের আনুগত্য কর এবং উলিল আমরের ” ...। (সূরা-নিসা , আয়াত-৫৯) ।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাস্সিরগণ ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। কেউ“ উলিল আমর ” -কে রাষ্ট্রনায়ক , কেউ আবার বিচারক হিসাবে মত প্রকাশ করেছেন , (তাফসীরে মারেফুল কোরআন) ; মূলতঃ এতে আহলে বাইতের মাসুম ইমামদের কথা বলা হয়েছে। কেননা আল্লাহ্ যেখানে নিজের সঙ্গে রাসূল (সাঃ)-এর আনুগত্যের হুকুম দিচ্ছেন ; সেখানে উলিল আমরের আনুগত্যও সকল বান্দাদের উপর ওয়াজিব ঘোষণা করেছেন। এখান উলিল আমরকে আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রতিনিধি ঘোষণা করেছেন। তাঁকে অবশ্যই মাসুম (নিষ্পাপ) হতে হবে। আল্লাহ কখনো ভ্রান্তিযুক্ত মানুষকে তার প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন না , এটা সাধারণ বিবেকবান ব্যক্তিও বুঝতে পারে। আহলে বাইত (আঃ)-এর বারো ইমাম ব্যতিত , অন্য কারো সম্পর্কে কেউ এই দাবী করতে পারে না ; যে , তারাও ভ্রান্তি মুক্ত ছিলেন , এছাড়া আল্লাহর এই নির্দেশ কোন কাল , সময় বা কোন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা সব সময়ের জন্য , এমনকি কেয়ামত পর্যন্ত এই নির্দেশ চলতে থাকবে। এখন দেখতে হবে , যারা ভ্রান্তিযুক্ত রাষ্ট্রনায়ক , কিংবা বিচারককে আনুগত্য করার মত প্রকাশ করেছেন , তারা মুসলমানদেরকে মহা বিপদে ফেলে দিয়েছেন , কারণ দুনিয়াতে অনেক দেশ আছে , যেখানে খ্রিস্টান , ইহুদী , কাফের বা মুশরিক রাষ্ট্রনায়ক কিংবা বিচারক রয়েছেন , আর যদি মুসলমানও থেকে থাকেন , তাও ৭৩ দলে বিভক্ত হয়ে বসে আছেন। মহানবী (সাঃ) বলেছেন , আমার উম্মতেরা আমার পর ৭৩ দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে , এদের মধ্যে ১টি দল পরকালে মুক্তি পাবে , আর বাকি দলগুলো পথভ্রষ্ট বা তারা জাহান্নামী হবে। সূত্রঃ- মুসতাদরাকে হাকেম , খঃ-৩ পৃঃ-১০৯। মহানবী (সাঃ) এটাও বলে গেছেন“ আমার উম্মতের ১টি দল (মাযহাব) সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। ”সূত্রঃ-সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৫ , হাঃ-৪৭৯৭ , ( ই , ফাঃ)।
মহানবী (সাঃ) বলে গেছেন একদল ছাড়া সকলে জাহান্নামে যাবে । আবার দেখা যায় কোথাও‘ সুন্নী ’ (হানাফি , মালেকি , শাফাঈ , হাম্বালী) রাষ্ট্রনায়ক কিংবা বিচারক , আবার কোথাও‘ ইসনা আশারীয়া শিয়া ’ (মহানবী (সাঃ) ও তার আহলে বাইত (আঃ)-এর বারো ইমাম-এর অনুসারিগণ) রাষ্ট্রনায়ক বা বিচারক , কোথাও আবার (মুয়াবিয়া ও এজিদ-এর কোরআন পরিপন্থি রাজতন্ত্রী আইন , রাজা-বাদশাদের আইন) ,‘ ওহাবী-সালাফী ’ রাষ্ট্রনায়ক বা বিচারক রয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো ? মুসলমানরা কাকে ছড় কাকে আনুগত্য করবে । আর যদি বলা হয় , সকলকেই আনুগত্য করতে হবে! তাও সম্ভব নয়। তাহলে সহজে বুঝা যায় , নিশ্চয়ই এই দুনিয়ার রাষ্ট্রনায়ক বা বিচারক বাদে অন্য কাউকে আনুগত্য করতে বলা হয়েছে এবং তাকে অবশ্যই সব সময় উপস্থীত থাকতে হবে , তা না হলে আল্লাহর এই নির্দেশ অকার্যকর থেকে যাবে । কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন ,“ স্মরণ কর , সেদিনের (কিয়ামতের) কথা যখন আমি সকল মানুষকে তাদের ইমামসহ (নেতাসহ) আহবান করব ” ....। (সূরা-বনী ইসরাঈল , আয়াত-৭১) ;“ আপনি তো কেবল সতর্ককারী মাত্র , আর প্রত্যেক কওমের জন্য আছে পথ প্রদর্শক ” । (সূরা রা ’ দ , আয়াত-৭)
মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেছেন ,“ যে ব্যক্তি সময়ের ইমামকে না চিনে বা না জেনে মারা যায় সে জাহলীয়াতে মারা যায় ” ।সূত্রঃ- সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৩ , হাঃ- ১৮৫১ (লেবানন) ; মুসনাদে হাম্বাল , খঃ-৪ , পৃঃ-৯৬ ; কানজুল উম্মাল , খঃ-১ , পৃঃ-১০৩ ; তাফসিরে ইবনে কাসির , খঃ -১ , পৃঃ-৫১৭ (মিশর) ; সহীহ্ মুসলিম (সকল খণ্ড একত্রে) পৃঃ-৭৫২ , হাঃ-৪৬৪১ ; ( তাজ কোং) ।
সুতরাং কেউই একমত হবেন না যে ,“ দুনিয়ার কোন রাষ্ট্রনায়ক বা বিচারককে না চিনে বা না জেনে মারা গেলে সে জাহলীয়াতে মারা যায় ” ।সূত্রঃ- কোরআন মাজীদ-হাফেজ মাওলানা সৈয়দ ফারমান আলী , পৃঃ-১৩৮-১৩৯ , ( উর্দ্দু) ; শেইখ সুলাইমান কান্দুযী-ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১৮৯ , ( উর্দ্দু) ; বেলায়াত সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর , পৃঃ-৮৭-১০৫ , ( বাংলা) আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজি ; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ-২ , পৃঃ-১৪১ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ-৩ , পৃঃ-৬৪ ; রাওয়ান জাভেদ , খঃ-২ , পৃঃ-৭১ ; বায়ানুস সায়াদাহ্ , খঃ-২ , পৃঃ ২৯ ; তাফসীরে কুম্মী , খঃ-১ , পৃঃ-১৪১ ; শাওয়াহেদুত তানযিল , খঃ-১ , পৃঃ-১৪৮ ; তাফসীরে ফুরাত , পৃঃ-২৮ ; তাফসীরে জাফর , খঃ-১ , পৃঃ-৩০৭-৩০৮ ; তাফসীরে শাফী , খঃ-২ , পৃঃ-৩০৯-৩১৩ ; আল কাফী , খঃ-১ , পৃঃ-২৭৬ ; তাফসীরে আইয়াশী , খঃ-১ , পৃঃ-২৪৭ ; The Holy Quran, Commentary- Tafsir By-Ayalullah Agha Mehdi Pooya & S.V. Mir Ahmed Ali. Page-৩৭৮-৩৭৯ |
হযরত ইমাম জাফর সাদেক (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ,“ উলিল আমরের ” আদেশ মান্য করা কি অবশ্যই কর্তব্য ? তিনি বললেন: হ্যাঁ , তাঁরা ঐসব ব্যক্তি যাদের আদেশ পালন করা এই আয়াত ( সূরা-নিসা , আয়াত-৫৯) ওয়াজিব করা হয়েছে , আর এই আয়াত আহলে বাইতগণের শানে নাযিল হয়েছে।সূত্রঃ - কওকাবে দুরির ফি ফাযায় েলে আলী , পৃঃ ১৬৫ ; সৈয়দ মোঃ সালে কাশাফী , সুন্নী হানাফী , আরে ফ বিল্লাহ ) ইয়ানাবিউল মাওয়াদ্দাহ্ , পৃঃ - ২১ ; তাফসীরে কাবীর - খঃ - ৩ , পৃঃ - ৩৫৭ ; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ - ২ , পৃঃ - ১৪১ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ - ৩ , পৃঃ - ৬৪ ; রাওয়া ন জা ভেদ , খঃ - ২ , পৃঃ - ৭১ ; বায়ানুস সায়াদাহ্ , খঃ - ২ , পৃঃ ২৯ ; তাফসীরে কুম্মী , খঃ - ১ , পৃঃ - ১৪১ ; শাওয়াহে দুত তানযিল , খঃ - ১ , পৃঃ - ১৪৮ ; তাফসীরে ফুরাত , পৃঃ - ২৮ ।
যেহেতু দ্বীন ইসলাম কিয়ামত অবধি স্থায়ী থাকবে এবং রাসূল (সাঃ)-এর পর আর কোন নবীর আগমন হবে না। এই জন্য রাসূল (সাঃ) নিজ দায়িত্ব হতে অব্যাহতি পেতে আল্লাহর নির্দেশে , বারোজন স্থলাভিসিক্ত (ইমামদেরক) মনোনিত করে , তাঁদের নাম উল্লেখ করে যান। নবী (সাঃ) এরশাদ করেন ,“ আমার পর দ্বীন ইসলামকে রক্ষা করতে কুরাইশ-বনি হাশেম হতে বারোজন খলিফা বা ইমাম হবে ” ।
মহানবী (সাঃ) এক হাদীসে বলেছেন যে , আমার পর“ বারোজন ” ইমাম ( নেতা) হবেন , তাঁরা সবাই বনি হাশেমগণের মধ্যে হতে হবেন।সূত্রঃ-শেইখ সুলাইমান কান্দুযী-ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৪১৬ (উর্দ্দু)।
(সহীহ্ বুখারীতে) জাবির বিন সামরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে , তিনি বলেছেন , আমি রাসূল (সাঃ)-এর কাছ থেকে শুনছি যে , তিনি বলেছেন“ বারোজন আমির ( নেতা) (আমার পরে) আগমন করবে । অতঃপর একটি শব্দ উচ্চারণ করলেন আমি শুনতে পাইনি। আমার পিতা বলেন তিনি [নবী (সাঃ)] বলেছেন তাঁরা সকলে কুরাইশ বংশ থেকে হবেন ” ।সূত্রঃ- সহীহ্ আল বুখারী , খঃ-৬ , হাঃ-৬৭১৬ (আধুনিক) ।
পাঠকদের যাচাই করার জন্য কিছু সূত্র উল্লেখ করলাম , যাতে নিজরাই পরীক্ষা করতে পারেন। পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করছি।সূত্রঃ- সহীহ্ আল বুখারী , খঃ-৬ , হাঃ-৬৭১৬ (আধুনিক) ; সহীহ্ আল বুখারী , খঃ-১০ , হাঃ-৬৭২৯ , ( ই , ফাঃ) ; সহিহুল বুখারী , খঃ-৬ , হাঃ- ৭২২২ (আহলে হাদীস লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত) ; সহীহ্ মুসলীম , খঃ-৫ , হাঃ-৪৫৫৪ , ৪৫৫৫ , ৪৫৫৭ , ৪৫৫৮ ও ৪৫৫৯ (ই , ফাঃ) ; সহীহ্ আবু দাউদ , খঃ-৫ , হাঃ-৪২৩০-৪২৩১ (ইফাঃ) ; শেইখ সুলাইমান কান্দুযী-ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত-পৃঃ-৪১৬ (উর্দ্দু)।
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) (নবী করিম (সাঃ) -এর বিশিষ্ট সাহাবী) বর্ণনা করেন যে , আমি রাসূলে পাক (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনার পরবর্তীকালে কতজন ইমাম হবেন , মহানবী (সাঃ) বলেন ,“ বনী ইসরাঈলের নবীদের ন্যায় বারোজন হবে” ।সূত্রঃ-আস-সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-১৩ ; মিশরে মুদ্রিত , কওকাবে দুরির ফি ফাযায়েলে আলী , পৃঃ-১৪৪ ; সৈয়দ মোঃ সালে কাশাফী , সুন্নি হানাফী , আরেফ বিল্লাহ)।
আল্লামা কামাল উদ্দিন মোহাম্মদ ইবনে তালহা শাফেয়ী বর্ণনা করেন যে ,“ মহানবী (সাঃ) বলেছেন যে , সমস্ত আয়েম্মাগণ কুরাইশ হতে হবেন। কারণ কুরাইশদের ব্যতিত অন্য কেউ নবী (সাঃ)-এর উত্তরাধিকারী বা ইমাম হতে পারবে না ” ।সূত্রঃ - আল্লামা কামাল উদ্দিন মোহাম্মদ ইবনে তালহা শা ফেয়ী , মাতালেবুস সাউল , পৃঃ - ১৭ ।
আমাদের আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত সুফি আরেফ বিল্লাহ আলেম , আল্লামা সৈয়দ আলী হামদানী শাফায়ী সুন্নি বর্ণনা করেন যে , আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন , আমি রাসূল (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে ,“ আমি , আলী , ফাতেমা , হাসান , ও হোসাইন এবং হোসাইন এর পরবর্তী নয়জন সন্তান। পাক পবিত্র ও মাসুম একই গ্রন্থে তিনি আরো বর্ণনা করেন যে , নবী (সাঃ) বলেছেন , আমি সকল নবীদের সরদার (সাইয়্যেদুল আম্বিয়া) এবং আলী সকল ওয়াসীর সরদার (সাইয়্যেদুল আওসিয়া) আর আমার পর“ বারোজন ” উত্তরসূরী হবে। তাদের মধ্যে প্রথম হচ্ছেন , হযরত আলী ইবনে আবু তালেব ও শেষ হচ্ছেন , ইমাম মাহ্দী , (আখেরউজ্জামান)” ।সূত্রঃ- মুয়াদ্দাতুল কারবা , পৃঃ-৯৮ ; শেইখ সুলাইমান কান্দুযী , ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৪১৬ , ( উর্দ্দু)।
ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) থেকে বর্ণিত যে , নবী করিম (সাঃ) বলেছেন , ইমাম আমার পর“ বারোজন ” হবে তাঁদের মধ্যে প্রথম আলী এবং শেষ কায়েম মহ্দী হবে , এবং তাঁরা আমার খলিফা , (ওয়াসি) উত্তরাধিকারী ও আমার আউলিয়া এবং আমার উম্মতের উপর আল্লাহর পক্ষ হতে হুজ্জাত (প্রমাণ) যারা তাদেরকে আনুগত্য ও বিশ্বাস করবে , তারা মমিন ও যারা তাদের আনুগত্য ও বিশ্বাস করবে না , তারা অবিশ্বাসী।সূত্রঃ-কওকাবে দুরির ফি ফাযায়েলে আলী , পৃঃ-১৪৩ ; ( সৈয়দ মোঃ সালে কাশাফী , সুন্নি হানাফী , আরেফ বিল্লাহ) ।
ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন ,“ নবী করিম (সাঃ) ইমাম আলীকে বলেন , আমার আহলে বাইত হতে“ বারোজন ” লাক হবে যাঁদের আমার জ্ঞান গরিমা দান করা হবে , তাদের মধ্যে তুমি আলী হ চ্ছো প্রথম , ও তাঁদের ১২তম কায়েম ইমাম মাহ্দী“ আলাইহিস সালাম ” যার দ্বারা আল্লাহ্ ’ তায়ালা এই জমিনকে মাসরিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত ইনসাফ কায়েম করবেন। ”সূত্রঃ - কাওকাবে দুরির ফি ফাযায় েলে আলী , পৃঃ - ১৪৩ , সৈয়দ মোঃ সালে কাশাফী , সুন্নি হানাফী , আরেফ বিল্লাহ।
আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত আলেম শেখ সুলাইমান কান্দুজী বলখী , স্বীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাতে লিখেছেন , মহানবী (সাঃ) এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন ,“ আমার স্থলাভিসিক্ত ইমাম বারোজন হবে। তাদের প্রথম ইমাম আলী ও সর্ব শেষ হবেন ইমাম মাহদী ” । আবার উলিল আমরের সম্পর্কে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে , জুনদুব ইবনে জুনাদা {আবু যার (রাঃ) }-এর প্রশ্নের জবাবে বলেন যে , আপনার পর কাঁরা আপনার স্থলাভিসিক্ত হবে , তাদের নাম কি ? মহানবী (সাঃ) ইমাম আলী হতে ইমাম মাহদী (আঃ) পর্যন্ত সকলের নাম বর্ণনা করেন। তাদের মধ্যে ১. ইমাম আলী ২. (৯) ইমাম হাসান , ৩. ইমাম হোসাইন , ৪. ইমাম জয়নুল আবেদীন , ৫. ইমাম মুহাম্মদ বাকের , ৬. ইমাম জাফর সাদেক , ৭. ইমাম মুসা কাজিম , ৮. ইমাম আলী রজা , ৯. ইমাম মুহাম্মদ তাকী , ১০. ইমাম আলী নাকী , ১১. ইমাম হাসান আসকারী এবং তাদের মধ্যে ১২. (বারোতম) ইমাম মাহ্দী (আলাইহিমুস সালাম) তিনি আরো বলেন , ওহে জাবের তুমি আমার ৫ম স্থলাভিসিক্ত ইমাম মুহাম্মাদ বাকের-এর সাক্ষাত পাবে , তাকে আমার সালাম পৌছে দিও।সূত্রঃ- ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত-পৃঃ-৪২৭ ; ( বৈরুত) ইবনে আরাবী- ইবক্বাউল ক্বাইয়্যিম-২৬৬ ; অধ্যায় , মানাকেবে ইবনে শাহরে আশুব , খঃ-১ , পৃঃ-২৮২ ; রাওয়ান যাভেদ , খঃ-২ , পৃঃ-৭২ ; কিফায়া আল আসার , খঃ-৭ , পৃঃ-৭ ; ( পুরোনা প্রিন্ট) কিফায়া আল আসার , পৃঃ-৫৩ , ৬৯ ; ( কোম প্রিন্ট) গায়াতুল মারাম , খঃ- ১০ , পৃঃ-২৬৭ ; ইসবাতুল হুদা , খঃ-৩ , পৃঃ-১২৩ ; “ হজরত খাজা মঈনউদ্দিন চিশতী (রহঃ)-এর মাজারের প্রধান ফটক পাক-পাঞ্জাতনের নাম ও ১২ ইমামের নাম খোদাই করে লেখা রয়েছে ; এবং মসজিদে নববীর পিলারের চতুরপাশে ১২ ইমামের নাম খোদাই করে লেখা রয়েছে ” ।
পাক-পাঞ্জাতনের উসিলায় হযরত আদম (আঃ)-এর দোয়া কবুল হয়েছিল!
আল্লাহ্ হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টির পর তাকে কিছু নাম শিক্ষা দিলেন ’ । [সূরা-বাকারা , আয়াত-৩৭]
পরে সে নামের উসিলায় হযরত আদম (আঃ) আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহ্ সেই নামের উসিলায় হযরত আদম (আঃ)-এর দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ যে মহান ব্যক্তিগণের উসিলায় হযরত আদমর দোয়া কবুল করেছিলেন তাঁরা হলেন।“ (পাক-পাঞ্জাতন) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ইমাম আলী , হযরত ফাতেমা যাহরা , ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (আঃ)” ।সূত্রঃ-হৃদয় তীর্থ মদীনার পথ , পৃঃ-১৫৬ , শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী (মদীনা পাবঃ) ; তাফসীরে দুররে মানসুর , খঃ-১ , পৃঃ-১৬১ ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৯৭ ; কেফায়াতুল মোওয়াহেদীন , খঃ-২ , পৃঃ-৩২ ; মানাকিব ইবনে মাগাজেলি , পৃঃ-৫৯ ; সাইয়্যেদাআল নিসা আহলুল জান্নাহ (আব্দুল আজিজ আল সানাওয়ে) , পৃঃ-১৫৯ ; সাওয়াহেদুত তানজিল , ( হাসকানী) , খঃ-১ , পৃঃ-১০১ ; কাওকাবে দুরির ফি ফাযায়েলে আলী , পৃঃ-২৮৩ , সৈয়দ মোঃ সালেহ কাশাফী , সুন্নি হানাফী , আরেফ বিল্লাহ) ; ওবাইদুল্লাহ ওমরিতসারী , আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৪৬।
“ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর , তার নৈকট্য লাভের উসিলা তালাশ করো । ” (সূরা-মায়দা , আয়াত-৩৫) । উসিলার জন্য দেখুন:-কোরআনুল করীম , পৃঃ-৩২৭ , ( অনুবাদ-মাওলানা মহিউদ্দিন খান) ; সহিহুল বুখারী , খঃ-১ , হাঃ-১০০৮ , ১০০৯ , ১০১০ , ( আহলে হাদীস লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত) ; সহীহ্ আল বুখারী , খঃ-১ , হাঃ-৯৪৯-৯৫০ ; ( আধুনিক) ; সহীহ্ আল বুখারী , খঃ-২ , হাঃ-৯৫৪-৯৫৫ ; ( ই , ফাঃ)।
মানব জাতির আমলের সাক্ষ্য
মানব জাতির আমলের সাক্ষ্য আল্লাহ , তাঁর রাসূল (সাঃ) এবং আহলে বাইত (আঃ)-এর ইমামগণও আমল দেখছেন এবং সাক্ষ্য দিবেন ।
আল্লাহ্ হলেন স্রষ্টা আর আমরা আদম সন্তান বা মানবজাতি হলাম সৃষ্টি। এই স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ্ আর এক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় এই আহলে বাইত (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছেন। পরে তাঁর (আল্লাহর) পক্ষ থেকে ধরার বুকে মানবজাতির ভাল-মন্দ আমলের সাক্ষ্যদাতারূপে তাদেরকে মনোনীত করেছেন। মানবজাতির যাত্রা যে দিন থেকে , আহলে বাইত (আঃ)-এর সাক্ষ্য ও সেদিন থেকে চলে আসছে এবং শেষ দিন পর্যন্ত চলতে থাকবে।
আল কোরআনের ঘোষণাঃ-“ আর এভাবে আমি আপনাদিগকে মনোনীত করেছি মানবজাতির সাক্ষ্যদাতারূপে আর রাসূল (সাঃ) হলেন আপনাদের উপর সাক্ষ্যদাতা ” । [সূরা-বাকারা , আয়াত-১৪৩] ;“ আর বলুন , তোমরা আমল কর , আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ তোমাদের আমল দেখবেন ” । [সূরা-তওবা , আয়াত-১০৫]
শাওয়াহেদুত তানজিলে , হাকিম আবুল কাসম। সালিম ইবনে কায়েস থেকে বর্ণিত ইমাম আলী (আঃ) বলেছেন যে ,“ ধরার বুকে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের উপর আমরা হলাম সাক্ষ্যদাতা আর রাসূল (সাঃ) হলেন আমাদের উপর সাক্ষ্য ” ।
তাফসীরে আইয়াসীত , ইমাম মুহাম্মদ বাকের ও ইমাম জাফর আস সাদিক (আঃ) বলেছেন যে ,“ দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমরা মানবজাতির উপর সাক্ষ্যদাতা ও তাঁর (আল্লাহর ) প্রমাণস্ব রূপ আছি ” ।সূত্রঃ - কেফায়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ - ২ , পৃঃ - ৬৬১ ; শাওয়াহে দুত তানযিল , খঃ - ১ , পৃঃ - ৯২ ; তাফসীরে কুম্মী , খঃ - ১ , পৃঃ - ৬২ ; বায়ানুস সায়াদা , খঃ - ২ , পৃঃ - ২৭৭ ; মাজমাউল বায়ান , খঃ - ১ , পৃঃ - ২২৪ ; রাওয়া ন যা ভেদ , খঃ - ২ , পৃঃ - ২৮৩ ।
নবী করিম (সাঃ)-এর সময় নবী করিম (সাঃ)-ই ছিলেন কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যাকারী ও ওয়ারিশ। উনার পর যারা এই কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা করবেন তাদেরকে পবিত্র কোরআনে‘ রাসেখুনা ফিল ইল্ম ’ নামে ডাকা হয়েছে। নবীর পর উম্মতে মুহাম্মদীর পরিচালক হবেন , নবীজির মহান আহলে বাইতের সদস্যগণ।
আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে সমগ্র আয়াতগুলোকে দুভাগে ভাগ করেছেন , এক ভাগে রয়েছে‘ মুহকামাত ’ ও অন্যভাগে রয়েছে‘ মুতাশাবিহাত ’ । মুহকামাত হচ্ছে ঐ সকল আয়াত যেগুলোর অর্থ অনেকেই বুঝতে পারে । আর কতিপয় আয়াত হচ্ছে মুতাশাবিহাত যেগুলোর মর্ম আল্লাহ্ এবং রাসেখুনা ফিল ইল্মগণ ছাড়া অন্য কেউই অনুধাবন করতে পারবে না। (সূরা-আলে ইমরানের , ৭নং আয়াত দেখুন)
‘ রাসেখুনা ফিল ইলম ’ দ্বারা নবী করিম (সাঃ) ও তার আহলে বাইত-এর সদস্যদের বুঝানো হয়েছে। আয়াসী বর্ণনা করেছেন যে , হযরত ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) বলেছেন ,“ আমরাই হলাম রাসেখুনা ফিল ইল্ম ” (জ্ঞানের ধারক-বাহক) ।সূত্রঃ - ইয়ানাবীউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ - ৪২১ ; মাযমাউল বায়ান , খঃ - ১ , পৃঃ - ৪১০ ; রাওয়া ন জাভেদ , খঃ - ১ , পৃঃ - ৩৭৯ ; সামারাতুল হায়াত , খঃ - ১ , পৃঃ - ২২৭ ; বায়ানুস সায়াদাহ , খঃ - ১ , পৃঃ - ২৪৮ ; তাফসীরে কুম্মি , খঃ - ১ , পৃঃ - ৯৬ ; মানাকেবে ইবনে শাহরে আশুব , খঃ - ১ , পৃঃ - ২৮৫ ।
পবিত্র কোরআনে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে“ যিকির ” নাম ডাকা হয়েছে এবং তার আ ’ ল ;-কে“ আহলে যিকির ” বলা হয়েছে। সেই দিক উদ্দশ্য করে কোরআনের ঘোষণা :
“ সুতরাং হে লোকরা তোমরা যা জানো না আহলে যিকিরকে জিজ্ঞেস কর। ” সূরা-নাহাল , আয়াত-৪৩ ; সূরা-আম্বিয়া , আয়াত-৭।
মুফাস্সেরগণের মত জ্ঞানীদের দ্বারা হযরত নবী করিম (সাঃ) -এর আহলে বাইতকে বুঝানো হয়েছে। আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে ,“ আহলুয্ যিকির ” (জ্ঞানী ব্যক্তিরা হলেন , হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) , ইমাম আলী , হযরত ফাতেমা , ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (আঃ) (কোরআনের ব্যাখ্যা সহ) জ্ঞান বুদ্ধি আর ব্যাখ্যার ভাণ্ডার , তারাই হলেন নবুয়্যতের পরিবার , রিসালাতের খনি (উম্মতের পথ প্রদর্শক) এবং ফেরেশতাদের অবতরণর স্থান। যাবের ইবনে আব্দুল্লাহ বলেছেন যে , যখন এই আয়াত নাযিল হলো তখন ইমাম আলী (আঃ) বললেন: আমরাই হলাম“ আহলে যিকির ” (জ্ঞানের ভাণ্ডার) । ওয়াকী বিন যারাহ এবং সুফিয়ান সওরী এই বর্ণনাটি লিপিবদ্ধ করেছেন।সূত্রঃ- তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১১ , পৃঃ-২৭২ ; শাওয়াহেদুত তানযীল , খঃ-১ , পৃঃ-৩৩৪ ; তাফসীরে ইবনে কাসীর , খঃ-২ , পৃঃ-৫৭০ ; রূহুল মায়ানি আলুসী বাগদাদী , খঃ-১৪ , পৃঃ-১৩৪ ; তাফসীরে কুম্মি , খঃ-৩ , প-৬৮ ; এহকাকুল হক , খঃ-৩ , পৃঃ-৪৮২ ; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ-২ , পৃঃ-৬৫০ ; রাওয়ান জাভেদ , খঃ-৩ , পৃঃ-২২৮ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ-৬ , পৃঃ-১৫৬ ; মাজমাউল যাওয়ায়েদ , খঃ-৯ , পৃঃ-১১৬ ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-১৪ , পৃঃ-১০৮ ; ইয়ানাবীউল মাওয়াদ্দাহ , পৃঃ-৪৬ ; আর রিয়াজুন নাজরা , খঃ-২ , পৃঃ-২০৯ ; তাফসীরে ইবনে কাসীর , খঃ-১৩ , পৃঃ-১৭৭ , ( হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী , আহলে হাদীস)।
মহানবী (সাঃ)-কে পাঠানো হয়েছে আমাদের আত্মাকে পাক-পবিত্র করার জন্য। পবিত্রতা ব্যতিত কোরআনকে কেউই বুঝত পারবে না।‘ সুতরাং মহানবী (সাঃ)-এর পর যারা তাঁর স্থলাভিসিক্ত হবেন তাদেরকেও অবশ্যই পবিত্র ব্যক্তিত্ব হতে হবে। ’ সেদিকে লক্ষ্য রেখে কোরআনের ঘোষণা :
“ আহলে বাইত-এর সদস্যগণ আল্লাহ চান আপনাদের কাছ থেকে সকল প্রকার অপবিত্রতা দূরে রাখতে এবং পূর্ণরূপে পূতপবিত্র রাখতে যতটুকু রাখার তাঁর (আল্লাহর ) ক্ষমতা আছে ” । [সূরা-আহযাব , আয়াত-৩৩]
নবীর পত্নী হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন ,“ পবিত্রতার আয়াত আমার ঘরে নাযিল হয়। মহানবী (সাঃ) হাসান , হোসেইন , আলী ও ফাতেমা (আঃ)-এর উপর একটি চাঁদর টেনে প্রার্থনা করলেন , ইয়া আল্লাহ এরাই আমার আহলে বাইত , এরাই আমার একান্ত আপনজন পরমাত্মীয়। এদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা হতে দূরে রাখুন। তখন নবীর পত্নী হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বললেন , ইয়া আল্লাহর রাসূল! আমিও কি এই চাদরের ভেতরে আসতে পারি ? মহানবী (সাঃ) বললেন , না , তবে তুমি মঙ্গলের উপর আছো ” । মহানবী (সাঃ)-এর এই উক্তি থেকে প্রমাণিত হল যে ,“ নবীর স্ত্রীগণ আহলে বাইত-এর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না ” ।
পাঠকদের জন্য সূরা , আহযাবের-৩৩ নং আয়াতের সূত্র উল্লেখ করছি , যেখানে , এই আয়াত আহলে বাইত-এর শানে অবতীর্ণ হয়েছে। (আলী , ফাতেমা , হাসান , হোসাইন (আঃ)-এর শানে) ।সূত্রঃ- সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৭ , হাঃ-৬০৪৩ (ই , ফাঃ) ; সহীহ তিরমিযী , খঃ-৬ , হাঃ-৩৮৭১ , ৩৭৮৭ (ই , ফাঃ) ; তাফসীরে নূরুল কোরআন , খঃ-২২ , পৃঃ-১৫ (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) ; তাফসীরে মারেফুল কোরআন , খঃ-৭ , পৃঃ-১৩২ , ( ইফাঃ , মুফতি মোঃ সফি) ; তাফসীরে মাদানী , খঃ-৮ , পৃঃ-১৩-১৫ (আহলে হাদীস লাইব্রেরী) ; তাফসীরে মাজহারী , খঃ-১০ , পৃঃ-৩৩ , ৩৪ , ( ই , ফাঃ) ; সহীহ তিরমিজী , খঃ-৫ , হাঃ-৩১৪৩-৩১৪৪ ; খঃ-৬ , হাঃ-৩৭২৫ , ৩৮০৮ (ই , সেন্টার) ; মেশকাত , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৭৬ (এমদাদীয়া) ; শেখ আব্দুর রহিম গ্রন্থাবলী , খঃ-১ , পৃঃ-৩০৮ (বাংলা একাডমী) ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-৩ , পৃঃ-১১৬ (শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী) ; তাফসীরে দূররে মানসুর , খঃ-৫ , পৃঃ-১৯০ , ( মিশর) ; তাফসীরে ইবনে কাসির , খঃ-৩ , পৃঃ- ৪৮৪ , ( মিশর) ; তাফসীরে কাসসাফ , খঃ-১ , পৃঃ-১৯৭ , ( মিশর) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১৪ , পৃঃ-১৮২ (মিশর) ; তাফসীরে এতকোন , খঃ-৪ , পৃঃ-২৪০ (মিশর) ; তাফসীরে কাবীর. খঃ-২ , পৃঃ-৭০০ (মিশর) ; তাফসীরে সালবি , খঃ-৩ , পৃঃ-২২৮ (মিশর) ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-২২ , পৃঃ-৮ (মিশর) ; ফাতহুল কাদীর সাওকানী , খঃ-৪ , পৃঃ-২৭৯ ; উসুদুল ঘাবা , ইবনে আসির (মিশর) খঃ-২ , পৃঃ-১২ , খঃ-৫ , পৃঃ-৫২১ ; সহীহ্ তিরমিজী , খঃ-৫ , পৃঃ-৩ (মিশর) ; ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১৭৪ (উর্দ্দু) , পৃঃ-১০৭ , ( ইস্তামবুল) ; মানাকেবে খাওয়ারেজমি , পৃঃ-২৩ ; সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-১১৭ ; সুনানে বায়হাকী , খঃ-২ , পৃঃ-১৪৯ ; ইমাম নাসাঈ , পৃঃ-১৪৯ ; মুয়াদ্দাতুল কুরবা , পৃঃ-১০৭ ; আল ইসাবা , খঃ-২ , পৃঃ-৫০২ ; তাবরানি , খঃ-১ , পৃঃ-৬৫ ; আস সিরাতুল হালবিয়া , খঃ- ১৩ , পৃঃ-২১২ ; তারিখে ইবনে আসাকির , খঃ-১ , পৃঃ-১৬৫ ; আহকামুল কোরআন , খঃ-২ , পৃঃ-১৬৬ (ইবনুল আরাবি) ; কানযুল উম্মাল (মুত্তাকী হিন্দি) , খঃ-৫ , পৃঃ-৯৬ ; তারিখে তাবারি , খঃ-৫ , পৃঃ-৩১।
উম্মুল মোমিনীন হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) মহানবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে , এটা আমার মসজিদ এতে যে কোন হায়য অবস্থার মহিলা (স্ত্রীগণ) ও যে কোন ব্যক্তি (সাহাবারা) যার উপর গোসল ফরজ তাদের জন্য পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু“ আমার জন্য ও আমার পবিত্র আহলে বাইত (আলী , ফাতেমা , হাসান , হোসাইন)-দের উপর যে কোন অবস্থায় তাঁরা আমার মসজিদে প্রবেশ করতে পারবেন , সর্তক হয়ে যাও! আমি তোমাদেরকে তাঁদের নাম বলে দিয়েছি , যাতে করে তোমরা গুমরাহ্ না হয় যাও। (কারণ তাঁরা সব সময় পাক-পবিত্র)” ।সূত্র:-বায়হাকী-আস সুনানুল কুবরা , খঃ-৭ , পৃঃ-৬৫ , হাঃ- ১৩১৭৮ ; হিন্দি , কানযুল উম্মাল , খঃ-১২ , পৃঃ-১০১ , হাঃ-৩৪১৮৩ ; ইবনে আসাকির , তারিখে দামেশ্ক আল কাবির , খঃ-১৪ , পৃঃ-১৬৬ ; ইবনে কাসীর , ফসুলুম মিনাস সিরাহ্ , খঃ-১ , পৃঃ-২৭৩ ; আল্লামা সয়ুতী-খাসায়িসুল কুবরা , খঃ-২ , পৃঃ-৪২৪ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৬২ (উর্দ্দু) ; মারাজাল বাহরাইন ফি মানাকেবে আল হাসনাইন , পৃঃ-৪৮ (ডাঃ তাহেরুল কাদ্বরী) ।
কামালিয়াত অর্জনের পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের চরিত্র ও আদব কায়দা হচ্ছে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ , মডেল। তাঁদের মহানুভব অবস্থান ও আধ্যাত্মিক উচ্চপদমর্যাদার প্রতি কোরআন বিশেষ গুরুত্ব নির্দেশ করেছে যাতে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ তাঁদের উজ্জল উদাহরণসমূহ অনুসরণ করে এবং মহানবী (সাঃ)-এর পর শরীয়তের আইন ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত তথ্যাদি ও পথ নির্দেশের জন্য“ কোরআন ও আহলে বাইতকে ” মেনে চলে । তাঁরা হচ্ছেন সেই ব্যক্তিত্ব বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য যারা ইসলামের বাস্তব নমুনা এবং মতামত ও চিন্তার মতদ্বৈধতা নিরসনের বিষয় ঐক্যমত্যের প্রতীক।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ)-ই আল্লাহ পাকের মজবুত রজ্জু বা রশি
“ আর তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়িয়ে ধর পরস্পর বিচ্ছিন্ন (ফেরকাবন্দী) হইও না। ” (সূরা-আলে ইমরান , আয়াত-১০৩)
হযরত ইমাম বাকের (আঃ) বলেছেন যে ,“ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ)-ই আল্লাহ্ পাকের মজবুত রজ্জু যাঁকে আল্লাহ তায়ালা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার আদেশ দিয়েছেন ” (অনুসরণ করার জন্য) ।সূত্রঃ- ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১৩৯ ; রুহুল মায়ানী আলুসী বাগদাদী , খঃ-৪ , পৃঃ-১৬ ; নুরুল আবসার , পৃঃ-১০২ ; সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-৯০ (মিশর) ; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ-৩ , পৃঃ-১৭৮ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ-২ , পৃঃ-৪৮২ ; রাহওয়ানে যাভেদ , খঃ-১ , পৃঃ-৪৬৭ ; তাফসীরে কুম্মী , খঃ-১ , পৃঃ-১০৬ ; শাওয়াহেদুত তানযিল , খঃ-১ , পৃঃ-১৩০ ; তাফসীরে ফুরাত , পৃঃ-১৪ ; গায়াতুল মারাম , পৃঃ-২৪২।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যেরূপ আল্লাহর নিকট প্রিয়তম ও সম্মানিত ছিলেন বা আছেন। ঠিক তদ্রুপ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)‘ র আহলে বাইতগণও প্রিয়তম ও সম্মানীত।
তাই এরশাদ হচ্ছে :“ অবশ্যই আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের নিয়ে নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেছেন। হে ঈমানদারগণ তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করতে থাক। ” (সূরা-আহযাব , আয়াত-৫৬)
উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন , ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আপনার উপর কিভাবে দরুদ পাঠ করতে হবে ? উত্তরে নবীজি বলেন :
“ আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ , ওয়া আলে মুহাম্মাদ ” অতঃপর তিনি বলেন : দেখ , তোমরা যেন আমার উপর লেজ কাটা দরুদ না পড়। সাহাবারা বললেন লেজকাটা কেমন ? নবীজি উত্তরে বলেন , আমার আহলে বাইত (আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-কে বাদ দিয়ে শুধু আমার উপর দরুদ পড়া যেমন “ আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ” বলে চুপ থাকা। আমার‘ আলকে ’ অবশ্যই সম্পৃক্ত করতে হবে।সূত্রঃ- সালাওয়াত , ( মূল-আলী খামসেই ক্বাযভিনি , অনুবাদ-মুহাম্মাদ ইরফানুল হক) ; আল মুরাজয়াত , পৃঃ-৫৭-৫৮ ; মুসনাদে আহমদ , খঃ-৫ , পৃঃ-৩৫৩ ; যাখাইরুল উকবা , পৃঃ-১৯ ; ইয়া নাবিউল মাওয়াদ্দাত , পৃঃ-৭ ; কানযুল উম্মাল , খঃ-১ , পৃঃ-১২৪ ; সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-৮৭ , ৭৭১ ; জাজবায়ে বেলায়েত , পৃঃ-১৫৪ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ-৮ , পৃঃ-৩৬৯ ; ফাজায়েলুল খামছা , খঃ-১ , পৃঃ-২০৯ ; তাফসীরে নূরুস সাকালাইন , খঃ-৪ , পৃঃ-৩০৫ ; তাফসীরে নমূনা , খঃ-১৭ , পৃঃ-৪২১।
এ প্রসঙ্গ ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন ,“ ইয়া! আহলে বাইতে রাসূল! আপনাদের মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) পবিত্র কোরআনে ফরজ করা হয়েছে , যে ব্যক্তি নামাজ আপনাদের উপর দরুদ না পড়বে তার নামাজই কবুল হবে না। ”সূত্রঃ - ইবনে হাজার মাক্কীর - সাওয়ায়েকে মোহরেকা পৃঃ - ৮৮ ।
হযরত ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন , মহানবী (সাঃ) বলেছেন , দু‘ আ ও নামাযসমূহ ততক্ষণ পর্যন্ত আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে , উপরের দিকে যায় না , যতক্ষণ না নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি দরুদ প্রেরণ করা না হয়।সূত্রঃ- মাদারেজুন নবুয়াত , খঃ-২ , পৃঃ-১০৬ , ( ই , ফা:) ; জামে আত তিরমিযি , খঃ -২ , হাঃ-৪৫৮ , ( ই , সঃ) ; সহীহ তিরমিযি , পৃঃ-১৭২ , হাঃ-৪৮৯ , ( সকল খণ্ড একত্রে , তাজ কোং)।
পাঠকদের বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন ?“ মহানবী (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইত (আঃ)-দের উপর নামাজে দরুদ না পড়লে , নামাজ কবুল হবে না ” । তাই নামাজের মধ্যে একটি শর্ত হচ্ছে , তাঁদের (মহানবী (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইতের) উপর দরুদ পড়তে হবে। যাঁদের উপর দরুদ না পড়লে নামাজই কবুল হয় না। তাদেরকে যদি আমরা না চিনি বা না জানি , তাহলে নামাজে দরুদ পড়লেও তা কোন উপকারে আসবে কি ? একটু চিন্তা করুন !!!...... ।
আল্লাহ্ ধরার বুকে কিছু সংখ্যক গৃহকে সম্মানিত করে তাঁর বান্দাকে তাঁর পবিত্রতার গুণ কীর্তন করার নির্দেশ দান করেছেন
এরশাদ হচ্ছে :“ সেই সকল গৃহ যাকে সমুন্নত করতে এবং যাতে তার নাম স্মরণ করতে আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন , সকাল ও সন্ধ্যায় তাহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। ” (সূরা-নূর , আয়াত-৩৬)
হযরত আনাস বিন মালিক এবং হযরত বুরাইদা বর্ণনা করেছেন যে , আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এই আয়াত পাক পাঠ করলে , হযরত আবু বকর দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন , ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! এই গৃহগুলি কাথায়! হযরত নবী (সাঃ) বললেন , এটা আল্লাহর নবীগণের গৃহসমহূ । তারপর তিনি (আবু বকর) জিজ্ঞেস করলেনঃ“ হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর গৃহগুলি ও কি এতে অন্তর্ভুক্ত ? আল্লাহর রাসূল বলেনঃ অবশ্যই এর মধ্যে তাদের গৃহগুলিও অন্তর্ভুক্ত এবং ইহা ঐসব গৃহগুলির চেয়েও অতি উত্তম এবং সমুন্নত ” ।সূত্রঃ - তাফসীরে দূররে মানসুর , খঃ - ৫ , পৃঃ - ৫০ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ - ৭ , পৃঃ - ১৪৪ ; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ - ২ , পৃঃ - ২৫৮ ; জাজবায় ে বেলায় েত , পৃঃ - ১৪২ ; মুরা জয়াত , পৃঃ - ৩০৮ ; শাওয়াহে দুত তানযিল , খঃ - ১ , পৃঃ - ৪০৯ ; গায়াতুল মারাম , পৃঃ - ৩০৮ ।
আরো এরশাদ হচ্ছে:“ হে ঈমানদারগণ আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথী হয়ে যাও ” । (সূরা-তওবা , আয়াত-১১৯)
আল্লাহ্ আমাদেরকে সত্যবাদীদের সাথে থাকতে বলছেন কারণ কি ? ঈমান আনা যথেষ্ট নয় , কারণ সত্যবাদীদের সাথে থাকলে ঈমান সতেজ ও মজবুত থাকবে । তাই এখন আমরা সত্যবাদীদের কোথায় পাবো ? আসুন যে পবিত্র কোরআনে সত্যবাদীদের সাথে থাকার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে , সেই কোরআনই আমরা খুঁজি সত্যবাদী কারা।
একদা নাজরানের খ্রিস্টানদের একটি দল পাদ্রীসহ রাসূল (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হন। তারা হযরত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে নবীজির সাথে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হন নবীজির কোন যুক্তিই তারা মানছিলেন না। তখন নবীজির প্রতি কোরআনের এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়:
“ আপনার নিকট যথাযথ জ্ঞান আসার পরও যে কেউ এই বিষয়ে তর্ক করবে , সন্দেহ করবে তাদের বলুন : আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদের এবং তোমরা তোমাদের পুত্রদের , আমরা আমাদের নারীদের এবং তোমরা তোমাদের নারীদের এবং আমরা আমাদের নাফসদের (সত্তাদের) ডাকি তোমরা তোমাদের নাফসদের (সত্তাদের) কে ডাক। অতঃপর আমরা বিনীত আবেদন করি মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লা ’ নত (অভিসম্পাত) বর্ষিত হোক। ” (সূরা-আলে ইমরান , আয়াত-৬১)
মহানবী (সাঃ) ইমাম হাসান , ইমাম হোসেইন , হযরত ফাতেমা ও ইমাম আলী (আঃ) -কে ডাকলেন এবং ইমাম হোসেইনকে কোলে নিলেন , ইমাম হাসানের হাত ধরলেন এবং হযরত ফাতেমা , নবীজির পিছনে এবং ইমাম আলী , হযরত ফাতেমার পিছনে হাটছিলেন। মহানবী (সাঃ) তাঁদের উদ্দেশ্যে বললেন , হে আমার মিশনের সদস্যগণ আমি যখন অভিসম্পাতের জন্য প্রার্থনা করব , তখন তোমরা‘ আমিন ’ বলবে ।
এখানে বিশেষভাব উল্লেখ্য যে , আল্লাহর পছন্দসই ধর্ম ইসলামের সত্যতা নিরূপণের সাক্ষ্য দেয়ার জন্য মহানবী (সাঃ) আর কাউকেও সঙ্গে নিলেন না , শুধু আহলে বাইত (হযরত আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-গণকেই নিলেন। যেমন আল্লাহর পছন্দসই ধর্ম সত্য ও পবিত্র , ঠিক তেমনি সাক্ষ্যও সত্য ও পবিত্র হতে হবে , তাই তিনি আহলে বাইত (হযরত আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-গণকেই সাথে নিলেন। কারণ তাঁহারাই ছিলেন প্রকৃত সত্যবাদী (সিদ্দিক আকবার) ।
মোবাহালার মাঠে নাজরানের পাদ্রী এই সত্যবাদী“ পাক-পাঞ্জাতনকে ” দেখে ভীত হয়ে খ্রিস্টানদের বলেন , আমি তাঁদের চেহারাতে এমন জ্যোতি দেখতে পাচ্ছি , যদি তাঁরা এই পাহাড়কে সরে যেতে বলে তাহলে তা সরে যাবে । সুতরাং তাঁদের সাথে মোবাহালা (অভিসম্পাতের) প্রার্থনা করো না। তাঁরা যে জিজিয়া কর ধার্য্য করেন তা মেনে নাও।সূত্রঃ-তাফসীরে মাযহারী , খঃ-২ , পৃঃ-৩১২ (ইফা) ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-৬ , পৃঃ-১৯-২২ (ইফাঃ) ; তাফসীরে ইবনে কাসীর , খঃ-২ , পৃঃ-৪৭৭ (ইফাঃ) ; তাফসীরে মাজদী , খঃ-২ , পৃঃ-৯৪ (ইফাঃ) ; তাফসীরে কানযুল ঈমান (আহম্মদ রেজাখা বেরেলভী) , পৃঃ-১২২ ; তাফসীরে নুরুল কোরআন (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) , খঃ-৩ , পৃঃ-২৭০ ; কোরানুল কারিম (মহিউদ্দিন খান) , পৃঃ-১৮১ ; কোরআন শরিফ (আশরাফ আলী থানভী) , পৃঃ-৯০ , ( মীনা বুক হাউস) ; সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৬ , হাঃ-৬০০২ , ( ইফাঃ) ; সহীহ্ তিরমিজী , খঃ-৫ , হাঃ-২৯৩৭ (ই , সেন্টার) ; বোখারী (হামিদিয়া) , খঃ-৫ , পৃঃ-২৮২ ; মেশকাত(এমদাদীয়া) , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৭৫ ; কাতেবীনে ওহি , পৃঃ-১৬৫ (ইফাঃ) ; আশারা মোবাশশারা , পৃঃ-১৬২ (এমদাদীয়া) ; মাসিক মদীনা , ( সেপ্টেম্বর-২০০০) , পৃঃ-৬ ; মাসিক সুরেশ্বর (এপ্রিল-২০০০) , পৃঃ-৭ ; শেখ আব্দুর রহীম গ্রন্থাবলী , পৃঃ-৩০৮ , ( বাংলা একাডমী) ; ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ) , খঃ-২ , পৃঃ-৪৯৮ ; তাফসীরে দুরেরে মানসুর , খঃ-৬ , পৃঃ-৩৯ , ( মিশর) ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-৩ , পৃঃ-২৯৯ , ( মিশর) ; তাফসীরে কাশশাফ , খঃ-১ , পৃঃ-৩৬৮ , ( বৈরুত) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-৪ , পৃঃ-১০৪ , ( মিশর) ; তাফসীরে কাবীর (ফাখরে রাজী) , খঃ-২ , পৃঃ-৬৯৯ , ( মিশর) ।
অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে , আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে খ্রিষ্টানরা আহলে বাইত (পাক-পাঞ্জতন)-কে চিনে গেলেন কিন্তু আজ আমরা নিজেকে শ্রেষ্ঠ নবী (সাঃ)-এর উম্মত বলে দাবি করি কিন্তু আহলে বাইতকে ঠিক মত চিনি না , জানি না। আবার অনেককে এমনও পাওয়া যায় , যারা এখন পর্যন্ত আহলে বাইত-এর নামও শুনেন নাই। আর অনুসরণ করার তো প্রশ্নই আসে না। উক্ত আয়াতটি দ্বারা এটা প্রমাণিত হলো যে , মহানবীর (সাঃ) পর যারা তাঁর উত্তরসূরি হবেন তাঁরা পাক পবিত্র-মাসুম ও প্রকৃত সত্যবাদী হবেন।
আহলে বাইত - এর মুয়াদ্দাত ও অনুসরণ ফরজ
পবিত্র কোরআনে , মহানবী (সাঃ)-এর আহলে বাইত-এর মুয়াদ্দাত ও অনুসরণ ফরজ করা হয়েছে ।
মহানবী (সাঃ) যে রেসালাতের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন , আল্লাহ তার বান্দার কাছ থেকে তাঁর রেসালাতের পারিশ্রমিক বাবদ মহানবী (সাঃ) -এর আহলে বাইত-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) ফরয করে দিয়েছেন। যদি আমরা আহলে বাইতকে প্রাণাধিক ভালো না বাসি , আনুগত্য না করি , তাহলে আল্লাহর হুকুম অকার্যকর থেকে যাবে বা মানা হবে না , তাই হুকুম হচ্ছে।
“ বলুন , আমি আমার রিসালাতের পারিশ্রমিক তোমাদের কাছে কিছুই চাই না , শুধু আমার কুরবা (আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন)-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) ব্যতিত।” (সূরা-শুরা , আয়াত-২৩) ।
হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে , যখন এই আয়াত নাযিল হলো তখন সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন ,“ ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কাঁরা আপনার নিকট আত্মীয় ? যাদের মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) পবিত্র কোরআনে উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছে। উত্তরে নবী (সাঃ) বললেন-আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্য) । ”সূত্রঃ- কোরআন শরীফ (শুরা , ২৩) (আশরাফ আলী থানভী) , পৃঃ-৬৯২ ; তাফসীরে মাজহারী , খঃ-১১ , পৃঃ-৬৩ (ই , ফাঃ) ; তাফসীরে নুরুল কোরআন (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) , খঃ-২৫ , পৃঃ-৬৭ ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-৩ , পৃঃ-১১৭ , শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী তাফসীরে দূররে মানসুর , খঃ-৬ , পৃঃ-৭ (মিশর) ; তাফসীরে যামাখশারী , খঃ-২ , পৃঃ-৩৯৯ , ( মিশর) ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-২৫ , পৃঃ-২৫ (মিশর) ; তাফসীরে কাশশাফ , খঃ-৩ , পৃঃ-৪০২ ; খঃ-৪ , পৃঃ-২২০ (মিশর) ; তাফসীরে কাবীর , খঃ-২৭ , পৃঃ-১৬৬ (মিশর) ; তাফসীরে বায়যাভী , খঃ-৪ , পৃঃ-১২৩ (মিশর) ; তাফসীরে ইবনে কাসির , খঃ-৪ , পৃঃ-১১২ (মিশর) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১৬ , পৃঃ-২২ (মিশর) ; তাফসীরে নাসাফী , খঃ-৪ , পৃঃ-১০৫ (মিশর) ; তাফসীরে আবু সাউদ , খঃ-১ , পৃঃ-৬৬৫ ; তাফসীরে জামে উল বায়ান , ( তাবারী) , খঃ-২৫ , পৃঃ-৩৩ ; তাফসীরে আল আকাম , খঃ-২ , পৃঃ-১২১ ; তাফসীরে বাহরুল মুহিয়াত (ইবনে হাইয়্যান) , খঃ-৯ , পৃঃ- ৪৭৬ ; তাফসীরে বিহার আল মাদিদ (ইবনে আজি) , খঃ-৫ , পৃঃ-৪৩১ ; তাফসীরে আবু সাউদ , খঃ-৬ , পৃঃ-৮০ ; তাফসীরে কাবীর , খঃ-১৩ , পৃঃ-৪৩২ ; তাফসীরে বাইদাবী , খঃ-৫ , পৃঃ-১৫৩ ; তাফসীরে আল নাসাফী , খঃ-৩ , পৃঃ-২৮০ ; তাফসীরে আল নিশাবুরি , খঃ-৬ , পৃঃ-৪৬৭ ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১৭৩ , ( উর্দ্দু) ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-১০২ , ৫৮৭ , ( উর্দ্দু) ।
আরো এরশাদ হচ্ছে:“ বলুন , যে পারিশ্রমিকেই আমি তোমাদের কাছ চেয়ে থাকি না কেন , তা তো তোমাদেরই জন্য। ” (সূরা-সাবা , আয়াত-৪৭)
হযরত আবু বকর (রাঃ) ও সে কথাটি বলেছেন যে ,“ মহানবী (সাঃ)-এর সন্তুষ্টি তাঁর আহলে বাইতের ভালবাসার মধ্যে নিহিত।” সূত্রঃ- সহীহ্ বোখারী , খঃ-৬ , হাঃ-৩৪৪৭ , ৩৪৭৯ , ( ই. ফাঃ) ; তাফসীরে ইবনে কাসির , খঃ-১৬ , পৃঃ-৫২৬ ; ( হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী , আহলে হাদীস)।
“ আল্লামা যামাখশারী ও আল্লামা ফাখরে রাজী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রখ্যাত দুজন তাফসীরকারক ” ও বিজ্ঞ আলেম , তারা তাদের সুবিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থদ্বয়“ আল কাশশাফ ও আল কাবীর ” তাফসিরদ্বয়ে এভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন যখন উক্ত আয়াত নাযিল হলো (সূরা-শুরা-আয়াত-২৩) তখন রাসূল (সাঃ) বলেন:-
(১) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে শহিদী মর্যাদা পায়। (২) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে নাজাত প্রাপ্ত হয় ইহজগৎ ত্যাগ করে । (৩) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে তওবাকারী হিসাবে ইহজগৎ ত্যাগ করে। (৪) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে পূর্ণ ঈমানের সঙ্গে ইহজগৎ ত্যাগ করে । (৫) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , তাকে মালোকুল মউত , মুনকীর ও নকীর ফেরেশতারা সুসংবাদ দেয়। (৬) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , তাকে এমন ভাবে বেহেশতে নিয়ে যাওয়া হবে যেমন বিবাহের দিন কন্যা তার শ্বশুরালয়ে যায়। (৭) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , তার কবরে জান্নাত মুখী দু‘ টি দরজা খুলে দেয়া হবে। (৮) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , আল্লাহ তার কবরকে রহমতের ফেরেশতাদের জিয়ারতের স্থানের মর্যাদা দেন। (৯) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে নবীর সুন্নত ও খাঁটি-মুসলমানদের দলভুক্ত হয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করলো।
(*) সাবধান যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , কিয়ামতের দিনে তার কপালে লেখা থাকবে সে আল্লাহ পাকের রহমত হতে বঞ্চিত। (*) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , সে কাফের হয়ে মারা যায়। (*) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , সে বেহেশতের সুগন্ধও পাবে না।
সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন , ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আপনার“ আ ’ ল ” আহলে বাইত , কারা ?“ নবীজি বললেন , আলী , ফাতেমা , হাসান , ও হোসেইন , তিনি আরো বলেন , আল্লাহর কসম যার হস্তে আমার জীবন , যে ব্যক্তি আমার আহলে বাইতকে শত্রু মনে করবে , সে জাহান্নামী। ”সূত্রঃ- তাফসীরে কাবির , খঃ-২৭ , পৃঃ-১৬৫ , ( মিশর) ; তাফসীরে আল কাশশাফ ওয়াল বায়ান , খঃ-৩ , পৃঃ-৬৭ , ( মিশর) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১৬ , পৃঃ-২২ , ( মিশর) ; এহইয়াউল মাইয়াত , পৃঃ-৬ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৪১৮ ; সাওয়ায়েক মোহরিরকা , পৃঃ-১০৪ ; ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৫৫ , ৫৯৯।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইতের চির শত্রু বনী উমাইয়াদের প্রাপাগাণ্ডায় , আহলে বাইতের ভক্তদের বা প্রেমিকদের“ রাফেযী ” নামে ডাকা হতো।
এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফেয়ী বলেন , যদি কেবল মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা রাখলেই মানুষ রাফেযী হয়ে যায় , তবে বিশ্ব জগতের সমস্ত জ্বীন ও মানব সাক্ষী থাকুক , আমিও রাফেযী।সূত্রঃ- কোরআনুল করিম-(মাওলানা মহিউদ্দিন খান) , পৃঃ-১২১৫ ; শেইখ সুলাইমান কান্দুযী-ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৫৭৭ ; ওবাইদুল্লাহ ওমরিতসারী-আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৮৮৬।
আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা জালাল উদ্দিন সূয়ুতী বর্ণনা করেন যে , পবিত্র কোরআন ও নবী (সাঃ)-এর হাদীস হতে এটা প্রমাণিত হয় যে , আহলে বাইত আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) দ্বীনের ফরায়েজে গণ্য ; সুতরাং ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) এটার সমর্থনে এরূপ সনদ দিয়েছেন যে ,“ ইয়া আহলে বাইত-এ রাসূল , আল্লাহ তাঁর নাজিল করা পবিত্র কোরআনে আপনাদের মুয়াদ্দাতকে ফরজ করেছেন , যারা নামাজে আপনাদের উপর দরুদ পড়বে না , তাদের নামাজই কবুল হবে না ” ।সূত্রঃ- ইবনে হাজার মাক্কীর , সাওয়ায়েকুল মুহরে কা , পৃঃ-১০৩।
হযরত আলী (আঃ) থেকে বর্ণিত , যিনি বীজ হতে চারা গজান ও আত্মা সৃষ্টি করেন , সেই আল্লাহর কসম , নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল আমাক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ,‘ প্রকৃত মুমিন ছাড়া আমাক কেউ ভালবাসবেনা এবং মুনাফিকগণ ছাড়া কেউ আমার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করবে না ’ ।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)‘ র সাহাবাগণ , ইমাম আলীর প্রতি ভালবাসা অথবা ঘৃণা দ্বারা কোন লোকের ঈমান ও নিফাক পরখ করতেন। আবু যার গিফারী , আবু সাঈদ খুদরী , আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ , জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে ,‘ আমরা সাহাবাগণ আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতি ঘৃণা দ্বারা মুনাফিকদের খুঁজে বের করতাম ’ ।সূত্র:-সহীহ্ মুসলীম , খঃ-১ , হাঃ-১৪৪ , ( ই , ফাঃ) ; জামে আত তিরমিযী , খঃ -৬ , হাঃ- ৩৬৫৪-৩৬৫৫ (ই , সেন্টার) ; মেশকাত , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৪১ (এমদাদীয়া) ; কাতবীনে ওহি , পৃঃ-২১২ , ( ই , ফাঃ) ; আশারা মোবাশশারা , পৃঃ-১৯৭ (এমদাদীয়া) ; হযরত আলী , পৃঃ-১৪ (এমদাদীয়া)।
কিন্তু অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে , যাঁদের উপর দরুদ শরিফ না পড়লে নামাজ কবুল হয় না , (আহযাব-৫৬) যাঁদের আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা পবিত্র কোরআনে ফরজ করা হয়েছে , (শুরা-২৩) । সেই পাক পবিত্র আহলে বাইত-এর প্রথম সদস্য হযরত আলী (আঃ)-এর সাথে মহানবী (সাঃ)-এর ইহজগৎ ত্যাগ করার পর , কতইনা জালিমের মত ব্যবহার করা হয়েছে তা এখন পাঠকদের সামনে তুলে ধরবো:
৪১ হিজরিতে আমির মুয়াবিয়া যখন কোরআন পরিপন্থি আইন রাজতন্ত্র কায়েম করলো , তখন“ মুসলিম সাম্রাজ্যের ৭০ হাজারেরও অধিক মসজিদ জুম্মার খোৎবায় হযরত আলী ও রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র আহলে বাইত (আঃ)-এর উপর অভিসম্পাত প্রদানের হুকুম কার্যকর করে , তার আদেশটি ছিল এরূপ , আল্লাহর কসম। কখনও আলীকে অভিসম্পাত দেয়া বন্ধ হবে না যতদিন শিশুগণ যুবক এবং যুবকগণ বৃদ্ধে পরিণত না হয়। সারা দুনিয়ায় আলীর ফজিলত বর্ণনাকারী আর কেউ থাকবে না , মুয়াবিয়া নিজে এবং তার গভর্নররা মসজিদে , রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র রওজা মোবারকের পার্শ্বে মিম্বরে রাসূলে দাড়িয়ে , তাঁর প্রিয় আহলে বাইতদের অভিসম্পাত দেয়া হতো , হযরত আলীর সন্তানরা ও নিকট আত্মীয়রা তা শুনতে বাধ্য হতেন , আর নীরবে অশ্রুপাত করতেন। কারণ তারা নিরীহ (মাজলুম) ছিলেন। ” মুয়াবিয়া তার সমস্ত প্রদেশের গভর্নরদের উপর এ নির্দেশ জারি করে , যেন সকল মসজিদের খতীবগণ মিম্বরে রাসূল (সাঃ)-এর উপরে দাঁড়িয়ে , আলীর উপর অভিসম্পাত করাকে যেন তাদের দায়িত্ব মনে করেন।
পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে , তিনি“ সেই আলী , যিনি মহানবী (সাঃ) -এর স্থলাভিষিক্ত ও সর্বপ্রথম নবুয়্যতের সাক্ষ্য প্রদানকারী (শোয়ারা-২১৪) । আল্লাহ যাদেরকে পবিত্র কোরআনে পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন (আহযাব -৩৩) এবং যাদের আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা ব্যতিত ঈমান পরিপূর্ণ হয় না , (শুরা-২৩) নামাজে নবীজির সাথে যাঁদের উপর দরুদ শরিফ ও সালাম না পাঠালে নামাজ কবুল হয় না , (আহযাব-৫৬) । ”
সেই আহলে বাইত (আঃ)-কে অভিসম্পাত-এর প্রথা প্রচলন করে কি মুয়াবিয়া জঘন্য অপরাধ (মুনাফেকি) করে নি ?“ প্রায় ৮৩ বৎসরেরও অধিক সময় ধরে মুসলিম জাহানের প্রতিটি মসজিদে আহলে বাইত (আঃ) ও আহলে বাইত-এর প্রধান সদস্য হযরত আলী (আঃ)-কে অভিসম্পাত-এর প্রথা এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল যে , যখন ওমর বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামল শুরু হলো , তখন তিনি এই জঘন্য পাপ ও বেঈমানী কর্মকাণ্ড রহিত করেন। ” তখন রাসূল (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ) বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠি (মুনাফিকগণ) চারদিকে নিম্নোক্ত বাক্য উচ্চারণ করে হৈ চৈ এর রব তুললো।
‘ ওমর বিন আব্দুল আজিজ , সুন্নাত তরক করে দিলেন ’ , (রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র আহলে বাইত-এর প্রধান সদস্য আলী (আঃ)-কে অভিসম্পাত দেওয়া) !
অতঃপর ওমর বিন আব্দুল আজিজ , জুমার খোৎবা থেকে মুয়াবিয়ার প্রতিষ্ঠিত (রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র আহলে বাইত (আঃ)-এর প্রধান সদস্য আলী (আঃ)-কে) অভিসম্পাতের অংশটি পরিবর্তন করে , পবিত্র কোরআনের এ আয়াতটি পাঠের আদেশ দেন।
“ নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদেরককে সুবিচার এবং সৌজন্যের নির্দেশ দেন আর নির্দেশ দেন , নিকট আত্মীয়দের দান করার আর বারণ করেন অশ্লীল জঘন্য কাজ ও সীমালংঘন করতে। তিনি তোমাদেরকে সদুপদেশ দেন যাতে তোমরা উপদশ গ্রহণ কর ” । (সূরা-নাহল , আয়াত-৯০) ।
এখন পাঠকদের জন্য সেই সূত্র উল্লেখ করছি , যেখান হযরত আলী (আঃ)-কে অভিসম্পাত দেওয়া হতো।সূত্রঃ- খিলাফতের ইতিহাস , পৃঃ-১৩৯ , ( ইফাঃ) ; আরব জাতির ইতিহাস , পৃঃ-১২২ , ১৬৮ , ( বাংলা একাডমী) ; খেলাফত ও রাজতন্ত্র , পৃঃ-১৪২ , ১৪৯ ; মাসিক জিজ্ঞাসা , পৃঃ-১৩-১৭ (আগস্ট , সেপ্টেম্বরও , ৯৫) ; জামে আত তিরমিজী , খঃ-৬ , হা:-৩৬৬২ (ই , সেন্টার) ; কারবালা ও মুয়াবিয়া (সৈয়দ গালাম মোরশেদ) , পৃঃ-৪৬-৪৮ ; কারবালা , পৃঃ-২১৪ (মুহাম্মাদ বরকত উল্লাহ) ; ইসলামের ইতিহাস (কে আলী) , পৃঃ , ২৮১ ; ইসলামের ইতিহাস , পৃঃ-১৪৭ , ১৪৯ (সৈয়দ মাহমুদুল হাসান) ; শাহাদাতে আহলে বাইয়ত , পৃঃ-১৪৩-১৪৬ (খানকাহ আবুল উলাইয়াহ) ; সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৭ , হা:-৬০৪১ , ৬০৪৯ (ই , সেন্টার) ; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া , খঃ-৭ , পৃঃ-৩৪১ , খঃ-৮ , পৃঃ-৫০ , ৫৫ ; তারিখে তাবারি , খঃ-৪ , পৃঃ-১২২ , ১৯০ , ২০৭ ; আল কামিল , খঃ- ৩ , পৃঃ-২০৩ , ২৪২ ; জামেউস সিরাত , পৃঃ-৩৬৬ (ইমাম ইবনে হাযম) ; তাতহিরুল জিনান ওয়াল লিসান (ইবনে হাজার মার্কিক) , পৃঃ-৪ , পৃঃ-৮ ; আত তাকারীর লিত-তিরমিজি , পৃঃ-১৯ (মাওলানা মাহমুদুল হাসান) ; ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ) , খঃ- ২ , পৃঃ-৫০ , ৩০৬।
হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন , রাসূল (সাঃ) বলেছেন ,“ যে ব্যক্তি আলীক অভিসম্পাত দিল , সে যেন আমাকেই অভিসম্পাত দিলো ” (আর যে ব্যক্তি মহানবী (সাঃ)-কে অভিসম্পাত দিল , সে এবং তার সঙ্গীরা নিশ্চিত জাহান্নামী , যা আমরা পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে পড়েছি , তাই নয় কি ?)।সূত্রঃ- মেশকাত , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৪২ ; ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ) , খঃ-২ , পৃঃ-৫০৪ ; মুয়াদ্দাতুল কুরবা , পৃঃ-৪৪ ; মুসনাদে হাম্বাল , খঃ-৬ , পৃঃ-৩২৩ ,; মুস্তাদরাকে হাকেম , খঃ-৩ , পৃঃ-১৩০ ; সুনানে নাসাঈ , খঃ-৫ , পৃঃ-১৩৩ ; মাজমা আজ জাওয়াইদ , খঃ- ৯ , পৃঃ-১৩০।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন , সাবধান!“ যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , কিয়ামতের দিন তার কপালে লেখা থাকবে , সে আল্লাহপাকের রহমত হতে বঞ্চিত। যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , সে কাফের হয়ে মারা যায়। যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , সে বেহেশতের সুগন্ধও পাবে না। ”সূত্রঃ- তাফসীরে আল কাশশাফ ওয়াল বায়ান , খঃ-৩ , পৃঃ-৬৭ ,( মিশর) ; তাফসীরে কাবির , খঃ-২৭ , পৃঃ-১৬৫ , ( মিশর) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১৬ , পৃঃ-২২ , ( মিশর) ; এহইয়াউল মাইয়াত , পৃঃ-৬ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৪১৮ ; সাওয়ায়েক মোহরিকা , পৃঃ-১০৪ ; ইয়া-নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৫৫ , ৫৯৯।
শুধু তাই নয়! ওমর বিন আব্দুল আজিজ , হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর কাছ থেকে অবৈধ ভাবে কেড়ে নেওয়া সেই“ বাগে ফিদাক বাগান ” ও ফেরত দেন আহলে বাইতের সদস্যদের কাছে। যেটা এতদিন বনী উমাইয়ার পান্ডারা ভোগ করছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজগুলো করেছিলেন ওমর বিন আব্দুল আজিজ।(দেখুন:- খাতুনে জান্নাত ফাতেমা যাহরা , পৃঃ-১০৯ , ১১০ , ১১২ , ১১৯ (রাহমানিয়া লাইঃ) হযরত ফাতেমা যাহরা , পৃঃ-১৭৭ , ১৮০ , ১৮৯ , ১৯০ (হামিদিয়া লাইঃ) হযরত ফাতেমা জাহরা ,পৃঃ- ,৫৯ , ৬১ , ৬২ , ৬৭ , ৬৮ (তাজ কোং) তারিখে খোলফা , পৃঃ-১১৯ ; হযরত আবু বকর (রাঃ) পৃঃ-৮৬-৯১ , (মুহাম্মদ হুসাইন হায়কাল) (আধুঃ) ; নাহাজ আল বালাগা (অনুবাদ , জেহাদুল ইসলাম) , পৃঃ , ৩৬৪-৩৭৫ , ২০০১ ,ইং ; মারেফাতে ইমামাত ও বেলায়েত পৃঃ-১২৭-১৩৮ ; মোহাম্মাদ নাজির হোসেইন।
তাই এখন ভাবুন , যারা আহলে বাইত (আঃ)-এর ফজিলত বর্ণনা করেন না , তারা মুয়াবিয়া ও এজিদ দ্বারা কোরআন পরিপন্থি রাজতন্ত্র , রাজা-বাদশাদের অনুসারী বা ভক্ত। যা বর্তমান অনেক দেশে অব্যাহত রয়েছে , যে যার অনুসারী সে তারই পদ্ধতিকে অনুসরণ করবে , এটাই বাস্তব। উম্মতে মুহাম্মাদী আর কতদিন বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতার বেড়াজালে নিজেদেরকে আবদ্ধ করে রাখবেন ? তাই , কোরআন ও হাদীস-এর ভিত্তিতে একটু বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখুন , বিবেককে জাগ্রত করুন , দেখবেন সত্য বেরিয়ে আসবে। মনে রাখবেন অন্ধ বিশ্বাসের নাম ধর্ম নয় , সত্যকে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে উপলব্ধি করার নামই হচ্ছে ধর্ম।
সিরাতে মুস্তাকিম বলতে কাঁদের পথকে বুঝানো হয়েছে ?
পবিত্র কোরআনে“ সূরা ফাতিহাতে ” আমাদের“ সরল সঠিক পথে ও যাদের প্রতিতি আপনি নেয়ামত দান করেছেন তাদের পথে পরিচালিত করুন। ” বলতে কাদের পথকে বুঝানো হয়েছে ?
সালাবী তার তাফসীরে কাবীর গ্রন্থে (সূরা ফাতিহার তাফসীরে) ইবনে বুরাইদা হতে বর্ণনা করেছেন যে ,“ সিরাতে মুস্তাকিম ” বলতে“ মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর ইতরাত , আহলে বাইতের পথকে বুঝানো হয়েছে ” । ওয়াকী ইবনে যাররাহ সুফিয়ান সাওরী সাদী আসবাত ও মুজাহিদ হতে এরা সকলেই ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন , আমাদের সরল সঠিক পথে হেদায়েত কর , অর্থাৎ“ মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইতের পথ। ”
সূত্রঃ- ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১১১ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৪৪ ; বায়ানুস সায়াদাহ , খঃ-১ , পৃঃ-৩৩ ; তাফসীর আলী বিন ইবরাহীম , খঃ-১ , পৃঃ-২৮ ; সাওয়াহেদুত তানযিল , খঃ-১ , পৃঃ-৫৭ ; তাফসীরুল বুরহান , খঃ-১ , পৃঃ-৫২ ; মানাকেবে ইবনে শাহরে আশুব , খঃ-১ , পৃঃ-১৫৬ ; আল মোরাজয়াত , পৃঃ-৫৫ ; মাজমাউল বায়ান , খঃ-১ , পৃঃ-২৮ ; সাওয়ায়েকুল মোহরিকা , পৃঃ-১৬ ; কিফায়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ-১ , পৃঃ-১৯২ ; রওয়ানে জাভেদ , খঃ -১ , পৃঃ-১০ ; তাফসীরে নূরুস সাকালাইন , খঃ-১ , পৃঃ-২০-২১ ; তাফসীরে নমূনা , খঃ-১ , পৃঃ-৭৫ ; তাফসীরে ফুরাত , খঃ-১ , পৃঃ-১০।
হাদীসে সাকালাইন দু ‘ টি ভারী বস্তুর হাদীস
কোরআন ও ইতরাত , আহলে বাইত
হযরত যাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে , মহানবী (সাঃ)-এর শেষ বাণী যা তিনি বিদায় হজ্জে একলক্ষ বিশ হাজার সাহাবীদের মাঝে এরশাদ করেছিলেন:“ হে মানব সম্প্রদায়! আমি তোমাদের মধ্যে দু‘ টি সমপরিমাণ ভারি বস্তু রেখে যাচ্ছি যদি এ দু‘ টিকে আঁকড়ে ধরে থাক (অনুসরণ কর) তাহলে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। আর যদি একটিকে ছাড় তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। তার প্রথমটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব (কোরআন) দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমার ইতরাত , আহলে বাইত [(আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)] ; এ দু‘ টি কখনই পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না হাউজে কাউসারে আমার সাথে মিলিত হবে। তাদের সাথে তোমরা কিরূপ আচরণ কর এটা আমি দেখবো ” ।সূত্র-সহীহ্ তিরমীজি , খঃ-৬ , হাঃ-৩৭৮৬ , ৩৭৮৮ (ই , ফাঃ) ; সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৫ , হাঃ-৬০০৭ , ৬০১০ , ( ই ; ফাঃ) ; মেশকাত , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৯২-৫৮৯৩ , ( এমদাদীয়া) ; তাফসীরে মাজহারী , খঃ-২ , পৃঃ-১৮১ , ৩৯৩ , আল্লামা সানাউল্লাহ পানিপথি (ইফাঃ) ; তাফসীরে হাক্কানী (মাওলানা শামসুল হক ফরীদপূরি) , পৃঃ-১২-১৩ (হামিদীয়া) ; তাফসীরে নূরুল কোরআন , খঃ-৪ , পৃঃ-৩৩ (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-৩ , পৃঃ-১১৫ শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী , তাফসীরে মারেফুল কোরআন , খঃ-১ , পৃঃ-৩৭১ , মুফতি মোঃ সফী (ই , ফাঃ) ; কুরআনুল করিম (মাওলানা মহিউদ্দিন খান) , পৃঃ-৬৫ ; সিরাতুন নবী , খঃ-২ , পৃঃ-৬০৫ , আল্লামা শবলি নুমানী (তাজ কোং) ; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া , খঃ-৫ , পৃঃ-৩৪৫ খঃ-৭ , পৃঃ-৬১৬ (ই , ফাঃ) ; কাতেবীন ওহী , পৃঃ-১৬৬ (ই , ফাঃ) ; আশারা মোবাশশারা (ফাযেলে দওবন্দ) , পৃঃ-১৬৩ (এমদাদীয়া) ; বোখারী শরীফ , খঃ-৫ , পৃঃ-২৮০ , ২৮২ , ( হামীদিয়া) ; রিয়াদুস সালেহীন , খঃ-১ , পৃঃ-২৫৫ (ই , সেন্টার) ; মাসিক মদিনা (জুন , ২০০৫) , পৃঃ-১৫ ; সুফি দশর্ন , পৃঃ-৩৩ , ৩৮ , ( ই , ফাঃ) ; দিওয়ানে মইনুদ্দিন , পৃঃ-৪৯১ (জেহাদুল ইসলাম) ; বিশ্ব নবী বিশ্ব ধর্ম (ফজলুর রহমান) , পৃঃ-১৮৮ (মল্লিক ব্রাদার্স কলকাতা) ; বিশ্ব নবী , পৃঃ-৫৩৩ (অধ্যাপক মাওলানা সিরাজ উদ্দিন) ; যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) , প:-২৩০ ; শান্তির নবী , পৃঃ , ১৫৯-১৬২ , ( ফজলুর রহমান খান , দায়েমী কমপ্লেক্স) ; মাসিক সুরেশ্বর ,( মার্চ , ২০০১) , পৃঃ-১০ ; শাহাদাতে আহলে বাইত , পৃঃ-৮৪ , ( খানকা আবুল উলাইয়াহ) ; সাহাবা চরিত , পৃঃ-২৮ , ২৯ (মাওলানা , মোঃ যাকারিয়া) ; মহানবীর ভাষণ , পৃঃ-২১১ (আব্দুল কাইয়ুম নাদভী (ই , ফাঃ) ; আল মুরাজায়াত , পৃঃ-২৮ , ২২৩ (আল্লামা শারাফুদ্দীন মুসাভী) ; ওহাবী পরিচয় , পৃঃ-১৩৫-১৩৭ , ( রেদওয়ানিয়া লাইঃ ১৯৯০ ইং) ; ইসলামিয়াত , পৃঃ-৩৩ (ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী (ই , ফাঃ) ; রহমতে দো আলম মোহাম্মদ , পৃঃ-১১২ , ( ইস্টার্ন , লাইব্রেরী) ; যুলফিকারই মুর্তুজা , পৃঃ-১৫৪ (আটরশি) ; মদীনার আলো , পৃঃ-৫৮ (ডাঃ সুফী সাগর সাম্স , আজিমপুর দায়রা শরিফ) ; কাসাসুল আম্বিয়া , পৃঃ-৫২১-৫২২ (তাজ কোং , ১৪১০ , বাংলা) ; রাষ্ট্র ও খিলাফত , পৃঃ-২০৬ (মোহাঃ আলাউদ্দিন খান) ; হযরত আলী , পৃঃ-৫৬ (এমদাদিয়া) ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৬৮ (উদ্দু) ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৬৭-৭৬ , ( উর্দ্দু) ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-২ , পৃঃ-৫৮৫ (উর্দ্দু) ; সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৫ , পৃঃ-৩৭৪-৩৭৫ , হাঃ-৬১১৯ , ৬১২২ , ( আহলে হাদীস লাইব্রেরী) ; রিয়াদুস সালিহীন , খঃ-১ , পৃঃ-৩০৯ (হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী , আহলে হাদীস) ; সংক্ষিপ্ত তাফসীর আল মাদানী , খঃ-৮ , পৃঃ-১৫ (হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী , বংশাল , আহলে হাদীস) ; সিলসিলাত আল আহাদিস আস সাহীহাহ্ (নাসিরউদ্দিন আলবানী , কুয়েত আদদ্বার আস সালাফীয়া , খঃ-৪ , পৃঃ-৩৫৫-৩৫৮ , হাঃ-১৭৬১ , ( আরবী) ; ( নাসিরউদ্দিন আলবানীর মত এই হাদীসটি সহীহ্)।
মহানবী (সাঃ) সাহাবাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন ,“ এখানে উপস্থিত লোকদের উচিত অনুপস্থিত ’ দের কাছে আমার এই বাণী (কিতাবুল্লাহর বিধান ও আহলে বাইত-এর সীরাত ও রেওয়ায়েত) পৌছিয়ে দেয়া , কেননা যাদের কাছে পৌছানো হবে , তাদের মধ্যে অনেক ব্যক্তি এমন আছে যে , শ্রবণকারীর চাইতে সংরক্ষণের দিক থেকে অধিকযোগ্য। আর তোমরা যেন আমার পরে কাফের হয়ে যেও না।” অর্থাৎ কুফরী আচরণে তৎপর হয়ো না।সূত্রঃ- সহীহুল বুখারী , খঃ-২ , হাঃ-১৭৩৯-১৭৪১ , ( তাওহীদ পাবলিকেশন্স) ; সহীহ্ আল বুখারী , খঃ-২ , হাঃ-১৬১৯-১৬২১ , ( আধুনিক , ১৯৯৮ইং) ; সহীহ্ বোখারী , খঃ-৩ , হাঃ-১৬৩০-১৬৩২ , ( ই , ফাঃ , ২০০৩ইং) ; সহীহ বোখারী শরীফ , পৃঃ-২৭৭ , হাঃ-১৬১৯-১৬২১ ; ( সকল খণ্ড একত্রে , তাজ কোং , ২০০৯ ইং)
মহানবী (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন যে ,“ আহলে বাইত-এর আগ যাওয়ার চেষ্টা করানা তাহলে ধ্বংস হয় যাব। তাদের থেকে সরে যেয়া না তাহলে দুঃখ কষ্ট তোমাদের চির সাথী হয় যাব। তাদেরকে শিক্ষা দওয়ার চেষ্টা করানা তাঁরা তোমাদের থেকে বশি জ্ঞানী। ”সূত্র :- তাফসীরে দুররে মানসুর , খঃ-২ , পৃঃ-৬০ ; উসুদুল গাবা , খঃ-৩ , পৃঃ-১৩৭ ; সাওয়ায়েকুল মুহরেকা , পৃঃ-১৪৮ ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৩৫৫ ; কানযুল উম্মাল , খঃ-১ , পৃঃ-১৬৮ ; হায়সামী , মাজমাউজ যাওয়ায়েদ , খঃ-৯ , পৃঃ-২১৭ ; আবাকাতুল আনোয়ার , খঃ-১ , পৃঃ-১৮৪ ; আল-সিরাহ আল হালবিয়া , খঃ-৩ , পৃঃ-২৭৩ ; আল তাবরানি , পৃঃ-৩৪২।
আল্লামা সানাউল্লাহ পানিপথি স্বীয় তাফসীরে লিখেছেন যে , [(মহানবী (সাঃ)] আহলে বাইত (আঃ)-এর কথা এজন্য তাগিদ করেছেন যে ,“ হেদায়েত এবং বেলায়েতের ব্যাপারে আহলে বাইতই পথপ্রদর্শক। তাঁদের উসিলা ব্যতিত কেউ আল্লাহর ওলীর মর্তবায় পৌছাতে পারবে না। আহলে বাইত (আঃ)-এর মধ্যে সর্বপ্রথম রয়েছেন , হযরত আলী (আঃ) অতঃপর তাঁর সন্তানদের মধ্যে হযরত হাসান আসকারী পর্যন্ত , এই সিলসিলা অব্যাহত থাক। ”সূত্রঃ- তাফসীরে মাযহারী , খঃ-২ , পৃঃ-৩৯৩ (ই , ফাঃ) ; তাফসীরে নুরুল কোরআন , খঃ-৪ , পৃঃ-৩৩ , ( মাওলানা আমিনুল ইসলাম)।
বিদায় হজ্বের ভাষণে“ মহানবী (সাঃ) আমাদেরকে কিতাবুল্লাহর বিধান ও আহলে বাইত-এর সীরাত ও রেওয়ায়েত অনুসরণ করতে হুকুম দিয়েছেন , গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে , সেই সময় মহানবী (সাঃ)-এর সঙ্গে প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার সাহাবার জামাত ছিল এবং মহানবী (সাঃ) সাহাবাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে , যদি কোরআন ও আহলে বাইত-এর একটিকেও ছাড় তবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে , আর আমরা হলাম সাধারণ মানুষ আমরা যদি সেই দুটি বস্তুকে অনুসরণ না করি তবে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা পাবো কি ?”
আল কোরআনের ঘোষণাঃ-“ আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন এবং হেদায়েত মানুষের জন্য নাযিল করেছি , কিতাবে তা বিস্তারিত (হক কথা) বর্ণনা করার পরও যারা তা গোপন করে তাদেরকে আল্লাহ্ অভিসম্পাত দেন এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীরাও তাদেরকে অভিসম্পাত দেয়। ” (সূরা-বাকারা , আয়াত-১৫৯)
আরো এরশাদ হচ্ছে:“ নিশ্চয় যারা গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন (হক কথা) এবং বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে , তারা আগুন ছাড়া নিজেদের পেটে আর কিছুই পুরতেছে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। এরাই হল সে সকল লোক যারা হেদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী এবং ক্ষমার পরিবর্ত আযাব খরিদ করেছে। হায়! কতই না ধৈর্যশীল তারা আগুনের উপর ” ! (সূরা-বাকারা , আয়াত-১৭৪-১৭৫)
হায় আফসাস! সেই সব দরবারী আলেমদের জন্য যারা জেনে-বুঝে (হক কথা) ইল্ম গোপন করে“ কোরআন পরিপন্থি রাজতন্ত্রী রাজা-বাদশাদের খুশি করার জন্য অনন্তকালের আগুনকে বরণ করে নিচ্ছে ” ।
কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে , আহলে বাইত (আঃ)-এর এই সহীহ্ হাদীসটিতে আহলে বাইত (আঃ)-কে বাদ দিয়ে ,‘ সুন্নাহ ’ ও‘ হাদীস ’ শব্দ যোগ করা হয়েছে , যেমনঃ বিদায় হজ্বে রাসূল (সাঃ)‘ কোরআন ও সুন্নাহ বা হাদীস ’ রেখে যাবার কথা বলেছেন বলে প্রচার করা হয়। অথচ এটা সঠিক নয়! কিছু দরবারী আলেমরা অনেকভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন , যেমনঃ তারা বলেন , মহানবী (সাঃ) নাকি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে ভাষণ দিয়েছেন যেমনঃ কোথাও“ কোরআন ও সুন্নাহ ” বলেছেন , আবার কোথাও ,“ কোরআন ও হাদীস ” বলেছেন , যখন আমি বললাম ঠিক আছে সহীহ্ হাদীস দ্বারা প্রমাণ দেখাতে পারবেন। তখন আর সদুউত্তর আসে না , আমি পাঠকদের অবগতির জন্য প্রমাণ স্বরূপ বলছি ,“ কোরআন ও সুন্নাহ বা হাদীস ” এই হাদীসটি মুয়াত্তা ইমাম মালেক তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন মুরসাল হাদীস হিসাবে সেখানে সাহাবির ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন“ মেশকাত শরীফ ” খঃ-১ , হাঃ-১৭৭ , নুর মুহাম্মদ আজমী (এমদাদীয়া)ও“ তাহক্কীক মিশকাতুল মাসাবিহ ” , খঃ-১ , পৃঃ-১০৪ , হাঃ-১৮৬ , (আহলে হাদীস লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত) , সেখানে উল্লেখ আছে যে ,“ কোরআন ও সুন্নাহ বা হাদীস ” হচ্ছে (মুরসাল ও যইফ হাদীস) ; মাওলানা মুফতি মোঃ সফী ; তার সীরাতে“ খাতামুল আম্বিয়া” গ্রন্থের-৯৭-৯৮ ’ পৃষ্ঠায় বলেন , মহানবী (সাঃ) বিদায় হজ্বে সাহাবাদের সামনে বলেছেন“ শুধু কোরআন ” অনুসরণ করতে ;“ আর রাহীকুল মাখতূম ” আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী , সালাফী , পৃঃ-৫২৩ , (প্রকাশনায়-তাওহীদ পাবলিকশন্স , ২০১১-ইং ,);“ আর রাহীকুল মাখতূম ” (সীরাত গ্রন্থ , অনুবাদ ও প্রকাশনা-খাদিজা আখতার রজায়ী ; জুন-২০০৩-ইং ,) আল কোরআন একাডেমী লন্ডন। আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী , ওহাবী-সালাফী , আহলে হাদীসের আলেম , তার সীরাত গ্রন্থের-৪৭৬ , পৃষ্ঠায় বলেন , মহানবী (সাঃ) বিদায় হজ্বে একলক্ষ চব্বিশ হাজার সাহাবাদের সামনে বলেছেন“ শুধু কোরআন ” অনুসরণ করতে ;“ এই বিভ্রান্তির শেষ কাথায় ” ?“ যারা বলেন. আল্লাহর কিতাব কোরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এটা আরেক পথভ্রষ্টতা। ”সূত্রঃ-কুরআনুল করিম ; ( মাওলানা মহিউদ্দিন খান) , পৃঃ-৬৬। “ আর তাদের অধিকাংশ সত্যক অপছন্দ করে । ” ( সূরা-মুমিনুন , আয়াত-৭০) ; “ আর তাদের মধ্যে একদল সত্যকে জেনেও গোপন করে। ” ( সূরা-বাকারা , আয়াত-১৪৬) ; “ তোমরা সত্যক মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না। ” ( সূরা-বাকারা , আয়াত-৪২)
মহানবী (সাঃ)-এর শাফায়াত যাদের জন্য হারাম
রাসূল (সাঃ) বলেন ,“ যে ব্যক্তি এজন্য আনন্দিত যে ,সে চায় আমার মত জীবন যাপন করতে , আমার মত মৃত্যুবরণ করতে ও আমার প্রতিপালকের চিরস্থায়ী বেহেশতে বাস করতে সে যেন আমার পর , আমার আহলে বাইতকে অনুসরণ করে। কারণ তাঁরা আমার সর্বাধিক আপন এবং তাঁরা আমার অস্তিত্ব হতে অস্তিত্ব লাভ করেছে। আমার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকেই তারা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করেছে। ধ্বংস আমার সেই উম্মতের জন্য যারা আমার আহলে বাইতের শ্রষ্ঠত্বকে মিথ্যা মনে করে এবং আমার ও তাদের (আহলে বাইত (আঃ)-এর) মধ্যেকার সম্পর্ক ছিন্ন করে। আল্লাহ আমার শাফায়াতকে তাদের জন্য হারাম করেছেন ” ।সূত্রঃ - মুস্তাদরাকে হাকেম , খঃ - ৩ , পৃঃ - ১২৮ ; মুসনাদে আহম্মদ , খঃ - ৫ , পৃঃ - ৯৪ ; কানজুল উম্মাল , খঃ - ৬ , পৃঃ - ২১৭ , হাঃ - ৩৭১৯ ; হুলিয়াতুল আউলিয়া , পৃঃ - ৪৪৯ ।
আহলে বাইত (আঃ)-এর সাথে বিদ্বেষ পোষণকারীর হাশর ইহুদিদের সাথে হবে
মহানবী (সাঃ)-এর প্রিয় সাহাবী , হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত , তিনি বলেন , হযরত রাসূল (সাঃ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন , এবং তিনি বলতে লাগলেন ,“ হে মানব সকল! যারা আহলে বাইতের সাথে বিদ্ধেষ রাখে , কিয়ামতের দিন তাদের জমায়েত (হাশর) ইহুদিদের সাথে হবে। আমি (জাবের) আরজ করলাম , ইয়া রাসূল (সাঃ)! যদিও তারা রোযা রাখে এবং নামাজ পড়ে ? উত্তরে রাসুল (সাঃ) বললেন , হ্যাঁ যদিও তারা রোযা রাখে এবং নামাজ পড়ে ” । (অর্থাৎ তা সত্ত্বেও আহলে বাইতের শক্র হওয়ায় , আল্লাহ তায়ালা তাদের ইবাদত বিনষ্ট করে দিয়ে তাদের ইহুদিদের দলভূক্ত করে উঠাবেন) আরও বর্ণনা রয়েছেঃ
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত , হযরত রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন ,“ ঐ সত্ত্বার কসম , যার পবিত্র হাতে আমার প্রাণ! আমার আহলে বাইতের সাথে বিদ্বেষ পোষনকারীদের মধ্যে হতে এমন কেউ নেই , যাকে আল্লাহ তা ’ য়ালা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেনা ” । আরও বর্ণিত হয়েছেঃ
হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্নে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত , হযরত রাসল (সাঃ) ইরশাদ করেন ,“ যদি কোন ব্যক্তি পবিত্র কা ’ বার পাশ রুকন ইয়ামানি ও মাকাম ইব্রাহিমের মধ্যবর্তী স্থানে দন্ডায়মান হয়ে নামাজ আদায় করে এবং রোযাও রাখে , অতঃপর এমতাবস্থায় আহলে বাইতের সাথে বিদ্বেষ রেখে মৃত্যুবরণ করে , তাহলে সে জাহান্নামে যাবে ” ।সূত্রঃ-তাবরানী , আল মু ’ জাম আল আওসাত , খঃ- ৪ , পৃঃ-২১২ , হাঃ-৪০০২ ; হায়সামী , মাজমাউজ যাওয়ায়েদ , খঃ-৯ , পৃঃ-১৭২ ; জুরজানী , তারিখ জুরজান , পৃঃ-৩৬৯ ; হাকেম আল মুস্তাদরাক , খঃ-৩ , পৃঃ-১৬২ , হাঃ-৪৭১৭ ; হায়সামী সাওয়াইক আল-মুহরিকা , পৃঃ-৯০ ; আল্লামা সূয়ুতী , এহইয়াউল মাইয়্যাত , পৃঃ-২০ ; ইবনে হিব্বান , আস সহীহ , খঃ-১৫ , পৃঃ-৪৩৫ , হাঃ-৬৯৭৮ ; যাহাবী সি ’ আরু আলামিন নুবালা , খঃ-২ , পৃঃ-১২৩ ; ( হাকেমের মত এই হাদীসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ্) ; মুহিবের তাবারী , যাখায়েরুল উকবা , পৃঃ-৫১ ; ফাসবী , আল ‘ মা ’ রিফাতু ওয়াত তারিখ , খঃ- ১ , পৃঃ-৫০৫ ; আল্লামা আলী হামদানি শাফায়ী , মুয়াদ্দাতুল কুরবা , পৃঃ-১০৯ ; ওবাইদুল্লাহ অমৃতসারি-আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৬৭ ; কাওকাবে দুরির ফি ফাযায়েলে আলী , পৃঃ-২০৯ , সৈয়দ মোঃ সালে কাশাফী সুন্নি হানাফী আরিফ বিল্লাহ ; আল্লামা শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী-মাদারিজুন নবুওয়াত , খঃ-২ , পৃঃ-৯০ , ( ইঃ , ফাঃ)।
আহলে বাইত (আঃ)-এর অনুসরণ ব্যতিত ঈমানদার হওয়া যাবে না
আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি লিখেছেন যে , রাসুল (সাঃ) বলেছেন যে ,“ দেখ আমার আহলে বাইত-এর অনুসরণকে নিজেদের জন্য অতি আবশ্যকীয় কর্তব্য বলে মনে করবে , কারণ যে ব্যক্তি অন্তরে তাঁদের মহব্বতসহ আল্লাহর নিকট কিয়ামতে উপস্থিত হবে , সে আমার শাফায়াতে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহর কসম আমার আহলে বাইত-এর অনুসরণ ব্যতিত কোন ব্যক্তির কোন আমল উপকারে আসবে না ” ।সূত্রঃ- আল্লামা জালাল উদ্দিন সূয়ূতীর এহইয়াউল মাইয়াত , পৃঃ-৩ ; আল্লামা ইবনে হাজার মাক্কী , সাওয়ায়েকুল মুহরেকা , পৃঃ-১১২।
রাসুল (সাঃ) আরও এরশাদ করেছেন ,“ আল্লাহর কসম কোন মুসলমানের অন্তরে ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে না , যতক্ষণ না আমার আহলে বাইতকে আল্লাহর নির্দশানুযায়ী ও আমার আত্মীয়তার কারণে অনুসরণ (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) না করবে ” ।সূত্রঃ- আল্লামা জালাল উদ্দিন সুয়ূতীর এহইয়াউল মাইয়াত , পৃঃ-৩ ; আল্লামা ইবনে হাজার মাক্কী , সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-১১২।
আহলে বাইত (আঃ)-এর অমান্যকারীদের হাউজে কাউসারে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় বিতাড়িত করে দেয়া হবে
আল্লামা ইবনে হাজার মাক্কী বর্ণনা করেন যে , নবী (সাঃ) বলেছেন ,“ আমার আহলে বাইতের শত্রুতাকারীগণ হাউজে কাউসারের নিকট পৌছিলে তাদেরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় বিতাড়িত করে দয়া হবে ” ।সূত্রঃ- ইবনে হাজার মাক্কীর , সাওয়ায়েকুল মোহরিকা , পৃঃ-১০৪।
আহলে বাইত (আঃ)-ই জান্নাত ও জাহান্নামের বণ্টনকারী
আল্লামা আলী হামদানী শাফেয়ী লিখিয়াছেন যে ,“ রাসূল (সাঃ) বলেছেন , আল্লাহ পাক কিয়ামতে জান্নাত ও জাহান্নামের চাবি আমাকে পাঠাইবেন আমি সেই চাবি আমার আহলে বাইতকে দিব তাঁরা যাকে ইচ্ছা জান্নাতে পাঠাবেন এবং যাকে ইচ্ছা জাহান্নামে পাঠাবেন ” ।সূত্রঃ- আল্লামা আলী হামদানী শাফেয়ীর-মোয়াদ্দাতুল কুরবা , পৃঃ-৩১ ; ইবনে হাজার মাক্কীর সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-৭৫।
আহলে বাইত (আঃ)-এর ভালোবাসা ও অনুসরণ ,সাতটি কঠিন স্থানে কাজে আসবে
আবদুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন হযরত রাসূল (সাঃ) বলেছেন যে , আমার আহলে বাইতের ভালোবাসা অনুসরণ , সাতটি কঠিন স্থানে কাজে আসবে ও সহায়ক হবে। (১) মৃত্যুর সময় (যখন রূহ কবজ করা হবে) , (২) কবরে (কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে) , (৩) কিয়ামত বা হাশরে (কেউ কাউকে চিনবে না , ইয়া নাফসি) , (৪) আমলের (কৃতকর্মের) হিসাব নিকাশের সময় , (৫) আমলের পরীক্ষার সময় , (৬) যখন আমল ওজন করা হবে , (৭) পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় ।সূত্রঃ - কাওকাবে দুরির ফি ফাযায় েলে আলী , পৃঃ - ২১৯ , সৈয়দ মোঃ সালে কাশাফী সুন্নি হানাফী আরিফ বিল্লাহ ; ওবাইদুল্লাহ ওমরিতসারী - আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ - ৫৬৫ ।
হযরত ফাতেমা (আঃ) জান্নাতের সকল মহিলাদের নেত্রী ও ইমাম হাসান-হোসাইন (আঃ) সমস্ত জান্নাতি যুবকদের সরদার
হযরত আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত , হযরত রাসুল (সাঃ) বলেছেন ,“ হাসান-হোসাইন জান্নাতি যুবকদের নতা। (একই হাদীস , হযরত আলী , হযরত ওমর , আবদুল্লাহ্ বিন ওমর , ও আবু হুরাইরা থেকেও বণির্ত হয়েছে) হযরত হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত , হযরত রাসূল (সাঃ) বলেন , একটি ফেরেশতা যিনি ইতিপূর্বে পৃথিবীতে কখনো আসেননি। তিনি আল্লাহর নিকট অনুমতি চাইলেন যে তিনি যেন আমাকে সালাম দিতে পারেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিতে পারেন যে , ফাতেমা (আঃ) জান্নাতের মহিলাদের নেত্রী এবং হাসান-হোসাইন জান্নাতের সকল যুবকদের নেতা ” ।সূত্রঃ- সহীহ তিরমিযী , খঃ-৬ , হাঃ-৩৭৬৮ (ইঃ ফাঃ) ; সহীহ্ তিরমিযী (সকল খণ্ড একত্রে) , পৃঃ-১০৮১ , হাঃ-৩৭৩০ , ( তাজ কোং) ; মেশকাত শরীফ , খঃ-১১ , হাঃ-৫৯০৩ , ( এমদাদীয়া) ; তিরমিযী আল জামউস সুন্নাহ , খঃ-৫ , পৃঃ-৬৫৬ , হাঃ-৩৭৬৮ ; নাসায়ী আস সুনানুল কুবরা , খঃ-৫ , পৃঃ-৫০ , হাঃ-৮১৬৯ ; ইবনে হিববান-আস সহীহ্ , খঃ-১৫ , পৃঃ-৪১২ , হাঃ-৬৯৫৯ ; আহম্মদ ইবনে হান্বাল আল মুসনাদ , খঃ-৩ , পৃঃ-৩ , হাঃ-১১০১২ ।
আহলে বাইত (আঃ)-এর অত্যাচারীদের উপর জান্নাত হারাম
নবী করিম (সাঃ) বলেছেন যে ,“ আল্লাহ ঐ ব্যক্তিদের উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন , যারা আমার আহলে বাইতের উপর অত্যাচার করে বা তাঁদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ করবে বা তাঁদের সাথে যুদ্ধ করবে। অথবা তাদেরকে লুণ্ঠন করবে বা তাদেরকে মন্দ বলবে ” ।সূত্রঃ- ওবায়দুল্লাহ অমৃতসরীর আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৪১৮ ; ইবনে হাজার মাক্কীর সাওয়ায়েকুল মোহরিকা , পৃঃ-১০৫ ; আল্লামা আলী হামদানী শাফেয়ীর মোয়াদ্দাতুল কুরবা , পৃঃ-১১৮।
আহলে বাইত (আঃ)-এর শক্র মুনাফিক
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত হযরত রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন ,“ যারা আহলে বাইতের সাথে বিদ্বেষ রাখে তারা তো কপট (মুনাফিক) । ”
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে , হযরত রাসূল (সাঃ) বলেছেন যে ,“ আমার আহলে বাইত-কে তারাই ভালোবাসবে অনুসরণ করবে যারা মোমিন আর তারাই শক্রতা ও ঘৃণা করবে , যারা মুনাফিক। ”সূত্র :- আহমাদ ইবনে হান্বাল , ফাযায়িলুস সাহাবা , খঃ - ২ , পৃঃ - ৬৬১ , হাঃ - ১১২৬ ; মুহিব্বে , তাবারী , আর রিয়াজুন নাদরাহ , খঃ - ১ , পৃঃ - ৩৬২ ; মুহিব্বে তাবারী , যাখায়েরুল উকবা , পৃঃ - ৫১ ; সূয়ুতী আদ দুররুল মানসুর , খঃ - ৭ , পৃঃ - ৩৪৯ ; ইবনে আবি শায়বাহ , আল মুসান্নাফ , খঃ - ৬ , পৃঃ - ৩৭২ , হাঃ - ৩২১১৬ ; এহইয়াউল মাইয়াত - আল্লামা জালাল উদ্দিন সূয়ুতী , পৃঃ - ৭ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ - ৫৭৯ ।
আহলে বাইত (আঃ)-গণই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা
রাসুল (সাঃ)-এর প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবুজার আল গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , আমি রাসূল (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি ,“ আমার আহলে বাইত এর সদস্যগণ {আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ) }। আমার উম্মতের জন্য তেমনি নাজাতে র তরী , যেমনি আল্লাহর নবী নুহ (আঃ)-এর তরী মহাপ্রলয়ের সময় তার জাতির জন্য আশ্রয় ও নাজাতে র তরী ছিল। অর্থাৎ যারাই হযরত নুহ (আঃ)-এর তরীতে উঠেছিল তারাই মহাপ্রলয় থেকে নাজাত পেয়েছিল (হযরত নূহের ছেলে তরীতে উঠেনি আল্লাহ্ তাকেও ক্ষমা করেন নি) তেমনি এই উম্মতের যারা আমার আহলে বাইতকে অনুসরণ করবে তারাই নাজাত পাবে এবং যারা অনুসরণ করবে না তারা সুষ্পষ্ট পথভ্রষ্ট (জাহান্নামী) হবে ” ।সূত্রঃ- মেশকাত শরিফ , খঃ-১১ , হাঃ-৫৯২৩ ; কাশফুল মাহজুব , পৃঃ-৭০ , ( দাতাগঞ্জ বকস) ; মাসিক মদীনা (সপ্টম্বর ২০০০) পৃঃ-৬ ; পীরের মর্যাদা ও ভুমিকা , পৃঃ-১১৪ , ( মুহাঃ মুখলেসুর রহমান এডভোকেট) ; জ্ঞানধারা , পৃঃ-১০৬ , ( মুখলেসুর রহমান) ; আস সাওয়ায়েকুল মুহরিকা (ইবনে হাজার হায়সামী) , পৃঃ-২৩৪ ; তাফসীরে কাবির , খঃ-২৭ , পৃঃ-১৬৭ ; মুসনাদে হাম্বাল , খঃ-২ , পৃঃ-৭৮৬ ; কানযুল উম্মাল , খঃ-৬ , পৃঃ-২৫৬ ; মানাকেবে ইবনে মাগজিলি , পৃঃ-১৩২ ; মুস্তাদরাকে হাকেম , খঃ-৩ , পৃঃ-১৫১ , খঃ-২ , পৃঃ-৩৪৩ , কেফায়াতুত তালেব , পৃঃ , ২৩৩ , আরবাইন নাবহানী , পৃঃ , ২১৬ , তারিখে খোলাফা , পৃঃ , ৩০৭ ; যাখায়েরুল উকবা , পৃঃ-২০ ; সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-১৫০ (ইবনে হাজার মাকিক) ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৩৭০ , ৩০৮ ; মুয়াদ্দাতুল কুরবা , পৃঃ-৩৮ , ১১১ ; নুরুল আবসার , পৃঃ-১১৪ ; আল তাবরানি , খঃ-৩ , পৃঃ-৩৭-৩৮ ; হিলিয়াতুল আউলিয়া , খঃ-৪ , পৃঃ-৩০৬ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৫৯ (উর্দ্দু) ; Al-Hakim recorded the tradition in his book 'al-Mustadrak' vol-২ , p-৩৪৩ and declared it as Sahih according to the condition of Muslim;
Imam Jalaluddin Suyuti in his book 'Al-Jame al-Saghir' vol-২ , p-৫৩৩ , declared it as
Hasan; Imam Al-Sakhawi in his book 'Al-Baldanyat' p-১৮৬ , declared it as Hasan;
আহলে বাইত (আঃ)-এর (আনুগত্যপূর্ণ) ভালোবাসা , নবীজির ভালোবাসা , নবীজির ভালোবাসা , আল্লাহর ভালোবাসা।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত , হযরত রাসূল (সাঃ) বলেছেন ,“ তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস কেননা মহান আল্লাহ তাঁর নেয়ামত হতে তোমাদিগকে রিজিক প্রদান করেছেন। আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে আমাকে ভালোবাস (রাসূলকে) । আর আমার ভালোবাসা পেতে হলে আমার আহলে বাইতকে (আনুগত্যপূর্ণ) ভালোবাস ” ।সূত্রঃ- সহীহ্ তিরমিযি , ( সকল খণ্ড একত্রে) , পৃঃ-১০৮৫ , হাঃ-৩৭৫১ , ( তাজ কোং) ; সহীহ তিরমিযি , খঃ-৬ , হাঃ-৩৭২৮ , ( ইঃ সঃ) ; মেশকাত শরীফ , খঃ-১১ , পৃঃ-১৮৮ , হাঃ- ৫৯২২ , ( এমদাদিয়া লাইঃ) ; শেইখ সুলাইমান কান্দুযী-ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৩১৭ , ( উর্দ্দু) ; কাওকাবে দুরির ফি ফাযায়েলে আলী , পৃঃ-২০০ , সৈয়দ মোঃ সালে কাশাফী সুন্নি হানাফী আরিফ বিল্লাহ ; ওবাইদুল্লাহ ওমরিতসারী-আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৭৯।
কিয়ামতের দিন , আহলে বাইত (আঃ) ও তাঁদের আশেকরা আল্লাহর আরশের নিচে একই স্থানে থাকবেন
হযরত আলী (আঃ) হতে বর্ণিত , হযরত রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন ,“ আমি , আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন এবং আমাদের সকল আশেকরা একই স্থানে একত্রিত হবে। কিয়ামতের দিন আমাদের পানাহারও একত্রে হবে , মানুষের বিচারের ফয়সালা হওয়া পর্যন্ত। ”সূত্রঃ-তাবরানী , আল মু ’ জামুল কবির , খঃ-৩ , পৃঃ-৪১ , হাঃ-২৬২৩ ; হায়সামী , মাজমাউয যাওয়ায়েদ , খঃ-৯ , পৃঃ-১৬৯ ; আহমাদ ইবনে হাম্বাল , আল মুসনাদ , খঃ-১ , পৃঃ-১০১ ; বাযযার , আল মুসনাদ , খঃ-৩ , পৃঃ-২৯ , হাঃ-৭৭৯ ; শায়বানী আস সুন্নাহ্ , খঃ-২ , পৃঃ-৫৯৮ , হাঃ-১৩২২ ; ইবনে আসীর উসদুল গাবা , খঃ-৭ , পৃঃ-২২০ ; ইবনে আসাকির তারিখে দামেশ্ক , খঃ-১৩ , পৃঃ-২২৭।
অতএব যদি নাজাত পেতে চাই , তবে আহলে বাইত (আঃ)-দের আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসতে হবে। আল্লাহ্ ও নবীর হুকুম , আহলে বাইত (আঃ)-কে অনুসরণ করতে হবে , যদি অনুসরণ না করি , তবে নিজেকে নাজাত প্রাপ্ত বলে দাবি করা যাবে না এবং যদি আল্লাহ ও নবীর হুকুম না মানি , তবে কোথায় যেতে হবে ?
কালামে পাক আল-কোরআনে এরশাদ হচ্ছে :“ তারা কি একথা জানেনি যে , যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন সেথায় সে অনন্তকাল থাকবে ? এটা বিষম লাঞ্ছনা। ” (সূরা-তওবা , আয়াত-৬৩)
“ যারা আল্লাহকে ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয় , আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়া ও আখরাতে লানত (অভিসম্পাত) করেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তত করে রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি ” । (সূরা-আহযাব , আয়াত-৫৭)
বলে দিন :“ সমান নয় পবিত্র ও অপবিত্র , যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে। সুতরাং ভয় কর আল্লাহকে , হে জ্ঞানবানরা! যেন তোমরা সফলকাম হও ” । (সূরা-মায়দা-আয়াত-১০০)
“ তবে যিনি সত্যের পথ নির্দেশ করেন তিনি আনুগত্যের অধিক হকদার না যাকে পথ না দেখাইলে পথ পায় না স ? তাই তোমাদের কি হলো ? তোমরা কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর ” । (সূরা-ইউনুস , আয়াত-৩৫)
“ আপনার‘ রব ’ -এর কসম! তারা কখনো মোমিন হতে পারবে না। যতক্ষণ না তারা নিজেদের ঝগড়া-বিবাদে আপনাকে বিচারক না মানবে। শুধু এই নয় বরং যা আপনি ফয়সালা করেন তাতে মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয় ” । (সূরা-নিসা , আয়াত-৬৫)
“ যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে অতঃপর যা উত্তম তার অনুসরণ করে এরাই তারা যাদের আল্লাহ্ হেদায়েত করেছেন তারাই বুদ্ধিমান ” । (সূরা-যুমার , আয়াত-১৮)
“ আর যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করে তারাই হবে জাহান্নামী , সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে ” । (সূরা-বাকারা , আয়াত-৩৯)
“ কোন মোমিন মোমেনার এই অধিকার নাই যে , আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন কোন কাজের হুকুম দেয় , যে এ ব্যাপারে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং কেহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে ” । (সূরা-আহযাব , আয়াত-৩৬)
“ অভিশপ্ত হোক মিথ্যাচারীরা , যারা ভুলের মধ্যে উদাসীন রয়েছে” । (সূরা-যারিয়াত , আয়াত-১০-১১)
“ তারাই প্রকৃত মুমিন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না... । ” (সূরা-হুজরাত , আয়াত-১৫)
“ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তমনিভাবে ভয় করতে থাক এবং অবশ্যই প্রকৃত মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। ” (সূরা-আলে ইমরান , আয়াত-১০২)
“ আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন এবং হেদায়েত মানুষের জন্য নাযিল করেছি , কিতাব তা বিস্তারিত বর্ণনা করার পরও যারা তা গোপন করে তাদেরকে আল্লাহ অভিসম্পাত দেন এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীরাও তাদেরকে অভিসম্পাত দেয়। ” (সূরা-বাকারা , আয়াত-১৫৯)
“ তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না। ” (সূরা-বাকারা , আয়াত-৪২)
“ হে মুমিনগণ তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূল-এর আনুগত্য কর এবং তোমরা তোমাদের কর্মফল বিনষ্ট করো না। ” (সূরা-মুহাম্মদ , আয়াত-৩৩)
“ কেহ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করলে তিনি তাকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করবেন , আর সেথাই সে স্থায়ী হবে তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। ” (সূরা-নিসা , আয়াত-১৪)
একটু ভেবে দেখার প্রয়াজন নয় কি ? নবী করিম (সাঃ)-কে মানবেন , অথচ নবী করিম (সাঃ)-এর হুকুম মানবেন না , এটা কি রকম আনুগত্য করা হলো ?“ মহানবী (সাঃ) নির্দেশ করেছেন , আহলে বাইতকে অনুসরণ কর। কিন্তু আমরা আহলে বাইত (আঃ)-কে অনুসরণ করতে নারাজ , এর কারণ কি ?”
“ যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে (নির্দেশ) অমান্য করবে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে। ” (সূরা-জ্বীন , আয়াত-২৩)
রাসূল (সাঃ) আল্লাহর হুকুমে আমাদের আহলে বাইত (আঃ)-কে অনুসরণ করতে বলেছেন , যদি না করি তাহলে নবীর অনুসারী বলে দাবী করা উচিৎ হবে না। কারণঃ- এরশাদ হচ্ছে ,“ রাসূল তোমাদেরকে যা কিছু প্রদান করেন তা গ্রহণ কর আর যা থেকে তোমাদেরকে বিরত থাকতে বলেন তা হতে বিরত থাক এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর আল্লাহ্ তো শাস্তিদানে কঠোর।” (সূরা-হাশর , আয়াত-৭)
আল্লাহ্ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট ও সীমালঙ্ঘনকারীদের আনুগত্য করতে নিষেধ করেছেন , যেমন:“ সীমালঙ্ঘনকারীদের আনুগত্য করো না। ” (সূরা-শূআরা , আয়াত-১৫১)
“ যারা আগ পথভ্রষ্ট ছিল ও অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো না।” (সূরা-মায়দা , আয়াত-৭৭)
এত দলিল প্রমাণ দেখার পরও অনেককে এমন পাওয়া যায় , যারা আহলে বাইত (আঃ)-কে মুখে মানেন , বলেন যে , হ্যাঁ আহলে বাইত (আঃ) -কে মানতে হবে , না মানলে চলবে না। কিন্তু“ যখন মহানবী (সাঃ)-এর নির্দেশ , আহলে বাইতকে অনুসরণ করার কথা বলা হয় , তখন তারা বলেন , অনুসরণ তো তাদেরই করবো , যার উপর আমাদের বাপ-দাদাগণকে পেয়েছি!!!”
এরশাদ হচ্ছে ,“ আর যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা তাঁর অনুসরণ কর যা আল্লাহ্ নাযিল করেছেন। তখন তারা বলে বরং আমরা তো তার অনুসরণ করবো যার উপর আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। যদিও শয়তান তাদেরকে জাহান্নামর দিকে ডাকতে থাকে তবুও কি ? (সূরা-লোকমান , আয়াত-২১)
আরো এরশাদ হচ্ছে ,“ আর যখন কেউ তাদেরকে বলে আল্লাহর প্রেরিত নির্দেশ অনুযায়ী চল , তখন তারা বলে , বরং আমরা ঐ পথেই চলবো যাতে আমাদের বাপ-দাদাগণকে পেয়েছি , যদিও তাদের বাপ-দাদারা কোন জ্ঞানই রাখতো না এবং হেদায়েত প্রাপ্তও ছিল না। (তবওু ) ?” (সূরা-বাকারা , আয়াত-১৭০)
“ লোকেরা বলে যে , আমরা ঈমান এনেছি , আপনি বলে দিন যে তোমরা ঈমান তো আননি বরং তোমরা বল আমরা আত্মসমর্পণ করেছি কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। ” (সূরা-হুজরাত , আয়াত-১৪)
রাসূল (সাঃ) পূর্বই সাবধান বাণী উচ্চারণ করেছেন ,“ যারা আহলে বাইত (আঃ)-গণকে অনুসরণ করবে না , তাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করবে না। তাই সত্যিকারের ঈমানদার ও মুমিন হতে হলে , আমাদের আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ)-এর মনোনীত আহলে বাইত (আঃ)-দের অনুসরণ করতে হবে। তবেই সত্যিকারের ঈমানদার বলে দাবী করা যাবে ” ।
কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে বর্তমানে আহলে বাইতের চর্চা নেই বললেই চলে অল্প সংখ্যক ব্যতীত।“ আর যারা আহলে বাইতের চর্চা করেন না , তারা মূলত রাজা-বাদশাদের রাজতন্ত্রে বিশ্বাসী অথচ ইসলামে গণতন্ত্র ও রাজতন্ত্রের কোন স্থান নই। ” এবং রাজা-বাদশাদের স্বভাব সম্পর্কে এরশাদ হচ্ছে:
“ রাজা-বাদশারা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে তখন তারা সে জনপদকে বিনাশ করে দেয় এবং সেখানকার সম্মানিত অধিবাসীদের অপদস্ত করে এবং এরাও এরূপই করবে । ” (সূরা-নামল , আয়াত-৩৪)
আরো এরশাদ হচ্ছে ,“ আর আপনি যদি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথা মেনে চলেন , তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং মনগড়া কথা বলে ” । (সূরা-আনআম আয়াত-১১৬)
এরশাদ হচ্ছে ,“ তাদের যখন বলা হয় আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে এসো তখন মুনাফিকদেরকে আপনি আপনার নিকট হতে মুখ একেবারেই ফিরিয়ে নিতে দেখবেন ” । (সূরা-নিসা , আয়াত-৬১)
“ বল , তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমাকে (রাসূলকে) ভালোবাস আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। ” (সূরা-আলে ইমরান , আয়াত-৩১)
“ যেদিন তাদের চেহারা দোযখের আগুনের মধ্যে উলট -পালট করা হবে। সেদিন তারা বলবে হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম রাসূলের আনুগত্য করতাম তারা আরো বলবে , হে আমাদের রব আমরা তো আনুগত্য করেছিলাম আমাদের (নির্বাচিত) নেতাদের এবং আমাদের (নির্বাচিত) প্রধানদের। অতএব তারাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিলো । ” (সূরা-আহযাব , আয়াত-৬৬-৬৭)
মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেন ,“ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে যাকে ভালোবাসবে বা অনুসরণ করবে তার সাথে তার হাশর হবে ” ।সূত্রঃ-সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৭ , হাঃ-৬৪৭০ , ( ই , ফাঃ) ; সহীহ্ তিরমীজি , ( সকল খণ্ড একত্রে) পৃঃ-৭২৮ , হাঃ-২৩৪০ (তাজ কোং) ।
হযরত রাসূল (সাঃ) বলেন ,“ (শেষ বিচারের দিবসে) আমার শাফায়াত হবে মুসলিম উন্মাহর মধ্যে তাদের জন্য যারা আমার আহলে বাইতকে (অনুসরণ) মহব্বত করবে ” ।সূত্রঃ- খতীব বাগদাদী , তারিখ বাগদাদ , খঃ -২ , পৃঃ-১৪৬ ; হিন্দী , কানযুল উন্মাল , খঃ-৬ , পৃঃ-২১৭ ; সূয়ুতি ইয়াহইয়া আল মাইয়্যিত , পৃঃ-৩৭ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৬৬ , ৫৮১ (উর্দ্দু)।
হযরত রাসূল (সাঃ) ইমাম হাসান- হোসাইনের হাত ধরে বললেন ,“ যে ব্যক্তি আমাকে এবং এই দু‘ জনকে (হাসান-হোসাইন)-কে ভালোবাসবে সাথে সাথে তাঁদের পিতা-মাতাকে (আলী ও ফাতেমা) কে ভালোবাসবে সে কিয়ামত দিবসে আমার সাথেই থাকবে ” ।সূত্রঃ- জামে আত তিরমিযী , খঃ-৬ , পৃঃ-৩৩১ , হাঃ-৩৬৭০ , ( ইঃ , সঃ) ; তিরমিযী , আল-জামেউস সহীহ্ , খঃ-৫ , পৃঃ-৬৪১ , হাঃ-৩৭৩৩ ; আহমদ ইবনে হাম্বাল , আল মুসনাদ , খঃ-১ , পৃঃ-৭৭ , হাঃ-৫৭৬ ; আহম্মদ ইবনে হাম্বাল-ফাযায়িলুস সাহাবা , খঃ-২ , পৃঃ-৬৯৩ , হাঃ-১১৮৫ ; তাবরানী-আল মু ’ জামুল কবির , খঃ-৩ , পৃঃ-৫০ , হাঃ-২৬৫৪।
পাঠকদের বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন ? তাহলে“ আমরা রাসূল (সাঃ)-এর রক্তে-মাংসের গড়া , জান্নাতের সরদারদের আহলে বাইত (আঃ)-গণকে ছেড়ে অন্যদেরকে কেন অনুসরণ করবো ?”
আর যারা চক্ষু , কর্ণ ও অন্তরকে কাজে লাগায় না তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন।
“ আমি সৃষ্টি করেছি , দোযেখের জন্য বহু জ্বীন ও মানুষকে । তাদের অন্তর(বিবেক) রয়েছে তা দ্বারা তার (সত্য) বিবেচনা করে না , তাদের চোখ রয়েছে তার দ্বারা তারা (সত্য) দেখে না , তাদের কান রয়েছে তার দ্বারা (সত্য) শ্রবণ করে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত , বরং তাদের চেয়েও নি কৃষ্টতম ” । (সূরা-আরাফ , আয়াত-১৭৯)
কোরআনে মানুষকে বাস্তবধর্মী হবার এবং সত্যের অনুসরণ করার দাওয়াত দেয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে বার বার উপদেশ ও নসীহত প্রদান করছে , এবং বিভিন্ন বর্ণনা ও উদাহরণের মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ প্রদান করছে , যাতে তাদের মধ্যে সত্যের অন্বেষণ ও অনুসরণের ক্ষমতাকে সতেজ রাখে , কিন্তু অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে , মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন:‘ তাদের অধিকাংশই অনুমানের অনুসরণ করে চলে। সত্যের ব্যাপারে অনুমান কোন কাজেই আসে না ’ । সূরা-ইউনুস , আয়াত-৩৬।
মহান আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন ,“ সত্য ত্যাগ করার পর বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কি থাকতে পারে” । সূরা-ইউনুস , আয়াত-৩২
আরো এরশাদ হচ্ছে-“ কসম যুগের , অবশ্যই (সকল) মানুষ রয়েছে ভীষণ ক্ষতির মধ্যে , কিন্তু তারা নয় , যারা ঈমানদার ও সৎকর্মপরায়ণ এবং পরস্পরকে সত্যের (হকের) উপদেশ দেয় ও ধৈর্য্যের উপদশ দেয় ” । (সূরা-আসর , আয়াত-১-৩)
আরো এরশাদ হচ্ছে-“ আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং পরস্পরে ঝগড়া-বিবাদ করো না। অন্যথায় তোমাদের মধ্যে দুর্বলতার সৃষ্টি হবে এবং তোমাদের প্রতিপত্তি খতম হয়ে যাবে। ধৈর্য্য সহকারে সব কাজ আঞ্জাম দিবে। নিশ্চয় আল্লাহ্ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। ” (সূরা আনফাল , আয়াত-৪৬)
আরো এরশাদ হচ্ছে-“ আর তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমান আসার পরও। তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। ” (সূরা আলে ইমরান , আয়াত-১০৫)
উপসংহার
“ যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে অতঃপর যা উত্তম তার অনুসরণ করে এরাই তারা যাদের আল্লাহ্ হেদায়েত করেছেন তারাই বুদ্ধিমান ” । (সূরা-যুমার , আয়াত-১৮)
এ ধরণের ঐশী উপদেশসমূহ এ জন্য যে , মানুষ যদি তার বিবেক শক্তিকে সতেজ না রাখে এবং সত্যের অনুসরণের চেষ্টা না করে , তাহলে কল্যাণ লাভ করতে পারে না ও কৃতকার্য হতে পারে না। বরং সে ছলচাতুরী ও তোষামোদপূর্ণ কথাবার্তা ও কাজকর্মে লিপ্ত থাকে এবং অর্থহীন ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন চিন্তায় লিপ্ত হয়। মানুষ তখন সঠিক পথ থেকে বহু দূরে সরে পড়ে , কুপ্রবৃত্তির শিকার হয় এবং অজ্ঞতার জালে আটকা পড়ে যায়। কাজেই মানুষের সত্যান্বেষী বিবকশক্তি যদি মানুষের মাঝে জীবিত থাকে এবং সত্য অনুসরণের অভ্যাস তার মধ্যে স্বক্রিয় হয় উঠে তখন তার সামনে সত্যসমূহ একটির পর একটি উদ্ভাসিত হতে থাকে এবং প্রতিটি সত্যকে সে স্বাগত জানায় ও প্রতিদিনই কল্যাণ ও সৌভাগ্যের পথে এক ধাপ করে এগিয়ে যায়। সুতরাং আজকের মুক্তচিন্তার মানুষগণ যখন এ মহাসত্য“ আহলে বাইতের ফজিলত ” জানবেন , তখন আশা করা যায় , তারাও সকল সংকীর্ণতা ঝেড়ে মুছে ফেলে ,“ আহলে বাইতের নাজাতের তরীতে ” আশ্রয় নেবেন। এবং আজকের যুগে জ্ঞানার্জন এর প্রদীপ জ্বেলে , যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আহলে বাইতের ফজিলতকে প্রচার করার কাজে গবেষণা করে যাচ্ছেন। তাদের জন্য“ যাজাক আল্লাহ্ খেইর ” তাত আশা করা যায় ,“ মহানবী (সাঃ)-এর ইতরাত , আহলে বাইতের ফজিলত ” গোপনকারীদের ব্যবসা আর বশি দিন চলবে না।
যারা সত্যকে জেনেও প্রত্যাখ্যান করেন , তাদের পরিনাম ফল ধ্বংস ছাড়া আর কি হতে পারে ? যতই চেষ্টা করা হোক না কেন , সত্যকে মিথ্যার সিন্দুকে আটকিয়ে রাখা যায় না। সত্য আপন মহিমায় প্রকাশিত হবেই।
তাই নবী করিম (সাঃ)- এর আনুগত্যের পাশাপাশি তার সকল আদেশ নিষেধ উপদেশ মান্য করতে হবে। নচেৎ প্রকৃত ও পরিপূর্ণ মুমিন হওয়া যাবে না। বরং পথভ্রষ্ট হতে হবে। অতএব , মুমিন হতে হলে , পুলসিরাত অতিক্রম করতে হলে এবং জান্নাতে যেতে হলে জান্নাতের সর্দারদের আহলে বাইতদের“ আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসেইন ” (আঃ)-কে জানতে হবে এবং তাদেরকে আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসতে হবে তাহলেই নিশ্চিত নাজাত। পরিশষ এটাই বলতে চাই , আল্লাহ তায়ালা আমাদের যে অবকাশ দিয়েছেন তা ফুরিয়ে যাবার আগেই , বিবেককে জাগ্রত করুন। দেখুন! বিচার করুন!! এবং সিদ্ধান্ত নিন!!!
“ কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা” ।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা , আল্লাহ যেন সকলকে“ সিরাতে মুস্তাকিমের ” সত্য পথ বুঝার ও“ সিরাতে মুস্তাকিমের ” সত্য পথে চলবার তৌফিক দেন- আমিন।
সূচীপত্রঃ
আহলে বাইত-এর নামের পাশে “ আলাইহিস সালাম ” ( আঃ) কেন ? ৫
আল্লাহ রাসূলে এবং উলিল আমরের আনুগত্য ১১
পাক-পাঞ্জাতনের উসিলায় হযরত আদম (আঃ)-এর দোয়া কবুল হয়েছিল! ১৭
মানব জাতির আমলের সাক্ষ্য ১৭
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ)-ই আল্লাহ পাকের মজবুত রজ্জু বা রশি ২২
আল্লাহ্ ধরার বুকে কিছু সংখ্যক গৃহকে সম্মানিত করে তাঁর বান্দাকে তাঁর পবিত্রতার গুণ কীর্তন করার নির্দেশ দান করেছেন ২৪
আহলে বাইত - এর মুয়াদ্দাত ও অনুসরণ ফরজ ২৬
সিরাতে মুস্তাকিম বলতে কাঁদের পথকে বুঝানো হয়েছে ?৩৪
হাদীসে সাকালাইন দু ‘ টি ভারী বস্তুর হাদীস ৩৪
মহানবী (সাঃ)-এর শাফায়াত যাদের জন্য হারাম ৩৯
আহলে বাইত (আঃ)-এর সাথে বিদ্বেষ পোষণকারীর হাশর ইহুদিদের সাথে হবে ৩৯
আহলে বাইত (আঃ)-এর অনুসরণ ব্যতিত ঈমানদার হওয়া যাবে না ৪০
আহলে বাইত (আঃ)-এর অমান্যকারীদের হাউজে কাউসারে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় বিতাড়িত করে দেয়া হবে ৪১
আহলে বাইত (আঃ)-ই জান্নাত ও জাহান্নামের বণ্টনকারী ৪১
আহলে বাইত (আঃ)-এর ভালোবাসা ও অনুসরণ ,সাতটি কঠিন স্থানে কাজে আসবে ৪২
হযরত ফাতেমা (আঃ) জান্নাতের সকল মহিলাদের নেত্রী ও ইমাম হাসান-হোসাইন (আঃ) সমস্ত জান্নাতি যুবকদের সরদার ৪২
আহলে বাইত (আঃ)-এর অত্যাচারীদের উপর জান্নাত হারাম ৪৩
আহলে বাইত (আঃ)-এর শক্র মুনাফিক ৪৩
আহলে বাইত (আঃ)-গণই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা ৪৩
আহলে বাইত (আঃ)-এর (আনুগত্যপূর্ণ) ভালোবাসা , নবীজির ভালোবাসা , নবীজির ভালোবাসা , আল্লাহর ভালোবাসা। ৪৪
কিয়ামতের দিন , আহলে বাইত (আঃ) ও তাঁদের আশেকরা আল্লাহর আরশের নিচে একই স্থানে থাকবেন ৪৫
উপসংহার ৫২