একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন
সংকলন ও অনুবাদ
মীর আশরাফ - উল - আলম
একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন
সংকলন ও অনুবাদ : মীর আশরাফ-উল-আলম ।
সম্পাদনা : আবুল কাসেম মোঃ আনওয়ার ।
প্রকাশনায় : আল মুস্তাফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় , কোম-ইরান ।
প্রকাশকাল : 1429 হিঃ , 1415 বাং , 2008 খ্রীঃ ।
মুদ্রণে : আল মুস্তাফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রেস ।
Akjon Muslim Narir Abossoi Za Jana Proozon
( Must Knowing For Muslim Woman)
Collected & Translated by: Mir Ashraf-ul-Alam.
Published by: Al-Mustafa International Univercity, Qum-I.R.Iran.
প্রকাশকের কথা
) مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً(
যে ব্যক্তি নেক কাজ আঞ্জাম দিবে , সে পুরুষই হোক অথবা নারীই হোক এবং যদি সে ঈমানদার হয় তবে তাকে এক প্রশান্তিময় জীবন দান করব ।1
সেই প্রাচীন কাল থেকেই নারী বিষয়টি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ মহলে এবং চিন্তাবিদগণের আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে পরিগণিত হয়েছে । সাথে সাথে প্রসিদ্ধ লেখক ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রদানকারীগণও এ বিষয়ের উপর বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন । আর তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে এ বিষয়সম্পর্কে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকরেছেন , যা বিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ইতিহাস অধ্যয়ন করলে দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকে । যেহেতু এ গুলোর মধ্যে ইসলাম পরিপূর্ণ একটি দ্বীন তাই মানুষ ও তার অধিকার , দায়িত্ব ইত্যাদির প্রতি গভির নজর রেখে ; নারীর স্থান ও মর্যাদার বিষয়টিকে বিশেষ ব্যাখ্যা - বিশ্লেষণ ও আলোচনা - পর্যালোচনায় স্থান দিয়েছে । আর নারী সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও গঠনগত তারতম্যের উপর দৃষ্টি রেখেই তার অধিকার বর্ণনা করেছে । যা কোন প্রকার পক্ষপাতিত্ব না করেই গভির দৃষ্টির আলোকে অবশ্যই বলতে হয় : ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীনেই এরূপে নিখুঁতভাবে নারীর অধিকার সম্পর্কে র্বণনা এবং তার শান ও মর্যাদায় নিরাপত্তা দেয়া হয় নি ।
কেননা , আমরা দেখতে পাই যে ; ইসলাম ধর্ম আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত সারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নারীর সাথে অশোভনীয় আচারণ করা হত এবং সর্বনিম্ন সমাজিক অধিকারটুকুও তাকে দেয়া হত না । ঠিক এমনই বিষাক্ত এক পরিবেশে রাসূলে আকরাম (সা.) নারীর উচ্চ শান ও মর্যাদাকে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরলেন এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রক্রিয়ার প্রতি দৃষ্টি রেখেই আইন প্রণয়ন করেলন । কিন্তু অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে ,
এখনো পর্যন্ত এ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে এমন সব উক্তি শোনা যায় যার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে এটা ফুটে ওঠে যে ; তারা নারীর শান ও মর্যাদা সম্পর্কে ইসলামের দেয়া দর্শন বুঝে উঠতে পারে নি ।
তাই বিশ্ব ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রে ( ইসলামী দর্শন ও ইরাফন শাস্ত্রে ) অধ্যয়নরত গবেষক ও চিন্তাবিদ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মীর আশরাফ - উল - আলম বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে“ একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন” নামে বর্তমান বইটি সংকলন ও বাংলা ভাষায় রূপান্তর করেছেন । আমরা তাকে এবং যারা বইটি প্রকাশে বিশেষ ভুমিকা রেখেছেন সকলকেই আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি । আর আশা করি বইটি অধ্যয়ন করে পাঠক মহল বিশেষ উপকৃত এবং ইসলামের দেয়া নারীর প্রকৃত ও উপযুক্ত স্থান , মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে অবগত হবেন ।
গবেষণা বিভাগ ,
বিশ্ব ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র , কোন - ইরান ;
23 রমযানুল মুবারাক , 1427 হিজরী ।
দুটি কথা
সম্মানিত পাঠক-পাঠিকাবৃন্দ ,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ ।
বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই এই বইটি সংকলন ও বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে । কারণ এক শ্রেণীর পুজিবাদী , দ্বীনহীন , পাপাচারী ও দুনিয়া প্রেমী ব্যক্তি তাদের স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে বিশ্বের নারী সমাজকে দিনের পর দিন উচ্ছৃঙ্খলতা ও বেহায়াপনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং তারা এটাকে নারী স্বাধীনতা বলে প্রচার চালাচ্ছে ।
অবশ্য আমাদের এ লেখনিটি বিশ্বের সমগ্র নারী সমাজকে নিয়ে নয় বরং মুসলিম নারী সমাজের প্রতিই আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে । কারণ ইসলামই সর্ব প্রথম ধর্ম যা নারী সমাজকে দিয়েছে পরিপূর্ণ মর্যাদা ও স্বাধীনতা । এটা অবশ্যই বোঝা প্রয়োজন যে , ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা ও স্বাধীনতা দিয়েছে তার সাথে বর্তমানে নারী মর্যাদা ও স্বাধীনতার নামে যে লজ্জাহীনতা ও অসভ্যতার চর্চা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে বিশাল ব্যবধান । আমরা বিশ্বাস করি যে , ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মই নারীকে উপযুক্ত মর্যাদা ও স্বাধীনতা প্রদান করে নি বা করতে পারবেও না ।
ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও তার অধিকারসমূহ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ( যা দ্বীনের আহ্কামে লিপিবদ্ধ রয়েছে ) যে ,“ তার ব্যক্তিত্ব হচ্ছে আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’ য়ালার হকের শামিল না মানুষের । আর তাকে কোন প্রকার অপমান করা কারো জন্যে বৈধ নয় এবং সকলের উচিত তার মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ।”
ইসলাম নারীর মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব রক্ষায় সদা-সচেষ্ট । তাই যদি কেউ কোন নারীর ব্যক্তিত্বহানী করে বা সম্ভ্রমহানী ঘটায় তবে অবশ্যই ঐ ব্যক্তি শাস্তিপ্রাপ্ত (হদ প্রাপ্ত) হবে এবং তা কোন প্রকারেই লংঘনীয় নয় । না তার স্বামীর সম্মতিক্রমে আর না তার নিজের । কেননা , তার ব্যক্তিত্ব বা সম্ভ্রম হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু তা’ য়ালার হকের শামিল । এটা অর্থ বা মালামাল নয় যে , যদি তা চুরি হয়ে থাকে তবে চুরিকৃত অর্থ বা মালের মালিক সন্তুষ্টি মুলক সম্মতি দিলেই চোর শাস্তিভোগ করা থেকে রেহাই পেয়ে যাবে । কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে , পশ্চিমা সমাজে নারীর ব্যাক্তিত্ব বা সম্ভ্রমকে অনুরূপ পণ্যের ন্যায় মনে করা হচ্ছে । তাই সেখানকার সম্ভ্রমহীন নারীর বা তার স্বামীর সন্তুষ্টি মুলক সম্মতিতে অপরাধী অব্যহতি পেয়ে যাচ্ছে । ঠিক যেমনটি সেই জাহেলিয়াতের যুগে হত । কিন্তু ইসলাম আসাতে সমাজে জাহেলিয়াতের কোন স্থান নেই , তা পুরাতন বা নুতনই হোক না কেন । যেরূপে পবিত্র কোরআন বলছে :
﴿ قُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ﴾
“ বল : হক এসেছে আর বাতিলের না সূচনা হবে আর না পুনরাবৃত্তি ।” 2
নারী সমাজকে ইসলাম যে স্বাধীনতা বা মর্যাদা দান করেছে সে সম্পর্কে বর্তমান নারী সমাজের অজ্ঞতার মূল কারণ হচ্ছে আমাদের মত কিছু আলেম যারা লেখা-লেখি করি তারা এই বিষয়টিকে সুন্দর ও সঠিকভাবে নারী সমাজের সামনে তুলে ধরতে পারি নি । ইসলাম নারীকে যে প্রকৃত স্বাধীনতা ও মর্যাদা দিয়েছে তা যদি আমরা তাদের সামনে উপযুক্ত ভাবে তুলে ধরতে পারতাম তাহলে আজ এই লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না । তবুও দেরি হলেও সময় ফুরিয়ে যায় নি , এখনো সম্ভব আমাদের সন্তানদেরকে উপযুক্ত ইসলামী দিক-নির্দেশনায় গড়ে তোলা । কেননা , যখনই ক্ষতির পথরোধ করতে পারব তখনই লাভ শুরু হবে ।
যদিও সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করতে পারিনি তবুও আশা করছি এ সংকলনে ইসলামে নারীর মর্যাদা ও স্বাধীনতার বিষয়টি সার্বিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছি । ইনশাআল্লাহ আগামীতে আমরা এ ধরনের আরো লেখনি প্রকাশ করে সমাজ জীবনে ইসলামের সঠিক নির্দেশাবলী আপনাদের মত সচেতন পাঠক মহলে পৌঁছে দেয়ার সর্বোপরি চেষ্টা করব ।
এই সংকলনটি নারী সমাজকে নিয়ে রচিত হয়েছে তার অর্থ এই নয় যে , সমস্তনিয়ম-কানুন ও বাধ্য-বাধকতা শুধুমাত্র নারীদের জন্যেই । ইসলামে নারীর ব্যাপারে যেভাবে নিয়ম-কানুন ও বাধ্য-বাধকতা এসেছে পুরুষের জন্যও রয়েছে অনুরূপ নিয়ম-কানুন ও বাধ্য-বাধকতা । তবে যেহেতু বর্তমান বিশ্বে নৈতিকতাকে নষ্ট করার ক্ষেত্রে নারীকেই ব্যবহার করা হচ্ছে , তাই প্রথমে নারী নিয়েই এ সংকলনের প্রকাশ । আগামীতে পুরুয়ের ব্যাপারেও অনুরূপ সংকলন প্রকাশ করার চেষ্টা করব ইন্শাআল্লাহ তা’ য়ালা ।
এই বইটির জন্য অনেকেই আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন , তাদের অনুপ্রেরণাই আমাকে সাতটি অধ্যায়ে এ বইটি সংকলিত ও অনুদিত করতে শক্তি যুগিয়েছে । আর বইটি সম্পাদনা ও প্রকাশে যারা ভূমিকা পালন করেছেন তাদের জন্য মহান আল্লাহ তা’ য়ালার দরবারে উত্তম পুরস্কার কামনা করছি ।
প্রিয় পাঠক মহল আশা করি বইটি অধ্যয়ন করে উপকৃত হবেন । আর আপনারা উপকৃত হলেই আমাদের শ্রম সার্থক হবে । বইটি অধ্যয়নে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে আমাদেরকে জানাতে দ্বিধাবোধ করবেন না । আপনাদের দিক-নির্দেশনা পেলে আমরা আমাদের কাজে আরো অনুপ্রেরণা পাব ।
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্
( رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ)
মীর আশরাফ-উল-আলম
তৌহিদী ব্যবস্থার দৃষ্টিতে নারী সমাজ দু’ শ্রেণীতে বিভক্ত
প্রথম শ্রেণী
যে সকল নারী আল্লাহর নির্দেশ ও নীতিমালাকে নিজেদের জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন , তাদের ব্যাপারে পবিত্র কোরআন , মহানবী (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের ইমামগণ (আ.) -এর হাদীসসমূহে প্রশংসামূলক বাণী উচ্চারিত হয়েছে । এখন এ পর্যায়ে আমরা সংক্ষিপ্তাকারে আপনাদের সামনে উক্ত আয়াত ও রেওয়ায়েতসমূহকে তুলে ধরার চেষ্টা করব ।
1- পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা
) إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّـهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّـهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا(
“ নিশ্চয়ই মুসলমান পুরুষ ও মুসলমান নারী , ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী , অনুগত পুরুষ ও নারী , ইবাদতকারী পুরুষ ও নারী , সত্যবাদী পুরুষ ও নারী , ধৈর্য্যশীল পুরুষ ও নারী , খোদাভীরুপুরুষ ও নারী , ছদকা দানকারী পুরুষ ও নারী , রোযাদার পুরুষ ও নারিগণ এবং যে সকল পুরুষ ও নারী তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং যে সকল পুরুষ ও নারী আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে , তাদের সকলের জন্যেই আল্লাহ তা’ য়ালার কাছে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার” ।3
এই পবিত্র আয়াতে , পুরুষ ও নারীকে পাশা-পাশি উল্লেখ করা হয়েছে । আল্লাহ্ তা’ য়ালা পুরস্কার দান ও ক্ষমা করার ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করেন নি ।
) يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّـهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّـهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ(
হে মানব সকল! আমরা তোমাদের সকলকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি এ কারণে যে , তোমরা যেন একে অপরকে চিনতে পার (এবং বুঝতে পার বংশ ও গোত্র কোন গর্বের বিষয় নয়) । তোমাদের মধ্যে সেই আল্লাহর কাছে অধিক উত্তম যে অন্যের থেকে বেশী তাকওয়াসম্পন্ন । নিশ্চয়ই আল্লাহ্ জ্ঞানী এবং মানুষের ভাল ও মন্দ কাজের বিষয়ে সম্যক অবগত আছেন ।4
এই পবিত্র আয়াতেও আল্লাহ তা ’ য়ালা পুরুষ ও নারী সৃষ্টির উদ্দেশ্য তাঁর ও একক , পবিত্র সত্তাকে উত্তমরূপে জানা বলে উল্লেখ করেছেন । আর বংশ , ক্ষমতা , ধন-দৌলত , জ্ঞান , রং , ভাষা ও ভৌগলিকতার (আমেরিকা , ইউরোপ , এশিয়া ইত্যাদি) ভিত্তিতে আল্লাহ মানুষের মর্যাদাকে নির্ধারণ করেন নি বরং আল্লাহর কাছে উত্তম বস্তু হচ্ছে তাকওয়া , আর তাকওয়ার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে মেনে চলা ।
) مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ(
“ পুরুষ ও নারীদের মধ্য থেকে যারাই ঈমান আনবে এবং উত্তম কাজ আঞ্জাম দিবে , তাদেরকে আমরা পবিত্র জীবন দান করবো এবং তাদের কাজের তুলনায় উত্তম পুরস্কার দান করব” ।5
এই আয়াতেও আল্লাহ্ তা’ য়ালা উত্তম কাজের বিনিময় স্বরূপ পুরস্কার ও সওয়াব দানের অঙ্গীকার করেছেন , আর সৎকর্ম সম্পাদনকারী পুরুষই হোক অথবা নারী হোক কোন পার্থক্য করেন নি বরং যে কোন বান্দাই এই ভাল কাজ আঞ্জাম দিবে আল্লাহ তা’ য়ালা তাকেই এই পুরস্কারে পুরস্কৃত করবেন ।
) وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ(
“ আল্লাহ্ তা’ য়ালার নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি হচ্ছে যে , তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে সহধর্মিনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন যাতে করে তাদের সান্নিধ্যে প্রশান্তি অনুভব করতে পার , আর তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও রহমতকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন । এ সব কিছুই হচ্ছে নিদর্শন তাদের জন্য যারা চিন্তা করে ।” 6
এই পবিত্র আয়াতেও আল্লাহ তা’ য়ালা নারী সৃষ্টিকে তাঁর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পেশ করেছেন । তিনি উল্লেখ করেছেন যে , নারীরা হচ্ছে ভালবাসা , রহমত ও প্রশান্তির কারণ । বিশিষ্ট মুফাসসির আল্লামা তাবাতাবাই (রহ:) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন , পুরুষ ও নারী এমনই এক সৃষ্টি একে অপরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ফলে যারা উভয়ই পূর্ণতা অর্জন করে এবং এ দু’ য়ের মিলনের মাধ্যমে মানব জাতির বংশ বিস্তার ঘটে থাকে , আর তারা একজন অপরজন ছাড়া অসম্পূর্ণ ।
আল্লাহ্ তা’ য়ালা এই আয়াতের শেষে বলছেন : এই বিষয়টি তাদের জন্য নিদর্শন যারা চিন্তা করে বা যারা বিবেক সম্পন্ন । তারা এর মাধ্যমে বুঝতে পারবে যে , পুরুষ ও নারী একে অপরের পরিপূরক । আর নারীই একটি পরিবারকে সতেজ ও উদ্যমী করে রাখে এবং এর সদস্যদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে । যে কারণে পুরুষ ও নারী শুভ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তা হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত ভালবাসা ও রহমত । শুধুমাত্র দৈহিক চাহিদার কারণেই তারা এ বন্ধনে আবদ্ধ হয় না ।
কিন্তু পুরুষ ও নারীর বন্ধনের মধ্যে দু’ টি দিক বিদ্যমান । তার একটি হচ্ছে ঐশী ও ভালবাসার দিক অপরটি হচ্ছে পাশবিক দিক । তবে মানুষ তার ঐ ঐশী ও ভালবাসার বোধের মাধ্যমেই পূর্ণতায় পৌঁছে থাকে ।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা বিশেষ প্রয়োজন বলে মনে করছি তা হচ্ছে , অনেক মুফাসসির উল্লিখিত আয়াত ও এ ধরনের আরো কিছু আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে , নারী পুরুষের শরীরের অংশ । কেননা তাদেরকে পুরুষের শরীরের অংশ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে । আর এই ধরনের তফসিরের ফলে অনেক সুবিধাবাদী পুরুষ , নারীদেরকে তাদের থেকে নিম্ন পর্যায়ের মনে করে থাকেন যা নারীর জন্যে একটি অপমান জনক বিষয় । এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত আয়াতসমূহকে তারা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন :
) يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً(
হে মানব সকল ! তোমাদের পরওয়ারদিগারকে ভয় কর । যিনি তোমাদেরকে একক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন । আর তা থেকে তার সহধর্মিণীকেও এবং ঐ দু’ জন থেকে অনেক পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন ।7
) هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا(
তিনিই তোমাদেরকে একক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রী ।8
) خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا(
তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃি ষ্ট করেছেন এবং তা থেকে তার স্ত্রীকেও ।9
) وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا(
আর এটা তাঁর নিদর্শনমূহের নমুনা স্বরূপ যে , তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সহধর্মিণী সৃষ্টি করেছেন ।10
) وَاللَّـهُ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُم مِّنْ أَزْوَاجِكُم بَنِينَ وَحَفَدَةً(
আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রী নির্দিষ্ট করেছেন এবং তোমাদের স্ত্রীদের থেকে সন্তান ও পৌত্রদের সৃষ্টি করেছেন ।11
) جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا(
তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন ।12
বাহ্যিকভাবে দেখা যায় যে , প্রথম তিনটি আয়াতে বলা হয়েছে সমস্ত মানুষ একটি নফস (সত্তা) থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের স্ত্রীগণও ঐ নফস থেকেই সৃষ্টি হয়েছে ।
কিন্তু পরের তিনটি আয়াতে উক্ত বিষয়টিকে সমস্তপুরুষের প্রতি ইশারা করে বলা হচ্ছে যে , তোমাদের স্ত্রীগণকে তোমাদের থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে । যদি আমরা একটুখানি এই বিষয়ের প্রতি গভীর দৃষ্টি দেই তবে এটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে , এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তা’ য়ালা এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে , তাদের স্ত্রীগণ উৎসের দৃষ্টিতে তাদেরই প্রকৃতির , অন্য প্রকৃতির নয় । এটা নিশ্চয় বুঝাতে চাননি যে , স্ত্রীগণ তাদের দেহের অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে । যদি তাই হয়ে থাকে তবে বলতে হয় যে , প্রতিটি স্ত্রীই তার স্বামীর দেহের অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে । পরবর্তী তিনটি আয়াত প্রথম তিনটি আয়াতকে ব্যাখ্যা করেছে , যাতে করে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায় ।
আল্লামা তাবাতাবাই এই আয়াতের তফসিরে বলেছেন :‘ ওয়া খালাকা মিনহা যাওজাহা’ আয়াতের বাহ্যিক অর্থ হচ্ছে যে , স্ত্রীদের পুরুষের প্রকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাদের উভয়েরই সৃষ্টির উৎস হচ্ছে এক ।
এই আয়াতে‘ মিন’ শব্দটি উৎস বর্ণনা অর্থে এসেছে অর্থাৎ এখানে‘ মিন’ কোন কিছু সৃষ্টির উৎসকে বর্ণনা করছে । এই আয়াতটি অন্যান্য আয়াতের মতই পুরুষ ও নারীর সৃষ্টির উৎস বর্ণনা করেছে , যা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে ।
অতএব , এটা আমাদের কাছে পরিস্কার এবং বিভিন্ন তফসির গ্রন্থের ভাষ্য অনুযায়ী যে বলা হয়ে থাকে আল্লাহ তা’ য়ালা নারীকে পুরুষের বাম পাজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে দলিলহীন উক্তি । 13
উপরোল্লিখিত ভ্রান্ত ধারণাটির পক্ষে রয়েছেন আহলে সুন্নাতের মুফাসসিরগণ যেমন : ওয়াহ্বাহ্ যুহাইলী এবং ফাখরুদ্দীন রাযি তারা তাদের নিজ নিজ গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন ও গ্রহণ করেছেন ।
সুতরাং কোরআনের আয়াত থেকে আমাদের কাছে যা প্রমাণিত হয়েছে তা হচ্ছে , পবিত্র কোরআন পুরুষ ও নারী সৃষ্টির উৎসগত আলোচনা করেছে এবং তাদের মধ্যকার সাদৃশ্যকে তুলে ধরেছে । এর পক্ষে আমাদের আরো জোরাল যুক্তি রয়েছে যা নিম্নরূপ :
ইমাম সাদিক (আ.)-এর কাছে প্রশ্ন করা হল যে ,‘ একদল লোক বলে হযরত হাওয়াকে হযরত আদমের বাম পাজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে ’ এ ব্যাপারে আপনার মত কি ?
তিনি বললেন : আল্লাহ তা’ য়ালা এমন ধরনের কাজ করা থেকে পবিত্র । এরপর তিনি তাদেরকে পাল্টা প্রশ্ন করে বললেন : আল্লাহর কি ক্ষমতা ছিল না যে , হযরত আদমের জন্য স্ত্রী সৃষ্টি করবেন যে তার পাজরের হাড় থেকে হবে না ? যাতে করে পরবর্তীতে কেউ বলতে না পারে যে , হযরত আদম নিজেই নিজের সাথে বিয়ে করেছেন । আল্লাহ তাদের ও আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে ফায়সালা করুন । 14
(অর্থাৎ এখানে ইমাম বুঝাতে চেয়েছেন যে , আল্লাহ যখন হযরত আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করতে পেরেছেন তবে তার সৃষ্টির জন্য , তার পাজরের হাড় থেকে করতে হবে কেন ? যেহেতু আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী । তাই এ কথা বললে তাঁর অক্ষমতাকেই তুলে ধরা হয় , নয় কি ? -নাউযুবিল্লাহ । )
অন্য আরেকটি হাদীসে এসেছে যে ,‘ আল্লাহ তা ’ য়ালা হযরত আদম সৃষ্টির পরে অবশিষ্ট কাদা-মাটি থেকে হযরত হাওয়াকে (হযরত আদমের মতই) স্বতন্ত্রভাবে সৃষ্টি করেছেন ।15
) وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ أُمِّ مُوسَىٰ أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ(
“ আমরা মুসার মায়ের প্রতি এরূপ এলহাম করেছিলাম যে , তাকে দুধ দাও এবং যখনই তার ব্যাপারে ভয় পাবে তখনই তাকে ( নীল নদের ) পানিতে নিক্ষেপ কর , তুমি ভয় করো না ও দুঃখিত হয়োনা আমরা তাকে পুনরায় তোমার কাছে ফিরিয়ে দিব এবং তাকে রাসূলগণের মধ্যে স্থান দিব” ।16
এই আয়াতে এ বিষয়টি পরিস্কার যে , আল্লাহ তা’ য়ালা হযরত মুসা (আ.)-এর মায়ের প্রতি এলহাম করেছেন , আল্লাহ একজন নারীকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন এটা হচ্ছে নারীদের জন্য একটি মর্যাদার বিষয় ।
) إِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّـهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ(
“ (ঐ সময়কার কথাকে স্মরণে আন ) যখন ফেরেশতাগণ বলেছিলেন :‘ হে মারিয়াম ! আল্লাহ তা’ য়ালা তোমাকে তার পক্ষ থেকে এক বাণীর সুসংবাদ দান করছেন যে , তার নাম হচ্ছে মাসিহ্ ঈসা ইবনে মারিয়াম , সে এই দুনিয়া ও আখেরাতেও একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের মধ্যে শামিল হবে ।” 17
তাহলে আমাদের কাছে এটা পরিস্কার যে , একজন নারীর পক্ষে এটা সম্ভব যে , সে পরিপূর্ণতার এমন পর্যায়ে পৌছাবে , যার কারণে আল্লাহ তা’ য়ালা আসমানী কিতাবে তাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলবেন । আর আল্লাহর ফেরেশ্তাগণ ও স্বয়ং জিব্রাঈল (আ.) তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে তাঁর সাথে কথা বলবেন । আর এমন নজির পুরুষদের মধ্যেও কম দেখা যায় ।
) وَضَرَبَ اللَّـهُ مَثَلًا لِّلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ(
“ আল্লাহ্ তা’ য়ালা মু’ মিনদের জন্য ফিরআউনের স্ত্রীকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন , যখন সে বলেছিল যে , হে আল্লাহ ! বেহেশ্তে তোমার কাছে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে ফিরআউনের কু -কর্ম ও তার অত্যাচারী দলবল থেকে রক্ষা কর” ।18
1-আল্লাহ তা’ য়ালা এই আয়াতে সকল পুরুষ ও নারীর সামনে একজন নারীকে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন ।
2-আছিয়া (ফিরআউনের স্ত্রী) সকল নারীকে এটাই শিক্ষা দিলেন যে , আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা কোন বাদশাহর প্রাসাদে জীবন-যাপন করার (সেখানে সব ধরনের সুব্যবস্থা থাকা সত্বেও) থেকেও উত্তম । তিনি আরো প্রমাণ করলেন যে , কোন নারীরই উচিৎ নয় এই দুনিয়ার বাহ্যিক রূপের মোহে ভুল করা । কেননা দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা ধ্বংস হয়ে যাবে । আর শুধুমাত্র আল্লাহ্ই থাকবেন ।
3-তিন আরো শিক্ষা দিলেন যে , নারীদের স্বাধীনতা থাকবে (যতটুকু আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন) এবং তারা জুলুম ও জালিমের প্রতি ঘৃণা রাখবে ; যদিও ঐ জালিম তার স্বামীও হয়ে থাকে ।
) إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ﴿١﴾ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴿٢﴾ إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ﴾
হে রাসূল ! আমরা তোমাকে অফুরন্ত নেয়ামত - নবুওয়াত , শাফা ’ য়াতের ন্যায় উচ্চ মর্যাদাসহ কাউসার ( ফাতিমাকে ) - দান করেছি । সুতরাং তুমি এই নে ’ য়ামতসমূহের শুকরিয়া স্বরূপ নামায আদায় এবং কুরবানী কর । আর প্রকৃতপক্ষে তোমার শত্রুরাই হচ্ছে নির্বংশ । ”19
সূরা কাউছারের তিনটি আয়াতের তিনটি অলৌকিকত্ব
প্রথম অলৌকিকত্ব
যেহেতু রাসূল (সা.) -এর সব পুত্র সন্তান মারা গিয়েছিল তাই শত্রুরা মনে করেছিল যে , তাঁর ইন্তেকালের পর তারা জুলুম ও অত্যাচারের ব্যাপারে স্বাধীন । কিন্তু আল্লাহ্ তা ’ য়ালা হযরত যাহরা (আ.) -কে দান করলেন , যাতে তাঁর সন্তানগণ বিশ্ব জুড়ে ইসলামের ভিত্তি স্থাপন করতে পারেন এবং আবু সুফিয়ান বংশের আর কেউ ইসলামের সাথে শত্রুতা করে সফল হতে না পারে ।
দ্বিতীয় অলৌকিকত্ব
যদিও রাসূলে খোদা (সা.) তাঁর রিসালাতের প্রথম দিকে অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে ছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তা ’ য়ালা তাকে এত পরিমানে ধন-সম্পদ দান করেছিলেন যে , তিনি হজ্জ মৌসুমে একটি উট অথবা তারও বেশী পরিমান কুরবানী করতেন ।
তৃতীয় অলৌকিকত্ব
রাসূল (সা.) -এর শত্রুরা বিশাল সৈন্য বাহিনী ও সামরিক শক্তির অধিকারী হওয়া সত্বেও কিছু দিনের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের কোন অস্তিত্বই আর অবশিষ্ট ছিল না । এতে করে শত্রুদের বংশই ধ্বংস হয়েছিল , রাসূলে খোদার (সা.) নয় । এরপর দিনের পর দিন হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর মাধ্যমে রাসূলে খোদা (সা.) -এর বংশের বিস্তৃতি হতে থাকলো ।
সাধারণ মানুষেরা হযরত ফাতিমা (আ.)-এর উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে কিছু বলতে অক্ষম । কেননা তিনি হলেন একজন পরিপূর্ণ মানুষ (ইনসানে কামেল) ও চরম আধ্যাত্মিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব । আর সাধারণ মানুষ হচ্ছে অপূর্ণ ও ত্রুটিযুক্ত । সে কারণেই তাদের পক্ষে হযরত ফাতিমা (সা.আ.) এর মত একজন পরিপূর্ণ মানুষকে বুঝে উঠার ক্ষমতা নেই । তাই তাঁর ব্যাপারে অবশ্যই আশরাফুল মাখলুকাত খাতামুল আম্বিয়া হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর উত্তরসূরী মা ’ সুম ইমামগণ (আ.)-এর মুখ থেকেই শুনতে হবে:
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ). :ﺍﻥ ﺍﷲ ﺗﻌﺎﱃ ﻟﻴﻐﻀﺐ ﻟﻐﻀﺐ ﻓﺎﻃﻤﺔ ﻭ ﻳﺮﺿﻰ ﻟﺮﺿﺎﻫﺎ
রাসূল (সা.) বলেছেন : আল্লাহ্ তা’ য়ালা ফাতিমা ( আ .)- এর ক্রোধে ক্রোধান্বিত হন এবং তার সন্তুষ্টিতে তিনি সন্তুষ্ট হন ।20
: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ): ﺍﻭﻝ ﺷﺨﺺ ﺗﺪﺧﻞ ﺍلجنّة ﻓﺎﻃﻤﺔ
রাসূল (সা.) বলেছেন : সর্ব প্রথম যে ব্যক্তি বেহেশ্তে প্রবেশ করবে সে হচ্ছে ফাতিমা (সা.আ.) ।21
ﻗﺎﻝ الحسن (ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ) ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ: ما ﻛﺎﻥ ﰱ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﺍﻋﺒﺪ ﻣﻦ ﻓﺎﻃﻤﺔ علیها السلام ﻛﺎﻧﺖ ﺗﻘﻮﻡ ﺣﱴ ﺗﺘﻮﺭﻡ ﻗﺪﻣﺎﻫﺎ
ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন : ফাতিমা (আ.)-এর মত ইবাদতকারী পৃথিবীতে আর কেউ ছিল না , কেননা তিনি এত বেশী ইবাদত করতেন যার কারণে তার পদযুগল ফুলে যেত ।22
ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন : আমার মা ফাতিমা (আ.) প্রতি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভোর পর্যন্ত ইবাদতে মশগুল থাকতেন । তাকে মু’ মিন বান্দাদের জন্য প্রচুর দোয়া করতে শুনতাম কিন্তু নিজের জন্য দোয়া করতেন না । মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে , হে জননী ! অন্যদের জন্য এত দোয়া করেন , কেন আপনার নিজের জন্য দোয়া করেন না ? তিনি বললেন :
یا بنی الجار ثم الدار
হে আমার সন্তান! প্রথমে প্রতিবেশী তারপর নিজের বাড়ি ও নিজে ।23
রাসূল (সা.) বলেছেন : ফাতিমা (আ.) পৃথিবীর সকল (প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত) নারীদের নেত্রী এবং সে যখন মেহরাবে ইবাদতে দণ্ডায়মান হয় তখন 70 হাজার ফেরেশ্তা তাকে সালাম করতে থাকে ও তাকে বলে : হে ফাতিমা! আল্লাহ তা’ য়ালা তোমাকে মনোনীত করেছেন এবং তোমাকে সব ধরনের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করেছেন , আর তোমাকে পৃথিবীর সমস্ত নারীদের উপরে স্থান দিয়েছেন । 24
হযরত ফাতিমা যাহরা (আ.)-এর ব্যাপারে ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর উক্তি
হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর মধ্যে একটি মানুষের জন্য পূর্ণতার যত দিক চিন্তা করা যায় তার সবগুলোই পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল । কেননা তিনি একজন সাধারণ নারী ছিলেন না । তিনি একজন মালাকুতি ও রূহানী (অলৌকিক ও আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের) নারী ছিলেন । একজন পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন । তিনি একজন মালাকুতি (বস্তুজগতের উর্ধ্বের অদৃশ্য জগতের) অস্তিত্ব যিনি মানুষ রূপে এ ধরাধামে এসেছিলেন । তিনি এলাহী ও জাবারুতী (ফেরেশতাদেরও উর্ধ্বের ঐশী জগতের) এক অস্তিত্ব যিনি নারী রূপে প্রকাশিত হয়েছেন । তাঁর সমগ্র অস্তিত্বে নবীদের বৈশিষ্ট্যসমুহ পরিলক্ষিত হয় । তিনি এমন এক নারী , যদি তিনি পুরুষ হতেন তবে হয়তো নবী হতেন । তাঁর মধ্যে এলাহী , মালাকুতি , জাবারুতী , মুলকী ও নাসুতি (উর্ধ্ব ও বস্তুজগতের সকল উচ্চতর) বৈশিষ্ট্যসমূহ একত্রে একত্রিত হয়েছে ।25
তিনি এমন এক নারী যিনি হযরত যয়নাব (আ.)-এর মত প্রশিক্ষিত এক সন্তান মানব জাতিকে উপহার দিয়েছেন । পরবর্তীতে সেই যয়নাবই তাগুতী শক্তির বিরুদ্ধে নির্ভয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাদেরকে অপরাধী সাব্যস্ত করেছিলেন , ইয়াযিদকে দোষী প্রমাণ করেন । তিনি ইয়াযিদকে বলেন : তুই মানুষ না , মানুষ হওয়ার যোগ্যতাও তোর নেই ।26
তিনি এমন এক নারী , যার গুণাবলী মহানবীর (সা.) গুণাবলীর অনুরূপ অসীম এবং তিনি হচ্ছেন পবিত্র ও নিষ্পাপ নবী পরিবারের সদস্য । তিনি এমন নারী , যার মর্যাদার ব্যাপারে সবাই তার নিজের বোঝার ক্ষমতানুযায়ী কথা বলে থাকে । এখনো পর্যন্ত কেউই তাঁর যথার্থ প্রশংসা করতে সক্ষম হয় নি । তাঁর ব্যাপারে তাঁর পরিবারের মহান ব্যক্তিদের কাছ থেকে ততটুকু বর্ণিত হয়েছে যতটুকু শ্রোতাদের ধারণক্ষমতা ছিল ও তাদের জন্য বোধগম্য হতো । সাগরকে কখনো কলসীতে আবদ্ধ করা যায় না । তাই তাঁর সম্পর্কে ইমামরা শ্রোতাদের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী কথা বলেছেন । এক্ষেত্রে আমাদের জন্য উত্তম হলো এ সীমাহীন রহস্যময় প্রান্তরকে আমাদের সীমাবদ্ধ জ্ঞানে আবদ্ধ করার চেষ্টা না করা ।27
হযরত ফাতিমা যাহরা (আ.)-এর ব্যাপারে শহীদ মুর্তযা মুতাহ্হারীর উক্তি
তিনি বলেছেন : ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র ও উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন মহিলা অনেক রয়েছে । খুব কম পুরুষই আছে যে হযরত খাদিজার সমান যোগ্যতা রাখে । আর নবী (সা.) ও আলী (আ.) ব্যতীত অন্য কোন পুরুষ নেই যাদেরকে হযরত ফাতিমা (আ.) -এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে । তিনি তাঁর সন্তানগণের (যারা সকলেই হচ্ছেন ইমাম) উপর এবং শেষ নবী (সা.) ব্যতীত অন্য সকল নবীর উপরে অবস্থান করছেন ।28
এই বর্ণনায় এটা পরিস্কার হয়েছে যে , হযরত ফাতিমা (আ.) -এর মর্যাদা কোন সাধারণ মানুষ অনুধাবন করতে পারবে না । আর তিনি শুধুমাত্র পৃথিবীর নারীদের উপরেই নয় বরং বেহেশ্তী নারীদের উপরেও শ্রেষ্ঠত্ব রাখেন । আল্লাহ তা ’ য়ালা আমাদেরকে তাঁর শাফা ’ য়াত থেকে বঞ্চিত না করুন ইনশাআল্লাহ । আর আল্লাহ তা ’ য়ালা আমাদের নারীদেরকে হযরত ফাতিমাকে অনুসরণ করে চলার তৌফিক দান করুন ।
2 - হাদীসের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা
নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিস :-
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ): خیر ﺍﻭﻻﺩﻛﻢ ﺍﻟﺒﻨﺎﺕ
রাসূল (সা.) বলেছেন : কন্যারাই হচ্ছে তোমাদের উত্তম সন্তান ।29
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ): خیرﻛﻢ خیرﻛﻢ ﻟﻨﺴﺎﺋﻪ ﻭ ﻟﺒﻨﺎﺗﻪ
রাসূল (সা.) বলেছেন : তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা তাদের নারী ও কন্যাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করে ।30
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ):. خیرﻛﻢ خیر ﻛﻢ ﻻﻫﻠﻪ ﻭ ﺍﻧﺎ خیرﻛﻢ ﻻﻫﻠﻰ ﻣﺎ ﺍﻛﺮﻡ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﺍﻻ ﻛﺮﱘ ﻭ ﻻ ﺍﻻ ﻟﺌﻴﻢ
রাসূল (সা.) বলেছেন : তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার পরিবারের সাথে উত্তম ব্যবহার করে থাকে । আমি আমার পরিবারের সাথে তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যবহারকারী । কেবল মহান ব্যক্তিরাই নারীগণকে সম্মান দিয়ে থাকেন এবং নিম্নশ্রেণীর ব্যক্তিরাই কেবল নারীদেরকে অপমান ও অপদস্থ করে থাকে ।31
রাসূল (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তির তিনটি (সচ্চরিত্র) কন্যা সন্তান থাকবে অথবা তিনটি (পবিত্র) বোনের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে , তার জন্য বেহেশ্ত ওয়াজিব হবে ।
রাসূল (সা.) -এর কাছে প্রশ্ন করা হল যে , ইয়া রাসূলুল্লাহ্! দু’ টি (সচ্চরিত্র) কন্যা সন্তান অথবা দু’ টি (পবিত্র) বোনের ভরণ-পোষণকারীও কি এই ছওয়াব পাবে ? তিনি বললেন : হ্যাঁ , তাকেও এই পুরস্কার দেয়া হবে ।
আবারও প্রশ্ন করা হল যে , ইয়া রাসূলুল্লাহ ! একটি ( পবিত্র ) কন্যা সন্তান অথবা একটি ( পবিত্র ) বোনের ভরণ - পোষণকারীও কি এই সওয়াব পাবে ? তিনি বললেন : হ্যাঁ , তাকেও এই একই পুরস্কার দেয়া হবে ।32
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺼﺎﺩﻕ (ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ): .. ﺍﺫﺍ ﺁﺫﺍﻫﺎ ﱂ ﻳﻘﺒﻞ ﺍﷲ ﺻﻼﺗﻪ ﻭ ﻻ ﺣﺴﻨﺔ ﻣﻦ ﻋﻤﻠﻪ ﻭ ﻛﺎﻥ ﺍﻭﻝ ﻣﻦ ﻳﺮﺩ ﺍﻟﻨﺎﺭ
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন : যদি কোন ব্যক্তি তার ¯ স্ত্রীকে কষ্ট দেয় , তাহলে আল্লাহ্ তার নামাযকে কবুল করবেন না এবং তার ভাল ও উত্তম কাজ সমূহকে তার আমলনামায় লেখা হবে না । আর তার স্ত্রীকে কষ্ট দেয়ার কারণে সে প্রথম ব্যক্তি যে জাহান্নামে প্রবেশ করবে ।33
ইসলাম পূর্ব নারীগণ
ইসলামের ইতিহাসে ঈমানদার , সাহসী , জুলুম বিরোধী অনেক নারী ছিলেন , যাদের সম্পূর্ণ জীবনটাই ছিল আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গকৃত এবং আত্মত্যাগ ও শাহাদাতের চেতনাপূর্ণ তাদের সংখ্যা অনেক কিন্তু আমরা এখানে এরূপ কয়েকজনের কথা উল্লেখ করব :
1- হাযবিল নাজ্জারের (কাঠ মিস্ত্রি) স্ত্রী : এই মহিলার ঘটনাটি হচ্ছে হযরত মুসা (আ.) এর সময়কার । সে হযরত মুসা (আ.)-এর উপর ঈমান আনয়ন করে । ঘটনা বশত: সে ফেরাউনের প্রাসাদে তার কন্যার পরিচর্যার কাজে নিয়োগ প্রাপ্ত হয় । একদিন ফিরআউনের কন্যার চুল চিরুণী দিয়ে আচড়ে দেয়ার সময় তার হাত থেকে চিরুনিটি পড়ে যায় , যেহেতু সে সব সময় আল্লাহর যিকির করতো তাই চিরুনিটি পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সে বলে উঠল : ইয়া আল্লাহ্! ফেরাউনের কন্যা তাকে জিজ্ঞাসা করলো যে , তোমার ইয়া আল্লাহ বলার উদ্দেশ্য কি আমার বাবা ?
সে বলল : না , বরং আমি এমন কাউকে উপাসনা করি যিনি তোমার বাবাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে আবার ধ্বংসও করবেন ।
মেয়ে তার বাবাকে উক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করলে ফেরাউন তাকে ডেকে পাঠালো । সে উপস্থিত হলে তাকে বলল : আমি যে খোদা এটা তুমি বিশ্বাস কর না ?
সে বলল : না , কখনই নয়! আমি প্রকৃত আল্লাহকে ছেড়ে তোমার উপাসনা করবো না ।
ফেরাউন এই কথায় অত্যন্ত রাগান্বিত হলো এবং সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দিল আগুনের চুল্লী তৈরী করার এবং তা লাল রং ধারণ করলে ঐ মহিলার সব সন্তানকে আগুনের লেলিহান শিখায় ফেলে দিতে । মহিলার সব সন্তানকে তার চোখের সামনে আগুনে পুড়িয়ে মারা হল । শুধুমাত্র একটি দুধের শিশু তার কোলে অবশিষ্ট ছিল । জল্লাদ তার কোল থেকে ঐ দুধের শিশুটিকেও ছিনিয়ে নিয়ে বলল : তুই যদি মুসার দ্বীনকে অনুসরণ না করিস তাহলে তোর বাচ্চাকে বাচিয়ে রাখবো । দুধের শিশুটির অন্তর ধক-ধক করতে শুরু করলো । মহিলাটি বাহ্যিকভাবে এ কথা স্বীকার করে বলতে চাইল যে , ঠিক আছে কিন্তু হঠাৎ দুধের শিশুটি কথা বলে উঠলো । সে তার মাকে বলল : ধৈর্য ধারণ কর , তুমি সত্যের পথে আছো ।
মহিলাটি তাই করল । অবশেষে ঐ দুধের বাচ্চাটিকেও পুড়িয়ে মারা হল । তারপর তাকেও তারা পুড়িয়ে মারলো । এভাবেই এক সাহসী ও মু’ মিন মহিলা যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত ছিল বাতিলের কাছে মাথা নত করেনি , বরং বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে ।
নবী (সা.) বলেন : মি ’ রাজের রাতে একটি স্থান থেকে আকর্ষণীয় এক সুগন্ধ আমার নাকে আসছিল , আমি জিব্রাঈলকে (আ.) জিজ্ঞাসা করলাম যে , এই সুবাস কোথা থেকে আসছে ? জিব্রাঈল আমাকে উত্তরে বলল : এই গন্ধ হাযবিলের স্ত্রী ও তার সন্তানদের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া দেহের থেকে আসছে , যা এই পৃথিবীর সমান্তরাল মহাশূন্যে ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে । আর ঐ স্থান থেকে এই সুগন্ধ কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আসতে থাকবে ।34
2- হযরত ইব্রাহীম খালিলুল্লাহ্ (আ.)-এর মা :
এই ঘটনাটি অনেকটা উপরোল্লিখিত ঘটনার মতই । নমরুদ তার অধীনস্থ জ্যোতিষীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছিল যে , একটি শিশু জন্মলাভ করে তাকে ধ্বংস করবে । এ কারণে সে (বর্ণনামতে) 77 হাজার থেকে এক লক্ষ শিশুকে হত্যা করে । এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে ইব্রাহীমের (আ.) আত্মত্যাগী মা বিরলভাবে নিজেকে নমরুদের লোক-লস্কর থেকে দূরে রাখতে সক্ষম হন । তিনি প্রসব বেদনা শুরু হলে ঋতুস্রাবের বাহানায় (কারণ তখন নিয়ম ছিল যে , কোন মহিলার ঋতুস্রাব হলে তাকে শহরের বাইরে চলে যেতে হত) শহর থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং শহর থেকে অনেক দুরে একটি পাহাড়ের গুহা খুঁজে পেলেন । সেখানেই ইব্রাহীম (আ.) ভুমিষ্ট হন । ক্লান্তিহীন পরিশ্রমী এই মা 13 বছর ধরে নমরুদের লোকজনের চোখ ফাঁকি দিয়ে , কখনো রাতে আবার কখনো প্রত্যুষে সকালে পাহাড়ের ঐ গুহার মধ্যে যেতেন তার সন্তানের সাথে দেখা করতে । এ সময় তিনি গায়েবীভাবেও সাহায্যপ্রাপ্ত হতেন । যেহেতু তিনি আল্লাহর উপর নির্ভর করেছিলেন সেহেতু আল্লাহও তাকে সাহায্য করেছেন । অবশেষে 13 বছর পরে ইব্রাহীম (আ.) খোদায়ী বিশেষ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত হয়ে সমাজে ফিরে এলেন এবং আস্তে আস্তে মূর্তিপুজকদের সাথে মুকাবিলা করতে শুরু করলেন । আর দিনের পর দিন তিনি সফলকাম হতে থাকলেন ।35
3- হযরত আইয়্যুবের স্ত্রী :
রুহামাহ (রাহিমাহ্) ছিলেন হযরত আইয়্যূবের স্ত্রী এবং হযরত শোয়াইবের কন্যা । তিনি এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন । তার সকল সন্তান বাড়ীর ছাদের নিচে চাপা পড়ে মারা যায় , বাগ-বাগিচা আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায় , সমস্ত সম্পত্তি এবং গৃহপালিত প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায় । এত কিছুর পরে হযরত আইয়্যূব এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হন । এমন পরিস্থিতিতে সবাই তাকে সান্তনা দেয়ার বদলে অপমান করলো এই বলে যে , নিঃশ্চয়ই তোমরা গোনাহ্গার ছিলে তাই আল্লাহ তোমাদেরকে এরূপ সাজা দিয়েছেন । সকলেই হযরত আইয়্যূবের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল । আর সে কারণেই তিনি শহর ছেড়ে জঙ্গলে চলে গিয়েছিলেন । অতপর আল্লাহ্ তাদেরকে উত্তম সন্তান দান করেন এবং অবস্থা পুর্বের পর্যায়ে ফিরে যায় ।36
হযরত আইয়্যূবের স্ত্রী আমাদেরকে যে শিক্ষা দেন তা হচ্ছে নিম্নরূপ :
প্রথমত : আল্লাহর নবিগণও বিভিন্ন অবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষিত হতে পারেন ।
দ্বিতীয়ত : মু ’ মিনদের চেষ্টা করা উচিৎ এরূপ পরিস্থিতিতে ধৈয ধরে সফলতার সাথে তা থেকে বেরিয়ে আসার ।
তৃতীয়ত : উত্তম স্ত্রী সেই যে , কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তার স্বামীকে একা ত্যাগ করে না । আর হযরত আইয়্যূবের স্ত্রী ছিলেন তেমনই এক নারী । কারণ তিনি এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তার স্বামীকে কোন প্রকার দোষারোপ করেন নি বরং সকল সময় তার পাশে পাশে থেকেছেন এবং এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি লাভের চেষ্টা করেছেন । যদিও পুরুষের দায়িত্ব হচ্ছে হালাল রুটি- রুজীর জন্য কষ্ট করা এবং পরিবারে স্বাচ্ছন্দ আনয়ন করা ।
ইসলাম পূর্ব ইতিহাসে আরো অনেক নারীই ছিলেন যেমন : হযরত শোয়াইবের কন্যাগণ , হযরত মুসা (আ.)-এর মা ও বোন , হযরত মারিয়াম (আ.) , আসিয়া , হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর মা হাজার , নবী (সা.) -এর মা আমেনা , নবী (সা.) -এর দুধ মাতা হালিমা ও আরো অনেকে যাদের নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি ।
ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ের নারীগণ
1- হযরত খাদিজা (আ.) : হযরত খাদিজাহ্ (আ.) প্রথম পর্যায়ে খৃষ্টান ছিলেন । যেহেতু তিনি খৃষ্টানদের বিভিন্ন গ্রন্থে নবী পাক (সা.) সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন এবং অতি নিকট থেকে ঐ মহামানবকে দেখেছিলেন । তাঁর প্রতি ঈমান আনেন এবং তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । এই মহান নারী আল্লাহ তা ’ য়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সমস্ত সম্পত্তি নবীর (সা.) হাতে সমর্পন করেছিলেন । নবী (সা.) ঐ বিশাল সম্পদকে দ্বীনের প্রচার-প্রসারের কাজে খরচ করেন । হযরত খাদিজাহ্ এ সম্পর্কে বলেন : আমার সম্পত্তি থেকে শুধূমাত্র দু ’ টি ভেড়ার চামড়া অবশিষ্ট ছিল , দিনের বেলা তার উপর ভেড়ার খাবার দিতাম এবং রাতে তা বিছিয়ে শুতাম ।
তিনি শুধুমাত্র তার সম্পদকেই দ্বীনের রাস্তায় দান করেননি বরং নবীকে (সা.) জীবন দিয়েও সাহায্য করেছিলেন । তিনি রাসূলের (সা.) শত দুঃখের সাথি ও সান্ত্বনাদানকারী ছিলেন । তিনি হচ্ছেন ইতিহাসের চারজন শ্রেষ্ঠ রমনীর একজন (যারা বেহেশ্তী নারী হিসেবে পরিচিত) । রাসূলে খোদা (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় কখনই হযরত খাদিজার ভালবাসা ও ত্যাগের কথা ভুলেন নি । আর যখনই তার কথা স্মরণ করতেন তখনই তার উপর দুরুদ পড়তেন ।
2 - প্রথম শহীদ নারী সুমাইয়্যা : সুমাইয়্যা , ইয়াসিরের স্ত্রী ছিলেন । তিনি এবং তার স্বামী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল বলে তাদেরকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল এবং শত্রুপক্ষ তাদেরকে শহীদ করেছিল । তারা সুমাইয়্যাকে বলেছিল : যদি তুমি নবীর (সা.) উপর ঈমান আনা থেকে বিরত না হও তবে তোমার দুই পায়ে দড়ি বেঁধে দুই উটের সাথে বেধে দিব এবং উট দু ’ টিকে দুই দিকে তাড়িয়ে দিব , ফলে তোমার শরীর দু ’ ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে ।
সুমাইয়্যা তাদের কথায় ভয় না পাওয়ায় তারা তাদের উক্ত পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত করলো । তারা শুধু তাকেই নয় বরং তার স্বামীকেও হত্যা করলো । আম্মার ইয়াসির এই দুই মহান ব্যক্তির সন্তান জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ইসলামের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন । অবশেষে তিনিও সিফ্ফিনের যুদ্ধে ইমাম আলী (আ.)-এর সৈন্য দলের পক্ষ হয়ে মুয়া ’ বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন ।37
3 - অন্যান্য নারীগণ : অন্যান্য মহিলাগণ যেমন , লুবাইনিহ্ , যিন্নিরিহ্ , নাহদিয়াহ্ , গাযযিয়াহ্ ও এরূপ আরো অনেকে যাদের নাম ইতিহাসে উল্লেখও হয় নি , ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনার ফলে শত্রুর অত্যাচারে শহীদ হন ।38
4- ফাতিমা বিনতে আসাদ (হযরত আলী (আ.)-এর মা) : ফাতিমা বিনতে আসাদের জন্য এই মর্যাদাই যথেষ্ট যে , তিনি পবিত্র কা ’ বা গৃহের মধ্যে আমিরুল মু ’ মিনিন আলী (আ.) -এর মত সন্তানকে জন্মদান করেছেন । কোন মহিলাই এ মর্যাদা পায় নি এবং পাবেও না ।
যখনই নবী (সা.) ক্লান্ত থাকতেন ফাতিমা বিনতে আসাদের বাড়ীতে আসতেন বিশ্রাম নেয়ার জন্য।
যখন তিনি এ দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়েছিলেন তখন নবী (সা.) কাঁদতে কাঁদতে মৃত দেহের পাশে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন : আল্লাহ্ তাঁকে বেহেশ্তবাসী করুন , তিনি শুধু আলীর মাতাই ছিলেন না বরং আমারও মা (সা.) ছিলেন । রাসূলে খোদা নিজের মাথার পাগড়ি ও আলখেল্লা খুলে দিয়েছিলেন তার কাফন করার জন্য । তার জানাজার নামাযে চল্লিশটি তাকবির বলেছিলেন । তারপর তিনি তার কবরে নেমে কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন এবং ইমাম আলী (আ.) ও ইমাম হাসানকে (আ.) অনুরূপ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন ।
আম্মার নবীকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন : কারো জন্যেই তো আপনি এরূপ করেন নি , ফাতিমা বিনতে আসাদের জন্য কেন এরূপ করলেন ?!
রাসূল (সা.) বললেন : তার জন্য এমনটা করাই উত্তম ছিল । কেননা তিনি নিজের সন্তানকে পেট ভরে খেতে না দিয়ে আমার পেট ভরাতেন । তার সন্তানদেরকে খালি পায়ে রাখতেন কিন্তু আমার পায়ে জুতা পরিয়ে দিতেন ।
আম্মার পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন : কেন তার নামাযে চল্লিশবার তাকবির দিলেন ?
তিনি বললেন : তার জানাজার নামাযে ফেরেশতাগণ চল্লিশ কাতারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিল তাই তাদের প্রত্যেকটি সারির জন্য একটি করে তাকবির বলেছি ।
আর এই যে , আমার মাথার পাগড়ি ও গায়ের আলখেল্লা দিয়েছি তাঁকে কাফন করার জন্য এটার কারণ এই যে , একদিন তাঁর সাথে আমি কিয়ামতের দিনে মানুষের বস্ত্রহীন থাকার ব্যাপারে কথা বলছিলাম , তিনি এ কথা শুনে চিৎকার করে উঠেছিলেন এবং কিয়ামাতের দিনে বস্ত্রহীন থাকার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন । তাই আমার মাথার পাগড়ি ও গায়ের আলখেল্লা দিয়ে তাকে কাফন করিয়েছি , যাতে করে কিয়ামতের দিনে তিনি বস্ত্রহীন না থাকেন আর তা যেন পচে না যায় । যেহেতু তিনি কবরের প্রশ্নের ব্যাপারে অনেক ভয় পেতেন তাই আমি তাকে কবর দেয়ার আগে কিছুক্ষণ তার মধ্যে অবস্থান করেছি । আর এই অবস্থানের ফলে আল্লাহ তার কবরকে বেহেশ্তের একটি অংশে পরিণত করছেন এবং তার কবর এখন বেহেশতের বাগানে পরিণত হয়েছে ।39
5 - চার শহীদের জননী , খানিসা : তিনি একজন অভিজ্ঞ ইসলাম প্রচারক ছিলেন । তিনি তার গোত্রের সকলকে ইসলামের পথে আনতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং অন্যদেরকেও ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিতেন । 14 হিজরীতে সংঘটিত কাদিসিয়া যুদ্ধে তিনি তার সন্তানদেরকে ঐ যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন । তার সন্তানদের মধ্যে চারজন শহীদ হয় । তিনি তার সন্তানদের শহীদ হওয়াতে বলেন : আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া , কেননা তিনি তাদের শহীদ হওয়ার মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করেছেন । আরো বলেন : আমার আশা এটাই যে , আল্লাহ্ তা ’ য়ালা আমাকেও তাঁর রহমত ও কৃপা দান করে ধন্য করবেন (অর্থাৎ তাকে শহীদ হওয়ার তৌফিক দান করবেন) ।40
6 - চার শহীদের জননী , উম্মুল বানিন : উম্মুল বানিন ছিলেন ইমাম আলী (আ.)-এর একজন আল্লাহ্ প্রেমিক স্ত্রী । তিনি তার চারজন সন্তান যথাক্রমে : হযরত আব্বাস , আব্দুল্লাহ্ , জা ’ ফার ও উসমান , কারবালায় তাদের ভাই ও নেতা ইমাম হুসাইনের সাথে শাহাদাত বরণ করেন ।
যখন বাশির মদীনায় ফিরে এসে কারবালার ঘটনাকে মসজিদে নববীতে বর্ণনা করছিল তখন উম্মুল বানিন উপস্থিতদের মধ্যে থেকে সামনে (আ.) এসে বললেন : হে বাশির! আমাকে শুধু ইমাম হুসাইন সম্পর্কে বল । আর আমার চার সন্তান খোলা আকাশের নিচে ঘোড়ার পায়ের তলে পিষ্ট হয়েছে তাতে কিছু যায় আসে না , কেননা আমি তাদেরকে ইমাম হুসাইনের জন্য উৎসর্গ করেছি । যখন তিনি বাশিরের মুখে ইমাম হুসাইনের উদ্দেশ্যে শহীদ হয়ে যাওয়ার কথা শুনলেন তখন চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন : আমার অন্তরকে ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে ।
ইমাম হুসাইনের প্রতি তাঁর এই ভালবাসাই তাঁকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছিয়েছে , কেননা তিনি সন্তানদেরকে তাঁর নেতা ও দ্বীনের ইমামকে রক্ষার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন ।41
7- হযরত যয়নাব (আ.) আত্মত্যাগ,ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি :
হযরত যয়নাবের মত এক মহিয়সী নারীর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আমরা কথা বলতে অক্ষম । কেননা তিনি হযরত ফাতিমার (আ.) গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর হাতে প্রশিক্ষিত হয়েছেন , আর আলী (আ.)-এর মত পিতা ও ইমাম হাসান এবং ইমাম হুসাইনের মত ভাই যার ছিল । তবে আমরা এখানে আমাদের এই ক্ষুদ্র জ্ঞানে যতটুকু সম্ভব তাই উল্লেখ করার চেষ্টা করবো ।
যে সমস্যা ও কষ্ট তার উপর এসেছিল তা যদি কোন পাহাড়ের উপর আসতো তবে পাহাড় ঐ সমস্যা ও কষ্টের ভারে ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যেত । এই ধরনের এক মহিয়সী নারীর ব্যক্তিত্বকে কয়েকটি দিক থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন ।
ক)- নিজের ইমাম বা নেতাকে সাহায্য করা :
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি তাকে প্রাণপণে সাহায্য করেছিলেন । ইমাম হুসাইনকে তিনি এত অধিক ভালবাসতেন যে , যখন তাঁর চাচাত ভাই আবদুল্লাহ ইবনে জা ’ ফর তাইয়ার তার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল তখন তিনি তাকে বলেছিলেন যে , আমি একটি শর্তে এ বিয়েতে রাজী হব তা হচ্ছে আমার ভাই হুসাইন যখনই কোন সফরে যাবে আমাকেও তাঁর সাথে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে । যেহেতু আবদুল্লাহ্ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর একজন ভক্ত ছিল তাই সে এ কথা মেনে নিল । হযরত যয়নাব (আ.) ইমাম হুসাইনের শাহাদাতের পরে , অসুস্থ ইমাম সাজ্জাদের সেবা-শুশ্রুষা করেন । আর যতবারই শত্রুপক্ষ ইমাম সাজ্জাদকে (আ.) হত্যা করতে এসেছিল ততবারই তিনি তাঁকে আগলে রেখেছিলেন এবং শত্রুদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন : যদি তোমরা তাকে হত্যা করতে চাও তবে প্রথমে আমাকে হত্যা কর ।
সাধারণত যে পুরুষ ও নারীই বেলায়াত ও ইমামতের পক্ষে কথা বলেছে তারাই কষ্ট , লাঞ্ছনা ও অপবাদের শিকার হয়েছে । যেমন : হযরত মারিয়ামকে ঈসা (আ.)-এর জন্য ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া হয় , হযরত আসিয়া হযরত মূসা (আ.)-কে সাহায্য করতে গিয়ে এবং তাঁর উপর ঈমান আনাতে ফিরাউনের অত্যাচারের শিকার হয়ে শহীদ হন ।
হযরত ইব্রাহীম ও হযরত মূসা (আ.)-কে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের মাতাদের কত কষ্টই না পোহাতে হয়েছিল । রাসূল (সা.) কে সাহায্য করতে গিয়ে হযরত খাদিজাহ (আ.)কতই না কষ্ট পেয়েছিলেন । ইমাম আলী (আ.)-এর ইমামতের পক্ষে কথা বলার কারণে হযরত ফাতিমাকে (আ.) দরজা ও দেয়ালের মধ্যে পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়ে জীবন দিতে হয়েছে । তদ্রূপ ইমাম হুসাইন -কে সাহায্য করতে গিয়ে 55 বছর বয়সে হযরত যয়নাবকেও নিদারুণ কষ্টের শিকার হতে হয়েছে ।
খ)- শহীদদের সন্তানদেরকে দেখা-শুনা করা :
হযরত যয়নাব (আ.) কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনার পরে , অভিভাবকহীন ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে দেখা-শুনা করতেন । তিনি নিজে না খেয়ে তাদেরকে খাওয়াতেন । যেহেতু বাচ্চারা তাদের পিতার জন্য কান্নাকাটি করতো , তাই তিনি তাদেরকে খুব বেশী মাত্রায় আদর করতেন এবং সান্ত্বনা দিতেন । আর এ দায়িত্বটি তিনি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করেছিলেন ।
গ)- ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের পর :
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের পরে , তিনি যেখানেই যেতেন এবং যখনই সুযোগ পেতেন তখনই কারবালার শহীদদের বার্তা পৌঁছে দিতেন এবং জালিম ও অত্যাচারীর বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ করতেন । যদি হযরত যয়নাব না থাকতেন তবে ইসলামের শত্রুরা কারবালার ঘটনাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতো । তিনি নিজের চেষ্টায় কারবালার জালিম ও অত্যাচারীদের মুখোষ উম্মোচন করেন । আর এই পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ চূড়ান্তে পৌঁছায় । যদি তাঁর উৎসর্গতা ও সাহসিকতা না থাকতো তাহলে শত্রুরা ইমাম সাজ্জাদ (আ.) -কে হত্যা করতো এবং ইসলামের অস্তিত্বকে বিলীন করে দিত । প্রকৃতপক্ষে ইমাম হুসাইন (আ.) শত্রুর বিরুদ্ধে কিয়াম করেছিলেন আর হযরত যয়নাব (আ.) ঐ কিয়ামের ধারাকে টিকিয়ে রেখেছিলেন ।
ঘ)- হযরত যয়নাবের সাহসিকতা :
ফাসেক , অভিশপ্ত , মদখোর ও লম্পট ইবনে যিয়াদ তার প্রাসাদে বসে ছিল এবং ইমাম হুসাইন (আ.) -এর কাটা মাথাটি তার সামনে রাখা ছিল । সে হযরত যয়নাবকে (আ.) বলল : তোমার ভাইয়ের সাথে আল্লাহ্ যা করলেন তা কেমন দেখলে ? তিনি জবাবে বললেন
ﻣﺎﺭﺍﻳﺖ ﺍﻻ جمیلا আমি সুন্দর ছাড়া অন্য কিছু দেখি নি ।42 কেননা নবীর বংশধর এমন এক পরিবার যাদের জন্য আল্লাহ শাহাদাতকে মর্যাদা স্বরূপ করেছেন । আর তাঁরা স্বেচ্ছায়ই এ পথকে বেছে নিয়েছেন ।
হযরত যয়নাব এই কথার মাধ্যমে ইবনে যিয়াদকে এমনভাবে অপমান করলেন যে , যাতে করে সে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা নেয় ।
হযরত যয়নাব (আ.) শামে (সিরিযায়) ইয়াযিদের প্রাসাদে তাকে দারুণভাবে অপমান করলেন । তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন : তুমি মনে করছো যে , আমাদেরকে বন্দী করে তোমার সম্মান বেড়েছে , তা নয় তারপর বললেন :“ আমি তোমাকে অনেক নীচ ও হীন মনে করি ।43
তিনি এই কথাটি ইয়াযিদকে এমন এক সময় বললেন যখন তাঁর এবং অন্যান্য বন্দীদের নিহত হওয়ার আশংকা ছিল । এমন কথা একজন নারীর পক্ষে ইয়াযিদের মত জালিম , অত্যাচারী , মদখোর , লম্পট লোকের সামনে কথা বলা কোন সহজ ব্যাপার নয় । হযরত যায়নাব তাকে এত বড় কথা বলার অর্থ এই যে , তিনি এমন এক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিলেন যা বুঝার ক্ষমতা আমাদের নেই ।
ঙ)- হযরত যয়নাবের ইবাদত :
কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনায় তার 6 জন ভাই যথা : ইমাম হুসাইন (আ.) , আব্বাস , জা ’ ফার , উসমান , আবদুল্লাহ্ ও মুহাম্মদ শহীদ হয়ে যাওয়া ছাড়াও তার দুই সন্তন আউন ও মুহাম্মদ এবং তার ভাইয়ের সন্তানগণ যথা : আলী আকবার , কাসিম , আবদুল্লাহ সহ চাচাত ভাইদের শহীদ হওয়ার ঘটনাকে স্বচক্ষে দেখেছিলেন । আর এদিকে ছোট ছোট শিশুরা উমর ইবনে সা ’ দ ও তার মত অপবিত্র লোকদের হাতে অত্যাচারিত হচ্ছিল এবং যে কোন সময় ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর শহীদ হওয়ার আশংকা ছিল এরূপ কঠিন মুসিবতের সময়ও অর্থাৎ মুহররমের 10 তারিখের দিবাগত রাতেও তিনি তাহাজ্জুতের নামায আদায় করেন ।
ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর অধিকারসমূহ
নারীর দেনমোহর :
আল্লাহ্ তা’ য়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন :
) وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً(
নারীর দেনমোহরকে যা তার উপহার স্বরূপ এবং শুধুমাত্র তারই প্রাপ্য তা তাকে দাও ।44
অন্যত্র আল্লাহ তা’ য়ালা বলেছেন :
) وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا(
যদি অনেক বেশী পরিমানেও দেনমোহর হিসেবে ¯ স্ত্রীকে দিয়ে থাক তা থেকে কিয়দংশও নিও না ।45
যখন ইউরোপ ও অন্যান্য দেশগুলো নারীদের কোন অধিকার দানের ব্যাপারে চিন্তাও করতো না এবং তাদের ব্যাপারে ছিল সম্পূর্ণরূপে উদাসীন তখন মহান ধর্ম ইসলাম তাদের জন্য দেনমোহরের ব্যবস্থা করে । আর এই দেনমোহরের সম্পূর্ণটাই হচ্ছে তাদের এবং তারা এ ব্যাপারে যা ভাল মনে করবে তাই করবে তাতে কেউ বাধা দিতে পারবে না ।
স্ত্রীদের দেনমোহরের উপর ইসলাম এতই গুরুত্বারোপ করেছে যে , অবশেষে এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে বলেছে : যদি কোন ব্যক্তি কোন মহিলার সাথে শুধু আক্বদ করে এবং ঐ আক্বদ আনুষ্ঠানিকতার পর্যায় পর্যন্ত না পৌঁছায় (অর্থাৎ সংসার শুরুর এবং দৈহিক সম্পর্ক হওয়ার আগেই আলাদা হয়ে যাওয়া) তথাপিও সে যেন ঐ মহিলাকে অর্ধেক দেনমোহর প্রদান করে ।46
রাসূল (সা.) বলেছেন :ﻣﻦ ﻇﻠﻢ ﺍﻣﺮﺍﺓ ﻣﻬﺮﻫﺎ ﻓﻬﻮ ﻋﻨﺪ ﺍﷲ ﺯﺍﻥ -যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর উপর দেনমোহরের ক্ষেত্রে জুলুম করে (তা না দিতে চেয়ে তার উপর অত্যাচার করে অথবা দিতে গিয়ে তাকে কষ্ট দেয়) এই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ব্যভিচারী হিসেবে চিহ্নিত হবে ।47
জাহেলিয়াতের যুগে সমাজে একটি খারাপ অভ্যাস বিদ্যমান ছিল তা হচ্ছে মহিলাদেরকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হত যাতে করে তারা দেনমোহর ব্যতীতই তালাক নিয়ে নেয় । এটা তখনই হত যখন কোন মহিলার দেনমোহরের পরিমান অনেক বেশী থাকতো । কিন্তু ইসলাম এই ধরনের কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ।
আল্লাহ্ তা’ লায়া পবিত্র কোরআনে বলেছেন :
) وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّـهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا(
যা তোমরা দেনমোহর হিসেবে নির্দিষ্ট করেছো তার একটি অংশকেও নিজেদের হস্তগত করার জন্য তাদের উপর অত্যাচার - জুলূম করোনা ; তবে যদি তারা প্রকাশ্যে কোন অশ্লীল কাজ করে থাকে ভিন্ন কথা এবং তাদের সাথে উপযুক্ত ব্যবহার কর । আর যদি তাদেরকে কোন কারণে অপছন্দ করো তবে সঙ্গে সঙ্গে আলাদা হয়ে যাওয়ার চিন্তা করো না , কেননা এমনও তো হতে পারে তোমরা যেটা অপছন্দ করছো আল্লাহ হয়তো তার মধ্যে অনেক ভাল কিছু নিহিত রেখেছেন ।48
নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব :
ইসলাম পুরুষের উপর নারীর ভরণ-পোষণকে ওয়াজিব (ফরজ) করেছে , যেমন তার খোরাক , পোশাক , থাকার ব্যবস্থা ইত্যাদি । যদি কোন নারীর অনেক সম্পদ ও নিজস্ব আয়ের উৎস থাকে তথাপিও ঐ নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তার স্বামীর উপর থাকবে ।
মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম বলেন ইমাম সাদিক (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে : একজন পুরুষের উপর কাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব রয়েছে ? ইমাম সাদিক (আ.) জবাবে বললেন : পিতা-মাতা , স্ত্রী ও সন্তান ।49
নারীর উত্তরাধিকার :
ইসলাম নারীর জন্য সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ধারণ করেছে । যদি উত্তরাধিকারী হিসেবে একজন পুত্র ও একজন কন্যা সন্তান থাকে তবে কন্যা পুত্রের অর্ধেক সম্পত্তি পাবে । আবার কখনো কখনো মেয়েরা অর্ধেকের থেকেও বেশী পেয়ে থাকে যেমন যদি কোন মৃত পিতা অথবা মাতার একটি মাত্র সন্তান থাকে এবং ঐ সন্তান যদি মেয়ে হয় সেক্ষেত্রে চার ভাগের এক ভাগ পাবে মা অথবা বাবা আর চার ভাগের তিন ভাগ পাবে ঐ মেয়ে । আবার কখনো কখনো মেয়ে সম্পূর্ণ সম্পত্তিরই ভাগিদার হয় যেমন মৃতের মেয়ে ব্যতীত অন্য কোন উত্তরাধিকার না থাকে ।
স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকেও চার ভাগের এক ভাগ সম্পত্তি পেয়ে থাকে যদি তাদের কোন সন্তান না থেকে থাকে । আর যদি সন্তান থেকে থাকে তবে আট ভাগের এক ভাগ পাবে ।
মা আবার তার সন্তানদের কাছ থেকে ছয় ভাগের এক ভাগ সম্পত্তি পেয়ে থাকে । কোন কোন ক্ষেত্রে এর থেকেও বেশী পেয়ে থাকে ।
এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে ইসলাম নারীদের জন্য উত্তরাধিকার নির্ধারণ করেছে । নারিগণ কয়েকদিক থেকে সম্পত্তি পেয়ে থাকে যেমন : মেয়ে হিসেবে বাবার কাছ থেকে , মা হিসেবে সন্তানদের কাছ থেকে এবং স্ত্রী হিসেবে স্বামীর কাছ থেকে ।
নারীর অধিকার নিশ্চিত করা :
জাহেলিয়াতের যুগে এটা রেওয়াজ ছিল যে , শুধুমাত্র পুরুষকেই সবাই উত্তরাধিকারী হিসেবে মনে করতো । আর এটায় বিশ্বাসী ছিল যে , যারা অস্ত্র হাতে নিজের আত্ম-সম্ভ্রম রক্ষার লক্ষ্যে যুদ্ধ ও প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে তারাই হচ্ছে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার যোগ্য । আর যারা তা পারবে না তারা উত্তরাধিকারী হওয়া সত্বেও সম্পত্তি পাবে না । আর এই দলিলের ভিত্তিতে নারিগণকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতো এবং মৃতের সম্পত্তিকে পুরুষদের মধ্যে বণ্টন করে দিত । অনেক দূরের পুরুষ আত্মীয়-স্বজনও এই সম্পত্তির ভাগ পেতো । ইসলাম সম্পত্তি বণ্টনে এই ভুল প্রক্রিয়ার তীব্রভাবে বিরোধিতা করে এবং নারী ও শিশুদের যোগ্য অধিকার যা অন্যরা অন্যায়ভাবে ভোগ করছিল তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে প্রকৃত পাওনাদারের হাতে অর্পণ করছে । এ পর্যায়ে পবিত্র কোরআন বলেছে :
) لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَّفْرُوضًا(
পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে যেমন পুরুষের অংশ রয়েছে তেমনি পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীরও অংশ রয়েছে । তা সে যতই কম বা বেশী হোক না কেন । আর এই অংশ তাদেরকে দেয়াটা হচ্ছে ওয়াজিব (ফরজ) ।50
জাহেলি যুগের আরো একটি অন্যায় প্রথা ছিল যে , তখনকার পুরুষরা অসুন্দরী বয়স্ক ধনী মহিলাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হত এবং পরবর্তীতে বিয়ের পূর্বেকার অবস্থায় রেখে দিত অর্থাৎ না তাদেরকে স্ত্রীর মর্যাদা দিত না তাদেরকে তালাক দিত । এ কাজের অর্থ হচ্ছে তারা শুধুমাত্র দিন গুনতো যে , কবে তারা মৃত্যুবরণ করবে । কারণ তারা মৃত্যুবরণ করলেই স্বামী হিসেবে তারা ঐ সম্পত্তির মালিক হয়ে যাবে । কিন্তু ইসলাম তাদের এরূপ জুলুম ও অত্যাচারমূলক কাজের নিন্দা করেছে ও তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে :
) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا(
যারা ঈমান এনেছো , তোমাদের জন্য এটা বৈধ নয় যে , জবরদস্তি করে (তাদেরকে কষ্ট দিয়ে) তাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে ।51
কেন নারী , পরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পাবে ?
ইমাম সাদিক (আ.)-এর কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে : কেন নারী , পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পাবে ?
ইমাম এই প্রশ্নের জবাবে বললেন : এর কারণ হচ্ছে যে , জিহাদ করা , সংসার পরিচালনার খরচ এবং দিয়াহ্ ( রক্তপণ ) দেয়া নারীর উপর ওয়াজিব ( ফরজ ) নয় ।52
যেভাবে ইমাম বলেছেন , জিহাদ করা নারীর উপর ওয়াজিব নয় । প্রথমত প্রয়োজনে পুরুষকে দ্বীন রক্ষার লক্ষ্যে অবশ্যই জিহাদ করতে হবে , দ্বিতীয়ত নারীর ভরণ-পোষণের খরচ স্বামীকেই বহন করতে হবে যদিও স্ত্রী অনেক ধনী হয়ে থাকে , তৃতীয়ত কখনো ভুলবশত পরিবারের কোন সদস্যের হাতে বাইরের কেউ নিহত হলে সেক্ষেত্রে পুরুষকেই ঐ হত্যা বাবদ দীয়াহ্ (রক্তপণ) প্রদান করতে হয় কিন্তু নারী এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ দায়হীন ।
চতুর্থত যখন নারী বিয়ে করে তখন সে দেনমোহর বাবদ স্বামীর পক্ষ থেকে কিছু গ্রহণ করে থাকে । এ সব কারণে বলা যায় যে , নারীরা হচ্ছে গ্রহণকারী এবং পুরষরা হচ্ছে খরচকারী । আর তাই পুরুষের সম্পত্তির অংশ নারীর দ্বিগুণ হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত যাতে করে ভারসাম্যের সৃষ্টি হয় ।
দুধ প্রদানের অধিকার :
) فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ(
যদি নারিগণ তোমাদের বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায় তবে তাকে তার পারিশ্রমিক দান কর ।53 .
1 .এটা ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় নয় যে , মা বিনামূল্যে অথবা পারিশ্রমিক গ্রহণ পূর্বক তার শিশুকে দুধ প্রদান করবে । তবে এটা এই ক্ষেত্রে যে , যখন শিশুর খাদ্য শুধুমাত্র মায়ের দুধের উপর নির্ভরশীল নয় এবং শিশুকে অন্যান্য খাদ্য (অন্য দুধও) প্রদান করাও যায় তবে লক্ষ্য রাখতে হবে তাতে যেন শিশুর কোন ক্ষতি না হয় ।
2 .যখন শিশুর খাদ্য শুধুমাত্র মায়ের দুধের উপর নির্ভরশীল , সেক্ষেত্রে ওয়াজিব নয় যে , মা বিনামূল্যে অর্থাৎ কোন পারিশ্রমিক না নিয়ে শিশুকে দুধ খাওয়াবেন , বরং শিশুর অর্থ থেকে (যদি তার অর্থ থেকে থাকে) । আর যদি তার অর্থ না থাকে তবে তার পিতার কাছ থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে ।
3 .যদি শিশু ও তার পিতা এবং তার দাদা অর্থশালী না হয় তবে সেক্ষেত্রে মা অবশ্যই শিশুকে বিনামূল্যে দুধ প্রদান করবে অথবা কোন নারীকে দুধ প্রদানের জন্য নিয়োগ করবে । তবে তাতে যেন শিশুর কোন ক্ষতি না হয় । তবে অন্য পন্থাও অবলম্বন করতে পারে যেমন গরুর দুধ অথবা গুড়ো দুধ শিশুর জন্য ব্যবহার করতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে তার খরচের ভার মায়ের উপর পড়বে ।
4 .শিশুর দুধ প্রদানের জন্য তার মাতাই হচ্ছে সর্বাধিক উত্তম । যদিও মা বিনামূল্যে , সমমূল্য অথবা অন্যদের থেকে কম পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন ।54
স্বামীর মৃত্যুর পরে নারী :
কোন এক সময় কোন কোন দেশে যেমন ভারতে রেওয়াজ ছিল কোন নারীর স্বামী মৃত্যুবরণ করলে ঐ নারীকে তার স্বামীর সাথে জীবিত পুড়িয়ে দেয়া হত অথবা তাকে মৃতের উত্তরাধিকার সম্পত্তি হিসেবে কোন এক অংশীদার নিজের জন্য নিয়ে যেত । ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে যে , স্বামীর মৃত্যুর পরে একটি নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষার পর ঐ নারী পুনরায় বিয়ে করতে পারবে । হয়তো কোন কোন ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষারও প্রয়োজন নেই ।55
যদি কোন নারীর স্বামীর মৃত্যু হয়ে থাকে এবং তার ছোট সন্তান থাকে তবে সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য তার সন্তান বড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ । তবে শর্ত হচ্ছে যে , এই অপেক্ষা করতে গিয়ে সে যেন কোন পাপে লিপ্ত না হয়ে যায় । কেননা দ্বিতীয় বিয়ের ফলে এটার সম্ভাবনা আছে যে , মা এবং সন্তানদের মধ্যে ভালবাসার ঘাটতি হতে পারে যা সন্তানের উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করতে পারে ।
হিদাদ :
যে নারীর স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে , তার মৃত্যুর ইদ্দত পালনের জন্য ইসলাম যে সময় নির্দিষ্ট করেছে সে সময়ে ঐ নারীর সাজ-গোজ না করা ওয়াজিব , যেমন : সুরমা দেয়া , আতর দেয়া , মেহ্দী লাগানো এবং লাল , হলুদ রংয়ের পোশাক পরিধান করা , আর যা তাকে সুন্দরী করে তুলে এমন কিছু পরা । তবে এগুলো যার যার এলাকা ভিত্তিক রসম-রেওয়াজ অনুযায়ী হওয়া ভাল । আর উক্ত সময়ে সাজসজ্জা পরিহারের এ প্রথাকে হিদাদ বলা হয় ।
তবে জীবন পরিচালনার জন্যে প্রয়োজনীয় কিছু কেনা-কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হওয়া , শরীর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা , চুল আচড়ানো , নখ কাটা , গোসল করা , সুন্দর বাড়ীতে থাকা , পিতা-মাতাকে দেখতে যাওয়া এবং হজ্জে যাওয়াতে কোন অসুবিধা নেই । কেননা এগুলো হিদাদের আওতায় পড়বে না ।
যদি কোন নারীর স্বামীর মৃত্যু হয়ে থাকে এবং তার ছোট ছোট বাচ্চা থাকে তবে সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য তার সন্তান বড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ । তবে যদি সে বুঝতে পারে অপেক্ষার ফলে পাপে লিপ্ত হতে পারে সেক্ষেত্রে তার বিয়ে করাতে কোন অসুবিধা নেই বরং কোন কোন ক্ষেত্রে তা প্রয়োজনীয় ও ওয়াজিব হয়ে যায় ।
রাসূল (সা.) বলেছেন : কিয়ামতের দিনে তিনটি দল আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবে যেদিন ঐ ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না , আর তারা হচ্ছে :
1 .যারা‘ ছেলেহ্ রাহেম’ পালন করে অর্থাৎ আত্মীয় - স্বজনদের খোজ খবর নেয় ও বিশেষ করে পিতা - মাতার দেখা - শুনা করে , তাদের আয়ু ও রিজিক বৃদ্ধি পায় ।
2 .যে নারীর স্বামী মৃত্যুবরণ করে এবং তার ছোট সন্তান থাকে আর ঐ নারী এ সন্তানদের কারণে বলে যে , আমি বিয়ে করবো না , তবে যদি তারা মারা যায় অথবা আল্লাহ তাদেরকে ধনী করে দেন তবে ভিন্ন কথা ।
3 .কেউ যদি খাবার তৈরী করে মেহমানদেরকে খেতে দেয় এবং সাথে সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ইয়াতিম ও মিসকিনদেরও খেতে দেয় ।56
(যেহেতু আমাদের এই বইয়ের বিষয়টি একটু ভিন্ন তাই নারীর অধিকার সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে কিছু বর্ণনা করা হল । তবে এ বিষয়ে আরো বেশী জানার জন্য এই বিষয়ের উপর লিখিত বইসমূহ দেখার জন্য বিশেষ অনুরোধ রইল । )
যখন ইসলামকে অন্যান্য ধর্মের সাথে তুলনা করা হবে তখন দেখা যাবে যে , ইসলাম নারীর অধিকারের ব্যাপারে কত গুরুত্বই না দিয়েছে । আর এ কারণেই ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেছেন : আল্লাহ জানেন , ইসলাম নারীর যতটা কল্যাণ করেছে কোন পুরুষের ততটা কল্যাণ করে নি... ।57
ক)- ইসলামের প্রথম দিকে এবং ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর আবির্ভাবের পরবর্তীকালে সমাজিক ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা :
) وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ(
ঈমানদার নারী-পুরুষ হচ্ছে একে অপরের সাহায্যকারী , (তারা একে অপরকে) ভাল কাজে উপদেশ এবং খারাপ কাজে নিষেধ করেন ।58
উল্লিখিত আয়াতটি আমাদেরকে এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে , ইসলাম ঈমানদার নারী-পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উপস্থাপন করেছে । আর তারা অবশ্যই সামাজিক কাজ কর্মে যেমন ভালকাজের আদেশ দান ও মন্দ কাজের নিষেধ করা প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ করবেন এবং এরূপ ঐশী দায়িত্বকে সঠিকভাবে পালন করবেন । এই বিষয়টি শুধুমাত্র পুরুষের উপর অর্পিত কোন বিষয় নয় বরং ঈমানদার নারিদেরকেও অবশ্যই এই কাজে নিয়োজিত হতে হবে । এমন কিছু বিষয়ে ইসলামের প্রাথমিক যুগের নারীগণের ভূমিকা তুলে ধারার চেষ্টা করবো ।
1.নাসিবাহ্ নামের এক নারী যিনি পরবর্তীতে‘ উম্মে আম্মারাহ্ ’ নামে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন , তিনি দুই শহীদের মাতাও ছিলেন । তিনি রাসূল -এর যুগে প্রতিটি যুদ্ধে (সা.) আহতদের চিকিৎসা ও তাদেরকে পানি পান করানোর কাজে নিয়োজিত থাকতেন ।
2.উম্মে সানান নবীর স্ত্রী উম্মে সালামাহর সহযোগিতায় খাইবারের যুদ্ধে আহতদের শুশ্রূযা ও পানি পৌঁছানোর কাজে সাহায্য করেছিলেন ।
3.ইমাম বাকির (আ.) বলেছেন : ওহুদের যুদ্ধে হযরত আলীর শরীরে 60 টি ক্ষতের সৃষ্টি হয় যার কারণে রাসূল (সা.) দুইজন মহিলা যথাক্রমে : উম্মে সালামাহ্ ও উম্মে আতিয়াহকে তাঁর শরীরের ঐ ক্ষতের চিকিৎসা করার জন্য দায়িত্ব দেন ।
যে সমস্ত নারী ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলামের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলোতে ভূমিকা পালন করেছিল এবং আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের কাজে সাহায্য করেছিল তাদের সংখ্যা অনেক ।
ইমাম সাদিক (আ.) বলেন : ইমাম মাহ্দী (আ.) যখন আবির্ভূত হবেন তখন তাঁর সাথে 13 জন মহিলা থাকবে । প্রশ্ন করা হলো কি কারণে ? তিনি জবাবে বললেন : এই মহিলাগণ আহ্ত ব্যক্তিদের সেবা-শুশ্রূষা করার জন্য (সা.) থাকবে । যেমনভাবে রাসূল– এর যুগে ছিল ।
খ)- রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা :
মক্কা নগরী অষ্টম হিজরীতে মহানবী (সা.) ও আলী (আ.)-এর সক্রিয় উপস্থিতিতে ইসলামের সৈন্যদের হাতে বিজিত হয় এবং মুসলমানদের (সা.) আয়ত্বে আসে । কাফেররা আত্মসর্মপন করে মহানবী (সা.)-এর কাছে হাজির হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলো । মহিলারাও বাইয়াত করার জন্য নবী এর কাছে গেল । এমন সময় এই মর্মে আয়াত নাজিল হলো যে , তাদের সঙ্গে 6 টি শর্তে বাইয়াত গ্রহণ কর ।
হে নবী! যখন নারিগণ ঈমানের সাথে বাইয়াত করার তোমার কাছে আসবে তখন নিম্নলিখিত শর্তে যথা :
1- আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না ,
2- চুরি করবে না ,
3- ব্যভিচার করবে না ,
4- নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না ,
5- অন্যকে অপবাদ দিবে না ,
6- ভাল কাজের ক্ষেত্রে তোমার নির্দেশ অমান্য করবে না , তুমি তাদের হতে বাইয়াত গ্রহণ করবে । আর তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইবে , কেননা আল্লাহ অতিশয় দয়ালু ।59
যখন মহিলারা বাইয়াত করার জন্য তৈরী হল তখন উম্মে হাকিমা জিজ্ঞাসা করলো : কিভাবে বাইয়াত করবো ?
নবী (সা.) বললেন : আমি কখনই তোমাদের হাতের সাথে হাত স্পর্শ করবো না । অত:পর পানি ভর্তি একটি পাত্র আনতে বললেন এবং তার মধ্যে তিনি হাত দিয়ে তা বরকতময় করে হাত উঠিয়ে নিলেন । এরপর মহিলাদেরকে একে একে ঐ পানির মধ্যে হাত দিতে বললেন ।60
গ)- ইমাম খোমেনীর দৃষ্টিতে সামাজিক ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা :
‘ আমি ইরানের বিভিন্ন শহরের যেমন কোম ও মাশহাদের নারীদের সাহসিকতা দেখে গর্ববোধ করি । আপনারা সাহসী নারীরাই এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন । আপনারাই পুরুষদেরকে সাহস যুগিয়েছিলেন । আমরা সকলেই আপনাদের সাহসিকতার কাছে কৃতজ্ঞ । ইসলাম নারীদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখেছে । ইসলাম নারীদের প্রতি যতটা অবদান রেখেছে তা পুরুষদের প্রতি অবদানের চেয়েও বেশী । আর এই বিপ্লবের বিজয়ের ব্যাপারেও নারীদের ভূমিকা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশী ছিল ।
নারীরা অবশ্যই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সক্রিয় অংশ্রগ্রহণ করবেন । আপনারা যেভাবে বিপ্লব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং এক্ষেত্রে অংশীদার ছিলেন তদ্রূপ এখন এই বিজয়ের সাথে অবশ্যই অনুরূপ অংশীদার থাকুন । আর এটা ভুলে যাবেন না যে , যখনই জাতির প্রয়োজন তখনই কিয়াম করবেন (দায়িত্ব পালনের জন্য বেরিয়ে আসবেন) । কেননা এই দেশটা তো আপনাদের ।
ইনশাআল্লাহ তা’ য়ালা আপনারা অবশ্যই এই দেশটিকে গড়ে তুলবেন । ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহিলারা পুরুষের সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন । আর আমরা তাদেরকে কখনো কখনো পুরুষদের মতই ভূমিকা পালন করতে দেখেছি আবার কখনো তারা পুরুষদের থেকেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন । নিজেকে , নিজের সন্তানদেরকে বিশেষ করে যুবকদেরকে উৎসর্গ করেছিলেন তাতেও তারা হতোদ্যম হন নি , বরং শক্ত হাতে শত্রুকে প্রতিরোধ করেছিলেন । আমরা তো এটাই চাই যে , নারীরা মনুষ্যত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাক । আর নারীরা অবশ্যই তাদের ভাগ্য নির্ধারণী বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন ।
ইসলাম বিপ্লব পূর্ব প্রশাসন আমাদের সাহসী ও যোদ্ধা নারীগোষ্ঠীকে কোণ ঠাসা করে রাখতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ্ তা চান নি । তারা নারীকে পণ্যের ন্যায় ব্যবহার করতে চেয়েছিল , কিন্তু ইসলাম নারীকে পুরুষের অনুরূপ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনের অনুমতি দিয়েছে ।61
শেষ কথা :
উল্লিখিত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে , রাসূল (সা.)-এর সময় নারিগণ বাইয়াতের মত একটি রাজনৈতিক বিষয়েও বিশেষ শর্তে অংশ গ্রহণ করেছিলেন । সাথে সাথে তারা যুদ্ধের ময়দানে আহতদের সেবা- শুশ্রূষা করার কাজেও অংশগ্রহণ করেছিলেন । তারা যুদ্ধে তাদের স্বামী , সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়-স্বজনদের শহীদ হওয়াতে গর্ববোধ করতেন । কেননা তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে , এটাই হচ্ছে আল্লাহর পথ । এমনকি তাদের স্বামী , সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়-স্বজনদের শহীদ হওয়ার পর তারা যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন ।
ফেরাউনের বিরুদ্ধে হযরত আসিয়ার সংগ্রাম , ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে হযরত খাদিজা (আ.)-এর সংগ্রাম , হযরত ফাতিমা (আ.)-এর ইমাম আলী (আ.)-এর বেলায়াত ও ইমামতের পক্ষে শত্রুর মুকাবিলা করা , হযরত যয়নাব (আ.)-এর ইমাম হুসাইন (আ.) -এর বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ইয়াযিদ ও তার দোসরদের ইসলামের শত্রু হিসেবে প্রমাণ করে দেয়া , এসব কিছুই এটার প্রমাণ দেয় যে , ইসলামের পূর্বে অন্যান্য নবীদের যুগে এবং ইসলামের প্রথম যুগে নারীরা সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভূমিকা পালন করেছিল । আর ইসলাম কোন পক্ষপাতিত্ব না করেই নারী ও পুরুষ উভয়ের অধিকারের ব্যাপারে ন্যায়সঙ্গত কথা বলেছে , যা পবিত্র কোরআন , নবী (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের ইমামদের (আ.) হাদীসে প্রমাণিত । আর আমরা নারী ও পুরুষের মধ্যে যে বিধানগত পাথর্ক্য দেখতে পাই তা হচ্ছে তাদের সৃষ্টিগত ও প্রকৃতিগত পার্থক্যের কারণে । তাই আল্লাহ্ তা ’ য়ালা তাদের উভয়েরই কর্মক্ষেত্র ও দায়িত্বের পরিধি নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন । এই পার্থক্যের কারণে হয়তো অধিকারের ক্ষেত্রেও একে অপরের মধ্যে পার্থক্য দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকে ।
ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেছেন : ইসলাম নারীদেরকে পুরুষের পাশাপাশি স্থান দিয়েছে । কেননা নবী (সা.) -এর আসার আগে পর্যন্ত নারীদেরকে কোন মূল্যই দেয়া হতো না । ইসলাম নারীদেরকে ক্ষমতা দান করেছে এবং পুরুষ ও মহিলাকে একে অপরের পরিপূরক করেছে । যদিও ইসলামের দৃষ্টিতে পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট আইন-কানুন আছে এবং মহিলাদেরও তদ্রূপ কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে , ইসলাম তাদের মধ্যে পার্থক্য করেছে ।
পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্যসমূহ
1- শারীরিক গঠনের ক্ষেত্রে :
সাধারণভাবে পুরুষরা হচ্ছে বৃহৎ গড়নের আর নারীরা হচ্ছে ক্ষুদ্র গড়নের , পুরুষেরা অপেক্ষাকৃত লম্বা আর নারীরা খাট । পুরুষের শরীর সুঠাম আর নারীর শরীর কোমল । পুরুষের কণ্ঠস্বর মোটা আর নারীরর কণ্ঠস্বর হচ্ছে মোলায়েম । নারীদের শরীরের বৃদ্ধি দ্রুত হয় কিন্তু পুরুষের শরীরের বৃদ্ধি হয় ধীরে । এমনকি মায়ের গর্ভে কন্যা শিশু , ছেলে শিশুর থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পায় । নারীদের শরীরিক শক্তির থেকে পুরুষের শারীরিক শক্তি বেশী । তবে অসুস্থতার ক্ষেত্রে পুরুষের থেকে নারীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশী । নারীরা পুরুষের আগেই বালেগ (বয়ঃপ্রাপ্ত) হয় এবং পুরুষের অনেক আগেই তারা সন্তান জন্মদান ক্ষমতা হারায় । কন্যা সন্তান ছেলে সন্তানের আগে কথা বলতে শিখে । মধ্যম আকারের পুরুষের মগজ একজন মধ্যম আকারের নারীর মগজের থেকে বড় । পুরুষের ফুসফুস নারীর ফুসফুসের থেকে বেশী হাওয়া ধারন করে । পুরুষের হৃদ-স্পন্দন থেকে নারীর হৃদ-স্পন্দনের গতি দ্রুত ।
2- মানসিক দিক থেকে :
শিকার করা এবং অনেক কঠিন কাজ করার নেশা নারীদের থেকে পুরুষের অনেক বেশী । পুরুষেরা যুদ্ধ ও প্রতিরোধ করার মন মানসিকতা সম্পন্ন কিন্তু নারীরা সব সময় সন্ধি ও শান্তির পক্ষে । পুরুষেরা একটুখানি রুক্ষ স্বভাবের কিন্তু নারীরা হচ্ছে নরম স্বভাবের । নারীরা সাধারণত অপরের সাথে বিবাদ করতে অপছন্দ করে আর এ কারণেই তাদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা অতিমাত্রায় কম । আত্মহত্যার ক্ষেত্রেও পুরুষ নারীর থেকে অনেক নিষ্ঠুর প্রকৃতির , কেননা পুরুষ আত্মহত্যা করলে নিজেকে গুলি করে অথবা গলায় দড়ি দিয়ে অথবা ছাদের উপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে আত্মহত্যা করে কিন্তু নারীরা আত্মহত্যা করলে বিষ খেয়ে অথবা ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করে ।
মহিলারা পুরুষদের থেকে অধিক মাত্রায় আবেগপ্রবণ ও অনুভূতিশীল অর্থাৎ যে বিষয়টি নারীদের অধিক পছন্দনীয় অথবা ভয় পায় সে বিষয়টি তার সামনে আসলেই দ্রূত গতিতে তার আবেগ প্রকাশ করে কিন্তু এসব ক্ষেত্রে পুরুষ অধিক শান্তও স্থির প্রকৃতির । মহিলারা প্রকৃতিগত কারণেই পুরুষের থেকে অধিকমাত্রায় গহনা , সাজ-গোজ , দামী পোশাক ইত্যাদি পছন্দ করে । নারীদের আবেগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না , কিন্তু পুরুষের তার উল্টো । মহিলারা পুরুষের থেকে অধিক ধর্মভীরু , অধিক সাবধানতা অবলম্বনকারী , অধিক কথা বলে , অধিক ভীতু ও অধিক আনুষ্ঠানিকতার ভাব সম্পন্ন । নারীর আবেগ হচ্ছে মায়ের আবেগ , আর এই আবেগ তারা সেই ছোট বেলা থেকেই অর্জন করে থাকে । পরিবারের প্রতি নারীদের ভালবাসা ও সামাজিক এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার বৈশিষ্ট্যটি তাদের মধ্যে পুরুষের থেকে অধিক । মহিলারা সাধারণত যুক্তিভিত্তিক জ্ঞানের দিকে বিশেষ আকর্ষণ অনুভব করে না তবে কাব্য , উপন্যাস , অংকন প্রভৃতি ক্ষেত্রে পুরুষের থেকে কোন অংশে কম নয় । পুরুষেরা মহিলাদের থেকে অধিক পরিমানে গোপন কথা এবং দুঃখকে নিজেদের বুকে চেপে রাখতে পারে । মহিলারা পুরুষের থেকে অধিক নরম হওয়ায় দ্রুত কেঁদে ফেলে এবং অজ্ঞানও হয়ে পড়ে ।
3- অন্যান্য আবেগের দৃষ্টিতে :
পুরুষেরা কামনার দাস কিন্তু নারীরা পুরুষের ভালবাসার অপেক্ষায় থাকে । পুরুষ এমন নারীকে পছন্দ করে , যে তাকে পছন্দ করবে । আর নারী এমন পুরুষকে পছন্দ করে , যে তার মূল্যকে বুঝবে ও মর্যাদাকে অনুভব করবে এবং যে তার ভালবাসাকে পূর্বেই প্রকাশ করে দিবে । পুরুষ সাধারণত জোর করেই নারীর উপর কর্তৃত্ব অর্জন করতে চায় কিন্তু নারী পুরুষের অন্তর জয় করার মাধ্যমে তার উপর কর্তৃত্ব করতে চায় । মহিলারা চায় তার স্বামী যেন সাহসী হয় আর পুরুষ চায় তার স্ত্রী যেন সুন্দরী হয় । নারী পুরুষের সাহায্যকে এক অমূল্য সম্পদ বলে মনে করে থাকে । নারী পুরুষের থেকেও তার কামভাবের উপর অধিক কর্তৃত্বশীল হয়ে থাকে , পুরুষের কামভাব হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের এবং আক্রমণাত্মক কিন্তু নারীর কামভাব হচ্ছে প্রতিক্রিয়া ও উস্কানীমূলক ।62
শেষ কথা :
যা কিছু উপরে উল্লেখ করা হয়েছে , তা থেকে আমরা এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছি যে ,
প্রথমতঃ পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে পার্থক্য বিদ্যমান তা আল্লাহ প্রদত্ত আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে যা এ গ্রন্থেও তৌহিদী ব্যবস্থায় নারী শীর্ষক আলোচনাতে বর্ণিত হয়েছে ।
দ্বিতীয়তঃ পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে বৈবাহিক সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তা শুধুমাত্র দৈহিক চাহিদার কারণেই নয় । কেননা যদি দৈহিক চাহিদার কারণেই এই সম্পর্কের সৃষ্টি হতো তাহলে অবশ্যই পরিবারের বন্ধনসমূহ কিছু দিন পরেই শেষ হয়ে যেত । অতএব পুরুষ ও নারীর বন্ধনের প্রকৃত কারণ যেটা সেটা হচ্ছে এই দৈহিক চাহিদার থেকেও অন্য কিছু , আর তা সমস্ত সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা ’ য়ালা তাঁর আসমানী কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে :
) وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً(
আল্লাহর অন্যতম (নিদর্শন) হচ্ছে এই যে , তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন যাতে করে তোমরা প্রশান্তি অনুভব কর এবং তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও রহমতকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ।63
সুতরাং যে বৈশিষ্ট্যটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বন্ধনকে দৃঢ় করে তার ভিত্তি হচ্ছে ফিতরাত যা আল্লাহ তা ’ য়ালা তাদের উভয়ের মধ্যে দিয়েছেন । আর ঐ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভালবাসা ও পারস্পরিক রহমত।
যে নারী বাড়ীর লোকদের খেদমত করে তার সওয়াব ও মর্যাদা
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
الامراة الصالحة خیر من الف رجل غیر صالح و ایما امرآة جدمت زوجها سبعة ایام اغلق الله عنها سبعة ابواب و فتح لها ثمانیة ابواب الجنة تدخل من ایها شاءت
একজন উপযুক্ত নারী হাজার জন অনুপযুক্ত পুরুষের থেকে উত্তম এবং যে নারী সাত দিন অন্তর দিয়ে স্বামীর সেবা করবে , আল্লাহ্ তা’ য়ালা তার জন্য দোযখের সাতটি দরজা বন্ধ করে দিবেন ও বেহেশতের আটটি দরজা তার জন্য উম্মুক্ত করে দিবেন , আর সে যে দরজা দিয়েই প্রবেশ করতে চায় প্রবেশ করবে । 64
স্বামীকে পানি দেয়ার সওয়াব :
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
ﻣﺎ ﻣﻦ ﺍﻣﺮﺍﺓ ﺗﺴﻘﻲ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﺷﺮﺑﺔ ﻣﻦ ﻣﺎﺀ ﺍﻻ ﻛﺎﻥ خیرﺍ لها ﻣﻦ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺳﻨﺔ ﺻﻴﺎﻡ ﰱ نهارها و قیام لیلها و یبنی الله لها بکل ﺷﺮﺑﺔ ﺗﺴﻘﻲ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﻣﺪﻳﻨﺔ فی الجنة و غفرلها ستین خطیئة -
কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীকে পানি পান করায় তবে তার এ কাজ এক বছরের ইবাদত যার দিনগুলোতে রোযা রাখা হয় এবং রাতগুলোতে নামায পড়া হয় তা থেকেও উত্তম । আর আল্লাহ তার পুরস্কার স্বরূপ যে পানি তার স্বামীকে দিয়েছে তার প্রতিটি ফোটা থেকে বেহেশতে শহর তৈরী করবেন এবং তার 60 টি গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন ।65
পুরুষ ও নারী অবশ্যই একে অপরকে সাহায্যকারী মনে করা উচিৎ । আর নারী বাড়ীর যে সকল কাজ আঞ্জাম দিয়ে থাকে তা শুধুমাত্র আল্লাহকে রাজী ও খুশি করার উদ্দেশ্যে যেন হয়ে থাকে । আর যখনই আল্লাহকে রাজী ও খুশি করার উদ্দেশ্যে বাড়ীর কাজগুলো আঞ্জাম দেয়া হবে তখনই ঐ বাড়ী বেহেশতের ন্যায় হয়ে উঠবে এবং একে অপরের মধ্যে গড়ে উঠবে ভালবাসার বন্ধন । সাথে সাথে পুরুষও যেন পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র ব্যবস্থা করার কাজকে একটি ইবাদত মনে করে তা করে । যেরূপ হযরত আলী (আ.)ও হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর পদ্ধতি ছিল ।
উত্তম নারী পৃথিবীর বুকে হচ্চে আল্লাহর কর্মী এবং সে শহীদের মর্যাদায় ভূষিত :
ﺟﺎﺀ ﺭﺟﻞ ﺇﱃ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ) ﻓﻘﺎﻝ : ﻣﺎﻳﻬﻤﻚ: ﺍﻥ ﱃ ﺯﻭﺟﺔ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻠﺖ ﺗﻠﻘﺘنی ﻭ ﺇﺫﺍ ﺧﺮﺟﺖ ﺷﻴﻌﺘنی ﻭ ﺇﺫﺍ ﺭﺍﺗنی ﻣﻬﻤﻮﻣﺎ ﻗﺎﻟﺖ ﱃ : ما یهمک ان کنت تهتم ﻟﺮﺯﻗﻚ ﻓﻘﺪ ﺗﻜﻔﻞ ﻟﻚ ﺑﻪ ﻏیرﻙ ﻭ ﺍﻥ ﻛﻨﺖ تهتم ﻻﻣﺮ ﺁﺧﺮﺗﻚ ﻓﺰﺍﺩﻙ ﺍﷲ هما ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ) ﺍﻥ ﺍﷲ ﻋﻤﺎﻻ ﻭ ﻫﺬﻩ ﻣﻦ ﻋﻤﺎﻟﻪ ﳍﺎ ﻧﺼﻒ ﺍﺟﺮ ﺷﻬﻴﺪ
একজন রাসূল (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল : আমি যখন বাড়ী ফিরে আসি তখন আমার স্ত্রী আমাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসে । আর যখন আমি বাড়ী থেকে বেরিয়ে যাই তখন সে আমাকে বিদায় দিতে আসে । আর আমি যখন দুঃখিত থাকি তখন সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে , কোন বিষয় তোমাকে দুঃখিত করেছে ? যদি তুমি আয় ও বাড়ীর খরচ নিয়ে দু:খিত তবে তা তো আল্লাহর হাতে , আর যদি আখিরাতের বিষষ ভেবে তুমি দুঃখিত হয়ে থাকো তবে আল্লাহ্ যেন তা আরো বেশী করে দেন । এ সব শুনে রাসূল (সা.) বললেন : পৃথিবীর বুকে আল্লাহর কর্মীরা রয়েছে এই নারী আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীর বুকে তাঁর ঐ কর্মীদের একজন এবং সে একজন শহীদের পুরস্কারের অর্ধেক পুরস্কারে পুরস্কৃত হবে ।66
নারীর জিহাদ
হযরত আলী (আ.) বলেছেন :ﺟﻬﺎﺩ ﺍﳌﺮﺍﺓ ﺣﺴﻦ ﺍﻟﺘﺒﻌﻞ -নারীর জিহাদ হচ্ছে , তার স্বামীকে উত্তমভাবে দেখা-শুনা করা ।67
আসমা , সে ছিল এক আনসারের স্ত্রী । সে রাসূল (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল : আমার পিতা-মাতা আপনার জন্যে উৎসর্গীত হোক! আমি এক দল মহিলার পক্ষ থেকে আপনার কাছে এসেছি । আমার জীবন আপনার জন্যে উৎসর্গীত হোক । পূর্ব ও পশ্চিমের এমন কোন মহিলা নেই যে আমার এ কথার সাথে একমত হবে না । আল্লাহ আপনাকে সত্য দ্বীন দিয়ে মানুষের মধ্যে পাঠিয়েছেন । আমরা আপনার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনি যে , তাঁর পক্ষ থেকেই এসেছেন তাও বিশ্বাস করেছি । আমরা মহিলারা বাড়ীতে বসে থাকি এবং আপনাদের চাওয়া- পাওয়াকে পূরণ করে থাকি , আপনাদের সন্তানদের দায়-দায়িত্ব বহন করে থাকি । আর আপনারা পুরুষেরা জামা ’ য়াতের ও জুময়ার নামায পড়েন , অসুস্থদেরকে দেখতে যান , জানাজার নামায পড়েন , হজ্জ করতে যান , তার থেকেও বড় হলো জিহাদ করতে যান , অন্য দিকে আপনাদের একজন যদি সফরে অথবা হজ্জে যায় আমরাই বাড়ী-ঘর দেখে রাখি , পোশাক তৈরী করি , সন্তানদেরকে লালন পালন করি । এখন আপনি বলুন , হে আল্লাহর (সা.) রাসূল ! আমরা আপনাদের পুরস্কারের শরীক নই কি ?
রাসূল (সা.) তাঁর সাহাবাদের দিকে ফিরে বললেন : তোমরা এই নারীর প্রশ্নের মত উত্তম কোন প্রশ্ন দ্বীনের ব্যাপারে শুনেছো কি ? তারা বলল : না , ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা ধারণাও করতে পারি নি যে , কোন মহিলা (সা.) এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে কথা বলতে পারে । তারপর রাসূল ঐ মহিলার দিকে ফিরে বললেন : হে আসমা! ফিরে যাও এবং অন্য সমস্ত মহিলাদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও যে , তোমাদের মধ্যে যে তার স্বামীর সাথে উত্তম ব্যবহার করবে এবং তার ইচ্ছা ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ করবে সে পুরুষের ঐ সমস্তভাল আমলের সমান সওয়াব পাবে ।
ঐ মহিলা অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তকবির ধ্বনি দিতে দিতে সেখান থেকে প্রস্থান করলো ।68
উপসংহার :
রাসূল (সা.) ও নিষ্পাপ ইমামদের (আ.) বাণী অনুসারে এটা পরিস্কার যে , ইসলাম পরিবারের আন্তরিক ও উষ্ণ পরিবেশে নারীর কাজ-কর্মের ব্যাপারে কত অধিক মূল্য দেয় । আর যখন মানুষ ইসলামের আলোকিত নীতিমালাকে অন্যান্য ধর্মের সাথে তুলনা করবে তখন বুঝতে পারবে যে , শুধুমাত্র ইসলামই নারীকে এত অধিক মূল্য দিয়েছে ও এমন ব্যক্তিত্বপূর্ণ মর্যাদা প্রদান করেছে । আর মুসলমানগণ যদি নিজের অস্তিত্বকে এই আসমানী দ্বীনকে রক্ষার লক্ষ্যে বিলিয়ে দেয় তবে এটা এজন্য যে , শুধুমাত্র ইসলামই তাকে মুক্তি দিতে পারে । আর দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের ইজ্জত ও সম্মান পাওয়াটা পবিত্র ইসলাম ধর্ম অনুসরণের মধ্যেই নিহিত আছে । আল্লাহ্ তা ’ য়ালা পরিবারে নারীদের কাজের ব্যাপারে এত সওয়াব দেয়ার কারণ হচ্ছে দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও অধ:পতন এবং বিকাশ ও অবক্ষয় পরিবারের উপর নির্ভরশীল । যদি একটি শিশু পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠামুক্ত পরিবেশে উপযুক্ত ভালবাসা , আদর ও প্রশিক্ষণে বেড়ে উঠে তবেই জাতির ভবিষ্যত বলে গণ্য ঐ শিশু পরবর্তী কালে দেশ ও জাতির সুষ্ঠু বিকাশ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম । সেই সাথে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা যেমন , তালাক , ঝগড়া-বিবাদ , মানসিক চাপ , উত্তেজনা , অশান্তিও মানসিক বিভিন্ন রোগসমূহ কমে যাবে । কারণ এ সমস্যাগুলোই আইন শৃংখলার অবনতি ঘটায় ও অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করে ।
পশ্চিমা এবং অনৈসলামী দেশগুলোতে এত অধিক পরিমানে তালাক , চুরি , ছিনতাই , খুন , রাহাজানী , ফ্যাসাদ ও আরো অন্যান্য খারাপ কাজ বেড়েই চলেছে যা পুলিশ ও বিচার বিভাগও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না , তার কারণ হচ্ছে মহিলাদের গৃহকর্মের প্রতি মূল্য না দেয়া , পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানটির আন্তরিক পরিবেশের গুরুত্বকে উপেক্ষা করা এবং যে নারী পরিবার গঠনের মাধ্যমে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে তাকে ভোগ্যপণ্য গণ্য করে আমোদ ফূর্তির অনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে নিযুক্ত করা । এরফলে শিশুরা তাদের মায়ের ভালবাসা ও আদর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তারাও ঐ অসভ্যতা শিক্ষা নিচ্ছে , ভালবাসা , আদর যে কাকে বলে তা তারা জানতেই পারছে না । কারণ সভ্য ভাবে বেড়ে উঠার প্রথম পাঠশালা হচ্ছে প্রতিটি শিশুর বাড়ী ও ঐ পাঠশালার প্রথম শিক্ষক হচ্ছে তাদের বাবা-মা । যেখানে তাদের বাবা-মা অসভ্যতার শিকার সেখানে সন্তানের কাছে এর থেকে উত্তম আর কি আশা করা যায় ?
যদি আমরা সুন্দর পরিচ্ছন্ন দেশ পেতে চাই তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের পরিবার নামক ছোট্ট সমাজটিকে উন্নত ছকে তৈরী করব । আর ইসলামও এই বিষয়টির প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছে । যার কারণে ইমাম (রহ.) খোমেনী বলেছেন : এই দায়িত্বটি (মায়ের দায়িত্ব) হচ্ছে নবীদের দায়িত্বের ন্যায় ।69
আর যদি আমরা আমাদের দেশকে ইসলামী আঙ্গিকে সাজাতে চাই তবে অবশ্যই মহিলাদেরকে অনেক লেখা-পড়া করাতে হবে , এ জন্য যে :
এক : শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ করে যে প্রতিষ্ঠানে তাদের ভূমিকা রাখার প্রয়োজন রয়েছে সেখানে যেন শরীয়তী নীতিমালা বজায় রেখে কর্মকান্ড চালাতে পারে ।
দুই : তাদের জ্ঞান ও সংস্কৃতিগত উন্নয়ন ঘটানো যা তাদের সন্তান প্রশিক্ষণের ব্যাপারে অধিক সাহায্য করবে , কেননা মায়ের আসল দায়িত্বই হচ্ছে তার সন্তানকে উত্তম শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা । এ কারণে আল্লাহ্ তা ’ য়ালা বিভিন্ন দিক থেকে নারীদেরকে সন্তান পালনের এই গুরুদায়িত্বের সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছেন । তবে এটাও লক্ষ্য রাখা দরকার যে , নারীদের উচ্চশিক্ষার বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে যেয়ে তারা যেন সন্তানকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার মূল দায়িত্বকে ভুলে না যায় ।
শিশু লালন-পালনের সওয়াব
আল্লাহ্ তা ’ য়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের হিদায়েতের জন্য নবীদের প্রেরণ করেছেন । যে কেউ মানুষের সৌভাগ্যের জন্য এবং তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য দানের প্রচেষ্টায় পদক্ষেপ নিবে এবং তাকে অন্যায় , অনাচার ও বিচ্যুতি থেকে দূরে সরাবে সেই আল্লাহর নবীদের পথে পা বাড়ালো । আর ধর্মীয় আলেম , ধর্মভীরু বাবা-মা , শিক্ষক-শিক্ষিকারাই এ পথে পা বাড়িয়ে থাকেন । তাই উত্তম মা যদি সমাজকে উত্তম সন্তান উপহার দেয় তবে সে মা মহান নবীদের মতই কাজ করলো । সে কারণে ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেছেন : সন্তানকে উপযুক্তভাবে গড়ে তোলার কাজ হচ্ছে সমস্তকাজের থেকে উত্তম । যদি আপনারা একটি উত্তম সন্তান সমাজে উপহার দেন তা সমগ্র পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা থেকেও অনেক বেশী । যদি আপনারা একজন মানুষকে উপযুক্ত মানুষ রূপে গড়ে তুলতে পারেন তবে তাতে যে কি পরিমান সম্মান রয়েছে তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না ।70
শিশুর মানসিক জটিলতার জন্য দায়ী সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে তাকে তার মায়ের কাছ থেকে পৃথক করা সুতরাং এই দায়িত্বটি মায়ের দায়িত্ব নবীদের দায়িত্বের ন্যায় । কেননা নবিগণও এসেছিলেন মানুষকে মানুষ হিসেবে তৈরী করার জন্য ।71
স্বামীর অনুমতি নিয়ে স্ত্রীর বাড়ীর বাইরে যাওয়া এবং স্বামীর কথা মেনে চলা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচুর পরিমানে রহমত বর্ষিত হওয়ার কারণ :
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
ان رجلا من الانصار علی عهد رسول الله (صلی الله علیه و آله) ﺧﺮﺝ ﰱ ﺑﻌﺾ ﺣﻮﺍﺋﺠﻪ ﻭ ﻋﻬﺪ ﺇﱃ ﺍﻣﺮﺍﺗﻪ ﻋﻬﺪﺍ ﺍﻥ ﻻ ﲣﺮﺝ ﻣﻦ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﺣﱴ ﻳﻘﺪﻡ، قال : ﻭ ﺍﻥ ﺍﺑﺎﻫﺎ ﻣﺮﺽ. ﻓﺒﻌﺜﺖ ﺍﳌﺮﺍﺓ ﺍﱃ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (صلی الله علیه و آله) ﻓﻘﺎﻟﺖ : ﺍﻥ ﺯﻭﺟﻰ ﺧﺮﺝ ﻭ ﻋﻬﺪ ﺍﱃ ﺍﻥ ﻻ ﺍﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺑﻴﱴ ﺣﱴ ﻳﻘﺪﻡ ﻭ ﺍﻥ ﺍﰉ ﻣﺮﺽ ﺍﻓﺘﺎﻣﺮﱏ ﺍﻥ ﺍﻋﻮﺩﻩ ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (صلی الله علیه و آله) : لا، اجلسی ﺑﻴﺘﻚ ﻭ ﺍﻃﻴﻌﻰ ﺯﻭﺟﻚ، قال : فمات، ﻓﺒﻌﺜﺖ ﺍﻟﻴﻪ ﻓﻘﺎﻟﺖ : یا ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (صلی الله علیه و آله) ﺍﻥ ﺍﰉ ﻗﺪﻣﺎﺕ ﻓﺘﺎﻣﺮﱏ ﺍﻥ ﺍﺣﻀﺮﻩ ؟ ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ) لا، اجلسی ﺑﻴﺘﻚ ﻭ ﺍﻃﻴﻌﻰ ﺯﻭﺟﻚ، ﻗﺎﻝ : ﻓﺪﻓﻦ ﺍﻟﺮﺟﻞ فبعث الیها رسول الله (صلی الله علیه و آله) ان الله تبارک و تعالی قد غفرلک و لأبیک بطاعتک لزوجک
ইমাম সাদিক (আ.) বলেন : নবী (সা.)-এর সময়ে আনসারদের মধ্যে থেকে একজন পুরুষ সংসারের কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য সফরে গেল এবং সে তার স্ত্রীকে বলে গেল যে , সে ফিরে না আসা পর্যন্তযেন তার স্ত্রী বাইরে না যায় । এমতাবস্থায় ঐ মহিলার পিতা অসুস্থ হয়ে পড়লো । ঐ মহিলা রাসূল (সা.) এর কাছে এসে বলল : আমার পিতার খুব অসুখ আর আমার স্বামী সফরে গেছে কিন্তু আমি তার সাথে ওয়াদা করেছি যে , সে বাড়ী ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি বাড়ীর বাইরে যাব না । এ মূহুর্তে আপনি আমাকে অনুমতি দিবেন কি আমার পিতাকে দেখতে যাওয়ার জন্য । রাসূল (সা.) তাকে বললেন : না , অনুমতি দিব না । বাড়ী ফিরে যাও এবং তোমার স্বামীর নির্দেশ পালন কর । ইমাম সাদিক (সা.) (আ.) বলেন : ঐ মহিলার পিতা মৃত্যুবরণ করলে , সে পুনরায় রাসূল -এর কাছে এসে বলল : হে রাসূলুল্লাহ! আমার পিতা ইন্তেকাল করেছেন , আমাকে অনুমতি দিবেন কি তাকে দেখার জন্য ? রাসূল (সা.) বললেন : না , অনুমতি দিব না , বরং তুমি বাড়ী ফিরে যাও এবং তোমার স্বমীর নির্দেশ পালন কর । ইমাম সাদিক (আ.)বলেন : ঐ মৃত ব্যক্তি দাফন হয়ে যাওয়ার পর রাসূল (সা.) ঐ মহিলাকে খরব পাঠালেন যে , স্বামীর নির্দেশ পালন করার জন্য আল্লাহ্ তা ’ য়ালা তোমার এবং তোমার পিতার গোনাহ্সমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন ।72
যদিও প্রত্যেক ব্যক্তির দ্বীনি দায়িত্ব হলো আত্মীয়দের হক আদায় করা এবং পিতা-মাতার প্রতি সম্মান দেখানো । ইসলামের নৈতিক শিক্ষা হলো পুরুষ তার স্ত্রীকে পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যাবে এবং তার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করবে ।
যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে সম্মান দেয় না , সে স্ত্রীর প্রতি তার দায়িত্বকেই আঞ্জাম দিল না । আর এ কারণে সে প্রকৃত মুসলমান হিসেবে গণ্যও হবে না । অপর দিকে স্ত্রীরও স্বামীর প্রতি দায়িত্ব রয়েছে যেমন তার বিনা নির্দেশে বাড়ীর বাইরে না যাওয়া ইত্যাদি । যদিও কিছু কিছু ওয়াজিব কাজের ব্যাপারে স্বামীর অনুমতির কোন প্রয়োজন নেই যেমন , হজ্জ করতে যাওয়া ইত্যাদি ।
এই হাদীসটি এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে যে , স্ত্রী অবশ্যই তার স্বামীর আনুগত্য করবে । আর তাকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করবে ।
দ্বিতীয় শ্রেণী
দ্বিতীয় শ্রেণীর নারীরা হচ্ছে এমনই যাদের মাধ্যমে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্যাসাদ ও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে । এমনকি তারা কোন কোন নবী ও ইমাম এবং সৎ মানুষের হত্যার কারণও হয়েছে , যেমন হযরত লুত ও নূহ (আ.)-এর স্ত্রীদ্বয় , হিন্দা , যে নবী -এর চাচা হযরত হামযার কলিজা চিবিয়ে খেয়েছিল । তেমনি ইমাম হাসান (আ.)-এর স্ত্রী , যার মাধ্যমে ইমামের শাহাদত হয়েছিল । ইতিহাসে এ ধরনের নারীর সংখ্যা অনেক । বর্তমান সময়েও ইসলামের শত্রুরা তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে , সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে , নিজেদের কামভাব চরিতার্থ করতে এবং কালো টাকার পাহাড় গড়তে এ ধরনের নারীদেরকে ব্যবহার করে থাকে । এখানে ঐ ধরনের নারীদের সম্পর্কে কিছু তুলে ধরা হল ।
নারীদের কর্মের গোপন ও প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশিত হবে
হযরত আলী (আ.) বলেছেন : আমি ও ফাতিমা রাসূল (সা.)-এর নিকট পৌঁছে দেখলাম তিনি খুব কান্নাকাটি করছেন । জিজ্ঞাসা করলাম : আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক , ইয়া রাসূলুল্লাহ! এমন কি বিষয় যা আপনাকে কাঁদতে (আ.) বাধ্য করেছে ? তিনি বললেন : হে আলী ! মি ’ রাজের রাতে যখন আমি আসমানে গিয়েছিলাম তখন সেখানে আমার উম্মতের নারীদেরকে দেখলাম যে , তারা কঠিন আযাবের মধ্যে রয়েছে এবং তাদেরকে চিনতেও পারলাম । তাদের সেই কঠিন আযাবের কথা স্মরণ করে কাঁদছি । তারপর তিনি বললেন :
1- এক নারীকে দেখলাম যে , তাকে তার চুল দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং তার মাথার মগজ টগবগ করে ফুটছিল ।
2- এক নারীকে দেখলাম যে , তাকে তার জিহ্বার মাধ্যমে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং তার গলার ভিতর দিয়ে গরম পানি ঢালা হচ্ছে ।
3- এক নারীকে দেখলাম যে , তাকে তার স্তনদ্বয়ের মাধ্যমে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ।
4- এক নারীকে দেখলাম যে , তার দু ’ পা দু ’ হাতের সাথে বাধা এবং বিষাক্ত সাপ ও বিছা তাকে ছোবল মারছে ও কামড়াচ্ছে ।
5- এক নারীকে দেখলাম যে , সে তার নিজের শরীরের মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছিল এবং শরীরের যেখান থেকেই মাংস ছিড়ছিল সেখান থেকেই আগুনের ফুলকি বের হচ্ছিলো ।
6- এক নারীকে দেখলাম যে , সে ছিল বধির , বোবা ও অন্ধ , এমতাবস্থায় কুণ্ডলীর মত আগুনের তীব্রতায় তার মগজ গলে নাক দিয়ে বেরিয়ে আসছিল এবং তার দেহও ছিল কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ।
7- এক নারীকে দেখলাম যে , উত্তপ্ত তন্দুরের মধ্যে তার দু ’ পা উপরের দিকে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ।
8- এক নারীকে দেখলাম যে , তার শরীরটিকে অগ্রভাগ ও পশ্চাৎভাগ থেকে আগুনের কাঁচি দিয়ে আলাদা করা হচ্ছে ।
9- এক নারীকে দেখলাম যে , তার মুখমণ্ডল ও দু ’ হাতে আগুন লেগে গেছে । আর তখন সে নিজেই তার অন্ত্র (নাড়ীভুঁড়ি) খাচ্ছিল ।
10- এক নারীকে দেখলাম যে , তার মাথা শুকরের মাথার ন্যায় , তার শরীরটি গাধার শরীরের ন্যায় ছিল এবং তাকে হাজার প্রকৃতির শাস্তি দেয়া হচ্ছে ।
11- এক নারীকে দেখলাম যে , সে কুকুরের ন্যায় ছিল এবং তার পিছন থেকে আগুন নির্গত হচ্ছিল । আর ফেরেশ্তারা আগুনে উত্তপ্ত লোহার মোটা রড দিয়ে তার মাথা ও শরীরে আঘাত করছিল ।
এরপর ফাতিমা (সা.আ.) পিতাকে লক্ষ্য করে বললেন , হে আমার প্রিয় পিতা! হে আমার চোখের জ্যোতি! আপনি আমাকে বলুন , ঐ নারীদের আমল ও কর্ম পদ্ধতি কেমন ছিল যে কারণে আল্লাহ সুবহানাহু তা ’ য়ালা তাদের জন্য এরূপ শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন ? রাসূল বললেন :
1- যে নারীকে তার চুলের সাহায্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল তা এ জন্য যে , সে তার মাথার চুল না-মাহরাম (যাদের সামনে পর্দা করা ওয়াজিব ও যাদের সাথে বিবাহ বৈধ) লোকদের থেকে আড়াল করে রাখতো না ।
2-যে নারীকে তার জিহ্বার সাথে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল তা এ জন্য যে , সে তার স্বামীকে জিহ্বার (কথার) মাধ্যমে কষ্ট দিতো ।
3-.যে নারীকে তার স্তনের সাথে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল তা এ জন্য যে , সে তার স্বামীর সাথে মিলিত হওয়া থেকে বিরত থাকতো ।
4- যে নারীকে তার হাতের সাথে পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বিষাক্ত সাপ ও বিছা তাকে দংশন করছিল তা এ জন্য যে , অপবিত্রতা শরীরে থাকা অবস্থায় ওযু করতো , নাজিস (অপবিত্র) পোশাক পরে থাকতো এবং জুনুব ও ঋতুচক্র হওয়ার পরও সে গোসল করতো না । আর নামায পড়তেও অবহেলা করতো ।
5- যে নারী তার নিজের শরীরের মাংস ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছিল তা এ জন্য যে , সে তার না-মাহরাম লোকদের জন্য নিজেকে সজ্জিত করতো ।
6- যে নারী বধির , বোবা ও অন্ধ ছিল তা এ জন্য যে , যেনার মাধ্যমে গর্ভবতী হত এবং তা তার স্বামীর উপর দিয়ে চালিয়ে দিত ।
7- যে নারীর দু ’ পায়ে দড়ি বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল তা এ জন্য যে , সে তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাড়ীর বাইরে যেত ।
8- যে নারীর শরীরের অগ্রভাগ ও পশ্চাৎভাগ আগুনের কাঁচি দিয়ে আলাদা করা হচ্ছিল তা এ জন্য যে , সে নিজের শরীরকে অন্যদের সামনে উপস্থাপন করতো ।
9- যে নারীর মুখ মণ্ডল ও দু ’ হাত আগুনে পুড়ছিল এবং সে নিজেই তার অন্ত্র খাচ্ছিল তা এ কারণে যে , সে সতীত্বের পরিপন্থী কাজের মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করতো ।
10- যে নারীর মাথা শুকরের মাথার ন্যায় এবং শরীরটি গাধার শরীরের ন্যায় ছিল তা এ জন্য যে , সে গুজব রটনা করতো এবং মিথ্যা কথা বলতো ।
11- যে নারী ছিল কুকুরের মত তা এ জন্য যে , সে গান গাইতো এবং হিংসুক ছিল ।
এরপর রাসূল (সা.) বললেন , ঐ নারীর কপালে অনেক দুঃখ রয়েছে যে নারী তার স্বামীকে রাগান্বিত করে আর ঐ নারীই হচ্ছে সৌভাগ্যবতী যে নারীর প্রতি তার স্বামী সন্তুষ্ট থাকে ।
হ্যাঁ , এই দুনিয়াতে আমাদের সকল ভাল ও মন্দ আমলই নিবন্ধিত ও রেকর্ড করে রাখা হবে এবং অন্য দুনিয়ায় (আখিরাতে) সেগুলোর ব্যাপারে হিসাব-নিকাশ করা হবে । যদিও জুলুম ও পাপের কারণে অনেক সময় মানুষ এই দুনিয়াতেও দুর্দশা ভোগ করে থাকে । তাই আল্লাহ রাব্বুল আ ’ লামিন পবিত্র কোরআনে বলেছেন :
) إِنَّا كُنَّا نَسْتَنسِخُ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ(
নিশ্চয়ই তোমরা যা করতে আমরা তাই অনুলিখন করতাম ।73
) يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُّحْضَرًا وَمَا عَمِلَتْ مِن سُوءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ أَمَدًا بَعِيدًا(
সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি যা ভাল কাজ করেছে তা দেখতে পাবে আর যা মন্দ কাজ করেছে তাও দেখতে পাবে । সে কামনা করবে যদি তার ও এসবকমে র্ র মধ্যে অনেক দূরত্ব থাকত ।74
) وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَـٰذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا(
(কিয়ামতের দিনে) আমল নামা উপস্থাপন করা হবে । পাপীদেরকে তুমি দেখবে তাদের আমল নামাতে যা কিছু আছে সে ব্যাপারে তারা খুবই ভীত সন্ত্রস্তএবং বলবে যে , হায়! এটা কেমন গ্রন্থ (আমল নামা) যার মধ্যে ছোট ও বড় এমন কোন আমলই নেই যার হিসাব রাখা হয় নি । সকলেই তাদের আমল দেখতে পাবে এবং তোমার পালনকর্তা কারো প্রতিই কোন প্রকার জুলুম করবেন না ।75
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন : কিয়ামতের দিনে মানুষের আমল নামাকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে । তারপর তা পড়তে বলা হবে । (আ.) বর্ণনাকারী ইমামকে প্রশ্ন করে বলল : যা কিছু ঐ আমলনামাতে থাকবে তার সবগুলোই কি স্মরণে আনতে পারবে ? ইমাম বললেন : এক নিমেষেই সব কিছুই স্মরণে আনতে পারবে । কোথায় কি বলেছে , কোথায় কি করেছে , কোথায় গিয়েছে এবং যা কিছু ঘটেছে । তারা এমন ভাবে সে সব স্মরণে আনবে যে , মনে হবে তখনই তা আঞ্জাম দিচ্ছে । আর সে কারণেই তারা বিকট ধ্বনিতে চিৎকার দিয়ে বলবে যে , হায়! এটা কেমন আমলনামা যার মধ্যে ছোট ও বড় এমন কোন আমল নেই যার হিসাব রাখা হয় নি ।
কিয়ামতের দিনে মানুষের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে
এই পৃথিবীর কোন কিছুই হিসাব-নিকাশ বিহীন নয় । আমাদের সব কিছুই অর্থাৎ সব আমলই আল্লাহ রাব্বুল আ’ লামিনের নির্দেশে ফেরেশতাদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন হয়ে থাকে এবং কিয়ামতের দিনে সেগুলো আমাদেরকে দেখানো হবে , তাই পালিয়ে যাওয়ার কোন রাস্তাই আমাদের জন্য খোলা থাকবে না বা কোন অজুহাত উত্থাপনের সুযোগ থাকবে না । আল্লাহ্ রাব্বুল আ’ লামিন বলেছেন :
) وَيَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَاءُ اللَّـهِ إِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوزَعُونَ ﴿١٩﴾ حَتَّىٰ إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٢٠﴾ وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدتُّمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنطَقَنَا اللَّـهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٢١﴾ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَن يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَا أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ وَلَـٰكِن ظَنَنتُمْ أَنَّ اللَّـهَ لَا يَعْلَمُ كَثِيرًا مِّمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٢٢﴾ وَذَٰلِكُمْ ظَنُّكُمُ الَّذِي ظَنَنتُم بِرَبِّكُمْ أَرْدَاكُمْ فَأَصْبَحْتُم مِّنَ الْخَاسِرِينَ(
কিয়ামতের দিন , আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে তাদেরকে একত্রিত করা হবে ।
পাপীরা যখন জাহান্নামের আগুনের নিকটবর্তী হবে তখন তাদের কর্ণ , চক্ষু ও ত্বক তাদের কর্ম (গুনাহ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে ।
পাপীরা তাদের ত্বককে (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) বলবে : কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ ? তারা বলবে : সেই আল্লাহ তা ’ য়ালা আমাদেরকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন যিনি সকল কিছুকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন , তিনি তোমাদেরকে প্রথমবারের মত সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা পুনরায় তাঁর দিকে ফিরে এসেছো । কর্ণ , চক্ষু ও শরীরের ত্বক যে তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এই ভয়ে কি তোমরা তোমাদের পাপকাজগুলোকে গোপন রাখতে ? না তা নয় বরং তোমরা মনে করতে যে , তোমাদের বহু কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ তা ’ য়ালা জানেন না ।76
তোমাদের প্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের সেই ভ্রান্তধারণার কারণেই তোমরা ধ্বংস হয়েছো তাই তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়েছো ।
মানুষেরশরীরের অঙ্গ - প্রত্যঙ্গগুলো আল্লাহ তা ’ য়ালার পক্ষ থেকে আমানত স্বরূপ
আমাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সব কিছুই আল্লাহ তা ’ য়ালার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আমানত স্বরূপ দেয়া হয়েছে । আর তাই আমাদের উচিৎ যে , তাঁর প্রদত্ত এই আমানতসমূহ তাঁর নির্দেশিত পথেই ব্যবহার করা । আমাদের কোন অধিকার নেই যে , এগুলোকে তাঁর অমনোনীত পথে ব্যবহার করবো । এগুলোর উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব নেই এবং কারো এমন অধিকারও নেই যে , সেগুলোর কোন (বস্তুগত বা অবস্তুগত) ক্ষতিসাধন করবে । তাই কোন নারীই হারাম পথে তার শরীরের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গকে ব্যবহার করতে পারে না । এমন কি সেগুলোকে পর্দার মধ্যে না রেখে উম্মুক্তও করতে পারে না ।
প্রকৃতপক্ষে এই দুনিয়া তার বাহ্যিকতাসহ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস প্রাপ্ত হবে । শুধুমাত্র আমাদের নেক আমল সমূহই অবশিষ্ট থাকবে এবং আমাদের উপকারে আসবে । সুতরাং আমাদের উচিত আমাদের মৃত্যুর পূর্বেই পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সংগ্রহ করা ।
যদিও আমাদের সমাজে এমন কিছু বেপর্দা নারী রয়েছে যারা ইসলাম প্রদত্ত আদেশ-নিষেধ মেনে চলে না । ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণেই তারা এটা করে থাকে । কেননা , তারা তো সহজাত ভাবেই কুরআন ও নবীর (সা.) আহলে বাইত (আ.) -এর প্রতি ভালবাসা রাখে । আশা করি জ্ঞান অন্বেষণের মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে এই সমস্যা দূর হবে ।
হাদীসেরদৃষ্টিতে বে - পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করার অনিষ্টতা ও ক্ষতিকর দিকসমূহ
1- সঠিকভাবে পর্দা মেনে না চলা নারীরাই শয়তানের উপযুক্ত হাতিয়ার :
রাসূল ( সা .) বলেছেন :
ﺍﻭﺛﻖ ﺳﻼﺡ ﺍﺑﻠﻴﺲ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ
(মন্দ) নারীরাই হচ্ছে শয়তানের সব থেকে নিশ্চিন্ত হাতিয়ার ।77
মানব জাতিকে ধ্বংস করার জন্য শয়তানের কাছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে । যেরূপ যুদ্ধের সময় মানুষ তার শত্রুপক্ষকে ধ্বংস করার নিমিত্তে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে । সেরূপ শয়তানের অস্ত্রগুলোর মধ্যেও প্রকারভেদ রয়েছে । কিন্তু যে অস্ত্রটি শয়তানের কাছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং তাকে মানব জাতির সাথে যুদ্ধে একশত ভাগ সফল করে তা হচ্ছে নারী ।
এই হাদীস থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে , (যেভাবে ইতিহাস বর্ণনা দিয়েছে) শয়তান যখনই বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মানব জাতিকে ধ্বংস করতে গিয়ে নিরাশ হয়ে যায় তখনই দ্বীন-ধর্মহীন নারী এবং যে সকল নারী শুধুমাত্র প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা ব্যতীত অন্য কিছুই চিন্তা করে না সে সকল নারীকে তার অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করে থাকে । আর তারা হচ্ছে সেই সব নারী যারা জালেম ও অত্যাচারী শাসকদের হাতের পুতুল ছিল ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পৃথিবীর দিকেও যদি আমরা সূক্ষদৃষ্টিতে তাকাই দেখি যে , বিশ্বে বিশেষত ইসলামী বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদীদের জুলুম ও লুটপাট প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে চরিত্রহীন নারীরা ।
তাই আল্লাহ তা’ য়ালা বলেছেন :
) زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَٰلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللَّـهُ عِندَهُ حُسْنُ الْمَآبِ(
মানবকুলকে মোহগ্রস্ত করেছে রমনী , সন্তান-সন্ততি , পুঞ্জীভূত স্বর্ণ ও রৌপ্য , চিহ্নিত অশ্ব ও গৃহপালিত পশু এবং শস্যক্ষেত্র এই সব কিছুই পার্থিব জীবনের ব্যবহারিক বস্তু । আর উত্তম জীবন তো আল্লাহরই নিকট রয়েছে ।78
এই পবিত্র আয়াতে প্রথম যে বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে তা হচ্ছে নারী । এ কারণেই মনোবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন : যৌন প্রবণতা হচ্ছে মানুষের অন্য সব প্রবণতা থেকে শক্তিশালী একটি প্রবণতা । সামাজিক অনেক ঘটনাই এই প্রবণতা ও তাড়না থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে ।
এটা বলার প্রয়োজন রয়েছে যে , উক্ত আয়াতটি এবং অনুরূপ আয়াতসমূহ স্ত্রী , সন্তান ও সম্পদের প্রতি ভালবাসাকে নিন্দা বা তিরস্কার করে না (কেননা আত্মিক বিষয়ের উন্নতি কখনোই দুনিয়াবী বিষয়ের মাধ্যম ব্যতীত সম্ভব নয়) বরং এ সকল আয়াতে এসবের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ভালবাসাকে তিরস্কার করা হয়েছে ।
শয়তান সম্পর্কে কিছু আলোচনা
ক)-‘ শয়তান ’ শব্দটি‘ শাতানা ’ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে । আর তার কর্তাবাচক বিশেষ্য হচ্ছে‘ শাতেন ’ অর্থাৎ দুষ্ট , অপবিত্র , নোংরা ও ইতর প্রকৃতির ।
খ)-‘ শয়তান ’ শব্দটি দ্বারা এমন এক সত্তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয় যে , সে হচ্ছে অবাধ্য , বিদ্রোহী এবং মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সব কিছুর সাথে সংযুক্ত করা যায় ।‘ শয়তান ’ হচ্ছে একটি সাধারণ নাম এবং‘ ইবলিস ’ হচ্ছে একটি বিশেষ নাম।
) وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ(
স্মরণ কর সেই সময়ের কথা যখন ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম আদমের উদ্দেশ্যে সিজদাহ্ দিতে তখন তারা সকলেই সিজদাহ্ করেছিল ; শুধুমাত্র ইবলিস এই নির্দেশ উপেক্ষা করেছিল এবং অহমিকা প্রদর্শন করেছিল । আর(এই নির্দেশের অবাধ্যতা করার কারণে) সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল ।79
) إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّـهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ(
শয়তান চায় শরাব (মদ) ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির করা ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে । (তোমরা কি) এসব ফ্যাসাদ ও ক্ষতিকর কর্ম থেকে ক্ষান্ত হবে ?80
) وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ(
আর এরূপভাবে আমরা প্রতিটি নবীর শত্রু হিসেবে বহু শয়তান সৃষ্টি করেছি তাদের কতক হচ্ছে মানুষ আর কতক হচ্ছে জ্বিন । যাদের কতিপয় অপর কতিপয়কে ভিত্তিহীন মনভুলানো বাক্যের মাধ্যমে প্রতারণার উদ্দেশ্যে কুমন্ত্রণা দিত । আর যদি তোমার প্রতিপালক চাইতেন তবে ঐরূপ করতে পারতো না । সুতরাং তাদেরকে তাদের মিথ্যা রটনা নিয়েই থাকতে দিন !81
গ)- শয়তানকে দেখা যায় না ,
) إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ(
নিশ্চয়ই শয়তান ও তার দোসররা সেইস্থান থেকে তোমাদেরকে দেখতে পায় , যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না ।82
ঘ)- শয়তান বিভিন্ন পথে গোমরাহ্ করার জন্য এবং ফ্যাসাদ সৃষ্টির লক্ষ্যে তোমাদের মধ্যে প্রবেশ করবে :
) قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿١٦﴾ ثُمَّ لَآتِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ(
শয়তান আল্লাহ তা ’ য়ালাকে বলল : যেহেতু আপনি আমাকে গোমরাহ্ করেছেন সেহেতু অবশ্যই আমি তাদের (বিভ্রান্ত করার) জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকবো । তারপর সামনে থেকে , পিছন থেকে , ডান ও বাম পাশ থেকে তাদের কাছে যাবো এবং তাদের অধিকাংশকেই আপনি কৃতজ্ঞ হিসেবে পাবেন না । (সূরা আরাফ :16-17)
এই যে শয়তান বলছে যে , সে চার পাশ থেকে আসবে ; এটা হয়তো এমন হতে পারে যে , সে মানব জাতিকে অবরোধ করবে এবং যে কোন প্রক্রিয়াতেই হোক না কেন সে তাদেরকে গোমরাহ্ করার চেষ্টা করবে । এমন ধরনের কথা তো সাধারণ মানুষও বলে থাকে যেমন , অমুক চার দিক থেকেই আটকে গেছে অথবা শত্রুর খপ্পরে পড়েছে ।
ইমাম বাকির (আ.) বলেছেন : সামনের দিক থেকে মানুষের কাছে শয়তান আসার অর্থ হচ্ছে , তাদের সামনে যে আখেরাত রয়েছে তাদের দৃষ্টিতে সামান্য ও হালকা হিসেবে তুলে ধরা । মানুষ এই আখেরাতকে মূল্যহীন ও অতি সাধারণ মনে করার কারণেই গোনাহ্তে লিপ্ত হয় । আর পিছন দিক থেকে মানুষের নিকট আসার অর্থ হচ্ছে , সম্পদ পুঞ্জীভূত করার জন্য এবং তাদের সন্তান ও উত্তরসূরীদের উছিলা দিয়ে অন্যের অধিকার না দেয়ার জন্য আহ্বান জানাবে । ডান দিক থেকে মানুষের নিকট আসার অর্থ হচ্ছে , নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করবে এবং বাম দিক থেকে আসার অর্থ হচ্ছে , দুনিয়াবী আকাঙ্ক্ষা এবং কামভাবকে তাদের সামনে আকর্ষণীয় করে ফুটিয়ে তুলবে ।83
ঙ)- উদ্ধত ও সীমালংঘনকারী মানুষ , ক্ষতিকারক প্রাণী , বিভেদ সৃষ্টিকারী সত্তা , জীবাণু , পাপাচারী নারী , মুনাফিক ও মিথ্যাবাদী ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে শয়তান শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে । মহানবী (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের নিষ্পাপ ইমামদের থেকে এরূপ অর্থে প্রচুর হাদীস বর্ণিত হয়েছে । যেমন ,
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﻻ ﺗﻮﻭﺍ ﻣﻨﺪﻳﻞ ﺍﻟﻠﺤﻢ ﰱ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻓﺎﻧﻪ ﻣﺮﺑﺾ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ
মাংসের ব্যাগ বাড়িতে রেখোনা , কেননা তা হচ্ছে শয়তানের বসবাসের স্থান অর্থাৎ তাতে জীবাণু জন্মায় ।84
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
ﻻ ﺗﺪﻋﻮﺍ ﺁﻧﻴﺘﻜﻢ ﺑﻐﲑ ﻏﻄﺎﺀ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺍﺫﺍ ﱂ ﺗﻐﻂ ﻟﻶﻧﻴﺔ ﺑﺰﻕ ﻭﺍﺧﺬ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﺷﺎﺀ
তোমাদের পাত্রগুলোকে খোলা রেখো না , যদি তা না ঢাক তবে তাতে শয়তান তার মুখের লালা লাগিয়ে দেয় (তাতে রোগ জীবাণু জন্মায় এবং তা ব্যবহারও করে) ।85
ইমাম বাকির (আ.) বলেছেন :
ﺍﳕﺎ ﻗﺼﺼﺖ ﺍﻻﻇﻔﺎﺭلأنها ﻣﻘﻴﻞ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ
তোমাদের আঙ্গুলের নখগুলোকে ছোট করে রাখ ; কেননা যদি তা বড় থাকে তবে তা হচ্ছে শয়তানের বসবাসের (ও রোগ জীবানুর জন্মানোর) স্থান ।86
রাসূল ( সা .) বলেছেন :
ﻻ ﺗﺒﻴﺘﻮﺍ ﺍﻟﻘﻤﺎﻣﺔ ﰱ ﺑﻴﻮﺗﻜﻢ ﻓﺎﺧﺮﺟﻮﻫﺎ نهاراﹰ ﻣﻘﻌﺪ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ
রাতে আবর্জনা তোমাদের ঘরে রেখোনা এবং তা দিনেই বাইরে ফেলে দিবে । কেননা তা শয়তানের বসার (রোগজীবাণু জন্মানোর) স্থান ।87
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﻻ ﻳﻄﻮﻟﻨﺎ ﺍﺣﺪﻛﻢ ﺷﺎﺭﺑﻪ، ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﻳﺘﺨﺬﻩ ﳐﺒﺌﺎ ﻳﺴﺘﺘﺮﺑﻪ
তোমাদের গোঁফ বড় করোনা , কেননা সেখানে শয়তান (জীবাণু) নিজের বসবাসের স্থান করে নেয় এবং সেখানে লুকিয়ে থাকে ।88
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﺍﻥ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﺍﳊﺎﺭ ﺟﺪﺍ ﳏﻮﻕ ﺍﻟﱪﻛﺔ ﻭ ﻟﻠﺸﻴﻄﺎﻥ ﻓﻴﻪ ﺷﺮﻛﺔ
গরম খাবার সত্যই বরকত নষ্ট করে দেয় , কেননা শয়তান তাতে অংশগ্রহণ করে ।89
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﻻ ﻳﺒﻴﱳ ﺍﺣﺪﻛﻢ ﻭﻳﺪﻩ ﻏﻤﺮﺓ ﻓﺎﻥ ﻓﻌﻞ ﻓﺎﺻﺎﺑﻪﳌﻢ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﻓﻼ ﻳﻠﻮﻣﻦ ﺍﻻ ﻧﻔﺴﻪ
তৈলাক্ত হাতে রাত্রি যাপন করো না । সেক্ষেত্রে যদি শয়তান তোমাদের কোন ক্ষতি করে তবে নিজেদের ব্যতীত অন্য কাউকে তিরস্কার করো না ।90
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
ﺍﻟﻘﻬﻘﻬﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ
অট্টহাসি হচ্ছে শয়তানের একটি বৈশিষ্ট্য ।91
ﻋﻦ ﺍﰉ ﻋﺒﺪ ﺍﷲ (ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ) : ﺍﻟﻨﻈﺮ ﺳﻬﻢ ﻣﻦ ﺳﻬﺎﻡ ﺍﺑﻠﻴﺲ ﻣﺴﻤﻮﻡ ﻭ ﻛﻢ ﻣﻦ ﻧﻈﺮﺓ ﺍﻭﺭﺛﺖ ﺣﺴﺮﺓ ﻃﻮﻳﻠﺔ
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন : দৃষ্টি হচ্ছে শয়তানের নিক্ষিপ্ত তীরসমূহের মধ্যে একটি বিষাক্ত তীর এবং এমন অনেক দৃষ্টি রয়েছে যার পরিণতি হলো দীর্ঘ পরিতাপ ।92
ﺍﻟﻨﻈﺮ ﺍﱃ ﳏﺎﺳﻦ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﺳﻬﻢ ﻣﻦ ﺳﻬﺎﻡ ﺍﺑﻠﻴﺲ ﻓﻤﻦ ﺗﺮﻛﻪ ﺍﺫﺍﻗﻪ ﺍﷲ ﻃﻌﻢ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺗﺴﺮﻩ
রাসূল (সা.) বলেছেন : না-মাহরাম (যে মহিলা বা পুরুষের সাথে বিবাহ করা যায়) মহিলার চুলের দিকে তাকানোটা হচ্ছে এমন এক দৃষ্টি যা শয়তানের কাছ থেকে আসা বিষাক্ত তীরের মত । যারা তাকাবে না বা দেখবে না তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ইবাদতে আধ্যাত্মিক স্বাদ দেয়া হবে যা তাদেরকে আনন্দিত করবে ।93
হযরত আলী (আ.) বলেছেন :
ﺍﳌﻜﻮﺭ ﺷﻴﻄﺎﻥ ﰱ ﺻﻮﺭﺓ ﺍﻧﺴﺎﻥ
যে বেশী চালাকী করে , সে হচ্ছে মানুষরূপী শয়তান ।94
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
ﻟﻴﺲ ﻻﺑﻠﻴﺲ ﺟﻨﺪ ﺍﺷﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻭ ﺍﻟﻐﻀﺐ
‘ নারী’ ও‘ ক্রোধ’ এই দুটির মত উত্তম সৈনিক শয়তানের আর নেই ।95
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﺍﻭﺛﻖ ﺳﻼﺡ ﺍﺑﻠﻴﺲ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ
শয়তানের উত্তম অস্ত্র হচ্ছে নারী ।96
ফলাফল :
উপরোল্লিখিত পবিত্র আয়াতসমূহ ও আহলে বাইতের নিষ্পাপ ইমামগণের (আ.) রেওয়ায়েত থেকে আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়েছে তা নিম্নরূপ :
ক)- শয়তান এমন এক সত্তা যা দেখা যায় না কিন্তু তার নমুনা অনেক কিছুর মধ্যে পাওয়া যায় , যেমন , মিথ্যাবাদী ও মতানৈক্য সৃষ্টিকারী মানুষ , নারী , জীবাণু ইত্যাদি । মূল কথা হচ্ছে যে অপবিত্র ও দুষ্ট সত্তা মানুষকে সত্য পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং তার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে সেই সত্তাকেই শয়তান বলা হয় । যদি কোন কোন নারীকে শয়তান অথবা শয়তানের বন্ধু বা সহায়তাকারী বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয় তবে তা এ কারণেই করা হয়ে থাকে যে , তাকওয়াহীন , বেপর্দা অথবা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী তার কথা ও আচার-আচরণের মাধ্যমে যেহেতু মানুষকে সত্য পথ থেকে দূরে সরিয়ে ফিতনা-ফ্যাসাদের দিকে নিয়ে যায় । আর যেহেতু শয়তানের উদ্দেশ্যও এর বাইরে কিছু নয় , সেহেতু এমন প্রকৃতির নারীরাই শয়তান নামক ঐ অপবিত্র ও দুষ্ট সত্তাকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে থাকে ।
খ)-যে সকল রেওয়ায়েত আবর্জনা এবং তা রাখার স্থান এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছে এবং যেসকল রেওয়ায়েত চর্বি ও জীবাণু সংক্রান্ত আলোচনা করেছে তা থেকে আমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে , ইসলাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে কত গুরুত্ব দিয়েছে । যদি মুসলমানগণ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের সঠিক ব্যবহার ও নিয়ম- কানুন জানতো তবে বর্তমানে আমাদের দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে , রাস্তা- ঘাটে , অলিতে-গলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যে অভাব রয়েছে তা থাকতো না । আল্লাহ্ তা ’ য়ালা সবাইকে নবী মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর দ্বীনের বিধি- বিধান সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার তৌফিক দান করুন ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
যদি কোন নারী আতর বা সুগন্ধি মেখে বাড়ীর বাইরে একদল লোকের মধ্যে যায় তারা তার আতরের গন্ধ পায় ; তবে এই নারী হচ্ছে ব্যভিচারী । শুধু তাই নয় যে চোখগুলো এই নারীর দিকে তাকায় সেগুলোও ব্যভিচারী ।97
রাসূল (সা.)-এর এই হাদীস থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে , কোন নারী যদি নিজেকে সুগন্ধিযুক্ত করে এবং বে-পর্দা অবস্থায় বাড়ীর বাইরে যায় তবে তাকে পাপী বা ব্যভিচারী বলা হবে । সুতরাং ব্যভিচারের বিষয়টি শুধুমাত্র অবৈধ মিলনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয় ।
এমন আরো অনেক হাদীসে দেখতে পাওয়া যায় যে , হাত দিয়ে যদি কোন না-মাহরামকে স্পর্শ করা হয় তবে এই স্পর্শকারী হাতটি ব্যভিচারী হাত হিসেবে গণ্য হবে । যদি চোখ দিয়ে কোন না-মাহরামের দিকে কামভাবের দৃষ্টিতে তাকানো হয় তবে এই দৃষ্টিকে চোখের ব্যভিচার বলে গণ্য করা হবে । আর যদি কোন নারী নিজেকে সুগন্ধিযুক্ত করে এবং কেউ ঐ গন্ধ পেয়ে তার দিকে তাকায় তবে তারা উভয়ই হচ্ছে ব্যভিচারী (অবশ্য লক্ষ্য রাখতে হবে ব্যভিচারের বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে) ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﺍﺫﺍ ﺗﻄﻴﺒﺖ ﺍﳌﺮﺃﺓ ﻟﻐﲑ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﻓﺄﳕﺎ ﻫﻮ ﻧﺎﺭ ﻭ ﺷﻨﺎﺭ
যখন কোন নারী তার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্যে নিজেকে সুগন্ধিযুক্ত করে তাই জাহান্নামের আগুন এবং তার জন্যই চরম অপমান ।98
প্রকৃত পক্ষে জাহান্নাম ও বেহেশত আমাদের আমলের মাধ্যমেই প্রস্তুত হয়ে থাকে ।
পবিত্র আয়াতে বলা হয়েছে :
ﻭﻗﻮﺩﻫﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ
জাহান্নামের জ্বালানী হচ্ছে মানুষ ।99
আমাদের খারাপ আমলসমূহই জাহান্নামের আগুনকে প্রজ্জলিত করে । আর বে-পর্দা নারী তার আচরণ ও ভঙ্গীর মাধ্যমে আল্লাহ তা ’ য়ালাকে রাগান্বিত করে এবং জাহান্নামের আগুনের শিখাকে আরো বেশী প্রজ্বলিত হতে সাহায্য করে ।
যে সকল নারী ফ্যাসাদ সৃষ্টি ও গোমরাহীর কারণ তাদের থেকে দূরে থাকা এতটাই গুরুত্বের ব্যাপার যে , প্রয়োজনে মানুষ অবশ্যই আল্লাহর আশ্রয় চাবে । কেননা আল্লাহর ভালবাসা ব্যতীত অন্য কোন শক্তিই মানুষকে ফ্যাসাদ ও গোমরাহীর হাত থেকে নাজাত দিতে পারবে না । তাই পবিত্র কোরআনে এভাবে বলা হয়েছে :
ﻭ ﻣﻦ ﺷﺮ ﺍﻟﻨﻔﺎﺛﺎﺕ ﰱ ﺍﻟﻌﻘﺪ
(হে নবী , বলুন) গ্রন্থিতে ফুৎকার দিয়ে জাদুকারিণী নারীর অনিষ্ট হতে মহান আল্লাহর আাশ্রয় চাই ।100
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﺍﺳﺘﻌﻴﺬﻭﺍ ﺑﺎﷲ ﻣﻦ ﺷﺮﺍﺭ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻭ ﻛﻮﻧﻮﺍ ﻣﻦ ﺧﻴﺎﺭﻫﻦ ﰱ ﺣﺬﺭ
শয়তান ও মন্দ নারীদের খপ্পর থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় গ্রহণ কর এবং তাদের মধ্যকার ভালদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখ ।101
মানুষ যখন পাপ ও শয়তানের কু-মন্ত্রনার কারণে ঐরূপ নারীর খপ্পরে পড়ে যায় তখন তার মুক্তি পাওয়ার একটি মাত্র রাস্তা খোলা থাকে আর তা হচ্ছে আল্লাহর নিকট আশ্রয় নেয়া । বে-পর্দা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী যেহেতু শয়তানের কু-মন্ত্রণাভুক্ত তাই তাকে দেখা মাত্রই অবশ্যই আল্লাহর নিকট আশ্রয় নেয়া বাঞ্ছনীয় ।
বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে , যখন হযরত ইউসূফ (আ.) যুলেখার অপবিত্র আকাঙ্ক্ষার মুখোমুখি হলেন তখন বলেছিলেন :
) قَالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ الْجَاهِلِينَ(
হে আল্লাহ! আমার জন্য জেল খানার কষ্ট ও সমস্যা এই অপবিত্র কাজের থেকে অনেক উত্তম , যা এই নারিগণ আমার কাছে কামনা করে । হে আল্লাহ যদি তুমি তাদের ষড়যন্ত্র ও কু-মতলবকে তোমার দয়ায় আমার থেকে দূর না কর , তবে তাদের খপ্পরে পড়বো এবং অজ্ঞ ও পাপীদের দলভুক্ত হয়ে যাবো ।102
ফলাফল :
যেখানে আল্লাহ্ তা ’ য়ালা রাসূল (সা.)-কে বলেছেন : হে আমার রাসূল! বল দুষ্ট ও মন্দ স্বভাবের নারীর প্রতারণা ও ষড়যন্ত্র থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই । এদিকে হযরত ইউসূফ (আ.) তাঁর মহান মর্যাদা সত্ত্বেও বলেন : হে আল্লাহ! আমি যুলেখার শয়তানী ও কু-মতলবের মুখোমুখি হওয়ার থেকে জেলখানাকে বেশী পছন্দ করি । উক্ত দুটি থেকে আমরা এটা বুঝতে পারি যে , এ সকল ঘটনাগুলোকে কোন তুচ্ছ ব্যাপার মনে করে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া যায় না । যদিও রাসূলে আকরাম (সা.) বিশেষ স্থান ও মর্যাদায় সমাসীন এবং পবিত্র তাই তিনি এ সকল বিষয় থেকে পরিপূর্ণভাবে পবিত্র ও মুক্ত । আর যেহেতু অন্যান্য নবী ও মহানবী (সা.)-এর উত্তরসূরী নিষ্পাপ ইমামগণ (আ.) সম্পূর্ণভাবে পবিত্র তাই তাদের সত্তাতেও কোন পাপ প্রবেশের সুযোগ নেই । কিন্তু এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে তারা চেয়েছেন আমাদেরকে শিক্ষা দিতে । যাতে করে আমরা যেন আমাদের নফসের কু- প্রবৃত্তির প্রতি কড়া দৃষ্টি রাখি এবং তা থেকে এক মুহূর্তের জন্যেও যেন দৃষ্টি সরিয়ে না নেই । এই ধরনের বিষয়গুলো মানুষকে ধ্বংস করে দেয় এবং তা দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য অপমান-অপদস্থের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । কেউ কেউ বলে থাকে যে , এই মহিলা আমার বোনের মত অথবা আমার মায়ের মত । আমি তার দিকে ভাইয়ের দৃষ্টিতে তাকাই এবং কোন উদ্দেশ্য আমার নেই । এই সকল উক্তিগুলো শয়তান আমাদেরকে শিখিয়ে থাকে । তবে কোন ব্যক্তি কোন না-মাহরাম নারীর সাথে কথা বলতে পারবে তবে তা বিশেষ প্রয়োজনে এবং তা সীমিত কয়েকটি শব্দের বেশী জায়েয নয় ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
যখন কোন নারী কোথাও বসে এবং পরে সেখান থেকে উঠে যায় , কোন পুরুষ যেন সেখানে ততক্ষণ না বসে যতক্ষণ না (ঐ স্থানের) গরমভাবটা কেটে যায় ।103
এই সকল নির্দেশাবলী সতর্কতামূলক যা শয়তানের পক্ষ থেকে যে কোন ধরনের কু-মন্ত্রণা ও অসৎ পথে পরিচালিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে এবং মাকরুহ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে ,ﻣﻦ ﺧﻴﺎﺭﻫﻦ ﰱ ﺣﺬﺭ ﻛﻮﻧﻮﺍ বলতে কি বুঝানো হয়েছে ?
প্রকৃতিগতভাবে মানুষ এমন যে যদিও সে মুত্তাকি হয়ে থাকে তথাপিও এরূপ যে , না-মাহরাম মহিলার বিশেষ করে যুবতী মেয়ের সাথে কথা বলার সময় প্রভাবান্বিত হয়ে পড়ে । যদি মানুষ সতর্কতা অবলম্বন করে এবং বিশেষ প্রয়োজন ব্যতিরেকে না-মাহরাম মহিলার সাথে কথা না বলে তবে তা হবে অতি উত্তম এবং পছন্দনীয় ব্যাপার । এই ব্যাপারে রাসূল (সা.) বলেছেন : ভাল মহিলাদের থেকেও দূরে থাকবে । যদিও আসা- যাওয়ার কারণে অপ্রয়োজনেও তাদের সাথে কথা বলা কোন দোষের কিছু নয় ।
সুতরাং নারীরা হচ্ছে দু ’ ভাগে বিভক্ত , অর্থাৎ ভাল ও মন্দ । মন্দদের থেকে অবশ্যই আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিতে হবে । আর ভালরা যদিও সম্মানের দাবিদার এবং আল্লাহ তা ’ য়ালা তাদেরকে পছন্দ করেন তথাপিও প্রয়োজন ব্যতিরেকে তাদের সাথে কথা বলা উচিৎ নয় ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﻣﺎ ﺗﺮﻛﺖ ﺑﻌﺪﻯ ﻓﺘﻨﺔ ﺍﺿﺮ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺮﺟﺎﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ
আমার ইন্তেকালের পরে পুরুষদের জন্য নারীদের থেকে ক্ষতিকারক ফিতনা সৃষ্টিকারী থাকবে না ।104
তিনি আরো বলেছেন : আমার উম্মত সকল! তোমরা ফিতনা দেখেছো এবং তার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছো । কিন্তু নারীদের মাধ্যমে তোমাদের উপর এর থেকেও আরো কঠিনতম ফিতনা আসতে পারে যার জন্য আমি শঙ্কিত । আর তা তখনই হবে যে , যখন নারীরা স্বর্ণের চুড়ি হাতে দিবে , দামী কাপড়ের পোশাক পরবে এবং সম্পদশালীদেরকে কষ্টে ফেলবে ও দরিদ্রদের কাছে তাই চাইবে যা তাদের নেই ।105
তিনি আরো বলেছেন :
ﻓﺎﻥ ﺍﻭﻝ ﻓﺘﻨﺔ ﺑنی ﺍﺳﺮﺍﺋﻴﻞ ﻛﺎﻥ ﰱ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ
প্রকৃতপক্ষে নারীদের খপ্পরে পড়ে ইয়াহুদীরা সর্ব প্রথম পথভ্রষ্ট হয়েছিল ।106
ইতিহাসের পরিক্রমায় অসংখ্য কারণে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং জালেম ও অত্যাচারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে তবে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো হলো ক্ষমতার লোভ , অর্থের লোভ এবং যৌনলিপ্সা । এগুলোই মানুষকে বিশেষ করে যারা সমাজে প্রতাপ-প্রতিপত্তিশালী ছিল যেমন , অত্যাচারী রাজা-বাদশা ও জালেম শাসকগণ এবং অন্যান্যদের ধ্বংস করেছে ।
এমনকি যারা আগে ভাল লোক বলে চিহ্নিত ছিল , তারা পরবর্তীতে যখন অর্থ , ক্ষমতা ও কামলিপ্সার মুখোমুখি হয়েছে , তাকওয়া ও মানসিক শক্তির অভাবের কারণে তারাও অন্যায়-অত্যাচার , জুলুম ও পাপে নিমজ্জিত হয়েছে ।
ইসলামে সাজসজ্জার ব্যাপারে নারীদের প্রতি অনেক উপদেশই দেয়া হয়েছে । কেননা স্বভাবগত কারণেই নারী সমাজ সাজসজ্জা করতে বেশী পছন্দ করে । এটা এ কারণেই যে , তারা সাজসজ্জার মাধ্যমে তাদের স্বামীদেরকে নিজেদের প্রতি আকর্ষণ করে থাকে । তবে তা যেন কখনোই প্রকাশ্যে অন্যদের সামনে না হয় । তাহলে তা অন্যদের পথভ্রষ্টতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﻋﺎﻣﺔ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ
জাহান্নামের অধিবাসীদের বেশীর ভাগই হচ্ছে নারী ।107
তিনি আরো বলেছেন :
ﺍﻥ ﺍﻗﻞ ﺳﺎﻛنی ﺍﳉﻨﺔ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ
বেহেশতবাসীদের মধ্যে কম সংখ্যক হচ্ছে নারী ।108
বেহেশত ও জাহান্নাম আমাদের আমলের সাথে সম্পর্কিত । প্রকৃতপক্ষে এই আমরাই হচ্ছি বেহেশতের বাগিচাকে সবুজ মনোরম অথবা জাহান্নামকে আরো উত্তপ্ত করি । আল্লাহ্ তা ’ য়ালা পবিত্র কোরআনে বেশীরভাগ স্থানে তাঁর বান্দাদেরকে তওবার মাধ্যমে তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন । যদি কেউ একটুখানি আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয় তবে তিনি তাঁর সেই বান্দাকে দূরে সরিয়ে দেন না , বরং তাকে সাহায্য করে থাকেন । যে আল্লাহ! আমাদেরকে এত অধিক পরিমানে নে ’ য়ামত , বরকত ও ভালবাসা দান করেছেন , তিনি কিভাবে আবার আমাদেরকে পোড়ানোর জন্য জাহান্নাম তৈরী করতে পারেন । অতএব জাহান্নামের এই আগুন হচ্ছে আমাদের আমলসমূহের ফলাফল । তাই আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন :
ﻭ ﻗﻮﺩﻫﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭ ﺍﳊﺠﺎﺭﺓ
জাহান্নামের জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর থেকে প্রজ্বলিত ।109
মানুষের মধ্যে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি ও তাদেরকে পথভ্রষ্ট করা ব্যতীত শয়তানের আর অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই । যে কেউ শয়তানের পথে পা বাড়ায় ও ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে প্রকৃত পক্ষে সে শয়তানের পদাঙ্কানুসরণ করেছে । বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরাও অনুরূপভাবে নিজের মন্দ কর্মের মাধ্যমে শয়তানের উদ্দেশ্য হাসিলে সহায়তা করলো ।
8- বে-পর্দা নারী ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা শয়তানের প্রেরিত সৈনিক এবং তার গোপনীয়তার স্থান :
শয়তান নারীকে বলল : তুমি আমার সৈন্য বাহিনীর অর্ধেক হয়ে যাও । তুমি হচ্ছো এমন তীর যে , যখন তা ছুড়বো কোন ভুল হবে না । তুমি আমার গোপন আস্তানা এবং যা কিছু আমার গোপন বিষয় আছে আমি তোমাকে বলবো । তুমি আমার পক্ষ থেকে প্রেরিত এবং আমার বিভিন্ন প্রয়োজনের সাথী ।110
উক্ত বিষয়টি মন্দ স্বভাবের নারীর প্রতি ইঙ্গিত করে বে-হায়াপনা কারণে ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয় ।
শয়তানের একটিই মাত্র উদ্দেশ্য , আর তা হচ্ছে মানুষকে পথভ্রষ্ট করা । বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীর বে-হায়াপনার কারণে মানুষও পথভ্রষ্ট হয় ।
পবিত্র কোরআন বলছে :
) قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٨٢﴾ إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ(
(যখন আল্লাহ তা ’ য়ালা শয়তানকে অবকাশ দিলেন তখন) সে বলল ,‘ হে আল্লাহ! তোমার মর্যাদার কসম যে , আমি তোমার সমস্ত সৃষ্টিকে পথভ্রষ্ট করবো ; তোমার খাঁটি বান্দাদের ব্যতীত (কেননা তাদেরকে তো তোমার জন্য খাঁটি করেছো) ।’ 111
রাসূল খোদা (সা.) বলেছেন :
ﻟﻮ ﻻ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﻟﺪﺧﻞ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺍﳉﻨﺔ
যদি খারাপ নারী না থাকতো অনেক বেশী পরিমান পুরুষ বেহেশতে যেত ।112
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﻟﻮ ﻻ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻳﻌﺒﺪ ﺍﷲ ﺣﻖ ﻋﺒﺎﺩﺗﻪ
যদি (মন্দ)নারী না থাকতো তবে আল্লাহ তা ’ য়ালাকে যেরূপে উপাসনা করা উপযুক্ত ছিল সেরূপেই উপাসনা করা হতো ।113
আল্লাহ্ সুবহানাহু তা ’ য়ালার সাথে মানুষের সম্পর্ক যত গভীর হবে তাদের আধ্যাত্মিকতাও তত বেশী হবে । আর এর ফলশ্রুতিতে তারা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর সাথে অন্তরের সম্পর্ক করবে না । প্রকৃত পক্ষে মানুষ আল্লাহ তা ’ য়ালাকে যত বেশী চিনতে পারবে তাদের কাছে ক্ষমতা , মর্যাদা , অর্থ ও যৌন সম্পর্কিত বিষয়সমূহ তত বেশী তুচ্ছ হয়ে যাবে । আর যখন এই সব তাদের কাছে তুচ্ছ হয়ে যাবে তখন সেগুলো পাওয়ার জন্য নিজেকে পাপে লিপ্ত করে ধ্বংস করবে না । আর যারা নারীর কারণে অনাচারে লিপ্ত হয় তা এ কারণেই যে , তারা মানসিক দিক দিয়ে দুর্বল হওয়ায় আল্লাহ তা’ য়ালার থেকে সেগুলোকে বেশী প্রাধান্য দিয়ে থাকে । দুষ্ট ও নষ্ট স্বভাবের নারীরা এ ধরনের দুর্বলচেতা ব্যক্তিদেরকে শয়তানের পক্ষে নিয়ে আসে এবং তাদেরকে আধ্যাত্মিক ভাবে গড়ে ওঠার সুযোগ দেয় না । কেননা তাকওয়া সম্পন্ন মানুষ ঐ ধরনের নারীদের প্রতি আকৃষ্ট তো হয়ই না বরং তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে ।
হযরত আলী (আ.) বলেছেন :
ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺑﺎﻟﺼﻔﻴﻖ ﻓﺎﻥ ﻣﻦ ﺭﻕ ﺛﻮﺑﻪ ﺩﻳﻨﻪ
তোমাদের জন্য উচিত হলো মোটা পোশাক পরা । যার পোশাক পাতলা তার দ্বীনও ঐ পোশাকের মত পাতলা ও দুর্বল ।114
পোশাক হচ্ছে মানুষের মানসিক অবস্থা , ঈমানের দৃঢ়তা ও ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক । যে নারী পাতলা পোশাক ও মোজা পরে বাইরে আসে তার কর্ম হলো অন্তসারশূন্য এবং আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি তার বিশ্বাস যে দুর্বল তাই তার কর্মে প্রকাশ পায় । আর যে নারী পর্দা পরে বাইরে আসে তার অন্তর পবিত্র এবং আক্বীদা ও বিশ্বাসগতভাবে সে অত্যন্ত দৃঢ় । তার বাহ্যিক অবয়বে তাই প্রকাশ পায় ।
পবিত্র কোরআন বলছে ,
) قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَىٰ شَاكِلَتِهِ فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ أَهْدَىٰ سَبِيلًا(
(হে রাসূল!) বলে দিন , প্রত্যেককে তার রীতি ও অভ্যন্তরীণ রূপ অনুযায়ী কাজ করে । সুতরাং তোমাদের পালনকর্তা , যাদের পথ ও পদ্ধতি অধিক উত্তম তাদের কে ঠিকই চেনেন ।115
পাতলা পোশাক পরা তখনই অপছন্দনীয় যখন তা সর্ব সাধারণের মধ্যে পরে বাইরে আসা হবে । তবে স্ত্রী তার স্বামীর জন্য অনেক পাতলা পোশাকও পরতে পারে । এ ক্ষেত্রে তা কোন ঈমানের দুর্বলতা হিসেবে গণ্য হবে না বরং তা তাকওয়ার নির্দশন হিসেবে পরিগণিত হবে । অবশ্য সন্তান ও অন্যান্য মাহরামদের (যাদের সাথে বিয়ে করা হারাম) সামনে এ ধরনের পোশাক পরে শরীর উম্মুক্ত না করাই শ্রেয় । কেননা এতে করে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার উদ্ভব হতে পারে ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﻟﻴﺲ ﻣﻨﺎ ﻣﻦ ﺗﺸﺒﻪ ﺑﻐﲑﻧﺎ
যে ব্যক্তি নিজেকে অমুসলমানদের মত করে রাখে , সে আমাদের মধ্যে নয় ।116
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﻣﻦ ﺗﺸﺒﻪ ﺑﻘﻮﻡ ﻓﻬﻮ ﻣﻨﻬﻢ
যে ব্যক্তি নিজেকে কোন দলের অনুরূপ করে , সে ঐ দলের অন্তর্ভূক্ত ।117
প্রকৃত মুসলমান হচ্ছে তারাই যারা তাদের নাম , পোশাক , চলা- ফেরা , খাওয়া-দাওয়া , গৃহ নির্মাণ কৌশল , ঘরের আসবাবপত্র , সামাজিকতাসহ সমস্ত কিছুই এক কথায় তাদের সংস্কৃতি ও আদব কায়দা সম্পূর্ণরূপে রাসূল (সা.) ও ইমামগণ (আ.)-এর কাছ থেকে গ্রহণ করে থাকে । কাফেরদের মত চলা-ফেরা , পোশাক পরা ও ইত্যাদির অথ হর্চ্ছে তাদের রসম-রেওয়াজকে স্বীকৃতি দেয়া এবং নিজেকে তাদের একজন হিসেবে পরিচয় দেয়া । আর তাদের অনুকরণ বা অনুসরণ করতে করতে এক সময় দেখা যাবে যে , আমাদের আক্বীদা-বিশ্বাসের উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে । হয়তো এমনও হতে পারে যে , ঐ কারণে আমাদের অনেকে প্রকৃত ও সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে ।
এই পোশাক এমনই পোশাক যা সমাজে তেমন প্রচলিত নয় । কেউ যখন তা পরে সকলেই তাকে লক্ষ্য করে । এ কারণেই আমাদের আলেম ও মার্জায়ে তাকলীদ এবং বুজুর্গ ব্যক্তিগণ বলেছেন যে , ঐরূপ পোশাক পরা হচ্ছে হারাম । আমাদের যুবকদের অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিৎ যে , তারা যেন উপযুক্ত পোশাক পরিধান করে এবং ঐ ডিজাইনের পোশাক যা এখন ফ্যাশন হয়েছে তাই পরতে হবে , এমনটা যেন না হয় । যেন না করে । কেননা কাফেরদের সদৃশ হওয়ার কারণে তাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) কোন সম্মতি নেই । আর প্রকৃত পক্ষে এ ধরনের কাজ ইসলামের শত্রুদেরকে সন্তুষ্ট ও খুশী করে থাকে ।
ফ্যাশন ও আধুনিকতার নামে অপ্রচলিত পোশাক পরার কারণে মানুষ আল্লাহ্ তা ’ য়ালার কৃপা পাওয়ার উপযুক্ততা হারায় ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﻣﻦ ﻟﺒﺲ ﻣﺸﻬﻮﺭﺍ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﻴﺎﺏ ﺃﻋﺮﺽ ﺍﷲ ﻋﻨﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ
যে ব্যক্তি প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে অপ্রচলিত পোশাক পরে , আল্লাহ তা’ য়ালা কিয়ামতের দিনে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﺛﻼﺛﺔ ﻻﻳﺪﺧﻠﻮﻥ ﺍﳉﻨﺔﺍﺍﺑﺪﹰ ﺍﻟﺪﻳﻮﺙ ﻭ ﺍﻟﺮﺟﻠﺔ ﻣﻦ ﺍ ﻟﻨﺴﺎﺀ ﻭ ﻣﺪﻣﻦ ﺍﳋﻤﺮ
তিনটি দল কখনই বেহেশতে প্রবেশ করবে না :
1- দাইয়্যুছ , অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার নিজের স্ত্রী , কন্যার ব্যাপারে কোন খবর রাখে না অর্থাৎ তাদের পর্দার ব্যাপারে উদাসীন ।
2- যে নারী পুরুষের অনুরূপ পোশাক পরে এবং তার চলা- ফেরাও ঠিক পুরুষের মতই ।
3- যে ব্যক্তি মদ পান করে ।118
নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে (আগেই এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে) । আর এ কারণেই তাদের চলা-ফেরা ও পোশাকের মধ্যেও পার্থক্য বিদ্যমান । সুতরাং অবশ্যই পুরুষ যেন পোশাক , চলা-ফেরা ও ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিজেকে নারীর অনুরূপ না করে , তদ্রূপ নারীও যেন নিজেকে পুরুষের অনুরূপ না করে বরং তারা যেন তাদের স্বভাব ও প্রকৃতিগত বিষয়ের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখে ।
রাসূল (সা.) বলেছেন : আল্লাহ্ তা ’ য়ালা সেই সব নারীর উপর লা ’ নত বর্ষণ করুন যারা নিজেদেরকে পুরুষের অনুরূপ করে রাখে এবং তিনি ঐ সব পুরুষের উপরও লা ’ নত বর্ষণ করুন যারা নিজেদেরকে নারীর অনুরূপ করে রাখে ।119
এই বিষয়টির প্রতি একজন যুবক যেন দৃষ্টি রাখে । কেননা একজন যুবকের অবশ্যই উচিৎ যে , সে তার পোশাকের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবে ।
যেভাবে তাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা উপযুক্ত পোশাক পরিধান করেছেন ঠিক সেভাবে যুবকরাও উপযুক্ত পোশাক পরিধান করবে । অন্যদিকে বয়োজ্যোষ্ঠরা অবশ্যই পোশাক পরিধানের সময় বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন । তারা অবশ্যই এমন পোশাক পরবেন না যা তাদের শানে বেমানান । এটা অত্যন্ত দৃষ্টি কটু যে , একজন বয়স্ক ব্যক্তি এক যুবকের মত পোশাক পরবেন ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
خیر ﺷﺒﺎﺑﻜﻢ ﻣﻦ ﺗﺸﺒﻪ ﺑﻜﻬﻮﻟﻜﻢ ﻭ ﺷﺮ ﻛﻬﻮﻟﻜﻢ ﻣﻦ ﺗﺸﺒﻪ ﺑﺸﺒﺎﺑﻜﻢ
উত্তম যুবক হচ্ছে তারাই যারা নিজেদেরকে (পোশাক পরা , চাল-চলন) বয়স্কদের সদৃশ করে এবং নিকৃষ্টতম বৃদ্ধ তারাই যারা নিজেদেরকে যুবকদের সদৃশ করে ।120
অবশ্যই আমাদের এই হাদীসের দিকে লক্ষ্য করা উচিৎ যে , এই হাদীসে অনুসরণের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে নির্দিষ্ট করে বলা হয় নি । সে কারণে যুবকরা বড়দের কাছ থেকে অনেক বিষয় যেমন নৈতিকতা , ইবাদত , জ্ঞানগত বিষয় ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষা নিতে পারে । এমনকি পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে , রং পছন্দের ক্ষেত্রে তাদের মতামত গ্রহণ করতে পারে । সাথে সাথে যে সকল পোশাক পরলে অন্যরা দেখা-দেখি করে এমন ধরনের পোশাক পরা থেকে দূরে থাকবে।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
خیر ﻧﺴﺎﺋﻜﻢ ﺍﻟﻮﻟﻮﺩ ﺍﻟﻮﺩﻭﺩ ﺍﳌﻮﺳﻴﺔ ﺍﳌﻮﺍﺗﻴﺔ ﺍﺫﺍ ﺍﺗﻘﲔ ﺍﷲ ﻭ ﺷﺮ ﻧﺴﺎﺋﻜﻢ ﺍﳌﺘﱪﺟﺎﺕ ﺍﳌﺘﺨﻴﻼﺕ ﻭﻫﻦ ﺍﳌﻨﺎﻓﻘﺎﺕ ﻻﻳﺪﺧﻞ ﺍﳉﻨﺔ ﻣﻨﻬﻦ ﺍﻻ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﻐﺮﺍﺏ ﺍﻻﻋﺼﻢ
তোমাদের মধ্যে উত্তম নারী হচ্ছে তারাই যারা সন্তান জন্ম দানের ক্ষমতা রাখে , স্বামীর প্রতি আন্তরিক হয় , স্বামীর সুখ-দুঃখের অংশীদার হয় , স্বামীকে মান্য করে , এরাই হচ্ছে উত্তম নারীদের অন্তর্ভুক্ত । তবে শর্ত হলো অবশ্যই তাদের তাকওয়া থাকতে হবে । আর নিকৃষ্টতম নারী হচ্ছে তারাই যারা স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্যে সাজসজ্জা করে থাকে এবং স্বামীর উপর খবরদারী করে ও নিজের ইচ্ছা তার উপর চাপিয়ে দেয় । এরপর (সা.) রাসূল আরো বলেন : এই দ্বিতীয় প্রকৃতির নারীরাই হচ্ছে মুনাফিক । এমনকি গলায় সাদা রেখাধারী কাকের সমপরিমানেও বেহেশতে যাবে না (অর্থাৎ তাদের স্বল্পসংখ্যকই বেহেশতে যাবে) ।
তাকওয়া সম্পন্ন , দ্বীনদার ও উপযুক্ত নারী তারাই যারা স্বামীদের জন্য সাজসজ্জা করে এবং স্বামীর খেদমত করে ও তার উপর কথা বলে না । আর না-মাহরাম ব্যক্তির সামনে নিজেকে ঢেকে রাখে এবং আড়ালে থাকে । সাথে সাথে সব ধরনের অঙ্গভঙ্গী করা ও উত্তেজক পোশাক পরা থেকে বিরত থাকে ।
আর যে সকল নারী স্বামীর জন্য সাজসজ্জা করে না , অহংকারী , স্বার্থপর এবং না-মাহরামদের জন্য সাজসজ্জা করে সাথে সাথে বিনয়ী ভাব প্রকাশ করে তারা হচ্ছে মুনাফিকদের মত বহুরূপী মানুষ । কেননা বাহ্যিকভাবে সে নিজেকে বন্ধু এবং ভিতরে ভিতরে শত্রুতা পোষণ করে । এই ধরনের নারীরা খুব কমই বেহেশতে প্রবেশ করবে । কেননা বেহেশত তো তাকওয়া ও উত্তম আমলের ফলশ্রুতিতে হাতে আসে । তারা এ ধরনের আমল দ্বারা নিজেদের জন্য জাহান্নামের অগ্নি শিখাকে আরো উত্তপ্ত করে থাকে ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
ﺍﻥ ﺍﳌﺮﺃﺓ ﺗﻘﺒﻞ ﻗﻰ ﺻﻮﺭﺓ ﺷﻴﻄﺎﻥ ﻭ ﺗﺪﺑﺮ ﰱ ﺻﻮﺭﺓ ﺷﻴﻄﺎﻥ ﻓﺎﺫﺍ ﺭﺃﻯ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺇﻣﺮﺃﺓ ﻓﺎﻋﺠﺒﺘﻪ ﻓﻠﻴﺄﺕ ﺃﻫﻠﻪ ﺍﻥ ﺫﻟﻚ ﻳﺮﺩ ﻣﺎ ﰱ ﻧﻔﺴﻪ
নারী শয়তান রূপে আসবে আবার শয়তান রূপে চলে যাবে । যখন তোমাদের কেউ কোন নারীকে দেখে আকর্ষিত হবে তখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সংস্পর্শে যাবে , কেননা এরূপে যা কিছু তোমাদের অন্তরে আছে তা ধ্বংস হয়ে যাবে ।121
একজন উত্তম নারীর গর্বের বিষয় হচ্ছে তার লজ্জা যা তার তাকওয়া ও পরহেযগারিতার পরিচায়ক । অন্য দিকে যে নারী বেপরোয়া ভাবে নিজের শরীরকে হাজার হাজার যুবক যারা না-মাহরাম তাদের সামনে উম্মুক্ত করে এবং বেহায়াভাবে চলাফেরা করে শয়তানকে খুশি করে থাকে , এর মাধ্যমে তারা তাদের লজ্জাহীনতারই পরিচয় দিয়ে থাকে ।
হযরত আলী (আ.) বলেছেন :
ﺍﳊﻴﺎﺀ ﻳﺼﺪ ﻋﻦ ﺍﻟﻔﻌﻞ ﺍﻟﻘﺒﻴﺢ
লজ্জা (মানুষকে) নোংরা কাজ করা থেকে বিরত রাখে ।122
তিনি অন্যত্র বলেছেন :
ﺳﺒﺐ ﺍﻟﻌﻔﺔ ﺍﳊﻴﺎﺀ
পবিত্র থাকার (সতীত্বের) কারণ হচ্ছে লজ্জা ।123
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
ﺍﻟﺬﻫﺐ ﻭ ﺍﻟﻔﻀﺔ، ﻫﻰ خیر ﻣﻦ ﺍﻟﺬﻫﺐ ﻭ ﺍﻟﻔﻀﺔ ﻭ ﺍﻣﺎ ﻃﺎﳊﺘﻬﻦ ﻓﻠﻴﺲ ﺧﻄﺮﻫﺎ ﺍﻟﺘﺮﺍﺏ، ﺍﻟﺘﺮﺍﺏ خیر ﻣﻨﻬﺎ
নারীর কোন মূল্য নেই , না ভালদের আর না মন্দদের । তবে যারা ভাল তাদের মূল্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের সাথে তুলনা যোগ্য নয় , কেননা তারা সেগুলোর থেকেও অনেক বেশী উত্তম । আর যারা মন্দ তারা মাটির সমতূল্য নয় কেননা মাটি তাদের থেকে অনেক উত্তম ।124
এই হাদীসটি এ কথাই বলতে চায় যে , নৈতিক মানদন্ডে নারীর মূল্য আছে এবং তার মর্যাদা এই পৃথিবীর কোন বস্তুর সাথে তুলনা করা সম্ভব নয় । তবে এটা তো প্রকৃতিগত ব্যাপার যে , সমাজে যে যতটা বেশী ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে ততটা বেশী নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক ভূমিকাও সেই রাখতে পারে । তাই সমাজে যে যত বেশী ভাল ভুমিকা রাখতে পারবে সে ততবেশী সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত হবে । আর যে যত বেশী মন্দ ভূমিকা রাখবে সে ততবেশী তিরস্কৃত হবে ।
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন : পবিত্র নারী স্বর্ণ ও রৌপ্যের থেকেও উত্তম । কেননা উত্তম সন্তান গড়ে তোলার যে দায়িত্ব নারীর উপর রয়েছে সে যদি ঐ দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করে তবে সমাজের প্রতিটি শিশুকে বিশিষ্ট ব্যক্তি রূপে গড়ে তোলা সম্ভব যার দ্বারা এ পৃথিবীকেও পরিবর্তন করা সম্ভব । তাই যে নারী একটি শিশুকে যোগ্যভাবে গড়ে তুললো সে নারীর মূল্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের সাথে তুলনা করা যায় না । অন্য দিকে , যদি খোদাভীতিশূন্য কোন নারী সমাজকে ফিতনা-ফ্যাসাদের দিকে নিয়ে যায় এবং সমাজের সকলকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় তাহলে সে অন্য সকল প্রাণীর থেকে অধম । তাকে মাটি বা কোন পশুর সাথেও তুলনা করা যায় না । কেননা মাটি , প্রাণী ও গাছ-পালা তো সমাজের উপকার করে থাকে । কিন্তু যে সমাজকে নবীগণ (আ.) , সৎ মানুষ ও শহীদগণ তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সাজিয়েছেন ঐ অধম নারী সে সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে ।
ইবলিস সকল নবীর নিকটে যেত । তবে নবীদের মধ্যে হযরত ইয়াহিয়া (আ.)-এর কাছে বেশী যেত । একদিন তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন যে , কিভাবে মানুষকে পথভ্রষ্ট কর ? ততক্ষণাৎ ইবলিস তার পথভ্রষ্ট করার উপকরণগুলো গুণতে শুরু করলো । তারপর তিনি তার কাছে প্রশ্ন করলেন :
এই উপকরণগুলোর মধ্যে কোনটি তোমার চোখ ও অন্তরকে আলোকিত করে ? শয়তান বলল : নারী , তারাই হচ্ছে আমার শিকারের উত্তম স্থান ও ফাঁদ স্বরূপ যখন বেশী সংখ্যায় ভাল মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে চাই তখন নারীদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে থাকি । আর তাদের মাধ্যমেই আমার চোখ ও অন্তর আলোকিত করে থাকি ।125
দ্রষ্টব্য:
1- এই হাদীস থেকে এটা বুঝা যায় যে , মানুষের দূর্ভাগ্যের কারণ হচ্ছে তাকওয়াহীন নারী । যা অতীতেও ইতিহাস সাক্ষ্য দিয়েছে ।
আর এই যে , শয়তান বলেছে : (ভাল ও উত্তম মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য নারীদেরকে ব্যবহার করে থাকি) এর দ্বারা এটা বুঝা যায় যে , তাকওয়াহীন নারী ঈমানদার ব্যক্তির জন্য বিশেষ হুমকি স্বরূপ । আর এটা মুত্তাকিদের জন্যও বিপদ সংকেত হতে পারে যাদের কিনা বিন্দু মাত্র সময়ের জন্যও আল্লাহ তা ’ য়ালার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয় না ।
বিবেকও সমাজের দৃষ্টিতে বেপর্দা ও কঠিনভাবে পর্দা না করার কঠিন পরিণতি
আল্লাহ্ তা ’ য়ালা শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আমাদের কাছে আমানত হিসেবে দিয়েছেন । এগুলোর প্রকৃত মালিক হচ্ছেন তিনিই । যখন কোন নারীর বিয়ে হয়ে যায় তখন তার দেহ , মন ও সাজসজ্জা সব কিছুই স্বামীর সাথে সম্পর্কিত হয়ে যায় । আর তা সর্বসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা তার জন্য কখনই বৈধ নয় ।
রাসূল (সা.) বলেছেন :
যে নারী নিজেকে তার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্যে সুগন্ধিযুক্ত ও সাজসজ্জা করে , আল্লাহ তা ’ য়ালা তার নামাযকে ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করেন না — যতক্ষণ পর্যন্ত না সে জানাবাতের গোসলের (শারীরিক অপবিত্রতাজনিত বিশেষ গোসল) ন্যায় গোসল করে (যদিও এটি মুস্তাহাব গোসল হিসেবে গণ্য) ।126
বে-পর্দায় থাকা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী স্বামীর অন্তর জয় করতে পারে না :
যে নারীর লজ্জা যত বেশী সে তার স্বামীর উপর তত বেশী অধিকার রাখে । আর যে নারীর লজ্জা-শরমের কোন বালাই নেই এবং আল্লাহকে ভয় করে না সে তার স্বামীর আদর-ভালবাসা অর্জন করতে পারে না ।
বে - পর্দায় থাকা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা জ্ঞান অর্জনেও সফল নয় :
যে নারী যত বেশী শালীন , সে লেখা-পড়াতেও তত বেশী সফল । কেননা জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয় স্থির মস্তিস্কের , তাই যে নারী বা মেয়ে সকল সময় নিজেকে অন্যের সামনে উপস্থাপন করার জন্য ব্যস্ত থাকে । প্রতিনিয়ত অন্যদের আকর্ষণ করার লক্ষ্যে নিজেকে বিভিন্ন রূপে সাজিয়ে থাকে । যেহেতু লেখা-পড়ায় সে ভালভাবে মনোযোগ দিতে পারে না তাই জ্ঞান অর্জনে সফল হতে পারে না ।
বে-পর্দায় থাকা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী এ অপছন্দনীয় কাজের মাধ্যমে নিজের অনেক ক্ষতি সাধন করে থাকে :
এর কারণ হলো সে তার সৌন্দর্য্যকে না - মাহরাম বা বেগানা মানুষদের সামনে উপস্থাপন করে । সে তার এ কাজের মাধ্যমে কোন হৃদয়সমূহকে আকর্ষণ করে ? অবশ্যই বলতে হয় : উক্ত কাজের মাধ্যমে সে নষ্ট যুবক , চরিত্রহীন খারাপ প্রকৃতির লোকদের হৃদয়কে আকর্ষণ করে । প্রকৃত মুসলমান ও মু’ মিন ব্যক্তিগণ এ সব কাজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ । এই ধরনের ব্যক্তিদের হৃদয় কাড়াতে দুনিয়া বা আখিরাতে কোন উপকার হবে কী ? অবশ্যই বলতে হয় : দুনিয়া ও আখিরাতে এ সবের কোন মূল্য নেই । আল্লাহ্ তা’ য়ালা নেয়ামত হিসেবে শরীরের সুস্থতা ও সৌন্দর্য্য আমাদেরকে দিয়েছেন । আর তা আমানত হিসেবে দিয়েছেন । আমাদের কোন অধিকার নেই যে , আমাদের হৃদয় বা অন্তর যেভাবে চায় এবং যা করতে চায় তাই করবো । যেহেতু আল্লাহ তা’ য়ালা আমাদেরকে এত নেয়ামত দান করেছেন সেগুলোর আমানতদারীর উত্তম পন্থা হচ্ছে তাঁর সন্তুষ্টি হাসিল করবো । ঐরূপ মানুষের হৃদয় কাড়ার কোন প্রয়োজন নেই যারা নিজেদের শয়তানী ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে নারীদেরকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে । আসলে কি এটা উচিৎ যে , নারী দুষ্ট লোকের হৃদয় হরণের মাধ্যম হবে ?
ইতিহাসের পাতায় নারী সেই প্রথম থেকেই পুরুষের পাশাপাশি তাগুতের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে । উদাহরণ স্বরূপ , আসিয়া তার স্বামী ফিরআউনের সাথে , হযরত খাদিজা (আ.) রাসূল (সা.)-এর পাশে থেকে আবু সুফিয়ানের সাথে , হযরত ফাতিমা (আ.) ইমাম আলী (আ.)-এর পাশে থেকে মুনাফিকদের সাথে , হযরত যয়নাব (আ.) তাঁর ভাই ইমাম হুসাইন (আ.) এর পাশে থেকে ইয়াযিদের সাথে ইত্যাদি । প্রকৃত পক্ষে পুরুষেরা হচ্ছে তলোয়ার চালনায় পারদর্শী আর নারীরা হচ্ছে যোদ্ধা তৈরীতে পারদর্শী । যে নারী এরূপ মর্যাদার অধিকারী , কেন সে চুপ হয়ে বসে থাকবে যখন কিনা সমাজের এক শ্রেণীর লম্পট লোক নারীদেরকে কামভাব চরিতার্থ করার উপকরণ বানানোর চেষ্টায় নিয়োজিত ।
সমাজে হয়তো এমন অনেক নারী রয়েছে যারা সঠিক শিক্ষা পায় নি , নিজেদের ব্যক্তিত্বকে সঠিকভাবে গড়ার সুযোগ তাদের হয় নি , পরিবারে আদর , ভালবাসার ঘাটতি হয়েছে কিন্তু তাই বলে তো তারা নিজেদের না পাওয়ার ব্যথা নিবারণের জন্য নিজেদেরকে অসভ্য , চরিত্রহীন ও দুষ্ট প্রকৃতির ব্যক্তিদের সামনে তুলে ধরতে পারে না । কেননা তাদের এই না পাওয়ার ব্যথা নিবারণ করা এ ধরনের শয়তানী কাজ করার মাধ্যমে সম্ভব নয় , বরং এগুলো করাতে তারা মানসিক দিক দিয়ে আরো বেশী পরিমানে হতাশা অনুভব করবে এবং শরীরিকভাবে কুৎসিত ও সমাজের দৃষ্টিতে ঘৃণার পাত্র হিসেবে চিহ্নিত হবে । আর শেষ পর্যায়ে এ কাজগুলো তাদের জন্য লজ্জা , অপমান ব্যতীত অন্য কিছুই বয়ে আনবে না ।
বে-পর্দায় থাকা ও সঠিকভাবে পর্দা না করাটা হচ্ছে এক ধরনের শিরক :
বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা আল্লাহর উপাসনা করার স্থলে নতুন নতুন মডেল বা ফ্যাশনের উপাসনা করে থাকে , আর তা হচ্ছে এক ধরনের শিরক । যদি কোন নারীর কয়েকটি পোশাক থাকে এবং তা যদি অপচয়ের মাত্রায় না পড়ে ও তা পরলে তার স্বামী খুশি হয় তবে তা পরা অত্যন্ত পছন্দনীয় ও উত্তম ব্যাপার । তবে এরূপ যেন না হয় যে , নারীর সব সময়ের চিন্তা এ জাতীয় বিষয়কে নিয়ে আবর্তিত হবে । কেননা যদি এমন হয় যে , ফ্যাশন করার উদ্দেশ্যে স্বামীকে তা কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং তা কিনে দিতে ধার-দেনা করতে গিয়ে স্বামীকে লজ্জায় পড়তে হয় , তবে এটা ঐ নারীর জন্য একটি বড় ধরনের পাপ ।
বে-পর্দায় থাকা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী কোন কিছু উৎপাদন করার স্থলে খরচ করে থাকে :
বে-পর্দায় থাকা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা কোন কিছু উৎপাদন তো করেই না বরং খরচ করে থাকে । আর সে যে খরচ করে তাতে কোন লাভও আসে না । কিন্তু অন্য নারীরা খরচ করলেও সমাজের জন্য তা সুফল বয়ে নিয়ে আসে । যেমন উপযুক্তভাবে সন্তান লালন-পালন , সংসার চালনা , হাতের কাজ , লেখা-পড়া করা ইত্যাদি । অন্য দিকে বে-পর্দায় থাকা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা এ সব কিছু না করেই নিজেদের ব্যাপারে যে খরচ করে থাকে তা সমাজের তো কোন উপকারেই আসে না , বরং তা ক্ষতিকারকও বটে । কেননা তাদের ঐ নষ্ট কাজের কারণেই সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয় এবং তার মাধ্যমে মানুষ ধ্বংস প্রাপ্ত হয় ।
যখন কেউ নতুন নতুন পোশাক ও ফ্যাশনের পেছনে ছোটাকেই তার লক্ষ্য মনে করে তখন সে মশুধাত্র তা জোগাড় করার কাজেই ব্যস্ত থাকে । যেহেতু তা জোগাড় করা কোন সহজ ব্যাপার নয় বা কোন কোন সময় তা পাওয়াই যায় না , তখন তার মনে সব সময় অশান্তিও অস্থিরতা বিরাজ করে । এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে , সে যেন কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছে তা আর খুঁজে পাচ্ছে না । পোশাক বা ফ্যাশনের পেছনে ছোটা এই বে-পর্দা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীদের এই ধরনের অস্থিরতা কখনোই শেষ হয় না । কেননা মানুষ সত্তাগত ভাবেই লোভী প্রকৃতির তাই যদি তার কাজের ক্ষেত্রে তাকওয়া ও ধার্মিকতা না থাকে তবে সে কখনোই কোন কিছু থেকেই যেমন পদমর্যাদা , অর্থ-বিত্ত ও কামভাব থেকে তুষ্ট হয় না । আর যতক্ষণ তারা পরিতৃপ্ত না হয় ততক্ষণ তাদের মানসিক অশান্তি অব্যাহত থাকে ।
বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা ও তাকওয়াহীন নারী দেরীতে বিয়ে করে :
যখন কোন যুবক বিয়ে করতে চায় তখন সে চিন্তা করে যে , তার এমন একজন জীবন সঙ্গী দরকার যে হবে দ্বীনদার , সুশ্রী , নৈতিকতা সম্পন্ন এবং ভদ্র পরিবারের । সাথে সাথে মেয়েটি এমন হবে যেন তার সাথে সংসার করতে পারে । যেন সে প্রতিনিয়ত তার জন্য নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি না করে । তাই মেয়ে দেখার সময় তারা তাদের মা , বড় বোন বা বয়োজ্যোষ্ঠদেরকে এ কথাগুলো বলে থাকে যাতে করে তারা যেন মেয়ের মধ্যে ঐসব বৈশিষ্ট্য গুলো খুটিয়ে দেখেন । এ থেকে এটা বুঝা যায় যে , যুবকরা বে-পর্দা ও তাকওয়াহীন নারীকে (যারা প্রতিনিয়ত সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমস্যা সৃষ্টি করে) ঘৃণা করে থাকে ।
সুতরাং একজন বিবেক সম্পন্ন যুবক অবশ্যই বিয়ের আগে তার স্ত্রী সম্পর্কিত ব্যাপারে উক্ত বিষয়গুলো চিন্তা করে থাকে । অতএব তারা কখনোই ঐ সব নারী যারা বে-পর্দায় থাকে ও তাকওয়াহীন তাদের দিকে ফিরেও তাকায় না । যে মেয়েকে বিয়ের উদ্দেশ্যে দেখতে যাবে তার ব্যাপারে যদি জানতে পারে যে , সে মেয়ে ঐরূপ বাজে স্বভাবের তবে তাকে দেখতে যাওয়া থেকেও বিরত হয়ে যায় । এরূপ অনেক ঘটনাই আমাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে রয়েছে , এসব কারণেই তাকওয়াহীন বেপর্দা মেয়েদের দেরিতে বিয়ে হয়ে থাকে । আর সে কারণে তারা মানসিক দিক দিয়ে অনেক কষ্টও পেয়ে থাকে । অনেক সময় এই মানসিক কষ্টের কারণে তারা শরীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ে ।
যে সকল যুবক বা পুরুপ ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যদা বোধ সম্পন এবং তাদের এই ব্যক্তিত্ববোধ দৃঢ় ঈমান ও আত্মিক পবিত্রতা হতে উৎসারিত হয়েছে তারা কখনোই এটা মেনে নিতে পারে না যে , এমন মেয়ের সাথে বিয়ে করবে যারা হচ্ছে বে-পর্দা ও তাকওয়াহীন এবং যাদের বর্ণনা লোকের মুখে মুখে রয়েছে । তবে যদি কোন মেয়ের ব্যাপারে বুঝা যায় যে , সে তার অতীত বিষয়ে অনুতপ্ত সেক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্নরূপ নিতে পারে ।
বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীর সংসার দ্রুত ভেঙ্গে যায় :
যদি ফ্যাশন ও আধুনিকতাই জীবনের সকল কিছুর মানদণ্ড হয়ে থাকে তবে যেহেতু তা অতি দ্রুত পুরাতন হয়ে যায় ও তার কাঙ্খিত অবস্থায় থাকে না , সেহেতু নিজের চাওয়া-পাওয়া অপূর্ণ থেকে যায় ।
যেহেতু এই ধরনের পরিবারগুলোতে জীবন সঙ্গী নির্বাচনের সময় বুদ্ধি ও বিবেকের আশ্রয় নেয়া হয় না সেহেতু উক্ত পরিবারগুলো দ্রুত নড়বড়ে হয়ে যায় এবং যে কোন সময় সংসার জীবন ধ্বংস বা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যেতে পারে । শেষ পর্যন্ত তাদের তালাক নেয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা থাকে না । আর এই অপরাধের শাস্তিভোগ করে থাকে তাদের সন্তানরা এবং সন্তানরা বড় হয়ে অধিকাংশই হয় পথভ্রষ্ট ।
বে-পর্দা ও সঠিক পর্দা না করা নারী আল্লাহর খলিফা না হয়ে মানুষের হাতের খেলার পুতুল হয়ে থাকে :
বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী পৃথিবীর বুকে আল্লাহ তা ’ য়ালার খলিফা না হয়ে নিজেকে চরিত্রহীন লোকদের হাতের খেলার পুতুলে পরিণত হয় । যেখানে বলা হচ্ছে যদি কোন নারী তার সম্ভ্রম রক্ষা করে এবং লজ্জাবোধকে জীবনের মূল হিসেবে গ্রহণ করে ও তার সন্তানদেরকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলে সমাজে উপহার দেয় তবে তার এই কাজ নবীদের কাজের সমতুল্য । সুতরাং নারী নিজেকে খেলার পুতুল রূপ না দিয়ে নবীদের দায়িত্ব পালন করতে পারে।
বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী অর্থহীন বিষয়ে প্রতিযোগিতা করে :
একজন নারীর পক্ষে এটা সম্ভব যে , সে জ্ঞান চর্চা , হস্তশিল্প , কারু শিল্প প্রভৃতি বিষয়ে অন্যদের সাথে প্রতিয়োগিতা করে এবং নিজে নৈতিক ও সামাজিকভাবে পরিপূর্ণতায় পৌঁছাবে , যেভাবে অনেক নারীই বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে পুরুষের থেকে এগিয়ে রয়েছে । কিন্তু বে-পর্দা ও তাকওয়াহীন নারীরা আধুনিকতার নামে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে সাজসজ্জা , ফ্যাশন , প্লাস্টিক সার্জারী , ভ্রুতোলা , নখ রাখা ও তার পরিচর্যা ইত্যাদি বিষয়ে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় । এ বস্তুগুলো সুতা , পশম ও প্লাস্টিক নির্মিত কিছু বস্তু বৈ কিছু নয় । বস্তুত ফ্যাশন , সাজসজ্জা নিয়ে প্রতিযোগিতা এসব বস্তু নিয়েই প্রতিযোগিতার শামিল যা কিছু দিন পর আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয় ।
যেখানে নারীদের জন্যে লজ্জা হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং তা রক্ষা করা একান্ত জরুরী , আর তা রক্ষা করলে সকলেই তাকে মূল্য দেয় ও বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করে কিন্তু তাকওয়াহীন তা না করে নিজেকে বে- পর্দা করে অন্যের সামনে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নিজেকে মূল্যহীন করে ফেলে ।
বেপর্দা ও সঠিক পর্দা না করা নারীরাও বেপর্দার মন্দ প্রভাবের শিকার হয় :
বেপর্দা ও তাকওয়াহীন নারীদের অশালীন ভাবভঙ্গীও বিভিন্ন শয়তানী কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের প্রতি ঈমানহীন লোকেরা আকৃষ্ট হয়ে থাকে । সে কারণেই কখনো দেখা যায় যে , এ ধরনের নারীদের কারণে অনেক স্বামী তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যায় । অবশেষে এই তাকওয়াহীন নারীরা একটি বা কয়েকটি পরিবার ধ্বংসের মূল কারণ হয়ে থাকে । আর এভাবেই তারা এই ন্যাক্কার জনক কাজের মাধ্যমে মহা পাপে লিপ্ত হয়ে থাকে ।
তবে অবশ্যই বলতে হয় যে ,“ হে নারী আপনি তো এমন করলেন তবে এটাও জেনে রাখুন আপনার থেকেও অধিক সুন্দরী নারী রয়েছে এবং সে আপনার সংসার ও আপনার পরিবারেও অশান্তির সৃষ্টি করবে । প্রকৃত পক্ষে আপনি একটি পাথর ছুড়েছেন , কিন্তু পাথরটি ফিরে এসে আপনার দিকেই ফিরে আসবে । ”
যদি কোন রাষ্ট্র ইসলামী রাষ্ট্র না হয়ে থাকে , তাহলে এমন কোন ক্ষমতা নেই যে সে রাষ্ট্রের জুলুম-অত্যাচার , খুন , রাহাজানি ইত্যাদিকে বন্ধ করতে পারে , যদিও সে রাষ্ট্র আধুনিক অস্ত্র , সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগের ক্ষেত্রে যত শক্তিশালীই হোক না কেন । কেননা সে রাষ্ট্রের সরকার হয়তো পুলিশ দিয়ে বাহ্যিকভাবে ঐ সবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে । কিন্তু কোন কিছুই করতে পারবে না । কেননা যদি পারতো তবে সারা বিশ্বে জুলুম-অত্যাচার , খুন , রাহাজানি , ইত্যাদির পরিমান এত অধিক হতো না ।
সুতরাং অবশ্যই এই বাহ্যিক শক্তির সাথে অন্য আরো একটি শক্তির সমন্বয় প্রয়োজন । যাতে করে সমাজ অবক্ষয় থেকে মুক্তি পায় । আর ঐ অন্য একটি শক্তি অবশ্যই দ্বীনের কাছ থেকে নিতে হবে । কেননা যদি প্রকৃত ধর্মীয়বোধ মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে তবে গোপন ও প্রকাশ্যে অর্থাৎ সকল সময়ই মানুষের সাথে এ বোধের সহাবস্থান রয়েছে যা মানুষকে ভাল কাজের জন্য উৎসাহ এবং মন্দ কাজ করতে বাধা দিয়ে থাকে । এই শক্তি সেই আল্লাহ ও কিয়ামতের বিশ্বাস হতে উৎসারিত যা মিলিয়ন মিলিয়ন পুলিশের থেকেও সমাজের জন্য অনেক বেশী ফলদায়ক । তাই যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই বিশ্ব এই অভ্যন্তরীণ শক্তিতে পরিপূর্ণ না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ ধরনের অন্যায়-অনাচার , জুলুম-নিপীড়ন চলতেই থাকবে এমনকি বর্তমান অবস্থা থেকে আরো খারাপ দিকে চলে যেতে পারে ।
পাশ্চাত্য ও ইউরোপের দেশগুলো প্রচার প্রপাগাণ্ডার মাধ্যমে বিশ্বের অধিকাংশ জাতিকে বিশেষ করে যুবকদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করে যে , এই পৃথিবীর মানুষদেরকে বিশেষত আমেরিকাই কেবলমাত্র সকলকে সৌভাগ্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছিয়ে দিতে পারে তারা ব্যতীত অন্য কারো এমন ক্ষমতা নেই । তাদের এই ধরনের প্রচারণার মাধ্যম হচ্ছে বিশ্বের বড় বড় সংবাদ সংস্থাগুলো যেমন , আমেরিকান সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) , ইউনাইটেড প্রেস (ইউপি) , ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার , ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা (এফ পি) । এই সংবাদ সংস্থাগুলো গড়ে দৈনিক 45 মিলিয়ন শব্দ 110 টি দেশে প্রেরণ করে থাকে । এই চার সংবাদ সংস্থা আনুমানিক 500 টি রেডিও স্টেশন এবং টেলিভিশন সেন্টার থেকে খবর পরিবেশন করে থাকে । অন্যদিকে রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা তাস হতেও প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শব্দ প্রচার হচ্ছে । এর বাইরে সি এন এন ও বিবিসি তো রয়েছেই । শুধু বিবিসির কর্মচারীর সংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের অধিক । আর এই সংবাদ সংস্থাগুলো ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারের ক্ষেত্রে কেউ কারো থেকে কম নয় । বর্তমান সময় যেহেতু স্যাটেলাইটের যুগ তাই তারা যে কত প্রকারের খবর তাতে দিচ্ছে তা গণনার বাইরে ।
প্রকৃতপক্ষে বলতে হয় যে , বর্তমান সময়টি হচ্ছে পুরাতন সেই দাস প্রথারই ধারাবাহিকতা , তবে নতুন আঙ্গিকে । কেননা অতীতে হামলা , লুট , হত্যা , রাহাজানি ইত্যাদির মাধ্যমে শাসকরা রাজ্য শাসন করতো । বর্তমান দুনিয়া যেহেতু অগ্রগতি লাভ করেছে তাই শাসকরা সেই পুরাতন পদ্ধতিকেই নতুন আঙ্গিকে রূপ দান করে দুনিয়ার সবাইকে নিজেদের গোলাম বানানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে । কেননা উক্ত সংবাদ সংস্থাগুলো প্রতিদিন নতুন নতুন মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে দুনিয়ার সাধারণ মানুষদের চিন্তার উপর প্রভাব বিস্তার করে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে চলেছে । আর এর মাধ্যমেই তারা তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শগুলো এবং নষ্ট সংস্কৃতিকে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করিয়ে থাকে । আর এই পদ্ধতিতে তারা মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে ঐ সকল দেশসমূহের উপর অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক , সাংস্কৃতিক ও সামরিক দিক দিয়ে কর্তৃত্ব অর্জন করে থাকে । আর যখন কোন দেশ বা বিপ্লবী জাতি তাদের এই সব অপসংস্কৃতি ও অন্যায়- অত্যাচারের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ায় তখন এই সব সংবাদ সংস্থাগুলো মিথ্যা খরব পরিবেশন করে ঐ সব দেশ ও বিপ্লবী জাতিকে বিশ্বের সামনে অপরাধী ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে । কিন্তু আল্লাহ্ তা ’ য়ালার একান্ত কৃপায় ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে ইরানে ইসলামী বিপ্লব সফল হওয়াতে শয়তান উপযুক্ত শিক্ষা পেয়েছে । কেননা আল্লাহ্ তা ’ য়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন যে ,“ যদি মু ’ মিনগণ জিহাদের ব্যাপারে দুর্বলতার পরিচয় না দেয় এবং পবিত্র অন্তর ও খাঁটি নিয়তে শত্রুর মুকাবিলায় দাঁড়িয়ে যায় তাহলে তিনি তাদেরকে বিজয় দান করেন । আর এটাই হচ্ছে তাঁর সব সময়ের রীতি ।
পাশ্চাত্যের দেশসমূহ এই বিষয়গুলো ছাড়াও নিজেদের নষ্ট সংস্কৃতিকে বাহ্যিক চাকচিক্যের মোড়কে সাজিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রচার করছে যাতে করে পৃথিবীর মানুষদের বিশেষ করে যুব সমাজকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করতে পারে । এক্ষেত্রে মূলত তারা যৌনতাকে পুঁজি করে তাদেরকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত । তাদের লক্ষ্য হলো যুবকরা যেন এ সব বিষয় নিয়েই ব্যস্ত থাকে এবং তাদের দেশের জরাজীর্ণ রাজনীতি , অর্থনীতি , সামরিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে চিন্তার অবকাশ না পায় এবং তা নিয়ে সোচ্চার না হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক দুর্বৃত্ত ইউরোপ ও আমেরিকার বিরুদ্ধাচারণ না করে । তবে তারা অন্যান্য দেশগুলোকে নিজেদের আয়ত্তে আনার জন্য যে ফাঁদ পেতেছে সেই ফাঁদে তাদের দেশের মানুষ অন্য সকলের আগে পা দিয়েছে এবং ধ্বংস হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে । যদিও পাশ্চাত্য আজ বস্তুগতভাবে উন্নতি করেছে কিন্তু সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের যে বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন তা তাদের নেই । যেমন আত্মসম্মানবোধ , পারস্পরিক সহমর্মিতা , লজ্জা , ভালবাসা , সাহসিকতা , পরিবারে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস , নারীর সতীত্ববোধ ইত্যাদি সকল মানবীয় গুণাবলী তারা হারিয়ে ফেলেছে ।
আমরা এখানে আমাদের প্রিয় দেশবাসী বিশেষ করে যুব সমাজের সামনে পাশ্চাত্যের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করবো যাতে করে তাদের প্রকৃত অবস্থা কিছুটা হলেও সবার সামনে পরিষ্কার হয়:
পাশ্চাত্যের দেশগুলো যখন শিল্প ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতির শিখরে পৌঁছে গেল তখনই তারা দুর্বল দেশসমূহের উপর বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর উপর আগ্রাসন চালাতে শুরু করলো এবং আগ্রাসনের ফলে হস্তগত সম্পদের ভাগা-ভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্ব । তারা দু ’ শ বছর ব্যাপী এ দেশগুলোতে ঔপনিবেশিক শাসন চালায় । সারা বিশ্ব থেকে রাশি রাশি সম্পদ আহরণ করে নিজেদের দেশে পুঞ্জীভূত করতে শুরু করে । আফ্রিকা , উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা সহ সকল স্থানেই তাদের আগ্রাসী হামলা ও লুটপাট দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকে । অবশেষে তারাই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সূচনা করে । আর এই দুটি বিশ্ব যুদ্ধের পর শোষিত মানুষেরা তাদেরকে ভালভাবে চিনতে পারলো এবং ধীরে ধীরে তাদের কাছে থেকে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জন করল ।
তবে যেহেতু সর্ব প্রথম এই সব হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা তারাই শুরু করেছিল সেহেতু এই বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে তারাই তার প্রথম খেসারত দিয়েছিল । আল্লাহ তা ’ য়ালা এরশাদ করেছেন :
) يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا بَغْيُكُمْ عَلَىٰ أَنفُسِكُم(
হে মানব সকল! জেনে রাখ যে , তোমরা যখন কোন প্রকার জুলুম-অত্যাচারের সাথে জড়িত হবে এবং সত্য থেকে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে তবে তা তোমাদের উপরই পড়বে (এর পরিণতি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে) ।127
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষতি ছাড়াও প্রায় 60 মিলিয়ন মানুষ নিহত ও 110 মিলিয়ন মানুষ আহত হয়েছিল । ধর্মহীনজ্ঞান এ ছাড়া আর কী দিতে পারে! আর এর থেকে বেশী কিছু খোদাহীন ঐ জ্ঞানের কাছে আশা করা যায় না ।
আফগানিস্তানের সাথে রাশিয়ার , ইরানের সাথে ইরাকের , আলজেরিয়ার সাথে ফ্রান্সের , আরবদের সাথে ইসরাইলের মধ্যে যে যুদ্ধগুলো সংঘটিত হয়েছে তাতে প্রায় 5 মিলিয়ন মানুষ নিহত হয়েছিল । আর এই সব যুদ্ধের সূচনাকারী দেশগুলোর পরিকল্পানাই ছিল মুসলমানদের নিধন করা ।
ইরানী পত্রিকার এক সাংবাদিক রোম থেকে এই মর্মে খবর দেয় যে , প্রতি বছর 30 হাজার ইটালীয় নাগরিক মদ পান ও মাদকদ্রব্য ব্যবহারের কারণে নিজেদের জীবন হারিয়ে থাকে ।128
জার্মানীতে দুর্ঘটনাজনিত কারণে এক বছরে 8 হাজার জনের মৃত্যু ও 4 ,48 ,000 লোক আহত হয় । এ ঘটনার কারণে উল্লেখ করা হয়েছে যে , গাড়ির গতি অতিমাত্রায় বেশী থাকা , মাদক দ্রব্য ব্যবহার ইত্যাদি ।129
জাপানে 1985 সালে 23 হাজার 599 জন লোক আত্মহত্যা করেছে । জাপান পুলিশ এর কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ এবং মাদবদ্রব্য ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছে । তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা নারীদের দ্বিগুণ ছিল এবং তাদের অধিকাংশই 65 বছর বয়স্ক ।130
ব্রাজিলে প্রায় 16 হাজারেরও বেশী শিশু অবৈধ ভাবে পাচারকারী দলের হাতে নিহত হয় । ব্রাজিলের পার্লামেন্টের এক বিশেষ বৈঠকে এ মর্মে ঘোষণা দেয়া হয় যে , গত 5 বছরে 16 হাজার 414 জন শিশু ব্রাজিলের বিভিন্ন স্থানে নিহত হয়েছে ।
বন থেকে জার্মান কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা‘ যুদ দুভিচে ’ নামক পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে যে , ব্রাজিলে গত 2 বছরে শুধুমাত্র‘ রিওডিজেনেরো ’ ও‘ সাওপাওলো ’ নামক দুটি বৃহৎ শহরে অভিভাবকহীন 3 মিলিয়ন শিশুর মধ্যে 40611 শিশু নিহত হয়েছে ।
ব্রাজিলে শিশু হত্যা করাটা হচ্ছে একটি সমাধান স্বরূপ , যাতে করে তারা ফ্যাসাদের দিকে অগ্রসর না হতে পারে ।‘ জুখে মৃত্যু ’ নামে একটি দল প্রতিটি শিশুকে হত্যা করার জন্য 700 মার্ক গ্রহণ করে থাকে ।131
ইংল্যান্ডের জনসংখ্যা ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর একটি গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী যে সকল স্বামী-স্ত্রী বিয়ের আগে নিজেদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক রাখতো বিয়ের পরে 15 বছরের মধ্যেই তাদের মধ্যে তালাকের সম্ভাবনা অন্যদের থেকে বেশী হয়ে থাকে । আর তার পরের বছরগুলোতে তাদের 1 প্রায় 60 ভাগের মধ্যে তালাক হয়ে যায় ।132
উক্ত রিপোর্টে আমেরিকা , কানাডা , সুইডেনের অবস্থা ইংল্যান্ডের থেকে আরো খারাপ পর্যায়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।133
সি.এন.এন সংবাদ সংস্থা এক রিপোর্টে আমেরিকানদের পারিবারিক অবস্থার ব্যাপারে বলে : গত 30 বছরে 16270 জন পুরুষ তাদের পরিবারের কাউকে কিছু না বলে নিরুদ্দেশ হয়েছে । এই সকল পরিবারের স্ত্রীদের সাহায্য প্রার্থনায় এগিয়ে এসে ফেডারেল পুলিশ মাত্র 7 হাজার পুরুষকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় ।
পালিয়ে যাওয়া পুরুষদের কাছে তাদের এহেন কাজের কারণ জানতে চাইলে তারা জানায় যে , স্ত্রীর অভদ্রতা , সব ক্ষেত্রেই কর্তৃত্ব করা , অধিক মাত্রায় খরচ করা , দায়িত্বহীনতা , বিয়ে করে পস্তাচ্ছে এমন ভাব করা , সন্তানদের অতিরিক্ত দুষ্টামী করা ও শাশুড়ীর যন্ত্রণা , অন্য নারীর প্রতি ভালবাসার কথা বলেছে ।134
1986 থেকে 1992 সাল পর্যন্ত আমেরিকায় 8 লাখ লোক তাদের স্ত্রীদের থেকে আলাদা হয়েছে । আর ফ্রান্স , জার্মানী , ইটালী , সুইডেন ও ইংল্যান্ড আমেরিকার সাথে অল্প কিছু পার্থক্য রেখে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে । সি.এন.এন সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা যায় যে , আমেরিকায় প্রতি পরিবারে তিনটি বিয়ের মধ্যে একটি তালাক হয়ে যায় । আর এটাই শিশুদের দুঃখ ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । এমনকি সৎ মা অথবা সৎ বাবার হাতে তারা নিহতও হয়ে থাকে ।135
প্রতি 5টি শিশুর মধ্যে একটি শিশু অবৈধভাবে কুমারী মাতা হতে জন্মগ্রহণ করে । আমেরিকার এক সংবাদ সংস্থার (এপি) পক্ষ থেকে জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় যে , এই সন্তানদের অধিকাংশই 30 থেকে 40 বছর বা তার থেকেও বেশী বয়সের মহিলাদের হতে জন্মগ্রহণ করেছে , এমনকি 20 বছর ও তার থেকে কম বয়সের মেয়েদের থেকেও অবৈধ সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে ।136
ইংল্যান্ডের পরিসংখ্যান ব্যুারোর এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয় যে , গত বছরের শেষ তিন মাসে 31 ভাগ শিশু ভূমিষ্ট হয়েছে যাদের পিতা নির্দিষ্ট ছিল না ।137
সি.এন.এন টেলিভিশনের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে , আমেরিকার 50 ভাগ শিশু অবৈধ ভাবে জন্মগ্রহণ করে থাকে এবং যে পরিবার পিতা-মাতার তালাকের কারণে তছনছ হয়েছে তার পরিমানও অনেক বেশী ।138
আমেরিকার এক মহিলা এক শিশুকে জন্মদান করে যে শিশুর দেহটি মানুষ ও কুকুরের আকৃতির ছিল । পাকিস্তানের ইসলামাবাদের‘ সময়ের কথা ’ নামক এক পত্রিকায় ঐ মহিলার ছবি সহ উক্ত বিষয়ে এরূপে রিপোর্ট করে যে , ঐ মহিলা আমেরিকার এক শহরে একটি শিশুর জন্ম দেয় , যে শিশুটির মুখের আকৃতি ও কন্ঠস্বর হচ্ছে কুকুরের মত এবং তার স্বভাব হচ্ছে সম্পূর্ণ মানুষের মত ।
ঐ মহিলা বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার সাথে সাক্ষাৎকারে বলে যে , সে এখনো বিয়ে করে নি । কিন্তু নয় মাস পূর্বে এক নভোযান এসে তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং কিছু দিন পরে তাকে ছেড়ে দিয়ে যায় । এই বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ঐ মহিলাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে বলেছেন যে , এই মহিলার সাথে কুকুরের মিলনের ফলে অথবা তাকে কুকুরের বীর্যের ইনজেকশন পুশ করাতে এই শিশু ভুমিষ্ঠ হয়েছে । শিশুটি জন্মের সময় 6 কেজি 500 গ্রাম ওজনের হয়েছিল ।139
ইংল্যান্ডের সরকারী একটি প্রসূতি কলেজের গবেষণা অনুযায়ী দেখা যায় যে , গত 20 বছরে 13 থেকে 19 বছর বয়স্ক মেয়েদের মধ্যে গর্ভপাতের হার 4 গুণ বেড়ে গেছে । টাইমেয পত্রিকা এভাবে লিখছে :
গত বছর অনুরূপ একটি গবেষণাতে দেখা গেছে যে , ইংল্যান্ডে ও উইলটারে আইনগতভাবে 173900 টি গর্ভপাত হয়েছে । গর্ভপাতকারী নারীদের এক তৃতীয়াংশ হচ্ছে 20 বছর থেকেও কম বয়সের মেয়ে ।
এই পত্রিকায় আরো বলা হয়েছে যে , 1969 সালে 15 থেকে 19 বছর বয়স্ক যে মেয়েরা গর্ভপাত করেছিল তার সংখ্যা 11 ,200টির বেশী নয় । 1972 , 1980 , 1988 সালে ঐ সংখ্যার পরিমান বেড়ে হয়েছে 37 হাজারেরও বেশী ।140
বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই সব থেকে বড় একটি সমস্যা হচ্ছে বিয়ের আগে মেয়েদের গর্ভবতী হওয়া , বিশেষ করে যখন মেয়েরা প্রাপ্ত বয়স্ক হয় । এর পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগও সৃষ্টি হচ্ছে যেমন এইডস । বিশ্বের অনেক স্থানে দেখা গেছে যে , যে সব মেয়েরা অনিচ্ছাকৃতভাবে গর্ভবতী হয়েছে সে কারণে অদক্ষ কারো কাছে গর্ভপাত ঘটাতে যায় । আর এই অবৈধ গর্ভপাতে প্রতি বছর প্রায় 2 লাখেরও বেশী মেয়ের মৃত্যু হয়ে থাকে । তবে যারা বেঁচে থাকে তাদের মধ্যে অনেকেই আবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যেমন পরবর্তীতে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ।141
জার্মানের ব্যারান্ড বুর্গ প্রদেশে প্রোটেষ্ট্যান্টদের গীর্জায় সমকামিতাকে বৈধ বলে ঘোষণা দিয়ে বলা হলো যে , তা কোন পাপ নয় । বনের কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা এ ব্যাপারে‘ ফ্যারাঙ্কফুটার রুওয়ান্ড সাউ ’ পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলে যে , গীর্জার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সমকামিতা কাজটি কোন পাপও নয় এবং কোন রোগও নয় ।
আরো মজার ব্যাপার হলো যে , গীজার্র কাছে দাবী পেশ করা হয়েছে এই মর্মে যে , যারা এই কাজ করবে তাদেরকে যেন গীর্জায় প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয় । ঘোষণা পত্রে আরো বলা হয় যে , সমকামিতাদের উপর যেন কোন প্রকার আক্রমণ না হয় এবং তাদের কাজে যেন কোন প্রকার বাধাও দেয়া না হয় ।142
অথচ নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়ে বৃটেনের কমন্স সভা 14/4/46 ফার্সী তারিখে আট ঘন্টা সময় নিয়ে এক দীর্ঘ আলোচনার পর বৈধ বলে ঘোষণা দেয় । আর তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য লর্ডসভায় পাঠিয়ে দেয় । এর দশ দিন পরে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট সমকামিতার বৈধতাকে সরকারী ভাবে ঘোষণা দেয় ।143
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এটাই যে , ইংল্যান্ডে কারো দু ’ জন স্ত্রী থাকা নিষিদ্ধ কিন্তু সমকামিতা বৈধ । তারা বলে থাকে যে , কোন পুরুষ যদি তার একটি স্ত্রী থাকা সত্বেও আরেকটি স্ত্রী নিয়ে আসে তবে তা হবে অন্যায় বা অবৈধ । কেননা তার প্রথম স্ত্রীর সাথে সেটা হবে অমানবিক আচরণ কিন্তু সমকামিতাতে কোন সমস্যা নেই ।
পাশ্চাত্যের কাছে এর থেকে বেশী কিছু আশা করা যায় না কারণ তারা তো নষ্ট হয়ে গেছে । কিন্তু আফসোস হয় তাদের জন্য যারা তাদেরকে অনুসরণ করে চলতে চায় ।
সি.এন.এন সংবাদ সংস্থা আমেরিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গবেষণা মূলক একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছে যে , আমেরিকাতে প্রতি 13 মিনিটে একজন এইডসের ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে ।
এই রিপোর্ট অনুযায়ী আমেরিকায় প্রতি 100 জন পুরুষ মধ্যে একজন এবং প্রতি 800 জন মহিলার মধ্যে একজন এইডস ভাইরাস আক্রান্ত । এইডসের ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশের প্রায় 2 থেকে 8 বছর পরে ধরা পড়ে । এই ভাইরাস প্রথমে মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয় এবং পরিশেষে এর সংক্রমণ ঘটে সে মৃত্যুবরণ করে । এইডস মূলত যৌন অনাচার ও আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে দৈহিক সম্পর্কের কারণে হয়ে থাকে । আমেরিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই মর্মে ঘোষণা দেয় যে , বর্তমানে সেখানে 5 লাখ 50 হাজার লোক এইডসে আক্রান্ত এবং আগামী বছরগুলোতে এইডসের মড়ক লাগতে পারে । তাই এইডস সম্পর্কে মানুষের বিশেষ করে যুব সমাজকে বেশী জানানোর জন্যে সকল ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন এবং শিক্ষা কেন্দ্র গুলোতে সে সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া ও তা থেকে রেহাই পাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে ।
এই রিপোর্ট অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রানসিসকো শহরটি (যা সমকামীদের রাজধানী বলে অভিহিত হয়েছিল) বর্তমানে সব থেকে বেশী এইডস রোগী দেখতে পাওয়া যায় ।144
এই ন্যাক্কার জনক কাজটি ইসলামের দৃষ্টিতে সব থেকে নিচু ও খারাপ কাজ । কেননা তা এমনই একটি কাজ যার শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড । ফিকাহ্ শাস্ত্রে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে যেমন একটি হাদীসে বলা হয়েছে :
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন : সমকামিতা হচ্ছে এতই নিকষ্টৃ মানের একটি কাজ যা ব্যভিচারের থেকেও খারাপ । আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা ’ য়ালা যে সকল ব্যক্তি সমকামিতার দিকে ছুটে যায় তাদেরকে ব্যভিচারী ব্যক্তিদের থেকে আগে ধ্বংস করে দেন ।145
ইমামগণের (আ.) রেওয়ায়েত থেকে মানুষ ইসলামী বিধি-বিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও ঐশী উজ্জ্বলতা সম্পর্কে অবহিত হয়ে থাকে । কিন্তু দুনিয়ার কিছু লোক এই সকল কাজের কারণে যে অকালে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে এর প্রকৃত কারণ হলো আল্লাহ্ সুবহানাহু তা ’ য়ালার থেকে দূরে থাকা এবং পবিত্র কোরআন ও আম্বিয়াদের (আ.) আদেশ-নিষেধের প্রতি গুরুত্ব না দেয়া ।
1985 সালে আমেরিকার প্রধান বিচার বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি 13টি পরিবারে মধ্যে 1টি পরিবারে রাতের বেলা চুরি হয়েছে অথবা পরিবারের যে কোন একজন সদস্যের প্রাণহানী ঘটেছে । 1985 সালে ঘোষণা করা হয় যে , দস্যুরা পরিবারের 2 কোটি 21 লক্ষ সব কিছুই নিয়ে গেছে । গাড়ী চুরি , ধর্ষণ , ব্যক্তির সম্পত্তিতে অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং বাড়ীর আসবাবপত্র চুরি করার মত অসংখ্য ঘটনা ঘটার খবর উল্লেখ করা হয়েছে ।146
আশ্চর্য জনক ও অমানবিক একটি ঘটনা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ঘটেছে সেখানে এক গ্রামের একই বাড়ীর চারজন নারী পুলিশ ও স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মীর দ্বারা পালাক্রমে ধর্ষিত হয় । যারা তাদের নিরাপত্তা দেয়ার কথা তারাই তাদেরকে ধর্ষণ করে । এই রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয় যে ,‘ ভারতীয় নারী ঐক্য সমাজ ’ ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা দেয় যে , মধ্য রাতে পুলিশরা এই বাড়ি থেকে পুরুষ ও উক্ত চার নারীকে ধরে নিয়ে যায় ; ঐ চার নারীর মধ্যে সব থেকে বয়স্ক মহিলা হচ্ছে 75 বছরের এবং সব থেকে কম বয়স্ক মেয়ে হচ্ছে 6 বছরের । পুলিশরা বাড়ীর পুরুষদেরকে ঘর থেকে বের করে বেদম প্রহার করে বেঁধে রাখে এবং 14 ঘন্টা ধরে ঐ চার নারীর উপর চালায় ধর্ষণ ও পাশবিক অত্যাচার । তারপর তারা গ্রাম ছেড়ে চলে যায় ।147
জমহুরী ইসলামী পত্রিকা জানায় : একজন এশীয় মহিলা দিনের বেলা লন্ডনের এক রাস্তায় দুইজন পুরুষের দ্বারা অপহরণ হয় এবং উক্ত রাস্তা সংলগ্ন একটি পার্কে ধর্ষিত হয় ।
এই ঘটনাটি বিকাল বেলা যখন ঐ রাস্তাটিতে প্রচুর ভিড় থাকে তখন ঘটে । এটা কিভাবে সম্ভব যে , লোকজনের সমাগম থাকা সত্বেও দুইজন লোক একজন 26 বছরের মহিলাকে তুলে নিয়ে যাবে এবং পাশের পার্কে তাকে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যাবে ?
এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক বৃদ্ধ লোকের সাহায্যে সে মহিলা পুলিশ স্টেশনে পৌঁছায় এবং ঘটনার বর্ণনা দেয় । শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লন্ডনের পুলিশ তখনও ঘটনাটিকে খুটিয়ে দেখছিল ।148
পাশ্চাত্যপ্রেমীরা কোথায় যেতে চান ?
আমেরিকার সি.এন.এন সংবাদ সংস্থা নিজেই আমেরিকার সামাজিক অবক্ষয় ও অধঃপতনের ব্যাপারে এক রিপোর্টে বলে যে , সেখানে ফ্যাসাদ ও অশ্লীলতা এত অধিক পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে যে আইন প্রণয়নকারীদের ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে দিয়েছে এবং তাদেরকে নতুন আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য করেছে ।
এই সংবাদ সংস্থার আরব আমিরাত হতে প্রচারিত রিপোর্ট হতে জানা যায় , আমেরিকানদের বিনোদন লজ্জাকর ও কুৎসিত এক রূপ লাভ করেছে । বিনোদনের নামে তারা বিভিন্ন ধরনের অশোভনীয় ও অশ্লীল ছবি , টিভি সিরিয়াল এবং যৌন উদ্দীপক গান প্রচার করছে । নৈতিকতার দিকনির্দেশক বাণীবাহক হওয়ার পরিবর্তে তারা অশ্লীলতা , অনাচার ও বিশৃংখলার বিস্তার ভূমিকা রাখছে । আর সেখানকার চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গায়কদের দৃষ্টিতে কোন কিছুই ঘৃণার ও অসন্তোষের বিষয় নয় ।
উক্ত সংবাদ সংস্থা তার রির্পোটে আরো উল্লেখ করে যে ,যৌন নির্যাতন , অবৈধ যৌনসম্পর্ক , মাদক দ্রব্য সেবন , শয়তান পুজার দৃশ্য , সহিংসতা , উচ্ছৃঙ্খলতা ও অশ্লীলতাসহ বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক বিষয় আমেরিকার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে ।
উক্ত সংবাদ সংস্থা তার রির্পোটে উল্লেখ করে যে , হলিউডে এমন সব ছবি তৈরী করা হয় যা শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এবং তা পর্দায় তাদের সামনে তুলে ধরা হয় । চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাদের ছবির প্রতি দর্শককে আকর্ষণ করার লক্ষ্যে টিকিট কাউন্টার বা বুকিং অফিসের সামনে ছবির ব্যানারের উপর এক্স চিহ্ন দিয়ে রাখে যাতে করে মানুষের মনে কৌতুহলের সৃষ্টি করে ।
পিতা-মাতার ভাল ও মন্দ স্বভাবসমূহ শিশুর উপর প্রভাব ফেলে । এমন কি যখন শিশু মায়ের গর্ভে থাকে তখন মায়ের হালাল ও হারাম খাবারও ঐ শিশুর উপর প্রভাব ফেলে । তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন যে : যদি কোন মা মাদকাসক্ত হয়ে থাকে তবে তার গর্ভে থাকা সন্তানটিও হবে মাদকাসক্ত । আর এটা তো হয়েই থাকে যে , উত্তরাধিকার সূত্রে পিতা- মাতার ভাল-মন্দ সকল বৈশিষ্ট্যই শিশুর দৈহিক ও মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে থাকে । এ কারণে রাসূল (সা.) বলেছেন :
দেখ , কোন এলাকায় এবং কোন বংশের থেকে সন্তান নিতে চাও , কেননা রক্ত ও বংশ (শিশুর উপর) প্রভাব ফেলে ।149
হযরত আলী (আ.) বলেছেন :
ﺣﺴﻦ ﺍﻷﺧﻼﻕ ﺑﺮﻫﺎﻥ ﻛﺮﻡ ﺍﻷﻋﺮﺍﻕ
উত্তম চরিত্র বংশীয় মর্যাদার পরিচায়ক ।150
উক্ত বর্ণনা অনুযায়ী , কোন নারীর চরিত্রবান ও দুশ্চরিত্র হওয়া এবং তাকওয়া সম্পন্ন হওয়া ও না হওয়ার বিষয়টি কন্যার উপর প্রভাব ফেলে । আর এই বিষয়টি (চারিত্রিক উত্তরাধিকার) শুধুমাত্র পবিত্র ইসলামেই নয় বরং সামাজিক অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসের ভিত্তিতেও তা প্রমাণিত হয়েছে । পরিশেষে এটা বলতে হয় যে , যে নারী বে-পর্দায় থাকে এবং অশ্লীল , কামনা উদ্দীপক ও উত্তেজক পোশাক পরে বাড়ীর বাইরে আসে সে তো সমাজকে অনাচার ও বিপথগামিতার দিকে পরিচালিত করেই , সাথে সাথে দুনিয়া ও আখিরাতে তার ভাগ্যে জোটে খারাপ পরিণতি । কেননা আগামীতে তার সন্তানরা বিশেষ করে তার কন্যা মায়ের অনুরূপ পথ বেছে নেবে । কারণ এ মেয়ের জন্যে তার মা হচ্ছে উত্তম আদর্শ । তাই সেও সেই আদর্শের অনুসরণ করতে থাকে । আর এই অনুসরণের ফলেই ঐ মেয়ে শুধুমাত্র মায়ের মতই হয় না বরং মায়ের থেকে অনেক গুণ বেশী মাত্রায় খারাপ হয়ে থাকে ।
তাই সে সকল মায়েরা আশা করে থাকেন যে , তাদের সন্তান যারা তাদের রক্তের নির্যাস থেকে সৃষ্টি হয়েছে তারা যেন দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবান হতে পারে এবং শরিয়ত বিরোধী কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকে , তাদের উচিত ঐরূপ কুরুচিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকা ।
বে-পর্দা বা সঠিক পর্দার অনুপস্থিতি অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে :
সাধারণত সঠিক পর্দা না করা ও বে-পর্দায় থাকা নারী যেহেতু ফ্যাশন করতে বেশী পছন্দ করে তাই সব সময় নতুন নতুন পোশাক কিনতে বা পরতে এবং বিভিন্ন ধরনের পোশাকের অধিকারী হতে পছন্দ করে । আর নতুন নতুন পোশাক কেনার জন্য কখনো কখনো সে নিজের পুরাতন পোশাকগুলো অন্য মানুষদের কাছে বিক্রি করে থাকে এবং ঐ বিক্রিত অর্থের সাথে আরো কিছু অর্থ যোগ করে তার চাহিদা মত নতুন পোশাক কিনে । যে সকল দরিদ্র ব্যক্তি এই ধরনের পুরাতন কাপড় কিনে থাকেন তাদের জানা উচিৎ যে :
ক)- তা কেনার ফলে নিজের ব্যক্তিত্বের হানি হয় ।
খ)- তা স্বাস্থ্য সম্মত নয় ।
গ)- তা কেনার কারণে বিক্রেতা সব সময় নতুন নতুন পোশাক পরবে এবং সামর্থহীন ব্যক্তিদের সামনে গর্ব করবে ও তাদেরকে হীন দৃষ্টিতে দেখবে ।
এই নতুন নতুন পোশাক কেনার জন্য তারা সংসারে খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং পরিবারের কর্তাকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে চাপের মুখে ফেলে । আর অন্য দিকে দেশের অর্থনীতির উপরও চাপের সৃষ্টি করে থাকে । কেননা এ ধরনের ফ্যাশনের পোশাক সাধারণত সরকারকে বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে দেশে আনতে হয় যার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়ে থাকে । আর ঐ অর্থের যোগান দিতে সরকারকে সমাজের বিভিন্ন খাতের উপর শুল্কের পরিমান বাড়িয়ে দিতে হয় ।
বে-পর্দা নারী সময়েরও অপচয় করে থাকে :
এই ধরনের নারীরা অধিকাংশ সময় সাজ-সজ্জা নিয়েই ব্যস্ত থাকে । যেমন তারা তাদের মাথার চুল , পোশাক ইত্যাদি পরিপাটি ও পছন্দমত ডিজাইন করতে এবং মুখের মেকআপের জন্য যথেষ্ট সময় ব্যয় করে । অতঃপর নিজেকে প্রকাশ ও অভিসারের উদ্দেশ্যে অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়িয়ে থাকে । কিন্তু সে এগুলো না করে তার জীবনের মূল্যবান সময়টুকু সন্তান লালন-পালন ও তাদেরকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা , সংসারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি আদর-ভালবাসা দান করার মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারতো । তরুণীরা জ্ঞান অর্জন , অধ্যয়ন , সুস্থ বিনোদন , খেলাধূলা ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকতে পারতো ।
বে-পর্দায় থাকা নারিগণ! এটা কী উচিত হবে , আল্লাহ রাব্বুল আ ’ লামীন যে জীবনকে নিয়ামত স্বরূপ আমাদেরকে দান করেছেন তা তাঁর অপছন্দনীয় কাজে ব্যয় করে তাঁর ক্রোধ ও অসন্তোষের কারণ হওয়া ?
রাসূল (সা.) বলেছেন :
কিয়ামতের দিনে চারটি বিষয়ের প্রতি প্রশ্ন করা ব্যতীত এক পা অগ্রসর হতে দেয়া হবে না , যথা : 1- মানুষ তার জীবনকে কিভাবে পরিচালনা করেছে , 2- যৌবন কালটি কোন পথে ব্যয় করেছে , 3- অর্থ কোন পথে উপার্জন করেছে এবং কোন পথে ব্যয় করেছে , 4- আহলে বাইতের (আ.) প্রতি ভালবাসা সম্পর্কে ।151
যা কিছু উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে এটা পরিস্কার যে , জীবন ও যৌবন যা আল্লাহ তা ’ য়ালা আমাদেরকে দান করেছেন তা হিসাব- নিকাশের উর্ধ্বে নয় । আর তিনি যে নিয়ামত আমাদেরকে দিয়েছেন তার উত্তম ব্যবহার ও ফলাফল আমাদের কাছ থেকেই চাইবেন ।
আয়াতরেওয়ায়েত ও আক্বলের দৃষ্টিতে হিজাব
হিজাবের ইতিহাসের উপর সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিপাত
বিভিন্ন সভ্যতার উপর গবেষণা হতে জানা যায় যে , সেই প্রাচীনকাল থেকেই হিজাব মানুষের সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত ছিল । উদাহরণ স্বরূপ : গ্রীসের নারীদের বিশেষ ধরনের পর্দা ছিল যা কৌস152 দ্বীপে দীর্ঘদিন পর্যন্ত প্রচলিত ছিল ।
তদানিন্তন সময়ের গ্রীক লেখকদের প্রায় সকলেই হিজাব নিয়ে কথা বলেছেন । যেমন বিন লুপ বলেছেন যে , গ্রীসের প্রথম রাজ কন্যা পর্দা করতেন । তিব শহরের মহিলাগণ বিশেষ ধরনের পর্দা করতো । তাদের দু ’ চোখের সামনে ছিদ্র করা থাকতো যাতে করে তারা দেখতে পায় ।
নুকুশি বলেন যে , স্পোরটি শহরের নারীরাও তাদের মাথা ঢেকে রাখতো কিন্তু তাদের মুখমণ্ডল খোলা থাকতো । যখন মহিলাগণ ও মেয়েরা বাজারে যেত তখন তারা হিজাব পরিধান করতো । আর্য ধর্ম বিশ্বাসী সম্মানিত নারীরাও পর্দা করতো । আর ইরানের উচ্চ পর্যায়ের ভদ্র ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মহিলারাও অতি সুন্দরভাবে পর্দা করতো ফলে তাদেরকে সাধারণ নারীদের থেকে সহজেই আলাদা করা যেত ।153
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা পরিস্কার বুঝা যায় যে , এই পৃথিবীতে ইসলামের আবির্ভাবের আগেও হিজাবের প্রচলন ছিল । কেননা রাসূল (সা.)-এর আগেও অনেক নবী (আ.) এসেছিলেন এবং তারাও মানুষকে চারিত্রিক পবিত্রতা ও তাকওয়ার প্রতি দাওয়াত করেছিলেন । আর স্বভাবগত কারণে মানুষ পবিত্রতা ও আত্মসম্মানবোধ যা আল্লাহ সুবহানাহু তা ’ য়ালা ও নবীদের বৈশিষ্ট্য তা পছন্দ করে । যদিও পাপের ধুলা-বালি এই বৈশিষ্ট্যকে ঢেকে ফেলে । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নবীদের প্রচেষ্টা ও তৌহীদের বুনিয়াদ প্রতিটি মানুষের অস্তিত্বে ছিল ও থাকবে ।
পবিত্র কোরআনে হিজাব
) وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّـهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ(
হে নবী! ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও যে , তাদের চক্ষুদ্বয়কে নিচের দিকে রাখতে (না-মাহরামদের প্রতি তাকানো থেকে নিজের চোখ ফিরিয়ে রাখা) এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে আর কখনোই যেন তারা তাদের সৌন্দর্য্যকে প্রকাশ্যে উম্মুক্ত না করে । শুধুমাত্র ঐ পরিমান ব্যতীত যা স্বাভাবিক ভাবেই উম্মুক্ত থাকে । তাদের ওড়না যেন বুকের উপর পর্যন্ত আসে (যাতে করে ঘাড় ও বুক তা দিয়ে ঢেকে যায়) এবং তাদের সৌন্দর্য্যকে যেন উম্মুক্ত না করে , শুধুমাত্র তাদের স্বামী অথবা পিতাগণ (পিতা , দাদা , দাদার বাবা , দাদার বাবার বাবা...) অথবা স্বামীর পিতাগণ (পিতা , দাদা , দাদার বাবা , দাদার বাবার বাবা...) অথবা তাদের নিজেদের পুত্রগণ অথবা তাদের স্বামীদের অন্য স্ত্রীর পুত্রগণ অথবা নিজেদের ভ্রাতা , ভ্রাতুষ্পুত্র , ভগ্নীপুত্র , স্বজাতির নারীগণ , তাদের অধিকারভুক্ত বাঁদী অথবা নির্বোধ ব্যক্তি (অর্থাৎ এমন ব্যক্তি প্রাকৃতিক ভাবেই যার নারীর প্রতি কোন প্রকার আসক্তি থাকে না) অথবা শিশুগণ (এমন শিশু যাদের নারীদের গোপণ অঙ্গ সম্পর্কে কোন প্রকার ধারণাই নেই) ব্যতীত । আর পথ চলার সময় তারা যেন এমনভাবে পা মাটিতে না রাখে যাতে করে তাদের গোপন সৌন্দর্য্য প্রকাশ পেয়ে যায় (অর্থাৎ পায়ে নুপুর দিয়ে জোরে জোরে মাটিতে পা ফেলে হেটে যাওয়া যার শব্দ পুরুষের কানে পৌঁছায়) । হে মু ’ মিনগন! তোমাদের অতীত গোনাহর ব্যাপারে তওবা করো যাতে করে সফলতা লাভ করতে পারো ।154
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّـهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
হে নবী! তোমার স্ত্রী ও কন্যাগণকে এবং মু ’ মিনদের স্ত্রীগণকে বলে দাও যে , তারা যেন বড় ওড়না (চাদরের ন্যায়) দিয়ে নিজেদেরকে ঢেকে রাখে যাতে তাদেরকে (সম্মানিত বলে) চেনা যায় এবং নিপীড়নের শিকার না হয় । (আর যদি এখন পর্যন্ত তাদের কোন গোনাহ হয়ে থাকে তবে তাদের জানা প্রয়োজন যে) আল্লাহ্ তা ’ য়ালা সর্বদা পরম ক্ষমাশীল ও দয়াবান ।155
দ্রষ্টব্য :
1- উপরোল্লিখিত দু ’ টি আয়াতে‘ খুমুর ’ ও‘ জালাবিব ’ এর মধ্যে পার্থক্য :
ক)- খুমুর হচ্ছে খিমারের বহুবচন যার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে আবৃত হওয়া বা আবৃত থাকা ইত্যাদি । কিন্তু সাধারণত বড় ওড়নাকে বলা হয়ে থাকে যা দ্বারা নারীরা তাদের মাথা , ঘাড় , গলা ও বুক ঢেকে রাখে । আর জালাবিব হচ্ছে জিলবাবের বহুবচন যার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে বড় চাদর অথবা ঢিলা ঢালা পোশাক বিশেষ । অবশ্য এই জিলবাবের আবার বিভিন্ন অর্থ রয়েছে এবং স্থান , কাল , পাত্র ভেদে অর্থের পরিবর্তনও হয়ে থাকে তবে যেটা পরিস্কার তা হচ্ছে এমন কিছু যার মাধ্যমে নারীরা তাদের সম্পূর্ণ শরীরকে ঢেকে রাখতে পারে ।
খ)- উস্তাদ মুতাহহারী (রহ.) এই দু ’ টির পার্থক্যের ব্যাপারে বলেছেন যে : নারীদের জন্য দু ’ ধরনের ওড়না বা চাদরের প্রচলন ছিল যার একটি হচ্ছে ছোট যাকে খুমুর বলা হয়ে থাকে এবং বাড়ীর ভিতরে পরিধানের জন্যে । আর অন্যটি হচ্ছে বড় যাকে জিলবাব বলা হয়ে থাকে এবং তা নিঃসন্দেহে বাড়ীর বাইরে পরিধানের জন্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে । কেননা এই জিলবাব শব্দটি বিভিন্ন রেওয়ায়েতে উক্ত অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে ।156
2- নারীদের শরীর জিলবাব (বড় চাদর) দ্বারা আবৃত করার উদ্দেশ্য কী ?
উদ্দেশ্য হচ্ছে এটাই যে , এই জিলবাবের মাধ্যমে নারিগণ তাদের শরীরকে না-মাহরামের দৃষ্টি থেকে দূরে রাখতে পারে । তবে তা যেন তারা তাদের শরীরের সাথে সুন্দর করে আঁকড়ে রাখে , এমন যেন না হয় যে ; তারা বড় চাদর পরেছে ঠিকই কিন্তু শরীরের সাথে তা আঁকড়ে রাখে নি এবং বাতাসে তা এদিক ওদিক উড়ে যাচ্ছে ও তাদের শরীরের আকর্ষনীয় স্থানগুলো সহজেই নজরে পড়ছে । চাদর বা বোরকা পরাটা যদি শুধু নাম মাত্র হয়ে থাকে আর সে কারণে রাস্তা-ঘাটে তাদের সৌন্দর্য্যতা , শরীরের আকর্ষনীয় স্থান , মাথার চুল সব কিছুই প্রকাশিত হয় তবে এ ধরনের চাদর বা বোরকাপরিধানকারিনীকে দুর্বল ঈমানের অধিকারী বলা যায় ।
আবৃত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে যে , নারীরা তাদের চাদর বা বোরকা এমনভাবে পরবে যাতে করে তাদের সৌন্দর্য্য ও সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে থাকে এবং অসভ্য ও ইতর প্রকৃতির পুরুষরা তাদের শরীরের উপর নজর দেয়া থেকে নিরাশ হয় । আর বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করার লক্ষ্যে নারিগণ যেন চাদর পরার পরও একটি ছোট ওড়না যা তাদের মাথা , ঘাড় , গলা ও বুকের নিচ অংশ ঢেকে যায় পরিধান করবেন । কেননা কখনো যদি ভুলবশত বাতাসে চাদরটি শরীর থেকে সরে যায় সেক্ষেত্রেও যেন তাদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ না পায় ।
3- মাহরামদের (যাদের সাথে বিয়ে করা হারাম) সামনে সৌন্দর্য্য প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও সীমা রয়েছে যা নিম্নলিখিত আয়াতে এসেছে । আল্লাহ সুবহানাহু তা ’ য়ালা উক্ত বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন :
) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِّن قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّنَ الظَّهِيرَةِ وَمِن بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَّكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ وَلَا عَلَيْهِمْ جُنَاحٌ بَعْدَهُنَّ طَوَّافُونَ عَلَيْكُم بَعْضُكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّـهُ لَكُمُ الْآيَاتِ وَاللَّـهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ(
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের দাস-দাসীরা(ভৃত্যরা) ও (তোমাদের সন্তানদের মধ্যে) যারা এখনো বালেগ হয় নি তারা তোমাদের ঘুমানোর ঘরে প্রবেশ করার জন্য তিনটি সময়ে অনুমতি নিবে : 1- ফজরের নামাজের আগে , 2- দুপুর বেলা যখন সাধারণত পোশাক খুলে ফেল , 3- এ ’ শার নামাজের পরে । এই বিশেষ তিনটি সময় তোমাদের জন্য , কিন্তু উক্ত তিনটি সময় ব্যতীত তোমাদের উপর কোন গোনাহ্ নেই এবং তাদের উপরেও নেই যদি তারা বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে । (কারণ) তোমাদেরকে তো একে অপরের কাছে যাতায়াত করতেই হয় এবং তখন আন্তরিকতার সাথে একে অপরকে খেদমত কর । আল্লাহ তা ’ য়ালা এরূপেই তোমাদের জন্য আয়াতসমূহকে বর্ণনা করেছেন । কেননা আল্লাহ তা ’ য়ালা হচ্ছেন সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ।157
ফলাফল :
এটা ঠিক যে , পরিবারের সদস্যগণ সকলেই মাহরাম ও স্বাধীন , কিন্তু এই মাহরাম ও স্বাধীন থাকাটাও শর্তহীন নয় । মাহরাম ও স্বাধীন হওয়ার কারণে মা ও মেয়ে যেন সন্তানদের ও ভাইদের সামনে যে কোন পোশাক পরে আসা-যাওয়া না করে । কেননা শরীর অর্ধ প্রকাশ অথবা সম্পূর্ণ প্রকাশ এবং পা অনাবৃত থাকাটা সন্তানদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে যা তাদের কুপ্রবৃত্তিকে উস্কে দিতে পারে । আর এটা বলা ঠিক হবে না যে , তারা তো বাচ্চা কিচ্ছু বোঝে না , বরং এটা অবশ্যই বলা যায় যে , তারা বেশী কৌতুহলী ও উৎসুক এবং এই পরিবেশই হয়তো তাদেরকে যৌন বিষয়ের আগ্রহী করে তুলতে পারে ।158
4- যারা রাস্তা ও অলি-গলিতে নারীদের বিরক্ত করে থাকে অবশ্যই তাদের কঠিন শাস্তিপাওয়া উচিৎ , যেমনভাবে নিম্নের আয়াতে উল্লেখহয়েছে :
) لَّئِن لَّمْ يَنتَهِ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْمُرْجِفُونَ فِي الْمَدِينَةِ لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لَا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلًا(
যদি মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরসমূহ হচ্ছে অসুস্থ এবং যারা মিথ্যা কথা ও অবাস্তব খবর মদীনায় ছড়িয়ে বেড়ায় এবং তারা যদি অপকর্ম থেকে সরে না দাঁড়ায় , তবে অবশ্যই তাদের উপর তোমাকে প্রতিপত্তি দান করবো , অতঃপর অল্প দিনের মধ্যেই তারা আর তোমার পাশে এই শহরে বাস করতে পারবে না ।159
সিদ্ধান্ত :
এই আয়াতের ভাষ্য অনুযায়ী এটা পরিস্কার হয়ে যায় যে , মদীনায় তিনটি দল চক্রান্ত করতো এবং প্রতিটি দলই বিভিন্নভাবে ইসলামের উপর আঘাত হানার জন্য পরিকল্পনা করতো । এই তিনটি দল হচ্ছে যথাক্রমে :
1- মুনাফিকরা ।
2- বখাটে ও ভবঘুরেরা ।
3- আর একদল হচ্ছে যারা অবাস্তব খবর প্রচার করতো বিশেষত যখন নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীরা যুদ্ধে যেতেন তখন মদীনায় থাকা অন্যান্য মুসলমানদের মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য তারা এ কাজ করতো ।
আল্লাহ্ তা ’ য়ালা নির্দেশ দিলেন যে , উক্ত দলসমূহের সাথে যেন কঠোর আচরণ করা হয় । এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্যে সর্বনিম্ন শাস্তি হচ্ছে তাদেরকে নির্বাসনে পাঠানো যাতে করে ইসলামী সমাজ পবিত্র থাকে । আর শাস্তির পরিমান যত কঠিন হবে ইসলামী সমাজে পবিত্রতা ও নৈতিকতা ততই বৃদ্ধি পাবে এবং এ ধরনের ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যাপারে যতই বিলম্ব করা হবে ইসলামী সমাজের জন্য তা হবে ততই ক্ষতিকর । কেননা এর ফলে ইসলামী সমাজে নৈতিক অনাচার ও পাপের পরিমান বাড়তেই থাকবে । কারণ এ ধরনের ব্যক্তিরা যখনই ইসলামী সমাজে প্রবেশের সুযোগ পায় তখনই ঐ সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায় যাতে করে পর্যায়ক্রমে ভাল ও নীতিবান মানুষ প্রথম কাতার থেকে দূরে সরে যায় । তাকওয়া ও পরহেজগার ব্যক্তিদেরকে এ কারণেই সরিয়ে দিতে চায় যে , তারা যদি সমাজের প্রথম সারিতে অবস্থান করে তবে সে সমাজের অন্যদেরকেও তাদের মতই তৈরী করবে । প্রকৃতপক্ষে ইসলামী হুকুমত তো বিপ্লবী ও মু ’ মিন ব্যক্তিদের সহযোগিতায় টিকে থাকে । আর তারা যদি না থাকে তবে ইসলামী হুকুমত তাদের হাত ছাড়া হবে । কেননা এ ধরনের খারাপ ব্যক্তিরা শুধুমাত্র পেট পুজা ও যৌন সম্ভোগ ব্যতীত অন্য কিছুর ব্যাপারেই চিন্তা করে না । তাই ইসলামী হুকুমতকে টিকিয়ে রাখার জন্য অবশ্যই সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ ও নীতিবান মানুষের দায়িত্বশীল হওয়া বিশেষ প্রয়োজন ।
রেওয়ায়েতে হিজাব
علی بن ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ فی تفسیره عن ابی ﺟﻌﻔﺮ (ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻴﻪ) ﰱ ﻗﻮﻟﻪ : ﻻﻳﺒﺪﻳﻦ الا ﻣﺎ ﻇﻬﺮ ﻣﻨﻬﺎ، ﻓﻬﻰ ﺍﻟﺜﻴﺎﺏ ﻭ ﺍﻟﻜﺤﻞ ﻭ الخاتم و خضاب الکف و السوار و الزینت ثلاث : زینة للناس و زینة للمحرم و زینة للزوج. فأما رینة الناس، فقد ذکرناها، و اما زینة المحرم فموضع القلادة فما فوقها و الدملج و ما دونه و الخلخال و ما اسفل منه، و اما زینة الزوج فالجسد کله
ইমাম বাকির (আ.) পবিত্র এ আয়াতের ব্যাপারে বলেছেন : নারিগণ যেন তাদের সৌন্দর্য্য কে প্রকাশ না করেন , শুধুমাত্র যে স্থানগুলো স্বাভাবিক ভাবে বেরিয়ে থাকে । বাহ্যিক সৌন্দর্য্য হচ্ছে যথাক্রমে ; পোশাক , সুরমা , আংটি , মেহেদী ও চুড়ি । অতঃপর তিনি বলেন , সৌন্দর্য্য হচ্ছে তিন প্রকার যথা ; 1- সকলের জন্য যা উপরে বর্ণিত হয়েছে , 2- মাহরামদের জন্য -তা হচ্ছে গলা ও বুকের উপরের অংশ , কনুই হতে কব্জি পর্যন্ত এবং গোড়ালীর একটু উপর হতে নীচ পর্যন্ত , 3- শুধুমাত্র স্বামীর জন্য -তা হচ্ছে নারীর সম্পূর্ণ শরীর ।160
একজন হাদীস বর্ণনাকারী বলেন , হযরত ইমাম সাদিক (আ.)-এর কাছে প্রশ্ন করেছিলাম যে , একজন না-মাহরাম পুরুষের জন্য নারীর শরীরের কোন অংশ পর্যন্ত দেখা জায়েয ? ইমাম সাদিক (আ.) বললেন : মুখন্ডল , দু ’ হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত ও দু ’ পায়ের গিরা পর্যন্ত ।161
যা ব্যতিক্রম করা হয়েছে তা হচ্ছে দু ’ হাত কব্জি থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত ও মুখমন্ডল , তবে সেদিকে যাতে উপভোগ করার ইচ্ছায় তাকানো না হয় । ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেছেন : নারীর মুখমণ্ডল ও দু ’ হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত দেখা যদি উপভোগ করার ইচ্ছায় হয়ে থাকে তবে তা হারাম হবে । সতর্কতা মূলক ওয়াজিব হচ্ছে উপভোগ না করার ইচ্ছায়ও যেন না তাকানো হয় । অনুরূপ পুরুষের শরীরের দিকে নারীর তাকানোটাও মুখমন্ডল ও দু ’ হাত (কনুই থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত) ব্যতীত হারাম হবে ।162
ইমাম সাদিক (আ.) আল্লাহর বাণী‘ তা ব্যতীত যে সৌন্দর্য্য প্রকাশিত থাকে ’ সে ব্যাপারে বলেছেন : বাহ্যিক সৌন্দর্য্য (যা প্রকাশ করা যাবে তা) হচ্ছে সুরমা ও আংটি ।163
হযরত আবু বকরের কন্যা ও আয়েশার বোন আসমা নবী (সা.) -এর ঘরে প্রবেশ করে যখন তার পরনে ছিল পাতলা পোশাক যার মধ্য থেকে তার শরীর দেখা যাচ্ছিলো । রাসূলে আকরাম (সা.) তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন :
হে আসমা! যখনই কোন মেয়ে বালেগ হয়ে যায় তখন এটা উচিৎ নয় যে , তার শরীরের কোন অংশ দেখা যাক , শুধুমাত্র দু ’ হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত এবং মুখমণ্ডল ।164
ফুযাইল ইবনে ইয়াসার বলেন : ইমাম সাদিক (আ.)-এর কাছে প্রশ্ন করেছিলাম যে , নারীরা তাদের হাতের কনুই থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত কী না-মাহরামদের সামনে অবশ্যই ঢেকে রাখবে ? ইমাম বললেন : হ্যাঁ , যা কিছু ওড়নার (মাথা থেকে বুকের উপর পর্যন্ত পড়ে এমন কাপড়) নিচে থাকে এবং চুড়ি পরার স্থান থেকে উপরের দিকে অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে ।165
রাসূল (সা.) হাউলাকে (আত্তারের স্ত্রী) উদ্দেশ্য করে বলেন :
হে হাউলা , তোমার সৌন্দর্য্য ও সাজ-সজ্জা স্বামী ব্যতীত অন্য করো সামনে প্রকাশ করো না । আর নারীর জন্যে এটাও জায়েয নয় যে , হাতের কব্জি ও পায়ের পাতা না-মাহরামদের (স্বামী ব্যতীত অন্য পুরুষ) সামনে উম্মুক্ত রাখবে । যদি কেউ এমন কাজ করেই ফেলে তবে প্রথমত আল্লাহ্ সুবহানাহু তা ’ য়ালা সব সময় তাকে অভিসম্পাত করেন , দ্বিতীয়ত আল্লাহ্ সুবহানাহু তা ’ য়ালার ক্রোধ ও গজবের কারণ হয় ; তৃতীয়ত আল্লাহ সুবহানাহু তা ’ য়ালার ফেরেশতাগণ অভিসম্পাত দিতে থাকে এবং চতুথর্ত কিয়মাতের দিনে তার জন্য কঠিন আজাবের ব্যবস্থা থাকবে ।166
হে হাউলা , যে নারিগণ আল্লাহ সুবহানাহু তা ’ য়ালা ও কিয়ামত দিনের প্রতি ঈমান রাখে তারা তাদের (দৈহিক) সৌন্দর্য্য স্বামী ব্যতীত অন্য কোন না- মাহরাম পুরুষের সামনে প্রকাশ করে না এবং সাথে সাথে তাদের মাথার চুল , হাতের কব্জি ও পায়ের পাতাও কারো সামনে উন্মুক্ত করে না । আর যে নারীরা তাদের স্বামী ব্যতীত অন্য কোন পুরুষের জন্য এই কাজগুলো করে থাকে সে তার ধর্মকে নষ্ট এবং আল্লাহ সুবহানাহু তা ’ য়ালাকে তার উপর রাগান্বিত করলো ।167
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন : মুসলমান নারীদের জন্য জায়েয নয় যে , এমন ওড়না ও পোশাক পরিধান করে যা তাদের শরীরকে ঢেকে রাখে না ।168
দ্রষ্টব্য :
1- উপরে যতগুলো আয়াত ও রেওয়ায়েত উল্লিখিত হয়েছে তা থেকে একটি মূল বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় আর তা হচ্ছে এই যে , নারী অবশ্যই নিজেকে না-মাহরামদের সামনে ঢেকে রাখবে । আর যে সব আচার-আচরণ , বাচন ভঙ্গি , পোশাক-আশাক না-মাহরামকে তার দিকে আকৃষ্ট করে তোলে তা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করবে এবং পাতলা পোশাক পরিধান করা হতে দূরে থাকবে ।
2- ইমাম বাকির (আ.)-এর হাদীসটি থেকে যা তিনি আয়াতের তফসীর হিসেবে বলেছিলেন এটাই স্পষ্ট যে , নারীর যারা মাহরাম যেমন বাবা , ভাই , মামা , চাচা , নানা , দাদা ...তারাও তার পুরো শরীর দেখার অধিকার রাখে না বা ঐ নারীও যেন তাদেরকে তার গলা থেকে নিচের অংশ এবং বাহুবন্ধনী হতে উপরের অংশ ও পায়ের গোড়ালীর উপরের অংশ পর্যন্ত দেখতে না দেয় । এমনটি নয় যে , কোন নারী তার মাহরাম ব্যক্তির সামনে যে কোন ধরনের পোশাক পরে এবং সাজ-সজ্জা করে ও শরীরের আকর্ষণীয় স্থানসমূহ উম্মুক্ত করে চলা-ফেরা করতে পারবে । কেননা যদি কোন নারী তার মাহরাম ব্যক্তির সামনে ঐরূপভাবে চলা- ফেরা করে তবে তাদের মধ্যে কামভাব বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এর পরিণতি খারাপ হতে পারে । তাই ইসলামী আদব- কায়দা ও সচ্চরিত্রতার দাবী হলো আমরা আমাদের পবিত্র ইমামদের (আ.) আদেশ-নিষেধকে সঠিকভাবে মেনে চলবো । কেননা ঐ আদেশ-নিষেধের প্রতি লক্ষ্য না রাখার ফলে পশ্চিমারা দুনিয়া পুজারী ও কামভাবী হয়ে উঠেছে ।
এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইংল্যান্ডে প্রতি বছর প্রায় এক লক্ষ শিশু ধর্ষণের স্বীকার হয় । গত বছরে এই দেশটিতে 6300 জন ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে । এই বলাৎকার বা ধর্ষণের শতকরা অধিকাংশই পিতাদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে , এসব শিশুরা তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এই ভয়ে ঘটনাগুলো গোপন রেখেছে । তবে সাম্প্রতিক রির্পোট অনুযায়ী এটা প্রমাণিত হয়েছে যে , পিতারা মায়েদের সাহায্য নিয়ে তাদের শিশুদেরকে বলাৎকার বা ধর্ষণ করেছে ।169
মানুষ যখন এই বিষয়গুলো পড়ে তখন প্রথমত এটা বুঝতে পারে যে , কারো যদি আল্লাহ সুবহানাহু তা ’ য়ালা ও কিয়ামত দিনের প্রতি ভয় না থাকে সে ব্যক্তি দুনিয়া ও যৌনতা ব্যতীত অন্য কিছু চিন্তা করে না এবং তার নষ্ট উদ্দেশ্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে যে কোন ধরনের কাজ আঞ্জাম দিতে পারে ; যদিও তা তার সন্তানদের উপর জুলুম ও অত্যাচার করেও হয় । দ্বিতীয়ত পবিত্র কোরআন ও ইসলামী আদেশ-নিষেধের প্রতি তার ঈমান বৃদ্ধি পাবে এবং অন্তরের অন্তস্তল থেকে চিৎকার ধ্বনিতে বলবে : হে আল্লাহ্! তোমার প্রতি অনেক শুকরিয়া যে , আমার অন্তরকে ইসলামী আদেশ-নিষেধ মেনে চলার তৌফিক দান এবং শিরক ও কুফরী থেকে আমাকে রক্ষা করেছো । তৃতীয়ত যারা বাহ্যিকভাবে মুসলমান কিন্তু আমল- আখলাকের ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের মত তারা বিচলিত হয়ে উঠবে যে , কেন ইসলামী বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখছে না ।
হিজাবের দর্শন
নিঃসন্দেহে বর্তমান যুগে পাশ্চাত্য মনস্ক ব্যক্তিরা নারীদের অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে তাদের স্বাধীনতার অংশ বলে মনে করে এবং একে বিশেষ গুরুত্বও দিয়ে থাকে । তাই অনেকে এই যুগকে উলঙ্গপনা ও যৌন স্বাধীনতার যুগ বলে আখ্যায়িত করেছে । এ কারণে তাদের কাছে বর্তমান যুগে হিজাব সম্পর্কে কথা বলাটা হচ্ছে অসহনীয় একটি ব্যাপার এবং তা হচ্ছে অতীত যুগের কিচ্ছা-কাহিনী যা সেই যুগের জন্যেই প্রযোজ্য!
অবশ্য মাত্রাতিরিক্ত স্বাধীনতার ফলে যেহেতু সমাজে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাসাদ , অশ্লীলতা ও নৈতিক অনাচারের সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু কিছু কিছু আগ্রহী ব্যক্তি পর্দা সম্পর্কে শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করছে । যদিও ইসলামী রাষ্ট্রগুলোতে বিশেষ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে এ সমস্যার সমাধান অনেক আগেই হয়েছে ও এ সম্পর্কে দলিল ভিত্তিক উত্তরও প্রদান করা হয়েছে । কিন্তু বিষয়টি অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তা সম্পর্কে আরো ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হওয়া বাঞ্ছনীয় । বিশেষ করে যখন বর্তমানে ইসলামের শত্রুরা বিভিন্ন আঙ্গিকে তাদের নষ্ট সংস্কৃতি প্রচারের মাধ্যমে ইসলামী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টায় রত । তারা আমাদের কাছ থেকে ইসলামী সংস্কৃতিকে কেড়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে তাদের তৈরী অশ্লীল পর্নো ছবি , বিজাতীয় গান , প্রভৃতির সিডি , ভিডিও ক্যাসেট ইসলামী সমাজে প্রবেশ করিয়ে এদেশের পবিত্র ইসলামী রূপটিকেই ধ্বংস করে দিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে । যুবকদের মধ্যে এসব প্রচারের জন্য তারা ইন্টারনেটকে ব্যবহার করছে ।
এখন নারীদের কাছেই প্রশ্ন যে , তারা কি সত্যিই পুতুলের মত বেশ-ভুষায় বাইরে আসতে চায় , যাতে তাদের উপর কিছু চরিত্রহীন , কামুক ব্যক্তিদের নোংরা দৃষ্টি পড়ে যা তাদের ব্যক্তিত্বকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয় ? নাকি তারা তাদের স্বামীদের জন্যেই শুধু সাজ-সজ্জা করবে ?
অন্যভাবে বললে বলতে হয় যে , নারীরা কি তাদের শরীরের আকর্ষণীয় অংশগুলো প্রদর্শন করে পুরুষের কামভাবকে উস্কে দেয়ার সীমাহীন এক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে , নাকি সমাজ থেকে তারা এরূপ বিষয়ের উচ্ছেদ ঘটিয়ে পারিবারিক পরিসরে তা করে সংসার , পরিবার- পরিজন ও স্বামী-সন্তানের প্রতি মনোযোগী ও যত্নবান হবে ?
পবিত্র ইসলাম দ্বিতীয় পথটিকে পছন্দ করে এবং হিজাবকেও এই প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করে । যদিও পশ্চিমারা ঐ নোংরা প্রথম পথটিকে পছন্দ করে । ইসলাম বলে : দৈহিক চাহিদার সম্পূর্ণটাই হচ্ছে (সহবাস সহ অন্যান্য সব কিছু) স্বামী ও স্ত্রীর জন্যে এতে অন্য করো কোন অংশীদারিত্ব নেই । আর যদি কেউ এই সীমার বাইরে পা রাখতে চায় তবে তা হবে অন্যায় ও পাপ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে হিজাব
হিজাব হচ্ছে নারী এবং নামাহরাম ব্যক্তিদের মধ্যে সীমা নির্ধারণকারী একটি বিষয় এবং যৌন প্রবৃত্তিকে সংযতকরণের একটি উপকরণ । আর এই অগ্নি শিখা সঠিকভাবে নির্বাপিত হওয়া ও তার স্বাভাবিক পথে প্রবাহিত হওয়ার ফলে সমাজে বিদ্যমান অনেক সমস্যাই যেমন হত্যা , অপরাধ ও অন্যান্য অনাচার দূর হয়ে যাবে । আর যদি এই সীমাটিকে উঠিয়ে নেয়া হয় এবং বাঁধনহীন স্বাধীনতা আমাদের সমাজে ভিত গাড়তে পারে তবে সেক্ষেত্রে আমরা এক বন্য সমাজের মুখোমুখী হবো । যার ফলে সমাজে অস্থিরতা , সহিংসতা ও অরাজকতা আরো বৃদ্ধি পাবে । কেননা যৌন প্রবণতা প্রচন্ড শক্তিশালী লাগামহীন এক ছুটন্ত ঘোড়ার ন্যায় । তাই যতই কেউ তার আনুগত্য করবে ততই সে উদ্ধত হয়ে উঠবে এবং মানুষের জন্য ততই ক্ষতি বয়ে আনবে । অথবা তা হচ্ছে এমন আগুন , তাতে যত বেশী জ্বালানী দেয়া যাবে তার শিখাগুলো ততবেশী লেলিহান হবে । প্রকৃতপক্ষে মানুষকে যদি মুক্তভাবে ছেড়ে দেয়া হয় এবং তার অন্তরে আল্লাহর ভালবাসা ও ভয় না থাকে তবে দুনিয়ার বিষয়াদি যেমন : অর্থ , মর্যাদা , যৌনতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে কখনোই পরিতৃপ্ত হবে না । আর এর ফলে সে দুনিয়াবী চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে এতটা নিমজ্জিত হয়ে যাবে যে নিজেকে ও অন্যদেরকেও ধ্বংস করবে । হিজাব হচ্ছে এমনই একটি বিষয় যা নারী ও পুরুষের মধ্যে বিশেষ সীমা টেনে দিয়েছে যা যৌন প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে সীমালংঘন থেকে উভয়কে রক্ষা করে থাকে ।
নারীদের বেহায়াপনা যা তাদের সাজ-সজ্জা , পোশাক- আষাক , গোপন অভিসার প্রভৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয় তা পুরুষদেরকে বিশেষ করে যুবকদেরকে সবসময়ের জন্য দৈহিকভাবে উত্তেজিত করে রাখে । আর তা এমনই এক উত্তেজনা যা তাদের মধ্যে বিষন্নতা ও অবসাদের সৃষ্টি করে এবং তাদের স্নায়ুবিকভাবে দুর্বল করে । যার পরিণতিতে বিভিন্ন মানসিক রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে । কেননা মানুষের স্নায়ুর ক্ষমতা কতই যে , সে এত পরিমান চাপ ও উত্তেজনা সহ্য করতে পারবে ? মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা কি এটা বলেন না যে , অবিরাম উত্তেজনা ও চাপ মানুষকে মানসিক রোগে আক্রান্ত করে ফেলে ? আর যদি তা যৌনতার মত একটি বিষয় হয়ে থাকে তবে তো কথাই নেই । কেননা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে , মানুষের যৌন প্রবণতার কারণে কত বড় বড় অঘটন ঘটেছে যার পরিণতি ছিল খুবই ভয়ঙ্কর । কেউ কেউ বলেছেন ,“ ইতিহাসে এমন কোন ঘটনাই খুঁজে পাওয়া যাবে না যে , যার পেছনে কোন এক নারী ছিল না । ”
অনবরত যৌন প্রবণতাকে উস্কে দেয়া , উলঙ্গপনা এবং বেহায়াপনার মাধ্যমে তাকে আরো প্রজ্জলিত করা কি আগুনের সাথে খেলা করা নয় ? এ কাজ কি বুদ্ধিবৃত্তি ও বিবেক সম্মত ? ইসলাম চায় যে , মুসলমান নারী-পুরুষ সুস্থ মানসিকতা ও মস্তিস্ক নিয়ে পবিত্র চক্ষু-কর্ণের অধিকারী হোক । আর এটা হচ্ছে হিজাবের একটি দর্শন ।
হিজাব পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে
নারীর হিজাবই পরিবারের প্রশান্তি , পারস্পরিক বিশ্বাস , আন্তরিকতা , ও ভালবাসার নিশ্চয়তা বিধায়ক । কারণ নারী-পুরুষ উভয়ে তার পরিবারের গণ্ডিতে যৌন প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে । আর এই হিজাবই ইসলাম সম্মত বিবাহের দিকে সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে । এ ধরনের বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এক ঐশ্বরিক নিগূঢ় সম্পর্কের সৃষ্টি হয়ে থাকে । আর যখনই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঐরূপ সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তখন তাদের পরিবার হয়ে উঠে অধিক সুন্দর ও সুখময় । পক্ষান্তরে বেপর্দা ও বন্ধনহীন স্বাধীনতা পরিবারে একে অপরের মধ্যে বন্ধনকে দুর্বল করে থাকে । কেননা এরূপ পরিবারের ভিত্তি শত্রুতা ও ঘৃণার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন দীর্ঘস্থায়ী হয় না । কারণ তাদের সংসার জীবন যৌনতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল এবং যেহেতু কিছু দিন পরে ঐ চাহিদা তার রূপ ও রং পাল্টিয়ে নতরূপ ও রংয়ে সজ্জিত হয়ে থাকে ফলে সংসারে অশান্তি , সম্পর্কের অবনতি , অশালীন আচরণ প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয় ; যার ফলশ্রুতিতে তালাকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে । আর তাদের সন্তানরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে এদিক ওদিকে , যা উত্তম আদর্শে গড়ে ওঠার জন্য মোটেই উপযুক্ত নয় ।
হিজাব হচ্ছে দুঃশ্চরিত্র ব্যক্তিদের সামনে একটি বাঁধ সরূপ , যার ফলে এ ধরনের যুবকরা বিবাহের দিকে ধাবিত হয় । অন্যদিকে বেপর্দা ও সঠিক পর্দার অভাব যুবকদের বিবাহ করা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে এবং তারা বিভিন্ন অজুহাতে তাতে রাজি হতে চায় না । কেননা তাদের যৌন চাহিদা পূরণ করার জন্য তো পথ খোলাই আছে , তাই বিবাহের কি প্রয়োজন ?
যে পরিবারে ও সমাজে হিজাব ও ইসলামী অন্যান্য সব আদেশ-নিষেধ পুঙ্ক্ষানুপুঙ্খভাবে মেনে চলা হয় সে পরিবারে ও সমাজে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে গভীবভাবে ভালবেসে থাকে । কিন্তু উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার বাজারে নারীরা যেখানে পরিপূর্ণভাবে পণ্যের মত ব্যবহৃত হয় সেখানে বিবাহ নামক পবিত্র বন্ধনটির কোন মূল্যই থাকে না । আর তাদের পরিবারগুলো মাকড়সার জালের মত অতি দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায় এবং শিশুরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে ।
3- হিজাব , অবৈধ সন্তান আসার পথ রোধ করে : পর্দাহীনতার সব থেকে কষ্টদায়ক ফল হচ্ছে অশ্লীলতা ও ব্যভিচার বৃদ্ধি এবং অবৈধ সন্তান জন্মগ্রহণ । এর প্রমাণ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে আর তা হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব । আর যা কিছু দৃশ্যমান তা মুখে বলার প্রয়োজন রাখে না । সেখানে ব্যভিচারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণকারী অবৈধ সন্তানরাই সমাজের সব থেকে নিকৃষ্টতম কাজের সাথে জড়িত এবং বিভিন্ন ধরনের জঘন্য অপরাধ তারা করে । এরূপ কয়েকটি বিশেষ খবরের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি :
ইংল্যাণ্ডে গত বছরের শেষের তিন মাসে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের প্রায় 31 শতাংশের পিতা কে তা জানা নেই । অধিকাংশ পরিবারে যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিয়ের আগেই অবৈধ সম্পর্ক ছিল বিয়ের পরে তাদের সংসার ভেঙ্গে গেছে অর্থাৎ তালাক হয়ে গেছে । আর তাই তাদের অবৈধ সম্পর্কের ফলে যে সব সন্তান ভুমিষ্ট হয়েছিল দিনের পর দিন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে ।170
সি ,এন ,এন সংবাদ সংস্থা আরো বলে যে , আমেরিকার শিশুদের 50 শতাংশই হচ্ছে অবৈধ । আর যে শিশুরা পিতা-মাতার বিয়ের আগেই তাদের অবৈধ সম্পকের্র কারণে জন্মগ্রহণ করেছিল , পিতা-মাতার মধ্যে বিচ্ছেদের হয়ে ফলশ্রুতিতে অভিভাবকহীন জীবন-যাপন করছে এমন শিশুর সংখ্যা সেখানে দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।171
সীমাহীন স্বাধীনতা এবং নষ্ট সংস্কৃতির পরিণতিতেই কি পাশ্চাত্যে এতসব অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে না ? অবশ্যই । আর তাই মুসলমানদের হুশিয়ার থাকতে হবে যে , তারা যেন শিরক ও কুফরী সংস্কৃতির মধু মাখানো কথায় বিভ্রান্ত না হন । তারা যদি ঐ সব মধু মাখা কথায় তাদের নষ্ট সংস্কৃতির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে তবে তাদের অপেক্ষায় রয়েছে কঠিন পরিণতি ।
নারীদের হিজাব ও সতীত্বের উপরই সমাজের উন্নতি ও টিকে থাকা নির্ভরশীল
নারীদের পর্দার কারণে যৌন চাহিদা সমাজে ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে যেখানে সেখানে পূরণ না হয়ে প্রত্যেকের ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে । এর ফলে , সমাজ নোংরা পরিবেশে রূপান্তরিত হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং এভাবে পর্দা সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ার কাজে উপযুক্তভাবে সাহায্য করে । কারণ সমাজের কর্মক্ষম শক্তিকে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যায় । অন্যদিকে সমাজে বেপর্দা নারীদের বিচরণ দুর্বল ঈমান ও দুর্বলচেতা পুরুষদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলে । ফলে তারা জ্ঞানার্জন ও অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোতে ব্যর্থ হয় এবং সামাজিক কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয় । কারণ শয়তান চরিত্রের কোন নারী যদি পুরুষদের কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকে ও সবসময় বিচরণ করে তবে তাদেরকে লক্ষ্যচ্যুত করে সামাজিক উন্নতির পথে ব্যাঘাত ঘটায় ।
নীতিশাস্ত্রবিদগণ ও বিভিন্ন সমাজ বিশেষজ্ঞের গবেষণা অনুযায়ী যে সকল স্কুল , কলেজ বা বিশ্ব বিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়ে এক সঙ্গে লেখা-পড়া করে বা এমন অফিস যেখানে নারী ও পুরুষ এক সঙ্গে কাজ করে , এমন সব স্থানে লেখা-পড়া ও কাজের থেকে উচ্ছৃংলতাই বেশী হয় । তার ফলে কাজে ফাঁকি বা কম কাজ করা ও কোন বিষয়ে ফেল করা বা লেখা-পড়া না করার মত দায়িত্বহীনতার ঘটনাগুলো বেশী চোখে পড়ে ।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে হিজাব
কার্য ক্ষেত্রে নারী যখন হিজাব পরিহিত অবস্থায় থাকে তখন অন্যদের খুব বেশী আকৃষ্ট করে না । আর অন্যরা তার দিকে আকৃষ্ট না হওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে হিজাব । হিজাব যেহেতু পুরুষের দৃষ্টি ও চিন্তাকে একজন নারীর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পথে বিঘ্ন ঘটায় তাই তা তাদের কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারে । এর ফলে অফিস-আদালতে একদিকে নারীর সম্ভ্রম ও পবিত্রতা যেমন রক্ষা হয় অন্যদিকে তেমনিভাবে অন্যদের কাজের গতি ও একনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করে । যেহেতু কাজের গতি ও একনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায় সেহেতু উৎপাদনের পরিমান বৃদ্ধি পেয়ে থাকে , যার মাধ্যমে সমাজ ও দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে । আর যখন বেপর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী কর্মক্ষেত্রে আসে এবং হরেক রকমের উত্তেজনাকর পোশাক পরে তাদের মধ্যে চলাফেরা করে তখন হাজার জোড়া লোলুপ দৃষ্টি তার দিকে আকৃষ্ট হয়ে থাকে । যার ফলে নিম্নরূপ খারাপ ফল সমাজে দৃষ্ট হয়ে থাকে যথা :
ক)- এ ধরনের মনোবৃত্তির কারণে সে তো ভাল কাজের পরিচয় দিতে পারেই না সাথে সাথে অন্যদের কাজেরও ব্যাঘাত ঘটিয়ে থাকে । কেননা যখন কোন প্রতিষ্ঠানে এমন ধরনের নারীদের উপস্থিতি থাকে তখন এর প্রভাবে দুর্বল ঈমান ও চরিত্রের ব্যক্তিরা কলুষিত হয়ে পড়ে এবং তাদের কাজের গতি ও একনিষ্ঠতা হরাস পায় । যার ফলশ্রুতিতে উৎপাদন কম হয় এবং উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান নিম্নে আসতে থাকে ।
খ)- উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে যে নৈতিক অনাচারের সৃষ্টি হয়ে থাকে তা কোন কাজ দ্রুত সম্পাদিত হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় । অন্যদিকে মু ’ মিনগণ এমন পাপে লিপ্ত হন না বরং এ ধরনের পাপ থেকে তারা দূরে থাকেন । কেননা তারা সব সময় আল্লাহ্ তা ’ য়ালাকে রাজি ও খুশি করার নিমিত্তে সময় ব্যয় করে থাকেন । আর সে কারণেই তারা কাজ সঠিকভাবে আঞ্জাম দিয়ে থাকেন এবং মানুষকে সাহায্য করে থাকেন । তাই তারা ঐ ধরনের নারীদের থেকে দূরে থাকেন ।
গ)- অস্ত্র-সস্ত্র বা সামরিক শক্তি নয় বরং প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতার উৎস হচ্ছে সে রাষ্ট্রের জনগণ । তাই যখন বেপর্দার কারণে সমাজের উপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয় তখন রাষ্ট্রের উপর মানুষের অসন্তুষ্টি ও অনাস্থা দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে এবং তা এমনও হতে পারে যে , সরকারের পতনও ঘটাবে ।
ঘ)- বেপর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী সাধারণতঃ সমাজের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে না কেননা সমাজ তাদেরকে খেলার উপকরণ মনে করে থাকে । এমন নারীরা নিজেদের পরিবারের প্রতি তেমন আগ্রহ প্রকাশ করে না । ফলশ্রুতিতে তালাকের পরিমান ক্রমশই বাড়তে থাকে এবং পরিবার ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায় ও বেশীর ভাগ সন্তানই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে ।
রাজনৈতিক দৃষ্টিতে হিজাব
বিশ্ব অত্যাচারী ও লুটেরার দল কখনই হত্যা , সন্ত্রাস , ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদির মাধ্যমে কোন দেশ বা জাতিকে নিজেদের অধীনে রাখতে পারে নি । শুধুমাত্র নৈতিক অনাচার , অপসংস্কৃতি ও অশ্লীলতার প্রচারের মাধ্যমে তারা সফল হয়েছে । স্বাধীনতা ও সভ্যতার নামে নারীদেরকে উলঙ্গ করে তারা তাদের নষ্ট ও অসৎ উদ্দেশ্যে পৌঁছিয়ে থাকে । এক্ষেত্রে শুধুমাত্র মুসলিম নারীদের পরিপূর্ণ হিজাবই তাদেরকে নিরাশ করে থাকে । বর্তমান বিশ্বেও এই অসৎ পথেই শত্রুপক্ষ পবিত্র ইসলামকে ধ্বংস করতে চায় । প্রকৃতপক্ষে নারীদের পরিপূর্ণ হিজাব ও তাকওয়া সমাজকে পরিশুদ্ধ করে থাকে । আর এটার প্রতিই হচ্ছে শত্রুদের বেশী ভয় । ফারানতিস ফানুন আলজিরিয়ার বিপ্লবকে সমাজ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করে বলেছে : উপনিবেশবাদী সমাজ বিজ্ঞানীদের পরামর্শ এটাই যে , সমাজের নারীদেরকে হাতের মুঠোয় আনতে হবে , তা হলে সব কিছুই এর টানে হাতের মুঠোয় আসবে ।
হিজাবের কারণেই নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে
নারীর হিজাব এবং লজ্জা এমন এক ব্যবস্থা যা নারী পুরুষের সামনে নিজেকে মূল্যবান করে তুলে ধরতে এবং নিজের মর্যাদাকে সংরক্ষণ করতে সহজাতভাবেই ব্যবহার করে থাকে । কেননা ধী-শক্তি সম্পন্ন নারী স্বভাবগত ভাবেই তার চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এটা বুঝে নিয়েছে যে , সে শারীরিক শক্তি ও গড়নের দিক থেকে পুরুষের মত নয় । তাই সে যদি পুরুষকে তার আয়ত্তে আনতে চায় তবে দেহবলে নয় , বরং অন্যভাবে তাকে তা করতে হবে । সে এটাও বুঝে নিয়েছে যা আল্লাহ সুবহানাহু তা ’ য়ালা তার মধ্যে যা দিয়েছে , তা হচ্ছে পুরুষ তাকে চায় অর্থাৎ পুরুষকে প্রেমিক আর নারীকে প্রেমিকা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন । এই সূত্র ধরে লজ্জাশীলা ও পর্দানশিন নারী অন্যের চেয়ে উত্তম রূপে পুরুষকে তার আয়ত্তে রাখতে পারে । আর সে নিজেকে যতই অন্যের সামনে উম্মুক্ত করে তুলে ধরা থেকে বিরত থাকবে এবং গাম্ভীর্য ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিবে ততই তার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পেতে থাকবে ।
তাই সম্মান ও মর্যাদা লাভের বিষয়টি কোন বেপর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীর ক্ষেত্রে ঘটে না । কেননা এই রূপ নারীদের কারণে দুশ্চরিত্র পুরুষরা খুব সহজেই তাদের অবৈধ চাওয়া-পাওয়ায় পৌঁছে যায় এবং কোন নারীর কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেনা এবং বিয়ে করে স্ত্রীর দেন-মোহর , ভরণপোষণ এবং পোশাক-আষাক দেয়ারও ঝামেলাও নিতে চায় না , যদি চায়ও তবে সে নারীকে সন্তান দেখাশোনা করা এবং তার দাসী হয়ে থাকার জন্যেই চাইবে । অন্যদিকে সে স্ত্রীকে অন্য নারীর সাথে স্বাধীন ভাবে (অবৈধ) মেলা-মেশার প্রতিবন্ধক বলে মনে করবে । এরূপ চিন্তা করাতে স্ত্রী তার কাছে ছোট হয়ে যায় । কারণ ঐ ধরনের পুরুষরা কখনোই স্ত্রীকে কোন প্রকার মর্যাদা দানে আগ্রহী নয় । তাই বলতে হয় যে , স্ত্রীর জন্য এরূপ জীবন বা স্বামী হচ্ছে নিকৃষ্টতম আজাব । সুতরাং হিজাব নারীকে তার স্বামীর কাছে প্রিয় করে তোলে এবং বেপর্দা নারীকে স্বামীর কাছে অপ্রিয় ও তুচ্ছ করে ফেলে ।
যে সমাজ নারীকে নগ্ন ও উম্মুক্ত শরীরে দেখতে চায় সেখানে এটা খুবই স্বাভাবিক যে , দিনের পর দিন সাজ- সজ্জা ও নিজেকে উম্মুক্ত ভাবে প্রকাশ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে । যখন নারীকে তার যৌন আকর্ষণের কারণে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হবে , অভ্যর্থনা কক্ষে অন্যদের আকর্ষণ করার জন্য বসিয়ে রাখা হবে , পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য তাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে তখন সমাজে নারীর মর্যাদা একটি পুতুলের বা বিক্রয়যোগ্য পণ্যের মানে নেমে আসবে । ফলে সে তার মানবিক ও নৈতিক মূল্য ভুলে গিয়ে তার শারীরিক সৌন্দর্য্য ও যৌবন নিয়েই অহংকার করতে থাকবে ।
আর এই প্রক্রিয়াতেই সে হয়ে ওঠে অন্যের যৌন চাহিদা পূরণের উপকরণ এবং সমাজকে নষ্ট করার এক উত্তম হাতিয়ার । এমন সমাজে নারীর পক্ষে কিভাবে সম্ভব যে , সে তার উত্তম নৈতিক চরিত্র ও জ্ঞান বৈশিষ্ট্যের পরিচয় তুলে ধরবে এবং এ বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটিয়ে মানবতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে উন্নীত করবে ?
এটা সত্যই অতি দুঃখের বিষয় যে , পশ্চিমা ও পশ্চিমা অনুসরণকারী দেশগুলোতে এমনকি ইরানে ইসলামী বিপ্লবের আগে এখানেও সেই সব নারীদেরকেই সম্মান ও মর্যাদা দেয়া হতো এবং সামাজিকভাবে মূল্যায়ন করা হতো যারা ছিল অসৎ চরিত্রের যদিও কণ্ঠ বা চলচ্চিত্র শিল্পী হিসেবে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হতো , এমনকি তাদের জন্য উত্তম থাকার ব্যবস্থা করা হতো ও তাদের আগমনে শুভেচ্ছা স্বাগতম বলা হতো!
আল্লাহর অনেক শুকরিয়া যে , সেই সব জঘন্য দিন ও কর্মকাণ্ড ইসলামী ইরানের পবিত্র ভূ-খণ্ড থেকে তিনি তুলে নিয়েছেন । নারীরা তাদের প্রকৃত ব্যক্তি পরিচয় ফিরে পেয়েছে । তারা নিজেদেরকে পর্দা দিয়ে আবৃত করেছে ঠিকই কিন্তু এমন নয় যে , তারা ঘরের এক কোণে বসে রয়েছে বরং তারা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহে ভূমিকা রাখছেন । এমনকি ঐ পর্দা করা অবস্থাতেই তারা যুদ্ধের ময়দানে ভূমিকা পালন করেছে ।
হিজাব ফ্যাশান প্রীতি , অপচয় ও ভোগবাদী সংস্কৃতি রোধ করে থাকে
সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের পণ্যের বাজার গরম করার জন্য অনেক কৌশল অবলম্বন করে থাকে । তার মধ্যে একটি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বা প্রকৃতির জিনিসপত্র তৈরী করে তা বাজারে পেরণ করা । এই পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে অধিক হারে ক্রেতা আকর্ষণ করে তারা বিশাল মুনাফা অর্জনের চেষ্টা চালায় । অনেক মানুষই বিশেষ করে এক দল নারী বাজারে নতুন জিনিস আসা মাত্রই তা কেনার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে । যদিও তার ঐ পোশাকের পুরাতন মডেলটি থেকে থাকে তথাপিও । জিনিস-পত্রের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকার বিষয়টি হচ্ছে প্রতিটি মানুষেরই পছন্দের ব্যাপার । কেননা তা হচ্ছে মানুষের প্রকৃতি ও স্বভাবগত বিষয় । যে প্রকৃতির উপর আল্লাহ সুবহানাহু তা ’ য়ালা প্রতিটি সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন । কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ও আন্তর্জাতিক মুনাফা লোভী গোষ্ঠী মানুষের এই প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের অপব্যবহার মাধ্যমে মুনাফা লুটছে । এভাবে তারা মানুষের মধ্যে বিশেষ করে এক শ্রেণীর নারীদের মধ্যে অতিমাত্রায় ফ্যাশান প্রীতি ও ভোগবাদী সংস্কৃতির বিস্তার ঘটিয়ে ব্যাপক পরিমানে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে ।
পর্দা বিশেষ করে চাদরের (বোরখা) একটি উত্তম দিক হচ্ছে এই যে , ভোগবাদী সংস্কৃতি যা পশ্চিমাদের উপহার তা রোধ করে । সাথে সাথে তাদের রঙ্গিন বাজারকেও স্লান করে দিতে সাহায্য করে । সে কারণেই বিভিন্নভাবে সাম্রাজ্যবাদীরা হিজাবের উপর আঘাত হানার চেষ্টা চালায় । তাই তারা পর্দার এই কঠিন বাঁধকে ধ্বংস করে দিতে বিভিন্নরূপ অপকৌশল প্রয়োগ করে থাকে । যাতে করে নারীদের বিভিন্ন মডেলের পোশাক প্রস্তুতকারকদের , অলংকার ও প্রসাধন সামগ্রী প্রস্তুতকারকদের কারখানার চাকা সচল থাকে । আর এর মাধ্যমেই মিলিয়ন মিলিয়ন নারী যাদের কারণে সাম্রাজ্যবাদীরা শোষণ করার সুযোগ পেয়ে থাকে তাদের প্রয়োজন মিটাতে সক্ষম হয় ।
হিজাব প্রকৃতপক্ষে ঐ সমস্ত পোশাকের ব্যবহার হ্রাস করে থাকে তাই তাদের ক্ষতির কারণও বটে । কেননা মুসলমান নারী যেহেতু হিজাব পরিধান করে তাই বিভিন্ন মডেলের পোশাক পরে ও সে নিজেকে প্রকাশ ও অন্য পুরুষকে আকর্ষণ করার জন্য পুতুলের মত সাজ-সজ্জা করে বাইরে যায় না । অন্য দিকে আবার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উপরও তাদের কড়া নজর থাকে । আর এর মধ্য দিয়েই তারা পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে উষ্ণ ও আন্তরিকতাকে দৃঢ় রাখে ।
কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর নারীরা যে অর্থ দিয়ে অবশ্যই সংসার চালানো প্রয়োজন তা দিয়ে হরেক রকমের পোশাক কিনে থাকে । ফলশ্রুতিতে সংসার চালানোর অর্থ জোগাড় করতে তাদের স্বামীদের উপর অধিক চাপ পড়ে । এর ফলে তাদের মানসিক চাপও বৃদ্ধি পেতে থাকে । ক্রমেই তাদের মধ্যে আন্তরিকতা ও ভালবাসা লোপ পেতে থাকে । আর যদি এই ধরনের নারীরা উপার্জনক্ষম হয়ে থাকে তবে সেই অর্থ বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে হোটেল , পিকনিক , চাকচিক্যময় পোশাক ক্রয় ও বিলাসিতায় ব্যয় করে থাকে । অবশ্য স্বামীর জন্য সুন্দর পোশাক পরিধান করা এবং সাজ-সজ্জা করাটা অতি উত্তম কাজ এবং ইসলাম এটা করতে বিশেষ তাগিদও দিয়েছে । এ বিষয়ে আমরা আগেই আলোচনা করেছি ।
হিজাব বিরোধীদের বক্তব্য
হিজাব বিরোধীদের বক্তব্য এখানে হিজাব সম্পর্কে পর্দা বিরোধীদের কিছু আপত্তি নিয়ে আমরা সংক্ষেপে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ ।
তাদের প্রথম আপত্তি :
তাদের সবাই হিজাব নিয়ে সাধারণত যে কথাটা বলে থাকে তা হচ্ছে যে ,‘ নারীরা হচ্ছে সমাজের অর্ধেক অংশ , তাই যদি তারা হিজাব বা পর্দার মধ্যে থাকে তবে তারা ঘরকুনো বা কোণঠাসা হয়ে যাবে এবং এর ফলে তারা চিন্তাগত , সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে পিছনে পড়ে থাকবে । বর্তমানে যেহেতু বিশ্ব অর্থনৈতিক সাবলম্বিতার দিকে ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে এবং তার জন্য অনেক মানুষের শ্রম ও ভূমিকা থাকা প্রয়োজন । পর্দার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের শ্রম হতে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয় এবং সাথে সাথে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও কোন ভূমিকা থাকছে না । আর এ কারণে তারা শুধুমাত্র ভোক্তা হিসেবে বিদ্যমান থাকে , উৎপাদনে কোনরূপ ভূমিকা রাখে না ।
তাদের আপত্তির বিপক্ষে আমাদের জবাব :
যারা এই সূত্রের ভিত্তিতে হিসাব করে থাকে তারা কয়েকটি বিশেষ বিষয়ে বেখবর অথবা না জানার থাকার ভান করে থাকে । কেননা প্রথমত কে বলেছে যে , ইসলামী হিজাব নারীকে ঘরকুনো বা কোণঠাসা করে দেয় ? যদি অতীতকালে আমাদের সামনে এমন প্রশ্ন করা হতো তবে আমরা তার উত্তর দেয়ার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করতাম কিন্তু ইরানে ইসলামী বিপ্লব কায়েম হওয়ার পরে আমাদের কষ্ট করে উত্তর দেয়ার প্রয়োজন নেই । কেননা নিজের চোখে দলে দলে নারীদেরকে দেখছি যারা হিজাব পরা অবস্থাতেই সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে ও করছে । যেমন : অফিস-আদালতে , কল-কারখানাতে , ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি ও রাজনৈতিক মিছিলে , রেডিও ও টেলিভিশনে , হসপিটালগুলোতে ডাক্তার ও নার্স হিসেবে বিশেষ করে যুদ্ধাহতদের সেবায় , স্কুল , কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে এমনকি যুদ্ধ ক্ষেত্রেও ।
পরিশেষে , ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নারীদের বর্তমান অবস্থা এই ধরনের আপত্তি উত্থাপনকারীদের জন্য দাঁত ভাঙ্গা জবাব । কারণ পূর্বে আমরা এমন হওয়া সম্ভব কিনা তা নিয়ে আলোচনা করতাম আর এখন তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে । দার্শনিকগণ বলেছেন : কোন বিষয়ের সম্ভাবনার উপযুক্ত দলিল হচ্ছে তা বাস্তবে রূপ লাভ করা । যে জবাব চোখে দেখা যায় তা আর বলে বুঝানোর প্রয়োজন হয় না ।
দ্বিতীয়ত প্রথম যুক্তি ছাড়াও প্রশ্ন হচ্ছে যে , পরিবারের সুষ্ঠ পরিচালনা , প্রতিভাবান সন্তান তৈরী করা অর্থাৎ এমন সন্তান যারা আগামীতে তাদের মস্তিস্ক ও বাহুর শক্তি দিয়ে সমাজকে গড়ে তুলবে তাদেরকে সঠিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করা কি কোন কাজ নয় ? যারা নারীর এই মহান কর্মকে সমাজের জন্য ইতিবাচক এক কর্ম বলে মনে করে না , তারা পরিবারের প্রকৃত দর্শন ও উপযুক্ত সমাজ গঠনে নারীদের প্রকৃত ভূমিকা সম্পর্কে কোন জ্ঞানই রাখে না । তারা মনে করে প্রকৃত পথ হচ্ছে এটাই যে , আমাদের নারী-পুরুষরা পশ্চিমা দেশগুলোর মত প্রত্যহ সকালে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গৃহ ত্যাগ করবে এবং তাদের শিশুদেরকে শিশু লালন-পালন কেন্দ্রে রেখে আসবে অথবা তাদেরকে ঘরে রেখেই ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে যাবে । আর শিশুরা এই সময় থেকেই জীবনের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করতে থাকবে অথচ তখন কিনা তাদের উপযুক্ত ভালবাসা পেয়ে বেড়ে ওঠার কথা । এ ধরনের চিন্তার ব্যক্তিরা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভাবে উদাসীন যে , এতে করে ঐ শিশুদের মনের উপর অত্যন্তনেতিবাচক প্রভাব পড়ে যার কারণে তারা ভালবাসাহীন হৃদয় নিয়ে বেড়ে ওঠে যা একটি সমাজের জন্য অতিব ক্ষতিকারক দিক ।
তাদের দ্বিতীয় আপত্তি :
তারা বলে থাকে যে , পর্দা হচ্ছে এমন এক ধরনের পোশাক যা হাত-পা জড়িয়ে থাকে তা পরিধান করে বর্তমানের যান্ত্রিক যুগে কাজ করা সম্ভবপর নয় , বিশেষ করে বোরকা যা বর্তমানের সমাজ ব্যবস্থার সাথে মোটেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ।
তাদের এ আপত্তির বিপক্ষে আমাদের জবাব :
যারা এ ধরনের কথা বলে থাকে , প্রথমত একটি বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন । আর তা হচ্ছে পর্দা সকল সময় বোরকা অর্থে ব্যবহৃত হয় না । বরং তা নারীর আবৃত থাকার অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে । যদিও নারীর দেহ আবৃত রাখার সব থেকে উত্তম পন্থা হচ্ছে চাদর বা বোরকা ব্যবহার করা । কেননা চাদর দেহ নারীকে বেগানা (পর-পুরুষের) দৃষ্টি থেকে দূরে রাখে এবং শরীরের আকর্ষণীয় স্থানগুলোকে ফুটিয়ে তোলে না । কিন্তু শুধু কামিস বা লম্বা পোশাক এমনটি নয় । কারণ তা পরলে সহজেই নারীর শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলো বুঝা যায় এবং পর-পুরুষের দৃষ্টিকে আকৃষ্ট করে ।
দ্বিতীয়ত ইরানের নারী কৃষকগণ ও গ্রামের মহিলা শ্রমিকরা যারা ধানক্ষেতে বা অন্য স্থানে অনেক কষ্টকর কাজ যেমন বীজ তলা তৈরী , আগাছা পরিষ্কার ও ফসল কেটে ঘরে আনা ইত্যাদি করে । তারা হিজাবের (পর্দার) মধ্যে থেকে এ কাজগুলো করে উল্লিখিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন । সাথে সাথে এটাও প্রমাণ করেছেন যে , গ্রামের নারীরাও ইসলামী পর্দার মধ্যে থেকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারে এবং তা তাদের কাজে কোন বাধার সৃষ্টি করে না ।
তাদের তৃতীয় আপত্তি :
হিজাব (পর্দা) যেহেতু নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করার সাথে সাথে পুরুষের কামভাবকে উত্তেজিত করে এবং তা ধ্বংস না করে বরং তাদের যৌনতার প্রতি আকর্ষণকে বাড়িয়ে থাকে । আর তা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যখন কোন বাধাই মানে না ।
তাদের এ আপত্তির বিপরীতে আমাদের জবাব :
বর্তমান সময়ে যখন ইরানের সকল স্থানে পর্দার সংস্কৃতি বিরাজমান তার সঙ্গে ইরানের তাগুতী সরকারের আমলে বিদ্যমান সমাজের তুলনা মূলক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে , তখন ফিতনা-ফ্যাসাদের পরিমান আকাশ চুম্বি ছিল ও নারীরা ছিল উলঙ্গ বা এ সংস্কৃতি অনেক আর পরিবারের মধ্যেও প্রবেশ করেছিল , যার কারণে তালাকের পরিমান দিনের পর দিন বেড়েই চলেছিল ও অবৈধ সন্তান জন্ম নিচ্ছিল কিন্তু যখন ইসলামী বিপ্লব সফল হলো এবং হিজাব প্রতিষ্ঠিত হলো তখন এ সমস্যা থেকে সমাজ মুক্তি পেল । তবে এটা দাবী করব না যে , ঐ সমস্যার একশত ভাগই সমাধান হয়ে গেছে তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে , তা প্রায় সত্তর ভাগের কাছাকাছি সমাধান হয়ে গেছে । আর যদি দেশের সকল মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্বের প্রতি একনিষ্ঠ থাকে তবে ইসলামী সমাজ ফিতনা-ফ্যাসাদ মুক্ত হবে ।
তাদের চতুর্থ আপত্তি :
সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ এবং পর্দাহীনতার প্রধান কারণ হচ্ছে অভাব ও অর্থনৈতিক সংকট । যদি অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তবে জনগণের পক্ষ থেকে এরূপ আচরণ প্রকাশ পাবে না।
তাদের এ আপত্তির বিপক্ষে আমাদের জবাব :
যদিও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা কোন কোন মানুষের ঈমানের দুর্বলতা সৃষ্টি করে থাকে এবং যার কারণে সে ব্যক্তি ভ্রান্তপথে চলে যায় । এর কারণেই ইসলামও অভাব ও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতাকে দূর করার উপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছে । কিন্তু ফ্যাসাদ ও গোনাহের সূত্রপাত কখনোই অভাব বা অর্থনেতিক অসচ্ছলতা থেকে নয় , বরং ঈমানের দুর্বলতা ও সাংস্কৃতিক দৈন্য এজন্য দায়ী । ঈমানের দুর্বলতা যত প্রকট হবে গোনাহের পরিমান ততই বেশী হবে । যদি অর্থ ও প্রাচুর্য্য এবং স্বচ্ছল জীবন ফিতনা- ফ্যাসাদকে ঠেকাতে সক্ষম হতো তবে অবশ্যই পৃথিবীর ধনী দেশগুলো তাদের তরুণদেরকে এবং সমাজকে অধিক পবিত্র রাখতে সমর্থ হতো । কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ফিতনা-ফ্যাসাদ ঐ সমস্তদেশগুলো থেকে সৃষ্টি হচ্ছে । সুতরাং অবশ্যই মানুষের ঈমান ও আক্বীদা-বিশ্বাসের উপর কাজ করা প্রয়োজন । যদি মানুষ তাদের অন্তর দিয়ে আল্লাহ্ ও কিয়ামতের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তবে সকল কিছুই যথার্থ ও সুন্দর হয়ে উঠবে এবং ভীরুতা , কর্মহীনতা ,অলসতা , অসতীত্ব , যৌনতা , অর্থের লালসা , মানসিক অস্থিরতা , অশান্তি প্রভৃতির স্থলে সাহসিকতা , কর্মে একনিষ্ঠতা , কর্মচঞ্চলতা ,সতীত্ববোধ , অসহায়কে সাহায্য করার মানসিকতা , অল্পে তুষ্টি ও মানসিক প্রশান্তি বিরাজ করত ।
হিজাবের বিশেষ গুরুত্বসমূহ
-হিজাব বা পর্দার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করা যায় বেপর্দা ও সঠিক পর্দা না করা নারী শয়তানকে খুশি করে থাকে ।
-হিজাব কলুষতা থেকে রক্ষা করে থাকে ।
-নারীর শোভা হিজাবের মধ্যে লুক্কায়িত ।
-পর্দানশিন নারী তার স্বামীর কাছে বেশী প্রিয় ।
-হিজাব , রূহের প্রশান্তিবয়ে আনে ।
-হিজাব , নারীর আত্মিক পবিত্রতা ও আত্মমর্যাদাবোধের সাক্ষ্য বহন করে ।
-হিজাব আয়ু ও সংসার জীবন দীর্ঘায়িত হতে সাহায্য করে ।
-পর্দানশিন নারীদের থেকে বেপর্দা নারীদের মধ্যে মানসিক অশান্তিবেশী থাকে ।
-হিজাব মর্যাদা বা নিরাপত্তা দান করে কিন্তু সীমাবদ্ধতা সষ্টিকরে না ।
-হিজাব নারীর সতীত্ব ও সচ্চরিত্রতার বহিঃপ্রকাশ ।
-পর্দানশীল মেয়ে দ্রুত স্বামী লাভ করে থাকে ।
-হিজাব , নারীর মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে ।
-হিজাব , প্রবৃত্তির শৃঙ্খল ভেঙ্গে তা থেকে নারীকে মুক্তি দেয় ।
-নৈতিক অনাচার এবং গর্ভপাত পর্দানশিন নারীদের মধ্যে কম দেখতে পাওয়া যায় ।
-পর্দানশিন নারী , কামুক পুরুষকে তার উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা থেকে নিরাশ করে থাকে ।
-হিজাব , নারীর লজ্জাশীলতা ও আত্মিক পবিত্রতার পরিচয় বহন করে ।
-পর্দানশিন নারী , জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে অধিক সফলকাম হয়ে থাকে ।
-হিজাব ও তাকওয়া , মানুষকে বেহেশ্তী করে থাকে ।
-হিজাব , অবৈধ সন্তান জন্মদানের পথে বাধা হয়ে থাকে ।
-হিজাব , স্বাধীন ধর্মীয় ও দেশীয় সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে ।
-নারীর কালো বোরকা ও তার পর্দা শয়তানের অন্তরে বিষাক্ত তীরের ন্যায় আঘাত হানে ।
-হিজাব , বখাটেদের হাত থেকে নারীকে রক্ষা করে থাকে ।
-পর্দানশিন ও তাকওয়া সম্পন্ন নারীদের মধ্যে তালাক ও সংসার ভাঙ্গার ঘটনা কম দেখা যায় ।
-পর্দানশিন নারী , নিজের ও স্বামীর জন্য মর্যাদা ও গর্বের বিষয় হয়ে থাকে ।
-পর্দানশিন থাকার অর্থ হচ্ছে শয়তানের প্রভাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় গ্রহণ করা ।
-নারী তার পর্দার মাধ্যমে ইসলামের শত্রুদের অসৎ উদ্দেশ্যের (ইসলামের ক্ষতি সাধনের) পথে অন্তরায় হয়ে থাকে ।
-নারী তার হিজাবের মাধ্যমে ইসলামের শহীদদের আত্মাকে প্রফুল্ল করে থাকে এবং শহীদের প্রকৃত অনুসারী বলে পরিগণিত হয় ।
-পর্দানশিন নারী , তার স্বামীর অধিকারকে নষ্ট করে না বা তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে না ।
-নারীর কালো বোরকা বা হিজাব শয়তান ও তার দোসরদের অন্তরে দুঃখ বয়ে আনে এবং মু ’ মিনদের অন্তরে বয়ে আনে সুখ ।
-নারীর হিজাব , বাবা , ভাই ও স্বামীর আত্মসম্মানবোধের পরিচায়ক ।
-হিজাব , আল্লাহ্ ও কিয়ামতের উপর নারীর বিশ্বাস ও ঈমানের পরিচায়ক ।
-হিজাব , নারীর প্রকৃত ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে থাকে , কিন্তু বেপর্দা নারী তার প্রকৃত ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে ফেলে ।
-পর্দানশিন নারী , আল্লাহর আনুগত্যকারী । কিন্তু বেপর্দা নারী শয়তানের আনুগত্যকারী ।
-পর্দানশিন নারী , শয়তানের প্রকৃত উদ্দেশ্য যা হচ্ছে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা তা থেকে তাকে নিরাশ করে থাকে ।
-পর্দানশিন নারী , পবিত্র কোরআন , আহলে বাইতের (আ.) ইমামগণ এবং শহীদের রক্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে চলে , কিন্তু বেপর্দা নারী এসব কিছুর প্রতি ভ্রুকুটি দেখায় ও অবজ্ঞা প্রদর্শন করে থাকে ।
-পর্দানশিন নারী ও মেয়েরা মানসিক ও নৈতিক দিক দিয়ে উত্তম কিন্তু বেপর্দা নারী তার প্রেমিকাসুলভ আচরণ ও ভাবভঙ্গীর মাধ্যমে নিজের ত্রুটিকে ঢেকে রাখতে ও অপূর্ণতাকে ঢেকে রাখতে চায় ।
-পর্দানশিন নারী পর্দার মাধ্যমে তার সাজ-সজ্জা ও সৌন্দর্য্যকে শুধুমাত্র তার স্বামীর জন্য নির্দিষ্ট করে , কিন্তু বেপর্দা নারী অভিসারের মাধ্যমে চায় স্বামী ছাড়াও অন্য সকলের প্রিয় হয়ে থাকতে ।
-হিজাব পরিহিতা নারী , ঠিক ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার ন্যায় যা শুধুমাত্র তার স্বামীর জন্যেই । কিন্তু বেপর্দা নারী , ঠিক ইমিটেশনের অলঙ্কারের ন্যায় যা যে কোন স্থানে পাওয়া যায় ।
-পর্দানশিন নারী , তার প্রথম ভালবাসা ও অভ্যন্তরীণ শোভাকে তার স্বামীর প্রতি নিবেদন করে থাকে । কিন্তু বেপর্দা ও তাকওয়াহীন নারী , অবিরাম মেলামেশা ও একত্রে ওঠাবসার কারণে অনেকের দৃষ্টি পড়ে থাকে । সে হয়ত সর্বশেষ ভালাবাসাটা তার স্বামীকে দিয়ে থাকে ।
-আলী (আ.)-এর দৃষ্টিতে নারী হচ্ছে একটি সু-গন্ধযুক্ত ফুলের মত ।172
পর্দার কারণেই নারীর কোমলতা ও প্রকৃতি নষ্ট হয় না । যেমন : সে এমন একটি ফুলের ন্যায় হয়ে যায় যে , তা সকলের নাগালের বাইরে থাকে । আর সে কারণেই তা দ্রুত ঝরে যায় না । কিন্তু বেপর্দা নারী ঐ ফুলের মত যা সর্বসাধারণের যাতায়াতের রাস্তায় পাশে রয়েছে ফলে সকলেই তা স্পর্শ করতে পারে বা তার গন্ধ উপভোগ করতে পারে । আর তার কারণেই তা দ্রুত নিজের কোমলতা ও প্রকৃতি নষ্ট করে ফেলে এবং দ্রুত ঝরে যায় । তাই শেষের দিকে ঐ ফুলকে আর কেউ মূল্যায়ন করে না এমন কি তার প্রকৃত মালীও (স্বামী) তাকে উপেক্ষা করে ।
-পর্দা করা নারী খুব কম দেখা যায় যে , কারো দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছে কিন্তু যদি হয়েও যায় তবে তা পছন্দনীয় ।
পর্দা করা নারীর বক্তব্য
যখন পর্দা করা নারী , ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে দৃঢ়ভাবে পা ফেলে এবং কথা বলার সময় অন্যরা যাতে চিন্তায় কাজে লিপ্ত না হয় সে জন্য নিজের কণ্ঠকে মোটা করে এবং বাড়ীর বাইরে অহংকারী ভঙ্গিতে পথ চলে প্রকৃতপক্ষে তখন সে তার এই ধরনের কাজের মাধ্যমে এ বক্তব্যই তুলে ধরে : আমাকে ভয় কর , তোমাদের অন্তরে আমার প্রতি আকাংখার দুঃসাহস কর না । আমি একটি সু-গন্ধযুক্ত ফুল , শুধুমাত্র একজন যার গন্ধ উপভোগ করবে , সকলে নয় । আমার পর্দা হচ্ছে কাটার ন্যায় যা আমার ফুলের ন্যায় অস্তিত্বকে সংরক্ষণ করে । আমার পর্দা অপবিত্র ব্যক্তিদের চোখকে অন্ধ করে দেয় এবং তাদের শয়তানী উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে নিরাশ করে থাকে ।
আমি আমার সৌন্দর্য্যকে পর্দার দীপ্তিময় প্রকাশেই খুঁজে পাই । আমার পর্দা আমার হৃদয়ের পবিত্রতা ও ঈমানের দৃঢ়তার পরিচয় দান করে । আমি বলতে চাই যে , আমি প্রবৃত্তি ও শয়তানের দাস নই এবং নিজের মধ্যে কোনরূপ ঘাটতি অনুভব করি না । সব ধরনের দাসত্বের বন্ধন মুক্ত এবং আল্লাহর অভিভাবকত্বের ছায়ায় রয়েছি , যেমনভাবে ঝিনুকের মাঝে মুক্তা থাকে ।
আমি আমার পর্দা বা হিজাবের মাধ্যমে এটা দেখাতে চাই যে , আমি প্রকৃত দ্বীনদার ব্যক্তি এবং কোরআন , রাসূল (সা.) , পবিত্র ইমামগণ (আ.) ও হযরত ফাতিমা যাহরা (আ.) -এর প্রকৃত ও সত্য অনুসারী যিনি উত্তম ও সুন্দর সকল মানবীয় বৈশিষ্ট্যসমূহের চূড়ান্তে পৌঁছেছিলেন ও পৃথিবী হাজার বছর পরেও তাকে নিয়ে গর্ববোধ করে এবং আগামীতেও করবে । তিনি প্রতিটি স্বাধীন ও পবিত্র নারীর জন্য আদর্শ ছিলেন , আছেন ও থাকবেন । আমি এমন এক নারীর (হযরত যয়নাব) অনুসারী যিনি ইয়াযিদ ও তার দোসরদের মিথ্যা মর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত করেছিলেন এবং উত্তম জীবন পদ্ধতি প্রতিটি নারী-পুরুষকে শিক্ষা দিয়েছিলেন ।
বেপর্দা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীদের বক্তব্য :
পর্দানশিন নারীদের বিপরীতে বেপর্দা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পোশাক পরে , আকর্ষনীয় ভঙ্গিমায় কথা বলে এবং প্রেমিকাসুলভ আচরণের মাধ্যমে সে নিজের অজান্তেই বলে থাকে যে , কামুক পুরুষেরা আমার পিছে পিছে আস , আমাকে বিরক্ত কর । আমাকে টিটকারী কর , আমার সম্মুখে নতজানু হও এবং আমার প্রতি প্রেম নিবেদন কর ও আমাকে পূজা কর । আমাকে পাওয়ার আশায় দিন কাটাও , তোমাদের মনগুলো আমাকে দাও । আমি বাহ্যিকভাবে মুসলমান কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মুসলমানদের মান সম্মানকে ভুলুণ্ঠিত করি । আমার অন্তরে আল্লাহ্ ও কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস খুব দুর্বল । আমার বাহ্যিক রূপই আমার ভেতরের বহিঃপ্রকাশ ।
আল্লাহ্ তা’ য়ালা বলেছেন যে ,
) قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَىٰ شَاكِلَتِهِ فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ أَهْدَىٰ سَبِيلًا(
হে নবী , বল সবাই যার যার নিজস্ব পদ্ধতি ও অভ্যন্তরীণ রূপ অনুযায়ী কাজ করে , সুতরাং তোমাদের পালনকর্তা উত্তম পথের অনুসারীদেরকে খুব ভাল ভাবেই জানেন ও চেনেন ।173
ফার্সী প্রবাদে আছে :“ কলসির মধ্য থেকে তাই বেরিয়ে আসবে যা তার মধ্যে আছে ” ।
আমার এই কামনা উদ্দীপক আচরণসমূহ যা শত শত মানুষের হৃদয় জয় করে থাকে বলতে চাই যে , আমার স্বামী , পিতা ও ভাইদের তাদের স্ত্রী , কন্যা ও বোনের ব্যাপারে কোন প্রকার ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্মানবোধ নেই । কেননা যদি তাদের তা থাকত তবে আমাকে এভাবে বাড়ীর বাইরে পা রাখার অনুমতি দিত না ।
আমি আমার এই অশালীন পোশাক ও গুনাহয় কলুষিত বাহ্যিক রূপ নিয়ে বলতে চাই যে , আমি সেই সব নারীর অনুসারী যারা তাদের সারা জীবন অন্যদের বিপথে পরিচালিত করেছে , আল্লাহ , কোরআন ও ইসলামের প্রতি ভ্রকুটি দেখিয়েছে , যারা পশুর মৃতদেহের চেয়েও দুর্গন্ধ নিয়ে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে এবং পৃথিবীতে অনাচার , ধ্বংস আর অপমান ছাড়া কিছুই রেখে যায় নি । আমি আমার কাজের মাধ্যমে এটাই দেখিয়ে থাকি যে , আমি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুসারী যা বিশ্বকে অনাচার ও বিশৃংখলায় পূর্ণ করেছে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার যুবককে অবক্ষয় ও অধঃপতনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ।
আমি এমন এক সু-গন্ধযুক্ত ফুল , যার সু-গন্ধ সকলেই উপভোগ করে থাকে । আমি ঘন্টার পর ঘন্টা সাজ-সজ্জার পিছনে সময় ব্যয় করে , চুল রং করে নিজেকে অন্যদের সামনে উপস্থাপন করি যাতে করে কামুক ও প্রবৃত্তি পূজারী পুরুষদের অন্তরসমূহ নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হই । আর এই সকল কাজের মাধ্যমে তাদের নজর কাড়বো এবং প্রসিদ্ধ হয়ে উঠবো এবং এর দ্বারাই আমার মধ্যে যে সকল অপূর্ণতা রয়েছে তা পূরণ হয়ে যাবে । কেননা এটা দেখছি যে , কিছু কিছু মানুষের অন্তরজুড়ে আছে এবং তারা সম্মানিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে । আমিও তাই চাই যে , আমার এই প্রেমিকাসুলভ আচরণ এবং উত্তেজনাকর দৈহিক ভঙ্গিমার মাধ্যমে মানুষের নিকট সম্মানের পাত্র এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত হতে । এই কাজের মাধ্যমে এটা দেখাতে চাই যে , অজ্ঞতা আমার ও আমার অনুরূপ নারীদের মধ্যে বিদ্যমান এবং ইসলামের আলোকিত পথ সম্পর্কে তেমন কিছুই আমাদের জানা নেই । কিন্তু আফসোস হচ্ছে এটাই যে , যখন কোন কামুক ও ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ আমার প্রতি তাকায় তখন নিজের মধ্যে অলীক এক ব্যক্তিত্ব অনুভব করি , কিন্তু পরক্ষণেই মানসিক অশান্তি এবং বিষন্নতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি ফলে আমার অপূর্ণতার হতাশা দূর না হয়ে আরো প্রকটভাবে প্রকাশিত হতে থাকে । আর যদি কাউকে শিকার করতে না পারি এবং তাকওয়া ও আত্মসম্মানবোধের কারণে যদি কোন যুবক আমাকে না দেখার ভান করে চলে যায় তবে তা হয় আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ব্যাপার । তখন মনে হয় দেহের অভ্যন্তর থেকে এখনই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠবে এবং তা আমার সমগ্র অস্তিত্বকেই পুড়িয়ে ছাই করে ফেলবে ।
কিন্তু আমরা আপনার শুভাকাঙ্খী হিসেবে বলতে চাই যে : ওহে বেপর্দা নারী , যদি ভাল , সম্মানিত এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে চাও সেই সাথে নিজেকে ভেতর হতে দগ্ধ হওয়া থেকে মুক্তি পেতে চাও তবে সতীত্ব ও আত্মমর্যাদা লাভের চেষ্টা কর । কেননা , যতই আবৃত থাকবে ততই ভাল , চরিত্রবান , ধার্মিক ও সৎ যুবককে তোমার প্রতি আকৃষ্ট করতে পারবে যারা তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার জন্য আগ্রহ ভরে অপেক্ষা করবে । আর এর মাধ্যমেই তুমি তোমার স্বামীকে তোমার প্রতি বেশী আকৃষ্ট করতে পারবে । আর যতই অনাবৃত থাকবে ততই অন্যদের দৃষ্টি থেকে ঝরে পড়বে ।
ওহে বেপর্দা নারী সম্মান ও প্রসিদ্ধি এই সব নষ্ট কাজের মাধ্যমে অর্জন করা যায় না । কেননা কোন পুরুষের যত কষ্ট করে (তোমার দুয়ারে ধরনা দিয়ে তোমাকে মোহরানা পরিশোধ করে তোমার সকল দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে) তোমাকে পাওয়ার কথা তুমি নিজেকে অনাবৃত করে অতি সহজেই তাকে তার অবৈধ উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করছো । তাই তারা তা সহজেই পাওয়ার কারণে বিয়ে করে পরিবার গঠন ও সংসারের দায়িত্ব নিতে চায় না । আর যদি ঐ পুরুষ তোমাকে বিয়ে করেও তবে তোমাকে দাসী বানানো ও বাচ্চা লালন-পালন করার জন্যেই চাইবে । যে স্বামীর মধ্যে আল্লাহর ভয় থাকে না ও দ্বীনি বিশ্বাস দুর্বল সে যে কয় দিনই তোমার সাথে সংসার করবে যেহেতু তাতে কোন নতুনত্ব পাবে না তাই অন্য করো পিছনে ছুটবে । আর যখনই ঐ তাকওয়াহীন পুরুষ অন্য করো পিছু নিবে তখন তোমার জীবনটাই পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে । তা ঐ আগুন যা তুমি নিজেই প্রজ্জলিত করেছো এবং তাতে তুমিই পুড়ে মরবে ।
পাশ্চাত্য ও ধর্মহীন ধনীদের মধ্যে দিন দিন তালাকের পরিমান ও অবৈধ সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া , নৈতিক অনাচার , বিশৃংখলা , আত্মহত্যা প্রবণতা , মানসিক অশান্তি প্রভৃতি ব্যাপক হওয়ার কারণ ও পর্দাহীনতার মধ্যে নিহিত ।
উত্তম নারী কারা ?
ফাতিমা যাহরা (আ.) বলেছেন : উত্তম নারী হচ্ছে তারাই যারা না পুরুষদেরকে এবং না পুরুষরা তাদেরকে দেখতে পায় । অতঃপর রাসূল (সা.) বললেন : ফাতিমা আমা হতে ।174
হযরত আলী (আ.) বলেছেন : রাসূল (সা.) আমাদের কাছে প্রশ্ন করলেন যে , নারীর জন্য উত্তম জিনিস কোনটি ?
আমাদের মধ্য থেকে কেউ রাসূলে খোদা (সা.)-এর প্রশ্নের উত্তর দিল না । আমি ঐ প্রশ্নটি হযরত ফাতিমা (আ.)-এর নিকট বললাম । হযরত ফাতিমা (আ.) ঐ প্রশ্নের উত্তরে বললেন : নারীর জন্য উত্তম কাজ হচ্ছে যে , না পুরুষ তাকে এবং না সে পুরুষকে দেখতে পায় । পরে হযরত ফাতিমার (আ.)এই উত্তরটি রাসূলে খোদা (সা.) -এর কাছে বললাম । রাসূলে খোদা (সা.) বললেন : ফাতিমা হচ্ছে আমার দেহের অংশ ।175
এই রেওয়ায়েতটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে । এ হাদীসে যে বিষয়ের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে যে , নারীরা যতটুকু সম্ভব নামাহরাম থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে । যদি কোন বিশেষ প্রয়োজনে যেমন : চাকুরি বা অন্য কোন প্রয়োজনীয় কাজে নামাহরামের মুখোমুখি হতেই হয় তবে সে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ইসলামী বিধান যেন লঙ্ঘিত না হয় যেমন : পর্দা করা এবং নিজের সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করা ।
মোট কথা নারী যখন কোন নামাহরামের সম্মুখে অবস্থান করবে তখন সে যেন এমন কোন কাজ বা আচরণ না করে যাতে করে তার প্রতি ঐ নামাহরামের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় এবং তাকে প্ররোচিত করে । এ বিষয়গুলো সে যেন অবশ্যই পরিহার করে চলে , বিশেষ করে ঐ সব স্থানে যেখানে নারী ও পুরুষ এক সঙ্গে কাজ করে । বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখা দরকার যে , বিশেষ কোন কারণ ব্যতীত নারী ও নামাহরাম পুরুষ যেন এক কক্ষে কাজ না করে । আর এই বিষয়গুলে মেনে চলার জন্য এই সমস্ত কেন্দ্রগুলোতে মহিলা শাখা ও পুরুষ শাখা করা যেতে পারে । আশা করি আল্লাহ তা ’ য়ালার বিশেষ করুণায় এমন একটি দিন আসবে যে , সেদিন নারীদের যোগ্যতা এত অধিক পরিমানে বৃদ্ধি পাবে যার কারণে নারী ও পুরুষের আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং সে সব প্রতিষ্ঠানে নারীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে । রাসূল (সা.) তাঁর সাথে নারীদের বাইয়াত করার (অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়া) সময় শর্ত রেখেছিলেন যে ,
ﺍﻥ ﻻ ﳛﺪﺛﻦ ﻣﻊ ﺍﻟﺮﺟﺎﻝ ﺍﻻ ﺫﺍ ﳏﺮﻡ
পুরুষের সাথে কথা বলবে না , শুধুমাত্র তোমাদের মাহরাম ব্যতীত ।176
ইমাম বাকির (আ.) বলেছেন :
ﳏﺎﺩﺛﺔ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻣﻦ ﻣﺼﺎﺋﺪ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ
নামাহরাম নারীর সাথে কথা বলাটা শয়তানের ফাঁদ ।177
রাসূল (সা.) বলেছেন :
যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে , সে ব্যক্তি এমন স্থানে রাত কাটায় না যেখানে নামাহরাম নারীর শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ শুনতে পায় ।178
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
প্রকৃতপক্ষে রাসূল (সা.) নারীদের কাছ থেকে যে বাড়িগুলো নিয়ে নিয়েছিলেন তা এই কারণেই যে , অবসর সময়ে তারা সেখানে যেন বেগানা পুরুষের সাথে আসা-যাওয়া ও ওঠা-বসা না করে ।179
আল্লাহ্ না করুন যদি এমন হয় যে , ইসলামী বিধি-বিধানের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না এবং এ সকল বিষয়ে শয়তানের ভুল ব্যাখ্যায় আমরা প্রতারিত হই তবে গোনাহ্সমূহ অধিক হারে বৃদ্ধি পাবে । আর এর কারণে অবশ্যই তালাকের হার , অবৈধ সন্তানের পরিমান , হত্যা ও রাহাজানি ইত্যাদিও বেড়ে যাবে । শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং এর সাথে সাথে সরকার , বিচার বিভাগ , নিরাপত্তা বাহিনী , শিক্ষা বিভাগ সব কিছুতেই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে । আর এর ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা ’ য়ালার করুণা , রহমত ও বরকত সব কিছুই বন্ধ হয়ে যাবে । আর তাঁর ঐ করুণা , রহমত ও বরকত বন্ধ হয়ে যাওয়াটা একটি সমাজের জন্য সব থেকে বড় মুসিবত বৈ অন্য কিছুই নয় ।
পর্দার সব থেকে উত্তম উপায় কী ?
পর্দা হচ্ছে পবিত্র ইসলাম ধর্মের একটি অতিব প্রয়োজনীয় বিষয় । যদি কেউ দীনের কোন একটি প্রয়োজনীয় বিষয়কে অস্বীকার করে তবে সে আল্লাহ্ তা ’ য়ালা ও রাসূল (সা.)-কে অস্বীকার করল । আর এই কারণে সে মুরতাদ বা কাফের হয়ে যাবে ।180
পর্দার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন তা হচ্ছে এই যে , নারী পর্দা করার মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করবে এবং সাথে সাথে সমাজকেও ফিতনা-ফ্যাসাদের হাত থেকে রক্ষা করবে । কেননা বেপর্দা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী যুবকদের প্ররোচিত করার কারণ হয়ে থাকে । যার ফলশ্রুতিতে সমাজে অপ্রীতিকর ঘটনার অবতারণা হয়ে থাকে । সুতরাং নারী পর্দা করার সাথে সাথে অবশ্যই যুবক ও পুরুষদের প্ররোচিত করতে পারে এমন আচরণ থেকে দূরে থাকবে।
এখানে এই প্রশ্নটি আসতে পারে যে , কি করলে উত্তমরূপে পর্দা হবে ?
উত্তরে বলতে হয় যে , সব থেকে উত্তম পর্দা হচ্ছে নামাহরামের দৃষ্টি থেকে নারী নিজেকে দূরে রাখবে । আর তা একমাত্র বোরকার মাধ্যমে যা নারীর সম্পূর্ণ শরীর আবৃত করে রাখে তাতেই সম্ভব । এ সম্পর্কে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ্ আল্ উ ’ যমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহুল আলী) বলেছেন :
বোরকা হচ্ছে পর্দার সব থেকে উত্তম পন্থা এবং আমাদের জাতির পরিচিতির প্রতীক ।181 যদিও মানতু (ইরানী নারীদের পরিধেয় আটসাট পোশাক) ও তার অনুরূপ কিছু পোশাক আকর্ষণীয় রংয়ের না হয়ে উপযুক্ত রংয়ের হয় এবং চাপা না হয় তবে তাতে বাহ্যিকভাবে কোন সমস্যা নেই । কিন্তু এ ধরনের পোশাক যদি রং ও মডেলের দিক দিয়ে উপযুক্ত হয়ে থাকে এবং আকর্ষণ সৃষ্টি না করে তথাপিও এতে অন্যান্য সমস্যা রয়েছে ।
যথা :
1- আটসাট মানতু (চাপা বোরকা) বা ঐ জাতীয় পোশাক পরলে তাতে বাইরের দিক থেকে শরীরের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গসমূহের আকৃতি বোঝা যায় যা নারীর ব্যক্তিত্ব ও সচ্চরিত্রতার পরিপন্থী । আর একজন মুসলমান নারীর জন্য শোভনীয় নয় যে , এমন পোশাক পরবে এবং একজন মুসলমান পুরুষের জন্য এটি মর্যাদাহানিকর ব্যাপার যে , তার স্ত্রী বা বোন তেমন পোশাক পরে মানুষের সামনে যাবে ।
2- পবিত্র কোরআন ও নিষ্পাপ ইমামদের (আ.) রেওয়ায়েতে পর্দার একটি মূলনীতি পরিস্কার ভাবে বর্ণিত হয়েছে যা কোন ক্রমেই পরিবর্তনশীল নয় তা হচ্ছে যে , নারীরা এমন পোশাক পরবে না যা কামোদ্দীপক এবং প্ররোচক । এ দিক দিয়ে এ পোশাকগুলো উপরিউক্ত দোষে দুষ্ট । আটসাট মানতু বা ঐ জাতীয় পোশাক নামাহরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে এবং লম্পট মানুষগুলোকে নারীর প্রতি আকৃষ্ট করে ।
3- বোরকা ইসলামী সংস্কৃতির প্রতীক , তাই যদি কোন নারী চাদর বিহীন অবস্থায় (বোরকা ছাড়া) বাইরে আসে সে এই সাংস্কৃতিক ঐহিহ্যের প্রতি কোন গুরুত্বই দিল না । আর এই সংস্কৃতির প্রতি গুরুত্ব না দিলে তার সাথে একাত্ম হওয়া যায় না । তাই ওস্তাদ শহীদ মোতাহারী (রহঃ) ইসলাম পূর্ব ইরানীদের পর্দা সম্পর্কে বলেন : আমার জানা মতে প্রাচীন ইরান ও ইহুদী সম্পদায়্র এবং সম্ভবত ভারতেও পর্দার প্রচলন ছিল ; আর ইসলামী বিধানে যা এসেছে তখনকার প্রচলিত পর্দা এর থেকে কঠিন ছিল ।182
4- প্রচণ্ড বাতাস বা ঝড়ের মুখে মানতু , কামিস বা ঐ জাতীয় পোশাক যারা ব্যবহার করে তাদের শরীরের গঠন প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । কিন্তু যারা বোরকা ব্যবহার করে তাদের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ।
উল্লিখিত বিষয়সমূহ এই উদ্দেশ্যে বলা হলো যে , মানতু বা ঐ জাতীয় পোশাক প্রস্তুতকারকরা যেন এমনভাবে তা প্রস্তুত করেন যাতে বে- গানা পুরুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে এবং এমন পোশাক পরিহিতারা রাস্তায় চলার সময় ভদ্রভাবে চলাচল করে ও সব সময় কামোদ্দীপক আচরণ থেকে দূরে থাকবে অন্যথায় তা ব্যবহার করা কোন ক্রমেই জায়েয হবে না । যদি এমন কেউ করে তবে সে হারাম কাজ করল । কেননা এ কাজের মাধ্যমে (তা জেনে-বুঝেই হোক অথবা অজ্ঞতা বশতই হোক না কেন) সমাজকে সে ফিতনা-ফ্যাসাদের দিকে ঠেলে দিল এবং শয়তানকে তার অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলে সাহায্য করল ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :
আমরা অবশ্যই এটার প্রতি দৃষ্টি রাখব যে , বিশ্বের প্রতিটি ইসলামী দেশের সম্মানিত নারীরা হচ্ছেন মুসলমান এবং তারা সকলেই স্বভাবগত কারণেই প্রিয় ইসলাম ও তার আদেশ-নিষেধকে পছন্দ করেন । বিশেষত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নারীরা বিভিন্নরূপ সমস্যায় ধৈর্যধারণ ও মহান আল্লাহর পথে সন্তানদের বিসর্জন দেয়ার মাধ্যমে এই বিষয়টিকে প্রমাণ করেছে যে , তারা জানে আল্লাহ তা ’ য়ালার নির্দেশসমূহ হচ্ছে বান্দার জন্যে মঙ্গল স্বরূপ এবং কিছু কিছু নারী বেপর্দা বা সঠিকভাবে পর্দা না করার কারণ হচ্ছে তারা জানে না যে , পর্দার মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গল নিহিত রয়েছে । আশা করব যে , এই সকল নারীরা ইসলামী বিভিন্ন গ্রন্থসমূহের সাথে নিজেরা আরো অধিক পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে ইসলামী জ্ঞান অর্জন করবেন যাতে করে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় । কেননা মানুষ দ্বীন সম্পর্কে যতই জানবে ততই তার ঈমান ও বিশ্বাস দৃঢ় হবে এবং কম পথভ্রষ্ট হবে । আর যতই তার জ্ঞান কম হবে ততই তার ঈমান ও বিশ্বাস দুর্বল হবে এবং ভুল পথে পরিচালিত হবে ও সত্য পথ থেকে দূরে সরে যাবে ।
উপরে যা কিছু বর্ণনা করা হয়েছে তা হচ্ছে মানতু সম্পর্কে যা বোরকা ছাড়াই পরা হয়ে থাকে । তা বোরকার নিচে পরা অতি উত্তম । যদিও অনেক নারীই মানতুকে হিজাব হিসেবে ব্যবহার করে থাকে , কিন্তু উত্তম হচ্ছে বোরকা ব্যবহার করা ।
পর্দার বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে বোরকার গুরুত্বের কারণ
1 -পবিত্র কোরআন :
) يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا(
হে নবী , তোমার স্ত্রী ও কন্যাগণ এবং মু ’ মিনদের স্ত্রীগণকে বল যে , তারা যেন নিজেদেরকে জালবাব (বড় ওড়না , চাদর) দিয়ে আবৃত করে রাখে যাতে করে সহজেই তাদের (সম্মানিত নারী হিসেবে) চেনা যায় এবং এতে তাদের উত্যক্ত করা হবে না । আল্লাহ তা ’ য়ালা হচ্ছেন ক্ষমাশীল ও দয়ালু ।183
উল্লিখিত আয়াতে জালবাব সম্পর্কে মুফাসসের ও আভিধানিকগণ বিভিন্ন অর্থ করেছেন যা নিম্নরূপ :
1- সেলাইকৃত মস্তকাবরণ (বোরকার অংশ বিশেষ) ।
2- এমন পোশাক যা মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে দেয় ।
3- এমন পোশাক যা নারীরা তাদের অন্য পোশাকের উপর পরে থাকে ।
4- আবা ’ র (ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত বিস্তৃত ঢিলা পোশাক) অনুরূপ পোশাক বিশেষ ।
5- মিলহাফাহ্ (চাদর) ।
6- এমন পোশাক যা ওড়নার থেকে বড় এবং বহিরাবরণের (রিদা) থেকে ছোট ।
7- বড় ওড়না যা বাড়ী থেকে বাইরে যাওয়ার সময় মাথা ও মুখ মণ্ডল ঢেকে রাখার জন্য পরা হয়।184
জালবাবের জন্য যে অর্থ গুলো উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তার প্রত্যেকটির সাথে প্রত্যেকটির পার্থক্য রয়েছে । কিন্তু অর্থ গুলোর মধ্যে যে বিষয়টি অভিন্ন তা হচ্ছে এটি এমন পোশাক যা ওড়নার থেকে বড় এবং আবা ’ র থেকে ছোট ।
যদিও অর্থ গুলোর মধ্যে বোরকা শব্দটি উল্লিখিত হয় নি (কিন্তু কোন কোন আভিধানিক তা বোরকা অর্থও করেছেন) । কিন্তু তার নিকটবর্তী অর্থের কথা চিন্তা করে অনেকেই বোরকার প্রতি ইশারা করেছেন ।
আমাদের আলোচনা শব্দ নিয়ে নয় বরং তার অর্থ নিয়ে । আর চাদরের অর্থ বা তার অনুরূপ অর্থ জালবাব শব্দের অর্থ থেকে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ।
) وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَنْ يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ(
বৃদ্ধা মহিলারা যাদের বিয়ে হওয়ার আর কোন আশা নেই তারা এমন পোশাক (সেলাইকৃত মস্তকাবরণ , জালবাব ও চাদরের ন্যায়) যা দ্বারা মুসলমান নারীরা সাধারণত নিজেদেরকে ঢেকে রাখে , নাও পরতে পারে কিন্তু শর্ত হচ্ছে যে , তারা যেন সাজ-সজ্জা করে বাইরে না আসে । তবে ঐ বয়সেও যদি তারা ইচ্ছা করে যে , নিজেদেরকে আবৃত রাখবে তবে তা অতি উত্তম । আল্লাহ তা ’ য়ালা সব কিছুই শোনেন এবং জানেন ।185
ক)- উপরোক্ত আয়াতটি যে অতিরিক্ত আবরণ ত্যাগ করাকেই বস্ত্র পরিহার বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে , আর এই খুলে রাখার অনুমতিটি অন্যান্য পোশাকের থেকে বোরকার সাথেই মানানসই।
খ)- যেখানে পবিত্র কোরআন বৃদ্ধ নারীদেরকেও (যাদের বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা নেই) সাজ-সজ্জা না করার জন্য উপদেশ দিচ্ছে এবং তাদেরকেও এক্ষেত্রে সচেতন থাকার প্রতি উৎসাহিত করছে । সেক্ষেত্রে তরুণী ও যুবতী নারীদেরকে হরেক রংয়ের পোশাক পরে (যদিও তা তাদের শরীরকে সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে) বের হওয়ার অনুমতি কি ইসলাম দিয়েছে ?
গ)- যেহেতু বৃদ্ধ নারীদেরকেও বলা হয়েছে যে , বড় ওড়না , চাদর পরা হচ্ছে তাদের জন্য উত্তম তাহলে তরুণী ও যুবতী মেয়েদের ক্ষেত্রে তা হবে অতি উত্তম ।
2- পবিত্র কোরআন ও রেওয়ায়েত থেকে মৌলিক এবং সার্বিক বিধান :
ক)- মহান আল্লাহ্ নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন :
) يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ(
হে নবী (সা.)-এর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্যদের মত সাধারণ নারী নও । যদি তাকওয়া অর্জন করতে চাও তবে এমন ভঙ্গিমায় কথা বল না যাতে করে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমাদের প্রতি কুবাসনা না করে । আর তোমরা উত্তম কথা বলবে । তোমরা তোমাদের গৃহের মধ্যেই থাকবে এবং জাহেলী যুগের মত (যখন নারীরা তাদের দৈহিক সৌন্দর্য্য এবং সাজ-সজ্জাকে অন্যদের সামনে প্রকাশ করত) মানুষের মাঝে উপস্থিত হয়ো না । আর নামায আদায় ও যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের কথা মেনে চলবে ।186
) وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ(
(হে আমার রাসূল! নারীদেরকে বলে দাও) তারা যেন মাটির উপর এমন ভাবে না চলে যাতে করে তাদের গোপন সৌন্দর্য্য প্রকাশিত (এবং তাদের পায়ের নুপুরের শব্দ (অন্যের) কানে পৌঁছায়।187
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
নারীরা যেন রাস্তার মধ্য দিয়ে পারাপার না হয় বরং দেয়ালের পাশ দিয়ে অথবা ফুটপাত দিয়ে যাওয়া-আসা করে ।188
হযরত আলী (আ.) শিশুদের মাথার অধিকাংশ চুল ফেলে কোন এক অংশে রেখে দিতে নিষেধ করেছেন । তিনি বলেছেন যে , নারীরা যেন তাদের চুল অতিরিক্ত পরিমানে ফুলিয়ে না রাখে , কখনই যেন তারা কপালের উপর কিছু চুল বের করে না রাখে এবং হাতে ও হাতের তালুতে এমন ভাবে যেন রং না করে যাতে করে নামাহরামদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় ।189
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
মহান আল্লাহ তাঁর একজন নবীকে ওহী পাঠালেন এই মর্মে যে , মু ’ মিনদেরকে বলে দাও : পোশাক পরার ক্ষেত্রে আল্লাহর শত্রুদের অনুসৃত রীতি ও প্রথাকে যেন তারা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ না করে । যদি তেমন করে তাহলে তারাও তাদের মত আল্লাহর শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবে ।
রাসূল (সা.) হাউলা নামের এক নারীকে বলেন :
হে হাউলা এটা জায়েয নয় যে , কোন নারী তার হাতের কব্জি এবং পায়ের গোড়ালী স্বামী ব্যতীত অন্য কোন পুরুষের সামনে উম্মুক্ত করবে । আর যদি তা করে তবে সব সময়ের জন্য আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাদের ক্রোধ ও অভিশাপের উপযুক্ত হয়ে যায় এবং তার জন্য কঠিন আজাবের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।190
রাসূলে খোদা (সা.) হাউলার উদ্দেশ্যে আরো বলেন :
হে হাউলা এটা জায়েয নয় যে , নারী কোন নামাহরাম তরুণ বা বাচ্চা ছেলে যে বালেগ হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে তাকে ঘরের ভিতরে আসার অনুমতি দিবে । (আর যদি ঘরে প্রবেশ করে) তবে নিজের দৃষ্টির প্রতি সাবধান থাকে যেন তার প্রতি কোন খারাপ দৃষ্টিতে না তাকায় , তদ্রূপ ঐ তরুণ ছেলেও যেন নারীর প্রতি অবৈধ দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে । নারীর জন্য এটা জায়েয নয় যে , তার সাথে খাদ্য গ্রহণ বা কোন কিছু পান করবে শুধুমাত্র মাহরাম ব্যতীত (আর মাহরামের সাথে এই খাওয়া বা পান করার সময় যেন তার স্বামী পাশে থাকে) ।191
বনী হাশিমের কয়েকজন ইমাম রেযা (আ.) -কে মেহমান হিসেবে দাওয়াত করল , সে পরিবারে ছোট একটি মেয়ে ছিল ; মুসলমানরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঐ মেয়েটিকে নিজেদের কাছে নিয়ে আদর করতে লাগল (তারা তাদের কোলের (আ.) উপর বসিয়ে তাকে চুমু দিচ্ছিল) । এরপর মেয়েটি ইমাম রেযা -এর কাছে আসলে ইমাম জানতে চাইলেন যে , তার বয়স কত ? বলা হলো যে : তার বয়স হচ্ছে পাঁচ বছর । তারপর (ইমামের নির্দেশে) ইমামের সামনে থেকে তাকে সরিয়ে নেয়া হলো ।192
ফলাফল :
উল্লিখিত আয়াত ও রেওয়ায়েত যা পবিত্র কোরআন ও হাদীস গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ আছে সেগুলো থেকে সর্বজনীন কিছু মৌলনীতি হস্তগত হয় । যেমন :
প্রতিটি নারীই বিশেষ করে যুবতী মেয়েরা যেন শরীয়ত নির্ধারিত প্রয়োজন ব্যতীত নামাহরামের সাথে সম্পর্ক না রাখে এবং যত সম্ভব তাদের সাথে কম কথা বলে ও তাদের দৃষ্টির আওতা থেকে দূরে থাকে এটি তার নিজের জন্য এবং সমাজের জন্য হচ্ছে অতি উত্তম । আর এটাও হচ্ছে ওয়াজিব যে , তারা যেন সতীত্ব , লজ্জা ও আত্মসম্মানবোধ বজায় রাখে এবং এমন পোশাক যেন না পরে যে , যা পরলে নামাহরামদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় ।
যৌন চাহিদা এমন কোন বিষয় নয় যাকে কোরআন ও হাদীসসমূহের বিরোধিতা করে অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন দলিলের অনুসরণে দমন করতে হবে , বরং বৈধ ও প্রবণতা ইসলামের অতিসুন্দর নির্দেশের অনুসরণে অর্থাৎ মহানবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের নির্দেশিত পথে নৈতিক বল ও আধ্যাত্মিকতা অর্জনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে । আমরা যেন প্রবৃত্তি পূজারী কিছু ব্যক্তির অনুসরণে এই আয়াত ও রেওয়ায়েতকে যেন ভিন্নরূপে ব্যাখ্যা না করি বরং অবশ্যই এক্ষেত্রে মানুষকে মহান ইসলামের সঙ্গে পরিচিত করাব । কেননা ইসলাম মানুষের আমলসমূহের জন্য উত্তম মানদন্ড । অন্য ভাবে বললে বলতে হয় যে , মানুষকে অবশ্যই সত্যের মাপ-কাঠিতে পরিমাপ করা উচিত , সত্যকে মানুষের মাপ-কাঠিতে নয় । তাহলে বড় ধরনের অঘটন ঘটবে । আর মুসলমান নারিগণ সাবধান থাকবেন তারা যেন ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির প্রভাবিত না হন ।
প্রশ্ন : কোন পোশাকটি পর্দার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ?
উত্তর : বোরকা একমাত্র পোশাক যা পূর্বোক্ত মৌলনীতির সকল বৈশিষ্ট্য যুক্ত । কেননা ,
প্রথমতঃ বোরকার কারণেই শরীরের আকৃতি সঠিকভাবে বোঝা যায় না । আর এটাই নারীর সতীত্ব , তাকওয়া ও আত্মসম্মানবোধের পরিচায়ক ।
দ্বিতীয়তঃ বোরকা পরার কারণেই নারীদের উপর নামাহরামের দৃষ্টি পড়ে না এবং দুঃশ্চরিত্র ও লম্পট ব্যক্তিদের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার পথে বোরকা বাধা হয়ে থাকে ।
তৃতীয়তঃ বোরকা পরিহিতা নারী ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতিতে রক্ষা করে থাকে এবং এই পন্থায় অনৈসলামী ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে আঘাত হানে ।
চতুর্থতঃ প্রবল বাতাস বা ঝড় বা দুর্ঘটনার সময় বোরকা পরিহিতা নারী উত্তম রূপে নিজেকে আবৃত করতে পারে । কিন্তু অন্যান্য পোশাকের মধ্যে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য সমূহ পাওয়া যায় না ।
উল্লিখিত আলোচনার আলোকে আমরা বলব : পড়াশুনা করছি , কাজ করছি এরূপ বিভিন্ন রকম অজুহাত দেখিয়ে যেন এই সত্যকে উপেক্ষা বা ভিন্ন রূপে ব্যাখ্যা না করা হয় । আর যেন তরুণ - তরুণীর অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে না দেয়া হয় । আর যদি এরূপ করা হয় তবে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটা উচিৎ ছিল না তাই ঘটবে । এর ফলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা করুণা ও রহমত বন্ধ হয়ে যাবে । এটা কি হতে পারে যে , নামাহরাম নারী পুরুষ কোন বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত একে অপরের সাথে কথা বলবে , বিশেষ করে যে ব্যক্তিরা ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক দিয়ে অত্যন্ত দুর্বল তাদের সাথে মেলামেশাতে কি অঘটন ঘটবে না ।
3- মহানবী (সা.) ও আহলে বাইতের নিষ্পাপ ইমামগণের (আ.) বাস্তব কর্ম জীবন :
উসূলে ফিকাহ ’ য় একটি আলোচনা রয়েছে তাতে বিশিষ্ট ফকীহ্গণ শরীয়তি উৎস থেকে বিধান বের করার ক্ষেত্রে এ দলিল নিয়ে আসেন যে , আহলে বাইতের ( আ .) নিষ্পাপ ব্যক্তিবর্গের উক্তি , কাজ এবং আচরণ এ তিনটিই হচ্ছে হুজ্জাত ( দলিল ) । তাই মুসলমানগণ সেগুলোর উপর ভিত্তি করে আমল করতে পারেন ।193
হযরত ফাতিমা ( আ .) বোরকা পরে মসজিদে এসেছিলেন তাঁর মুখমণ্ডলও ঢাকা ছিল এবং তিনি এক গভীর অর্থ সম্পন্ন খুৎবা দিয়েছি লেন যার মধ্যে দ্বীনের সার্বিক দিক সম্পর্কে কথা ছিল । তাঁর এরূপে মসজিদে আসাটা কি আমাদের কাছে দলিল নয় যে , বোরকা হচ্ছে পর্দার উত্তম পন্থা এবং মুসলমান নারীদের কি উচিৎ নয় তাঁর হিজাবকে সব থেকে উত্তম হিজাব হিসেবে মনে করা ? এবং পুরুষদের কি উচিৎ নয় যে , নারীদেরকে বিশেষভাবে তাঁর হিজাবের প্রতি উৎসাহী করে তোলা ?194
তিনি এমনই এক অসাধারণ রমনী ছিলেন যার ব্যাপারে ওস্তাদ শহীদ মোতাহহারী ( রহ .) বলেন : নবী ( সা .) আলী ( আ .) ব্যতীত অন্য কোন পুরুষই হযরত ফাতিমা ( আ .)- এর সমমর্যাদায় পৌঁছাবে না । তিনি তাঁর সন্তানগণ যারা হচ্ছেন ইমাম এবং অন্যান্য সকল নবিগণের থেকেও উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ।195
হযরত ফাতিমা ( আ .) নবী ( সা .)- এর স্ত্রীগণ এবং মুসলমান নারীদের অনুসৃত পথ , কোরআনের আয়াত ও ইমামদের হতে বর্ণিত রেওয়ায়েত সমূহ হতে যদি চাদর পরিধান ফরজ তা প্রমাণ নাও করা যায় তবে অন্ততপক্ষে তা যে পর্দার ক্ষেত্রে অন্য পোশাকের উপর প্রাধান্য পায় ও সেটি পরিধান করা যে মুসতাহাবে মুয়াক্কাদ ( যে মুস্তাহাব পালনের জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে ) তা প্রমাণ করা সম্ভব ।
হে মুসলমান বোনেরা ! আপনাদের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব জুড়ে যেহেতু হযরত ফাতিমা ( আ .) ও তাঁর পিতা নবী ( সা .) এবং তাঁর প্রিয় স্বামী হযরত আলী ( আ .) ও তাঁর সন্তানগণের ( আ .) প্রতি ভালবাসা রয়েছে এবং তাদের নির্দেশিত ও অনুসৃত পথ হচ্ছে ইসলামেরই পথ , সে পথে চলার জন্যে সব কিছু পরিত্যাগ করতে আপনারা প্রস্তুত ; যা আপনারা অতীতেও প্রমাণ করেছেন তাই বোরকাকে উত্তম আবরণ হিসেবে গ্রহণ করুন । আর এই কাজের মাধ্যমে হযরত ফাতিমা ( আ .) - এর অন্তরকে প্রশান্তিতে ভরে দিন এবং শত্রুদেরকে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করা থেকে নিরাশ করুন । আমাদের সমাজে অবশ্যই বোরকা মূল্যবোধের প্রতীক হওয়া উচিৎ । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নারীদের জন্য চাদরকে আদর্শ পোশাক হিসেবে নির্বাচন করা উচিত এবং কর্মস্থলগুলোতে দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে বোরকা পরিহিতা নারী কর্মচারীদেরকে বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করা অতি প্রয়োজন । আর যারা ভুল ক্রমে অজ্ঞতাবশত শত্রুদের অনুসরণে চলতে শুরু করছে তাদেরকে হয় বুঝাতে হবে নয়তো তিরস্কার করতে হবে । যাতে করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় ।
4- কালের প্রেক্ষাপট :
বর্তমানে ইসলামের শত্রুরা বিভিন্ন ভাবে হারাম বিষয়ের নিকৃষ্টতার ধারণা , লজ্জা এবং সতীত্বের মর্যাদা ও বোরকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে চায় । তাই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুবকদের বুঝাতে চায় যে , পাশ্চাত্যের পোশাকের মধ্যেই সভ্যতা , ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ নিহিত রয়েছে । এরূপ পরিস্থিতিতে অবশ্যই মুসলমান নারী ও তরুণীরা হুসিয়ার থাকবেন এবং বোরকার মাধ্যমে তাদেরকে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিবেন এবং অন্যদেরকেও বোরকা পরার জন্য উৎসাহ প্রদান করবেন ।
হয়তো কারো কারো ধারণায় এটা আসতে পারে যে , বর্তমান সময়ের দাবী হচ্ছে এমন যে , যতটুকু পর্যন্ত হিজাব করা ওয়াজিব ততটুকু পরিমান করলেই যথেষ্ট হবে । আর এ ব্যাপারে বেশী কঠোরতা করা ঠিক হবে না ।
এরূপ ভাবাটা ঠিক নয় । কেন সব সময় বিষয়ের নেতিবাচক দিকে দৃষ্টি দেয়া হয় এবং ইতিবাচক দিকে দৃষ্টি দেয়া হয় না , যখন কিনা শত্রু পক্ষ এই ইতিবাচক দিকটা ধ্বংস করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে । আমরা অব্যশই সেটাই করব যা শত্রুকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দেয় । আর বোরকা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে একটি । ইসলামী বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে কঠোরতা করা ঠিক হবে না জাতীয় কথা বলে শতকরা কতজন নারী নিজে থেকেই পরিশুদ্ধ হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমানেই কেবল বর্তমানে (ইরানের অনেক শহরে) অবশিষ্ট রয়েছে ? শুধু তাই নয় , ঐ কথার কারণে তাদের সুযোগের অসদ্ব্যবহারের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে । আর দিনের পর দিন তাদের ঔদ্ধত্য ও নোংরা কাজের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাদের অপকর্ম শহীদ ও বিপ্লবীদের অন্তরে ক্ষত সৃষ্টি করছে । অন্যদিকে সঠিক জ্ঞানের অভাব , অসচেতনতা এবং ঐ কথাগুলোর কারণেই অনেকের মধ্যে ঈমানের দুর্বলতা এসেছে এবং অজ্ঞ মেয়েদের তিরস্কারের ভয়ে অনেক বোরকা পরিহিতা এখন বেপর্দা হয়ে গেছে । এমনও দেখা যায় যে , তাদের মা চাদর পরেছে এবং ধার্মিক কিন্তু মেয়ে এরূপ নয় । আর এমন কাজ শত্রুদের পথকে পরিষ্কার করে থাকে এবং আমাদেরকে আমাদের সৎ উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় । অথচ আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছানো । ইসলামের শত্রুরা ফিতনা-ফ্যাসাদ , নোংরামো , নৈতিকতা বিরোধী অসামাজিক এবং পাপ কাজের প্রচলনের মাধ্যমে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে চায় । তাই চাদর , বড় ওড়না ও বোরকার আবরণ পরিত্যাগ করানোটাই হচ্ছে তাদের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য যার মাধ্যমে সমাজে অশ্লীলতার বিস্তার ঘটানো যায় । তাই ফারানতিস ফানুন আলজিরিয়ার ব্যাপারে বলেছে :
“ যে বোরকাটাই দূরে ছুড়ে ফেলা হবে , তার মাধ্যমে এমন এক নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে যা ছিল এতদিন নিষিদ্ধ ” ।196
আমাদের অবশ্যই এটা জানা থাকা দরকার যে , শত্রুরা কোন প্রকার আবরণই - চাই তা বোরকা , মানতু বা অন্য কিছু - পছন্দ করে না । যা কিছু তারা পছন্দ করে তা হচ্ছে উলঙ্গপনা , বেহায়াপনা এবং সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া , আর এর মাধ্যমে ঐ দেশের উপর আধিপত্য কায়েম করা । তাই বোরকা পরিত্যাগ করানোর মাধ্যমে তাদের অপচেষ্টা শুরু করেছে এবং এর মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় ।
ঐ সব ব্যক্তি যাদের সংখ্যা অত্যন্তকম তারা পরিপূর্ণ আবরণের বিপক্ষে বিভিন্ন রকম অপযুক্তি দিয়ে থাকে । আমাদেও বুঝতে হবে তখনই তারা আমাদের উপর সন্তুষ্ট‘ হবে যখন তাগুত সরকারের সময়কার পরিবেশের অনুরূপ বা তার থেকেও জঘন্যতম পরিবেশ সৃষ্টি হবে । কেননা যখন অন্তর কালো ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায় তখন যে ইসলামী আহ্কামের সম্পূর্ণটাই হচ্ছে নূরানী তা তাদের অন্তরে আর প্রবেশ করে না । তাই ইমাম আলী (আ.) ঐ সংখ্যালঘুদেরকে ছেড়ে দিয়ে সর্বসাধারণকে নৈতিকতা শিক্ষা দানে রত হয়েছেন । আর সে কারণেই আমাদেরও উচিৎ হচ্ছে অবশ্যই ঐ মহান ব্যক্তির পদ্ধতিকে অনুসরণ করা । অন্যথায় ঐ প্রবৃত্তিপূজারী অমানুষরা ঐ বৃহৎ জনসমষ্টির উপরও প্রভাব বিস্তার করবে এবং আস্তে আস্তে এমন এক সময় আসবে যে , আমরা দুই পক্ষকেই হাত ছাড়া করব ।197
মহান আল্লাহ্ নবী (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন :
) وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَى(
কখনোই ইয়াহুদ ও নাছারা তোমার উপর সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ পর্যন্তনা (তাদের অসৎ চাওয়া-পাওয়ার কাছে পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করছো এবং তাদের দীনের (ভ্রান্ত দীনের) অনুসরণ করছো । (হে আমার নবী!) বলে দাও যে , মহান আল্লাহর পথই হচ্ছে একমাত্র সঠিক পথ ।198
প্রশ্ন : কর্মস্থলে বোরকা কি দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে নারীদেরকে বাধার সম্মুখীন করে ?
উত্তর: প্রথমত যে কোন জিনিসই মানুষ ব্যবহার করে থাকে তা কোন কষ্ট ব্যতীত সম্ভব নয় । যেমন ধরুন খাদ্য গ্রহণ ও পানি পান করা । কিন্তু খাদ্য গ্রহণ ও পানি পান করার কারণে যে বড় উপকার আমাদের হয় সেজন্য ঐ কষ্ট , কষ্ট বলে মনে হয় না । উপরোল্লিখিত আলোচনাতে আমরা বোরকার ব্যাপারে যে সকল দলিল পেশ করেছি তাতে প্রমাণ করেছি যে , বোরকা পরাতে তেমন কোন কষ্ট হওয়ার কথা নয় ; কারণ তাতে রয়েছে কষ্টের তুলনায় অধিক উপকার ।
দ্বিতীয়ত এমন অনেক বোরকা আছে যা পরা অনেক সহজ এবং হাতও স্বাধীন থাকে যার মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজ করতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয় । নারী কর্মস্থলে কাজের সময় এই ধরনের বোরকা ব্যবহার করতে পারেন ।
তৃতীয়ত বিশ্বে এমন অনেক নারী আছেন যারা এই বোরকা পরেই কাজ করে যাচ্ছেন এমন কি সাংবাদিকতা , টেলিভিশনের উপস্থাপনা ও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ । তাদের তো বোরকা পরেও কাজ করতে কোন অসুবিধা হয় না ।
যা কিছু উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তাতে এটা পরিস্কার হয়ে গেছে যে , বোরকা ও চাদর হচ্ছে হিজাব করার সব থেকে উত্তম উপায় । আর যাদের পরিপূর্ণ জ্ঞান ও ঈমান আছে তারা বোরকা ও চাদরের উপকার সম্পর্কে জানেন তাই একেই পর্দা হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন এবং অন্যদের অহেতুক ও ভিত্তিহীন কথায় কান দেন না । তাই বোরকা সম্পর্কে ভিত্তিহীন কথা বলাটা হচ্ছে এক ধরনের বাহানা । প্রকৃতপক্ষে কথা হচ্ছে যখন ঈমান ও ধর্মীয় বিশ্বাস দুর্বল হয়ে যায় তখনই মানুষ বাহানা করে থাকে যাতে করে আল্লাহ্ তা ’ য়ালার আদেশ-নিষেধ মানা থেকে দূরে সরে যেতে পারে ।
বোরকা পরিহিতা নারীর উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথা
1- মুসলমান বোনেরা এর প্রতি দৃষ্টি রাখবেন যে , বোরকা হচ্ছে সব থেকে উত্তম আবরণ কেননা তার রয়েছে অনেক উপকার । তবে তখনই তা তার পক্র ৃত মূল্য পায় যখন নারীরা তা দিয়ে নিজেদেরকে পরিপূর্ণভাবে আবৃত করে । আর যদি আল্লাহ না করুন এমন হয় যে , একেবারে পাতলা কাপড়ের বোরকা পরে বাইরে আসে অথবা মাথা খোলা , বুক খোলা এবং হাতা ছোট জামা পড়ে বাইরে বের হন তবে বড় ধরনের পাপে লিপ্ত হলেন । কোন মু ’ মিন নারীর পক্ষে ঐরূপ কাজ করা মর্যাদাকর নয় ।
বরং বোরকা পরার সাথে সাথে মস্তকাবরণ এবং হাতা লম্বা পোশাক ও পায়ে মোটা মোজা পরে বাড়ীর বাইরে আসবেন এবং প্রয়োজনে এ পোশাকেই নামাহরামের সাথে কথা বলবেন এতে আল্লাহ তা ’ য়ালা সন্তুষ্ট হবেন । আর এর মাধ্যমে বাহানাকারীদের দিনের পর দিন বাহানা করার পথরোধ করবেন ।
2- নারীরা অবশ্যই চেষ্টা করবেন বিশেষ করে যারা যুবতী মেয়ে এবং বাড়ির বাইরে থাকেন অবশ্যই যেন বোরকা ব্যবহার করেন । আর তারা যদি পরিপূর্ণভাবে নিজেদেরকে আবৃত করেন তবে তো তাদের জন্যই ভাল । আর এই ধরনের নারীদেরই ইবাদত ও পর্দার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন । কেননা অন্যদের থেকে তারা বেশী শয়তানের ধোকার সম্মুখীন হন । তারা গোনাহ্ করার ক্ষমতা বেশী রাখে তাই ইবাদত ও পর্দা হচ্ছে গোনাহর সম্মুখে একটি বাঁধ সরূপ , যাতে করে শয়তানের ধোকা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ।
হযরত ফাতিমা (সালামুল্লাহ আলাইহা)-এর শিক্ষা
আসমা বিনতে উ ’ মাইস বলেন : একদিন হযরত ফাতিমা (আ.) আমাকে বললেন :“ আমি মদীনার মানুষদের অনুসৃত পদ্ধতির (যেমন তারা তাদের স্ত্রীদের মৃত্যুর পর তাদেরকে এমন ভাবে দাফন করার জন্য নিয়ে যায় যে মৃতদেহের উপর শুধুমাত্র এক খণ্ড কাপড় থাকে যার নিচ দিয়ে ঐ মৃতের শরীর দেখা যায়) প্রতি অসন্তুষ্ট ।
আসমা বলল : আমি আবিসিনিয়ায় (বর্তমান ইথিওপিয়া) এমন কিছু দেখেছি যাতে করে তারা মৃত ব্যক্তিদেরকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল । তারপর সে খেজুর গাছের শক্ত শাখা দিয়ে একটি তাবুত (খাটিয়া) তৈরী করল এবং পরবর্তীতে ঐ তাবুতের চারপাশে কাপড় দিয়ে ঘিরে দিল । সে আরো বলল যে , আবিসিনিয়ার লোকেরা মতৃ দেহটিকে এমন একটি তাবুতের মধ্যে শুইয়ে দেয় যাতে করে ঐ মৃত দেহটি দেখা না যায় ।
হযরত ফাতিমা (আ.) যখন সেটি দেখলেন তখন তিনি বললেন : এটা অতি উত্তম আমি যখন মৃত্যুবরণ করব তখন আমাকে এইরূপ কিছুতে করে নিয়ে যাবে ।
ইমাম সাদিক (আ.) বলেন :
ইসলামে প্রথম যার পবিত্র মৃতদেহটি তাবুতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তিনি হচ্ছেন হযরত ফাতিমা (আ.) ।199
ইবনে আব্বাস বলেন : যখন হযরত ফাতিমা (আ.) (তার উপর আপতিত বিভিন্নরূপ মুসিবত ও নির্যাতনে) অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন তিনি আসমাকে বলেন : আমার জানাযাটি এমন ভাবে নিয়ে যেও না যাতে করে আমার শরীরের আকৃতি বাইরে থেকে বুঝা যায় । আসমা বিনতে উ ’ মাইস খেজুর গাছের শাখা দিয়ে তাঁর জন্য একটি তাবুত তৈরী করেছিল এবং সেটাই ছিল ইসলামের প্রথম তাবুত । যখন হযরত ফাতিমা (আ.) তা দেখলেন তখন একটু মুচকি হেসে ছিলেন । এ সম্পর্কে আসমা বলেন , রাসূল (সা.) ওফাতের পর থেকে ঐ দিন পর্যন্ত তাকে এত খুশি দেখি নি । তারপর তাঁর পবিত্র জানাযাটি তাতে করে রাতে নিয়ে যাওয়া এবং দাফন করা হয় ।200
হিজাব সম্পর্কে আমিরুল মু’ মিনিন হযরত আলী (আ.)-এর অতি মর্যাদা সম্পন্ন কন্যার কথা
হযরত জয়নাব (আ.) সিরিয়ার দামেস্ক শহরে অভিশপ্ত ইয়াযিদকে উদ্দেশ্য করে বলেন :
এই মুক্তি প্রাপ্ত লোকের ছেলে (ইয়াযিদ) এটা কি ন্যায়পরায়ণতা যে , নিজের স্ত্রী ও কাজের মেয়েদেরকে ভাল স্থানে পর্দার মধ্যে রাখবে আর রাসূল (সা.)-এর কন্যাদেরকে বন্দী , উম্মুক্ত মুখ মণ্ডল ও পর্দাহীন অবস্থায় তাদের শত্রুদের সাথে এ শহর থেকে ও শহরে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াবে এবং সেসব স্থানের লোকজন তাদেরকে দেখবে আর কাছের ও দূরের খারাপ ও ভাল (সকল প্রকৃতির) লোক তাদের চেহারার উপর দৃষ্টি ফেলবে ?201
হযরত যয়নাব (আ.) কারবালার ঐ মর্মান্তিক ঘটনা যার মত বড় শোকাবহ ঘটনা পৃথিবীতে ঘটে নি সেই মসিবতের মধ্যেও তিনি নারীদের পর্দার প্রতি ইশারা করেছেন । ঐ সময়ে তাকে যে বিষয়টি বেশী পীড়া দিয়েছে এবং অন্তরে জালার সৃষ্টি করেছিল তা হচ্ছে বেপর্দা অবস্থায় নামাহরামদের সামনে থাকাটা । হে মুসলমান নারীরা হযরত জয়নাবের এই কাজটি আমাদের জন্য শিক্ষা স্বরূপ নয় কি ? হে আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন যুবকরা! পৌরুষত্বের অধিকারী কেউ কি এটা মেনে নিতে পারে যে , তাদের স্ত্রী , কন্যা , বোন ও নারীরা পাতলা পোশাক পরে নামাহরামদের দৃষ্টিতে পড়ুক এবং তার মাধ্যমে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি হোক ?
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কন্যার কাছ থেকে হিজাব ও সচ্চরিত্রতার শিক্ষা
শহীদদের সর্দার ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর বিশ্বস্ত সাহাবাদের শাহাদতের পর তাঁর পরিবারবর্গের তাঁবুর উপর শত্রুপক্ষ আক্রমণ চালায় এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তাদের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালায় । এর সাথে সাথে তারা ইমাম হুসাইন (আ.) -এর স্ত্রী ও কন্যাদের চাদর ও অলঙ্কার সমূহ চুরি করে নিয়ে যায় । এই করুণ ঘটনার পর ইমাম হুসাইন (আ.) -এর কন্যা পিতার মৃতদেহের পাশে এসে অন্তরের ব্যথা জানিয়ে শহীদদের সর্দারকে বলে:
প্রিয় পিতা , দেখ শত্রুরা আমাদের সাথে কী করেছে , আমাদের মাথাগুলো অনাবৃত অবস্থায় আছে । আমাদের অন্তরসমূহে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে , আমার ফুফু জয়নারকে তারা মেরেছে ।202
উম্মে কুলসুম , হযরত আলী (আ.)-এর কন্যা শিমারকে উদ্দেশ্য করে বলেন :
যখন আমাদেরকে শামে (সিরিয়ায়) নিয়ে যাবে তখন আমাদেরকে এমন একটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করাবে যেখানে খুব কম লোক আমাদেরকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে আছে যাতে করে আমাদেরকে খুব কম লোকে দেখে । আর বলে দাও : এই কাটা মাথাগুলো (ইমাম হুসাইন ও অন্যান্য শহীদের মাথা) যাতে উটের পিঠের হাওদার বাইরে না নিয়ে যায় কারণ ঐ মাথাগুলোর কারণে মানুয়ের দৃষ্টিসমূহ সেদিকে নিবদ্ধ থাকে এবং আমাদের দিকে না পড়ে । কেননা আমরা নামাহরামদের দৃষ্টির কারণে অনেক কষ্ট ও আজাব ভোগ করেছি ।203
কিন্তু শিমার তা করল না এই কারণে যে , রাসূলে খোদা (সা.) -এর পরিবারবর্গ যেন আরো বেশী কষ্ট পায় ।
যেহেতু ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কন্যার মহান পিতা , চাচা ও ভাইয়েরা শহীদ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনিসহ নবী পরিবারের অন্যরা তাদের শত্রু যেমন ওমর ইবনে সা ’ দ ও শিমারের মত পাপিষ্ঠ ও অত্যাচারীদের হাতে বন্দী ও অত্যাচারিত হয়েছিলেন এবং শত্রুরা তাদের তাঁবুতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল ও সব কিছু লুট করে নিয়েছিল , ক্ষুধা-পিপাসায় এবং আরো অন্যান্য মুসিবত যা বলার নয় তাদের উপর আপতিত হয়েছিল যা তার অন্তরে যন্ত্রণার সৃষ্টি করেছিল এবং তার সারা শরীর ব্যথায় কাতর হয়ে গিয়েছিল । এমতাবস্থায় তার কাছে যে বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা হচ্ছে উম্মুক্ত চুলে না মাহরামদের সামনে থাকাটা ।
হে মুসলমান নারীরা , ইমাম আলী (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.) -এর এই দু ’ কন্যার কাজ ও আচরণ কী হিজাবের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় না ? অবশ্যই গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় । মুসলমান নারী ও মেয়েদের উদ্দেশ্যে তিনি এই কথাই বলেছেন যে ,“ যদি সব প্রিয়জন , ধন-সম্পদ ও নিজের জীবনকে তোমার সত্য বিশ্বাসের পথে বিসর্জন দিতে হয় তবুও তোমার দ্বীন ও পর্দাকে বিসর্জন দিও না । তাই তো তিনি বলেন : যে কোন মুসিবতকে সহ্য করা সম্ভব কিন্তু বেপর্দা অবস্থায় নামাহরামের দৃষ্টিতে পড়া সহ্য করা যায় না ।
হাউলার হাদীস
হাউলা হলেন আত্তারাহ্ নামের এক লোকের স্ত্রী , সে রাসূল (সা.) -এর সময়ে জীবন-যাপন করত । একদিন তার স্বামী তাকে কোন ব্যাপারে নির্দেশ দিল , কিন্তু সে তার স্বামীর নির্দেশ মানতে আপত্তি জানালো । এর ফলে তার স্বামী খুব রাগান্বিত হয় । পরবর্তীতে সে তার স্বামীর কাছে উক্ত ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে , কিন্তু তার স্বামী তার ক্ষমা প্রার্থনার প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপই করলো না ।
সে তখন রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে উক্ত ঘটনার বর্ণনা দিল । সব শুনে রাসূল (সা.) হাউলাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা দিলেন , যা আমরা নিম্নে লক্ষ্য করব ।
1- যে নারী তার স্বামীর দিকে রাগের দৃষ্টিতে তাকায় তার উপর আযাব :
হে হাউলা , যে নারী রাগান্বিত ভাবে তার স্বামীর দিকে তাকায় কিয়ামতের দিনে ঐ চোখে জাহান্নামের আগুনের ছাই দিয়ে সুরমা লাগানো হবে ।204
2- যে নারী তার স্বামীর কথা শোনে না তার উপর আযাব :
রাসূল (সা.) বললেন : হে হাউলা , সেই খোদার কসম যিনি আমাকে রাসূল হিসেবে মনোনীত করেছেন , যে নারী তার স্বামীর (যুক্তিযুক্ত) কথা গ্রহণ করে না , তাকে কিয়ামাতের দিনে তার জিহ্বা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হবে এবং তার দুই ঠোঁটকে আগুনের তৈরী পেরেক দিয়ে সেলাই করে দেয়া হবে ।205
কিয়ামতের দিনে মানুষকে একদিকে যেমন দলে দলে বিভক্ত করা হবে তেমনি এই দুনিয়ায় তাদের কর্মের অভ্যন্তরীণ সত্য ও প্রকৃত স্বরূপও সে দিন প্রকাশ করা হবে । তাই যে নারী তার স্বামীর আনুগত্য না করবে এবং তার কথা মেনে না চলবে প্রকৃতপক্ষে ঐ নারী জাহান্নামের আগুনের শিখাকে দ্বিগুণ করে । এমন ধরনের পরিবার এই দুনিয়াতেও প্রতিকূলতার মধ্যে থাকে এবং তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে রাখে ও তা থেকে কোন আনন্দই উপভোগ করতে পারে না ।
3- যে নারী তার স্বামীকে কষ্ট দেয় তার উপর আযাব :
হে হাউলা , ঐ সত্তার কসম যিনি আমাকে রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন ; যে নারী হাত উঠায় এবং চায় যে , তার স্বামীর মাথা থেকে একটি চুল ছিড়ে নিতে অথবা তার পোশাক ছিড়ে ফেলতে আল্লাহ তা ’ য়ালা ঐ নারীর দুই হাত আগুনের তৈরী পেরেক দিয়ে সেলাই করে দিবেন ।
যদি কোন নারী তার স্বামীর থেকে শারীরিক গড়নে শক্তিশালী হয় তবুও সে তার স্বামীকে কষ্ট দেয়ার অধিকার রাখে না । আর যদি তেমন কাজ করে আল্লাহ তা ’ য়ালা যে ওয়াদা দিয়েছেন তাকে সেই আযাব দান করবেন । অনুরূপভাবে পুরুষও স্ত্রীকে মারার অধিকার রাখে না । তাই রাসূল (সা.) বলেছেন :
যে পুরুষ তার স্ত্রীকে একটি চড় মারবে আল্লাহ তা ’ য়ালা জাহান্নামের আগুনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাকে নির্দেশ দিবেন যে , 70 টি আগুনের চড় ঐ পুরুষের গালে মারতে এবং যে পুরুষ হাত নামাহরাম নারীর চুলে হাত দিবে কিয়ামতের দিনে ঐ হাত জাহান্নামের আগুন দিয়ে তৈরী পেরেক দিয়ে সেলাই করে দেয়া হবে ।206
ইসলাম কোন বিশেষ দলের পক্ষে নেই বরং তাতে যা কিছু জরুরী বা প্রয়োজনীয় তার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে । তাই বলা হয়েছে যে , সঠিক সম্পর্ক ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষায় স্বামী স্ত্রীর উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে । ইসলাম তাই উভয় পক্ষের জন্যেই সম্মান-মর্যাদা ও অধিকার এবং দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছে ।
শারীরিক গড়ন অনুসারে নারী যেহেতু পুরুষের থেকে দুর্বল এবং ইতিহাসের সাক্ষ্য অনুযায়ী তার উপর অত্যাচার হয়েছে সেহেতু এই দৃষ্টি ভঙ্গির উপর ভিত্তি করে প্রিয় ইসলাম নারীদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রচুর সুপারিশ করেছে এবং তাদের প্রতি অত্যাচার না করার জন্য বলেছে ।
4- যে নারী স্বামীর বিনা অনুমতিতে ঘরের বাইরে যায় তার উপর আযাব :
হে হাউলা , কসম আল্লাহর যিনি আমাকে রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন । যে নারী তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাড়ির বাইরে যায় এবং কোন বিয়ের অনুষ্ঠান অথবা অন্য কোন দাওয়াতে উপস্থিত হয় , আল্লাহ্ তা ’ য়ালা তাকে ডান দিক থেকে চল্লিশ বার এবং বাম দিক থেকে চল্লিশ বার সামনের দিক থেকে চল্লিশবার অভিসম্পাত দিয়ে থাকেন । আর তার সম্পূর্ণ অস্তিত্বকে আল্লাহর অভিসম্পাত ঘিরে ফেলে এবং সে যে কয়টি পদক্ষেপ ফেলবে তার জন্য চল্লিশ বছর ধরে চল্লিশটি করে গোনাহ্ লিখে থাকেন ।
আর যখন সে চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হয় ততদিন পর্যন্ত যত পুরুষ তার কণ্ঠ ও কথা শুনতে পাবে তাদের সংখ্যা পরিমাণ তার জন্য গুনাহ লেখা হবে এবং তার দোয়াও কবুল হবে না । তবে তার স্বামী যদি সে যতগুলো দোয়া করেছে তার দোয়ার পরিমানে তার জন্য তওবা করে অর্থাৎ ক্ষমা প্রার্থনা করে । আর তার স্বামী যদি তার জন্য তওবা না করে তবে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আল্লাহ তা ’ য়ালার অভিসম্পাত চলতে থাকবে এবং সে তাঁর রহমত থেকে দূরে থাকবে ।207
এই হাদীসটি যে ক্ষতির সংকেত দিচ্ছে তা হচ্ছে :
প্রথমত : নারী যেন তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাড়ীর বাইরে না যায় । তবে কোন ওয়াজিব বিষয় ব্যতীত যেমন : হজ্জ ও ।
দ্বিতীয়ত : সে এমন অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে যখন আল্লাহ তা ’ য়ালার অভিসম্পাত তার উপর চলতে থাকবে এবং তাঁর রহমত থেকে দূরে থাকবে ।
তৃতীয়ত : ডান ও বাম থেকে লানত দেয়ার অর্থ হচ্ছে যে , আল্লাহ তা ’ য়ালা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান না । আর এটাই সব থেকে বড় মুসিবত যে , আল্লাহ তা ’ য়ালা তাঁর বান্দার দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন ।
চতুর্থত : নারী যেন তার স্বামীর এবং কন্যা যেন তার পিতার বিনা অনুমতিতে বাড়ীর বাইরে না যায় এবং কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে অথবা কোন দাওয়াতে । যদি এ ধরণের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ও সেখানে পাপ কাজ হয় তবে তার উচিত হবে সেখানে ইসলামের নির্দেশিত সঠিক পথে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করা এবং তা করতে অক্ষম হলে সেখান থেকে চলে আসা ।
আল্লাহ্ জানেন যে , অনেক বড় ধরনের গোনাহ্ এবং যুবক যুবতীর অবৈধ মেলামেশা , সংসার ধ্বংস হওয়া ও সন্তানরা অভিভাবকহীন হয়ে যাওয়াটা এই ধরনের অনুষ্ঠানের কারণেই হয়ে থাকে । আমরাও বহুবার এই ধরনের ঘটনাকে অতি নিকট থেকে লক্ষ্য করেছি ।
5- নারীর দেন-মোহরের পরিমান বেশী হওয়ার কারণে পাপ ও আযাব :
হে হাউলা , সেই আল্লাহর কসম করে বলছি যিনি আমাকে নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন । যে নারী তার দেন-মোহরকে বেশী করে থাকে যার কারণে তার স্বামীর উপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয় ; আল্লাহ তা ’ য়ালা কিয়ামতের দিনে তার জন্য জাহান্নামের আগুন দিয়ে তৈরী শিকলগুলোকে আরো ভারী করে দিবেন ।208
ইসলাম নারীর জন্য দেন-মোহরকে নির্ধারণ করেছে । আর স্বামীর জন্য ওয়াজিব যে , তা যেন পরিশোধ করে । (যার আলোচনা এই বইয়ের নারীর মর্যাদা নামক অধ্যায়ে বলা হয়েছে) কিন্তু দেন মোহরের পরিমান যেন এমন বেশী না হয় যাতে করে তা কোন খারাপ প্রভাবে ফেলে । অপ্রিয় হলেও সত্য যে , কেউ কেউ এমন চিন্তা করে থাকে যে , দেন- মোহর বেশী হলে তার কন্যার মর্যাদা বেশী হবে । কিন্তু যদি তার পরিমান বেশী হয় তবে এমনও হতে পারে যে , যুবকরা বিয়ের ধারে কাছেই যাবে না । আর তার ফলশ্রুতিতে যুবক যুবতীর মধ্যে অবৈধ মেলা-মেশার পরিবেশ সৃষ্টি হবে । অবশ্য যখন কোন ব্যক্তি কারো কন্যার জন্যে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবে তখন অবশ্যই তাকে নৈতিকতা এবং দ্বীনের মানদন্ড অনুযায়ী পরীক্ষা করা ও তার কাছ থেকে দেন-মোহর নেয়া উচিত । যাতে করে অসৎ চরিত্রের পুরুষরা নারীদেরকে প্রতিনিয়ত কষ্ট ও অসহায় অবস্থায় না ফেলতে পারে ।
যে বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং যে বিষয়টির প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিত তা হচ্ছে যে , যেরূপে রাসূল (সা.) বলেছেন : দ্বীন ও নৈতিকতার বিষয় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা ব্যক্তির জন্য বিশেষ বিবেচ্য । কেননা যদি তার দ্বীন ও নৈতিকতা না থাকে তবে জীবন হয়ে উঠবে জাহান্নাম । যদিও তার প্রচুর পরিমানে ধন-সম্পদও থেকে থাকে । এই বিষয়গুলোর সাথে দেন-মোহরের বিষয়টিও বিশেষভাবে লক্ষণীয় এবং কন্যা দানের সময় অবশ্যই ছেলে এবং তার পরিবারের বিষয়ে খোঁজ খবর করা প্রয়োজন যাতে করে দুশ্চরিত্র পাত্র হতে রক্ষা পাওয়া যায় ।
সার সংক্ষেপ হচ্ছে যে , দুনিয়াবী বিষয়ের প্রতি যতই লক্ষ্য দেয়া হবে জীবনের ভিত্তি ততই দুর্বল হয়ে যাবে এবং তার ধ্বংস নিকটবর্তী হয়ে আসবে । আর যতই নৈতিক দিককে গুরুত্ব দেয়া হবে এবং আল্লাহ তাবারাক ওয়া তা ’ য়ালার নিকটবর্তী হওয়া যাবে ততই জীবন হয়ে উঠবে আলোকময় ও সুন্দর এবং তার স্থায়িত্বও বেশী হবে ।
6- যে নারীর দেন-মোহর স্বামীর ঘাড়ে থেকে যায় তার উপর আযাব :
হে হাউলা , তাঁর কসম যিনি আমাকে রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন । যে নারী দেন-মোহরকে ইচ্ছা করে তার স্বামীর কাছে থেকে নিতে দেরী করে এ উদ্দেশ্যে যে , তা যেন কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তার স্বামীর উপর থাকে ; আল্লাহ তাবারাক ওয়া তা ’ য়ালা তাকে দুনিয়ায় লাঞ্ছিত করে এবং আখিরাতে তার জন্য আরো বড় ধরনের আযাব অপেক্ষারত । যদি তারা জেনে থাকে ।209
এই হাদীসের সারমর্ম হচ্ছে যে , পুরুষ মরে যাওয়ার পরে যেন তার স্ত্রীর কাছে ঋণী না থাকে । নারী তার স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় তার কাছে থেকে হয় দেন-মোহর নিয়ে নিবে অথবা তা ক্ষমা করে দিবে । দেন-মোহর ক্ষমা করে দেয়াটা হচ্ছে একটি মুসতাহাব কাজ ।
7- যে নারী স্বামীর বিনা অনুমতিতে মুসতাহাব রোযা রাখে তার উপর আযাব :
হে হাউলা , তাঁর কসম যিনি আমাকে রিসালাত সহকারে নবী নিযুক্ত করেছেন । যে নারী তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে মুসতাহাব রোযা রাখে সে গোনাহ্গার হিসেবে চিহ্নিত হবে । তবে রমযান মাসের কাযা রোযা এবং মানতের রোযা ব্যতীত ।210
8- নারীর অনুমতি নেই যে , সে তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে তার অর্থ দিয়ে ছাদকা দিবে বা কাউকে দান করবে :
হে হাউলা , কসম সেই খোদার যিনি আমাকে নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন । এটা সমীচিন নয় যে , নারী তার স্বামীর ঘর থেকে কোন কিছুকে ছাদকা হিসেবে দিবে , যতক্ষণ পর্যন্ত তার স্বামীর অনুমতি না নিচ্ছে । আর যদি সে এই কাজটি স্বামীর বিনা অনুমতিতে করে থাকে তবে তার ছওয়াব স্বামী পাবে এবং তার ভাগ্যে শুধুমাত্র গোনাহ্ ব্যতীত অন্য কিছুই জুটবে না ।
আর যদি স্বামী অনুমতি দেয় বা তার নিজের সম্পদ হয় তবেই তা গ্রহণযোগ্য হবে ।211
9- স্ত্রীর উপর স্বামী সন্তুষ্ট বা রাগান্বিত হলে আল্লাহ তা ’ য়ালাও সন্তুষ্ট বা রাগান্বিত হন :
হে হাউলা , ঐ আল্লাহর কসম যিনি আমাকে নবী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন । যদি স্বামী তার স্ত্রীর উপর সন্তুষ্ট থাকে তবে আল্লাহ তা ’ য়ালাও ঐ নারীর উপর সন্তুষ্ট থাকেন । আর যদি স্বামী তার স্ত্রীর উপর রাগান্বিত থাকে তবে আল্লাহ তা ’ য়ালা ও ফেরেশতাগণও ঐ নারীর উপর রাগান্বিত হন ।212
10- যে নারী তার স্বামীকে রাগান্বিত করে তার আযাব :
হে হাউলা , কসম সেই আল্লাহর যিনি আমাকে রিসালাত ও নবুওয়াত দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং হেদায়েত প্রাপ্তগণের মধ্যে স্থান দিয়েছেন । যখন স্বামী তার স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হয় আল্লাহ তা ’ য়ালাও ঐ নারীর উপর রাগান্বিত হন এবং কিয়ামতের দিনে উল্টা দিকে ফিরিয়ে জাহান্নামের শেষ স্তরে যেখানে মুনাফিকরা (মুনাফিকরা জাহান্নামের সবচেয়ে নিম্নতম স্থানে থাকবে যে স্থানের নাম হচ্ছে দারাক) অবস্থান করবে সেখানে ফেলে দেয়া হবে । আর আল্লাহ তা ’ য়ালা এই নারীর উপর সাপ , বিছা , আফি (বিশাল বড় সাপ) ইত্যাদি ছেড়ে দিবেন এবং ঐগুলো নারীর শরীর ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে । আর কিয়ামতের দিনে ঐ সরীসৃপ জাতীয় বিশাল প্রাণীগুলো গাছ ও পাহাড়ের মত মজবুত থাকবে ।213
11- স্বামীর আনুগত্য করার সওয়াব :
হে হাউলা , যে নারী নামায আদায় করে এবং সংসারকে আঁকড়ে থাকে ও স্বামীর আনুগত্য করে মহান আল্লাহ তার অতীত এবং ভবিষ্যৎ সকল গোনাহ্ ক্ষমা করে দেন ।214
অবশ্য ভবিষ্যৎ গোনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে এর অর্থ এই নয় যে , সে ভবিষ্যতে ইচ্ছা মত গোনাহ্ করতে পারবে বরং এর অর্থ হচ্ছে যে , নারী যদি ইবাদত-বন্দেগি করে এবং অতি প্রয়োজনীয় কাজে স্বামীর অনুমতি নিয়ে বাড়ীর বাইরে যায় অর্থাৎ সব কিছুই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলে তবে ভবিষ্যতে যদি অসতর্কতাবশত সে গোনাহ্ করে তবে তার সে গোনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে । আর আল্লাহ তা ’ য়ালা তার ভুল-ত্রুটিগুলোকে আনুগত্য ও খেদমত হিসেবে হিসাব করবেন । আল্লাহ্ তাবারাক ওয়া তা ’ য়ালা বলেছেন :
) وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ(
দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের প্রথমভাগে নামায আদায় কর । নিশ্চয়ই ভাল কর্ম যেমন : নামায , রোযা ইত্যাদি মন্দ কর্ম সমূহকে দূর করে । এটা তাদের জন্যেই স্মারক যারা স্মরণ করে থাকে।215
উল্লিখিত পবিত্র আয়াত থেকে এটাই বুঝা যায় যে , যদি কোন ব্যক্তি গোনাহ্ করে থাকে এবং পরক্ষণেই প্রকৃত তওবা216 করে ও ভাল কাজ করে , তবে আল্লাহ্ তা ’ য়ালা ঐ ব্যক্তির গোনাহকে ভাল কাজে পরিবর্তন করে দেন । আর ভাল কাজ খারাপ কাজের প্রভাবকে ধ্বংস হওয়ার কারণ হয়ে থাকে ।
12- নারীর জন্য এটা জায়েয নয় যে , স্বামীর কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু দাবি করবে :
হে হাওলা , নারীর জন্য এটা জায়েয ও হালাল নয় যে , স্বামীর কাছে তার সামর্থের চেয়ে বেশী কিছু দাবি জানাবে এবং তার ব্যাপারে মানুষের কাছে চাই সে পরিচিত হোক অথবা অপরিচিত হোক অভিযোগ করবে ।217
উল্লিখিত রেওয়ায়েতটি আমাদেরকে যা শিক্ষা দেয় তা হচ্ছে প্রথমত যদিও স্বামী অবশ্যই তার স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দিবে কিন্তু যদি অর্থনৈতিক ভাবে তার সমস্যা আসে তবে স্ত্রীরও উচিত যে , ঐ সমস্যাকে মেনে নিয়ে স্বামীর সাথে মিলিতভাবে সমস্যার মুকাবিলা করা । কেননা স্ত্রী যদি তার স্বামীকে চাপের মুখে ফেলে তবে সে ঈমানের দুর্বলতার কারণে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের (যা হচ্ছে হারাম) দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে । আর এর মাধ্যমে স্বামীর মান-সম্মান হুমকীর মুখে পড়তে পারে ।
দ্বিতীয়ত স্ত্রীর অবশ্যই উচিত নয় যে , যা কিছু সংসারে ঘটছে বা ঘটে তা তার পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করবে । অন্যের সাথে স্ত্রীর এই সব কথা বলার কারণে সংসারে মতবিরোধের সৃষ্টি হতে পারে এবং ফলশ্রুতিতে সংসার জীবনে ফাটল ধরতে পারে এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে । কারণ সংসারে অপরিচিত কোন ব্যক্তির হস্তক্ষেপ মতপার্থক্যের সৃষ্টি করে থাকে । হ্যাঁ , স্বামী যদি খারাপ হয়ে থাকে তবে স্ত্রীর অধিকার রয়েছে যে , তার ব্যাপারে এমন ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ করতে পারবে যারা তাদের প্রতি প্রকৃতই সহানুভূতিশীল ও পারিবারিক বিষয়ে অভিজ্ঞ । যাতে করে ঐ সমস্যার অবসান ঘটে ।
13- সুখে ও দুঃখের সময়ে স্বামীর সাথে জীবন-যাপন করা হচ্ছে সওয়াবের কাজ :
হে হাউলা , স্ত্রীর জন্য এটা হচ্ছে ওয়াজিব যে , তার স্বামীর সুখের ও দুঃখের সময় ধৈর্যধারণ করবে ; যেমনভাবে হযরত আইয়ুব (আ.) -এর স্ত্রী 18 বছর ধরে তার স্বামীর উপর যে মুসিবত এসেছিল তাতে ধৈর্যধারণ করেছিল । তার স্বামীকে ঘাড়ে করে রাখতো এবং তার জন্য (যাঁতাকলে) গম ভেঙ্গে আটা তৈরী করতো । আর সেই আটা দিয়ে রুটি তৈরী করতো এবং স্বামীকে গোসল করাতো । স্বামীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতো এবং তিনি তা খেতেন । এতবড় মুসিবত আসার পরেও সে আল্লাহকে ভুলে যায় নি । তাঁর হামদ ও প্রশংসা করতো । তার স্বামীকে একটি আ ’ বায়(চাদরে) জড়িয়ে নিজের কাঁধে করে রাখতো । এগুলো সে শুধুমাত্র আল্লাহর পথে ভাল কাজ করার নিয়তে ও তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার জন্যই করেছিল ।218
14- নারীর দেহ কি পরিমান আবৃত থাকা প্রয়োজন :
হে হাউলা , তোমার সৌন্দর্য্যকে স্বামী ব্যতীত অন্য কারো সামনে উম্মুক্ত করো না । হে হাউলা , নারীর জন্য এটা হালাল নয় যে , সে তার হাতের কব্জি এবং পায়ের টাখনু কোন নামাহরামের সামনে উম্মুক্ত করবে । আর যদি তেমন গোনাহ্ করেই ফেলে তবে সবসময়ের জন্য আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণের পক্ষ থেকে লানত প্রাপ্ত হয় এবং তাদেরকে ক্রোধান্বিত করে । আর তার জন্য কঠিন আযাবের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে ।219
15- স্বামীর কথা না মেনে চলা হচ্ছে গোনাহ্ :
হে হাউলা , কসম সেই আল্লাহর যিনি আমাকে রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন । স্বামী যখন কোন কাজের জন্য স্ত্রীকে ডাকে তখন যেন সে অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দেয় এবং তাকে যেন সন্তুষ্ট রাখে । সে যদি কোন নির্দেশ দেয় তবে স্ত্রী যেন তার নির্দেশ মেনে চলে এবং যেন তার অবমাননা না করে । তার ডাকে যেন সুন্দর উত্তর দেয় এবং তার বিরুদ্ধাচরণ যেন না করে । যদি স্বামী স্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট থাকে তবে স্ত্রী তাকে রাজি খুশি না করিয়ে যেন রাতে ঘুমাতে না যায় । যদিও স্বামী তার উপর জুলুম করে থাকে (এবং যদিও স্ত্রীর পছন্দ-অপছন্দের কোন মুল্য স্বামী না দিয়ে থাকে) । আর যেন তার স্বামীর আহবানে সাড়া দেয় সে তখন যদি উটের উপরেও বসে থাকে ।220
(অবশ্য স্বামীর কর্তব্য হল তার স্ত্রীর পছন্দ-অপছন্দ এবং চাওয়া- পাওয়াগুলোকে ইনসাফের সাথে বিবেচনা করবে ও তা স্থান ,কাল , পাত্রের সাথে মিলিয়ে দেখবে । কেননা স্ত্রীর ব্যাপারে স্বামীরও দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে । )
16- যে নারী তার স্বামীকে বলে যে , আমি তোমার কাছ থেকে কোন ভাল কিছু পাই নি তার আযাব :
হে হাউলা , সেই আল্লাহর কসম যিনি আমাকে রাসূল হিসেবে মনোনীত করেছেন । আল্লাহ তা ’ য়ালা আমাকে বেহেশ্ত ও জাহান্নামকে দেখিয়েছেন , যারা জাহান্নামী নারী ছিল আমি তাদেরকে দেখেছি । জিবরাইলকে বলেছিলাম : হে আমার বন্ধু , কেন এরূপ ? জিবরাইল আমাকে বলল : তাদের কুফরির কারণে । বললাম : আল্লাহ তা ’ য়ালার কুফরী করার কারণে ? জিবরাইল বলল : না , এলাহী নিয়ামতের কুফরী করার কারণে । বললাম : কিভাবে তারা এলাহী নিয়ামতকে অস্বীকার করলো ? জিবরাইল বলল : তাদের স্বামীরা সারা জীবন তাদের প্রতি সদাচরণ করেছে এবং তাদের সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করে নি কিন্তু তবুও তারা বলেছে যে , আমি তার কাছ থেকে কোন ভাল কিছু পাই নি ।221
17- আখিরাতে দুনিয়ার সৎকর্মের ফল পাওয়া যাবে :
হে হাউলা , স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার হচ্ছে যে , সংসারে স্ত্রী সব সময় তার স্বামীর সাথে একাকার হয়ে থাকবে । তার স্বামীর প্রতি হৃদ্যতা দেখাবে । তাকে ক্রোধান্বিত করা থেকে বিরত থাকবে । তার স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জন করবে এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলবে । স্বামীর সাথে অভিমান করা থেকে দূরে থাকবে । সন্তানের ক্ষেত্রে স্বামীর সাথে অন্য কাউকে শরিক কর না । তাকে যেন কোন কষ্টের মধ্যে না ফেল । তার অনুপস্থিতিতে তার প্রতি ও তার সম্পদের খিয়ানত কর না । যে সময়ে তার স্বামী ঘরে নেই সে সময় সে যেন তার স্বামীর মান- সম্মান রক্ষা করে এবং তার ঘরে সঠিকভাবে ও সততার সাথে জীবন-যাপন করে । সৌন্দর্য্য ও নিজের সাজ-সজ্জাকে শুধু মাত্র স্বামীর জন্যে করে এবং নামায আদায় করে । যে গোসলসমূহ তার উপর ওয়াজিব তা যেন আঞ্জাম দেয় যেমন : সঙ্গমজনিত অপবিত্রতা , মাসিক ঋতু এবং ইসতিহাযার গোসল । যদি তেমন করে তবে কিয়ামতের দিনে তাকে এক অপরূপ সুন্দরী ও নূরানী মেয়ে হিসেবে উপস্থিত করা হবে । যদি তার স্বামী দুনিয়াতে মু ’ মিন বান্দা হয়ে থাকে তবে সে ঐ স্বামীরই স্ত্রী হবে । আর যদি তার স্বামী মু ’ মিন বান্দা না হয়ে থাকে তবে তাকে একজন শহীদের সাথে বিয়ে দেয়া হবে । হে হাউলা , নিজেকে খোশবুযুক্ত করো না যখন তোমার স্বামী কাছে না থাকে ।222
উল্লেখিত হাদীসের লক্ষ্যণীয় বিষয়গুলো :
1- সংসার জীবনে নারী পুরুষ উভয়েই একে অপরের উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য রাখে । তারা অবশ্যই একে অপরের সম্মান রক্ষা করে চলবে । কিন্তু নারীর উচিত যে , সে যেন তার স্বামীর মতকে প্রাধান্য দেয় এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন করে ।
2- নারী গোপনে এবং প্রকাশ্যে অবশ্যই তার স্বামীর সাথে অন্তরঙ্গ হয়ে থাকবে । আর যে সময়ে তার স্বামী বাড়ীতে থাকবে না সে সময় তার স্বামীর মান-সম্মানকে রক্ষা করবে । এমন নয় যে , সে তার স্বামীর অবর্তমানে তার বিপক্ষে কথা বলে এবং পরিচিত ও অপরিচিতদের কাছে তাকে ছোট করবে । অবশ্য স্বামীও তার স্ত্রীর ব্যাপারে অনুরূপ দায়িত্ব রাখে । কেননা যদি তা না হয় তবে সংসারে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হবে ।
3- আয়াত ও রেওয়ায়েত থেকে এটা পরিস্কার হয়ে যায় যে , ইসলামের বিধানসমূহ হচ্ছে বিশেষ আলোয় আলোকিত , তা মানুষের অন্তর ও রুহকে আলোকিত করে থাকে । যারা ইসলামের নির্দেশ মত চলে তারা তা খুব ভাল ভাবেই বুঝে । ইসলামী বিধি অনুযায়ী আমল করার ফলে যে নূর আসে তা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্যে ।
18- স্বামীর কথা সহ্য করার সওয়াব :
রাসূল (সা.) বলেছেন :“ হে হাউলা , যদি স্বামী তার স্ত্রীকে কোন কথা বলে এবং সে তা সহ্য করে তবে আল্লাহ তা ’ য়ালা সে যে কটি কটু কথা সহ্য করেছে তার জন্য একজন রোযাদার এবং আল্লাহর রাস্তায় একজন মুজাহিদের সম পরিমান সওয়াব তাকে দিবেন । ”
পুরুষেরও তদ্রূপ দায়িত্ব রয়েছে যে , তার স্ত্রীর ভুল-ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখবে এবং তার ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করবে । প্রকৃতপক্ষে যখন স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ বা মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয় তখন যদি উভয়ই ছবর করে এবং ভুল-ত্রুটিসমূহকে একে অপরের উপর চাপিয়ে না দেয় তবে জীবন হয়ে উঠবে আরো সুন্দর । আর যদি এমন চিন্তা করে থাকে যে , একে অপরের ব্যাপারে আপত্তি তুলবে তবে জীবন হয়ে উঠবে বিষাক্ত এবং তাতে যে আগুনের সৃষ্টি হবে তাতে উভয়ই পুড়ে মরবে । তারা এই আগুন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য অবশ্যই নবী (সা.) ও ইমামদের (আ.) কথা মেনে চলবে এবং তদানুযায়ী আমল করবে ।
19- স্বামীর ভুল-ত্রুটি ঢেকে রাখার সওয়াব :
হে হাউলা , যে নারী তার স্বামীর ব্যাপারে অন্যের কাছে অভিযোগ করে , আল্লাহ তা ’ য়ালা ঐ নারীর উপর রাগান্বিত হন এবং যে নারী তারা স্বামীর ভুল- ত্রুটিসমূহকে ঢেকে রাখে তার পরিপ্রেক্ষিতে কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তা ’ য়ালা 70টি বেহেশতী খিলয়া ’ ত (সেলাইকৃত জামা যা কোন বিশেষ ব্যক্তির পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়) দিয়ে তাকে আবৃত করে দিবেন । প্রতিটি খিলয়া ’ ত বাদশা নো ’ মান ইবনে মুনযারের খিলয়া ’ তের অনুরূপ । অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তা ’ য়ালা 40 টি বেহেশ্তী হুরকে তার সেবিকা এবং খাদেম হিসেবে তাকে দিবেন ।223
এই নির্দেশসমূহ শুধুমাত্র স্ত্রীর জন্যেই নয় বরং তা স্বামীর জন্যেও বলা হয়েছে । স্বামীর উচিৎ তার স্ত্রীর ভুল-ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখা । তবে যেগুলো ঢেকে রাখা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে সেগুলো ব্যতীত যেমন মদ্যপ , জুয়াড়ি , মাদকাসক্ত হওয়া ইত্যাদি ।
20- গর্ভবতী হওয়া , সন্তান প্রসব করা ও শিশুকে দুধ দেয়ার সওয়াব :
হে হাউলা , কসম সেই আল্লাহর যিনি আমাকে রিসালাত দিয়ে এবং সু-সংবাদ প্রদানকারী ও ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন । যে নারী তার স্বামীর মাধ্যমে গর্ভবতী হবে সে আল্লাহর করুণার ছায়া তলে থাকবে ঐ সময় পর্যন্ত যখন তার প্রসব বেদনা দেখা দিবে । আর যখনই তার প্রসব বেদনা শুরু হবে তখন থেকে প্রতিটি কষ্টের জন্য আল্লাহ তাকে একজন মু ’ মিন দাস মুক্ত করে দেয়ার সওয়াব দিবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তা থেকে মুক্ত হচ্ছে এবং শিশুকে দুধ দিতে শুরু করছে । আর যতবার শিশু তার মায়ের বুক থেকে দুধ টেনে খাবে ততবারের জন্য আল্লাহ তা ’ য়ালা কিয়ামতের দিনে মায়ের পায়ের সামনে এমন নূরের ছটা সৃষ্টি করবেন যে কারণে সে দিন অন্য সবাই আশ্চর্য হয়ে যাবে । ঐ মাকে রোযাদার ও নামাযীর সওয়াব দেয়া হবে । যদিও সে রোযাদার না হয় তদুপরি একযুগের নামাজ ও রোযার সওয়াব সে পাবে । যখন শিশু দুধ খাওয়া ছেড়ে দিবে তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ঐ মাকে উদ্দেশ্য করে বলা হবে যে , হে নারী তোমার অতীত সমস্ত গোনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে এবং আজ আল্লাহর রহমতে সমস্ত আমলসমূহকে নতুন করে শুরু করো ।224
একজন নারীর ব্যক্তিগত ,নৈতিক , সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব
1- চোখের নিয়ন্ত্রণ :
পবিত্র কোরআন মু’ মিন নারী এবং পুরুষদের চক্ষুকে অবনত রাখার নির্দেশ দিচ্ছে :
) قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ (30) وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ(
ঈমানদার পুরুষদেরকে বলে দাও : তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচের দিকে রাখে এবং সচ্চরিত্রতা অবলম্বন করে । আর এটা তাদের জন্য হচ্ছে পবিত্রতম বিষয় । কেননা আল্লাহ যা কিছু করেন তা জানেন । আর ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও : তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং সচ্চরিত্রতা অবলম্বন করে ।225
দৃষ্টিকে অবনত রাখার অর্থ এই নয় যে , তা বন্ধ করে রাখবে বরং অসৎ উদ্দেশ্যে তাকানোর থেকে দূরে থাকার কথা বলা হচ্ছে ।
অন্যভাবে উক্ত দুই আয়াতে নিষেধ করা হয় নি বা বলা হয় নি যে , (ﻻ ﺗﻨﻈﺮﻭﺍ ) দেখো না বরং বলা হয়েছে যে , তোমাদের দৃষ্টিকে নত রাখ ।
আবু সাঈদ খুদরী নবী (সা.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যে ,“ রাসূল (সা.) বলেছেন : রাস্তার পাশে ঘরের দরজায় বসা থেকে বিরত থাকো । বলা হলো ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা.) উপায় নেই কি করবো বসতে হয় । তখন তিনি বললেন : যখন এমনই তাহলে রাস্তার হকটি আদায় করবে । জিজ্ঞেস করল : সেটা কি ? তিনি বললেন : চোখ নিচের দিকে রাখা , কষ্ট না দেয়া , সালামের উত্তর দেয়া , সৎ কাজে উপদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করা ।226
এরূপ আরো অনেক হাদীসে দেখা যায় যেমন : ইবনে আব্বাস বলেন : নবী (সা.) আব্বাসের ছেলে ফাযলকে কোরবানীর ঈদের দিন নিজের ঘোড়ার পিছনে উঠিয়ে ছিলেন । ফাযল দেখতে খুব সুদর্শন ছিল । রাসূল (সা.) মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন ।
সে সময় খাছআ ’ ম গোত্রের এক সুন্দরী নারী নবীর কাছে প্রশ্ন করার জন্য আসল । ফাযল ঐ নারীর দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল এবং ঐ নারীকে তার পছন্দ হয়েছিল ।
রাসূল (সা.) যখন এই ঘটনাটি দেখলেন তখন ফাযলের মুখটি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিলেন ।
2- নারীর কথা বলার ধরন কেমন হবে :
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন :
) يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى(
হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য সাধারণ নারীদের মত নও , যদি তাকওয়া অবলম্বন কর । তাহলে আকষর্ণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না যাতে করে অসুস্থ অন্তরসমূহ তোমাদেরকে পাওয়ার আশা করে , বরং উপযুক্ত ভাবে কথা বল এবং তোমাদের ঘরে থাক ও প্রাথমিক জাহেলিয়াতের যুগের মত মানুষের মাঝে বের হয়ো না ।227
নারী নামাহরামদের সামনে অবশ্যই অতি সাধারণ ,অনাকর্ষণীয় ভঙ্গীতে এবং দৃঢ় ভাবে কথা বলবে ।
কথা বলার সময় নারী তার কণ্ঠকে কোমল ও আকর্ষণীয় করবে না আবার তার কথার বিষয়বস্তুও যেন উত্তম হয় । তার মধ্যে কোন অযথা ও অপ্রয়োজনীয় কথা যেন না থাকে । তাতে যেন কোন অসত্য ও পাপের ছোয়া না থাকে ।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে , নারীরা শিক্ষা-দীক্ষা , রসম-রেওয়াজ (সামাজিক প্রথা ও আদব কায়দা) , শিল্প-সংস্কৃতি , সংসার-ধর্ম এবং যে বিষয়গুলো শিশুকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য উত্তম সে সকল বিষয়ে শিক্ষা নেয়ার পরিবর্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রতিবেশীর সাথে দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করে । এমনকি পরচর্চার মত গুনাহর কাজও করে থাকে । এই নারীদেরকে বলা উচিত যে , যে বিষয়গুলোর সাথে দুনিয়া ও আখিরাতের আজাব ও অপমান জড়িত রয়েছে সে সব বিষয়ে সময় নষ্ট না করে নিজের জীবনটা আত্মপ্রশিক্ষণ ও নিজ সন্তানদেরকে গড়ে তোলার কাজে ব্যয় করাটা উত্তম নয় কি । যেমন : কোরআন , ইসলামী বিধি-বিধান , ফুল তৈরী , দর্জির কাজ প্রভৃতি শিক্ষা করা এবং শিশুদেরকে আঁকা-আঁকি , উত্তম চরিত্র ইত্যাদি শিক্ষা দেয়া ।
3- বাড়ির বাইরে নারীর পোশাক কেমন হবে :
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন :
যখন নারী বাড়ী থেকে বের হবে তখন তার জন্য এটা ঠিক নয় যে , সে তার পোশাক সুগন্ধিযুক্ত করবে ।228
হযরত আলী (আ.) বলেছেন :
অন্ধকারাচ্ছন্ন বৃষ্টির দিনে রাসূল (সা.)-এর সাথে জান্নাতুল বাকিতে বসে ছিলাম , এমন সময় এক নারী গাধার পিঠে চড়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেল । পশুর পা গর্তে পড়ে যাওয়ায় তার পিঠে বসে থাকা নারীও মাটিতে পড়ে গেল । তা দেখে রাসূল (সা.) তাঁর চেহারা মুবারক ঘুরিয়ে নিলেন । বলা হলো : ইয়া রাসূলুল্লাহ ঐ নারী পায়জামা পরে আছে । নবী পাক (সা.) তিনবার বললেন : হে আল্লাহ্! যে নারীরা পায়জামা পরে তাদেরকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখ । হে মানব সকল! তোমরা পায়জামা ব্যবহার কর , কেননা পায়জামা হচ্ছে তোমাদের পোশাকের মধ্যে সব থেকে বেশী আবৃতকারী পোশাক । আর তোমাদের নারীরা যখন বাড়ী থেকে বের হয় তখন তা তাদেরকে রক্ষা করবে ।
4- নারীর জুতা কেমন হবে :
আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন :
) وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ(
রাস্তায় হাঁটার সময় নারীরা যেন মাটিতে সজোরে আঘাত না করে (এবং তাদের নুপুরের শব্দ যেন অন্যের কানে না যায়)যাতে করে তাদের গোপন সৌন্দর্য্য অন্যরা জানতে পারে ।229
এই আয়াতটি আমাদেরকে এই শিক্ষা দেয় যে , ইসলাম সামাজিক পবিত্রতার বিষয়ে কতটা কঠোরতা অবলম্বন করেছে এবং সূক্ষ দৃষ্টি দিয়েছে । একারণেই বলা হয়েছে যে , নারীরা যেন তাদের জুতা দিয়ে মাটিতে এমন ভাবে আঘাত না করে যাতে করে সেই আঘাতের শব্দে বোঝা যায় একজন নারী হেঁটে যাচ্ছে ।
5- রাস্তায় এবং গলিতে নারীর চলা-ফেরা কেমন হবে :
ইমাম সাদিক (আ.) নবী (সা.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন :
নারীরা যেন রাস্তার মধ্য দিয়ে চলা-ফেরা না করে বরং তারা যেন ফুটপাত দিয়ে অথবা দেয়ালের পাশ দিয়ে চলা-ফেরা করে ।230
ঈমানদার নারী অবশ্যই যান-জটপূর্ণ এলাকা যেখানে মানুষের আসা-যাওয়া বেশী এবং যেখানে অনেক নামাহরামের চোখ তার দিকে চেয়ে থাকবে সেখান থেকে চলা-ফেরা না করে । আর চেষ্টা করবে যে , যে সময়গুলো সাধারণত রাস্তা-ঘাট একটু খালি থাকে তখন তাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সেরে নেয়ার এবং চলা-ফেরা করার সময় রাস্তার কিনার দিয়ে অথবা ফুটপাত দিয়ে যাওয়া-আসা করবে যাতে করে কম লোকের দৃষ্টিতে পড়ে ।
আল্লাহ্ সুবহানাহু তা ’ য়ালা বলেছেন :
) وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ(
হে রাসূল! ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও তারা যেন তাদের চোখকে নিচের দিকে রাখে (এবং নামাহরামদের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকে) ও তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে ।231
6- মুসলমান নারীর অলংকার :
রাসূলে খোদা (সা.) বলেছেন :
সচ্চরিত্রতা বা সতীত্ব হচ্ছে নারীর অলংকার ।232
রাসূল (সা.) বলেছেন :
সর্বোত্তম যে জিনিসটি দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা ’ য়ালা তাঁর বান্দাদেরকে অলংকৃত করিয়েছেন তা হচ্ছে ধর্ম ও সতীত্বের ক্ষেত্রে সচ্চরিত্র থাকা ।233
7- নির্জনতা পরিহার করা :
আর যে বিষয়ে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে তা হচ্ছে যে , নারী ও নামাহরাম পুরুষ নির্জনে থাকাকে অর্থাৎ এমন স্থানে অবস্থান করা যেখানে তারা ব্যতীত অন্য আর কেউ নেই এবং মানুষের যাওয়া-আসার ব্যবস্থাও সেখানে নেই ।
অনেক রেওয়ায়েতে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে যেমন :
ইবনে আব্বাস রাসুল (সা.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন : কোন পুরুষ যেন নারীর সাথে নির্জনে না থাকে যদি তার মাহরাম উপস্থিত না থাকে ।234
নারীদেরনির্ধারিত গোসলগুলি
ওয়াজিব গোসলগুলির মধ্যে তিনটি গোসল , অর্থাৎ ঋতুস্রাব , ইসতেহাযা ও নেফাসের গোসল যা শুধুমাত্র নারীদের উপর ওয়াজিব । জরায়ু থেকে রক্তপাত হওয়াটাই এ গোসলগুলির কারণ এবং প্রত্যেকটির কিছু বৈশিষ্ট্যও আছে যা নিম্নরূপ :
ঋতুস্রাবের গোসল
যখন ঋতুস্রাবের রক্তপাত শেষ হয়ে যাবে , তখন নারীকে নামায এবং অনান্য যে কাজগুলির জন্য পবিত্র থাকা আবশ্যক সেগুলির জন্য গোসল করতে হবে ।235
ঋতুস্রাবের রক্তের লক্ষণসমূহ :
এ রক্ত বালেগ হওয়ার আগে দেখা যায় না , আর যদি কোন মেয়ে বালেগ হওয়ার আগে দেখতে পায় তবে তা ঋতুস্রাবের রক্ত বলে গণ্য হবে না । (হতে পারে কোন মেয়ে বালেগ হয়েছে কিন্তু ঋতুস্রাবের রক্তপাত হয় নি কারণ এর উপর বংশগত , আবহাওয়া ও খাওয়া দাওয়ার বিশেষ প্রভাব রয়েছে । যেমন বর্তমানে সাধারণত 12-13 বছরে মেয়েদের প্রথম রক্তপাত হয় । )
ক) - যে সব নারীরা সৈয়দ বংশের তাঁরা 60 বছর পর্যন্তও যারা সৈয়দ নয় তারা 50 বছর পর্যন্তএ রক্ত দেখতে পায় , আর যদি এরপরও কোন রক্ত দেখে তবে তা ঋতুস্রাবের রক্ত বলে গণ্য হবে না ।
খ) - রক্তপাত 3 দিনের কম হবে না , অতএব যদি তিন দিনের আগে শেষ হয়ে যায় , তবে তা ঋতুস্রাবের রক্ত নয় । (তবে যদি প্রথমে তিন দিন অথবা তার বেশি রক্তপাত হয়ে বন্ধ হয়ে যায় , অতঃপর পুনরায় কয়েকদিন রক্তপাত হয় ও প্রথম ও দ্বিতীয় রক্তপাত মাঝে বন্ধ থাকা দিনগুলি সহ দশ দিনের বেশী না হয় তাহলে ঋতুস্রাব বলে গণ্য হবে না । )
গ) - রক্তপাত দশ দিনের বেশী থাকবে না , অতএব যদি দশ দিনের বেশী থাকে তাহলে দশ দিন পর থেকে ঋতুস্রাবের রক্ত নয় বরং তা এসতেহাযার রক্ত বলে পরিগণিত হবে ।
ঘ) - রক্তপাত প্রথম তিন দিন একাধারে অব্যাহত থাকবে -যদিও ভিতরে রক্ত থাকে ও বেরিয়ে না আসে- সুতরাং যদি দুই দিন রক্তপাতের পর এক দিনের জন্য রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্য আরেকদিন রক্তপাত হয় , তাহলে প্রথম থেকেই তা ঋতুস্রাবের রক্ত বলে গণ্য হবে না ।
ঙ) - দুই মাসের ঋতুস্রাবের মধ্যে অবশ্যই দশ দিন ব্যবধান থাকতে হবে । অতএব ঋতুস্রাব শেষ হয়ে যাবার পর যদি দশ দিন ব্যবধানের আগেই রক্তপাত হয় তবে দ্বিতীয় রক্তপাতটি ঋতুস্রাবের রক্ত নয় ।
চ) - ঋতুস্রাবের রক্ত সাধারণত ঘন , গাঢ় ও গরম হয়ে থাকে এবং অল্প জ্বালাপোড়া ও চাপের সাথে বেরিয়ে আসে ।236
ঋতুস্রাবের বিধি-বিধান :
ঋতুস্রাব অবস্থায় এই কাজগুলি নারীদের জন্যে হারাম
(ক) নামাজ পড়া ও কাবাঘরের তাওয়াফ করাসহ যেসব ইবাদতের জন্যে ওযু , গোসল অথবা তায়াম্মুম করতে হয় ।
(খ) যে সমস্ত কাজগুলি জুনুব ব্যক্তির (যে ব্যক্তি সহবাসের পর শরীয়ত নির্ধারিত গোসল করে পবিত্র হয় নি) জন্যে হারাম যেমন মসজিদে অবস্থান করা ।
(গ) সহবাস যা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই হারাম ।237
এ অবস্থায় নামাজ ও রোযা নারীর জন্য ওয়াজিব নয় এবং এ সময় না পড়া নামাজগুলির কাযা করতে হবে না , তবে অবশ্যই রমযান মাসে ঋতুস্রাব অবস্থায় যে রোযাগুলি রাখে নি পরে তা কাজা করতে হবে ।238
ইসতিফতায়াত (ধর্মীয় মাসয়ালার জবাব) :
প্রশ্ন : হজ্জের সময় কিংবা অন্যান্য কোন সময়ে যে মহিলারা চায় না ঋতুস্রাব হোক , তা বন্ধ রাখার জন্য ঔষধ খাওয়াতে কি অসুবিধা আছে ?
উত্তর : ক্ষতিকর না হলে অসুবিধা নেই ।239
ঋতুস্রাবের শুরুতে নারীর কর্তব্য240 :
রক্তপ্রবাহের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং সে অবস্থায় থাকা নারীদের জন্য ব্যবহৃত ইসলামী পরিভাষা ও তাদের করণীয় বিষয়সমূহ
(1) এতদিন পর্যন্ত ঋতুস্রাব ছিল না , এমন কোন মেয়ের প্রথমবার ঋতুস্রাব হলে তাকে“ মুবতাদি ” বলা হয় ।
(2) প্রথম ঋতুস্রাব নয় , তবে এখনও পর্যন্ত কোন নির্দিষ্ট অভ্যাস হয়ে ওঠে নি এমন নারীকে“ মুযতারেব ” বলা হয় ।
(3) ঋতুস্রাব নিয়মিত দিনগুলিতে হয় , যেমন সর্বদা পাঁচ দিন রক্তপাতের পর বন্ধ হয়ে যায় , কিন্তু ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার সময়টি নিয়মিত নয় এমন নারীকে“ আদাদিয়া ” বলা হয় ।
(উল্লেখিত তিন ধরনের নারীর করণীয় : এ তিন ক্ষেত্রে রক্তপাতের প্রথম থেকেই যদি ঋতুস্রাবের রক্তের লক্ষণগুলি থাকে অথবা বিশ্বাস হাসিল হয় যে , এ রক্তপাত তিন দিন ধরে অব্যাহত তাহলে তা ঋতুস্রাবের রক্ত হিসেবে ধরা হবে এবং ঋতুস্রাবের আহ্কাম অনুসরণ করতে হবে । )
(4) ঋতুস্রাবের দিনগুলি নিয়মিত নয় যেমন কখনও পাঁচ দিন পর বন্ধ হয়ে যায় , আবার কখনও ছয় দিন পর , কিন্তু ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার দিনটি নিয়মিত যেমন সর্বদা পঁচিশ দিন বন্ধ ও পবিত্র থাকার পর পুনরায় ঋতুস্রাব শুরু হয় তাকে“ ওয়াক্তিয়া ” বলা হয় ।
(5) ঋতুস্রাবের দিনগুলি এবং রক্তপাত শুরুর সময় (তারিখ) নিয়মিত যেমন সর্বদা বিশ তারিখে রক্তপাত শুরু হয় এবং পাঁচ দিন পর বন্ধ হয়ে যায় তাকে“ ওয়াক্তিয়া ও আদাদিয়া ” বলা হয় ।
(উল্লিখিত দুই ধরনের নারীর করণীয় : এ দুই ক্ষেত্রে , যেহেতু রক্তপাত শুরু হওয়ার সময় নির্দিষ্ট আছে সেহেতু প্রথম থেকেই ঋতুস্রাবের রক্ত হিসেবে ধরা হবে এবং ঋতুস্রাবের আহ্কাম অনুসরণ করতে হবে । )
(6) ঋতুস্রাবের নিয়মিত রীতি অনুযায়ী ছিল কিন্তু এখন ভুলে গিয়েছে তাকে“ না ’ সিয়া ” বলা হয় ।
(উল্লিখিত ক্ষেত্রে করণীয় : যদি রক্তপাতে ঋতুস্রাবের লক্ষণগুলি দেখা যায় এবং নিশ্চিত থাকে যে এ রক্তপাত তিন দিন ধরে অব্যাহত থাকবে তাহলে সেটিকে ঋতুস্রাব বলে হিসেব করা হবে এবং ঐ আহ্কামের অনুসরণ করতে হবে । )
রক্তপাত শেষে নারীর করণীয় :
1- ঋতুস্রাব শেষে যখন রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে , তখন নারীকে অবশ্যই ঋতুস্রাবের গোসল করতে হবে এবং নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতগুলো শুরু করতে হবে ।241
2- ঋতুস্রাবের ও জানাবাতের গোসলের মধ্যে শুধুমাত্র নিয়ত ছাড়া অন্য কোন তফাৎ নেই ।242 3- শুধুমাত্র ঋতুস্রাবের গোসল করে নামাজ পড়া যাবে না বরং গোসলসহ ওযু করতে হবে । আর যদি গোসলের আগে ওযু করে তবে তা বেশী ভাল। 243
ইসতিহাযা ও নিফাসের গোসল :
ইসতিহাযা : অন্য আরেকটি রক্ত যা কখনো কখনো মহিলাদের জরায়ু থেকে বের হয়ে থাকে , তাকে ইসতিহাযা বলা হয় । ইসতিহাযার রক্ত সাধারণত হলুদ রং , ঠান্ডা , চাপ ও জ্বালাপোড়া ছাড়াই প্রবাহিত হয় । এ রক্ত সাধারণতঃ ঘন নয় , তবে কখনো আবার গাঢ় রঙ্গের , ঘন এবং কিছুটা উষ্ণ হয়ে থাকে ও চাপের সাথে বের হওয়ার সম্ভাবনাও আছে ।244 “ যে নারীর ইসতিহাযার রক্তপাত হয় , তাকে“ মুসতাহাযা ” বলা হয় । ”
ইসতিহাযার প্রকারভেদ :
ইসতিহাযার রক্ত কম ও বেশীর দিক থেকে তিন ভাগে বিভক্ত হয় । অল্প পরিমান , মধ্যম পরিমান ও বেশী পরিমান । এই শ্রেণী বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে প্রতিটির ক্ষেত্রে নারীর কর্তব্যগুলিও ভিন্ন রকম হবে ।245
রক্তপাত অল্প পরিমান হলে মুসতাহাযার কর্তব্য :
যদি রক্তের প্রবাহ শুধু প্যাডের ( PAD) একপাশে লেগে থাকে কিন্তু তার ভিতরে প্রবেশ না করে এবং তার অপর দিক থেকে বেরও না হয় এমন রক্তপাতকে অল্প পরিমানের ইসতেহাযা বলা হয়।
নারীকে তখন নামাজ পড়ার জন্য নিজের শরীরকে পবিত্র করতে হবে । প্যাডটি পাল্টাতে হবে ও ওযু করতে হবে । সুতরাং অল্প পরিমানের ইসতেহাযা হলে গোসল করতে হবে না ।246
রক্তপাত মধ্যম পরিমান হলে মুসতাহাযার কর্তব্য :
যখন রক্তের প্রবাহ প্যাডের ভিতরে প্রবেশ করে কিন্তু অপরদিক দিয়ে বের হয় না এমন রক্তপাতকে মধ্যম পরিমানের ইসতেহাযা বলে ।
তখন নারীকে যে নামাযটির আগে রক্তপাত মধ্যম পরিমানে হয়েছে সে নামাযটি পড়ার জন্য , যে কর্তব্যগুলি অল্প পরিমান রক্তপাতের জন্য বলা হয়েছে সেগুলি সহ গোসলও করতে হবে এবং যতদিন পর্যন্ত এই রক্তপাত চলবে প্রত্যেক দিনের জন্য মাত্র একবার প্রথম নামাজ পড়ার আগে গোসল করতে হবে । সুতরাং মধ্যম পরিমানের ইসতেহাযার জন্য প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় একবার গোসল করলেই যথেষ্ট হবে এবং সম্পুর্ণভাবে রক্তপাত শেষ হয়ে গেলেও প্রবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করতে হবে ।247
রক্তপাত বেশী পরিমান হলে মুসতাহাযার কর্তব্য :
যখর রক্তপাত এতই বেশি পরিমানে হয় যে প্যাডের অপর পাশ থেকে বের হয়ে যায় তখন তাকে বেশি পরিমানের ইসতেহাযা বলা হয় । তখন নারীর কর্তব্য হচ্ছে , যে সমস্ত কাজগুলি রক্তপাত অল্প পরিমান হলে বলা হয়েছে (প্যাড পাল্টানো অথবা ধোয়া) সেগুলিসহ প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসলও করতে হবে । তবে যদি যোহর ও আসরের নামায একসাথে পড়ে এবং দুই নামাযের মধ্যে কোন ব্যবধান না রাখে , তাহলে দুই নামাযের জন্য একটি গোসলই যথেষ্ট এবং মাগরিব ও এশার নামাজের জন্যও এরূপ করতে হবে ।248
কয়েকটি মাসয়ালা :
1- মধ্যম পরিমান ও বেশি পরিমান রক্তপাত শেষে নারীকে অবশ্যই গোসল করতে হবে ।249
2- শুধুমাত্র নিয়ত ছাড়া ইসতেহাযার গোসলের সাথে অন্যান্য গোসলের কোন তফাৎ নেই ।
3- শুধুমাত্র ইসতেহাযার গোসল করাতেই নামাজ পড়া যাবে না , গোসলসহ ওযুও করতে হবে।250
নিফাসের গোসল :
নিফাসের গোসল শুধুমাত্র সন্তান প্রসবের সাথে সম্পর্কিত অন্য কোন সময়ের জন্য নয় এবং সন্তান প্রসবের পর যে রক্তপাত হয়ে থাকে তা শেষে নারীকে প্রবিত্র হওয়ার জন্য এ গোসল করতে হয় ।
1- নিফাসের রক্তপাত এক মুহুর্তের জন্যও হতে পারে আবার কয়েকদিন ধরেও হতে পারে তবে দশ দিনের বেশি হবে না । আর যদি হয় তাহলে দশ দিনের পর থেকে নিফাসের রক্ত হিসাব হবে না ।251
2- নারীকে অবশ্যই নিফাসের রক্তপাত শেষে গোসল করতে হবে এবং নামায ও অন্যান্য ইবাদতগুলি আঞ্জাম দিতে হবে । তবে কিছু কিছু এলাকায় প্রচলন আছে যে সাতদিন অথবা দশদিন পরই গোসল করতে হবে -যদিও তার আগেই রক্তপাত শেষ হয়ে যায়- তা সম্পূর্ণ ভুল ও সঠিক নয় ।252
3- যে সমস্তকাজগুলি ঋতুস্রাবের সময় নারীদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল নিফাসের সময়ও সেগুলি নিষিদ্ধ বা হারাম ।253
4- নিফাসের গোসল ও অন্যান্য গোসলগুলির সাথে শুধুমাত্র নিয়ত ছাড়া অন্য কোন তফাৎ নেই এবং নামাযের জন্য শুধু গোসলই যথেষ্ট নয় বরং নারীকে গোসলসহ ওযুও করতে হবে ।254
1। সূরা নাহল , আয়াত নং- 97।
2 । সূরা সাবা : 49 ।
3 । সূরা আহযাব : 35।
4 । হুজুরাত : 13।
5 । নাহল : 97।
6 । রূম : 21।
7 । নিসা : 1।
8 । আ’ রাফ : 189।
9 । যুমার : 6।
10 । রূম : 21।
11 । নাহল : 72।
12 । শুরা : 11।
13 । আল মিযান ফি তাফসিরুল কুরআন , খণ্ড- 4 , পৃ.-136।
14 । ওয়াসায়েলুশ শিয়া , খণ্ড-20 , পৃ. -352 , বাব- 28 , হাদীস নং-25804।
15 । বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড-11 , পৃ. -115 , হাদীস নং-42।
16 । কাসাস : 7।
17 । আলে ইমরান : 45।
18 । তাহরিম : 11।
19 । কাউছার।
20 । আল্ হিকামুয যাহেরাহ্ , পৃ.- 94।
21 । প্রাগুক্ত , পৃ.- 95।
22 । প্রাগুক্ত , পৃ.- 99।
23 । প্রাগুক্ত , পৃ.- 98।
24। প্রাগুক্ত , পৃ.- 99।
25 । ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর দৃষ্টিতে নারী , পৃ. - 88 , 91। উল্লেখ্য মুলক ও নাসুত বস্তুজগতের দু’ টি পর্যায় এবং মালাকুত ও জাবারুত অবস্তুজগতের দু’ টি পর্যায়।
26 । প্রাগুক্ত।
27 । ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর দৃষ্টিতে নারী , পৃ. -101।
28 । নিযামে হুকুকে যান দার ইসলাম , পৃ. -150।
29 । মাকারিমুল আখলাক , পৃ. -219।
30 । নাহ্জুল ফাসাহাহ্ , হাদীস নং-1521।
31 । প্রাগুক্ত , হাদীস নং-1520।
32 । মাকারিমুল আখলাক , পৃ. -219।
33 । আওয়ালিন দানেশগাহ্ , হাদীস নং-20।
34 । খাওহারানে কাহরামান , পৃ. 56।
35 । প্রাগুক্ত , পৃ. - 66।
36 । প্রাগুক্ত , পৃ. -76।
37 । প্রাগুক্ত , পৃ. - 93।
38 । প্রাগুক্ত , পৃ. - 94।
39 । প্রাগুক্ত , পৃ. -125।
40 । প্রাগুক্ত , পৃ. 142।
41 । প্রাগুক্ত , পৃ. 154।
42 । লুহুফ -ইবনে তাউস , পৃ. 110।
43 । প্রাগুক্ত , পৃ. 125।
44 । নিসা : 4।
45 । প্রাগুক্ত : 20।
46 । বাকারাহ্ : 237।
47 । ই’ কাবুল আ’ মাল , পৃ. 649।
48 । নিসা : 19।
49 । ওয়াসায়েলুশ শিয়া , 15তম খণ্ড , পৃ. 237।
50 । নিসা : 7।
51 । নিসা : 19।
52 । ওয়াসায়েলুশ শিয়া , 17তম খণ্ড , পৃ. 436।
53 । তালাক : 6।
54 । তাহরিরুল ওয়াসিলাহ্ -হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.) ।
55 । এ বিষয়ে আরো বেশী জানার জন্য মাসলা মাসায়েল সম্পর্কিত গ্রন্থসমূহ দেখা আবশ্যক।
56 । নাহ্জূল ফাসাহাহ্ , পৃ. 248।
57 । ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর দৃষ্টিতে নারী , পৃ. 5।
58 । তওবা : 71।
59 । মুমতাহিনাহ্ : 12।
60 । খাওহারানে কাহরামান , পৃ. 120।
61 । ইমাম খোমেনী ( রহ .)- এর দৃষ্টিতে নারী।
62 । নিযামে হুকুকে যান দার ইসলাম , মুর্তাজা মুতাহারী , পৃ. 207।
63 । রূম : 21।
64 । ওয়াসায়েলুশ শিয়া , 14তম খণ্ড , পৃ. 123।
65 । প্রাগুক্ত , 14তম খণ্ড , পৃ. 123।
66 । মাকারিমুল আখলাক , পৃ. 200।
67 । নাহ্জুল বালাগাহ , বাণী -131 ; উসূলে কাফী , 5ম খণ্ড , পৃ. 507।
68 । আল মিযান , 4র্থখণ্ড , পৃ. - 350।
69 । ইমাম খোমেনীর (রহ:) দৃষ্টিতে নারী , পৃ. 80।
70 । প্রাগুক্ত , পৃ. 79 , 80।
71 । প্রাগুক্ত ।
72 । মাকারিমুল আখলাক , পৃ. 216 এবং মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল , 2য় খণ্ড , পৃ. 552।
73 । জাছিয়া : 29।
74 । আলে ইমরান : 30।
75 । কাহ্ফ : 49।
76 । ফুসসিলাত : 19-23।
77 । নাহজুল ফাছাহাহ :পৃ -196 ।
78 । আলে ইমরান : 14।
79 । বাকারা : 34।
80 । মায়েদা : 91।
81 । আনয়াম 112।
82 । আ’ রাফ : 27।
83 । তাফসীরে নমুনা , 6ষ্ঠ খণ্ড , পৃ. 110।
84 । সাফিনাতুল বিহার , বাবে বালাসা।
85 । আওয়ালিন দানেশগাহ ওয়া আখেরীন পেইয়ামবার , 1ম খণ্ড , পৃ. 60।
86 । মাকারেমুল আখলাক , পৃ. 66।
87 । আমালী , শেইখ সাদুক , মজলিস-66।
88 । মাকারেমুল আখলাক , পৃ. 67।
89 । আওয়ালিন দানেশগাহ , 1ম খণ্ড , পৃ. 62 , উছুলে কাফি , 6ষ্ঠ খণ্ড , পৃ. 322।
90 । আমালি , শেইখ সাদুক , মজলিস-66।
91 । উছুলে কাফি , 2য় খণ্ড।
92 । ওয়াসায়েল , 14তম খণ্ড , পৃ. 138।
93 । আল্ হিকামুয যাহেরাহ্ , পৃ. 291।
94 । মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল , 2য় খণ্ড , পৃ. 554।
95 । তোহাফুল উ’ কুল , পৃ. 382 , উছুলে কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ. 515।
96 । নাহ্জুল ফাছাহাহ্ , পৃ. 193।
97 । সুনানে নাসায়ী , 8ম খণ্ড , প. 153।
98 । নাহ্জুল ফাছাহাহ্ , পৃ. 36।
99 । বাকারা : 23।
100 । ফালাক : 4।
101 । সাফিনাতুল বিহার , বাবে নিসা এবং উছুলে কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ. 518।
102 । ইউসূফ : 33।
103 । মাকারেমুল আখলাক , পৃ. 212।
104 । সহীহ্ বুখারী , 7ম খণ্ড , পৃ. 11 এবং মুসতাদরাক , 2য় খণ্ড , পৃ. 561।
105 । নাহ্জুল ফাছাহাহ্ , পৃ. 61।
106 । প্রাগুক্ত , পৃ. 108।
107 । নাহ্জুল ফাছাহাহ্ , পৃ. 40 ; সুনানে তিরমিযী , 4র্থ খণ্ড , পৃ. 715 , মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল , 2য় খণ্ড , পৃ. 549 ।
108 । নাহ্জুল ফাছাহাহ্ , পৃ. 120 ।
109 । বাকারা : 24 ।
110 । মুহাজ্জাতুল বাইযা , 5ম খণ্ড , পৃ. 177 ।
111 । সাদ : 82 ও 83 ।
112 । নাহ্জুল ফাছাহাহ্ , পৃ. 499 ।
113 । নাহ্জুল ফাছাহাহ্ , পৃ. 499 , মান লা ইয়াহ্যার , 2য় খণ্ড , পৃ. 247 ।
114 । ওয়াসায়েলুশ শিয়া , 3য় খণ্ড , প. 357 ।
115 । ইসরা : 84 ।
116 । নাহ্জুল ফাছাহাহ্ , পৃ. 509 ।
117 । সুনানে আবি দাউদ , 4র্থ খণ্ড , পৃ. 44 ।
118 । মিযানুল হিকমা , 2য় খণ্ড , পৃ. 102 ।
119 । মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল ,1ম খণ্ড , পৃ. 208 ।
120 । মায়া’ নিউল আখবার , পৃ. 401 ।
121 । নাহ্জুল ফাছাহাহ্ , পৃ. 166 , সহীহ্ মুসলিম , 2য় খণ্ড , পৃ. 1020 , সুনানে তিরমিযী , 3য় খণ্ড , পৃ. 464 ।
122 । মিযানুল হিকমাহ্ , 2য় খণ্ড , পৃ. 564 ।
123 । প্রাগুক্ত ।
124 । মায়া’ নিউল আখবার , পৃ. 144 , ওয়াসায়েলুশ শিয়া , 14তম খণ্ড , পৃ. 17 ।
125 । সাফিনাতুল বিহার , 1ম খণ্ড , বাবে বালাসা ।
126 । উছুলে কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ. 507 ।
127 । ইউনুস : 23 ।
128 । কেইহান পত্রিকা (ফার্সী) : 6/3/70 ফার্সী ।
129 । প্রাগুক্ত: 22/4/70 ফার্সী ।
130 । সাফ ম্যাগাজিন (ফার্সী) , 81 নং সংখ্যা ।
131 । কেইহান পত্রিকা (ফার্সী) : 1/4/71 ফার্সী ।
132 । প্রাগুক্ত : 4/4/71 ফার্সী ।
133 । প্রাগুক্ত : 4/4/71 ফার্সী ।
134 । প্রাগুক্ত : 7/4/81 ফার্সী ।
135 । প্রাগুক্ত : 7/4/71 ফার্সী ।
136 । সাফ ম্যাগাজিন (ফার্সী) , 82 নং সংখ্যা ।
137 । কেইহান পত্রিকা (ফার্সী) : 4/4/71 ফার্সী ।
138 । প্রাগুক্ত : 7/4/71 ফার্সী ।
139 । কেইহান পত্রিকা : 24/11/70 ফার্সী ।
140 । আজকের নারী ম্যাগাজিন (ফার্সী) , সংখ্যা-1330 , 6/6/70 ফার্সী ।
141 । ঔষধ ও চিকিৎসা বিচিত্রা (ফার্সী) , সংখ্যা-870 ।
142 । কেইহান পত্রিকা (ফার্সী) : 19/5/70 (ফার্সী) ।
143 । ইত্তেলায়াত পত্রিকা (ফার্সী) : 14/4/46 (ফার্সী) ।
144 । কেইহান পত্রিকা (ফার্সী) : 18/3/71 ।
145 । উছুলে কাফী , 5ম খণ্ড , পৃ. 543 ।
146 । সাফ বিচিত্রা (ফার্সী) , 1365 ফার্সী সন ।
147 । কাইহান পত্রিকা (ফার্সী) : 29/3/71 ।
148 । জুমহুরিয়ে ইসলামী পত্রিকা (ফার্সী) 28/3/73 (ফার্সী) ।
149 । নাহ্জুল ফাসাহাহ্ , হাদীস নং- 564 , ও কুদাক আয নাজারে এরাসাত , 1ম খণ্ড , পৃ.-64 ।
150 । উত্তরাধিকারের দৃষ্টিতে শিশু , 2য় খণ্ড , পৃ. 65 ।
151 । আল হিকামুয যাহিরাহ্ , পৃ. 369 ।
152 । ঈজিয়ান সমূদ্রে অবস্থিত ।
153 । ইসলাম ও ইউরোপে নারীর অধিকার , পৃ.-5 ও 7 ।
154 । নূর : 31 ।
155 । সূরা আহযাব : 59 ।
156 । হিজাব বিষয় , পৃ. 157 ।
157 । নূর : 58 ।
158 । দ্রষ্টব্য : শিশুদের যৌন সমস্যা গ্রন্থ ।
159 । সূরা আহযাব : 60 ।
160 । মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল , (পুরাতন প্রিন্ট) , 2য় খণ্ড , পৃ.555 , বিহারুল আনোয়ার , 76তম খণ্ড , পৃ.101 ।
161 । কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ.521 ।
162 । ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর রেসালাতুল আমালিয়াহ্ , 2433 , তাহরিরুল ওয়াসিলাহ্ , 2য় খণ্ড , পৃ. 244 ।
163 । কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ. 521 , মুসতাদরাক , 2য় খণ্ড , পৃ. 555 ।
164 । হিজাব বিষয় , পৃ. 134 , সুনানে আবু দাউদ , 4র্থ খণ্ড , পৃ. 62 ।
165 । কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ. 521 ।
166 । মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল , 2য় খণ্ড , পৃ. 549 ।
167 । প্রাগুক্ত ।
168 । শেইখ হুররে আমেলি ও ওয়াসায়েলুশ শিয়া , 3য় খণ্ড , পৃ. 281 ।
169 । দৈনিক জুমহুরী ইসলামী (পত্রিকা) 2/7/68 (ফাসী) ।
170 । কেইহান (ইরানী পত্রিকা) , 4/4/71 ফার্সী ।
171 । , ঐ ,7/4/71 ফার্সী ।
172 । নাহজুল বালাগা , চিঠি-31 ।
173 । ইসরা’ : 84 ।
174 । তাবারসি , মাকারেমুল আখলাক , পৃ. 233 ।
175 । মুসতাদরেকুল ওয়াসায়েল , 2য় খণ্ড , পৃ. 558 ।
176 । প্রাগুক্ত , পৃ. 555 ।
177 । প্রাগুক্ত ।
178 । ওয়াসায়েল , 14তম খণ্ড , পৃ. 122 ।
179 । প্রাগুক্ত ।
180 । বিস্তারিত জানতে দেখুন : মার্জাদের রিসালাহ্সমূহ (অনুসরণীয় ধর্মীয় পণ্ডিত ও ফকীহদের ব্যবহারিক দিক-নির্দেশনা , নাজাসাতের অধ্যায়) ।
181 । পত্রিকা : জুমহুরি ইসলামী , 28/10/68 ফার্সী ।
182 । হিজাব বিষয় , পৃ. 5 ।
183 । আহযাব : 59 ।
184 । তাফসিরে রুহুল মাআনি , 2য় খণ্ড , পৃ. 82 ; তাফসিরে মাজমাউল বায়ান , 4র্থ খণ্ড , পৃ. 2 369 , মেসবাহুল মুনির ও মুফরাদাতে রাগিব ।
185 । নূর : 60 ।
186 । সূরা আহযাব : 32 ও 33 ।
187 । নূর : 31 ।
188 । কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ. 518 ।
189 । ওয়াসায়েল , 14তম খণ্ড , পৃ. 134 ।
190 । ওয়াসায়েল , 3য় খণ্ড , পৃ. 279 ।
191 । মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল , 2য় খণ্ড , পৃ. 548 ।
192 । কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ. 533 ।
193 । মা’ সুমগণের (আ.) উক্তি , কাজ ও আচরণ (তাদের সামনে সম্পাদিত কোন কর্মের ক্ষেত্রে তাদের নিরবতা পালন) যে দলিল অর্থাৎ ঐ কাজ সবার জন্য বৈধ হওয়ার প্রমাণ তা যেভাবে উসুলের কিতাবসমূহে উল্লেখিত হয়েছে তাই এখানে তুলে ধরা হয়েছে ।
194 ।
انه لما اجمع ابو بکر و عمر علی منع فاطمه (س) فدکا و بلغها ذلک لاثت خمارها علی راسها و اشتملت بجلبابها
মরহুম তাবারসি তার ইহতিজাজ নামক গ্রন্থে বলেছেন : যখন আবুবকর ও ওমর সিন্ধান্তনিয়েছিল যে , হযরত ফাতিমা (আ.)-এর কাছ থেকে ফাদাক ছিনিয়ে নিবে তখন তিনি বোরকার নিচে মস্তকাবরণ পরে নারীদের সঙ্গে নিয়ে বক্তৃতা দানের লক্ষ্যে বাড়ি থেকে বের হন এ অবস্থায় যে তাঁর সমস্ত শরীর আবৃত ছিল ।
195 । নিযামে হুকুকে যান , পৃ. 150 ।
196 । রিসালাতে নোভিন , 3য় খণ্ড , পৃ. 50 ।
197 । নাহ্জুল বালাগা , পত্র নং-53 ।
198 । বাকারা : 120 ।
199 । ওয়াসয়েলুশ শিয়া , 2য় খণ্ড , পৃ. 876 ।
200 । ওয়াসয়েলুশ শিয়া , 2য় খণ্ড , পৃ.876 ।
201 । সাইয়্যেদ ইবনে তাউস , লুহুফ ।
202 । সাইয়্যেদ রাজি ইবনে বনী কাযভিনি , তাযাল্লামুয যাহরা ।
203 । নাফসুল মাহমুম , পৃ.429 ।
204 । মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল , 2য় খণ্ড , পৃ. 548 ।
205 । প্রাগুক্ত ।
206 । প্রাগুক্ত , পৃ. 550 ।
207 । প্রাগুক্ত , পৃ. 548 ।
208 । প্রাগুক্ত ।
209 । প্রাগুক্ত ।
210 । প্রাগুক্ত ।
211 । প্রাগুক্ত ।
212 । প্রাগুক্ত ।
213 । প্রাগুক্ত ।
214 । প্রাগুক্ত ।
215 । হুদ : 114 ।
216 । নিসা : 31 , আনকাবূত : 7 , ফুরকান : 70 ।
217 । মুসতাদরাক , 2য় খণ্ড , পৃ. 548 ।
218 । প্রাগুক্ত ।
219 । প্রাগুক্ত ।
220 । প্রাগুক্ত ।
221 । প্রাগুক্ত ।
222 । প্রাগুক্ত ।
223 । প্রাগুক্ত , পৃ. 549 ।
224 । প্রাগুক্ত , পৃ. 550 ।
225 । নূর : 30-31 ।
226 । সহীহ মুসলিম , 7ম খণ্ড , পৃ.3 , কিতাবুস সালাম , বাব : হাক্কুল জুলুস আ’ লাত তারিক ।
227 । সূরা আহযাব : 32-33 ।
228 । কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ. 519 ।
229 । নূর : 31 ।
230 । কাফি , 5ম খণ্ড , পৃ. 518 ।
231 । নূর : 31 ।
232 । নাহ্জুল ফাসাহাহ্ , হাদীস নং-2008 ।
233 । নাহ্জুল ফাসাহাহ্ , হাদীস নং-2600 ।
234 । সহীহ বুখারী , 11তম খণ্ড , পৃ. 246 । কিতাবুন নিকাহ্ ।
235 । তৌযিহুল মাসায়েল , মাসয়ালা নং-466 ।
236 । উরওয়াতুল উসকা , 1ম খন্ড , ঋতুস্রাব অধ্যায় , পৃ. 315-316 , তৌযিহুল মাসায়েল , মাসয়ালা নং-434-441.
237 । তৌযিহুল মাসায়েল , মাসয়ালা নং-450 ।
238 । তৌযিহুল মাসায়েল , মাসয়ালা নং-469 ।
239 । ইসতিফতায়াত , 1ম খণ্ড , পৃ. 470 ,প্রশ্ন-111 ।
240 । উরওয়াতুল উসকা , 1ম খণ্ড , পৃ. 226 , মাসয়ালা নং-8 ও পৃ. 228 , মাসয়ালা নং- 15 , তৌযিহুল মাসায়েল , মাসয়ালা নং-499 ,500 ।
241 । তৌযিহুল মাসায়েল , মাসয়ালা নং-466 ।
242 । প্রাগুক্ত ।
243 । প্রাগুক্ত ।
244 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং-392 ।
245 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং-393 ।
246 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং -393 ,394 ।
247 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং -393 ,395 ।
248 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং -396 ।
249 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং -412 ।
250 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং -391 ।
251 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং -511 ।
252 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং -515 ।
253 । প্রাগুক্ত , মাসয়ালা নং -513 ।
254 । আল উরওয়াতুল উছকা , 1ম খণ্ড , পৃঃ-210 , তৌযিহুল মাসায়েল , মাসয়ালা নং- 391 ।
Contents
সূচিপত্র
তৌহিদী ব্যবস্থার দৃষ্টিতে নারী সমাজ দু ’ শ্রেণীতে বিভক্ত 9
পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা 10
সূরা কাউছারের তিনটি আয়াতের তিনটি অলৌকিকত্ব 17
হাদীসের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা 21
ইসলাম পূর্ব নারীগণ 23
ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ের নারীগণ 27
হযরত যয়নাব (আ.) আত্মত্যাগ , ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি : 31
ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর অধিকারসমূহ 35
পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্যসমূহ 46
যে নারী বাড়ীর লোকদের খেদমত করে তার সওয়াব ও মর্যাদা 49
নারীর জিহাদ 51
শিশু লালন-পালনের সওয়াব 54
নারীদের কর্মের গোপন ও প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশিত হবে 58
কিয়ামতের দিনে মানুষের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে 62
মানুষের শরীরের অঙ্গ - প্রত্যঙ্গগুলো আল্লাহ তা ’ য়ালার পক্ষ থেকে আমানত স্বরূপ 64
হাদীসের দৃষ্টিতে বে - পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করার অনিষ্টতা ও ক্ষতিকর দিকসমূহ 65
সঠিকভাবে পর্দা মেনে না চলা নারীরাই শয়তানের উপযুক্ত হাতিয়ার : 66
শয়তান সম্পর্কে কিছু আলোচনা 68
বে-পর্দা নারী ও সঠিক পর্দা না মানা নারীরা হচ্ছে জাহান্নামী : 81
প্রকৃত পক্ষে বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা হচ্ছে শয়তান : 82
বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীদের দ্বীন ও ঈমান হচ্ছে দুর্বল : 85
বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা প্রকৃত মুসলমান নয় : 86
প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে অপ্রচলিত নতুন কোন পোশাক পরা : 87
বে - পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা হচ্ছে মুনাফিকদের সারিতে : 90
খোদাভীতিশূন্য নারী শয়তান রূপে প্রকাশিত হয় : 91
বে-পর্দা ও সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীর লজ্জা নেই : 92
বেপর্দা ও সঠিক পর্দা না করা নারীর মূল্য কম : 93
বে - পর্দায় থাকা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারী স্বামীর অধিকারকে নষ্ট করে : 96
বে-পর্দায় থাকা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীরা হচ্ছে ব্যক্তিত্বহীন : 99
বে-পর্দা ও সঠিকভাবে হিজাব না করা নারীরা মানসিক অশান্তিতে ভোগে : 101
পাশ্চাত্যের বেপর্দা ও তাকওয়াহীনতা 105
গণহত্যা : 108
আত্মহত্যা , দুর্ঘটনা ও মদপানজনিত মৃত্যু : 110
তালাকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিবার নামক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস : 111
অবৈধ সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধি : 112
গর্ভপাত করা ও তার ক্ষতিকর দিকসমূহ : 113
পাশ্চাত্যে সমকামিতা ও তার নিদারুণ পরিণতি : 114
চুরি , ধর্ষণ এবং নিরাপত্তাহীনতা : 116
সন্তানের উপর বে-পর্দার ধ্বংসাত্মক প্রভাব : 118
আয়াত রেওয়ায়েত ও আক্বলের দৃষ্টিতে হিজাব 121
পবিত্র কোরআনে হিজাব 122
রেওয়ায়েতে হিজাব 127
হিজাবের দর্শন 131
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে হিজাব 133
হিজাব পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে 135
নারীদের হিজাব ও সতীত্বের উপরই সমাজের উন্নতি ও টিকে থাকা নির্ভরশীল 137
অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে হিজাব 138
রাজনৈতিক দৃষ্টিতে হিজাব 140
হিজাবের কারণেই নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে 141
হিজাব ফ্যাশান প্রীতি , অপচয় ও ভোগবাদী সংস্কৃতি রোধ করে থাকে 143
হিজাব বিরোধীদের বক্তব্য 145
হিজাবের বিশেষ গুরুত্বসমূহ 150
পর্দা করা নারীর বক্তব্য 153
বেপর্দা বা সঠিকভাবে পর্দা না করা নারীদের বক্তব্য : 154
উত্তম নারী কারা ?157
পর্দার সব থেকে উত্তম উপায় কী ?160
পর্দার বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে বোরকার গুরুত্বের কারণ 163
বোরকা পরিহিতা নারীর উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথা 173
হযরত ফাতিমা (সালামুল্লাহ আলাইহা)-এর শিক্ষা 174
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কন্যার কাছ থেকে হিজাব ও সচ্চরিত্রতার শিক্ষা 176
হাউলার হাদীস 178
একজন নারীর ব্যক্তিগত , নৈতিক , সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব 190
নারীদের নির্ধারিত গোসলগুলি 195
ঋতুস্রাবের গোসল 196
ইসতিহাযা ও নিফাসের গোসল : 200
নিফাসের গোসল : 202
তথ্যসূত্র : 203