শাফাআত
গ্রুপিং ধর্ম এবং মাযহাব
লেখক উস্তাদ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ কাজাভী
বইয়ের ভাষা بنگلادشی
মুদ্রণ বছর 1404

শাফাআত

লেখক:

উস্তাদ সাইয়েদ মোহাম্মদ কাজাভী

অনুবাদ:

মোঃ সামিউল হক


পরম করুনাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি


শাফাআত

লেখক : উস্তাদ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ কাজাভী

অনুবাদ : মোঃ সামিউল হক

সম্পাদনা : মির আশরাফ-উল-আলম

প্রথম প্রকাশ

তারিখ: 2005

প্রকাশক : খেদমতে ইসলামী সংস্থা , কোম , ইরান

প্রকাশক কর্তৃক সর্ব সত্ত সংরক্ষিত


ভূমিকা

আল্লাহ রাব্বুল আ লামিনের প্রতি অশেষ শুকরিয়া যে , তিনি মানুষকে বিবেক দানের মাধ্যমে অন্যান্য পশু থেকে আলাদা করেছেন। বিবেক হচ্ছে এমন এক ঐশী সম্পদ যার গুরুত্ব পরিমাপ করা সম্ভব নয়। আর মানুষ এই বিবেকের মাধ্যমেই সত্য অনুসন্ধান করতে পেরেছে এবং অসত্য বা ভুল পথকে নির্দিষ্ট করতে।

প্রকৃত পক্ষে কাল কেয়ামতের দিনেও এই বিবেক দিয়েই হিসাব-নিকাশ করা হবে। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আ লামিন ভাল থেকে মন্দ আর নেকি থেকে ত্রুটিকে আলাদা করার জন্যেই মানুষের মাঝে তা দিয়েছেন। আর এই বিবেকই হচ্ছে সে দিনের ঐ সমস্ত কিছুর ব্যাপারে দায়িত্বশীল।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে , দ্বীন ইসলাম অন্যান্য দ্বীনের বিপরীতে পরিপূর্ণ একটি দ্বীন ও ধর্ম হওয়া সত্বেও আমরা দেখতে পাচ্ছি তা অন্যান্য দ্বীনের মতই দলে দলে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণেই মুসলমানগণ দুর্বল হয়ে পড়ছেন। এর প্রকৃত কারণ হচ্ছে একটাই আর তা হল , হাদীসে সাকালাইনের প্রতি দৃষ্টি না দেয়া। যে হাদীসটি অতি প্রসিদ্ধ ও মুতাওয়াতির সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে আমাদের কাছে এসে পৌছেছে। তাই যে কেউ এই হাদীসটির মাধ্যমে সত্য পথের ঠিকানা খুজবে , আল্লাহ রাব্বুল আ লামিন তাকে গোমরাহী থেকে রক্ষা করবেন। আর এর বিপরীতে যে কেউ এই হাদীসটির সাথে বিরোধিতা করবে বা ইজতিহাদ করবে অথবা নফসকে তার বিপরীতে স্থান দিবে তারা গোমরাহ্ হয়ে যাবে।

যে বইটি বর্তমানে আপনাদের হাতে আছে তা একজন তাকওয়া সম্পন্ন বিশিষ্ট লেখকের সুদীর্ঘ কষ্টের ফসল। যা তিনি বিবেক সম্মত দলিল ও যুক্তি দিয়ে লিখেছেন। এই বইটি ব্যবহারের মাধ্যমে সত্যের পথ খুজে পাওয়ার অধিকার আপনাদের রয়েছে। তবে এই বইতে যে সকল দলিল ব্যবহার করা হয়েছে তা অতি উচ্চমানের এবং অধিক গ্রহণযোগ্য। সর্বোপরি এই বইতে উল্লেখিত প্রতিটি দলিলই হচ্ছে বিবেক সম্মত এবং যা কিছু তার সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে তাতে আল্লাহ রাব্বুল আ লামিনেরও সহানুভতি থাকে।


মুখবন্ধ

ইসলাম ধর্মের আকিদা বিশ্বাসের মধ্যে যে বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন রকম মতামত পেশ করা হয়েছে এবং যার ফলে ইসলামের মূল ভাব ধারা থেকে তার অর্থ বিচ্যুত হয়েছে তা হল শাফাআত। অথচ যদি এই বিষয়টি ইসলাম ধর্মের মূল উৎস সমূহ হতে গ্রহণ করা যায় এবং সত্যিকার অর্থ অনুধাবন করা হয় তাহলে এটা একটা উজ্জল ও স্পষ্ট বিষয়ে পরিনত হবে যা সকলের জন্যই গ্রহন যোগ্য বিষয়ে বিবেচিত হবে। স্পষ্ট ধারনা না থাকার কারণে শাফাআত আমাদের মাঝে বিকৃত ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আর তাই শাফাআতের বিষয়টিকে কুফর , গুনাহ ও ইত্যাদি বলেও অভিহিত করা হয়।

বিশ্বের অন্যান্য ভাষাভাষী ভাই বোনদের মত বাংলা ভাষাভাষী ভাই বোনদের মাঝেও এ বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনার অভাব পরিলক্ষ্যিত করেছি। এ বইটি বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী ভাই বোনদের উক্ত অভাব পূরণ করবে বলে আমার বিশ্বাস। শুধু তাই নয় এই বইটি মনযোগ সহকারে অধ্যয়ন করলে দুনিয়া ও আখেরাতের অসংখ্য মুসিবত থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব হবে। মূলতঃ শাফাআতের মূল বিষয়ে কোন দ্বিধা দন্দ নেই। ইসলামের সকল মাযহাবের অনুশারিগণই শাফাআতের মূল বিষয়ে একমত। যে বিষয় নিয়ে অনৈক্য পরিলক্ষিত হয় তা শুধুমাত্র শাফাআতকারীগণদের দৃষ্টান্ত , উপমা এবং খুটিনাটি ও আনুসাঙ্গিক বিষয় সমূহ।

বইটি মূলতঃ একটি ফারসী বই থেকে অনূদিত ; অন্যক ব্যস্ততার মাঝে এই গুরুদায়িত্বটি পালন করতে সক্ষম হয়েছি , ভুল ভ্রান্তি থাকাই স্বাভাবিক , আর এজন্য অধম বান্দার প্রতি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি রাখার জন্য পাঠকবৃন্দের প্রতি অনুরোধ রাখছি। অধিকন্তু যদি কেহ সংশোধনিতে মতামত জানিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে থাকেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকবো এবং পরবর্তী সংষ্করণে তা সংশোধন করার ওয়াদা দিচ্ছি।

বইটি প্রকাশে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন , ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সলেশন এণ্ড রিসার্চ সেন্টার ইমাম আলী (আঃ) ফাউণ্ডেশন। আশা করছি ভবিষ্যতেও বাংলাভাষা ভাষী ভাইবোনদের প্রয়োজনীয়তা পূরণে নতুন নতুন বই প্রকাশে সহযোগিতা করবে। কেয়ামতের সেই মহা মুসীবতের সময় আল্লাহ তালা আমাদের জন্য তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম) কে সেই মাকামে মাহমুদে অধিষ্টিত করুক এবং আমাদেরকে তার শাফাআত নসীব করুক , আমিন।

মোহাম্মদ সামিউল হক


প্রথম অধ্যায়

শাফাআতের আভিধানিক অর্থ ও পারিভাষিক অর্থ

শাফাআতের প্রভাব ও কারণ সমূহ

আমলের প্রতিচ্ছবি ও শাফাআত

পাপ মোচনের জন্য শাফাআত


শাফাআতের আভিধানিক অর্থ

শাফাআত আরবী শব্দشفع থেকে নেয়া হয়েছে এর অর্থ হল একই প্রকার কোন বস্তুর সাথে অনুরূপ বস্তুর সংযোজন। এবং এই সংযোজনের উদ্দেশ্য হল সাহায্য করা। আর এজন্য অবশ্যই দ্বিতীয় বস্তুটির আবেদন থাকা বাঞ্চনীয়। আর তাই সাধারনত ঊর্দ্ধতন মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি নিম্নস্তরের ব্যক্তির জন্য শাফাআত করে থাকে।1

شفع বিপরীত শব্দ হলوتر অর্থাৎ একক। আর একটি বস্তুর সাথে অনুরূপ আরেকটি বস্তুর সংযোজন কে সহপাটি , জোড়া শাফা বলা হয়।2

ইবনে ফারেস বলেন: যে ব্যক্তি শাফাআতের জন্য উদ্দোগী হয় , তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিজস্ব শক্তি সামর্থ যথেষ্ট নয় ; আর তাই অন্য এক ঊর্দ্ধতম শক্তির সাথে নিজের বন্ধন সৃষ্টি করে এবং নিজস্ব উদ্দেশ্য হাসিল করে।3

المشفَّع শব্দের অর্থ হল ; যে ব্যক্তি শাফাআত করলে আল্লাহর দরবারে কবুল হয় , যেমন নবী , রাসূল ও ইমাম (আঃ) গণ।

المشفِّع শব্দের অর্থ হল ; যিনি শাফাআত কবুল করেন এবং তিনি হলেন একমাত্র উপাস্য আল্লাহ তালা।شفیع শব্দের অর্থ হল ; যে ব্যক্তি শাফাআত করে থাকে (এটা সেফাতে মোশাব্বেহা যার অর্থ হবে এসমে ফায়েল)।

شفعاء শব্দটিشفیع শব্দের বহুবচন।


শাফাআতের পারিভাষিক সংজ্ঞা

ইবনে আসির বলেন: শাফাআত হল অতীতের গুনাহ খাতা ও ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করার জন্য আবেদন।4

ভূতপূর্ব আলেমগণ শাফাআতের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেছেন ,5 এ ব্যাপারে কোন রকম গবেষণা চালাননি। আর পরবর্তী আলেমগনের বিশ্বাস হল: শাফাআত এক প্রকার দোয়া যা আল্লাহ তালা কবুল করে থাকেন।

আমাদের মতে , শাফাআত হল কোন বস্তু বা ব্যক্তি অন্য কোন গুনাহগার ব্যক্তির গুনাহ খাতা মাফ করানোর জন্য কিয়ামতের দিনে ওসিলা হওয়া।

আর এর ব্যাখ্যা হল: কোন ব্যক্তি যখন তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিজেকে দুর্বল মনে করে। তখন নিজের প্রচেষ্টার সাথে সাথে অন্য এমন এক ব্যক্তির সহযোগিতা কামনা করে যার সেরূপ যোগ্যতা রয়েছে। আর তাই এমন এক ব্যক্তির শাফাআত কামনা করে যিনি আল্লাহ তালার কাছে অতি সম্মানিত এবং যার শাফাআত আল্লাহ তালা কবুল করে থাকেন।

শাফাআতের প্রকারভেদ

প্রত্যেক মুসলমানকে অবশ্যই শাফাআত সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। কিন্তু যেহেতু বিভিন্ন প্রকার শাফাআতের ব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে তাই এ বিষয় স্পষ্ট করার জন্য আমরা পথেমে নানাবিধ শাফাআতের ব্যাখ্যা তুলে ধরবো , অতঃপর শাফাআতের সঠিক ধারণাটি পরিষ্কার করে তুলব।

1। বিশ্ব জগতের সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় শাফাআত

বিশ্ব জগতের সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় শাফাআতের প্রভাব রয়েছে।

আল্লামা তাবাতাবাই (রহঃ) এর মতে , শাফাআত নিজেই একটি কারণ এবং শাফাআত প্রার্থী ব্যক্তি ক্ষমা পাওয়ার জন্য নিকটতম উসিলা হিসেবে শাফাআতকারীর আশ্রয় নিয়ে থাকে ; এবং অন্যান্য উসিলা সমূহের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে সেটিই গ্রহন করে। এ বিষয়টিই শাফাআতের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।6

তবে আমরা শাফাআত সম্পর্কে এমন ধারণা পোষন করি যে , আল্লাহ তালা দুই ভাবে শাফাআত কবুল করে থাকেন প্রথমত বিশ্ব জগতের সৃষ্টি প্রক্রিয়ার বিষয় ও দ্বিতীয়ত শরিয়তি বিষয়।

প্রথম মতে , আল্লাহ তালা সর্ব প্রকার কার্য কারণ সমূহের উৎস এবং অন্য সব কারণ সমূহ অবশেষে তার কাছেই সমাস্থি লাভ করে। পবিত্র কোরআন শরিফও এ বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ করেছে উদাহরণস্বরূপ:

) إ ِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ(

তোমাদের সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ তা লা আসমান ও জমিনকে সাতদিনে সৃষ্টি করেছেন । অতঃপর আরশের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং সৃষ্টির ধারাবাহিকতা আনয়ন করলেন । তার অনুমতি ছাড়া কেহই উসিলা হতে পারবেনা (শাফাআত করতে পারে না)।7

যদিও এ আয়াতটি আসমান ও জমিনের সৃষ্টির প্রতি নির্দেশ করে তবে আমাদের লক্ষ্যনীয় বিষয়টি হলيُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ এবং তা শাফাআতের মাধ্যমে বিশ্ব জগতের সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে এবং এটাই সত্যিকার কারণ ও উসিলা হিসেবে গন্য হবে ।

আমাদের মতে , বিশ্ব জগতের সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় শাফাআতের আভিধানিক অর্থ হল ক্ষমা প্রাস্থির কারণ সমূহের উসিলা ।

2 । শরিয়তি শাফাআত

এর অর্থ হল যা বাস্তব জীবনের দায়িত্ব কর্তব্যের ক্ষেত্রে প্রনিধানযোগ্য । আল্লামা তাবাতাবাই এ বিষয় সম্পর্কে বলেন: শাফায়াত কিছু সংখ্যক মানুষ ও ফেরেশতার জন্য নির্ধারিত তবে এজন্য আল্লাহর অনুমতি অত্যাবশ্যকীয় এবং আল্লাহর অনুমতিই শাফাআতের পরিপূর্ণতা দেয় । অর্থাৎ আল্লাহ তালঅ তার অনুমতি দিয়ে তার কিছু সংখ্যক বান্দাকে কবুল করে নেন , কারণ সমস্ত রাজত্ব ও কর্তৃত্ব তারই জন্য ।

অতএব আল্লাহ তালা তার সেসব বান্দাগণকে এই পদমর্যাদা দান করেছেন তারা আল্লাহ তালার রহমত , ক্ষমা , মাগফেরাত ও অন্যান্য গুনাহবলীর উসিলা ধরে কিছু সংখ্যক গুনাহগার ব্যক্তিকে তার সাথে সংযুক্ত করে এবং যে সকল আযাব ঐ সকল ব্যক্তির প্রাপ্য ছিল তা থেকে ফিরিয়ে আনে । এভাবে যে সকল ব্যক্তি আযাব থেকে মুক্তি পায় ও আযাব ভোগ করতে হয়না । তাই শাফাআতের বিষয়টি আল্লাহর রাজত্ব ও কর্তৃত্বের শামিল এটা আল্লাহর রাজত্বের বিপরীত কোন বিষয় নয় । আর এ বিষয়টি আল্লাহর বানী দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় ।

) ف َأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ(

আল্লাহ তালা উক্ত ব্যক্তিদের গুনাহ খাতাকে সওয়াবে পরিবর্তন করেন।8

মূলত আল্লাহ তালা যা ইচ্ছা করেন তাই করে থাকেন ও যেকোন আদেশ বলবত করে থাকেন।9

শাফাআত সম্পর্কে আল্লামা তাবাতাবাঈর উক্ত ব্যাখ্যা শাফাআত ও দোয়া করা একই শ্রেনীভূক্ত আমাদের কাছে গ্রহন যোগ্য।

শর্ত সাপেক্ষে দোয়া করলে ক্ষতির সম্ভাবনা ব্যহত করে আল্লাহ তালা তার বান্দার প্রতি কল্যান বর্ষণ করেন। এ রকম ভাবে দোয়া করাই শাফাআতের আভিধানিক অর্থ। আর শাফাআতকারী পাপী বান্দার ক্ষমার কারণ হয়ে থাকে।

3। আমলের শাফাআত

এই প্রকার শাফাআতের ব্যাখ্যায় বলতে হয়:

মানুষ ও তার আমলের মাঝে এ দুনিয়ায় এক ধরনের আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সম্পর্ক কেয়ামতের দিনও বলবৎ থাকবে অর্থাৎ সেদিন এই আমল ভাষ্কর্য (প্রতিকৃতি) হয়ে উঠবে।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে বহু আয়াত রয়েছে তার কিছু সংখ্যকের প্রতি দৃষ্টিপাত করা শ্রেয় মনে করছি।

) ي َوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ(

মোফাসসেররগণ এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন: কেয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে তার নেতার সাথে পুনরুত্থান করা হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে , কেয়ামতের দিন ফেরাউন তার অনুসারীদের সাথে নিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে কারণ সে দুনিয়াতেও তাদের নেতা ছিল। নিম্নলিখিত আয়াত এ বিষয়ের সাক্ষ প্রদান করে।10

) ي َقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَوْرَدَهُمُ النَّارَ(

ফেরাউন কেয়ামতের দিন তার অনুসারীদেরকে জাহান্নামের আগুন নিক্ষেপ করবে।11

এখানে আরবী শব্দأَوْرَد - এর প্রতি মনোযোগ দিলে বুঝা যাবে যে , যে ফেরাউন তার গোত্রের জন্য গোমরাহির কারণ হয়ে ছিল সেই আবার কিয়ামতের দিন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। ফলাফল এই দাড়ায় যে , যেভাবে সে দুনিয়াতে তাদের অপকর্মের কারণ হয়েছিল কেয়ামতের দিনও সেভাবে জাহান্নামের কারণ হবে।

আমলের প্রতিকৃতি (ভাষ্কর্য) সম্পর্কে কিছু সংখ্যক হাদীসও বর্ণিত আছে। উদাহরণ স্বরূপ সে সব হাদীস নামাজ পড়া , রোজা রাখা ও কোরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য ভাষ্কর্য হয়ে দাড়াবে ও তার জন্য শাফাআত করবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , কেয়ামতের দিন কোরআন ও রোজা মানুষের জন্য শাফাআত করবে। রোজা বলবে , হে পরওয়ারদেগার! তার জন্য শাফাআত করার অনুমতি দাও , কারণ আমি ওকে সারাদিনভর খাওয়া ও পানাহার থেকে বিরত রেখেছি এবং কামভাব ও আকাংখ্যা থেকে বিরত রেখেছি। কোরআন বলবে , হে আল্লাহ! তার জন্য শাফাআত করার তৌফিক দাও , কারণ আমি তাকে রাতে ঘুমাতে দেইনি । তখন রোজা ও কোরআন শাফাআত করবে এবং আল্লাহ তালা তাদের শাফাআত কবুল করবেন।12

আহলে সুন্নাতের বড় এক আলেম শেখ তানতাভি শাফাআত সম্পর্কে বলেন , জেনে নাও , (উদাহরণস্বরূপ) , শাফাআতের বীজ , গাছ ও ফল রয়েছে। আর এগুলো হল কেয়ামতের দিনের নাযাত (আযাব থেকে মুক্তি) পাওয়ার উসিলা। আল্লাহর নবী রাসূল (আঃ) গণ মানুষকে শরিয়তের আহকাম শিক্ষা দিয়ে বীজ বপন করেন। আর মানুষ যদি সে অনুপাতে আমল করে তাহলে ফল লাভের যোগ্যতা অর্জন করে এবং কেয়ামতের দিন সেই ফল (আযাব থেকে মুক্তি) লাভ করে থাকবে। অতএব শাফাআতের শুরু হল শাফাআত সম্পর্কিত জ্ঞান , অতঃপর আমল ও সবশেষে সফলতা ও বেহেশতের উর্ধ্বতম মর্যাদা হল তার ফলাফল।13

আমাদের মতে , আমলের শাফাআত শাফাআতের এক রকম আভিধানিক অর্থ। আর শাফাআতের পারিভাষিক অর্থ অন্য রকম।


শাফাআত: পাপ মোচন অথবা অনুগ্রহ

এ ধরনের শাফাআতে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের মধ্যস্থতায় গুনাহের ক্ষমা এবং সে ক্ষেত্রে না দেখার ভাব করার শামিল। একে পাপ মোচন অথবা অনুগ্রহ মূলক শাফাআতও বলা হয়ে থাকে। এর কারণ হল , আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের মধ্যস্থতায় গুনাহগার বান্দাদের জন্য ক্ষমা অথবা অনুগ্রহ হয়ে থাকে। অর্থাৎ আল্লাহ তালা তার নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের উসিলায় তার অনুগ্রহ ও রহমত পাপী বান্দাদের (যারা আযাবের উপযোগী ছিল) উপর বর্ষণ করে থাকেন।

এর ব্যাখ্যায় বলতে হয় , আল্লাহ তালা অকল্পনীয় রহমতের মালিক। পবিত্র কোরআনের আয়াত সমূহও এ ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে কোরআনে এভাবে বলা হয়েছে , হে পরওয়ার দেগার তোমার অসীম জ্ঞান ও রহমত বিশ্ব জাহানকে ছেয়ে ফেলেছে।14

আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের উসিলায় পাপী বান্দাদের জন্য শাফাআত করা এক রকমের খোদায়ী রহমত বর্ষনের উপায়। তবে এর পেছনে সুক্ষ কারণ ও কারক নিহিত রয়েছে। আর আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাগণ সে সব পাপী ব্যক্তিদের শাফাআত করতে পারেন যারা শাফাআত পাওয়ার উপযোগী। এর অন্যমত একটা কারণ হল আল্লাহর রহমত।

উল্লেখিত তিন প্রকার শাফাআতের মধ্যে কোনটি পারিভাষিক শাফাআত বলে গন্য ?

উপরোক্ত আলোচনার পর বলা যেতে পারে যে , ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে এবং কোরআন নাযিলের সময়ে আরব জাতি শাফাআত সম্পর্কে যে ধারনা রাখতো তা হল , অনুগ্রহ মূলকঃ শাফাআত ও পাপমোচন যা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের মধ্যস্থতায় হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআনের শাফাআত সম্পর্কিত আয়াত সমূহ (যেগুলো কেয়ামত দিবসের ইঙ্গিত বহন করে) ঠিক একই প্রকার শাফাআত আর এই আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বেও মানুষের মাঝে শাফাআত সম্পর্কিত ধারণা ছিল। এবং পবিত্র কোরআনের শাফাআত সম্পর্কিত আয়াত সমূহও যেগুলো হয় শাফাআত কে সত্যায়িত করেছে অথবা পত্যাক্ষান করেছে) ঠিক একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যে ধারনা পূর্ববর্তী মানুষের মাঝে বলবত ছিল এবং কিছু কিছু আয়াত সমুহ শাফাআতের শর্ত ও সীমানা নির্ধারণ করেছে।

মূলতঃ সংক্ষিপ্তভাবে বলা যেতে পারে যে , শাফাআতের অর্থ হল সুপারিশকারীর উসিলায় পাপমোচন। ভূতপূর্ব মোফাসসের ফখরুদ্দীন রাযী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম এর মাকামে মাহমুদ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন , আহলে সুন্নতের মতে: পাপ মোচনের জন্য শাফাআত করা হয়ে থাকে। তিনি তার আলোচনায় বলেন যে , আজাব থেকে মুক্তির জন্য মানুষের প্রচেষ্টা উচ্চ মর্যাদা লাভের চেষ্টা ও ভাল কাজের প্রচেষ্টা চেয়ে শ্রেয়তর। কারণ মানুষ যদি পাপ মোচনের চেষ্টা না করে সফলতা ও কল্যাণ লাভের চেষ্টা করে থাকে তাহলে তাতে তার কোন লাভ হবে না সেই পাপের কারণে তাকেতো জাহান্নামে যেতে হবে।

عسی أن یبعثک ربّک مقاما محمودا

অর্থ: অতি শীঘ্রই আপনাকে মাকামে মাহমুদে অধিষ্ঠিত করবেন। এই আয়াতের উদ্দেশ্য হল শাস্তি থেকে পরিত্রাণ।

আমাদের মতে শাফাআতের পারিভাষিক অর্থ হল ,কেয়ামতের দিন (আল্লাহ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের উসিলায়) পাপমোচন। পবিত্র মাসুমিন (আঃ) দের থেকে বর্ণিত হাদীস সমূহেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।


দ্বিতীয় অধ্যায় : শাফাআতের দলিল প্রমাণ

1। কোরআনের আয়াত সমূহ

2। হাদীস সমূহ

3। এজমা

4। আক্বল (বিবেক)


কোরআনের আলোকে শাফাআত

ক- যে সকল আয়াত সমূহ শাফাআতকে প্রত্যাখ্যান করে সেগুলোর পর্যালোচনা।

) ي َا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ(

ওহে বনি ইসরাঈলগণ স্মরণ কর , সেসব নেয়ামতের কথা যে গুলো তোমাদেরকে দান করেছি ; এবং তোমাদেরকে বিশ্ব বাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি (তোমাদেরকে রাসূল দিয়েছে এবং কিতাব) ; আর সে দিনকে ভয় কর যে দিন কাউকে অন্য কাহারো পুরষ্কার দেয়া হবে না এবং কারো জন্যে অন্য কারো শাফাআত গ্রহণ করা হবে না ; এবং কারো প্রতিদান (ক্ষতিপূরণ) অন্য কারোও জন্য গ্রহণ করা হবে না এবং সেদিন কোন সাহায্যকারীই থাকবেনা।15

) ي َا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ () وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا تَنْفَعُهَا شَفَاعَةٌ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ(

উপরোক্ত দুই আয়াতে যদিও শাফাআত সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণা পেশ করা হয়েছে মূলতঃ তা শাফাআতের ফলাফলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । কেয়ামতে শাফাআত সংগঠিত হ্ওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় । উপরোক্ত দুই আয়াতে বনি ইসরাঈলদের পোষিত ধারণা (যেহেতু তারা নবী রাসূলদের সন্তান তাই তারা অবশ্যই বেহেশতে যাবে) কে খণ্ডন করা হয়েছে আর তাই বলা হয়েছে তাদের জন্য কোন শাফায়াতকারী সে দিন থাকবেন ।16

) و َلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُمْ مَا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنْكُمْ مَا كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ(

(কেয়ামতের দিন বলা হবে) সত্য সত্য তোমরা একে একে সবাই আমার কাছে (হিসাবের জন্য) ফিরে এসেছ ঠিক যেভাবে প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছিলাম তা সবই পিছনে ফেলে রেখে এসেছ। আমিতো তোমাদের সাথে তোমাদের সেই শুপারিশ কারীদের দেখছিনা , যাদের সম্পর্কে তোমাদের ভুল ধারণা ছিল যে তারা তোমাদের সাথে (অংশীদার হয়ে) থাকবে। বাস্তবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের কল্পিত দাবী সমূহ উধাও হয়ে গেছে।17

এই আয়াতে মুশরিকদের আকিদা বিশ্বাসকে ধিক্কার দেয়া হয়েছে (তাদের ধারণা ছিল যে , তাদের এবাদতকৃত মুর্তিগুলো কেয়ামতের দিন তাদের জন্য শাফাআত করবে)।

) ي َا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لَّا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ(

হে ঈমানদারগণ আমি তোমাদেরকে যে রুজি দিয়েছি , তা থেকে সেদিন আসার পূর্বেই দান কর , যে দিন না আছে কোন কেনাকাটা আর না আছে কোন বন্ধুত্ব ও সুপারিশ (শাফাআত)। আর কাফেররাই হল প্রকৃত জালিম।18

এই আয়াত সম্পর্কে কয়েক প্রকার জবাব দেয়া হয়েছে।

প্রথমত : দুনিয়া সৃষ্টির আগ থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সমস্ত শক্তি , ক্ষমতা , সম্পদ ও নেয়ামতের সত্যিকার মালিক হল পরওয়ার দেগার আল্লাহ তালা , তিনি সেদিন সমস্ত বাকশক্তি ও কারণ সমূহ বন্ধ করে দিবেন। অতএব এই আয়াত দ্বারা যা বুঝা যায় তা হল যে , শাফাআতের মূলে যা ধারণা করা হয় যেমন , সম্পদ ও শক্তি কেয়ামতের দিন তা বাতিল হয়ে যাবে। অতএব উক্ত আয়াত শাফাআতের মূল বিষয়কে অস্বীকার করেনা বরং শাফাআতের ভুল ধারণাকৃত কারণ সমূহকে অস্বীকার করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তালা যদিও এই আয়াতে শাফাআতকে অস্বীকার করেছেন তবে পরবর্তী আয়াতে শাফাআতকে প্রমাণ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে ;

) م َن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ(

এমন কে আছে আল্লাহর কাছে শাফাআত করবে তার অনুমতি ব্যতীত ।19

(তবে) আল্লাহর কাছে তারা শাফাআত করতে পারবে যাদেরকে তিনি অনুমতি দেবেন।

এই আয়াতের উল্লেখিত প্রশ্নের উদ্দেশ্য হল স্বীকারোক্তি গ্রহণ করা। এবং আরবীالا এর অর্থ হল কিন্তু বা অথচ যা উল্লেখিত আয়াতে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তা দ্বারা বলা হয় যে সেদিন শুধুমাত্র আল্লাহর অনুমতিতেই শাফাআত কারীর সুপারিশ কবুল করা হবে।

তৃতীয়তঃ সার্বিকভাবে শাফাআতকে বাতিল করা হয়নি তবে কিছু কিছু ব্যক্তির শাফাআতকে (সুপারিশ) ব্যতিক্রম করা হয়েছে এবং তাদের জন্য শাফাআতকে বাতিল করা হয়েছে। এর প্রমাণ আয়াতের শেষ অংশে বলা হয়েছেهُمُ الظَّالِمُونَ অর্থাৎ কাফেররা নিজেদের উপর যুলুম করেছে সে কারণে তারা শাফাআতের সুফল ভোগ করবেনা।

গুনাহ খাতা শাফাআতের উসিলায় ক্ষমা করা হবে। এ বিষয়টি সহীহ হাদীস দারাও প্রমাণিত হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , আমি সে সব গুনাহগার বান্দাদের জন্য শাফাআত করব যারা জালিম ও মুশরিক নয়।20

অতএব শাফাআতের উসিলায় আল্লাহর রহমত পেতে হলে অবশ্যই শিরক ও যুলুম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

) ف َمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ(

সেদিন তাদের জন্য শাফাআত কারীদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না।21 কারো কারো মতে , এই আয়াত দ্বারা শাফাআতকে অস্বীকার করা হয়েছে কিন্তু তা ঠিক নয়। আল্লামা তাবাতাবাঈর মতে , এই আয়াত শাফাআতের জন্য একটি দলিল স্বরূপ কারণ নিম্নলিখিত দুই প্রকার বাক্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে আরবী ধাতু যদি কোন নামের সাথে যুক্ত হয় তাহলে তা সে বিষয়কে (ধাতুকে) স্বীকৃতি দেয়।22 মহান আলেম শেখ আব্দুল কাহের এ বাক্য প্রসংঙ্গে বলেন , সংযুক্ত শব্দটি বহুবচনে ব্যবহৃত হয়েছে। যদি তা অতিরিক্ত শব্দ হতো তাহলে বহু বচনে ব্যবহৃত হতোনা এবং যেহেতু এখানে বহু বচনে ব্যবহৃত হয়েছে তাই তা যুক্তিযুক্ত অর্থ প্রদান করে।23

শাফাআত সম্পর্কিত নেতিবাচক (নেগেটিভ) বাক্য সমূহ পর্যালোচনার পর এই ফলাফলে পৌছতে পারি যে , উল্লেখিত আয়াত সমূহ সত্যিকার ভাবে শাফাআতকে অস্বীকার করেনি বরং সে সব আয়াত দ্বারা শাফাআত সম্পর্কে ভুল ধারণার অপনোদন করা হয়েছে এবং যারা মনে করে যে শাফাআতের জন্য আল্লাহর অনুমতির প্রয়াজন নেই তাদের ধারণাকে খণ্ডন করা হয়েছে।


খ: যে সব আয়াত শাফাআতের স্বীকৃতি প্রদান করে।

1। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা যা করে থাকে আল্লাহ তালা সবই জানেন।24 কোন ব্যক্তিই শাফাআত করতে পারবেনা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত , আর তারা সর্বদাই আল্লাহর ভয়ে ভীত- সন্তস্ত্র ।

যদিও এই আয়াতে পথেমে সকলের জন্য শাফাআতকে অস্বীকার করা হয় কিন্তু আয়াতের ধারাবাহিকতায় বলা হয় কিন্তু তারা ব্যতীত যাদেরকে আল্লাহ অনুমতি দেবেন। আরবী শব্দالا কে আরবীতে হাসর حصر হিসিবে গণ্য করা হয় আর যেহেতু এ শব্দটি না বোধক (নেগেটিভ) শব্দের পরে এসেছে তাই আরবী নিয়ম অনুযায়ী নেগেটিভকে অস্বীকার করে মূল বিষয়ের সত্যতা প্রমাণ করে । অতএব উল্লেখিত আয়াত শাফাআতের ইঙ্গিত প্রদান করে ।

وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللَّـهُ لِمَن يَشَاءُ وَيَرْضَىٰ

আকাশে কতইনা ফেরেশতা রয়েছে যাদের কোন শাফাআত ফলপ্রসু হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ও যার উপর সন্তুষ্ট থাকেন।25

এই আয়াতে ও পূর্ববর্তী আয়াতের মতالا নেগেটিভের পরে ব্যবহৃত হয়েছে তাই অনুরূপ অর্থের নির্দেশনা দেয়।

) ي َوْمَئِذٍ لَّا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَـٰنُ وَرَضِيَ لَهُ قَوْلًا(

সেদিন কোন ব্যক্তির শাফাআতই ফলপ্রসু হবে না। যতক্ষণ না আল্লাহ রহমান কাউকে শাফাআতের অনুমতি দেন এবং তার কথায় সন্তুষ্ট হন ।26

এই আয়াতেও পথেমে নেগেটিভ বাক্য ও পরে আরেকটি নেগেটিভ বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে ফলে মূলতঃ শাফাআতের সত্যতাই প্রকাশ করে । তবে শর্ত হল , আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টষ্টি ।

তবে উল্লেখিত আয়াতেরالشفاعة শব্দটির কারাআত দুই রকমের হতে পারেرفعنصب আমরা উপরে যে অর্থ করেছি তাرفع এর অর্থ । আল্লামা তাবারসী তার নিজস্ব তাফসীর গ্রন্থে বলেছেন , উভয় প্রকার কারাআতই বৈধ ।27 যদিرفع রাফ পড়া হয় তাহরে অর্থ হবে শাফাআতকে অস্বীকার করেনা তবে শর্ত হল আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন । অন্যদিকে যদি মানসুব পড়া হয় তাহলে অর্থ এরূপ হবে , যে প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ জাফর সুবহানী বলেন আল্লাহর এ বাণীতেالا শব্দ যে উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে তা শাফাআতের গুরুত্ব বহন করে ।28

আমাদের মতামতই ঠিক । তবে শাফাআতের প্রাস্থির জন্য কোন প্রকার অনুমতির প্রয়োজন নেই তবে যে ব্যক্তি শাফাআত করবে তাকে অবশ্যই আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টষ্টি হাসিল করতে হবে ।

মূলতঃ (যদি ধরে নেয়া হয় উভয়ের জন্যই আল্লাহর অনুমতি নিতে হবে তবুও) তা শাফাআতের সত্যতাই প্রমাণ করে ।

) و َلَا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ عِندَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ(

আল্লাহ পাক যাকে অনুমতি দেন তার কাচে অন্য কারো শাফাআতই ফলপ্রসু হবে না ।29

এই আয়াতেও পথেমে শাফাআতের ফলাফলকে অস্বীকার করা হয়েছে কিন্তু পরক্ষণেই বলা হয়েছেإِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ কিন্তু যাদেরকে আল্লাহ পাক অনুমতি দিবেন তারা ব্যতীত। কারণ আরবী শব্দإِلَّا যদি নেগেটিভ কোন বাক্যের পরে ব্যবহৃত হয় তাহলে তা থেকে পজেটিভ ধারনা প্রমাণিত হয়। তাই এখানে সম্ভবতإِلَّا দ্বারা শাফাআত কারীদের বুঝানো হয়েছে যে , একমাত্র তখনই শাফাআত কারীদের সুপারিশ গ্রহন যোগ্য হবে যখন আল্লাহ পাক তাদেরকে অনুমতি দিবেন।

ঠিক একইভাবে এমনও হতে পারে যে , উক্ত আয়াতেإِلَّا দ্বারা শাফাআতকারীকে বুঝানো হয়েছে আর তখন আয়াতের অর্থ হবে ; সেই ব্যক্তির জন্য শাফাআত ফলপ্রসু হবে যার সম্পর্কে শাফাআত করতে আল্লাহ পাক অনুমতি দিবেন। মহান আলেম ও মোফাসসের আল্লামা জামাখশারী দ্বিতীয় মতকে প্রধান্য দিয়েছেন কিন্তু আল্লামা তাবাতাবাঈ প্রথম মতকে গ্রহন করে বলেন ,

সকল ফেরেশতারাই শাফাআতের যোগ্যতা রাখে তবে যে কোন বিষয় অথবা যে কোন ব্যক্তির জন্যই তা প্রযোজ্য হবে না শুধুমাত্র যে বিষয়ে আল্লাহ তালা অনুমতি দিবেন , অথবা শুধুমাত্র যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তালা শাফাআত করার অনুমতি দিবেন। অতএব আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের শাফাআতকে অস্বীকার করেছেন কিন্তু যাদেরকে অনুমতি দিবেন তাদের জন্য তা প্রযোজ্য হবে না।

আমাদের মতেও উক্ত আয়াত শাফাআত প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য কারণ উল্লেখিত আয়াতের দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে , সে ব্যক্তি শাফাআত পাওয়ার যোগ্য নয় যদি না আল্লাহ তালা তার উপর সন্তুষ্ট থাকে।

) و َنَسُوقُ الْمُجْرِمِينَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ وِرْدًا لَّا يَمْلِكُونَ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِندَ الرَّحْمَـٰنِ عَهْدًا(

এই আয়াতেلَّا يَمْلِكُونَ শব্দের সর্বনামمُجْرِمِينَ এর প্রতি ফিরে যায় ।30 অর্থাৎ শাফাআত প্রার্থীদের জন্য কোন শাফাআতই ফলপ্রসু হবে না যদিনা তারা আল্লাহর কাছ থেকে কোন শাফাআতের প্রতিশ্রুতি নিয়েছে । এই আয়াতেإِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِندَ الرَّحْمَـٰنِ عَهْدًا হাসর শব্দটি শাফাআত প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে । অর্থাৎ যারা আল্লাহর কাছ থেকে সুপারিশের প্রতিশ্রুতি নিয়েচে তারা শাফাআতের ফলাফল ভোগ করবে । তবে আরবী শব্দعَهْدًا এর অর্থ হল , আল্লাহর প্রতি ইমান ও শেষ নবীর রেসালাতের উপর দৃঢ় বিশ্বাস । আমাদের মতেও এই আয়াতের উদ্দেশ্য শাফাআত প্রার্থীদের জন্য। করাণإِلَّا নেগেটিভের পরে ব্যবহৃত হয়েছে ।

) و َلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَن شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ(

যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পুজা করে তারা শাফাআতের অধিকারী হবে না।31 কিন্তু যারা স্বীকার করতো ও বিশ্বাস করতো তাদের ক্ষেত্রে শাফাআত প্রযোজ্য হবে (ঈসা , উজাইর ও ফেরেশতাগন)।

পূর্ববতী আয়াতের যুক্তির ভিত্তিতে এই আয়াতও শাফাআতের অস্তিত্ব প্রমান করে।


গ- যে সকল আয়াত শাফাআতের ইঙ্গিত প্রদান করে।

পূর্বোল্লিখিখিত ছয়টি আয়াত শাফাআতের স্পষ্ট নির্দেশনা বহন করে কিন্তু পবিত্র কোরআনে আরোও এমন কিছু আয়াত আছে যেগুলো শাফাআতের ইঙ্গিত প্রদান করে। তার কয়েকটি নিম্নে আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ।32

) و َلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ(

খুব শীঘ্রই তোমার পরওয়ারদেগার তোমাকে (শাফাআতের পদাধিকার) দান করবেন যাতে তুমি সন্তুষ্ট থাকবে।

শাফাআত করা এক ধরনের সাহায্য করা , আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম) ও পবিত্র মাসুমিন (আলাইহি সাল্লাম) দের এই ক্ষমতা প্রদান করা , হাজারো দুঃখ , কষ্টের মোকাবেলায় এক প্রকার সহমর্মিতা স্বরূপ।

নিম্নলিখিত হাদীস একথার সত্যতা স্বীকার করে । ইমাম সাদিক (আঃ) বলেন , একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ফাতেমা (আঃ) এর ঘরে প্রবেশ করলেন। ফাতেমার গাযে ছিল উটের চামড়ার তৈরি আবা , সে অবস্থায় গম ভাঙ্গাচ্ছিলেন এবং একই সাথে তাঁর সন্তানকে দুধ পান করাচ্ছিলেন , এ অবস্থা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম স্বচক্ষে দেখলেন অশ্রু শিক্ত কন্ঠে বললেন , ওহে কন্যা , আখেরাতের পুরষ্কারের আশায় দুনিয়ার এহেন কষ্ট সহ্য করে যাও , কারণ এমন সুসংবাদ আমাকে দেয়া হয়েছে।

এই আয়াত ও শাফাআতের ইঙ্গিত প্রদান করে , অর্থাৎ (শাফাআতের উসিলায়) ক্ষমা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর সন্তুষ্টষ্টির উপর নির্ভর করে।

ইমাম সাদিক (আঃ) এ ব্যাপারে বলেন:33 আমার পূর্বপুরুষ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম) এর কামনা হল আল্লাহর ইবাদতকারী কোন ব্যক্তি যাতে জাহান্নামে অবশিষ্ট্য না থাকে।

উপরের আয়াত ক্ষমা ও দান সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয় , শাফাআত ক্ষমারই একটি দৃষ্টান্ত।34

বাশার ইবনে শারিহ বাসরি: ইমাম বাকের (আঃ) এর কাছে পশ্ন করেছিলাম ; কোরআনের কোন আয়াতটি সর্বাধিক আশাব্যঞ্জক ? ইমাম প্রশ্ন করলেন: তোমার গোত্রের এ ব্যাপারে মতামত কি ? বললাম: আমার গোত্রের ধারনা আয়াতে তওবা ((ওহে লোক সকল গুনাহকারীগণ)) আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা , এবং তওবা সহকারে আল্লাহর দরবারে ফিরে যাও।

ইমাম: তোমরা যা বল আমরা আহলে বাইত তা বলিনা। তাহলে আপনারা কী বলেন ?

) و َلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ(

(এই আয়াতের উদ্দেশ্যে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কে যা দান করা হয়েছে তা হল শাফাআত. আল্লাহর কসম তা হল শাফাআত , আল্লাহর কসম তা হল শাফাআত ।

এই আয়াতটি সূরা তওবার সে আয়াতের চেয়ে অধিক আশা ব্রঞ্জক কারণ সূরা তওবার সে আয়াটিতে ক্ষমার জন্য তওবার মর্ত আরোপ করা হয়েছে । কিন্তু

) و َلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ(

এ আয়াতে কোন শর্ত আরোপ করা হয়নি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং দান করা হয়েছে অর্থক্কাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম যাকে খুশি শাফাআত করতে পারবেন। অতএব আল্লাহ তালা যেখানে বলেছেন আমি সার্বিক ভাবে রহমত বর্ষণ করব তা অত্যাধিক আশাব্যঞ্জনার কারণ হতে পারে।

) ع َسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا(

খুবই সন্নিকটে আল্লাহ তালা তোমাকে মাকামে মাহমুদে (শাফাআতকারীর পদে) অধিষ্টিত করবেন।35

এই আয়াতে ও স্পষ্টভাবে শাফাআতের কথা বলা হয়নি বরং তার ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। অসংখ্য রেওআত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে উক্ত আয়াতেরمَقَامًا مَّحْمُودًا দ্বারা ঠিক শাফাআতের কথাই বুঝানো হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সেটা এমন পদ যার বদৌলতে আমার উম্মতকে শাফাআত করতে পারব।36

প্রসিদ্ধ মোফাসসেরর ফখরুদ্দীন রাযী এ প্রসঙ্গে বলেন , এ আয়াত থেকে ক্ষমা পাওয়ার উসিলা হল তার শাফাআত। তিনি বলেন উক্ত আয়াত শাফাআত সম্পর্কে স্পষ্ট ও শক্তিশালী ইঙ্গিত প্রদান করে।37

অন্য এক মোফাসসের বেইজাভী বলেন , প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত হল মাকামে মাহামুদ হল সেই মাকামে শাফাআত। কারণ আবু হুরায়রা হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছ থেকে রেওআয়াত করেছেন যে , মাকামে মাহমুদ সেই পদ যার বদৌলতে আমি আমার উম্মতকে শাফাআত করতে পারবো। হাদীসে বলা হয়েছে যে , সেদিন মানুষ লাইন ধরে দাড়িযে তাঁর (রাসূলের) প্রশংসা করবেন। এটাও শাফাআতের ইঙ্গিত প্রদান করে। এবং তা শাফাআত ব্যতীত অন্য কিছু হতে পারে না।38

শেখ তাবারসি লিখেছেন: মাকামে মাহামুদ এর ব্যাপারে সমস্ত মোফাসসেরগণ এজমা করেছেন। উপরোক্ত আয়াত সমূহ পর্যালোচনার পর আমরা যে উপসংহারে পৌছতে পারি:

1। কোরআনের আয়াত সমূহ শাফাআতের ঘোষণা প্রদান করে কিন্তু মূল শাফাআতকারী স্বয়ং আল্লাহ তালা নিজে তবে আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে অন্যরাও শাফাআতের ক্ষমতা পাবেন।

2। কোরআনের আয়াত শাফাআতের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে কিন্তু শাফাআতকারী ও শাফাআতের অধিকারী কারা হবেন সে সম্পর্কে কোন স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেনি।


হাদীসের আলোকে শাফাআত:

শাফাআত সম্পর্কিত আরেক প্রকার দলিল হল , পবিত্র ইমাম (আঃ) দের কাছ থেকে প্রাপ্ত হাদীস সমূহ শাফাআতের স্পষ্ট দিক নির্দেশনার মূল এরূপ হাদীসের সংখ্যা এত বেশি যে তাওয়াতুরের পর্যায়ে পৌছেছে।39

আল্লামা তাবাতাবাঈ এ সম্পর্কে বলেন , কেয়ামত দিবসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর শাফাআতের অধিকার সম্পর্কিত যে সকল হাদীস (শিয়া ও সুন্নীদের হাদীস গ্রন্থ সমূহে) বর্ণিত হয়েছে সব মিলে তাওয়াতুরের পর্যায়ে পৌছেছে।

মোফাসসিরে কোরআন ফখরুদ্দীন রাযী লিখেছেন:

শাফাআত সম্পর্কিত হাদীস সমূহ যদিও এক এক জন ব্যক্তির দ্বারা বর্ণিত হয়েছে তথাপি তাদের সংখ্যা অনেক বেশি এবং সেগুলোর মধ্যে মোটামুটি একই বিষয় (শাফাআত) বর্ণিত হয়েছে। অতএব সেগুলো একই বিষয়ের বর্ণনা দেয়। তাই সেগু্লোকে রেওআয়াতে মোতাওয়াতের বলা যাবে । অতএব উক্ত হাদীস সমূহ অবশ্যই হুজ্জাত (দলিল ও প্রমাণ)40


মোতাজিলা সম্প্রদায়ের আপত্তি

মোতাজিলা সম্প্রদায় উপরে বর্ণিত হাদীসের উপর আপত্তি পেশ করেছে তাদের দলিল নিম্নরূপ:

1। উক্ত হাদীস গুলো এতই দীর্ঘতম যে সত্যিকার ভাবে তা সংরক্ষণ করে এপর্যন্ত পৌছানো সম্ভব নয়। সম্ভবত রাবী উক্ত হাদীস সমূহ নিজের ইচ্ছা মত বর্ণনা করেছে। তাই সেগুলো সত্যিকার হাদীস নয়।

2। শাফাআত সকলের সম্মতিক্রমের ঘটনা কিন্তু বর্ণিত হাদীস সমূহ বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণিত হয়েছে।

3। বর্ণিত হাদীস গুলো কোরআনের আয়াতের সাথে বিরোধপূর্ণ ।

4। একক খবর যদি নিশ্চিত ফলাফল না দেয় তাহলে গ্রহন যোগ্যতা রাখেনা।

5। শাফাআত একটা গুরুতপূর্ণ ঘটনা এবং এটার উদ্দেশ্যওে অত্যধিক গুরুতপূর্ণ , অতএব যদি রেওআয়াত সঠিক হতে হয় তাহলে অবশ্যই তা তাওয়াতুরের পর্যায়ে পৌছতে হবে। কিন্তু উক্ত হাদীস সে পর্যায়ে পৌছেনি তাই তা নির্ভুল হতে পারেনা।

মোতাজিলা সম্প্রদায়ে আপত্তি সমূহের জবাব:

চারটি পর্যায়ে তাদের আপত্তি সমূহের জবাব দেয়া যেতে পারে।

1। যদিও উক্ত রেওয়ায়াত সমূহ একক খবর হিসেবে এসেছে কিন্তু তাদের সংখ্যা অগণিত।

2। উক্ত রেওয়ায়াত সমূহের মধ্যে একটা নিখূত সম্পর্ক বিদ্যমান।

3। অতএব উক্ত রেওআয়াত সমূহ তাওয়াতুরের পর্যায়ে পরিগণিত।

4। আর যে রেওয়ায়াত তাওয়াতুরের পর্যায়ে পৌছে হুজ্জাত ও দলিল হিসেবে উপযুক্ত ।

অধিকন্তু উক্ত রেওয়ায়াত সমূহ পবিত্র কোরআনের আয়াত সমূহের সাথে কোন বিরোধ নেই বরং কোরআনের আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ , তাদের অন্যান্য আপত্তি সমূহ যুক্তিযুক্ত নয় বলে জবাব দেয়ার প্রয়াজন মনে করছিনা।


এজমার দৃষ্টিতে শাফাআত

শিয়া ও সুন্নী সর্বপ্রকার আলেমদের ঐক্যবদ্ধ এজমার দ্বারাও শাফাআত স্বীকৃত হয়েছে। বড় বড় তিন জন আলেমের স্বীকৃতি এখানে উল্লেখ করব।

1। খাজা নাসিরউদ্দীন তুসী:

শাফাআতের জন্য আলেমগণ এজমা করেছেন। 41

2। আল্লামা হিল্লি :

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর শাফাআত করার ব্যাপারে আলেমগণ ঐক্যবদ্ধ মত দিয়েছেন। 42

3। শেখ তাবারসী:

মোফাসসেরগণ এ ব্যাপারে ঐক্যমত্য যে , মাকামে মাহামুদ অর্থাৎ মাকামে শাফাআত। 43

পরিশেষে যে বিষয়টি উল্লেখ করব তা হল গোত্র , বর্ণ নির্বিশেষে সকল মাযহাবের অনুসারী মুসলমানগণ শাফাআতের মূল বিষযের ব্যাপারে একমত । মোতাজিলা সম্প্রদায়ও শাফাআতকে স্বীকার করে বলে থাকেন: শাফাআত একটি উচ্চ মর্যাদাশীল পদ । ওহাবী সম্প্রদায ও শাফাআতকে স্বীকার করে থাকে , তবে তাদের বিশ্বাস হল শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই শাফাআতের প্রার্থনা করতে হবে । আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে শাপাআতের প্রার্থনা করা শিরকের তুল্য ।


বিবেকের বিচারে শাফাআত

বিবেকের মাধ্যমে শাফাআত প্রমাণ করার জন্য চারটি ধাপ উল্লেখযোগ্য ।

1. আল্লাহ তালা তার বান্দার প্রতি দয়াশীল এবং তার রহমত আযাবের চেয়ে অগ্রবর্তী ।

2. যেহেতু মানুষ আল্লাহর ক্ষমা (করার ক্ষমতা) কে মেনে নিয়েছে , অতএব বিবেক বলে শাফাআত ও ক্ষমা ঘটমান বিষয় ।

3. সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর রহমত তার বান্দাদের কাছে পৌছতে হলে উসিলা থাকা আবশ্যকীয় যা উভয়ের মাঝে সম্পর্ক সৃষ্টি করে । কারণ স্রষ্ট্রা ও সৃষ্টির মাঝে কোন বন্ধন বা শিকল নেই , তাই আল্লাহ তারা বলেন ,لیس کمثله شئ তার (আল্লাহর) মত অনুরূপ কোন কিছুই নেই ।

4. আর এ দুয়ের সৃষ্ট উসিলা উভয়ের সাথে এক প্রকার সামনঞ্জস্য থাকতে হবে , কারন যদি আল্লাহর সাতে তার কোন সম্পর্ক না থাকে তাহলে তার আবেদন কবুল হওয়ার নয় অপর দিকে যদি বান্দার (শাফাআত প্রার্থীর) সাথে তার সম্পর্ক না থাকে তাহলে তাকে শাফাআত করতে পারবে না ।

আল্লাহ সৃষ্ট বিশ্ব চরাচরের নিয়ম অনুযায়ী বস্তুবাদী ও আধ্যাত্মিক সকল ক্রিয়াকর্মের জন্য এক বা একাধিক উসিলার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রেরিত হয়।

অতএব আল্লাহর ক্ষমা ও মাগফেরাত পাওযার জন্য উসিলা থাকা বাঞ্ছনীয় ।

একটি প্রশ্ন: বিবেক কি শাফাআতকে স্বীকৃতি দেয় ? এ প্রশ্নের উত্তরে হযরত আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজীর মত হল , প্রশিক্ষণ বিষয়াদীর ক্ষেত্রে বিবেকের বিচার হল , শাফাআত একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয় এবং মানুষকে সফল হতে হলে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে গঠন করতে হবে এবং এ জন্য একজন শাফাআতকারী অত্যাবশ্যকীয় ।অতএব বিবেক শাফাআতকে স্বীকৃতি দেয় ।

আমাদের মতে ; বিবেক আধ্যাত্মিক ও বাস্তব জীবনে শাফাআতের স্বীকৃতি দেয় কারণ যদি এই সম্বন্ধ ও উসিলা না থাকতো তাহলে উর্ধআকাশ থেকে রহমতের ধারা পৃথিবীতে আসতোনা । তবে বিবেক শাফাআতের পারিভাষিক অর্থকে স্বীকৃতি দেয়না ,শুধুমাত্র শাফাআতের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয় । এ ব্যাপারে কাজী আইয়াজ বলেন ; আহলে সুন্নাতের অনুসারীগণ বিবেকের বিচারে শাফাআতকে জায়েয মনে করেনএবং কোরআন হাদীসের দৃষ্টিতে শাফআতকে ওয়াজিব মনে করে থাকেন ।44

ফলাফল: বিবেক সরাসরি শাফাআতকে স্বীকৃতি দেয়না তবে শাফাআতকারীদের উসিলায় গুনাহগার ব্যক্তিদের গুনাহ মাফের ঘটনা কুরআন ও হাদীসে ও শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য বিষয় । শাফাআতের ব্যাপারে কোরআন ও হাদীস নিখুত তথ্য প্রদান করে । কিন্তু বিবেক শাফাআতকে জায়েয বরে স্বীকৃতি প্রদান করে ।


শাফাআতের উপকারিতা সম্পর্কে মতামত

মুসলমানদের বিভিন্ন সম্প্রদায় শাফাআতের ফলাফল সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন । তার কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করবো :

1. শাফাআত শুধুমাত্র মুমিন মুসলমানদের সওয়াব ও পুরষ্কার বৃদ্ধিতে কার্যকর হয় ।

2. যে সকল ব্যক্তি আজাব প্রাস্থির উপযুক্ত শাফাআত শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় ।

3. শাফাআত উপরোক্ত দুটি মতের উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ।

শাফাআতের উপকারিতা সম্পর্কিত হাদীস

1. সাইদ উদ্দীন তাফতাজানী বলেন ,

মোতাজিলাদের মতে , শাফাআত শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য , যারা সওয়াবের অধিকারী , এবং শাফাআতের কারণে তাদের সওয়াব বৃদ্ধি পায় যা তাদের প্রাপ্য ছিলনা ।45

2. ইমাম সাদিক (আ.) বলেন ,

আদি যুগ তেকে মেষ যুগ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি নেই যার জন্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর শাফাআতের প্রয়োজন হবে না । 46

3. আবু আইমান ইমাম কাজেম (আ.) এর বাড়িতে প্রবেশ করে বললেন , ওহে আবু জাফর! আপনি মানুষকে অহঙ্কারী করে তুলছেন (কারণ মানুষকে শাফাআতের ওয়াদা দিচ্ছেন) তাদেরকে বলে থাকেন মুহাম্মদের শাফাআত , মুহাম্মদের শাফাআত!

ইমাম কাজেম (আ.) এতই রাগান্বিত হলেন যে , চোখ রাঙ্গিয়ে বললেন ,

তোমার জন্য দুঃখ হয়,47 ওহে আবু আইমান ; তুমি যে হারাম খাওয়া তেকে তোমার পেটকে বিরত রেখেছ কামভাব থেকে নিজেকে বিরত রেখেছ তাই বলে অহঙ্কারী হয়েছো ? যদি তুমি কেয়ামতের কঠিন মুসিবতের বিষয় অনুধাবনকরতে পারতে তাহলে মুহাম্মদের শাফাআতের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে । আফসোস তোমার জন্য , তুমি কি মনে কর ও সেদিন যে ব্যক্তি আযাবের উপযোগী তাকে ছাঢ়া তিনি অন্য কাউকে শাফাআত করবেন ?

অতঃপর বলেন: আদী যুগ থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এমন কোন ব্যক্তি থাকবেনা , যার জন্য মুহাম্মদের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম শাফাআত , প্রযোজন হবেনা ।

ইমাম রেজা (আ.) বলেন , যখনই আল্লাহর কাছে কোন আবেদন করবে ,48 বল: আমি তোমাকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এবং আলী (আ.) এর কসম দিয়ে ডাকছি নিশ্চয় এই দু ব্যক্তি তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সম্মানের অধিকারী ।

কেয়ামতের দিন এমন কোন বাদশা , আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তি. নবী রাসূল ও মুমিন ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকবেনা যাদের জন্য এ দু ব্যক্তির শাফাআত তাদের প্রয়োজন হবে না।

উপরে বর্ণিত চারটি হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে , যে সকল ব্যক্তি কোন গুনাহ করেনি যেমন , ফেরেশতাগণ , নবী রাসূল , মুমিন ও সালেহ ব্যক্তিবর্গ তাদেরও শাফাআতের প্রয়োজন হবে । যদিও এদের শাফাআতের বিষয় অকল্পনীয় তবে তাদের পদ ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শাফাআত করা হলে অকল্পনীয় নয় । কারণ , তারাতো কোন গুনাহ করেনি যে , সে কারণে শাফাআত করা প্রয়োজন হবে ।

অতএব এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে , তাদের ব্যাপারে যে শাফাআত করা হবে তা শাফআতের পারিভাষিক অর্থে নয় বরং তার অর্থ হল আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য উসিলা ধরা ।


তৃতীয় অধ্যায়

শাফাআতের উপকারীতা

গুনাহগারদের আজাব অপনোদন

মোতাজিলাদের যুক্তি পদ ও মর্যাদা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে

মোতাজিলাদের যুক্তি খণ্ডনে হাদীস ও বিবেকের যুক্তি ।

সত্যপন্থীদের মতামত ।


শাফাআত গুনাহগারদের আজাব অপনোদের কারন

শিয়া ও মাযহাবের বিভিন্ন সম্প্রদায় (শুধুমাত্র মোতাজিলা সম্প্রদায় ব্যতীত)এর বিশ্বাস হল শাফাআত গুনাহগার ব্যক্তিদের দোযখের আযাব থেকে মুক্তির কারন হবে । তবে কিছু কিছু রেওয়ায়েত থেকে বুঝা যায় যে ,শাফাআতের কারনে গুনাহ গুনাহ ও মাফ হয়ে থাকে উদাহরন স্বরূপ নিম্নোক্ত হাদীস প্রনিধান যোগ্য ।

1। শাফাআত যে সব গুনাহগারদের জন্য প্রযোজ্য হবে যারা শিরক ও জুলুম করেনি ।49

2। কেয়ামতের দিন (সব নারীরাই শাফাআত করতে পারবেন)আমার গর্বের বিষয় হল সেদিন আমি আমার গুনাহগার উম্মতের জন্য শাফাআত করব ।50

3।আমার শাফাআত আমার গুনাহগার উম্মতের জন্য ।51

এ ধরনের প্রচুর রেওয়ায়েত রয়েছে যেগুলো গুনাহগার ব্যক্তিদের দোযখের আগুন থেকে মুক্তির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে । আর সে কারনে কিছু কিছু আলেমগন দাবী করেছেন যে এই রেওয়ায়েত তাওয়াতোরের পর্যায়ে পৌঁছেছে । এ প্রসঙ্গে মহান মোফাসসেরে কোরআন ফখরুদ্দীন রাবী লিখেছেন ,যদি ও এ ধরনের প্রত্যেকটি রেওয়ায়েত এককভাবে একক খবর হিসেবে এসেছে তথাপি এত অধিক এবং তাদের সবগুলোর অর্থ প্রায় একইরূপ । ফরে বলা যায় যে এই হাদীস তাত্তাতোরের পর্যায়ে পৌঁছেছে (শাফাআত গুনাহ মাফের কারন ) । অতএব শাফাআত সম্পর্কিত হাদীস একটি হুজ্জাত ও দলীল ।52

শেখ তানভীর ( আহলে সুন্নাতের এক বড় আলেম ) বলেন , জেনে নাও! শাফাআত সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের বিশ্বাস হল যে , তাদের ভাষায়: শাফাআতের কারনে গুনাহগারদের প্রাপ্য আজাব ক্ষমা করা হয় । এটা এভাবে হবে যে ,মহা মুসিবতের সেই কেয়ামতের দিনে যখন গুনাহগারদের জাহান্নামে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হবে তখন শাফাআতের কারনে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে এবং জাহান্নমের পরিবর্তে বেহেশতে পাঠানো হবে ।53

এ প্রসঙ্গে সুন্নী ও শিয়াদের আলেমগন এজমা করেছেন যে , তাদের কিছু কিছু মতামত নিম্নরূপ :

1 । শেখ মুফিদ: ইমামিয়াগন একমত প্রকাশ করেছেন যে ,কেয়ামতের দিন গুনাহগারদেরকে শাফাআত করা হবে ।54

2 ।কাজী আইয়াজ: আহলে সুন্নাতের ভূতপূর্ব ও সাম্প্রতিক কালের সকল আলেমগন ,মুমিনদের গুনাহ মাফের জন্য কেয়ামতের দিন শাফাআত করা হবে বলে মনে করেন ।55

3 ।ফখরুদ্দীন রাযী: উম্মতে ইসলামীর এজমা হল যে , হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কেয়ামতের দিন শাফাআত করবেন এবং অত:পর বলেন , শাফাআতের ফলে আজাব ভোগের উপযোগী ব্যক্তিদের আজাব মাফ করা হবে ।56

মোতাজিলা সম্প্রদায় এ ব্যপারে দ্বিমত প্রকাশ করে থাকে এবং নিম্নোক্ত আয়াত সমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকে ।

) و َاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ(

অর্থ: সেদিনকে ভয় কর , যখন কেউ কারও সামান্যতম উপকারেও আসবেনা এবং তার পক্ষে কোন শাফাআত ও কবুল করা হবেনা , কারও কাছ থেকে কোন ক্ষতিপূরণও নেয়া হবেনা এবং তারা কোন প্রকার সাহা্য্য ও পাবেনা ।57

আমাদের মতে এই আয়াত বনি ইসরাঈল সম্প্রদায় এর জন্য নাযিল হয়েছে , তবে অন্য যে কোন লোকই বাতিল ও ভ্রান্ত ধারনায় বিশাসী তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে অর্থাৎ তাদের জন্য শাফাআত প্রযোজ্য হবে না এবং এই আয়াত তাদেরকে নিরাশ করেছে। অতএব গুনাহগার ব্যক্তিদের গুনাহ মাফের বিষয়কে এই আয়াত পত্যাখ্যান করেনা।

আল্লামা হিল্লি এ সকল আয়াত সমূহ -প্রসঙ্গে বলেন ,

وَلَا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ - يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا- فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ

এ সকল আয়াত বিশেষ করে কাফের ও মুশরিদের জন্য প্রযোজ্য ,58 কারণ তারা শাফাআতের মাধ্যমে কোনরূপ উপকৃত হবেনা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে বলেন ,

আমার শাফাআত সে সব গুনাহগার ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য ,যারা মুশরিক ও কাফের নয় ।59 .

( وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ)

এই আয়াতেরهم অর্থাৎ সে সব কাফেরগণ ।

মোতাজিলা সম্প্রদায়ও এ আয়াত সম্পর্কে ধারণা করে থাকেন যে , আল্লাহ তালা এ আয়াতের মাধ্যমে খবর দেন যে , ফেরেশতারা সেদিন কোন ব্যক্তিকে শাফাআত করবেনা কিন্তু যদি আল্লাহ তালা কারও উপর সন্তুষ্ট থাকে তাহলে সে ব্যক্তি শাফাআত করতে পারবে। এবং এটা স্পষ্ট যে , ফাসেক ও গুনাহগার ব্যক্তিদের উপর আল্লাহ তালা সন্তুষ্ট নন , অতএব ফেরেশতারা তাদের জন্য এবং শাফাআত করবেনা নবী রাসূলগণও তাদের জন্য শাফাআত করবেনা , কারণ শাফাআত কারীদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই ।

তাদের আপত্তির জবাব

প্রথম জবাব : আল্লাহ তালা কোন দিক দিয়েই ফাসেক ব্যক্তিদের উপর সন্তুষ্ট নন। কিন্তু যদি আল্লাহর একাত্ববাদে বিশ্বাসী থাকে এবং ঈমান এনে থাকে তাহলে তার ব্যাপারে শাফাআত প্রযোজ্য হবে কারণ তার ব্যাপারে আল্লাহ সম্মত থাকবেন , যদিও সে ব্যক্তি গুনাহগার হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন ,

ফেরেশতাগণ,নব ী রাসূল ও শহিদদেরকে শাফাআত করার অনুমতি দেয়া হবে , তারা শাফাআত করবেন এবং যাদের অন্তরে বিন্দুমাত্র ঈমান থাকবে তারা শাফাআতের মাধ্যমে দোযেখের আগুন থেকে মুক্তি পাবে।60

এই হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , যদিও মানুষ পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী না হয় তবও আল্লাহ তালা তাকে শাফাআত করার জন্য সন্তুষ্ট থাকবে এবং শাফাআতের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।

দ্বিতীয় জবাব : وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَىٰ .এই আয়াত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইমাম রেজা বলেন ,.শাফাআত কারীগণ সে সব ব্যক্তিদের জন্য শাফাআত করবেন আল্লাহ তালা যাদের দীন ও ধর্ম সম্পর্কে সন্তুষ্ট থাকবেন।61

অতএব , ফাসেক ও গুনাহগার ব্যক্তির দীন ও ধর্ম যদি খোদা সম্মত থাকে তবে তাদেরকে শাফাআত করা হবে।

শাফাআত সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস হল কোন ব্যক্তি ছোট বড় যত গুনাহই করে থাকুক যদি আল্লাহ তার ধর্মের উপর সন্তুষ্ট থাকে তাহলে সে শাফাআত পাবে।62

فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ

উল্লেখিত আয়াত সম্পর্কে মোতাজিলা সম্প্রদায় বলে থাকেন ,যদি শাফাআতের ফলে আজাব থেকে উদ্ধার পাওয়া যায় এবং তারা এর মাধ্যমে উপকৃত হয় তাহলে তা উক্ত আয়াতের পরিপন্থি ।

জবাব: ফখরুদ্দীন রাযী এ যুক্তির মোকাবেলায় বলেন , তার মতে এ আয়াতটি শাফাআতের বিরুদ্ধে নয় বরং তা শাফাআতের পক্ষেরই একটি দলিল স্বরূপ। কারণ কাফের মুশরিকরা শাফাআত থেকে কোন সুবিধা ভোগ করবেনা আর এর কারণ হল তাদের কফরী কাজ সমূহ। নতুবা উক্ত আয়াতের মাধ্যমে শাফাআত প্রমাণিত হয় কারণ উক্ত আয়াতে শাফাআত শব্দটি শাফিয়িণ এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরবী ভাষামতে তা শাফাআতের প্রমাণ বহন করে। কারণ যুক্ত শব্দটি বহুবচন আর আল্লাহর সম্বোধন হল কাফেরদের প্রতি কিন্তু মুসলমানরা কাফের নয়। অতএব শাফাআত মুসলমানদের জন্য যুক্তিযুক্তভাবে প্রমানিত হয়।

) و َإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ وَمَا هُمْ عَنْهَا بِغَائِبِينَ( .

নিশ্চয় পাপাচারীরা থাকবে দোযখের আগুনে। তারা বিচার দিবসে তথায় প্রবেশ করবে। তারা সেখান থেকে পৃথক হবেনা।63

মোতাজিলা সম্প্রদায় বিশ্বাস করে থাকে , উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে , পাপাচারীরা দোযখে অনন্তুকাল ধরে থাকবে ও সেখান থেকে কোন দিন বের হতে পারবেনা। অতএব গুনাহগারা যদি জাহান্নামে প্রবেশ করে থাকে তাহলে আর বের হওয়ার উপায় থাকবেনা। অতএব এ অবস্থায় শাফাআতের কারণে কবিরা গুনাহ সমূহ ক্ষমা হতে পারেনা।

আমাদের মতে তাদের এ ধারনার কারণ হল যে তারা কবিরা গুনাহকারী ব্যক্তিদের কাফের মনে করে থাকে যদিও তারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে।

ওমর আবু নাসের এ ব্যাপারে বলেন , মোতাজিলা সম্প্রদায় বিশ্বাস করেন যে , যারা কবিরা গুনাহ করে তারা নবী রাসুলদের প্রতি ঈমান আনলেও কাফের বলে পর্যবসিত হবে কিন্তু আমাদের মতে (আক্কল ও কোরআন হাদীসের যুক্তি মোতাবেক) কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ ও তার রাসুলকে স্বীকার করে নেয় কিন্তু গুনাহ করে থাকে তাহলে সে কাফের নয়।64 এবং চির দিনের জন্য জাহান্নামে থাকবেনা ।


বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল

যদি কোন মুসলমান অধিক পরিমাণ ভাল কাজ করে থাকে এবং সারা জীবনে কিছু পরিমাণ পাপ করে ; সে অবস্থায় যদি তাকে চিরদিন দোযখের আগুনে জ্বলতে হয়। তাহলে তার প্রতি অবিচার করা হবে। আর আল্লাহ তালা কারো প্রতিই অবিচার করেন না , অতএব শাফাআতের কারণে সে ব্যক্তি দোযখের আগুন থেকে ক্ষমা পেয়ে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে।


কোরআন হাদীসের যুক্তি

ক-কোরআনের আয়াত:

শাফাআত সম্পর্কিত প্রচুর আয়াত আছে তবে শর্ত হল শাফাআত প্রার্থী কাফের অথবা মুশরিক নয়।

উদাহরণস্বরূপ:

) إ ِنَّ اللَّـهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ( .

যে ব্যক্তি শিরক করে আল্লাহ তালা তার গুনাহ খাতা সমূহ ক্ষমা করেন না ।কিন্তু শিরক ব্যতীত অন্য যে কোন গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন ।65

মোতাজিলাদের যুক্তিগত আয়াত ছাড়া ও এমন কিছু আয়াত আছে যেগুলো দ্বারা মোতাজিলাদের যুক্তি খণ্ডন করে শাফাআত কে প্রমান করা যায় । কারন উক্ত আয়াত সমূহে আল্লাহ তা আলা গুনাহ খাতা মাফ করার ওয়াদা দিয়েছেন । আল্লামা হিল্লি এ প্রসঙ্গে অসংখ্য যুক্তি পেশ করেছেন । তিনি বলেছেন ,যে ব্যক্তি ,ঈমান এনেছে ও সৎ কাজ করেছে সর্বদাই সওয়াব পাওয়ার উপযোগী । আল্লাহ তা আলা এ প্রসঙ্গে বলেন ,

) ف َمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ(

যে ব্যক্তি বিন্দু পরিমান সৎ কাজ করেছে তার প্রতিদান ও সেদিন দেখতেপাবে ।66 আর ইমান হল সর্বোচ্চ সওয়াবের কাজ এবং ঈমানের ফলে চিরকালই সওয়াবের অধিকারী হয় । যদি বলে থাকি যে ঈমানদার ব্যক্তির জন্য পাপকর্মের আজাব সৎ কাজের প্রতিদানে অগ্রাধিকার প্রাপ্য তবে তা যুক্তিযুক্ত নয় । আর এ ব্যপারে আলেমগন এজমাতে একমত হয়েছেন ।67

খ- হাদীস:

মাসুম ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে অসংখ্য হাদীস আছে যেগুলো থেকে বুঝা যায় যে , শাফাআতের উসিলায় গুনাহগারদের গুনাহ ক্ষমা করা হবে । উদাহরনস্বরূপ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর এ হাদিসটি ;شفاعتی لاصحاب الکبائر

আমার শাফাআত কারীরা গুনাহকারীদের জন্য । অতএব বুদ্ধিবৃত্তিক ও কোরআন হাদীসের যুক্তি দ্বারা মুতাজিলাদের আপত্তি খন্ডিত হয়েছে এবং এরূপ বলা যেতে পারে যে যদি কেহ কোন গুনাহ করার পর তওবা না করেই মৃত্যু বরন করে তাহলে ও সে শাফাআতের কারনে মুক্তি পেতে পারে এবং চিরদিন তাকে জাহান্নামে থাকতে হবেনা ।

ফলাফল:

উপরোক্ত আলোচনা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রমানিত হয় যে ,শিয়া ও সুন্নী সব আলেমরাই বিশ্বাস করেন যে ,শরিয়তের ভিক্তিতেই শাফাআত কারীগন ক্ষমার উপযুক্ত পাপী ব্যক্তিদের জন্য সুপারিশ করে তাদেরকে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন ।


চতুর্থ অধ্যায়

কখন ও কোথায় শাফাআত করা হবে ?

সে সময় ও স্থান হর কেয়ামত ও জাহান্নাম

আয়াত

হাদীস

বারজাখে ও দুনিয়াতেও শাফাআত করা হবে ।

ফলাফল


কখন ও কোথায় শাফাআত করা হবে ?

শাফাআতের স্থান ও সময় নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে । তবে সার্বিকভাবে তা 2 ভাগে বিভক্ত ।

1 ।শাফাআতের সময় হল কেয়ামত এবং স্থান জাহান্নাম

দলিল ও যুক্তি

কোরআনের আয়াত সমূহ

( وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ)

হে রাসূল অতিশিঘ্রই আপনার পরওয়ারদেগার আপনাকে এত বেশি দান করবেন যাতে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন ।68

আর দানকরার সেই সময় হল কেয়ামত।

) ع َسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا(

অতি শীঘ্রই আছে আপনার পরওয়ার দেগা আপনাকে মাকামে মাহমুদে অধিষ্টিত করবেন।69 মাকামে মাহমুদে রেওয়ায়াত থেকে বুঝা যায় সে সময় হল কেয়ামত।70

) فَمَا لَنَا مِن شَافِعِينَ)( ف َمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ(

উপরোক্ত আয়াত দুটিতে শাফাআত সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে কিন্তু তা জাহান্নাম বাসীদের উ্দ্দেশ্যে বলা হয়েছে ।71 আর এ থেকে বুঝা যায় যে , শাফাআত কারীগণ গুনাহগারদের দোজখের আগুন থেকে উদ্ধার করবেন অপরদিকে কাফের মুশরিকরা সেখানেই অবস্থান করবে। তাদের জন্য কোন ধরনের শাফাআত থাকবে না।

খ- হাদীসের যুক্তি

শাফাআত সম্পর্কিত হাদীস সমূহ থেকে বুঝা যায় যে , শাফাআতের সময় হল কেয়ামত এবং স্থান জাহান্নাম।

1। ইমাম সাদিক (আঃ) বলেন ,

আল্লাহর কসম , আমি তোমাদের জন্য ভয় পাইনা কিন্তু শুধুমাত্র কবরের বারজাখের সময়কে। (কারণ সেখানে আমরা শাফাআত করতে পারবনা।) অতঃপর যখন আমাদের সে সময় আসবে (কেয়ামত ও তার পরবর্তী সময়) যখন আমাদেরকে শাফাআত করার তৌফিক দেয়া হবে এবং সেদিন আমরা তো তোমাদেরকে শাফাআত করার জন্য যথেষ্ট ও উপযুক্ত ।

কেয়ামতের আগে শাফাআত করার বিষয়কে এই হাদীস খণ্ডন করে।

2। সহীহ হাদীসে ওমর ইবনে ইয়াযিদ বলেন: আমি আবা আবদিলাহ (ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) কে জিজ্ঞেস করে বললাম ; আমি আপনার জন্য উৎসর্গীত অত্যধিক গুনাহ করে ফেলেছি! ইমাম বলেন ,

তোমরা সবাই (ইমানদার গুনাহকারীগণ) সেদিন (কেয়ামতের দিন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও তার উত্তরাধিকারীদের শাফাআতের মাধ্যমে বেহেশত প্রবেশ করবে । কিন্তু মৃত্যুর পর কবরে তোমাদের উপর (বারজাখের ) আজাবের জন্য আমি চিন্তিত ( কারন তখন কোন শাফাআত থাকবেনা ) ।

ওমর ইবনে ইয়াযিদ প্রশ্ন করলেন ,বারজাখ কি ?

ইমাম বললেন: মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত কবরের জীবনের সময়কে বারজাখ বলা হয় ।72

আলেমগণ মনে করেন , এই হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে , বারজাখের জীবন মৃত্যুর পর থেকে শুরু হয়। উদাহরনস্বরূপ আল্লামা তাবা তাবাঈ বলেন ,

কেয়ামতের দিন এমন কিছু স্থানে লোকজন একত্রিত হবে যেখানে শাফাআতের মাধ্যমে জাহান্নামে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের প্রতিরোধ করে বেহেশতের প্রবেশ করানো হবে অথবা কিছু কিছু ব্যক্তি যারা জাহান্নামে প্রবেশ করে থাকবে তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হবে। 73

2 । দ্বিতীয় মত: শাফাআতের সময় ও স্থান (আভিধানিক অর্থে) বারজাখ এবং দুনিয়ায় ও ঘটে

থাকবে ।

কিছু কিছু আলেমগণ বিশ্বাস করেন যে , দুনিয়া এবং বারজাখেও শাফাআত করা হবে। তারা কিছু কিছু রেওয়ায়াত কে তাদের মতের পক্ষে যুক্তি পেশ করেছেন।

1। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম আমিরুল মুমিনিন আলী (আঃ) কে বলেন , ওহে আলী তোমার বন্ধুগন মৃত্যুর সময় তোমাকে দেখতে পাবে , তুমি তাদের জন্য শাফাআতকারী , সুখবর দাতা ও তাদের চোখর মনি হিসেবে থাকবে74

জবাব : উক্ত হাদীসে ব্যবহৃত শব্দشفیعا শাফাআতের আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ।

2। ইমাম সাদিক (আঃ) বলেন ,

যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা রোকাইয়া ইন্তেকাল করলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তার কবরের পাশে এলেন ,75 দুই হাত আকাশের দিকে তুললেন , তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়তেছিল। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন , ওহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম আমরা দেখলাম আপনি দুহাত আকাশের দিকে উত্তোলন করলেন এবং দুচোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়তেছিল! ? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন ,হ্যাঁ ,আমি আল্লাহর কাছে আবেদন করলাম যাতে তার উপর কবরের চাপকে রহিত করেন।

এই হাদীস থেকে বুঝা যায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কবরের আজাব থেকে মুক্তির জন্য (রোকাইয়ার জন্য) দোয়া করলেন এবং এই দোয়া ঠিক সেই শাফাআত করারই শামিল।

জবাব: উপরোক্ত হাদীস সমূহ এবং অনূরূপ হাদীস সমূহ পর্যালোচনা করলে বুঝা যায় যে , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও পবিত্র ইমামগণ কিছু কিছু ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করেছেন যাতে তাদের মৃত্যুর কষ্ট কমানো হয় । কবরের আজাব হ্রাস করা হয়। যদিও এ বিষয়গুলোও এক ধরনের সুপারিশ তথাপি তা শাফাআতের পারিভাষিক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। এই কাজ আরবী পরিভাষায় তাছাররোফত ও হুকমাত যা আল্লাহর অনুমোদনক্রমে তার নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য দান করা হয়।

ফলাফল: আমাদের মতে শাফাআত শুধুমাত্র কেয়ামতের দিন ও গুনাহ মাফের জন্য অনুমোদিত। তবে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তি বর্গ কিছু লোকের অভাব পূরনের জন্য ,তাদের বিপদ আপদ থেকে দোয়া করার জন্য , তাদের উন্নতির জন্য ক্ষমতা আল্লাহরই এক প্রকার কৃপা যা তাছাররোফত ও হুকুমাত্র এর মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং তা আল্লাহরই অনুমোদনে সংঘটিত হয়। এগুলো এক ধরনের সাহায্য না শাফাআত। আর তাই এমন ধরনের সাহায্য বারজাখেও হতে পারে।


পঞ্চম অধ্যায়

শাফাআত কারীদের শর্তসমূহ

নবীগণ বিশেষ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম শাফাআতকারী

ইমামদের শাফাআত

ফেরেশতাদের শাফাআত

কোরআনের শাফাআত

ফলাফল


শাফাআত কারীদের শর্ত সমূহ

কোরআনের আয়াত ও হাদীসের বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে , যারা শাফাআত করার অধিকারী হবে তাদের কিছু শর্ত ও বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। আর তাই যখন সে ব্যক্তি শাফাআত করতে চাইবে আল্লাহর অনুমোদন ও সন্তুষ্টষ্টির প্রয়াজন রয়েছে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টষ্টি ও অনুমোদন তখনই পাওয়া যাবে যখন প্রয়াজনীয় শর্ত সমূহ পূরণ হবে। উক্ত শত সমূহ নিম্নে বর্ণিত হলো:

1। শাফাআতকারীকে আল্লাহর কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। কোরআনের আয়াত এ বিষয়কে সাক্ষ্য দেয় ।

) م َا مِن شَفِيعٍ إِلَّا مِن بَعْدِ إِذْنِهِ( .

কোন শাফাআতকারী নেই যদিনা আল্লাহর পক্ষ্য থেকে অনুমোদন না থাকে ।76

مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ এমন কে আছে , তার নিকট শাফাআত করতে পারবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ?77

উপরোক্ত দু আয়াতে নেগেটিভ বাক্যের পরে এসেছে অতএব তা নিশ্চয়তা ও গুরুত্ব বহন করে। অর্থাৎ আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত শাফাআত

করা হবেনা (যতক্ষণ না আল্লাহ শাফাআত কারীকে অনুমতি না দেন)

2। শাফাআতকারী সত্যের সাক্ষী হবে। অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদ ও তার গুণ বৈশিষ্ট্যের স্বীকারোক্তি প্রদান করবে এবং তার প্রতি বিশ্বাস থাকতে হবে। এই শর্তের পক্ষেও কোরআনের আয়াত রয়েছে।

.) وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَن شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ(

যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও উপাসনা করে তারা শাফাআত করার অধিকারী হবে না , কিন্তু যারা আল্লাহর একত্ববাদকে জেনে বুঝে সাক্ষী থেকে (স্বীকারোক্তি প্রদান করবে)।78

3। আল্লাহ তালা শাফাআত কারীর কথা ও মতামতের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

) . يَوْمَئِذٍ لَّا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَـٰنُ وَرَضِيَ لَهُ قَوْلًا( .

সেদিন (কেয়ামতের দিন ) কারো শাফাআতই মঙ্গলজনক হবেনা যদিনা আল্লাহ তালা তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে ও তার কথাকে পছন্দ করে ।79

আল্লামা তাবাতাবাঈ (রহ) এ প্রসঙ্গে বলেন : আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকতে হবে এ কথার অর্থ হল সে ব্যক্তি(তার কথা ও কাজে)আল্লাহর বিরোধীতা থেকে বিরত থাকতে হবে । যদি সে ব্যক্তি ভূল ভ্রান্তি করে যার ফলে আল্লাহ তালা তার উপর অসুন্তষ্ট হন তাহলে সে ব্যক্তি শাফাআতের মর্যাদা পাবেনা তবে আল্লাহ তালা তার ভূল ভ্রান্তি ক্ষমা করে দিয়ে তাকে তার বিশ্বাসে পূত পবিত্র করে এবং দুনিয়ার অপবিত্রতা , শিরক ও জাহেলিয়াত থেকে উদ্ধার করে তাহলেই সম্ভব ।80

4 ।শাফাআতকারীগনকে একত্ববাদী হতে হবে ।

) ل َّا يَمْلِكُونَ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِندَ الرَّحْمَـٰنِ عَهْدًا(

সেদিন এমন কোন ব্যক্তি নেই যে যারা শাফাআতের মালিক হবে তবে যারা মেহেরবান আল্লাহর সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ( পরিপূর্ণ একত্ববাদী) হবে তারা ব্যতিত ।81

ফলাফল : কোআনের আয়াত ও হাদীসসমূহ পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে , শাফাআতের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই হাতে এবং তারই অনুমতিক্রমে কিছু কিছু ব্যক্তি শর্ত সাপেক্ষে শাফাআত করতে পারবে ।


শাফাআতের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ

1 । নবী রাসূলগন :

নবী রাসূলগন বিশেষ করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম যিনি শাফাআতের সর্বোচ্চ আসনে মাকামে মাহমুদ অধিষ্টিত , কেয়ামতের দিন গুনাহগারদেরকে শাফাআত করবেন । এ সম্পর্কে বেশ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ,তিন প্রকারের লোকজন শাফাআত করবেন যাদের শাফাআত কবুল করা হবে নবী রাসূলগন , অত:পর আলেমগন , অত:পর শহীদগন ।82

মোফাসেরবৃন্দ পবিত্র কোরআনের নিন্মলিখিত আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে বলেন ,

) و َقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَـٰنُ وَلَدًا ۗ سُبْحَانَهُ ۚ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ(

তারা বলল , দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহন করেছেন তার জন্য কখনোই ইহা গ্রহনযোগ্য নয় বরং তারা তো তার সম্মানিত বান্দা।83

একইভাবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও একজন শাফাআতকারী।

বিভিন্ন প্রকার হাদীস এবং রেওয়ায়াতে মোতাওয়াতের বর্ণিত হয়েছে , যেগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে , নবীগণ বিশেষকরে হযরত মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম শাফাআত কারীদের মধ্যে গন্য। সুয়ুতি তার নিজস্ব গ্রন্থ আদদুররুল মানসুর 84 এ ও সাইয়্যেদ বাহরানী তার তাফসীর আল বোরহান 85 এ যথেষ্ট হাদীস বর্ণনা করেছেন।

যা থেকে বুঝা যায় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর সেই মাকামে মাহমুদ ঠিক সেই মাকামে শাফাআত বলে পরিগণিত , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কেয়ামতের দিন শাফাআত করবেন এবং এমন কোন মুসলমান নেই যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর শাফাআতের বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে। এই সত্য বিষয়কে কোন সম্প্রদায়ই অস্বীকার করেনি। অতএব এবিষয়টিকে এজমার অন্তর্ভূক্ত করা যায়। কেয়ামতের দিন সর্বোচ্চ আসনে শাফাআত করার অধিকার বিশেষ করে আমাদের শেষ নবীকে দেয়া হবে। (এ বিষয়টিকে কোরআনের স্পষ্ট আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে তাকে মাকামে মাহমুদ দান করা হবে।)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , যেদিন কেয়ামত হবে আমি কোন রকম গর্ব অহংকার ছাড়াই সকল নবীদের ইমাম , তাদের বক্তা ও তাদের জন্য শাফাআত কারী হব। 86

ইমাম কাজেম (আঃ) বলেছেন ,

কেয়ামতের দিন মানুষকে 40 বছর এক জায়গায় দাড়করিয়ে রাখা হবে। সূর্য আদিষ্ট হবে তাদের উপর উত্তাপ দেয়ার জন্য ,মাটি আদিষ্ট হবে যাতে তাদের ঘাম গ্রহণ না করে। তখন সবাই আদম (আঃ) এর কাছে আসবে শাফাআত পাবার আশায় , তিনি নুহ (আঃ) কে দেখিয়ে দিবেন। কিন্তু নূহ (আঃ) দেখাবেন ইব্রাহিম (আঃ) কে , ইব্রাহিম (আঃ) মুসা (আঃ) কে , মুসা (আঃ) ঈসাকে এবং ঈসা (আঃ) দেখাবেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কে এবং বলবেন তিনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী তার কাছে যাও। (ঈসা (আঃ) তখন সবাইকে তাঁর কাছে উপস্থাপন করে শাফাআত করার জন্য অনুরোধ করবেন।)

তখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলবেন সবাই আসন , সবাইকে বেহেশতের দরজার কাছে নিয়ে যাবেন তিনি বলবেন , বেহেশতের দরজা খুলে ফেলুন। যখন দরজা খুলে যাবে তখন তিনি সেদিকে ফিরে সেজদায় পড়ে যাবেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত সেজদায় থাকবেন যতক্ষণ বলা হবে না যে , মাথা উঠাও ও যা ইচ্ছা চাও দেয়া হবে শাফাআত কর কবুল করা হবে।

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠবেন এবং যারা আগুনে জ্বলন্ত থাকবে তাদের জন্য শাফাআত করবেন। অতএব সেদিন তার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোন ব্যক্তি থাকবেনা এবং ঠিক সেই আয়াতের মতই হবে যে , (অতিশিঘ্রই আল্লাহ তালা আপনাকে মাকামে মাহমুদে অধিষ্টিত করবেন।)87 এটা সেই পদ যা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে।

আইস ইবনে কাশেম ইমাম সাদিক (আঃ) এর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন , বনি হাশেম বংশেরে কিছুক্ক সংখ্যক লোক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে আবেদন করলেন যে , তাদেরকে চতুষ্পয়ী জন্তুর যাকাত আদায়ের ভার দেয়া হোক। (যাতে করে তারা যাকাতের সুবিধা ভোগ করতে পারে) অতঃপর বললো , ঠিক যে পরিমাণ অর্থ যাকাত আদায় কারীদের দেয়া হয় আযাদেরকেও তাই দেয়া হোক। আমরা তাদের চেয়ে অগ্রাধিকারী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন ওহে আব্দল মুত্তালিবের সন্তানগণ , আমার ও তোমাদের জন্য যাকাত খাওয়া হারাম কিন্তু আমি এর বিনিময়ে (যাকাত না খাওয়ার বিনিময়ে)

তোমাদেরকে শাফাআতের ওয়াদা দিচ্ছি। অতঃপর বললেন , আল্লাহ তালা আমাকে শাফাআত করার ওয়াদা দিয়েছেন। ওহে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানগণ যখন আমি (কেয়ামতের দিবসে) দরজার কড়া ধরব কী ধারনা করবে ?

অতঃপর বললেন , কেয়ামতের দিন জিন ও ইনসান এক লাইনে সারিবদ্ধ হবে এবং যখন সুদীর্ঘ অপেক্ষা করতে থাকবে তখন শাফাআতের জন্য আবেদন করবে এবং বলতে থাকবে শাফাআতের জন্য কার শরণাপন্ন হব ? নূহ (আঃ) এর কাছে আসবে , নূহ বলবেন , আমি আবেদন করেছিলাম পূরন হয়েছে , বলবে তাহলে কার কাছে যাব ? বলবে , ইব্রাহিম (আঃ) এর কাছে , ইব্রাহিম (আঃ) এর কাছে আসবে ও শাফাআতের জন্য আবেদন করবে। তিনি বলবেন আমিও আবেদন করেছিলাম আবেদন পূরন হয়েছে , বলবে তাহলে কার কাছে যাব ? বলবেন , হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও। তখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাবে। তিনি তার শান ও সওকত নিয়ে বেহেশতের দিকে রওয়ানা হবেন , বেহেশতের দরজা পর্যন্ত যাবেন। যখন বেহেশতের দরজায় পৌছবেন তখন দরজায় নক করবেন। 1টি পশ্ন ও উত্তরের পর দরজা খুলে যাবে এবং তাকে সম্ভাসন জানাবে। বেহেশতের দিকে দৃষ্টি পরা মাত্রই তিনি সেজদায় পড়ে যাবেন এবং আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করতে থাকবেন। তখন একজন ফেরেশতা এসে বলবে ওহে রাসূল মাথা উঠান , এবং আল্লাহর কাছে যা চাবেন তাই পাবেন এবং শাফাআত করেন কবুল হবে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠাবেন ও বেহেশতের প্রবেশ করবেন। অতঃপর পূনরায় সেজদায় পড়ে যাবেন এবং পূর্বের ন্যায় ফেরেশতা এসে বলতে থাকবে , তখন তিনি মাথা উঠাবেন এবং যা চাবেন তাই পাবেন।88

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , আমি আদমেরর বংশধর সন্তান কোন রকম গর্ব অহংকার করিনা। আমি প্রথম ব্যক্তি যাকে সর্ব প্রথম ভূমি থেকে (কবর থেকে) উত্থাপন করা হবে এবং তাতেও গর্ব করিনা। আমি প্রথম শাফাআত কারী এবং যার শাফাআত কবুল করা হবে এবং তাতেও গর্ব করিনা। কেয়ামতের দিন প্রশংসার পতাকা আমার হাতে থাকবে তাতেও গর্ব করিনা।89

উবাইদ ইবনে যুরারাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে , তিনি ইমাম সাদিক (আঃ) কে প্রশ্ন করেন , মুমিনদেরকে কি শাফাআত করা হবে ? বললেন হ্যাঁ , আল্লাহর কসম। কোন একজন প্রশ্ন করলেন ; তাহলে কি মুমিন ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর শাফাআতের জন্য নির্ভরশীল থাকবে ? ইমাম বললেন হ্যাঁ , মুমিনদেরও ভুল ভ্রান্তি এবং গুনাহ হয়ে থাকে। এমন কোন ব্যক্তি নেই কেয়ামতের দিন যার জন্য মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর শাফাআতের প্রয়োজন পরবে না । অন্য একজন প্রশ্ন করলেন: হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কি এমন কথা বলেছেন যে , আমি আদমের বংশধর সন্তান কিন্তু গর্ব অহংকার করিনা ? ইমাম বললেন: হ্যাঁ , তিনি বেহেশতের কড়া ধরে তা খুলে ফেলবেন , অতঃপর সেজদায় পড়ে যাবেন , আল্লাহ তালা বলবেন মাথা উঠান , এবং শাফাআত করুন , আপনার শাফাআত কবুল করা হবে এবং যা কিছু চাইবেন দেয়া হবে। অতঃপর তিনি মাথা উঠাবেন কিন্তু পূনরায় সেজদায় পড়ে যাবেন এবং একই ভাবে মাথা উঠাবেন এবং তখন শাফাআত করবেন , শাফাআত কবুল করা হবে এবং অন্য যা কিছু চাইবেন দেয়া হবে।

2। মাসুম ইমামগণ:

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে যেগু্লোতে বলা হয়েছে যে , পবিত্র ইমামগণ এবং রাসূলের সন্তানগণ কেয়ামতের দিন শাফাআত করবেন। সেরূপ কয়েকটি হাদীস নমুনা হিসেবে তুলে ধরব। ইমাম সাদিক (আঃ) বলেন:

যখন কেয়ামতের দিন উপস্থিত হবে তখন আল্লাহ তালা আদী থেকে অন্তু সকল জন মানবকে এক অন্ধকার স্থানে সমবেত করবেন। মানুষেরা আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি ও বিলাপ করতে থাকবে ও বলতে থাকবে হে আমাদের পরওয়ার দেগার! এই অন্ধকার কে আমাদের সামনে থেকে সরিয়ে নাও। তখন কিছু কিছু লোকদের সামনে আলোর ঝলক পরতে থাকবে তাদের আলোতে কেয়ামতের মাঠ আলোকিত হবে।

উপস্থিত জনতা বলতে থাকবে উক্ত ব্যক্তিরা আল্লাহর ফেরেশতা। আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষিত হবে: তারা ফেরেশতা নয়। জিজ্ঞেস করবে , তোমরা কারা ? বলবেন: আমরা আলীর বংশের হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর সন্তান এবং আমরা আলী (আঃ) এর সেই সন্তুানবৃন্দ যাদেরকে আল্লাহ তালা কেরামতি দান করেছেন। আমরা সেই ঈমানদার ব্যক্তিবর্গ যারা তাদের ঈমানের প্রতি দৃঢ় ছিল। আল্লাহ তালা তখন তাদেরকে বলবেন , তোমাদের বন্ধুদের ও অনুশারীদের শাফাআত কর এবং তাদের শাফাআত কবুল করা হবে।90

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন ,

আমার আহলে বাইতগণ শাফাআত করবো ও তাদের শাফাআত কবুল করা হবে। 91

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন ,

শাফাআত কারীরা 5 দলে বিভক্ত নবী এবং নবীর আহলে বাইতগণ শাফাআত করবেন। 92

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন ,

কেয়ামতের দিন আমি শাফাআত করব , তা কবুল করা হবে আলী শাফাআত করবে তার শাফাআতও কবুল করা হবে এবং আমার আহলে বাইত শাফাআত করবে তাও কবুল করা হবে। 93

ইমাম আলী (আঃ) বলেন , আমরা শাফাআত করব এবং আমাদের বন্ধুরাও শাফাআত করবে । 94

ইমাম বাকের (আঃ) আল্লাহর বানীتری کل امّة جاثیه প্রসঙ্গে বলেন ,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও আলী (আ.) সকল সম্ভ্রান্ত লোকজনদের মাঝে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হবেন অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম শাফাআত করবেন এবং বলবেন , ওহে আলী শাফাআ্ত কর ।95

3. হযরত ফাতেমা যাহরা (আ.)

হযরত ফাতেমা যাহরার (আ.) শাফাআত সম্পর্কেও যথেষ্ট হাদীস বর্ণিত আছে তার কয়েকটি নমূনা এখানে পেশ করব ।

ইমাম বাকের (আ.) বলেন :

আমার পিতা আমাদের পূর্ব পুরুষ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন যে ,কেয়ামতের দিন ফাতেমা যাহরা (আ.) বেহেশতের দরজায় এসে অপেক্ষা করতে থাকবেন । আল্লাহ তালা বলবেন , হে আমার হাবিবের কন্যা কী কারনে অপেক্ষা করছেন ? আমি চাই তুমি বেহেশতে প্রবেশ কর ।

ফাতেমা (আ.) বললেন , হে আমার প্রতিপালক ,আমার ইচ্ছা ছিল এমন দিনে আমার পদমর্যাদা স্পষ্ট হোক । যাদের অন্তর তোমার প্রতি অথবা তোমার যে কোন সন্তানের প্রতি ভালোবাসা পোষন করতো তাদের হাত ধরে বেহেশতে প্রবেশ কর ।

ইমাম বাকের (আ ,) বলেন ,ওহে জাবের! আল্লাহর কসম ,ফাতেমা (আ.) সেদিন আমাদের প্রতি ভালোবাসা পোষনকারী ব্যক্তি ও মুসলমানদের আলাদা করবেন । ঠিক যেভাবে মা পাখি খারাপ শস্য কনা থেকে ভাল শস্য কনা আলাদা করে ।96

মুহম্মদ ইবনে মুসলিম বলেন: ইমাম বাকের (আ.) এর কাছ থেকে শুনেছি যে তিনি বলেছেন:

ফাতেমা (আ.) বেহেশতের দরজায় অপেক্ষা করতে থাকবেন । কেয়ামতের দিন সকল মানুষেরই দুই চোখের মধ্যখানে(কপালে)লেখা থাকবে মুমিন অথবা কাফের । (আহলে বাইতের প্রতি) আশেক ব্যক্তিগন যাদের পাপের পরিমান বেশী তাদের আদিষ্ট হবে দোযখে যাওয়ার জন্য । তখন ফাতেমা (আ.) (দেখতে পাবেন যে তাদের কপালে সেরূপ লেখা আছে এবং তার সাথে সাথে অন্য কিছু লেখা আছে) পড়ে দেখবেন যে তাদের কপালে লেখা আছে মোহেব্ব ( অর্থাৎ তারা মুমীন এবং আহলে বাইতের প্রেমিক কিন্তু তাদের গুনাহের পরিমান অধিক) । অত:পর বললেন ওহে মাবুদ ,আমার নাম দিয়েছো ফাতেমা এবং আমার উসিলায় আমার শুভাকাংখীদের ও বংশধরদের দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দেয়ার ওয়াদা দিয়েছো ,আমি জানি তোমার ওয়াদা সত্য (ভঙ্গ হয় না )। আল্লাহ তালা বলবেন ওহে ফাতেমা ঠিক বলেছো , আমি ওয়াদা দিয়েছি এবং আমার ওয়াদা ভঙ্গ হবেনা কিন্তু আমি আদেশ দিয়েছি এই সকল লোক দোযখে যাবে এবং যখন তুমি তাদের জন্য শাফাআত করবে তখন আমি তোমার শাফাআত কবুল করব , তোমার শাফাআতের কারনে তারা দোযখের আগুন থেকে মুক্তি পেয়ে বেহেশতে যাবে । তখন তোমার মর্যাদা সকল নবী রাসূল ও অলি আওলিয়াদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রমানিত হবে । অতএব তার চোখে যারা মুমিন তাদের হাত ধরে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন ।97

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন ,যে মহিলা পাঁচ ওয়াক্ত পড়বে ,রমজান মাসে রোজা রাখবে ,পবিত্র কাবা ঘরের হজ্ব (ফরজ হলে পালন করবে ,যাকাত দিবে । তার স্বামীর আদেশ পালন করবে এবং আমার পর আলী (আ.) কে ইমাম হিসেবে মেনে নেবে ও তার বন্ধু হবে । সে আমার কন্যা ফাতেমা (আ.) এর শাফাআতের মাধ্যমে বেহেশতে প্রবেশ করবে ।98

4 । ফেরেশতাদের শাফাআত

কোরআন হাদীসের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে , শাফাআত করার অধিকার নবী রাসূল বা বিশেষ কিছু লোকদের জন্য নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে সীমিত নয় বরং মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রানী ও শাফাআত করতে পারবে যেমন ফেরেশতারা তারা এমনই এক দল যারা শাফাআত করতে পারবে ।

ফেরেশতাদের শাফাআত করার পক্ষ্যে কোরআন ও হাদীসের নিম্নলিখিত দলিল সমূহ পেশ করা যেতে পারে ।

ক- কোরআনের দৃষ্টিতে শাফাআত

) و َالْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَن فِي الْأَرْضِ(

ফেরেশতারা আল্লাহর প্রশংসা কীর্তন করে এবং বিশ্ববাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।99

) و َكَم مِّن مَّلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللَّـهُ لِمَن يَشَاءُ وَيَرْضَىٰ(

আকাশে অনেক ফেরেশতারা রয়েছে যাদের কোন সুপারিশ (শাফাআত) ফলপ্রসু হবেনা , যতক্ষণ না আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা এবং যাকে পছন্দ করেন তাদের জন্য অনুমতি দিবেন।100

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট : প্রথম আয়াত ফেরেশতাদের শাফাআতের ব্যাপারে স্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করে কিন্তু দ্বিতীয় আয়াত তাদের শাফাআত কবুল হওয়ার শর্ত আরোপ করেছে এবং ঘোষণা করেছে , তখনই ফেরেশতাদের শাফাআত কবুল হবে যখন তা আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে হবে এবং তার সাথে যাদেরকে শাফাআত করার জন্য আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকবেন।

এর আগেও আমরা উল্লেখ করেছি যে , আরবী সাহিত্যে যদিاثتثنی নেগেটিভ বাক্যের পরে আসে তাহলে তা সঠিক ও সত্য বলে প্রমাণিত হয় তাই্لا تعنی شفعتهم شییا সস্পষ্ট নেগেটিভ বাক্য কিন্তু তার পরই এসেছেالا من بعد أن یاذن الله لمن یشاء و یرضی এই বাক্য দ্বারা পূর্বে নেগেটিভ বাক্যকে অস্বীকার করে সঠিক বলে প্রমাণ করে যে আল্লাহর অনুমতিতে তারা শাফাআত করবে।

খ- হাদীসের বর্ণনা মতে ফেরেশতাদের শাফাআত

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ,یشفع النبیون و الملائک

নবীগণও সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ফেরেশতারা শাফাআত করবেন।101

ফেরেশতাগণ , নবীগণ ও শহীদ্দেরকে অনুমতি দেয়া হবে শাফাআত করার জন্য।তারাও তখন শাফাআত করবেন এবং তাদের শাফাআত কবুল করা হবে এবং যাদের অন্তরে বিন্দুমাত্র ঈমান থাকবে তারা তাদেরকে দোজখের আগুন থেকে উদ্ধার করবেন।102 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ তালা বিচার ফায়সালা করার পর কিছু সংখ্যক লোকদেরকে দোজখের আগুন থেকে তুলে আনবেন (যাদেরকে চাইবেন)। অতঃপর ফেরেশতা ও নবীদেরকে বলবেন তাদের জন্য শাফাআত কর , (যারা শাফাআত পাওয়ার উপযোগী) সে সব ব্যক্তির কপালে একটি আলামত ও চিন্হ থাকবে (কারণ তারা সেজদা কারীও নামাজি ছিল)। দোজখের আগুন তাদের কপালকে পোড়াবেনা।

5। কোরআনের শাফাআত

কোরআনও শাফাআত করবে। এ ব্যাপারে আহলে সুন্নতও শিয়াদের বর্ণিত হাদীসে যথেষ্ট হাদীস উল্লেখিত আছে। তবে কোরআনের শাফাআত করার ব্যাপারে আমাদের উদ্দেশ্য হল

সেই সত্যিকার হাকিকতে কোরআন। বাহ্যিক কোরআনের লেখা ও পৃষ্ঠা নয় ।

হাদীসের বর্ণনামতে কোরআনের শাফাআত

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , কেয়ামতের দিন রোজা ও কোরআন বান্দাদের জন্য শাফাআত করবে । রোজা বলবে: হে আল্লাহ আমি দিনের বেলা তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং তাকে খাওয়া , পানাহার ও কাম বাসনা থেকে বিরত রেখেছি , তার ব্যাপারে আমার শাফাআত কবুল করুন। কোরআন বলবে , আমি তাকে রাতের ঘম থেকে বিরত রেখেছি অতএব তার জন্য আমার শাফাআত কবুল করুন। অতএব উভয়ের শাফাআত কবুল করা হবে।103

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , কোরআন শিক্ষা কর , কারণ সে তার সঙ্গীদেরকে কেয়ামতের দিন শাফাআত করবে। 104

কোরআনের একটি সূরাতে 30 টি আয়াত রয়েছে যারা উক্ত আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করবে তাদেরকে শাফাআত করবে এবং সে সূরাটি হল আল মূলক।105

রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , শাফাআত কারীগণ 5 দলে বিভক্ত: কোরআন , আপনজন , আমানত , রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও আহলে বাইত। 106

আলী (আঃ) বলেন , জেনে নাও কোরআন শাফাআত করবে এবং তা কবুল করা হবে , সে কথা বলবে তার কথা সত্যায়ন করা হবে। কেয়ামতের দিন কোরআন যার যার জন্য শাফাআত তারাই এর সুফল ভোগ করবে।107

6 শহীদ ও আলেমগনের শাফাআত

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , কেয়ামতের দিন নবীগণ অতঃপর আলেমগণ এবং অতঃপর শহীদগণ শাফাআত করবে।108

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , শহীদগণ তার পরিবারের লোকজন থেকে 70 জনকে শাফাআত করবে।109

ইমাম সাদিক (আঃ) বলেন , যেদিন কেয়ামত হবে আলেমকে বলা হবে , দাড়াও এবং যাদেরকে ভাল করে গড়তে পেরেছ তাদের জন্য শাফাআত কর।110

7.প্রতিবেশীর শাফাআত

ইমাম সাদিক (আঃ) বলেন , প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর জন্য শাফাআত করবে তবে শর্ত হল উক্ত প্রতিবেশী ঈমানদার হতে হবে।111

8 আমলের শাফাআত

অন্য এক প্রকার শাফাআতকারী হল নিজস্ব আমল। প্রত্যেক মানুষের কত আমল কেয়ামতের দিন প্রতিমূর্তি ধারন করবে।

নিম্নলিখিত আমল সমূহ উদাহরণ স্বরূপ পেশ করা যেতে পারে।

1- তওবা

ইমাম আলী (আঃ) বলেন কোন , শাফাআতকারীই তওবার চেয়ে উৎকৃষ্ট হতে পারে না।112

2- আমানতদারী

হযরত রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন: শাফাআত কারীগণ পাঁচ ধরনের আমানতদারী113

3 ও 4- রোজা ও কোরআন

রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

কেয়ামতের দিন রোজা ও কোরআন (তাদের আমল কারীগণকে) শাফাআত করবে। রোজা বলবে , হে আল্লাহ সে আমার কারণে খাওয়া ও কাম বাসনা থেকে বিরত রয়েছে অতএব আমাকে তার জন্য শাফাআত করার অনুমতি দাও।114

রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , কোরআন শিক্ষা কর। কোরআন কেয়ামতের দিন তার সঙ্গীদেরকে শাফাআত করবে।115

5- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরুদ

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) বলেন , মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও তার বংশধরদের উপর দরুদ পড় , যা কেয়ামতের দিন সে কঠিন মুসিবতের সময় আমাদেরকে শাফাআত করবে।116

বিশেষ লক্ষ্যণীয়: আমল ও শাফাআত

কাজ ও প্রচেষ্টা ইসলাম ধর্মে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আর তাই আল্লাহ তালা পবিত্র কোরআনে বলেন ,

) و َأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَىٰ(

মানুষ যা কিছু করবে তারই প্রতিফল পাবে ।117

অতএব মানুষ চেষ্টা করে যা অর্জন করে তার চেয়ে অধিক কিছু তার ভাগ্যে জুটবেনা ।

অন্য এক আয়াতে তিনি বলেন ,

) ف َمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ(

অতএব যে কেই বিন্দু পরিমান ভাল কাজ করেবে তার পুরস্কার সে পাবে এবং যে ব্যক্তি বিন্দু পরিমান কাজ করবে তার প্রতিদান ও সে পাবে ।118

) ك ُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ(

প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী ।119

উল্লেখিত আয়াতে স্পষ্টভাবে কৃত আমলের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে । আরেকটি বিষয় যা জানতে হবে তা হল আমল ও শাফায়াতের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই । আর আমলের শাফাআত করার বিষয়টি উক্ত কর্মফলেরই একটি দৃষ্টান্ত । কারন শাফাআত পাওয়ার জন্য চেষ্টা ও তদবীর থাকা আবশ্যক ।অন্য দিকে শাফাআত পাওয়ার জন্য পূর্বশর্ত সমূহ ও যোগ্যতা অর্জন করতে হবে । আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিদের উসিলা ব্যতিত শাফাআত পাওয়া সম্ভব নয় এবং তাদের সান্নিধ্য অর্জন করতে হলে তাকওয়া ও পরহেজগার হতে হবে । অতএব ফলাফল দাঁড়ায় যে ,শাফাআত ঠিক মানুষের সেই আমলেরই প্রতিচ্ছবি ।


ষষ্ট অধ্যায়

শাফাআত পাওয়ার শর্তাবলী

1।ইমান

2।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও ইমামদের দুশমনি থেকে বিরত থাকা


শাফাআত পাওয়ার শর্তাবলী

ধর্মের আলোকে শাফাআত প্রার্থীদের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক যার ফলে তাদের প্রতি শাফাআত প্রযোজ্য হবে । এ পর্যায়ে আমরা যে সব শর্তাবলীর প্রতি ইশারা করব ।

প্রথমত:শাফাআত প্রার্থীগনকে ইমানদার হতে হবে

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , আমার শাফাআত যে ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যারা তাদের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কোন শিরক করেনি ।120

এই হাদীস মোতাবেক মুশরিক ও কাফেরদের জন্য শাফাআত প্রযোজ্য হবেনা । কোরআনের আয়াত এই বিষয়কে সত্যায়ন করে ।

) ف ِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ ﴿٤٠﴾ عَنِ الْمُجْرِمِينَ ﴿٤١﴾ مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ ﴿٤٢﴾ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ ﴿٤٣﴾ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ ﴿٤٤﴾ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ ﴿٤٥﴾ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ ﴿٤٦﴾ حَتَّىٰ أَتَانَا الْيَقِينُ ﴿٤٧﴾ فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ ﴾

বেহেশত বাসীরা দোজখ বাসীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলবে তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নিপতিত করেছে ? তারা বলবে আমরা নামাজ পড়তামনা , অভাব গ্রস্থকে আহার্য দিতামনা , আমরা ভ্রান্ত লোকদের সাথে সমালোচনা করতাম। আমরা সেই দিনকে (কেয়ামতের দিনকে) অস্বীকার করতাম। আর এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের মৃত্যু হয়। অতএব শাফাআত কারীদের শাফাআত তাদের জন্য কোন উপকারে আসবেনা।121

﴿ وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ ﴿٩٥﴾ قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ ﴿٩٦﴾ تَاللَّـهِ إِن كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ ﴿٩٧﴾ إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٩٨﴾ وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ ﴿٩٩﴾ فَمَا لَنَا مِن شَافِعِينَ ﴿١٠٠﴾ وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ

ইবলিশের দলভূক্ত সকলেই যখন কথা কাটাকাটি করতে থাকবে তখন বলবে ,আল্লাহর কসম আমরা স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিলাম , কারন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব পালনকর্তার সমতূল্য মনে করতাম । আমাদের দুস্কৃদকারীরাই গোমরাহ করেছিল ,অতএব আমাদের কোন শাফাআতকারী নেই এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই ।122

দ্বিতীয়ত: রাসূলের খান্দানের দুশমন ছিলনা

অন্য একটি বৈশিষ্ট যা শাফাআত প্রার্থীদের জন্য থাকা প্রয়োজন তা হল শাফাআতকারীরা তাদের জীবনে রাসূলের আহলে বাইতের সাথে কোন রকম দুশমনি করেনি ।এ সম্পর্কে বেশ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে ।

এরূপ একটি হাদীস লক্ষ্যে করুন :

মুমিনগন তাদের বন্ধুদের জন্য শাফাআত করবেন তবে তারা আহলে বাইতের দুশমন ছিলনা (কারন আহলে বাইতের দুশমন শাফাআত পাবেনা)এবং যদি তারা নাসেবী (যারা পবিতও ইমামদের দুশমন) হয় তাহলে যদি সকল নবী রাসূল ও ফেরেশতাগন ও তাদের জন্য শাফাআত করে তবুও কবুল হবেনা ।

ইমাম সাদিক (আ.) বলেন ,

যদি সমস্ত ও আল্লাহর প্রেরিত নবী রাসূলগন নাসেবী( যারা পবিত্র ইমামের দুশমন)দের জন্য শাফাআত করে তবুও তা কবুল করা হবেনা । 123

তৃতীয়ত : নবীর সন্তানদের কোন রকম কষ্ট দেয়নি ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , যখন আমি এই মাকামে মাহমুদে অধিষ্টিত হব তখন আমার উম্মতের জন্য শাফাআত করব এবং তা কবুল করা হবে । আল্লাহর কসম যারা আমার বংশের লোকজনদেরকে কষ্ট দিয়েছে তাদের জন্য শাফাআত করবনা ।124

আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , ওহে হুসাইন , অতি শিঘ্রই তোমাকে এমন অবস্থায় দেখব যে তোমার রক্ত টগবগিয়ে গড়াতে থাকবে , আমার জালিম উম্মতগন তোমার শিরচ্ছেদ করবে তুমি তৃষ্ণার্ত থাকবে কিন্তু তোমাকে তারা পানি দিবেনা । এত কিছুর পরে ও আমার শাফাআতের আশা পোষন করবে! আল্লাহ তালা তাদের কপালে আমার শাফাআত রাখেনি ।125

চতুর্থ : নামাজের প্রতি অবহেলা করেনি

ইমাম সাদিক (আ.) মৃত্যুর সময় সংক্ষিপ্ত ভাবে বলেন , যে নামাজের প্রতি অবহেলা করবে তারা আমাদের শাফাআত পাবেনা ।126

পঞ্চমত: নবী রাসূলদের শাফাআতকে অস্বীকার করেনি ।

ইমাম আলী (আ.)বলেন ,

যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর শাফাআত কে অস্বীকার করবে সে তার শাফাআত পাবেনা ।127

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , যে কেউ আমার শাফাআতের প্রতি অবিশ্বাস করবে তার ভাগ্যে আমার শাফাআত জুটবেনা ।128

ষষ্ঠত : প্রতারক ও ধোকাবাজ নয় ।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন ,

যে কেউ আমার সাথে খেয়ানত করবে সে আমার শাফাআত থেকে কোনরূপ ফলভোগ করবেনা ।129

বিশেষ পয়েন্ট : এই হাদীস থেকে বোঝা যায় যে , দ্বীনি ভাইদের সাথে খেয়ানত করলে তা শাফাআতের জন্য বাঁধা হয়ে দাড়ায় , এবং উল্লেখিত হাদীসে ব্যবহৃত আরব শব্দটি তারই উদাহরন হিসেবে পেশ করা হয়েছে ।

সপ্তমত : মদখোর নয় ।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , আল্লাহর কসম যারা মদখোর তাদের জন্য আমার শাফাআত থাকবেনা এবং তারা আমার হাউজের ( হাউজে কাউসার) কাছে আসতে পারবেনা । 130

অষ্টমত : জেনাকারী নয় ।

ইবনে শাবল হতে বর্ণিত হয়েছে যে , ইমাম সাদিক (আ.) এর কাছে প্রশ্ন করেছিলাম এক মুসলমান ব্যক্তি তার চাকরানীর সাথে খেয়ানত করেছে , কিভাবে সেই পাপের শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে পারে ?

ইমাম বললেন , অবশ্যই সেই চাকরানীর মালিকের কাছ থেকে অনুমোদন চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে সে অপকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে । জিজ্ঞেস করলাম , যদি সে সম্মতি না দেয় , কি হবে ? ইমাম বললেন , নিরুপায় হয়ে জেনাকারী অবস্থায় আল্লাহর সামনে সাক্ষাত করবে ।

বললাম তাহলে অবশেষে জাহান্নামে যাবে!

বললাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামও আমাদের শাফাআতের মাধ্যমে তোমরা মুক্তি পাবে তবে কি তোমরা পূনরায় পাপে লিপ্ত হবে ?131

আল্লাহর কসম , আমাদের এরূপ গুনাহগার ব্যক্তির জন্য পৌঁছাবেনা যতক্ষন সে আজাব ভোগ না করবে এবং দোযখের ভয়াবহতা না দেখবে ।132

একটি প্রশ্ন :

এমন কিছু হাদীস আছে যে ,স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যারা বিন্দু পরিমান ঈমানের অধিকারী হবে তারা ও শাফাআতের অধিকারী হবে ,যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামবলেন ,

শাফাআতকারীগন শাফাআত করবে যারা অন্তত পক্ষে তাদের অন্তরে বিন্দুমাত্র ঈমান পোষন করবে । 133

এখন প্রশ্ন হল : এই হাদীসটি পূর্বোক্ত হাদীসের সাথে কিভাবে সামনজস্য রাখে ?

জবাব : কাফের , মুশরিক এবং যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও ইমামদের সাথে দুশমনি করে তারা চিরদিনই জাহান্নামে থাকবে ,কারন তারা শাফাআতের উপযোগী নয় । কিন্তু এসব ব্যক্তি ব্যতিত অন্যান্য পাপী ব্যক্তিরা কিছুকাল আজাব ভোগ করার পর সম্ভাবনা রয়েছে শাফাআত পাবে ঠিক যেমন ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন , জেনাকারীরা দোযখের ভয়াবহতা অনুধাবন এবং শাস্তি ভোগ করার পর শাফাআত পাবে যদি তাদের অন্তরে ঈমান থাকে এবং তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবেনা এ থেকে বোঝা যায় যে , উক্ত হাদীস দুটির মাঝে কোন বিরোধ নেই । উক্ত ব্যক্তিরা (ঈমানদার অথচ পাপী) কিছুকাল দোযখের শাস্তি ভোগ করলে ও অবশেষে শাফাআতের মাধ্যমে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি পাবে । ঠিক যেমন ইমাম রেজা বলেছেন , একত্ববাদী গুনাহগার ব্যক্তিরা অনন্ততাল জাহান্নামে থাকবেনা , সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে এবং শাফাআত পাবে ।134

ঠিক একই ভাবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , যারা অন্ততপক্ষে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে এবং বিন্দুমাত্র ঈমান পোষন করবে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি পাবে ।135

অতএব উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যেতে পারে যে , পারিভার্ষিক অর্থে শাফাআত শুধুমাত্র সেসব ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে যারা শাফাআতের যোগ্য ।

একইভাবে শাফাআতের স্থান সম্পর্কে বলা যেতে পারে যে ,কেয়ামতের দিন দোযখে প্রবেশের পর অর্থাৎ এমন সম্ভাবনা আছে যে ,শাফাআতের যোগ্য কিছু কিছু ব্যক্তি প্রথমে জাহান্নামের ভয়াবহতা অনুধাবন ও আজাব ভোগ করার পর (এমনকি তা দীর্ঘকাল ধরে ও হতে পারে) শাফাআত পেতে পারে ।

এখন এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করব ,যেগুলো শাফাআতকে ত্বরান্বিত করে ও ফলে কিছু কিছু লোকের ভাগ্যে বেহেশত নাছিব হয় ।

1 । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর বংশধর সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা ও সহযোগীতা

হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন আমি কেয়ামতের দিন চার প্রকার ব্যক্তিদেরকে শাফাআত করব ।

(1) যে ব্যক্তি. আমাদের সন্তানদেরকে ভালবাসবে ।

(2) যে ব্যক্তি তাদের প্রয়োজনীয়তা পূরন করবে ।

(3) যে ব্যক্তি তাদের কোন কাজ করার সময় নিজের অসহায় অবস্থা সত্বেও চেষ্টা করে থাকে তা পালন করার জন্য ।

(4) যে ব্যক্তি তার ভাষা ও অন্তর দ্বারা তাদেরকে ভালবাসে ।136

2 । যে ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরুদ পড়ে ।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন , যে ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরুদ পড়ে ও বলে যে হে আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন তোমার সান্নিধ্য দান কর । তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যায় ।137

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট : উপরোক্ত হাদীস দুটিতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কিছু কিছু ব্যক্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করেন যে ,শাফাআত করা হবে । তবে এমন নয় যে , সে ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে তিনি শাফাআত করবেন না । বরং উপরোক্ত হাদীস থেকে বোঝা যায় যে , সেদিন তিনি উল্লেখিত ব্যক্তিদের সবার আগে শাফাআত করবেন যাতে তারা দোযখের আযাব থেকে অতি শীঘ্র নাযাত পায় ।


সপ্তম অধ্যায়

শাফাআত ও ওহাবী সম্প্রদায়ের ধারনা


শাফাআত সম্পর্কে ওহাবী সম্প্রদায়ের ধারনা সমূহের মূল

ওহাবীদের ধারনা মতে যারা নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য নবী রাসূল , অলি আউলিয়া ও ফেরেশতাদের অসিরা ধরে শাফাআত কামনা করে , তাদের এই কাজকে শিরক বলে মনে করে এবং বিশ্বাস পোষন করে থাকে যে , মুষলমানরা এভাবে নবী রাসূল , অলি আউলিয়া ও ফেরেশতাদের এবাদত করে থাকে । আর এ কারনেই মুহাম্মদ ইবনে তাই মিয়া138 আব্দুল ওহাব আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে শাফাআত কামনা করাকে জায়েজ মনে করে না এবং নিজস্ব এ ধারনাকে প্রমান করার জন্য দলিল প্রমানাদি ও পেশ করেছে । সত্য ও সঠিক বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমান করার জন্য আমরা সর্ব প্রথম তাদের দলিলাদি পেশ করব এবং অত:পর তার জবাব দেব ।

প্রথম আপত্তি

ওহাবীরা বলে থাকে নবী রাসূল ও অলি আওলিয়াদের কাছে শাফাআতের আবেদন করা শিরক । মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব বলেন , একাজ (আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো কাছে আবেদন করা) এক প্রকার শেরকী এবাদত এবং যে ব্যক্তি এমন কথা বলে (আম্বিয়াদের কাছে শাফাআতের আবেদন করে) । 139

জবাব:

একত্ববাদী ও মুশরিক ধারনা নির্ভর করে মানুষের আন্তরিক বিশ্বাস ও কর্ম তৎপরতার উপর ,অর্থাৎযদি তারা বিশ্বাস করে থাকে যে ,শাফাআতকারীগন আল্লাহর সমতুল্য এবং সে ব্যক্তি মুশরিক

কিন্তু ইমামিয়া গোত্রসহ সকল মুসলিম সম্প্রদায় শাফাআতকারীগনকে (নবী রাসূল ও অলি আওলিয়াদেরকে) আল্লাহর খাঁটি বান্দা বলে মনে করেন । অতএব এ বিশ্বাস মতে তাদের কাছে শাফাআতের আবেদন করা কোন মতেই শিরকের সমতুল্য নয় ।

দ্বিতীয় আপত্তি:

ওহাবীরা বলে থাকে যে ,নবী রাসূলদের কাছে শাফাআতের প্রার্থনা করা মূর্তি পূজার শামিল । মূর্তি পূজা কারীগন ও তাদের মূর্তির কাছে শাফাআত কামনা করে । বড় একজন ওহাবী আলেম সানআনী বলেন, “ মুশরিকদের ইবাদতের একটি উদাহরন হল মূর্তি পূজা । তাদের এমন ধারনা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্যদের কাছে শাফাআতের আবেদন করা)আল্লাহর কাছে নবী রাসুলদের এবাদতের সমতুল্য ।

জবাব

জনাব সানসানী মুসলিমদের বিশ্বাস ও মুশরিকদের বিশ্বাস এর মাঝে যে কিয়াস করেছে তা সঠিক নয় । কারন মূর্তি পূজারীদের আকিদা বিশ্বাসমতে মূর্তিরা আল্লাহর সমতূল্য অথবা আল্লাহর কিছু কিছু কাজ যেমন শাফাআত ও মাগফেরাত তাদের কাছে অর্পিত হয়েছে । কিন্তু এটা স্পষ্ট যে মূর্তিদের কোন ক্ষমতা নেই যার বলে তারা শাফাআত করবে কারন যে সব পাথর , কাঠ ও মাটির দ্বারা স্বহস্তে মুশরিকরা সেই মূর্তি ও প্রতিমা তৈরী করে থাকে তা সবই স্বয়ং আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি , এবং এসবকে শাফাআত করার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি । যারা তাদের পূজা করে মূলত আল্লাহর ইবাদত থেকে মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে । কিন্তু আল্লাহর অলি আওলিয়া ও নবী রাসূলদের কাছে শাফাআতের আবেদন করার কারন হল তারা আল্লাহ তাআলার খাঁটি বান্দা ,তারা আল্লাহর সান্নিধ্যে লাভ করেছে এবং আল্লাহ তাআলাই তাদের শাফাআত করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন । এই ক্ষমতা আল্লাহরই দান এবং এমন কাজের দ্বারা আল্লাহর ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া হয়না (বরং শাফাআত প্রার্থীগন আল্লাহর ইবাদতে অত্যধিক মনোযেগী হয় ।)140

তৃতীয় আপত্তি:

ওহাবীরা বিশ্বাস করে যে , একমাত্র আল্লাহর কাছে শাফাআতের আবেদন করতে হবে তার সৃষ্টির কাছে নয় । মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব এ ব্যপারে বলেন , সব ধরনের শাফাআত একমাত্র আল্লাহর অধিকার , অতএব তাঁর কাছে শাফাআতের আবেদন কর । তাই আমি (শাফাআতের আবেদনের প্রেক্ষিতে) বলে থাকি যে , হে আল্লাহ তাঁর (নবীর) শাফাআত থেকে আমাকে বঞ্চিত করনা । তাকে আমার জন্য শাফাআতকারী নিয়োজিত কর । এরূপ অন্যান্য বাক্য সমূহ।141

অত:পর তিনি নিজের ধারনাকে প্রমান করার জন্য নিম্নোক্ত আয়াতটি যুক্তি হিসেবে পেশ করেন ,

) أ َمِ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّـهِ شُفَعَاءَ ۚ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لَا يَمْلِكُونَ شَيْئًا وَلَا يَعْقِلُونَ ﴿٤٣﴾ قُل لِّلَّـهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا ۖ لَّهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ(

তারা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে শাফাআত কারী বানিয়েছে ? তাদেরকে বল. সকল শাফাআত একমাত্র আল্লাহরই জন্য । দুনিয়া ও আখেরাতের সকল রাজত্ব একমাত্র তারই। অতঃপর সকলে তারই দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।142

জবাব:

কোন আলেম ও মোফাসসেররই উক্ত আয়াতের (তাফসীর প্রসঙ্গে তার মত) এমন মত ব্যক্ত করেননি। আল্লামা তাবারসি উক্ত আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে মুজাহিদ এর কাছ থেকে বর্ণনা করেন যে , উক্ত আয়াতেরلله الشفاعة جمیعاً অংশের অর্থ হল , কোন ব্যক্তিই আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত শাফাআত করবেনা। আল্লামা জামাখশারি বলেন ,لله الشفاعة جمیعاً অর্থ হল আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত এবংدون اللهمن এর অর্থ হল আল্লাহ শাফাআতের মালিক এবং কেহই শাফাআত করার ক্ষমতা পাবেনা যদিনা নিম্নলিখিত 2টি শর্ত না থাকে।

1 । তার জন্য শাফাআত করবে যার উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকবে।

2। শাফাআতকারীকে আল্লাহর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

আমাদের মতে উক্ত আয়াতটি তাদের বিরুদ্ধে যারা তাদের নিজেদের হাতে গড়া কাঠ , পাথর ও মাটির মূর্তির কাছে শাফাআত কামনা করে। কারণ মূর্তিদের কোন শক্তি নেই শাফাআত করার। আয়াতেরلله الشفاعة جمیعاً অংশের অর্থ হল , শাফাআত করার ক্ষমতা মূলত আল্লাহ তালার হাতে এবং তিনি ছাড়া অন্য যারা শাফাআত করবে তার অনুমতি সাপেক্ষে তা করবে এবং আল্লাহ তালাই তাদেরকে সে ক্ষমতা প্রদান করবেন আর এরূপ মালিকত্ব বা ক্ষমতা আল্লাহর সমপর্যায়ে (পাশাপাশি) নয় বরং তার নিম্ন পর্যায়ে ।

চতুর্থ আপত্তি:

ওহাবীরা বলে থাকে , দুনিয়াতে কাহারো কাছে শাফাআত পাথ না করা জায়েয নয়। তারা শেখ রাকাব আল মাগরিবের কাছে লিখিত এক পত্রে লিখেছে , শাফাআত করা অযৌক্তিক নয় তবে দুনিয়াতে শাফাআতের প্রার্থনা করোনা তবে করতে পার একমাত্র আল্লাহর কাছে (অন্য কারো কাছে নয়) এবং নবী রাসূল ও অলি আউলিয়াদের মৃত্যুর পর তাদের কাছে শাফাআতের প্রার্থনা করা শিরক।143

জবাব:

শাফাআত করা এক ধরনের দোয়া। এ কথাকে নিজামউদ্দীন নিশাপুরী স্বীকার করেছেন। তিনি নিম্নলিখিত আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন ,من یشقع شفاعة حسنة یکن نصیب منها যে ব্যক্তি শাফাআতে হাসানার উসিলা ধরবে সে তার ফল ভোগ করবে।

আল্লাহর কাছে শাফাআত করা ঠিক একপ্রকার দোয়া অতএব যদি দুনিয়াতে শাফাআত করা হয় (যেহেতু তা এক প্রকার দোয়া) কোন অসুবিধা নেই বরং তা আল্লাহর জন্য একটি পছন্দনীয় কাজ।144 কোরআনের আয়াত ও পবিত্র ইমামদের থেকে বর্ণিত বিভিন্ন দোয়া সম্বলিত হাদীস থেকে বোঝা যায় যে , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় অথবা তার মৃত্যুর পরে তার কাছে শাফাআত প্রার্থনা করা হয়েছে। আর তাই এটা একটা সুন্নতে পরিনত হয়েছে। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় আনাস ইবনে মালেক তার কাছে শাফাআতের আবেদন করেছেন । আনাস ইবনে মালেক এ প্রসঙ্গে বলেন , হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন করেছিলাম যে , কেয়ামতের দিন আমার জন্য শাফাআত করুন তিঁনি বললেন , ঠিক আছে করব। জিজ্ঞেস করলাম: আপনাকে তখন কোথায় পাব ? বললেন পুল সিরাতের পাশে ।145

সাওয়াদ ইবনে কারেব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে একটি সেখানে পরেন , তিনি রাসূলের জীবদ্দশায় এবং তারই কাছে শাফাআতের আবেদন করেন।146

আব্দুল্লাহ রাওয়াহেও রাসুলের কাছে অনুরূপ আরেকটি কবিতা বলেন , তিনিও এই কবিতার মাধ্যমে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) কাছে শাফাআতের আবেদন করেন।147

উপরোক্ত কবিতা সমূহ যেগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মখে পেশ করা হয়েছিল তা থেকে বুঝা যায় যে , যদি দুনিয়াতে শাফাআতের আবেদন করা জায়েয না হতো তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম একাজ কে নিষেধ করতেন।

পঞ্চম আপত্তি :

ওহাবীরা বিশ্বাস করে যে , মৃত্যুর পরে শাফাআত প্রার্থনা করাও শিরক। শেখ রাগাব আল মাগবেবিকে লেখা অপর এক পত্রে তারা লিখেছিল:

নবী রাসূলদের পর তাদের কাছে শাফাআত প্রার্থনা করা শিরক।148

জবাব:

নবী রাসূল ও অলি আউলিয়াদের মৃত্যুর পরে তাদের কাছে শাফাআত প্রার্থনা করা জায়েয সংক্রান্ত যথেষ্ট দোয়া রয়েছে সেগুলোর কয়েকটি নমূনা উল্লেখ করব।

মুয়াবিয়া ইবনে আম্মর ইমাম সাদিক (আঃ) এর কাছ থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেন , উক্ত হাদীসে বলা হয় যে , ইমাম তার এক সাহাবিকে বলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের কাছে গিয়ে তাঁর উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে আবেদন কর যাতে তোমার গুনাহ খাতা মাফ করা হয়। সুন্নীদের কাছ থেকে বর্ণিত যিয়ারত যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের পাশে পড়া হয় তার বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লামা আমিনি নাবলালী হানাফী ফিল মারাকি এর কাছ থেকে বর্ণনা করেন:

এই যিয়ারত থেকে বুঝা যায় যে , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যুর পরও তাঁর কাছে শাফাআতের আবেদন করা হয়।149

অতএব নবী রাসূলদের মৃত্যুর পরও তাদের কাছে ওহাবীদের বিশ্বাসমতে শাফাআত প্রার্থনা করা

জায়েয। যদিও ধরে নেই যে , নবী রাসূলদের মৃত্যুর পরে শাফাআত প্রার্থনা করা জায়েয নয় কিন্তু এমন কাজকে শিরক বলে গন্য করার কোন যুক্তিকতা নেই। তারা সর্বোচ্চ যে দাবীটি করতে পারে তা হলো যে , নবী রাসূলদের মৃত্যুর পর তাদের কাছে শাফাআতের আবেদন করা অযৌক্তিক ।


শাফাআত সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের মতামত

ওহাবী সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য সব মুসলিম সম্প্রদায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কবর যিয়ারত গমন ও তাঁর কাছে শাফাআতের আবেদনকে (তার জীবদ্দশায় অথবা ওফাতের পর) জায়েয মনে করেন উদাহরণস্বরূপ কাসতালায়ী আহলে সুন্নাতের এক আলেম বলেন ,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কবর যিয়ারত করা যুক্তি সম্মত , (তার কবরের পাশে) অধিক কান্নাকাটি ও দোয়া করা , সাহায্য চাওয়া , শাফাআতের আবেদন করা , তাকে উসিলা করা সবই সঠিক ও যুক্তিযুক্ত কাজ।150

তার মতে ঠিক যেমন তাহকিক উল বাছিরাহ এবং মেসবাহ উল কালাম গন্থে উল্লেখিত আছে , নিম্নলিখিত যে কোন স্থান ও সময়ে শাফাআতের আবেদন করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের পূর্বে ও পরে , তার জীবদ্দশায় , মৃত্যুর পর , বারজাখে , কেয়ামতের দিবসে অতঃপর অন্যান্য স্থানে।

আল্লামা আমিনি , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শাফাআতের আবেদন সম্পর্কিত আহলে সুন্নাতের মতামতকে নিম্নলিখিত ভাবে উল্লেখ করেন।

1। আল্লাহর কাছে প্রয়াজনীয় জিনিসের আবেদন নবী উসিলায় সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর বরকত ও উসিলা ।

2। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দোয়ার আবেদন।

তিনি বলেন: উপরোক্ত দু ভাবে আবেদন করা যে কোন অবস্থাতেই জায়েয।

3। আবেদন করা হবে নবীর কাছে , এই অর্থে যে , আল্লাহর কাছে আবেদন করার ফলে তিনি শাফাআতের অনুমতি পাবেন এবং একারণে তিনি শাফাআত করতে পারবেন। অবশ্য এ বিষয়টিও দ্বিতীয় বিষয়টির অনুরূপ , কারণ দুই ও তিন নম্বর বিষয়টি বাহ্যিক ভাবে দু রকম মনে হয় তবে সত্যিকার ভাবে দুটি একই বিষয় ।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে আহলে সুন্নাতের মতেও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় অথবা মৃত্যুর পর উভয় স্থানেই জায়েয।

শাফাআতের সম্পর্কে ওহাবী সম্প্রদায়ের বিশ্বাস পর্যালোচনা ও গবেষণা করার ফলাফল:

অন্যান্য মসলিম সম্প্রদায়ের মত ওহাবীরাও শাফাআতের ঘটনাকে স্বীকার করেছেন , ঠিক যেমন মুহাম্মদ ইবনে আব্দু ল ওহাব বলেন , যদি বলা হয় , তুমি কি নবীকে অস্বীকারী কর এবং তার শাফাআত সম্পর্কে নারাজ ? বলে দাও , আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কে ও তাঁর শাফাআতকে অস্বীকার করিনা , বরং আমি বিশ্বাস করি যে , তিনি শাফাআত করবেন এবং আমার নসীবে তার শাফাআত হবে বলে মনে করি।

তবে অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে তাদের পার্থক্য হল যে , তারা বলে থাকে একমাত্র আল্লাহর কাছে শাফাআতের আবেদন করতে হবে কারণ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে আবেদন করা শিরক।

একইভাবে আলেম সম্প্রদায়ের মতামত পর্যালোচনা করার পর স্পষ্ট পতীয়মান হয় যে , শাফাআতের আবেদন ও দোয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শাফাআতের আবেদন করলে কোন অসুবিধা নেই যেমন যদি কেহ এভাবে বলে:

হে আল্লাহর রাসূল শাফাআত করুন।

অথবাاللهم ارزقنیی شفعته হে আল্লাহ তার শাফাআত আমার জন্য নসীব কর ।

একইভাবে কোন পার্থক্য নেই যে সে নিজে আবেদন করে অথবা কারোও উসিলা ধরে আবেদন করে , তার জীবদ্দশায় , অথবা মৃত্যুর পর। তবে ইতিহাসের 7ম শতাব্দীতে ইবনে তাইমিয়া চিরারিত এ বিষয়কে অস্বীকার করেছেন এবং 8ম শতাব্দীতে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব তার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন।

আমরা আশা পোষন করছি যে , আমাদের উপস্থাপিত যুক্তি ও প্রমানাদী অধ্যয়ন করার পর শাফাআতের সত্যিকার বিষয়টি নীতিবান লোকদের জন্য বোধগম্য হবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শাফাআতের আবেদন করা কোন রকম শিরক নয়। তবে কিছু কিছু ব্যক্তি আছে যারা বলে থাকে যে , যে ব্যক্তি শাফাআতের আবেদন করবে তার রক্তপাত করা হালাল।


অষ্টম অধ্যায়

শাফাআত সম্পর্কিত আপত্তি মূলক প্রশ্নাদী ও জবাব সমূহ


শাফাআত সম্পর্কিত আপত্তিমূলক প্রশ্নাদী ও জবাব সমূহ

প্রথম প্রশ্ন:

শাফাআতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে , মানুষের মনে অহংকার ও গুনাহ করার প্রবণতা পায় এবং ফরজ কাজ সমূহ পালনে নিষ্ক্রিয়তা প্রকাশ করে। কারণ শাফাআতের সুবিধা ভোগ করার প্রতি বিশ্বাসের ফলে মনে করে থাকে যে , তাকে আর শাস্তি দেয়া হবে না।

জবাব:

কোরআনের আয়াত সমূহ শাফাআতের বিষয়কে সার্বিকভাবে নির্দেশনা প্রকাশ করে কিন্তু এমন কোন দলিল নেই যে , কোন ব্যক্তি বলতে পারবে যে , তাকে অবশ্যই শাফাআত করা হবে। অতএব কেউ নিশ্চিত ভাবে বলতে পারবেনা যে , তাকে শাফাআত করা হবে এবং সে অবশ্যই দোজখের আযাব থেকে মুক্তি পাবে। অন্যদিকে শাফাআতের স্থানও কারো জন্য নির্দিষ্ট নয় যে , কেয়ামতে অথবা জাহান্নামের কোন পর্যায়ে তাকে শাফাআত করা হবে ? উদাহরণ স্বরূপ একটি হাদীসে হাসানা যেখানে ইমাম (আঃ) বলেন , দোযখে প্রবেশ করে কিছু কাল শাস্তি ভোগ করার পর (কিছু লোক) শাফাআতের মাধ্যমে মুক্তি পাবে।

ওসমান ইবনে ঈসা , ইবনে মাকান এর কাছ থেকে , সে আবি বাছিরের কাছ থেকে বর্ণনা করেন যে , আমি ইমাম বাকের (আঃ) এর কাছ থেকে শুনেছি যে , তিনি বলেছেন , একদল লোক জাহান্নামে জ্বলবে ও একটি পর্যায় আতিক্রম হওয়ার পর শাফাআতের সুবিধা ভোগ করবে।151

ইমাম বাকের (আঃ) বলেন , দোযখে অবস্থানকারী কাফের ও মুশরিকরা তাদের পার্শবর্তী একত্ববাদীদেরর দিকে লক্ষ্যে করে বলবে যে তোমাদের একত্ববাদীতা তোমাদের জন্য কোন মঙ্গল বয়ে আনেনি , তোমাদের ও আমাদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই আমরা উভয়েই সমান (সম আজাবের অধিকারী)।

তখন আল্লাহ তালা সেই একত্ববাদীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন এবং ফেরেশতাদের বলবেন , শাফাআত কর। অতএব আল্লাহ যাকে চাইবেন তার জন্য ফেরেশতারা শাফাআত করবে।152

সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায় যে , এমন অনির্দিষ্ট ও অনিশ্চিত শাফাআতের সুবিধা মানুষের উদ্ধত করতে পারেনা কারণ , মানুষের ক্ষমতা নেই এক মুহুর্ত জাহান্নমের আগুন ও আজাবকে সহ্য করবে। অতএব সে গুনাহ থেকে দূরে থেকে আল্লাহর এবাদতে মগ্ন থাকতে বাধ্য।

অন্য দিকে সে সকল মহান ব্যক্তিবর্গ যারা দ্বীন ও ধর্মকে দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এসেছিলেন তাদের পক্ষ থেকে তাদের অনুসারীদের জন্য এমন একটি আশার বানী থাকা প্রয়োজন যে তারা সুপারিশ করে তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন এবং মুমিনরা তাদের শাফাআতের আশা পোষন করবে এবং আশার দরজা তাদের জন্য সর্বদাই উন্মুক্ত থাকবে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন

গুনাহগার ব্যক্তি তওবার মাধ্যমে আজাব থেকে মুক্তি পেতে পারে , তাহলে শাফাআতের আর কী প্রয়াজন থাকতে পারে ?

জবাব

আল্লাহ তালা তওবা ও শাফাআত যা গুনাহ ক্ষমা করার দুটি পন্থা উভয়ের প্রত্যোকটি বিষয়কে বিশেষ এক উদ্দেশ্যে স্থাপন করেছেন , তওবা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে ,

অনুতাপ , আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে ফিরে আসা ও শয়তানের নাকে মুখে মাটি দেয়ার কারণে তওবা কবুল করা হয়। অন্যদিকে শাফাআত সম্পর্কে বলা হয়েছে যে , অলি ও আউলিয়াদের শাফাআত কবুল করার কারণ হল আল্লাহ তালা তাদেরকে ভালবাসেন এবং তাদের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন ।

তৃতীয় প্রশ্ন

আল্লাহ তালা ওয়াদা দিয়েছেন যে , গুনাহগারদের শাস্তি দিবেন না যদি শাফাআতের মাধ্যমে গুনাহগার মুক্তি পায় তাহলে তা আল্লাহর ওয়াদার সাথে সামঞ্জস্যহীন।

) ف َلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّـهِ تَبْدِيلًا ۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّـهِ تَحْوِيلًا(

আল্লাহর সুন্নত ওপদ্ধতিতে কোন রকম পরিবর্তন ও পরিশোধন দেখতে পাবেনা ।153

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে ,আল্লাহর সুন্নত ও পদ্ধতিতে কোনরকম পরিবর্তন হবেনা।জবাব

আপত্তিকারীগণ ধারণা করেছেন যে , আল্লাহর সুন্নত ও পদ্ধতি শুধুমাত্র গুনাহগারদের আজাব দেয়ার মধ্যেইে নিহিত এবং শাফাআতের মাধ্যমে যদি তা ক্ষমা করা হয় তাহলে তা আল্লাহর আইনের ব্যতিক্রম। কিন্তু আল্লাহর সুন্নত ওপদ্ধতি শুধুমাত্র তার বান্দাদের শান্তি ও হুমকির মাধ্যমেই সীমিত নয় বরং শাফাআতের মাধ্যমে গুনাহখাতা ক্ষমা করা তাঁরই নিশ্চিত এক সুন্নত ও পদ্ধতি যা সময় ও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আল্লাহ তালার রহমত ও মাগফেরাতের মত অনেক গুণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেগুলো শাফাআতের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়।

চতুর্থ প্রশ্ন

শাফাআত কারীদের শাফাআত আল্লাহর ইচ্ছার উপর এক ধরনের প্রভাব বা ক্ষমতা প্রদর্শন স্বরূপ কারণ শাফাআতকারীরা চায় তাদেরকে (গুনাহগারদেরকে) আজাব থেকে মুক্তি দিতে যাদেরকে আল্লাহ তালা চান শাস্তি দিতে ।

জবাব:

শাফাআত কারীদের শাফাআত তখনই গ্রহনযোগ্য হবে যখন আল্লাহ তালা তাতে অনুমতি দিবেন। কিন্তু যদি শাফাআতকারী আল্লাহর ইচ্ছার উপর প্রভাব ফেলতো তাহলে আল্লাহর অনুমতির প্রয়োজন হতো না , বরং তা অনুসরণ করতে আল্লাহ তালা বাধ্য থাকতেন। মূলত বাস্তবে তার বিপরীত। উদাহরণ স্বরূপ , যদি এমন হতো যে শাফাআতকারী তার অধিনস্ত কারো কাছে সুপারিশ করবে যার উপর তার কতৃত্ব রয়েছে। কিন্তু শাফাআত এমন নয় কারণ শাফাআত শুধুমাত্র আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে গ্রহনযোগ্য। অতএব তা আল্লাহর ইচ্ছার উপর প্রভাব বিস্তুার করতে পারেনা।

পঞ্চম প্রশ্ন

আল্লাহর ভালবাসা অফুরন্তু , আর যদি শাফাআত থেকেই থাকে তবে কেন , সব মানুষ শাফাআতের সুবিধা ভোগ করবেনা ?

জবাব

সব মানুষ শাফাআতের সুবিধা পাবেনা এর অর্থ এই নয় যে , আল্লাহর রহমত ও মেহেরবানী সীমিত। মূলতঃ এর অর্থ হল অন্য লোকজন তাদের নিজেদের দূর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার কারণেই শাফাআত পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে , একজন বিশেষ ডাক্তার পারেনা কোন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে , কারণ ঐ লোক বেচে থাকার যোগ্যতা ও ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে এতে ডাক্তারের অপারগতা প্রকাশ পায়না।

মূলতঃ প্রত্যেক মানুষই পারে শাফাআত পাওয়ার যোগ্যতা ও শত সমূহ অর্জন করতে এবং যার ফলে সে খোদায়ী রহমত ভোগ করতে পারবে।

ষষ্ঠ প্রশ্ন

শাফাআতকারীদের ভালবাসা ও মহব্বত কী আল্লাহর মহব্বত ও ভালবাসার চেয়ে বেশি ? যদি তাই না হয় তাহলে কেন শাফাআত কারীদের উসিলায় আল্লাহর রহমতের প্রয়োজন হবে ?

জবাব:

এটা স্পষ্ট যে , আল্লাহর রহমত অন্য সকলের চাইতে বেশি কিন্তু তিনিই চেয়েছেন যে , তার মহব্বত তাদের উসিলায় আসবে যাতে খোদায়ী রহমতের পাশাপাশি আল্লাহর কাছে শাফাআত কারীদের অবস্থান ও মর্যাদা মানুষ কাছে স্পষ্ট হয় এবং এই উসিলায় মানুষ আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করবে এবং সফলতার চাবি অর্জন করবে।

উপসংহার:

আমরা সবাই অবশেষে জীবন চলার পথে তাকওয়া (খোদাভীতি) অর্জন ও গুনাহ খাতা থেকে বিরত থাকবো। কারণ তখনই শাফাআত পাওয়া সম্ভব যদি ঈমানদার অবস্থায় (যে অবস্থায় আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকবেন) মৃত্যু বরন করে আল্লাহর সাক্ষাতে মিলিত হব। লক্ষ্যে রাখতে হবে যে , যদি অধিক গুনাহ করা হয় অথবা কবিরা গুনাহ করা হয় তাহলে তা ঈমানের পথে অন্তুরায় হয়ে দাড়াবে এবং যদি সে অবস্থায় তওবা না করেই কেহ মৃত্যু বরণ করে তাহলে তার জন্য পরকাল অত্যন্ত কঠিন হবে। অতএব মানুষ মাত্রই সর্বদা ভয় ও আশা নিয়ে বেচে থাকতে হবে (ভয় এ কারণে যে , হয়তো শাফাআত নসীবে হবেনা , আশা এজন্য যে , যদি শাফাআত পাওয়া যায় তাহলে পরকালে ধন্য হওয়া যাবে)।

কোরআন হাদীসের উল্লেখিত আলোচনা থেকে বলা যেতে পারে যে , শাফাআত অবশ্যই গুনাহগারদের জন্য কিন্তু কেহই নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেনা যে , তার কপালে শাফাআত থাকবে এবং জাহান্নামের সব রকম আজাব থেকে সে শাফাআতের মাধ্যমে মুক্তি পাবে। অতএব , আমরা সবাই সর্বদা তাকওয়া (খোদাভীতি) অর্জন করার চেষ্টা করব এবং অপকর্ম ও গুনাহ থেকে বিরত থাকবো । কারণ গুনাহের কারণে ঈমান দর্বল হয় এবং অন্তুর মলিন হয়ে যায় , অধিকন্তু কিছু কিছু গুনাহ শিরক করারও কারণ হয়ে দাড়ায়।

الحمدلله الذیی علی ما هدانا لهذا و ما کنا لنهتدیی لو لا ان هدانا الله


তথ্যসূত্র :

1. মুফরাদাতে রাগেব , পৃ. 263।

2. আল মঞ্জিদ অভিধান , পৃ. 395।

3. শারহে তাজরিদ , পৃ. 262।

4. আল নেহায়াতু ফি গারিবুল হাদিস ওয়াল আসার পৃ. 485।

5. আল নেহায়াতু ফি গারিবুল হাদিস ওয়াল আসার পৃ. 485।

6. তাফসীরে আল মিজান , খণ্ড-1 , পৃ:159 , 162 ।

7. সূরা ইউনুস , আয়াত-3 ।

8. সূরা ফুরকান , আয়াত-70।

9. তাফসীর আল মিজান , প্রথম খণ্ড , পৃ: 160।

10. সূরা এসরা , আয়াত- 71।

11. সূরা হুদ , আয়াত- 98।

12. মুসনাদে আহমাদ , খণ্ড-2 , পৃ: 174।

13. তাফসীর আল জাওয়াহের , খণ্ড-1 , পৃ: 65।

14. সূরা গাফের , আয়াত-7।

15. সূরা বাকারা , আয়াত-47 ,48 ।

16. সূরা বাকারা , আয়াত-122 ,123 । পূর্ববর্তী আয়াতের অনুরূপ অর্থ শুধু দুই একটি স্থান পরিবর্তন হবে ।

17. সূরা আনআম , আয়াত- 94।

18. সূরা বাকারা- 245।

19. সূরা বাকারা , আয়াত- 255।

20. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড- 8 , পৃ. 38।

21. সূরা মুদাসসের , আয়াত- 48।

22. তাফসীর আল মিজান , খণ্ড-1 , পৃ: 167।

23. দালায়েলুল এ জাযুল মিজান , খণ্ড- 1 , পৃ: 167।

24. সূরা আনবিয়া , আয়াত- 28।

25. সূরা নাজম , আয়াত-26।

26. সূরা তাহা , আয়াত-109।

27. তাফসীরে যায়ামেউল জামে , পৃ:286।

28. মানসুরে জাভিদ , খণ্ড-8 , পৃ:49।

29. সূরা সাবা , আয়াত- 23।

30. সূরা মারিয়াম , আয়াত- 86 , 87।

31. সূরা যুখরুফ , আয়াত- 86।

32. সূরা আদ দুহা , আয়াত- 5।

33. আমালী সাদুক , আল মিজান , খণ্ড-1 , পৃ:177 ।

34. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড-8 , পৃ:57 ।

35. সূরা বনি ইসরাঈল , আয়াত- 79 , সূরা এসরা আয়াত- 79। ।

36. মুসনাদে আহমাদ , খণ্ড- 2 , পৃ. 528। সুনানে তিরমিজি 4/ 365।

37. তাফসীরে ফাখরে রাযী , খণ্ড- 21 , পৃ: 31।

38. তাফসীরে বেইজাভী , খণ্ড- 3 , পৃ: 209।

39. তাফসীর আল মিজান , খণ্ড-1 , পৃ: 18 , 2 , 183।

40. তাফসীর ফখরুদ্দীন রাযী , খণ্ড- 3 , পৃ. 64 , 65।

41. কাশফুল মুরাদ , পৃ:416।

42. কাশফুল মুরাদ , পৃ:416।

43. মাজমাউল বায়ান , খণ্ড 2 , পৃ: 435 ।

44. সহীহ মুসলিম এর ব্যাখ্যা , খণ্ড-3 , পৃ:57 ।

45. শারহুল মাকাসিদ , খণ্ড-5 , পৃ:157।

46. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড-8 , পৃ:42 ।

47. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড-8 , পৃ:38।

48. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড-8 , পৃ:59 ।

49.খেসাল ,বিহারুল আনোয়ার ,খণ্ড-8 ,পৃ:39 ,বইরুত

প্রিন্ট ।

50.কানজ কারাচিক ,39549 ।বিহারুল আনোয়ার ,খণ্ড-8 ,পৃ:40 ।

51.কানজ কারচিক ,39055 ।

52.তাফসীরে ফখরুদ্দীন রাযী ,খণ্ড-3 ,পৃ:65 ।

53.তাফসীরে জাত্তাহেরী ,খণ্ড-1 ,পৃ:63

54.সহীহ মুসলিম এর ব্যখ্যা , খণ্ড-3 ,পৃ:57

55.আত্তায়েলুল মাকালাত ,পৃ-14-15

56. তাফসীরে ফখরুদ্দীন রাযী , খণ্ড- 3 , পৃ: 59।

57. সূরা বাকারা , আয়াত - 48।

58. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড- 8 , পৃ: 39। 2 3

59. বাকারা , আয়াত 256 ।

60. মুসনাদে আহমাদ , খণ্ড- 5 , পৃ: 43 ।

61. এমালিয়ে সাদুক ,পৃ:5।

62. আকায়েদ সাদুক।

63. সূরা ইনফিতার ,14 ,15 ,16।

64.আল খাওয়ারেজ ফিল ইসলাম , পৃ: 102।

65. সূরা নিসা-48 ।

66.সূরা যিলযাল ,7 ।

67.কাশফূল মুরাদ ,পৃ:328 ,329

68.সূরা দোহা আয়াত- 5 ।

69. সূরা আসরা আয়াত- 79।

70. সূরা শুয়ারা ,আয়াত 100।

71. সূরা মুদ্দাস্যের ,আয়াত -48।

72. আল কাফী ,খণ্ড- 3 পৃ: 242 , হাদীস- 3।

73. তাফসীর আল মিজান , খণ্ড- 1 , পৃ: 174।

74. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড-2 ,পৃ: 194 ।

75. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড- 6 , পৃ: 217 , হাদীস- 10।

76. সূরা ইউনস-3।

77 সূরা বাকারা- 255 ।

78. সূরা যুখরুফ-86 ।

79. সূরা তহা-109 ।

80. আল মিজান , খণ্ড-14 ,পৃ:212 ।

81. সূরা মারিয়াম ,87 ।

82. খেসালু সাদক , পৃ.- 156 ।

83. সূরা আম্বিয়া ,26।

84.. আদ দুররুল মানসর , খণ্ড- 4 ,পৃ: 97।

85. তাফসীর আল বোরহান , খণ্ড- 2 , 438- 440।

86 সুনানে তিরমিজি , খণ্ড- 5 , পৃ: 247।.সুনানে ইবনে মাজাহ 2/1443।

87. বিহারুল আনোয়ার খণ্ড- 8 , পৃ: 48।

88. বিহারুল আনোয়ার খণ্ড- 8 , পৃ:47 ,48।

89. সুনানে আবি মাজিদ , খণ্ড- 2 , পৃ: 1440।

90. আমালি সাদুক , হাক্কুল ইয়াকিন , শাবর , পৃ: 137।

91. মানাকেব ইবনে শাহরে আশুব , খণ্ড-2 , পৃ:15 । মাজমাউল বায়ান , খণ্ড-1 পৃ:104 ।

92. মানাকেব ইবনে শাহরে আশুব , খণ্ড-2 , পৃ:14 । বিহারুল আনোয়ার খণ্ড- 8 , ‍পৃ:43 , হাদীস-39 ।

93. মানাকেব ইবনে শাহরে আশুব , খণ্ড-2 , পৃ:15 ।

94. খেসালে সাদুক , পৃ: 624 ।

95. বিহারুল আনোয়ার খণ্ড- 8 , ‍পৃ:43 ।

96. বিহারুল আনোয়ার খণ্ড-43 ,পৃ: 65 ।

97. বিহারুল আনোয়ার খণ্ড-8 ,পৃ:51 ।

98. আমালি সাদুক ,291 ।

99. সূরা শুরা- 5।

100. সূরা নাজম ,26।

101. সহীহ বুখারী , খণ্ড- 9 , পৃ. 160।

102. সুনানে নেসায়ী , খণ্ড- 2 , পৃ: 181।

103. মুসনাদে আহমদ , খণ্ড- 2 , পৃ: 174।

104. মুসনাদে আহমদ , খণ্ড-5 ,পৃ: 249- 251।

105. মুসনাদে আহমদ , খণ্ড-2 ,পৃ: 99।

106. মানাকেব , খণ্ড-2 , পৃ: 14।

107. নাহাজলু বালাগা , খোতবা- 171।

108. সুনানে ইবনে মাজাহ ,

109. সুনানে ইবনে দাউদ , খণ্ড-2 , পৃ: 15।

110. বিহার , খণ্ড-8 , পৃ: 56।

111. মোহাসেন বারকী , পৃ: 184।

112. নাহাজলু বালাগা , খণ্ড- 3 , পৃ: 242।

113. মানাকেব ইবনে অশুব , খণ্ড- 2 , পৃ: 14।

114. মুসনাদে আহমদ , খণ্ড- 2 , পৃ: 174।

115. মুসনাদে আহমদ , খণ্ড- 6 , পৃ :448।

116. সহিফায়ে সাজ্জাদিয়ে ,পৃ: 165 ।

117. সূরা নাজম-39 ।

118. সূরা যিলযাল-7-8 ।

119. সূরা তূর-21 ।

120. সুনানে ইবনে মাজাহ , খণ্ড-2 , পৃ:1440 , মুসনাদে আহমদ , 1/281 ।

121. সূরা মুদ্দাসসের ,40-48 ।

122. সূরা শোয়ারা ,আয়াত-95-101 ।

123. মাহাসীন বারকী ,পৃ:184 ।

124. আমালী , শেখ সাদুক ,পৃ:177 ।

125. বিহারুল আনোয়ার ,খণ্ড-44 ,পৃ:328 ।

126. উসূলে কাফি ,খণ্ড-6 ,পৃ:400 ।

127. আমালী , শেখ সাদুক ,পৃ:5-7 ।

128. বিহারুল আনোয়ার ,খণ্ড-8 পৃ:34 ,হাদীস নং-4 ।

129. মুসনাদে আহমদ ,1/72 ।

130. মুসনাদে আহমদ ,1 ,পৃ:72 ।

131. উসুলে কাফি ,খণ্ড-6 ,পৃ:4000 ।

132.উসুলে কাফি ,খণ্ড-5 ,পৃ:469 ।

133. মুসনাদে আহমদ ,খণ্ড-3 ,পৃ:345 ।

134. উয়ুনু আখরারে রেজা ,খণ্ড-2 ,পৃ:125 ।

135. মুসনাদে আহমদ ,খণ্ড-3 ,পৃ:335 ।

136. উয়ুনু আখরারে রেজা ,খণ্ড-2 ,পৃ:24 । বিহারুল আনোয়ার ,খণ্ড-8 ,পৃ:49 137. মুসনাদে আহমাদ খণ্ড-4 ,পৃ:108

138. ইবনে তাই মিয়ার জীবনীতে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে ।

139. আল হাদিয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ,পৃ:42 ।

140. কাশফুল এরতিয়াব ।

141. মাজমাউল বায়ান , খণ্ড- 4 , পৃ: 501।

142. সূরা যুমার , 43 , 44।

143. কাশফুল এরতিয়ব ।

144. মাকাতেল।

145. কাশফুল এরতিয়ব , পৃ: 263।

146. কামুসুর রেজাল , খণ্ড- 5 , পৃ: 21।

147. কাশফুল এরতিয়ব।

148. কাশফুল এরতিয়ব।

149. আল গাদীর , খণ্ড- 5 , পৃ: 139।

150. আল মাওয়াহেব আদ দানিয়্যাহ , খণ্ড- 8 , পৃ: 317 , আল গাদীর , খণ্ড- 5 , পৃ: 144।

151. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড- 8 , পৃ: 361।

152. বিহারুল আনোয়ার , খণ্ড- 8 , পৃ: 279।

153. সূরা ফাতির ,43 ।


গ্রন্থ পরিচিতি

1। পবিত্র কোরআন মজিদ ।

2। আল মোসনাদ , আহমদ ইবনে হাম্বল (মৃত্যু-241 হি:)।

3। আস সাহীহ্ , মোহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারী ,(মৃ-256 হি:)।

4। আস সাহীহ , মোসলেম ইবনে হেজাজ কাশিরী (মৃ-261 হি:)।

5। সাহিফাতু সাজ্জাদিয়্যাহ ইমাম আলী ইবনে হুসাইন জয়নুল আবেদীন (আঃ)।

6। সুনানে তিরমিযি ,আবু ঈসা মোহাম্মদ ইবনে ঈসা তিরমিযি (209- 279 হিঃ)।

7। সুনানে ইবনে মাজাহ মোহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ কাজভিনি (207- 275 হিঃ)।

8। উয়ূনে আখবারে রেজা , শেখ সাদূক (মৃ: 381 হিঃ)।

9। নাহজ উল বালাগাহ শারিফ রাযী (মৃ:406)।

10। আওয়ায়েল উল মাকালাত , শেখ মুফিদ , মোহাম্মদ ইবনে নো মান (336- 413 হিঃ) 11। আমালি ,শেখতুসী ,মোহাম্মদ ইবনে হাসান , (358- 460হিঃ)।

12। তাফসীরে মাজমাউল বায়ান ও জামেউল জাওয়ামে , শেখ তাবারসী আল ফাজল ইবনে হাসান ইবনে ফাজল তাবারসী (470- 538 হিঃ)।

13। আল বাবউল হাদী আশার , আল্লামা হিল্লি , হাসান ইবনে ইউসুফ মোতাহহার (648- 726 হিঃ)।

14। বিহারুল আনোয়ার , আল্লামা মোহাম্মদ বাকের মাজলিসি (মৃ: 1111 হিঃ)।

15। হাক্কুল ইয়াকিন সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ শাব্বির (মৃ: 1242 হিঃ)।

16। কাশফুশ শাহাব , মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব (1মৃ: 206 হিঃ)।

17। তাফসীর উল মিনার , মুহাম্মদ রাশিদ রেজা , (মৃ-1354 হিঃ)।

18। তাফসীরে জাওয়াহের , তানতাভী।

19। আল গাদীর আব্দুল হোসাইন আহমাদ নাজাফী আল আমিনী (1320- 1390 হিঃ)।

20। আল মিজান ফি তাফসীরুল কোরআন ,তাবা তাবায়ী সাইয়্যেদ মোহাম্মদ হোসাইন (মৃ: 1402 হিঃ)।

21। মাফাহিমূল কোরআন , উস্তাদ জাফর সোবাহানী।

22। উসূলে কাফী , শেখ কুলাইনি মোহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব (মৃ:329 হিঃ)।

23। তাফসীরে ফখরে রাযী , মোহাম্মদ ইবনে আতিব (544- 606 হিঃ)।

24। কাশফুল এরতিয়াব , সাইয়্যেদ মোহসেন আমিন।

و آخر دعوانا ان الحمدلله ربّ العالمین


সূচীপত্র :

প্রথম অধ্যায় 8

শাফাআতের আভিধানিক অর্থ 9

শাফাআতের পারিভাষিক সংজ্ঞা 10

শাফাআত: পাপ মোচন অথবা অনুগ্রহ 15

দ্বিতীয় অধ্যায়: শাফাআতের দলিল প্রমাণ 17

কোরআনের আলোকে শাফাআত 18

যে সব আয়াত শাফাআতের স্বীকৃতি প্রদান করে। 22

যে সকল আয়াত শাফাআতের ইঙ্গিত প্রদান করে। 26

হাদীসের আলোকে শাফাআত: 29

মোতাজিলা সম্প্রদায়ের আপত্তি 30

এজমার দৃষ্টিতে শাফাআত 31

বিবেকের বিচারে শাফাআত 32

শাফাআতের উপকারিতা সম্পর্কে মতামত 34

তৃতীয় অধ্যায় 36

শাফাআত গুনাহগারদের আজাব অপনোদের কারন 37

বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল 42

কোরআন হাদীসের যুক্তি 43

চতুর্থ অধ্যায় 45

কখন ও কোথায় শাফাআত করা হবে ? 46

পঞ্চম অধ্যায় 50

শাফাআত কারীদের শর্ত সমূহ 51

শাফাআতের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ 53

ষষ্ট অধ্যায় 65

শাফাআত পাওয়ার শর্তাবলী 66

সপ্তম অধ্যায় 72

শাফাআত সম্পর্কে ওহাবী সম্প্রদায়ের ধারনা সমূহের মূল 73

শাফাআত সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের মতামত 79

অষ্টম অধ্যায় 82

শাফাআত সম্পর্কিত আপত্তিমূলক প্রশ্নাদী ও জবাব সমূহ 83

তথ্যসূত্র : 88

গ্রন্থ পরিচিতি 94